ইনসাইড টক

‘আমাদের মানসিকতা একটু আপডেট করতে হবে’

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ২৩ Jun, ২০২২


Thumbnail ‘আমাদের মানসিকতা একটু আপডেট করতে হবে’

দুই বাংলার জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা নুসরাত ফারিয়া। তার নামটিই ঢালিউডের শোবিজ অঙ্গনের দুরন্ত এক মেধাবীর নাম। শোবিজে তার শুরুটা হয়েছিল আরজে হিসেবে। এরপর নিজেকে মেলে ধরেন উপস্থাপনায়। তারপর মডেলিং, স্টেজ শো উপস্থাপনা যখন যেখানে কাজ করেছেন সেখানেই সাফল্য কুড়িয়েছেন দুহাত ভরে। সিনেমায় নাম লেখিয়েও নিজেকে প্রমাণ করেছেন তিনি।

বছর দেড়েক আগে নুসরাত ফারিয়া ছোট পর্দার অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্বর সঙ্গে জুটি বেঁধে ‘যদি...কিন্তু... তবুও’ নামের একটি ওয়েব ফিল্মে কাজ করেন। এরপর আর তাদের একসঙ্গে দেখা যায়নি। সেই ওয়েব ফিল্মের পর তারা আবারও নতুন করে জুটি বাঁধলেন।

এবার জুটি বেঁধে ৭৫ মিনিটের টেলিভিশন ফিচার ফিল্মে অভিনয় করেছেন তারা। ‘আইকন ম্যান’ নামের এই ফিচার ফিল্মটি পরিচালনা করেছেন ছোট পর্দার দর্শকপ্রিয় নির্মাতা সঞ্জয় সমাদ্দার। সমসাময়িক কাজ প্রসঙ্গে সম্প্রতি বাংলা ইনসাইডারের সঙ্গে কথা বলেন লাস্যময়ী এই নায়িকা।

প্রথমবার টিভি ফিচার ফিল্মে কাজ করা প্রসঙ্গে নুসরাত ফারিয়া বলেন, এখানে আমার চরিত্রটির নাম নোভা। এটা ধোঁয়াশার মতো একটি চরিত্র। যা আমি কখনো করিনি। এখন কিছু বলতে চাচ্ছি না। তবে এটুকু বলতে পারি, দর্শক এখানে ভিন্ন এক নুসরাত ফারিয়াকে দেখতে পাবে। এর আগে সবাই আমাকে গ্ল্যামারস সব চরিত্রে দেখেছেন। তবে এটি একদমই আলাদা।



জানা গেছে, বর্তমান সমাজে প্রতিযোগিতা, অসংগতি আর প্রতিশোধের গল্প ‘আইকন ম্যান’। গল্পে কিছুটা থ্রিল আছে। চিত্রনাট্য লিখেছেন ইশতিয়াক অয়ন। আগামী ঈদে দীপ্ত টিভিতে প্রচারের পর একই চ্যানেলের ইউটিউবে মুক্তি দেওয়া হবে এটি।

দীর্ঘদিন ধরেই বড় পর্দায় নেই নুসরাত ফারিয়া। গেল রোজার ঈদেও মুক্তি পায়নি তার নতুন কোনো সিনেমা। আসন্ন ঈদে তার একটি সিনেমা মুক্তি পাওয়ার কথা থাকলেও সম্প্রতি সিদ্ধান্ত বদল হয়েছে। তাই এবারের ঈদেও বড় পর্দা থাকবে ফারিয়াবিহীন। প্রসঙ্গে নায়িকা বলেন, আমরা আমাদের কাজ করেই আসছি। শুটিং, ডাবিং এবং প্রমোশন পর্যন্ত থাকার চেষ্টা করি। এখন সিনেমা মুক্তির বিষয়ে আমাদের হাত থাকে না। আমার অনেকগুলো সিনেমা আটকে আছে।

যোগ করে নুসরাত ফারিয়া বলেন, কোরবানির ঈদে ‘অপারেশন সুন্দরবন’ সিনেমা আসার কথা চলছে। এছাড়া ‘পাতাল ঘর’ নামে আরও একটি সিনেমা মুক্তির কথা ছিল। তবে ঈদে সিনেমা মুক্তি না পেলে আমার খুব কষ্ট লাগে। আমি চাই, যেটাই আসুক না কেন সেটা যেন পরিপূর্ণভাবে প্রেক্ষাগৃহে আসে।

তবে ফারিয়া এবার আর তার ভক্তদের একেবারে নিরাশ করতে চান না। তাই তো সদ্য ফিচার ফিল্মে কাজ করেছেন তিনি। ‘আইকন ম্যান’ দেখার আমন্ত্রণ জানিয়ে অভিনেত্রী বলেন, আসন্ন ঈদের জন্য ভিন্নধর্মী একটি কাজ করেছি। এমন কাজ এর আগে কখনো করা হয়নি। এই প্রথমবার টিভি ফিচার ফিল্ম করেছি। ঈদে সবাইকে এটা দেখার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।

নুসরাত ফারিয়া অভিনীত মুক্তির অপেক্ষায় আছে বঙ্গবন্ধুর বায়োপিক ‘মুজিব : একটি জাতির রূপকার’ সিনেমা। এই সিনেমার খ্যাতিমান পরিচালক শ্যাম বেনেগালের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, এটা আমার কাছে স্বপ্নের প্রজেক্ট। এটার অংশ হতে পারাটাও একটা স্বপ্নের মতো। এখানে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার (ছোট বেলা থেকে ৩৫ বছর বয়স পর্যন্ত) চরিত্রে অভিনয় করছি। এটা আমার ওপর অনেক বড় একটি দায়ভার। পরিচালক শ্যাম বেনেগাল ও পুরো টিমের সহযোগিতায় এই দায়ভারটা আমি যথাযথ সম্পন্ন করার চেষ্টা করেছি। আশা করি, সবাই কাজটি পছন্দ করবে।



চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ফারিয়া শুটিং শেষ করেছেন কলকাতার নতুন সিনেমার। যার নাম ‘রকস্টার’। যেখানে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের নায়িকা জুটি বেঁধেছেন কলকাতার নায়ক যশ দাশগুপ্তের সঙ্গে। সিনেমায় যশের প্রেমিকার চরিত্রে হাজির হবেন ফারিয়া।

সিনেমাটি নিয়ে তিনি বলেন, এই সিনেমার শুটিং শেষ। এখনও একটি গান বাকী আছে। সেটা শেষ করার পরিকল্পনা চলছে। দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে সিনেমাটি মুক্তির পরিকল্পনা চলছে। মনে হচ্ছে পূজায় সিনেমাটি মুক্তি পাবে। সিনেমাটি মুক্তির জন্য অধীর অপেক্ষায় আছেন বলেও জানান হাস্যোজ্জ্বল এই নায়িকা।

নায়িকা নুসরাত ফারিয়াকে দর্শক শুধু অভিনয়ে খুঁজে পান তা নয়। এই নায়িকা গানও গেয়ে থাকেন। এর আগে প্রকাশ পাওয়া দুইটি মিউজিক ভিডিওতে গান গেয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন এই অভিনেত্রী। ২০১৮ সালে ফারিয়ার প্রথম গান ‘পটাকা’ প্রকাশ পায়। দুই বছর পর প্রকাশ পায় তার দ্বিতীয় গান ‘আমি চাই থাকতে’। সর্বশেষ তার প্রকাশ পায় ‘হাবিবি’ শিরোনামের গানটি। এটি অন্তর্জালে প্রকাশের পর প্রশংসা কুড়ান তিনি।

দুই বাংলার জনপ্রিয় মুখ নুসরাত ফারিয়ার অভিনয়ের পাশাপাশি আকর্ষণীয় ফিগার ও সৌন্দর্য সচেতনতায় জুড়ি নেই। নিয়মিত জিমে গিয়ে শরীরচর্চা করেন তিনি।

এদিকে, ফারিয়া ক্যারিয়ারের সুসময় পার করছেন। ঢালিউড-টলিউড মিলিয়ে একাধিক সিনেমা মুক্তির প্রহর গুনছে। বর্তমানে তার হাতে রয়েছে ‘ভয়’, ‘পর্দার আড়ালে’, ‘বিবাহ অভিযান-২’ ও ‘ঢাকা ৪২০’ সিনেমাগুলো।

সম্প্রতি আপনি একটি অনুষ্ঠানে উপস্থাপনা করেছেন। সেই অনুষ্ঠানে শাকিব খান ও রিয়াজকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। এই বিষয়ে কি বলবেন জানতে চাইলে নুসরাত ফারিয়া বলেন,  সত্যি কথা বলতে আমাদের মানসিকতা একটু আপডেট করতে হবে। যখন আপনি দেশের বাইরে আইফা, ফিল্ম ফেয়ার পুরস্কারগুলো দেখেন-সেখানে নিজেদের নিয়ে অনেক সমালোচনা করা হয়। কিন্তু দিন শেষে সেটা বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান। ওই অনুষ্ঠানে করোনার পর আমরা একত্রিত হয়েছিলাম। দেশে যতগুলো ভাইরাল ইস্যু-যেগুলো দিয়ে আমরা সবাইকে আনন্দ দেওয়ার চেষ্টা করেছি। শাকিব-রিয়াজসহ সবার ভক্তদের বললো-এটা শুধুই ফান ছিলো।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘নিজে সংক্রমিত হয়ে অন্যকে সংক্রমিত করা অন্যায়’

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ৩০ Jun, ২০২২


Thumbnail ‘নিজে সংক্রমিত হয়ে অন্যকে সংক্রমিত করা অন্যায়’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান বলেছেন, এখন আমরা করোনার নতুন সংক্রমণ দেখতে পাচ্ছি। এটা হঠাৎ করেই আরও বেড়ে যেতে পারে এবং ইদানিং হঠাৎ করেই বেড়েছে। গত কিছুদিনের সংক্রমণের হার উদ্বেগজনক। এই সংখ্যাটাকে বাড়তে দেওয়া যাবে না। অর্থাৎ করোনার সংক্রমণ যেন না বাড়ে সেজন্য এখনই আমাদের অনেক বেশি সর্তক হতে হবে। কারণ করোনা কি পরিমাণ ক্ষতি (শারীরিক, মানসিক ও আর্থিক) করতে পারে সেটা আমরা জানি। 

সাম্প্রতিক সময়ে করোনা সংক্রমণের হার বেড়ে যাওয়া নিয়ে বাংলা ইনসাইডারের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় এসব কথা বলেছেন অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান। পাঠকদের জন্য অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডারের নিজস্ব প্রতিবেদক শান্ত সিংহ।

অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান বলেন, আমরা টিকা দিলেও অনেকের শরীরে পর্যাপ্ত  প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে উঠেনি। বিশ্বের বিভিন্ন জার্নালে দেখা গেছে যে, আমরা দুটি টিকা নিয়েছি সেগুলো সর্বোচ্চ এক বছর প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলে। সুতরাং প্রথম দুই ডোজ টিকায় আমরা এখনো পুরোপুরি নিরাপদ নই। বিশ্বের অনেক উন্নত দেশে এখন চতুর্থ ডোজ দেওয়ার চিন্তা-ভাবনা করছে। এই সময় আমাদের বয়স্ক মানুষেরা, যাদের নানা ধরনের দীর্ঘ স্থায়ী অসুখ-বিসুখ আছে, তাদের যদি করোনা আক্রমণ করে তাহলে আবারও বড় ধরনের সংকট তৈরি হবে। অনেকে আছেন যারা টিকা নেয়নি, তারা যেন অবশ্যই টিকা নেয় এবং যারা প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছে কিন্তু বুস্টার ডোজ নেয়নি তারাও যেন শিগগিরই বুস্টার ডোজ নেয়। 

তিনি আরও বলেন, আমাদের প্রধান দায়িত্ব হলো, প্রথমত নিজেকে রক্ষা করা এবং দ্বিতীয়ত হলো আমার কারণে যেন অন্য আরেকজন সংক্রমিত না হয়। নিজে সংক্রমিত হয়ে অন্যকে সংক্রমিত করা অন্যায়। ধরুন আমি বুস্টার ডোজ বা টিকা নিলাম না কিন্তু আমি সংক্রমিত হলাম এবং আমার দ্বারা আরেকজন সংক্রমিত হলো তাহলে সেটা বড় ধরনের অন্যায়। সেজন্য নিজেকে এবং পাশাপাশি অন্যকে রক্ষা করার জন্য আমাদের যে সমস্ত স্বাস্থবিধি আছে সেগুলো যথার্থভাবে প্রতিপালন করতে হবে। 

অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে দেশের সকলকে আহ্বান করছি, যারা এখনো টিকার আওতায় আসেননি, তারা যেন দ্রুত টিকা গ্রহণ করেন। সরকার বিনামূল্যে টিকা দিচ্ছে, এর চেয়ে আর বড় সুবিধা হতে পারে না। কারণ আমরা আশঙ্কা করছি যে, দেশে আবার যেকোনো মুহূর্তেই করোনা বেড়ে যেতে পারে। আর করোনা বেড়ে গেলে আমাদের আবার সেই বদ্ধ জীবন-যাপন করতে হবে, যা আমরা কেউই চাই না। কারণ বদ্ধ জীবন-যাপনে আমরা কেউও মানসিকভাবে সুস্থ্য থাকবো না, শারীরিকভাবেও নানা জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। সুতরাং করোনা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা মাথায় রেখে আমাদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা উচিত।

সংক্রমিত   করোনা  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘পদ্মা সেতুর বিরোধীতাকারীরা যুদ্ধাপরাধীদের মতোই রাষ্ট্রদ্রোহী’

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ২৯ Jun, ২০২২


Thumbnail ‘পদ্মা সেতুর বিরোধীতাকারীরা যুদ্ধাপরাধীদের মতোই রাষ্ট্রদ্রোহী’

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছেন, একটি মহল, একটি অপশক্তি, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে মানতে পারেননি, যারা স্বাধীনতার বিরোধীতা করেছে, তারা এখনো দেশের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র করছে। শেখ হাসিনার হাতে যখন বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতা এসেছে তখন তার নির্বাচনী ইশতেহার অনুসারে যুদ্ধপরাধীদের বিচার বাংলার মাটিতে হয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ তা লক্ষ্য করেছে এবং অভিনন্দন জানিয়েছে। 

পদ্মা সেতু নিয়ে ষড়যন্ত্র, ষড়যন্ত্রকারীদের খুঁজে বের করার জন্য কমিশন গঠন করতে হাইকোর্টের নির্দেশ এবং সেতু উদ্বোধনের পর সেতুর নাট-বল্টু খোলার ঘটনা নিয়ে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে আলাপচারিতায় জাহাঙ্গীর কবির নানক এসব কথা বলেন।

জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, এই পদ্মা সেতুসহ রাষ্ট্রকে নিয়ে যারা ষড়যন্ত্র করে সেই ষড়যন্ত্রের মূল হোতা খালেদা জিয়া, ড. ইউনূসেরা। এই স্বপ্নের পদ্মা সেতু নিয়ে তারা ষড়যন্ত্র করেছিল। স্বপ্নের পদ্মা সেতু থেকে বিশ্বব্যাংকের অর্থ সরিয়ে নেওয়া, পাশাপাশি জাইকার অর্থ সরিয়ে নেওয়া থেকে শুরু করে, এশিয়ান ডেভেলমেন্ট ব্যাংকের টাকা সরিয়ে নেওয়া জন্য কথিত দুর্নীতির অভিযোগ এনে তারা টাকা সরিয়ে নিয়ে বাংলাদেশের এই স্বপ্নকে ধূলিসাৎ করতে চেয়েছিল। কিন্তু বঙ্গবন্ধু কন্যা সফল রাষ্ট্রনায়ক, দুঃসাহসিক নেত্রী শেখ হাসিনা তা তোয়াক্কা না করে পদ্মা সেতু সফল করেছেন, সম্পন্ন করেছেন এবং স্বপ্ন এখন বাস্তবতায় এসেছে।

তিনি বলেন, খালেদা জিয়া এবং ড. ইউনূসের সঙ্গে এদেশের আরও কিছু সুশীল ব্যক্তি জড়িত ছিল, যারা এই পদ্মা সেতুর বিরোধীতা করেছে। সেই ব্যক্তিদের অবশ্যই মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী কমিশন গঠন করে তাদেরকে জাতির সামনে চিহ্নিত করা এবং তাদেরকে আইনের মুখোমুখি করা উচিত বলে আমি মনে করি। কারণ সেই দিন ছিল স্বাধীনতার বিরুদ্ধে শক্তি, আজকে তা রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি। পদ্মা সেতুর বিরোধীতাকারীরা যুদ্ধাপরাধীদের মতোই রাষ্ট্রদ্রোহী। এই রাষ্ট্রবিরোধী শক্তির মুখোশ উন্মোচন হওয়া উচিত, তাদের শাস্তি হওয়া উচিত।

তিনি আরও বলেন, পদ্মা সেতু নিয়ে যারা বিরোধীতা করেছে, অবশ্যই তাদের রাষ্ট্রদ্রোহী হিসেবে অভিযুক্ত করে তাদেরকে আইনের আওতায় আনা উচিত এবং অবিলম্বে তাদের বিচার শুরু করা দরকার। এছাড়া পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর সেতুর রেলিংয়ের নাট-বল্টু খোলার ঘটনা ষড়যন্ত্রেরই অংশ বলে আমি মনে করি।

পদ্মা সেতু   বিরোধীতাকারীরা   রাষ্ট্রদ্রোহী  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘পরিবারকেন্দ্রিক যে শিক্ষাগুলো ছিলো সেগুলো শিথিল হয়ে যাচ্ছে’

প্রকাশ: ০৪:০৬ পিএম, ২৮ Jun, ২০২২


Thumbnail ‘পরিবারকেন্দ্রিক যে শিক্ষাগুলো ছিলো সেগুলো শিথিল হয়ে যাচ্ছে’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেছেন, আমরা একটা অপসংস্কৃতির দিকে চলে যাচ্ছি। আগে সমাজের সব ক্ষেত্রে শিক্ষকদের আলাদা একটা মর্যাদার জায়গা ছিল। নানা কারণেই আমাদের সমাজের এখন অবক্ষয় হয়েছে। এখন শিক্ষকরা মর্যাদা তো পায় না বরং তারা নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন বিভিন্নভাবে। সাম্প্রতিক সময়ে সাভারে যে ঘটনাটি ঘটছে তা রীতিমতো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। যে ছাত্র এই ঘটনাটি ঘটিয়েছে তার নিজস্ব একটি কিশোর গ্যাং আছে। আমি মনে করি আমাদের ব্যর্থতার চেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীরও একটা বড় ব্যর্থতা আছে। যেভাবে শিশু কিশোররা গ্যাং তৈরি করছে। তা বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। তাছাড়া এরা যে শুধু শিক্ষকদের ওপর হামলা চালাচ্ছে না নয়, এরা হরহমাশেই বিভিন্ন মানুষের ওপর হামলা করছে। সেটা হয়তো কোনো ব্যবসায়ীর ওপর করছে কিংবা কোনো মহিলাকে হেনেস্তা করছে। যে গুলো হয়তো সেভাবে সামনে আসেনি।

দেশের বিভিন্ন জায়গায় ছাত্র কর্তৃক শিক্ষকদের ওপর হামলার ঘটনাগুলো পিছনে নৈতিকতার ব্যাপারে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান এসব কথা বলেছেন। পাঠকদের জন্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক শান্ত সিংহ।

অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেন, আমাদের পারিবারিক বন্ধনগুলো দিন দিন লোপ পেয়ে যাচ্ছে। পরিবারকেন্দ্রিক আমাদের যে শিক্ষাগুলো ছিলো এগুলো আস্তে আস্তে শিথিল হয়ে যাচ্ছে। এখন আমরা আর আগের মতো পরিবার থেকে শিক্ষা গ্রহণ করি না। আর যারা কিশোর গ্যাং এর সঙ্গের জড়িত তারা বেশির ভাগ এতিম। এখানে আমি দুই অর্থে এতিম বলছি। একটি হলো যে যাদের সত্যি সত্যি বাবা-মা নাই। আবার আরেকটি হচ্ছে, এদের বাবা-মা থেকেও নাই। কারণ বাবা-মা এদের কোনো খোঁজ খবর নেয় না। হয়তো বাবা ও মায়ের মধ্যে সমস্যা আছে। তারা আলাদা থাকছে। কিংবা বাবা-মা হয়তো এক সঙ্গেই থাকে কিন্তু সন্তানের খোঁজ খবর নেওয়া বা সন্তানকে যেটুকু সময় দেওয়ার কথা তারা সেটা দিতে পারছেন না। এই বিষয়গুলো আমাদের দেশে আরেক ধরনের এতিম তৈরি করেছে। এই সমস্ত কিছুর জন্য আজ আমাদের সমাজের নৈতিকতার এই দুরাবস্থা।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রদায়িকতার কারণেও শিক্ষকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে। ধর্মীয় অনুভূতির অভিযোগ এনে শিক্ষকদের হেনেস্তার করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কেউ একটা স্ট্যাটাস দিয়ে দেয় আর এটা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত আনে। যারা ধর্মীয় অনুভূতির নামে বিশেষ করে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা চালায় বা তাদের মন্দিরে, উপাসনালয়ে হামলা করে। এরা আসলে ধর্মান্ধ লোক। যারা ধর্ম নিয়ে ব্যবসা করতে চায় বা ফায়দা লুটতে চায় তারা ধরনের কাজের সাথে জড়িত থাকে। এক্ষেত্রে আমাদের আলেম সমাজের বড় ভূমিকা আছে। কারণ কেউ একটা স্ট্যাটাস দিলেই তাতে আমার নবী খুব দুর্বল হয়ে পড়বে বিষয়গুলো তো আসলে এমন নয়। সেজন্য ধর্মীয় নেতাদের সামনে এগিয়ে আসতে হবে। কেউ অন্যায় করলে আইন অনুসারে অবশ্যই তার বিচার হওয়া উচিত কিন্তু সামান্য কোনো একটা বিষয় নিয়ে রীতিমতো হামলার করা, নাশকতা করা এগুলো হতে পারে না।

পরিবারকেন্দ্রিক   শিক্ষা  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘অপরাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্টরা নাট-বল্টু খোলার সাথে জড়িত’

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ২৭ Jun, ২০২২


Thumbnail ‘অপরাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্টরা নাট-বল্টু খোলার সাথে জড়িত’

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেছেন, পদ্মা সেতু নিয়ে মানুষের উৎসাহ আর উদ্দীপনা ব্যাপক। এটি শুধু এখন নয়, উদ্বোধনের আগেও ছিল। পদ্মা সেতু নিয়ে মানুষের যে আবেগ ও উৎসাহ, সেটা অস্বীকার করার কোনো অবকাশ নেই। পদ্মা সেতু নিয়ে মানুষের মধ্যে উৎসাহ, অতি উৎসাহ এটি থাকবেই। কারণ সারাদেশের মানুষের আবেগ জড়িত আছে এই সেতুর সাথে। তবে কারো কারো উৎসাহের সাথে কোনো দুরভিসন্ধি আছে কিনা সেটা একটা প্রশ্নের বিষয় এবং সে বিষয়ে অবশ্যই দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অনুসন্ধান করে দেখবেন। বিষয়টি নিয়ে আরও ভালোভাবে খোঁজ খবর এবং আরও নজরদারি করার দরকার বলে আমি মনে করি। 

পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পরের দিন সেতু উপরে উঠে ছবি তোলা, টিকটক ভিডিও বানানো এবং পদ্মা সেতুর রেলিংয়ের নাট-বল্টু খুলে নেওয়া প্রসঙ্গে আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বাংলা ইনসাইডারের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় এসব কথা বলেন। পাঠকদের জন্য আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক শান্ত সিংহ।

আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, পদ্মা সেতু আমাদের জাতীয় সক্ষমতার প্রতীক। আমাদের স্বপ্ন পূরণের বাস্তব নিদর্শন হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে এই পদ্মা সেতু। ফলে দেশি-বিদেশি নানা ধরনের ষড়যন্ত্র হতেই পারেই। এটা উড়িয়ে দেওয়া যাবে না। সে সকল বিষয়ের দিকে বিশেষ নজরদারির বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা উচিত বলে আমি মনে করি। সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আছে, গোয়েন্দা সংস্থা আছে, তারাও বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন এবং আরও বেশি তৎপর থাকবেন বলে আমি প্রত্যাশা করি। কারণ পদ্মা সেতু আমাদের একটি বড় স্থাপনা, যেটা আমাদের জাতীয় অগ্রগতি এবং উন্নয়নের সাথে সম্পৃক্ত। সেটার যেন কোনো ক্ষতি সাধিত না হয় এবং এটা রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব আমাদের সবার।

তিনি আরও বলেন, যে ব্যক্তি পদ্মা সেতুর রেলিংয়ের নাট খুলেছে পুলিশ ইতোমধ্যে তাকে গ্রেফতার করেছে। দেশের অপরাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্টরা এর সাথে জড়িত আছে। পুলিশ বিষয়টি নিয়ে বেশ তৎপর আছে বলে আমার কাছে মনে হয়েছে। আমাদের দেশে অপরাজনীতি আছে। আবার বিরোধীতার জন্য বিরোধীতাকারীদের সংখ্যাও আছে। যারা মূলত এ ধরনের কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকে। এ ধরনের রাজনীতির করার নেতাও আছে, যারা স্বপ্নের পদ্মা সেতুর বাস্তবায়নকে সাধুবাদ জানাতে পারেন না। সুতরাং তাদের দিকে নজরদারি বাড়ানো উচিত বলে আমি মনে করি। 

আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, পদ্মা সেতুতে অনির্দিষ্টকালের জন্য মোটরসাইকেল চলাচল নিষিদ্ধ করার বিষয়টি আসলে অনির্দিষ্টকালের জন্য নয়। এটি একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এবং সাময়িক সময়ের জন্য। সেতুতে পারাপারের সঙ্গে জড়িত সকল নিরাপত্তার ব্যবস্থা জোরদার করা হলেই শিগগিরই এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে বলে আমি মনে করি।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

'বন্যার্তদের পুনর্বাসনসহ বিভিন্ন সংকট নিরসনে সরকার কাজ করছে'


Thumbnail 'বন্যার্তদের পুনর্বাসনসহ বিভিন্ন সংকট নিরসনে সরকার কাজ করছে'

পানি সম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম বলেছেন, বন্যাকবলিতদের পুনর্বাসনসহ যে সংকটগুলো আছে, সেগুলো নিরসনের জন্য সরকার এবং আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা কাজ করছে। এই কাজ অব্যাহত থাকবে। 

বন্যা পরিস্থিতি, বন্যার্তদের পুনর্বাসন নদীভাঙনসহ বিষয় নিয়ে বাংলা ইনসাইডারের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় তিনি এসব কথা বলেন। পাঠকদের জন্য এ কে এম এনামুল হক শামীম এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর প্রধান বার্তা সম্পাদক মো. মাহমুদুল হাসান।

বন্যা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে এ কে এম এনামুল হক শামীম বলেন, বন্যার সময় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বন্যা কবলিত এলাকায় গিয়েছিলেন। আমিও এলাকাগুলোতে গিয়েছিলাম। এখন আওয়ামী লীগ এমপি, জনপ্রতিনিধি এবং সকল সহযোগী সংগঠন কাজ করে যাচ্ছে। বন্যার্তদের পাশে সরকার এবং আওয়ামী লীগ রয়েছে। সর্বোচ্চ কাজ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে বন্যার পানি নেমে গেছে। দিন দিন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে। 

তিনি আরও বলেন, নদীভাঙন কবলিত এলাকা যেগুলো আছে, প্রত্যেক জায়গায় আমরা সতর্ক অবস্থায় আছি। তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমাদের নির্দেশনা দেওয়া আছে। সেইভাবেই আমরা এলার্ট রয়েছি, প্রস্তুত রয়েছি। জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ের নির্বাহী প্রকৌশলদের নির্দেশনা দেওয়া আছে যেনো নদীভাঙন কবলিত এলাকাগুলোতে তারা সর্বোচ্চ নজরদারী দেন। 

এনামুল হক শামীম বলেন, প্রতি বছরই এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর অনেক ক্ষেত্রে অক্টোবর পর্যন্ত আমাদের দেশে বন্যা কয়েক দফা হয়, বর্ষা হয়, নদীভাঙন হয়, ঘূর্ণিঝড় হয়, সাইক্লোন হয় এটা আমরা প্রতি বছরই জানি এবং সেই ভাবেই আমরা আগাম প্রস্তুতি রাখি। মূলত এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর পর্যন্ত সব সময় এলার্ট থাকে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো এলার্ট থাকি। 

বন্যা পরিস্থিতি   বন্যা   বন্যার্ত  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন