ইনসাইড টক

‘পদ্মা সেতুর উদ্বোধন বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি টার্নিং পয়েন্ট’

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ২৫ জুন, ২০২২


Thumbnail ‘পদ্মা সেতুর উদ্ধোধন বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি টানিং পয়েন্ট’

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান বলেছেন, আজকে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি টার্নিং পয়েন্ট। স্বাধীনতা অর্জন করার পর আমার মধ্যে যে ধরনের অনুভূতি ছিল, আজকেও সেই একই অনুভূতি কাজ করছে। পদ্মা সেতুর মতো এতো বড় মেগা প্রজেক্ট যেটি নানা রকম ষড়যন্ত্রের মধ্যে দিয়ে গিয়ে আজকে চূড়ান্ত দৃশ্যমান হয়েছে। সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে নিজের অর্থ ব্যয়ে যখন পদ্মা সেতু হলো তখন বার বার সেই একাত্তরের কথাই মনে পড়ছে।

পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সম্পর্কে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় অধ্যাপক আবদুল মান্নান এসব কথা বলেছেন। পাঠকদের জন্য অধ্যাপক আবদুল মান্নান এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক শান্ত সিংহ।

অধ্যাপক আবদুল মান্নান বলেন, বাঙালি জাতি পারে না এমন কোনো জিনিস বা কাজ নেই। প্রয়োজন শুধু যোগ্য নেতৃত্ব। নেতৃত্ব ঠিক থাকলে যেকোনো অসম্ভবকে বাঙালি জাতি সম্ভব করতে পারে। আর সেটা ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর যোগ্য নেতৃত্বে প্রমাণিত হয়েছে। আজ ২০২২ সালে সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়েছে শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বে।

তিনি আরও বলেন, মানুষ বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন অনেক কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েন, আর যিনি মানুষকে সেই কঠিন পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার করতে পারেন বা মানুষকে সেই কঠিন পরিস্থিতি থেকে বের করে নিয়ে আসেন আসল কৃতিত্ব তখন তারই হয়। পদ্মা সেতু বেলায় সেটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। পদ্মা সেতু নিয়ে এতো ষড়যন্ত্র, এতো বিরোধীতা, কিন্তু তিনি কখনো হতাশ হননি। 

অধ্যাপক আবদুল মান্নান বলেন, একবার বঙ্গবন্ধুকে এক বিবিসি সাংবাদিক বলেছিল, আপনার দেশ যে স্বাধীন হলো, আপনার দেশে তো কিছু নাই, আপনি কি দিয়ে দেশকে দাঁড় করাবেন। তখন বঙ্গবন্ধু উত্তরে বলেছিলেন, আমার দেশের মাটি আছে, মানুষ আছে। বঙ্গবন্ধু তাকে এও বলেছিলেন, মাটি ও মানুষ এই দুটি জিনিস কখনো আমাকে বিচলিত করে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজকে সে কথাই পুনরাবৃত্তি করেছেন তার বক্তব্যে। শেখ হাসিনা যাদের উপর আস্থা রেখেছিল তারা উনার বরখেলাপ করেননি। সাধারণ শ্রমিক থেকে শুরু করে পদ্মা সেতুর প্রকল্প পরিচালক এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট সবাই শেখ হাসিনার ওপর যেমন আস্থা রেখেছিলেন, তেমনি শেখ হাসিনাও তাদের ওপর আস্থা রেখেছিলেন।

তিনি আরও বলেন, পদ্মা সেতু হবে না বলে যারা সমালোচনা করেছিলেন, বিরোধীতা করেছিলেন, আজকে তাদের লজ্জিত হওয়া উচিত, ক্ষমা চাওয়া উচিত। কারণ তারা নিজেদের ক্ষমতার ব্যাপারে অবগত নন। তারা দেশের মানুষের সক্ষমতাকে অস্বীকার করেছিলেন। যা তাদের ভুল ছিল। একাত্তরে আমরা বড় কোনো অস্ত্র শস্ত্র ছাড়াই পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়ােই করে জয়ী হয়েছি। কারণ আমাদের বঙ্গবন্ধুর মতো নেতা ছিলেন। আজ বঙ্গবন্ধু নেই কিন্তু তার সুযোগ্য কন্যা আছে, তার রক্ত আছে।

পদ্মা সেতু   উদ্বোধন  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘মিশেল ব্যাচেলেটের বাংলাদেশ সফর ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে’

প্রকাশ: ০৪:০১ পিএম, ১৬ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail ‘মিশেল ব্যচেলেটের বাংলাদেশ সফর একটা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে’

সামাজিক আন্দোলন কর্মী, নারীবাদী এবং মানবাধিকার কর্মী খুশি কবির বলেছেন, মানবাধিকার হলো অলঙ্ঘনীয় অধিকার। যা মানুষ তার জন্মগত ও অবিচ্ছেদ্যভাবেই পায়। বিশেষ করে যারা পিছিয়ে পড়ে আছেন, যারা সুবিধা বঞ্চিত আছেন, যারা কম সুযোগ সুবিধা পায়, তারা আদিবাসী হোক কিংবা ভূমিহীন হোক। দিনমজুর থেকে শুরু করে নারী, প্রতিবন্ধীসহ সকলের জন্য মানবাধিকার যে বিষয়গুলো রয়েছে সেগুলো যথার্থভাবে প্রতিপালন করা উচিত। সেটা শুধু আমাদের দেশে নয়, সারাবিশ্বে হওয়া উচিত। প্রত্যেকেই যেন সে তার অধিকার সঠিকভাবে পায়।

জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনার মিশেল ব্যাচেলেটের বাংলাদেশ সফর, মানবাধিকার হাইকমিশনের সঙ্গে বাংলাদেশের মানবাধিকার কর্মীদের সাক্ষাৎ, দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি ইত্যাদি বিষয় নিয়ে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় খুশি কবির এসব কথা বলেছেন। পাঠকদের জন্য খুশি কবির এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক শান্ত সিংহ।

খুশি কবির বলেন, জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনার মিশেল ব্যাচেলেট আমাদের আমন্ত্রণ করেছিলেন। আমরা গিয়েছিলাম। আমাদের প্রত্যেকের কাজের আলাদা সেক্টরের ব্যাপারে জানতে পাওয়া হয়েছে আমরা হাইকমিশনারের কাছে সেটা তুলে ধরেছি। প্রতিটি দেশের বা রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো সকল নাগরিকদের মানবাধিকার সমানভাবে নিশ্চিত করা। এটা আমাদের সাংবিধানিক অধিকার। আন্তর্জাতিক যতগুলো সনদ আছে যেগুলোতে সরকার স্বাক্ষর করেছে সে অনুসারে সকলের অধিকার নিশ্চিত করা এবং বাস্তবায়ন করা। শুধু আইন করলে হবে না এগুলোর সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। আমরা আশা করছি হাইকমিশনার মিশেল ব্যচেলেটের বাংলাদেশ সফর একটা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। 

তিনি আরও বলেন, সরকার বলছে যে, তারা মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে না। কিন্তু আমরা দেখছি দেশে গুমের ঘটনা ঘটেছে। কেউ কেউ ফিরে এসেছে। কিন্তু তারা দুই একজন ফিরে এসেছে। যারা গুম হচ্ছেন তারা বলছে তারা গুম হয়েছেন কিন্তু মন্ত্রী বলছেন গুম হয়নি। শুধু গুম নয় যাদের অবৈধভাবে ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, হাজতে রাখা হচ্ছে। তাদের কেউ কেউ মারাও গেছেন। যারা যারা গেছেন তারা তো হাজতের ভিতরেই মারা গেছেন সেটা তো সরকার অস্বীকার করতে পারে না। হাজতের ভিতর মারা যাওয়া সেটা তো সরকারের জন্য সাংঘাতিক নেতিবাচক দিক। সরকার তাদের হেফাজতে রেখে সঠিক চিকিৎসা করতে পারে না, চিকিৎসার জন্য মারা যাচ্ছে। সরকারের উচিত এটা নিয়ে তাদের ভাবা।

খুশি কবির বলেন, কলা বাগানের তেতুলিয়া মাঠের ঘটনার বেলায় আন্দোলনের কর্মী সৈয়দা রত্নাকে থানা ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। আবার ছেড়েও দেওয়া হয়েছে। তাকে ছেড়ে দিয়েছে যখন বিরাট আন্দোলন হচ্ছে, থানার সামনে উদীচীরা বসে যখন অবস্থান নিয়েছে। যদি কিছু না হয়ে থাকে তাহলে তাদের ধরে নিয়ে যাওয়া হলো কেন। সরকার জনসম্মুখে কিছু বলছে না যে, আমরা মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছি। কিন্তু বাস্তবতা হলো মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হচ্ছে। জনসম্মুখে সেটা যুক্তরাষ্ট্র সরকারও বলে না, যুক্তরাজ্য সরকারও বলে না। ইউরোপের কোনো সরকারও বলে না। কোনো উন্নত দেশের সরকারও বলেছে না যে, তারা মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে কিন্তু সেটা তারা মানছে। আমি আমার দেশকে চাই আমার সংবিধান অনুযায়ী আমার অধিকার প্রতিষ্ঠিত হোক।



মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

'কমিশন গঠনে রাজনৈতিক পদধারী না হওয়াটাই বাঞ্চনীয়'


Thumbnail 'কমিশন গঠনে রাজনৈতিক পদধারী না হওয়াটাই বাঞ্চনীয়'

বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষাবিদ ও ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ এর উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী বলেছেন, দেশের বিশিষ্টজনদের নিয়ে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের কমিশন হওয়া উচিত। আমার ব্যক্তিগত ধারণা হচ্ছে, কমিশন কিভাবে কাজ করবে এটার টার্মস অব রেফারেন্স আইন মন্ত্রণালয় ঠিক করে দেবে। বৃহৎ টার্মস অব রেফারেন্স হলো, যারা নাকি বঙ্গবন্ধুকে হত্যায় মাস্টারমাইন্ড ছিলো তাদেরকে চিহ্নিত করা। আমার কাছে মনে হয়, একমাত্র টার্মস অব রেফারেন্স হতে পারে সে সময়ের মাস্টারমাইন্ড যারা ছিলো তাদেরকে চিহ্নিত করা।

১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার বিষয়ে কমিশন গঠনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায়  অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী এসব কথা বলেছেন। পাঠকদের জন্য  অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর প্রধান বার্তা সম্পাদক মো. মাহমুদুল হাসান।

মাস্টারমাইন্ডদের চিহ্নিত করার পাশাপাশি তাদের আইনের আওতায় আনা প্রসঙ্গে অধ্যাপক ড. আবদুল মান্নান চৌধুরী বলেন, আমার তো ধারণা সমাপ্তি পর্যন্ত হওয়া উচিৎ। কেননা আন্তর্জাতিক আইনে একটি বিধান রয়েছে 'নো ক্রাইম সুড গো আনপানিস্ট'। এটা ইতিহাসে লিপিবদ্ধ করে রাখা যেতে পারে। এই ধরনের একটা কমিশন কিন্তু শেখ রেহানার নির্দেশে ইংল্যান্ডে হয়েছিলো এবং সেখানে এটা হয়েছিল বঙ্গবন্ধুর আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার বিষয়ে। টমাস উইলিয়ামস বোধহয় এটার প্রধান হিসেবে ছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সেটার কি হয়েছে সেটা তল্লাশি চালিয়ে নিয়ে আসা উচিত। কারণ ব্রিটেন কোনো জিনিসই ছাড়ে না। আমি সেখানে পড়াশোনা করেছি, সে কারণে আমি জানি এটা। খুঁজে রেব করতে পারলে ওইটার ফাইনডিংসটা যদি আনে, তাহলে সেটাকে একটা বেইজ লাইন হিসেবে ধরা যেতে পারে। সেই বেইজ লাইনটা ধরে প্রসিড করলে ভালো হয়।

তিনি বলেন, এখানে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষকে দিয়ে কমিশনটা হওয়া উচিৎ। সেখানে বুদ্ধিজীবী থাকতে পারে, শিক্ষক থাকবে পারে, সাংবাদিক থাকতে পারে। তবে আমি বলবো এমপিদের না রাখার জন্য। কমিশনে কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তি বা পদধারী কোনোর ব্যক্তির না হওয়াটাই বাঞ্চনীয়।

বঙ্গবন্ধু   হত্যা   ১৫ আগস্ট  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘১৪ দলের কর্মসূচি দেওয়া, না দেওয়া সেটা আওয়ামী লীগের দায়িত্ব’

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ১৪ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail ‘১৪ দলের কর্মসূচি দেওয়া, না দেওয়া সেটা আওয়ামী লীগের দায়িত্ব’

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা বলেছেন, ১৪ দলীয় জোটের সদস্য হিসেবে আমরা তো চাই ১৪ দলীয় জোট সক্রিয় হোক। এ ব্যাপারে আমাদের প্রচেষ্টার কোনো ঘাটতিও নাই। গতকাল শনিবার ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ওয়ার্কার্স পার্টির আয়োজিত এক আলোচনা সভা করেছি। সেখানে ১৪ দলের সমন্বয়কারী এবং মুখপাত্র আমির হোসেন আমুর উপস্থিত ছিলেন। সেখানে আমরা বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ড নিয়ে আলোচনা সভা করেছি। ওই আলোচনা সভায় ১৪ দলীয় জোটের অন্যতম দল জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু উনিও উপস্থিত ছিলেন। সুতরাং এ ব্যাপারে আমাদের আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি নেই। 

সাম্প্রতিক সময়ের বাংলাদেশের বিভিন্ন সংকটসহ রাজনীতিতে ১৪ দলীয় জোটের নিষ্ক্রিয় এবং বর্তমান সংকটের কারণে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থাও শ্রীলঙ্কার মতো হবে কিনা ইত্যাদি নিয়ে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় ফজলে হোসেন বাদশা এসব কথা বলেছেন। পাঠকদের জন্য ফজলে হোসেন বাদশা এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক শান্ত সিংহ।

ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, এখন রাজনীতিতে বিভিন্ন দল সরকার বিরোধী আন্দোলন করছে। ১৪ দলীয় জোট আমরাও চাই তাদের সে আন্দোলনকে প্রতিহত করতে। তবে যারা সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করছে তাদেরকে তো একটা আদর্শে ভিত্তিতে লড়াই করতে হবে। সেটা কিন্তু হচ্ছে না। আদর্শের বাইরে অন্য কোনোভাবে করলে তো সেটা যুক্তি সঙ্গত হবে না এবং আন্দোলন করলে সঠিক রাজনীতির ভিত্তিতেই করতে হবে। আমরাও চাই ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে একটা ভালো নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হোক। কিন্তু সেটা অবশ্যই যেন আদর্শের ভিত্তিতে হয়।

তিনি আরও বলেন, আমাদের নিজেদের দলীয় কর্মসূচি নিয়ে আমরা মাঠে আছি কিন্তু ১৪ দলীয় কর্মসূচি তো আমরা দিতে পারি না। কারণ সমন্বয়কারী ওয়ার্কার্স পার্টি নয়। সেটা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন রয়েছে। তাই ১৪ দলের কর্মসূচি দেওয়া, না দেওয়া সেটা আওয়ামী লীগের দায়িত্ব। তবে আমাদের দিক থেকে প্রচেষ্টার কোনো ঘাটতি নেই। আমরা চাই ১৪ দলীয় জোট মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকুক।

বর্তমান পরিস্থিতিতে জোট ভেঙ্গে যাওয়ার কোনো আশঙ্কা আছে কিনা জানতে চাইলে ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, ১৪ দলীয় জোটের মধ্যে থাকা অন্যান্য দুই-একটি দল সরকারের বিরোধিতা করে কথা বলছে। তার মানে জোট ভেঙ্গে যাবে সেটা কিন্তু নয়। একটি দল তার নিজস্ব মতামত ব্যক্ত করতেই পারে। সেটা তার অধিকার। বিশেষ করে এখন যে বিষয়গুলো নিয়ে কথা হচ্ছে সেগুলো হলো সরকারের জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করাকে কেন্দ্র করে। কিন্তু জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করেছে সরকার। এখানে ১৪ দলের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। তাছাড়া যারা সরকারের বিরোধিতা করে কথা বলছে সেটা তারা তাদের মতামত জানাচ্ছে। সেটা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। গণতন্ত্র চর্চা করতে গিয়ে সেটা যদি কারো বিপক্ষে চলে যায় তার মানে তো তার বিরোধিতা করা নয়। সুতরাং ১৪ দলের ভাঙন কিংবা জোটের মধ্যে দূরত্ব এ বিষয়গুলো অপ্রাসঙ্গিক বিষয়। তবে যেহেতু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে এবং দলটি ১৪ দলীয় জোটের একটি অংশ। সেহেতু জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির করার আগে এই নিয়ে জোটের মধ্যে আলোচনা করলে হয়তো এখন যে বিষয় গুলো নিয়ে মত পার্থক্য তৈরি হয়েছে, সেগুলো থাকত না।

তিনি আরও বলেন, অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলছেন যে, বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা হয়ে যেতে পারে। আমি মনে করি এ ধরনের কোনো আশঙ্কা করা যুক্তি নেই। কারণ শ্রীলঙ্কা যে শ্রীলঙ্কা হয়েছে বা তাদের যে অর্থনৈতিক বিপর্যয় হয়েছে, সেটা হয়েছে সেদেশের সরকারের দুঃশাসনের কারণে। সেই দুঃশাসনের কারণেই শ্রীলঙ্কার আজকের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কিন্তু সে জায়গায় থেকে বাংলাদেশের এ ধরনের কোনো সম্ভাবনা আছে বলে আমার মনে হয় না।

১৪ দল   কর্মসূচি   আওয়ামী লীগ   ওয়ার্কার্স পার্টি   ফজলে হোসেন বাদশা  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘জাতীয় পার্টি মহাজোটের অংশ নয়’

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ১৩ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail ‘জাতীয় পার্টি মহাজোটের অংশ নয়’

গোলাম মোহাম্মদ কাদের, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এবং লালমনিরহাট-৩ আসনের সংসদ সদস্য। মহাজোটের শরিক দল হয়েও সরকারের বিরুদ্ধে জাতীয় পার্টির সমালোচনা, দেশের অর্থনৈতিক সংকট ইত্যাদি প্রেক্ষাপটে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে কথা বলেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। তার সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হলো।

বাংলা ইনসাইডার: আপনারা এখন বেশ শক্ত সমালোচনা করছেন সরকারের এবং গতকাল আপনি বলছেন যে, শ্রীলংকার দিকে যাচ্ছে বাংলাদেশ। হঠাৎ করে জাতীয় পার্টির এরকম সমালোচকের ভূমিকায় গেলো কেন?

জি এম কাদের: হঠাৎ করে কেন, আমরা তো অনেক দিন থেকেই আছি। আমরা তো সমালোচনার জন্যই আছি, সমালোচনা করার জন্যই তো আমাদেরকে রাখা হয়েছে। বিরোধী দল মানেই তো তাই। আমাদেরকে উনি (প্রধানমন্ত্রী) বলেছেন যে, বিরোধী দল আমরা দেখছি না ওইভাবে। প্রধানমন্ত্রী নিজেই তো বললেন।

বাংলা ইনসাইডার: কিন্তু আপনারা তো মহাজোটের অংশ।

জি এম কাদের: না, আমরা মহাজোটের অংশ নই। যখন থেকে আমরা বিরোধী দলে গিয়েছি তখন থেকে আর মহাজোটের অংশ নই। তাছাড়া গত নির্বাচনে জোটটা ঠিক নয়, এটি ছিলো একটি বোঝাপড়া। শুধুমাত্র নির্বাচনকালীন বোঝাপড়া। আমাদের প্রার্থীরা তো অনেক জায়গায় আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের সাথে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। জনগণের একটি বিরোধী দল প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রীর নিজেরও বিরোধী দল প্রয়োজন। উনি নিজেই বলছেন, আমার এটা দরকার।

বাংলা ইনসাইডার: দেশের প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আপনারা দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে কিভাবে মূল্যায়ন করেন?

জি এম কাদের: অর্থনৈতিক পরিস্থিতি খুব খারাপ। আমাদের তো ভেতরের অত ডাটা জানিনা। আমরা যেটা নির্দেশক দেখি যে, ডলারের দাম বাড়ছে, জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে, পয়সার অভাবে সরকার বিদ্যুৎ বন্ধ করে দিতে চাইছে। এগুলো তো সবই খারাপ।

বাংলা ইনসাইডার: সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে যে, এটি বৈশ্বিক অবস্থা। আপনি কি এর সাথে একমত?

জি এম কাদের: না। আমরা তো ব্যাংককে গেলাম, সিঙ্গাপুরে গেলাম, কোথাও তো এরকম অবস্থা দেখলাম না। জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে, সেজন্য তাদের লোকদেরকে সেভাবেই তারা তৈরি করেছে যে, কিভাবে এসব ব্যবস্থা করা যায়। বিদ্যুৎ বন্ধ করতে হয়নি, তাদের মুদ্রার দাম কমেনি। তাদের মধ্যে যারা সঙ্কটে আছে তাদেরকে সরকার সহযোগিতা করছে। তাদের পরিবহণ তো সব পাবলিক সেক্টরে আছে। ফলে তারা কোনো সমস্যায় নেই। আমাদের আশেপাশের কোনো দেশই এতটা সমস্যায় নেই। জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে, সব যায়গায় ওই সমস্যা আছে। কিন্তু অন্য দেশে সঙ্কট সমাধানের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, কিন্তু আমাদের দেশে আমরা সেটা দেখছি না। আমরা প্রস্তাব দিয়েছিলাম ১ কোটি পরিবারকে কম টাকায় খাবার দেওয়ার আওতায় আনতে হবে। কিন্তু সেটাও কার্যকর হচ্ছে না।

বাংলা ইনসাইডার: আপনি বলেছেন যে, বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা হওয়ার পথে। আপনি কি এটা বিশ্বাস করেন যে বাংলাদেশ শ্রীলংকার দিকে যাচ্ছে?

জি এম কাদের: এখন পর্যন্ত যেহেতু সরকার আমাদের পরিষ্কারভাবে বলেনি। নির্দেশকগুলো শ্রীলংকায় এখনকার অবস্থা হওয়ার বছরখানেক আগে যা সৃষ্টি হয়েছিলো, আমাদের দেশেও অনেকটা সেই অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যুৎ সঙ্কট হয়েছিলো, জিনিসপত্রে দাম হু হু করে বাড়ছিলো। যেগুলো এখন এখানে দেখছেন যা হচ্ছে, তার প্রায় সবগুলোই শ্রীলঙ্কায় হয়েছিলো। মুদ্রার দাম কমে গিয়েছিলো, পরে দেউলিয়া হয়ে গেছে।

বাংলা ইনসাইডার: আপনি নির্বাচন নিয়ে কঠোর সমালোচনা করছেন, আগামী নির্বাচনে জাতীয় পার্টির লক্ষ্য কি?

জি এম কাদের: ভালো নির্বাচন হোক। এখন পর্যন্ত সরকার আমাদের স্পষ্টভাবে কিছু বলেনি, নাহলে সিস্টেম যতক্ষণ পরিবর্তন না হবে ততক্ষণ অবস্থার উন্নতি করা সম্ভব না।

বাংলা ইনসাইডার: আপনারা কি কেয়ারটেকার সরকার সাপোর্ট করেন?

জি এম কাদের: না আমার কেয়ারটেকার সরকার সাপোর্ট করি না। আমরা কেয়ারটেকার সরকারের বিরুদ্ধে। আমরা কেয়ারটেকার সাপোর্ট করি না।


জাতীয় পার্টি   মহাজোট  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘মডেলিং থেকে এসেও অভিনয়ে ভালো করা সম্ভব’

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ১২ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail ‘মডেলিং থেকে এসেও অভিনয়ে ভালো করা সম্ভব’

স্বপ্ন ছিলো ভালো কাজের। গত ১০ বছরে দেশের মডেলিং সেক্টরে দাপটের সঙ্গে কাজ করেছেন, দেশের প্রায় সব ফ্যাশন হাউজের মডেল হয়েছেন। র‍্যাম্পে হেঁটেছেন। মডেল হিসেবে নামীদামী পত্রিকার কাভার হয়েছে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরের মোড়ে মোড়ে বিলবোর্ডে শোভা পায় রাজের স্থিরচিত্র। করেছেন বড় বড় টিভিসি। বিশেষ করে রিয়্যালিটি শো ‘মাসুদ রানা’ টিভিসিতে দুর্দান্তভাবে হাজির হয়েছিলেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশের প্রায় সব নামীদামী ফ্যাশন হাউজের পেজ ইনস্টাগ্রামে দেখা যায় তাঁর ছবি। বলছি তরুণ মডেল ও অভিনেতা রাজ মানিয়া (আবদুল্লাহ আল মাহফুজ রাজ) 'র কথা।

১০ বছরে মডেলিং করার পর চলতি বছর প্রথম অভিনয় শুরু করেছেন রাজ। নির্মাতা রায়হান রাফির '৭ নাম্বার ফ্লোর' এ অভিনয়ে করে বেশ প্রশংসা পেয়েছেন তিনি। আর প্রথম কাজ দিয়েই সেরা নবাগত অভিনয়শিল্পী জন্য মনোনয়ন পেয়েছেন। বাংলা ইনসাইডারের সাথে সমসাময়িক নানা বিষয় নিয়ে কথা হলো তাঁর।

বাংলা ইনসাইডার: প্রথম কাজ দিয়েই সেরা নবাগত অভিনয়শিল্পী জন্য মনোনয়ন পেয়েছেন। কেমন লাগছে বিষয়টি?

রাজ মানিয়া: প্রথম কাজ দিয়েই যে সেরা অভিনয়শিল্পীর জন্য মনোনয়ন পাবো তা আসলে আমি কখনো ভাবতেও পারিনি। আমার জন্য এটি আসলেই অনেক বড় প্রাপ্তি। মডেলিং থেকে এসে প্রথম কাজ দিয়েই সবার এত ভালোবাসা পাবো তা আমি কখনো কল্পনাও করতে পারিনি। আসলে আমি কতটা খুশি সেটা একমাত্র আল্লাহ জানে।

বাংলা ইনসাইডার: নতুন কি কি কাজ করছেন?

রাজ মানিয়া: নতুন কাজ এখনো তেমন ভাবে শুরু করিনি। বেশ কিছু কাজের কথা চলছে। তবে আমার নিজেরও কিছু পছন্দের কাজ আছে। আসলে ব্যাটে-বলে মিলে গেলে হয়তো খুব তাড়াতাড়ি সেই কাজগুলো শুরু করবো।



বাংলা ইনসাইডার: অনেকেই এখন নেগেটিভ চরিত্রে কাজ করছে বেশী। সে ক্ষেত্রে আপনি পজেটিভ বা নেগেটিভ কোনটি বেঁছে নিবেন?

রাজ মানিয়া: আসলে আমি পজেটিভ বা নেগেটিভ বলতে কিছু বুঝিনা। চরিত্রের প্রয়োজনে যেটি হোক না কেন আমি তা ভালোভাবে করতে চাই। মোট কথা আমার সাথে পুরোপুরি যেই চরিত্র মানাবে আমি সেটাই করবো।

বাংলা ইনসাইডার: অনেকেই বলে মডেলিং থেকে যারা অভিনয়ে আসেন তাঁরা নাকি অনেকেই সুবিধা করতে পারে না। বিষয়টি আপনি কিভাবে দেখছেন?

রাজ মানিয়া: হ্যাঁ অনেকেই ভাবে যারা মডেলিং থেকে অভিনয়ে আসেন তাঁরা ভালো ভাবে ডায়লগ দিতে পারে না, কিংবা চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে পারে না। এটি আসলে তাঁদের ভুল ধারণা। একজন মানুষ যদি সত্যই শিল্পমনা হয় কিংবা কাজের প্রতি ভালোবাসা থাকে তাহলে সে অবশ্যই ভালো কাজ দর্শকদের উপহার দিতে পারবে। আমাদের রাজ, সুনেরাহ দুজনেই র‍্যাম্প থেকে অভিনয়ে গিয়েছে। তাঁরাও বেশ ভালো করছে।



বাংলা ইনসাইডার: অভিনয়ে আপনার আইডল কে?

রাজ মানিয়া: বাংলাদেশের আমার পছন্দের নায়ক এক কথায় সালমান শাহ। ছোট বেলা থেকে আমি তাঁর সিনেমা দেখেছি অনেক। তাছাড়া আমাদের দেশের আরও অনেক গুণী অভিনেতা আছেন যাদের নাম বলে আসলে শেষ করা যাবে না। তাঁদের সবার কাজ আমি দেখি। আর সেই কাজ গুলো দেখে আমি শেখার চেষ্টা করি। প্রতিটি অভিনেতা আমার শিক্ষকের মত। তাঁদের কাছ থেকে আমি শেখার চেষ্টায় থাকি সব সময়।

বাংলা ইনসাইডার: অভিনয়ে কী নিয়মিত হতে চান?

রাজ মানিয়া: অবশ্যই যেহেতু অভিনয়ে নেমেছি ভালোভাবেই কাজ করতে চাই। আমি প্রমাণ করতে চাই যে মডেলিং থেকে এসেও অভিনয়ে ভালো করা সম্ভব।


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন