ইনসাইড টক

‘পরিবারকেন্দ্রিক যে শিক্ষাগুলো ছিলো সেগুলো শিথিল হয়ে যাচ্ছে’

প্রকাশ: ০৪:০৬ পিএম, ২৮ জুন, ২০২২


Thumbnail ‘পরিবারকেন্দ্রিক যে শিক্ষাগুলো ছিলো সেগুলো শিথিল হয়ে যাচ্ছে’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেছেন, আমরা একটা অপসংস্কৃতির দিকে চলে যাচ্ছি। আগে সমাজের সব ক্ষেত্রে শিক্ষকদের আলাদা একটা মর্যাদার জায়গা ছিল। নানা কারণেই আমাদের সমাজের এখন অবক্ষয় হয়েছে। এখন শিক্ষকরা মর্যাদা তো পায় না বরং তারা নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন বিভিন্নভাবে। সাম্প্রতিক সময়ে সাভারে যে ঘটনাটি ঘটছে তা রীতিমতো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। যে ছাত্র এই ঘটনাটি ঘটিয়েছে তার নিজস্ব একটি কিশোর গ্যাং আছে। আমি মনে করি আমাদের ব্যর্থতার চেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীরও একটা বড় ব্যর্থতা আছে। যেভাবে শিশু কিশোররা গ্যাং তৈরি করছে। তা বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। তাছাড়া এরা যে শুধু শিক্ষকদের ওপর হামলা চালাচ্ছে না নয়, এরা হরহমাশেই বিভিন্ন মানুষের ওপর হামলা করছে। সেটা হয়তো কোনো ব্যবসায়ীর ওপর করছে কিংবা কোনো মহিলাকে হেনেস্তা করছে। যে গুলো হয়তো সেভাবে সামনে আসেনি।

দেশের বিভিন্ন জায়গায় ছাত্র কর্তৃক শিক্ষকদের ওপর হামলার ঘটনাগুলো পিছনে নৈতিকতার ব্যাপারে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান এসব কথা বলেছেন। পাঠকদের জন্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক শান্ত সিংহ।

অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেন, আমাদের পারিবারিক বন্ধনগুলো দিন দিন লোপ পেয়ে যাচ্ছে। পরিবারকেন্দ্রিক আমাদের যে শিক্ষাগুলো ছিলো এগুলো আস্তে আস্তে শিথিল হয়ে যাচ্ছে। এখন আমরা আর আগের মতো পরিবার থেকে শিক্ষা গ্রহণ করি না। আর যারা কিশোর গ্যাং এর সঙ্গের জড়িত তারা বেশির ভাগ এতিম। এখানে আমি দুই অর্থে এতিম বলছি। একটি হলো যে যাদের সত্যি সত্যি বাবা-মা নাই। আবার আরেকটি হচ্ছে, এদের বাবা-মা থেকেও নাই। কারণ বাবা-মা এদের কোনো খোঁজ খবর নেয় না। হয়তো বাবা ও মায়ের মধ্যে সমস্যা আছে। তারা আলাদা থাকছে। কিংবা বাবা-মা হয়তো এক সঙ্গেই থাকে কিন্তু সন্তানের খোঁজ খবর নেওয়া বা সন্তানকে যেটুকু সময় দেওয়ার কথা তারা সেটা দিতে পারছেন না। এই বিষয়গুলো আমাদের দেশে আরেক ধরনের এতিম তৈরি করেছে। এই সমস্ত কিছুর জন্য আজ আমাদের সমাজের নৈতিকতার এই দুরাবস্থা।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রদায়িকতার কারণেও শিক্ষকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে। ধর্মীয় অনুভূতির অভিযোগ এনে শিক্ষকদের হেনেস্তার করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কেউ একটা স্ট্যাটাস দিয়ে দেয় আর এটা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত আনে। যারা ধর্মীয় অনুভূতির নামে বিশেষ করে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা চালায় বা তাদের মন্দিরে, উপাসনালয়ে হামলা করে। এরা আসলে ধর্মান্ধ লোক। যারা ধর্ম নিয়ে ব্যবসা করতে চায় বা ফায়দা লুটতে চায় তারা ধরনের কাজের সাথে জড়িত থাকে। এক্ষেত্রে আমাদের আলেম সমাজের বড় ভূমিকা আছে। কারণ কেউ একটা স্ট্যাটাস দিলেই তাতে আমার নবী খুব দুর্বল হয়ে পড়বে বিষয়গুলো তো আসলে এমন নয়। সেজন্য ধর্মীয় নেতাদের সামনে এগিয়ে আসতে হবে। কেউ অন্যায় করলে আইন অনুসারে অবশ্যই তার বিচার হওয়া উচিত কিন্তু সামান্য কোনো একটা বিষয় নিয়ে রীতিমতো হামলার করা, নাশকতা করা এগুলো হতে পারে না।

পরিবারকেন্দ্রিক   শিক্ষা  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

'বিদ্যমান আইনে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধে আমাদের কিছু করার নেই'


Thumbnail 'বিদ্যমান আইনে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধে আমাদের কিছু করার নেই'

এখন দেশে অর্থনৈতিক সংকটের কথা বলা হচ্ছে। কেউ কেউ মনে করছেন যে, টাকা পাচার বন্ধ, ব্যাংকিং খাতে লুটপাট বন্ধ এবং সার্বিকভাবে দুর্নীতি যদি কমানো যেতো তাহলে সরকারকে আইএমএফ এর কাছ থেকে ঋণও নিতে হতো না এবং সরকারকে এই সংকটে পড়তে হতো না। এই প্রেক্ষাপটে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে কথা বলেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সচিব মো. মাহবুব হোসেন। তার সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হলো।

বাংলা ইনসাইডার: দুর্নীতি বন্ধের জন্য দুদক কি করছে, কতটুকু সক্রিয় আপনারা?

মো. মাহবুব হোসেন: আমাদের তফসিলে যে বিষয়গুলো বলা আছে, সেই তফসিলের ক্ষমতাবলে বা তফসিলের আওতায় যে সমস্যা বা অভিযোগগুলো, সেগুলোর বিষয়ে কাজ করা হচ্ছে। দুদক সেইসব অভিযোগগুলো অনুসন্ধান করছে। অনুসন্ধান করার করার পর যদি কোনো তথ্য থাকে তখন মামলা দায়ের হয়। মামলা দায়ের হলে কোর্টে যাই। কাজ চলমান আছে।

বাংলা ইনসাইডার: বিদেশে টাকা পাচার, যেমন পিকে হালদারের বিষয় কি বলবেন?

মো. মাহবুব হোসেন: টাকা পাচারের ক্ষেত্রে সমস্যা আছে। এক্ষেত্রে দুদকের ক্ষমতা সীমিত। কারণ মানিলন্ডারিং আইনে দুদককে শুধুমাত্র সরকারি কর্মচারী যদি মানিলন্ডারিং করে দুর্নীতির মাধ্যমে, সেইটা দুদক দেখভাল করতে পারবে বা মামলা নিতে পারবে বা তদন্ত করতে পারবে। তাছাড়া অন্য কোনো পাবলিক বা শিল্প প্রতিষ্ঠান নিজে যদি না করে সেখানে দুদকের যাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। আইনগতভাবে আমরা পারি না।

বাংলা ইনসাইডার: আপনারা কি মনে করেন না যে, এই আইনটি সংশোধন করা প্রয়োজন?

মো. মাহবুব হোসেন: আইন সংশোধন করা লাগবে। মহামান্য হাইকোর্টও বলেছে আইন সংশোধন করতে। আইন সংশোধনের জন্য আমরা কেবিনেটে চিঠিও দিয়েছি। কেবিনেট আর্থিক প্রতিষ্ঠানে দিয়েছে। ওইটার অগ্রগতি সম্পর্কে আমাদের জানা নেই। সংশোধন বলতে ওই তফসিলে আমাদের দুদককেও ক্ষমতাটা দিয়ে দিতে হবে। তাহলে আমরা ওইগুলো করতে পারবো। কিন্তু ওই সংশোধনীর অগ্রগতি আমরা এখনো পর্যন্ত জানি না।

বাংলা ইনসাইডার: ব্যাংকিং খাতে যেমন বিসমিল্লাহ গ্রুপ, হলমার্ক নিয়ে দুদক অনেক সক্রিয় ছিল, কিন্তু কোনো রেজাল্ট তো সাধারণ নাগরিকরা পেলো না। এটাতে এতো দীর্ঘদিন সময় কেন লাগছে? 

মো. মাহবুব হোসেন: আর্থিক প্রতিষ্ঠানের যেগুলোর অভিযোগ আমাদের কাছে রয়েছে, সেগুলোর তথ্য-উপাত্ত আমাদের নিতে হয়। বিভিন্ন জায়গা থেকে নিতে হয়। সেটার জন্য সময় লাগে। চাওয়ার সাথে সাথে কেউ সহজে দেয় না। বারবার চাইতে হয়। এটা একটা কারণ। 

বাংলা ইনসাইডার: বেসিক ব্যাংকের কেলেঙ্কারি, এটার বিষয়ে আপনারা তো এখনো কিছু করতে পারলেন না?

মো. মাহবুব হোসেন: এগুলো আমাদের এইখানে এখনো অনুসন্ধান পর্যায়ে আছে। তথ্য-উপাত্ত সব পাওয়া গেলে তারপরে তারা দিবে। এখনও পাওয়া যায়নি। এ কারণে এখনো রেডি হয়নি। আমার ৭ মাসের অভিজ্ঞতায় আমার মন্তব্য এইরকম। আর সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে, এই বিষয়ে আমার এখতিয়ার নেই। অনুসন্ধান, তদন্ত, মামলা এগুলো আলাদা বিষয়। 

বাংলা ইনসাইডার: দুদকের সচিব হিসেবে আপনি কি মনে করেন যে, দুদক যদি আরও সক্রিয় হতো তাহলে দুর্নীতিটা আরও কমে যেতো?

মো. মাহবুব হোসেন: দুদক তো সক্রিয় আছে। সচিব হিসেবে আমার বক্তব্য হলো, দুদক তৎপর আছে। আপনারা অগ্রগতি সহসাই দেখতে পাবেন। 

বাংলা ইনসাইডার: কি করলে দুদক আরও মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারবে?

মো. মাহবুব হোসেন: আমরা চেষ্টা করছি। কিন্তু বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত পেতে সময় লাগে। এটাই সমস্যা। 

বাংলা ইনসাইডার: আপনাদের জনবল নিয়ে কি কোনো সমস্যা আছে?

মো. মাহবুব হোসেন: জনবল নিয়ে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। জনবল যা আছে সেটা যথেষ্ট।

মানিলন্ডারিং   দুর্নীতি   দুদক  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘বাজার সিন্ডিকেটকে নিয়ন্ত্রণ করা জরুরী’

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ০৭ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail ‘বাজার সিন্ডিকেটকে নিয়ন্ত্রণ করা জরুরী’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) জাপানিজ স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. আবুল বারাকাত বলেছেন, জ্বালানি হলো সব উৎপাদনের প্রাণকেন্দ্র। যে কারণে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে গেলে সবকিছুর দাম স্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। অর্থাৎ অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির এমন কোনো ক্ষেত্র নেই, যেখানে এর প্রভাব পড়বে না। শুধু পরিবহন নয়, পরিবহনের সাথে সংশ্লিষ্ট যা কিছু আছে, প্রতিটি সেক্টরে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়বে।

সাম্প্রতিক দেশে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। যার কারণে বাজারের অন্যান্য পণ্যের দামও বেড়ে যাওয়া আশঙ্কা রয়েছে। ফলে অন্যান্য পণ্যের বাজারে কি ধরনের প্রভাব পড়বে এ নিয়ে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় ড. আবুল বারাকাত এসব কথা বলেছেন। পাঠকদের জন্য এ বি এম আজাদ এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক শান্ত সিংহ।

অধ্যাপক ড. আবুল বারাকাত বলেন, কোনো পণ্যের দাম বেড়ে গেলে আমাদের দেশে একটা বড় ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। আর সেটা হলো কোনো কিছুর দাম বেড়ে গেলে বাকি সব পণ্যের দাম আনুপাতিক হারে বেড়ে যায়। জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে অন্যান্য পণ্যের দাম যতটুকু না বাড়ার কথা তার চেয়ে বেশি বেড়ে যাবে। যারা এটা বাড়ায় তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। প্রকৃতপক্ষে জিনিসের দাম বাজার নির্ধারণ করে না, এটা সিন্ডিকেট করে থাকে। একই সাথে এই সিন্ডিকেট সেটা নিয়ন্ত্রণও করে। সুতরাং এই সিন্ডিকেটকে  নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এটাকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে সব কিছুর দাম এমন বাড়ার বাড়বে, সেটা অস্বাভাবিক পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়ায়। ফলে মানুষের সীমাহীন দুর্ভোগ বেড়ে যাবে। সুতরাং বাজার সিন্ডিকেটকে নিয়ন্ত্রণ করা জরুরী।

তিনি আরও বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হলো কিন্তু এর দাম আবার কখন কমবে সেটা বলা মুশকিল। এটা কেউ বলতেও পারবেন না, বলাও সম্ভব নয়। এমন এক অবস্থা যেটাকে ঝুঁকি বলা যায় না, এটা হলো অনিশ্চয়তা। আর অনিশ্চয়তা ঝুঁকির চেয়ে খুবই খারাপ ব্যাপার। কারণ এটা পরিমাপ করা যায় না।

জ্বালানি তেল   বাজার   সিন্ডিকেট  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

'মূল্য বৃদ্ধির পরও জ্বালানি তেলে সরকারকে লোকসান দিতে হচ্ছে'


Thumbnail 'মূল্য বৃদ্ধির পরও জ্বালানি তেলে সরকারকে লোকসান দিতে হচ্ছে'

জ্বালানি তেলে এত বেশি পরিমাণ মূল্য বৃদ্ধির বিষয়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান এ বি এম আজাদ বলেছেন, যেটা আমাদের মূল জ্বালানির সব থেকে বড় অংশ সেটা হলো ডিজেল এবং এই ডিজেলের মোট ব্যবহারের পরিমাণ ৭১ শতাংশের উপরে। ডিজেলের প্রতি লিটারের আমদানি খরচ এখন (জুলাই মাসের হিসেবে) ১২২.১৩ টাকা। সেখানে সমন্বয় করে নতুন দাম ধরা হয়েছে ১১৪ টাকা। এখনও ৮.১৩ টাকা সরকারকে লোকসান বা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। ডিজেলের দাম ৩৪ টাকা বাড়লেও খরচ কিন্তু পুরোটা সমন্বয় হলো না।

সাম্প্রতিক দেশে সব ধরনের জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি, পরিবহনের ভাড়া সমন্বয়সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় এ বি এম আজাদ এসব কথা বলেছেন। পাঠকদের জন্য এ বি এম আজাদ এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর প্রধান বার্তা সম্পাদক মো. মাহমুদুল হাসান।

এ বি এম আজাদ বলেন, প্রান্তিক মানুষ ডিজেল ব্যবহার করে থাকে। সেখানে আমরা দেখেছি যে, ডিজেলের মূল্য ৩৪ টাকা বাড়ার কারণে দূরপাল্লার বাসের যাত্রীদের ভাড়া বৃদ্ধি পাবে ১৬.২২ শতাংশ। আগে দূরপাল্লার বাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ছিল ১.৮০ টাকা। আর এখন ২৯ পয়সা বেড়ে কিলোমিটার প্রতি ভাড়া হবে ২.০৯ টাকা। সিটি এলাকার বাসের ক্ষেত্রে ভাড়া বাড়বে ১৩.১৬ শতাংশ। সে হিসেবে আগে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ছিল ২.১৫ টাকা। সেটা এখন ২৮ পয়সা বেড়ে হবে ২.৪৩ টাকা। এখানে ভাড়া বৃদ্ধির হার সেই অর্থে বেশি নয়। তাহলে রোড সেক্টরে ১৬ শতাংশ এবং ১৩ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধি পাবে। লঞ্চেও মানুষ যাতায়াত করে। এটিও আমাদের এটি পরিবহণ ব্যবস্থা। সেখানে ভাড়া বাড়বে ১৯.১৮ শতাংশ। আগে ছিল প্রতি কিলোমিটারে ২.১৯ টাকা। সেখানে ৪২ পয়সা যোগ হয়ে হবে। তাহলে হবে ২.৬২ টাকা প্রতি কিলোমিটারে লঞ্চের ভাড়া। এটা আমাদের সব ক্যালকুলেশন অনুযায়ী করা হয়েছে। জ্বালানি সেক্টরে পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধিটা হবে। 

বিদ্যুৎ উৎপাদনে ডিজেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকলেও কি ডিজেলের কম খরচ হচ্ছে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, আমাদের আগে জানতে হবে বিদ্যুতের ক্ষেত্রে ডিজেলের ব্যবহার কতটুকু। আমার কাছে যে তথ্য আছে সেটা হলো, বিদ্যুতের ক্ষেত্রে ৭.২২ শতাংশ ডিজেল ব্যবহার হয়। এই ক্ষেত্রে পরিমাণের দিক দিয়ে যদি চিন্তা করি তাহলে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ মেট্রিক টর ডিজেল বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। বিদ্যুতের বড় অংশ অর্থাৎ প্রায় ৭০ শতাংশ ব্যবহৃত হয় গ্যাস। এখন ডিজেল চালিত যে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র রয়েছে সেগুলোর উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। কারণ ডিজেলে বিদ্যুৎ উৎপাদন করলে সব থেকে বেশি খরচ হয়। যার জন্য আগে থেকে বন্ধ রাখা হয়। গত বছর কিছুটা ব্যবহৃত হতো। এ বছর হয়তো আরও একটু কম ব্যবহৃত হবে। কারণ একটি বা দুই যে প্লান্ট ইকোনমিক্যালি ভায়াবল সেগুলো হয়তো করবে। এটার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। এটা বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য। 

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান বলেন, বিদ্যুতের সাশ্রয় দরকার। করণ অনন্য জ্বালানিও তো এর সঙ্গে যুক্ত। যেটা আমার অংশ সেটা আমি বললাম। ডিজিলের বড় ব্যবহার হয় হলো পরিবহনে। এখানে সেই অর্থে সাশ্রয়ের কোনো পদক্ষেপ নেই। ডিমান্ড থাকলে সেটা তো আমাকে পূরণ করতে হবে। কারণ আমি তো পরিবহণ খাত নিয়ন্ত্রণ করি না।  

জ্বালানি তেল   সরকার   লোকসান  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘আমি প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করছি’

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ০৫ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail ‘আমি প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করছি’

দর্শকপ্রিয় অভিনেতা রাশেদ মামুন অপু। ছোট পর্দার পাশাপাশি কাজ করছেন নিয়মিত বড় পর্দাতেও। দুই জায়গাতেই তিনি তার অভিনয়ের মুনশিয়ানা দেখিয়েছেন। পাশাপাশি ওয়েব ফিল্মে দিয়েও বেশ আলোচনায় উঠে আসেন তিনি। এবার ঈদেও মুক্তি পেয়েছে তাঁর অভিনীত পরান সিনেমাটি। পাশাপাশি ওটিটি মাধ্যম চরকিতে মুক্তি পেয়েছে সিন্ডিকেট নামের ওয়েব সিরিজ। দুই জায়গাতেই নিজের সর্বচ্চটুকু দিয়ে বেশ প্রশংসা পাচ্ছেন এই অভিনেতা। সমসাময়িক কাজ নিয়ে বাংলা ইনসাইডারের সাথে কথা হলো সময়ের এই আলোচিত অভিনেতার।

বাংলা ইনসাইডার: ‘সিন্ডিকেট’, ‘পরাণ’ দিয়ে বেশ সাড়া পাচ্ছেন। কেমন উপভোগ করছেন?

অপু: একজন অভিনেতার প্রাপ্তি হচ্ছে বা আকাঙ্ক্ষা হচ্ছে তাঁর কাজ বিপুল সংখ্যক লোক দেখবে। সেই জায়গা থেকেই সিন্ডিকেট বেশ আলোচনায় এসেছে আর পরাণ তো ব্লকবাস্টার হিট। দর্শকদের কাছ থেকে অনেক বেশী সাড়া পাচ্ছি। সেই জায়গা থেকে আমি প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করছি।



বাংলা ইনসাইডার: বেশীরভাগ কাজেই নেগেটিভ চরিত্রে দেখা যাচ্ছে এর কারণ কী?

অপু: প্রতিটি কাজে নেগেটিভ চরিত্রটি বেঁছে নিয়েছি কারণ এই জায়গাতে অভিনয়ের অনেক জায়গা থাকে। সিনেমার ক্ষেত্রে নায়ক ছাড়া অন্য কোন চরিত্রে তেমন অভিনয় করার সুযোগ থাকে না। পাশাপাশি এই চরিত্রটি করতে আমি বেশ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি।

বাংলা ইনসাইডার: দীর্ঘদিন পর ফের হল মুখী হচ্ছেন দর্শক। বিষয়টি আপনি কিভাবে দেখছেন?

অপু: আমি যখন অনেক ছোট ছিলাম তখন বেদের মেয়ে জোসনা দেখতে গিয়েছিলাম। আমার বাবা একজন ব্যাংক কর্মকর্তা ছিলেন। সে সময় ব্যাংকের সবাই মিলে সিনেমাটি দেখতে গিয়েছিলাম। সেই যে ভালো লাগার উচ্ছ্বাস তা এতদিন পর পরাণ সিনেমায় দেখতে পেলাম। একজন অভিনেতার এরচেয়ে আর বড় প্রাপ্তি কী হতে পারে? পরিবারের সবাইকে নিয়ে সিনেমা দেখার যে আনন্দ তা মুখে বলে প্রকাশ করার মত না।



বাংলা ইনসাইডার: ইদানীং প্রায়ই দেখা যাচ্ছে এক সাথে কয়েকটি ছবি মুক্তি পেলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই তর্কে জড়াল। বিষয়টি নিয়ে আপনার মতামত কি?

অপু: ছোট্ট একটা ইন্ডাস্ট্রি আমাদের। দীর্ঘ খরার পর আবার নতুন করে সবে মাত্র ঘুরে দাঁড়তে শুরু করেছে। এখানে সবার মনোভাব এক হওয়া উচিত। অন্যদের কাজ গুলোও নিজের কাজ মনে করা উচিত কেননা অন্য একজনের কাজ ভালো চললে আমার নিজের কাজটাও ভালো চলবে। প্রত্যেকের প্রতি প্রত্যেকের মমত্ববোধ ও ভালোবাসাটা থাকা জরুরী। নয়তো এই ইন্ডাস্ট্রি বেশী দূর যেতে পারবে না।



বাংলা ইনসাইডার: অনেকেরই অভিনয়ে আইডল বলতে একজন থাকে। তা আপনার অভিনয়ের ক্ষেত্রে কে আইডল?

অপু: আমার নির্দিষ্ট কোনো আইডল নেই। আমি আমার প্রয়োজনে কাল্পনিক একজন আইডল তৈরি করে ফেলি। সেটি আরেকটি অপু। আমি যেটি দেখতে চাই, ভাবতে চাই, মনে করতে চাই বা আমি যাকে ধারণ করি তাঁর মাঝে সেটি দেখতে চাই, তাকে দিয়ে উৎসাহী হতে চাই।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘বিএনপি-জামায়াত আন্দোলনের নামে সন্ত্রাসী পথটাই বেছে নেয়’


Thumbnail ‌‌‌‌বিএনপি-জামায়াত আন্দোলনের নামে সন্ত্রাসী পথটাই তারা বেছে নেয়

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেছেন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ধারাবাহিক একটা পর্যায়ে গিয়ে হরতাল ডাকে। কিন্তু এই সকল হরতালের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যটা কি? এটা হলো বিবেচনার ব্যাপার। আমরা যে বিষয়টি লক্ষ্য রাখছি এবং দেখে আসছি সেটা হলো বিএনপি-জামায়াত আন্দোলনের নামে সন্ত্রাসী পথটাই তারা বেছে নেয়।  অগ্নিসন্ত্রাস, বোমা হামলা, জ্বালাও-পোড়াও, ব্যারিকেড সৃষ্টি, রেল পথ উপড়ে ফেলা, অগ্নিসংযোগ থেকে আরম্ভ করে মালবাহী গাড়ি, ট্রাক, যাত্রীবাহী বাসগুলোতে তারা বিস্ফোরক দ্রব্য দিয়ে অগ্নিসংযোগ করে। তারা সেই অতীতের সন্ত্রাসী পথেই গেছে। এটা তো কোনো আন্দোলন না। এটা সন্ত্রাসী পথ এবং সন্ত্রাসী কায়দায় মানুষকে ভয় দেখানো। মানুষের লাশ ফেলানো এবং সেই লাশ নিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার অপচেষ্টা।

ভোলায় বিএনপির হরতাল, আন্দোলন প্রসঙ্গে আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বাংলা ইনসাইডারের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় এসব কথা বলেন। পাঠকদের জন্য আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক মাহমুদুল হাসান তুহিন।

আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, আওয়ামী লীগ একটি রাজনৈতিক দল। এই দলের ইতিহাস ঐতিহ্য আছে। এই দলটিতে সন্ত্রাসীদের কোনো জায়গা নেই। কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সাথে আমাদের দল অতীতেও কখনো সম্পৃক্ত হয়নি, এখনো হবে না, আগামী দিনেও হওয়ার কোনো কারণ নেই। সেই জায়গায় আমরা পুলিশ দিয়ে অথবা সন্ত্রাসী কায়দায় তাদেরকে মোকাবিলার চিন্তা করি না। এটা আমাদের চিন্তাতেই নেই। আমরা মনে করি, বাংলাদেশের জনগণ তাদের নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠায়, নিজেদের মর্যাদা, নিজেদের অস্তিত্ব এবং উন্নয়ন অগ্রগতি সমৃদ্ধির চিন্তা বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিক এখন করে। এই সমৃদ্ধির পথে যারা বাধা সৃষ্টি করবে অথবা যারা আমাদের জান মালের উপর হামলা করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চাইবে তাদেরকে জনগণই মোকাবিলা করবে।

তিনি আরও বলেন, সেখানে জনগণের স্বার্থ, জনগণের সম্পদ, ব্যবসা-বাণিজ্য সবকিছুকে রক্ষা করার দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলায় যারা নিয়োজিত তাদের। তাদের যে দায়িত্ব আছে, তারা সেটা পালন করবে। এটা তো স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায়ই করবে। যদি কেউ জনগণের ওপর হামলা করে, জনগণকে জিম্মি করে কোনো ফায়দা লুটার চেষ্টা করে, সেক্ষেত্রে আমরা আমরা যারা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে চাই না তারা তো ঘরে বসে থাকবো না। আমাদের নেতাকর্মীদের নিয়ে, জনগণকে নিয়েই আমরা রাজনৈতিকভাবেই তাদের মোকাবেলা করবো।

আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, আমাদের নেত্রী যেটা বলেছেন তিনি খুব যথার্থ কথা বলেছেন। আমাদের মনোভাব হলো যদি শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে তাহলে তাদেরকে চায়ের দাওয়াত দেওয়া হবে, যদি কেউ শান্তিপূর্ণ আন্দোলন ছেড়ে হিংসার পথে, ধ্বংসের পথে, নৈরাজ্যের পথে যাওয়ার চেষ্টা করে সেখানে তো জনগণের সাথে আওয়ামী লীগেরও দায়িত্ব আছে সেই অপচেষ্টাকারীদের রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করা এবং আমরা সেই কাজটি করবো। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তাদের আইনি জায়গা থেকে তো দায়িত্ব পালন করবেই, সেটা তো তারা করতেই পারে। রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের সাথে পুলিশ মিলে বিএনপি-জামায়াতকে মোকাবেলা করার প্রয়োজন নেই। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাই অনেক সংগঠিত, শক্তিশালী এবং ঐক্যবদ্ধ। আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্যদিয়েই আওয়ামী লীগের জন্ম, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক ভাষা হারিয়ে যারা সেই আওয়ামী লীগকে হুমকি-ধামকি দেয়, ভয় দেখায় তাদেরকে আমরা রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করবো।


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন