ইনসাইড টক

‘সরকার আগেই সমাবেশের অনুমতি দিলে আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হতো না’

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ২৯ নভেম্বর, ২০২২


Thumbnail

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বিএনপি অন্যান্য বিভাগীয় গণসমাবেশের মতোই আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ করবে। এর বাইরে বিএনপির আসলে অন্য কোনো উদ্দেশ্য নেই। যে সমস্ত আতঙ্কের কথা বলা হচ্ছে বা শোনা যাচ্ছে এগুলো ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ আতঙ্কিত হয়ে বলছে। সারাদেশে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশগুলোতে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত জমায়েত দেখে সরকার ভয় পেয়ে এখন এ ধরনের কথাবার্তা বলছে। সমাবেশগুলোতে যে গণ জোয়ার তৈরি হয়েছে তাতে সরকার আতঙ্কিত হবে এটাই স্বাভাবিক। দেশের কোথাও বিএনপির সমাবেশগুলোতে সরকার বাধা দিয়ে গণজমায়েত ঠেকাতে পারেনি। আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকাতেও সরকার সেটি করতে পারবে না ভেবেই এই আতঙ্ক থেকে  সরকার এখন নিজেই আতঙ্ক ছড়াচ্ছে।

আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ করবে বিএনপি। এ নিয়ে জনসাধারণ এক ধরনের আতঙ্কিতবোধ লক্ষ্য করা গেছে। বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন উঠেছে, ১০ ডিসেম্বর আসলে কি হবে। ১০ ডিসেম্বর আসলেই কি হবে এ নিয়ে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় জহির উদ্দিন স্বপন এসব কথা বলেছেন। পাঠকদের জন্য জহির উদ্দিন স্বপন এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক শান্ত সিংহ।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বিএনপির সমাবেশগুলোতে যেভাবে গণজোয়ার শুরু হয়েছে এগুলো আসলে গায়ের জোরে ঠেকানো সম্ভব নয়। সরকার অহেতুক সংঘাত সৃষ্টি করতে চাইছে। বিএনপি ১০ ডিসেম্বর নয়াপল্টনে সমাবেশ করতে ডিএমপির কাছে অনুমতি চাইলো। কিন্তু অনুমতি দেওয়া হলো সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। অথচ তারা আগে থেকেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যান টানা কমসূর্চি দিয়ে রেখেছে। স্বাভাবিকভাবেই আমরা যেখানে যাব না। আমরা বিকল্প স্থান বেছে নিয়েছি। আসল কথা হলো সরকারের মধ্যে ম্যাচিউরিটি লোকের অভাব রয়েছে। শেষ পর্যন্ত সরকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার অনুমতি দিলো। কিন্তু এর আগে দিলো না কেন? সরকার আগেই সমাবেশ করার অনুমতি দিলে আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হতো না। সরকার অহেতু একটি আতঙ্কিত পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

সরকারের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে তিনি বলেন, সরকার এখন শান্তিপূর্ণ অবস্থান নিয়েছে। কিন্তু শুরু থেকে সরকার এই শান্তিপূর্ণ অবস্থান নিলে সরকারের এমন কি ক্ষতি হতো? সরকারই বিভিন্ন ধরনের কথাবার্তা বলে সংঘাতের মতো একটি ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে। অথচ বিএনপি সংঘাত তৈরি হোক এমন কোন কথাই বলেনি বা এমন কোন কর্মসূচিও নেয়নি। সরকারের মধ্যে ম্যাচিউর লোকের অভাব থাকার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে অহেতুক ভীতি তৈরি হয়েছে। বস্তুত ১০ ডিসেম্বর কিছুই হবে না। বিএনপির একটি সাধারণ সমাবেশ করবে,যেখানে সারাদেশে থেকে মানুষ আসবে এবং বিএনপির পক্ষে একটি গণজোয়ার তৈরি হবে। 


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘মা কখনোই সন্তানের অভিভাবক না’

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ৩১ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

‘আমাদেরকে আসলে যেতে হবে অনেক দূর। তার মাঝখানে আমি বলতে পারি যে, এইটা অনেক ছোট একটা পদক্ষেপ। যেভাবে এ রায়টিকে যুগান্তকারী বলা হচ্ছে- আসলে এই রায়টি এমন যুগান্তকারী তেমন কিছু না। এটা এজন্য নয়, কারণ অভিভাবকত্ব বিষয়ে বিভিন্ন মিডিয়াতে আমি দেখছি এক ধরনের প্রচার-প্রচারণা চলছে- যেটা কিনা পুরোপুরি একটা ভুল ধারণা থেকে ‘এখন থেকে সন্তানের অভিভাবক মা’। এই বিষয়টি একদমই ঠিক নয়। আমাদের দেশে যে আইনগুলো রয়েছে মুসলিম পারিবারিক আইন বা যার যার ধর্ম অনুযায়ী পারিবারিক আইনগুলো পরিচালিত হয়ে থাকে। এখানে যে বিষয়টি আমাদের পারিবারিক আইনে বলা আছে খুব স্পষ্টভাবে যে, বাবা হচ্ছে সন্তানের স্বাভাবিক অভিভাবক এবং মা হচ্ছে সন্তানের জিম্মাদার। আসলে মা সন্তানের কোনো অভিভাবক নয়। পিতার অবর্তমানে সন্তানের অভিভাবক হচ্ছে দাদা বা অন্যান্যরা ক্রমানুসারে।’-বলছিলেন সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী এবং মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ব্যারিস্টার মিতি সানজানা।        

সম্প্রতি উচ্চ আদালতে রায় হয়েছে, মায়েরা সন্তানের অভিভাবক হিসেবে থাকতে পারবেন, বিভিন্ন স্কুল-কলেজে ছাত্র-ছাত্রীদের ভর্তির ক্ষেত্রে বা অন্যান্য ক্ষেত্রে শুধুমাত্র বাবাই অভিভাবক হিসেবে থাকতেন, এই রায়ের ফলে সমাজে এর প্রভাব, জাপানি দুই শিশুর ব্যাপারে সম্প্রতি হাইকোর্টের রায়, নারীর ক্ষমতায়নে দেশের আইন বিভাগ এবং সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ- এসব নিয়েই বাংলা ইনসাইডারের সাথে কথা হয়েছে সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী এবং মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ব্যারিস্টার মিতি সানজানা- এর সঙ্গে। তিনি বাংলা ইনসাইডারের সাথে একান্ত আলাপকালে জানিয়েছেন নারীর ক্ষমতায়ন, সম্প্রতি হাইকোর্টের রায় এবং সমাজে এর প্রভাবের কথা। পাঠকদের জন্য আইনজীবী মিতি সানজানার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার-এর নিজস্ব প্রতিবেদক আল মাসুদ নয়ন।

সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী এবং মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ব্যারিস্টার মিতি সানজানা বলেন, এখানে যে বিষয়টি সেটি আসলে ভুল ব্যাখ্যা দেয়া হচ্ছে। এখানে শুধুমাত্র আগে যেখানে ফরম পূরণ করার ক্ষেত্রে বাবার নামটা বাধ্যতামূলক ছিল, এখন বাবার নামটা বাধ্যতামূলক না। যদি কেউ পিতৃ পরিচয়হীন থাকেন বা পিতা না থাকেন কিংবা বাবার নাম তারা উল্লেখ করতে না চান, সেক্ষেত্রে মায়ের নাম ব্যবহার করা যাবে বা অন্যান্য যদি অভিভাবক থাকে, যারা ছিন্নমূল শিশু আছে রাস্তায় পিতৃ-মাতৃ পরিচয়হীন, তাদের ক্ষেত্রে হয়তো অন্য যারা অভিভাবক আছেন, আইনগত অভিভাবক আছেন, তাদের ক্ষেত্রে হয়তো এটি প্রয়োজ্য হবে। কাজেই বাবার নাম বাধ্যতামূলক নয়। এর মাধ্যমে মা যে অভিভাবক হয়ে যাচ্ছে আসলে ব্যাপারটা তা না। 



তিনি বলেন, ‘মা কখনোই সন্তানের অভিভাবক না, পিতা হচ্ছে সন্তানের স্বাভাবিক অভিভাবক।’ 

সম্প্রতি জাপানি দুই শিশুকে মায়ের তত্ত্বাবধানে দেয়া হলো, সেক্ষেত্রে কি আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটেছে কি না? -এমন প্রশ্নের উত্তরে সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী এবং মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ব্যারিস্টার মিতি সানজানা বলেন, আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি। তবে জিম্মাদার হিসেবে আইনে যা ছিল, পারিবারিক আইনে যা ছিল সেটাই। স্পষ্ট করে বলতে চাচ্ছি যে, শুধুমাত্র বাধ্যতামূলকভাবে পিতার নাম ব্যবহার করা না এবং এখানে বলা আছে যে, পিতৃ পরিচয়হীন শিশু। কাজেই সেই পিতৃ পরিচয়হীন শিশুর যে স্টিগমা (কলঙ্ক), কেউ যদি নাম উল্লেখ করতে না চান, তাদেরকে ধরে নিতে হবে, তাদের পিতৃ পরিচয় নেই বা তাদের আসলে সেই স্টিগমা-টা (কলঙ্ক) নিয়েই এই ধরনের ফরমগুলো পূরণ করতে হবে। এখন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ রায় আমরা দেখি নাই। এখন পর্যন্ত আমরা জানি যে, শুধুমাত্র শিক্ষাক্ষেত্রেই এটি প্রযোজ্য। 

তিনি বলেন, সন্তানের সম্পত্তির অভিভাবক পিতা, মাতা কখনও সেই অভিভাবকত্ব দাবি করতে পারেন না। যদি না আদালত তাকে মনোনীত করে। সেটি পিতার অধিকার। সন্তানের শরীর এবং সম্পত্তির সম্পূর্ণ অভিভাবক হচ্ছেন বাবা। অভিভাবক হচ্ছেন এমন একজন ব্যক্তি যিনি সন্তানের শরীর এবং সম্পত্তির দায়-দায়িত্বে থাকেন এবং সমস্ত ভরণ-পোষণের তত্ত্বাবধানেও থাকেন। মা শুধুমাত্রই জিম্মাদার, তা-ও একটি নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত। তারপরের থেকে সে আসলে বাবার জিম্মাদারিত্বে চলে যায়। তবে যদি কোর্ট মনে করে যে, সন্তানের সর্বোত্তম কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য মা’র কাছেই থাকবে তখন শুধুমাত্র কিছু কিছু ক্ষেত্রে মা শুধুমাত্র কাস্টডি (হেফাজত) পান, তবে সবক্ষেত্রে এটা না।



সমসাময়িক সময়ে নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে সরকার কি ধরনের পদক্ষেপগুলো নিয়েছে এবং কি ধরনের পদক্ষেপগুলো নেওয়া উচিৎ বলে আপনি মনে করেন?- এমন প্রশ্নের জবাবে ব্যারিস্টার মিতি সানজানা বলেন, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেত্রী নারী, উনারা শীর্ষ পর্যায়ে আছেন। শীর্ষ পর্যায়ে যারা আছেন, তাদের দিয়েই যদি আমরা বাংলাদেশের বড় দৃশ্যপটটি দেখি, সেটিই তো আসলে সব নয়। বাংলাদেশের ১৭ কোটি জনসংখ্যার দেশে অর্ধেকের বেশি হচ্ছে নারী। এখানে শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার- উনাদের উদাহরণ দিয়ে বিচার করা যায় না। উচ্চপদস্থ কয়জন সিইও আছে, সেটা দিয়েও বিচার করা যায় না। তৃণমূল থেকে সর্বস্তরে কয়জন নারীর ক্ষমতায়ন হলো, সেটি দেখার বিষয়। সমাজে নারীর প্রতি যে সম্মান এবং নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠিত হলো কি না, তা দিয়েই নারীর উন্নয়ন বিচার করা উচিত। 

ব্যারিস্টার মিতি সানজানা বলেন, সারাদেশের যে চিত্রটি আমরা দেখি, বাংলাদেশের নারীরা এখন পর্যন্ত সম্মানের জায়গা থেকে যদি দেখি, সে জায়গাটি এখন পর্যন্ত আমি মনে করি তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি। অনেক নারীবান্ধব আইন হয়েছে, অনেক কিছু ফ্যাসিলিটেড (সুবিধাজনক) করার চেষ্টা করা হচ্ছে, সরকার ভালো ভালো পদক্ষেপ নিচ্ছেন নারীবান্ধব। কিন্তু সেটি আসলে পারিবারিক শিক্ষা থেকে শুরু করে আইনের যে প্রয়োগ, আইনের প্রয়োগের জায়গাটিতে অনেক অনেক ঘাটতি রয়ে গেছে। 

তিনি বলেন, এখনও আমরা দেখি সর্বোচ্চ আদালত থেকে বলা হয় যে, মহিলা কাজী (বিয়ের কাজী) নিয়োগের ক্ষেত্রে যে রায় আমরা দেখতে পেয়েছি, মহিলা কাজী দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। এ ধরনের বিষয়গুলো আসলে খুবই দুঃখজনক। অনেক কিছুই এখনও আমরা দেখতে পাই, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়, অনেক বহুদূর যাওয়ার রয়েছে আমাদের।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

“এই দেশে আর সুজাতা সিং-এর কোনো প্রভাব থাকবে না”

প্রকাশ: ০৪:০০ এএম, ২৯ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

“আমাদের জনগনের সাপোর্টের যে ডেপোজিট, হালখাতা- এই জায়গায় আমরা সফল। এখন আমরা নববর্ষে, ২০২৩ সালের শেষে কতটা সফল হবো- এটা নিয়েই আমাদের আলোচনার বিষয়। আমরা প্রথম মাসটা কাটিয়েছি। এই মাসটিতেও আমরা বিভিন্নভাবে তৎপর ছিলাম। যদিও এই মাসটিতে আমাদের সকল নেতারা, যারা নীতি নির্ধারক, তাদের সকলেই কারাগারে নিক্ষেপ ছিল, আমাদের মহাসচিব কারাগার থেকে বেড়িয়ে এসে তিনি নতুন উদ্দীপনায়, নতুন গতিতে আবার নতুনভাবে কাজ শুরু করেছেন। এটা বলাবাহুল্য ইতিমধ্যেই আমাদের গ্লোবাল পলিটিক্সও আজকে জনগনের স্বপক্ষের সাথে একাত্বতা ঘোষণা করেছে।”- বলছিলেন বিএনপি দলীয় সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এবং বিএনপির বর্তমান নিবার্হী সদস্য ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। 

ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেন, আমি বলবো, আমেরিকার নিষেধাজ্ঞায় থাকা রূপপুরের বিদ্যুৎকেন্দ্রের পণ্যবাহী যে জাহাজটি, তারা ভারতে খালাস করতে চেয়েছিল, সেই জায়গায়ও তারা ব্যর্থ হয়েছে। তার মানে সুস্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি, আমাদের এই দেশে আর সুজাতা সিং-এর কোনো প্রভাব থাকবে না। ২০১৪- এর ইলেকশনে সুজাতা শিং এসে এরশাদ সাহেবকে সিএমইচ-এ পাঠিয়ে, পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র অনধিকার চর্চা করে আমাদের দেশের গণতন্ত্রকে ভুলুণ্ঠিত করার যে পদক্ষেপ তৎকালীন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিং নিয়েছিল, সেইটা আর হবে না- এটা সুনিশ্চিত।

একের পর বিএনপি সভা-সমাবেশসহ, যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা, ‘পদযাত্রা’  কর্মসূচি, এর আগে বিভাগীয় সমাবেশ করেছে বিএনপি, ঢাকায় এসে থমকে দাঁড়িয়েছে বিএনপির আন্দোলন- এছাড়াও বিএনপির ১০ দফা এবং রাষ্ট্র গঠনের রূপরেখা ২৭ দফা ঘোষণা এবং বিএনপির আন্দোলনের পরবর্তী বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা, পদক্ষেপ- এসব নিয়েই বাংলা ইনসাইডারের সাথে কথা হয়েছে বিএনপি দলীয় সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এবং বিএনপির বর্তমান নিবার্হী সদস্য ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলনের সঙ্গে। তিনি বাংলা ইনসাইডারের সাথে একান্ত আলাপকালে জানিয়েছেন বিএনপির আন্দোলনের কর্মসূচি, পরিকল্পনা এবং প্রাপ্তির কথা। পাঠকদের জন্য ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন- এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার- এর নিজস্ব প্রতিবেদক আল মাসুদ নয়ন। আজ প্রকাশ হচ্ছে এই সাক্ষাৎকারের দ্বিতীয় পর্ব।

ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেন, আমরা ডোনাল্ড লু’র সফরের সময়ও দেখেছি এবং একইসাথে রাশিয়ার সেংশন দেওয়া জাহাজটি ভারতে খালাস করতে চেয়েও সেটা করতে পারেনি দেখেছি এবং এম জে আকবর, ভারতের বিজেপির প্রভাবশালী নেতা, তিনি ঘোষণাই দিয়েছিলেন তারা এই জাহাজটির পণ্য ভারতে খালাস করতে দিবে না। তাহলে ভূ-রাজনীতির ক্ষেত্রে গণতন্ত্রহীনতার যে চর্চা, সেটা হতে পারবে না। এ জায়গাটিতে, আমাদের বিদেশি যে পরাশক্তিগুলো আমাদের ওপরে দৃষ্টি দিয়ে আছে, তারা এই জায়গাটি কনফার্ম করেছে। আমরা বুঝতে পেরেছি, এবারের নির্বাচন অর্থাৎ ২০২৪-এর যে নির্বাচন আর কোনো যেন-তেন নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এই জিনিসটি জনগনের মধ্যে বিশাল একটি প্রভাব সৃষ্টি করেছে। আওয়ামী লীগ পর পর তিনটি নির্বাচনে কারচুপি করে, তারা নির্বাচনকে কুক্ষিগত করে যে ক্ষমতায় এসেছে, এইবার সেই সুযোগটি তাদের আদৌ হবে না। এই যে আদৌ হবে না, এই জায়গাটিতেই আমাদের সবচেয়ে বড় বিজয় এসেছে। এখন আমাদের মূল বিষয়টি হলো, করতে পারবে না, কিন্তু কিভাবে করতে পারবে না, সেই সিস্টেমকে ডেভেলপ করা। এই সিস্টেমকে ডেভেলপ করতে হলে, আমাদের নির্বাচনকালে একটি সরকারের জন্য জোড় দাবি করতে হবে। 

তিনি বলেন, যেহেতু ইতিমধ্যেই আমরা ছোট্ট নেতা হতে বড় নেতা, প্রত্যেকেই জেল-জুলুম হুলিয়ায় এতোটাই অভ্যস্থ হয়েছি, আমাদের সীমাহীন আত্মবিশ্বাসের একটি শক্তি আমরা অর্জন করেছি। আমরা জেলে যেতে পারি কিন্তু আমরা হার মানবো না। এই যে বিশ্বাস, এই যে আত্মবিশ্বাস- এটাই হচ্ছে আমাদের ২০২২ সালের সবচেয়ে বড় বিজয়। এ বিজয়টাকে নিয়েই আমরা ২০২৩ সালে আবার নতুন ধারাবাহিকতায়, আবার এই আন্দোলনটাকে ক্রমান্বয়ে যে ১০ মাস আছে, এই ১০ মাসে আন্দোলনটাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবো। যেহেতু এইবার বাংলাদেশের নাগরিক, জনগন হতে শুরু করে বহির্বিশ্বে সকলেই বুঝতে পেরেছে, এই সরকার একটি জুলুমের সরকারের জায়গায় তারা নিজেদেরকে শাষক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে- এটি আর জনগনের কাছে বুঝবার বাকি নয়। 

আরও পড়ুন: (প্রথম পর্ব )‘প্রশাসনের ফাঁদে আমরা কিন্তু খানিকটা ধরা খেয়ে গেছি’ 


সুজাতা সিং   আ ন ম এহসানুল হক মিলন   বিএনপি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘প্রশাসনের ফাঁদে আমরা কিন্তু খানিকটা ধরা খেয়ে গেছি’

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ২৮ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

“মূলত বিএনপির আন্দোলনটাকে ধারাবাহিকভাবে এস্কেলেট (ধাপে ধাপে বৃদ্ধি) করতে হবে। টাইম বার্সেস ফারেনহাইট (সময় বনাম উত্তাপ বা চাঙ্গা), আমরা যদি গ্রাফে এটি দেখাই। তাহলে আমাদের সময় আছে মাত্র ১১ মাস। আবার নির্বাচনের আগে আছে ১০ মাস। তাহলে আমাদের গড়ে এদিকে ১০ মাস, ওদিকে ১০ মাস। বিএনপি যেভাবে এগুচ্ছিলো, অর্থাৎ ১০ই ডিসেম্বরের যে মহা সমাবেশ, সেখানে এসে বিএনপিকে আনেকটা নাজেহাল করলো প্রশাসন। তখন বিএনপি বনাম প্রশাসন হয়ে গেলো। ১০ই ডিসেম্বর প্রশাসন বলবে, উই উইল গিভ ইউ প্রটেকশন। কিন্তু প্রশাসন বলছে, আমরা তোমাকে এখানে করতে দিব না, ওখানে করতে দিব না, ওখানে করতে দিব। প্রশাসনের ইচ্ছেমাফিক একটি রাজনৈতিক দল কখনও চলতে পারে না। প্রশাসন একটি রাজনৈতিক দলের ইচ্ছমাফিক চলবে। অর্থাৎ আমি বলতে চাচ্ছি, ঘোড়ায় গাড়ি টানবে, গাড়িকে ঘোড়া টানবে না। আমরা বলবো, পল্টনে করবো, প্রশাসন বলবে, উই উইল গিভ ইউ দ্য সিকিউরিটি, কমফোর্ট। কিন্তু প্রশাসন বলছে, আমরা তোমাকে পল্টনে করতে দেব না। এতে কি হলো? ঘোড়া গাড়ি টানলো না, গাড়ি ঘোড়া টানলো।”- বলছিলেন বিএনপি দলীয় সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এবং বিএনপির বর্তমান নিবার্হী সদস্য ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন।                

একের পর বিএনপি সভা-সমাবেশসহ যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করছে, ‘পদযাত্রা’  ঘোষণা , এর আগে বিভাগীয় সমাবেশ করেছে বিএনপি, ঢাকায় এসে থমকে দাঁড়িয়েছে বিএনপির আন্দোলন- এছাড়াও বিএনপির ১০ দফা এবং রাষ্ট্র গঠনে রূপরেখার ২৭ দফা ঘোষণা এবং বিএনপির আন্দোলনের পরবর্তী বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা, পদক্ষেপ- এসব নিয়েই বাংলা ইনসাইডারের সাথে কথা হয়েছে বিএনপি দলীয় সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এবং বিএনপির বর্তমান নিবার্হী সদস্য ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলনের সঙ্গে। তিনি বাংলা ইনসাইডারের সাথে একান্ত আলাপকালে জানিয়েছেন বিএনপির আন্দোলনের কর্মসূচি, পরিকল্পনা এবং প্রাপ্তির কথা। পাঠকদের জন্য  ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন- এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার- এর নিজস্ব প্রতিবেদক আল মাসুদ নয়ন। আজ প্রকাশ হচ্ছে এই সাক্ষাৎকারের প্রথম পর্ব।

ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেন, এখানে আওয়ামী লীগ একটি খুব কঠিন পলিটিক্স করলো। প্রশাসনের সাথে আমাদের একটি বৈরী সম্পর্ক সৃষ্টি করার একটি ট্রেপ (ফাঁদ) করলো। এই ফাঁদে আমরা কিন্তু খানিকটা ধরা খেয়ে গেছি, প্রশাসনের ফাঁদে। আওয়ামী লীগ চাচ্ছে প্রশাসন বনাম বিএনপি হয়ে যাক, আওয়ামী লীগ বনাম বিএনপি না। এই জায়গাটায় খুব চাণক্য পলিটিক্স করেছে আওয়ামী লীগ। আমরা পল্টনে মিটিং করবো, তারা জনগণের ভোগান্তি হবে বিবেচনায় পল্টনে মিটিং করতে দিবে না। এটা আদৌ কোনো সত্য কথা নয়। যেখানেই মিটিং করুক, জনগণের ভোগান্তি হবেই। চীন-মৈত্রীর মাঠেই করুক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেই করুক, যেখানেই করুক, জনগণের ভোগান্তি হবেই। আওয়ামী লীগ একটি খোরা যুক্তি খাড়া করলো, তারা পল্টনে সমাবেশ করতে দেবে না। আমরা পল্টন যদি দখল করতাম সমাবেশের জন্য, ৩/৪ ঘণ্টা সমাবেশে থাকতাম। তারা স্রেফ বলতে পারতো ৩ ঘণ্টার জন্য আপনারা পল্টনের রাস্তা ব্যবহার করবেন, ৩ ঘন্টার এক মিনিট বেশিও আপনার পল্টনের রাস্তা ব্যবহার করতে পারবেন না। হয়ে যেত এবং তারা আমাদেরকে ৩ ঘণ্টার জন্য সিকিউরিটি দিতো। 

তিনি বলেন, কিন্তু তারা বললো, পল্টনে করা যাবে না। প্রশাসনের এই বিমাতাসুলভ আচরণ আওয়ামী লীগ এটা করালো চালাকি করে। বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের সামনে যে আওয়ামী লীগ অফিস, ওটাতো চিরতরেই বন্ধ হয়ে গিয়েছে বা জাতীয় পার্টির অফিসের সামনে যখন তাদের সমাবেশ হয়, তখন সেটাও তো বন্ধ হয়েই যায়। কিংবা শেরে বাংলা নগরে, চীন-মৈত্রীর মাঠে সমাবেশ করলে, সেটাও কিন্তু বন্ধ হয়েই যায়। আমরা তো শুধু তিন ঘন্টার জন্য চেয়েছিলাম। সারা বাংলাদেশে ৯টি সমাবেশ করে ১০ম সমাবেশে যে মমেন্টামটা  আমাদের গ্রো করেছিলো, যে গতিটা হয়েছিলো, প্রশাসনের সঙ্গে বৈরী ভাব করে সেটাকে তারা বাধাগ্রস্থ করলো। যেহেতু আমরা আস্তে আস্তে, আন্দোলনটা ধাপে ধাপে ওপরে উঠতেছিল, তারা আমাদের গতিটাকে প্রজেক্টাইলের মতো, অর্থাৎ একটা ঢিল ছুড়লে, এটা আকাশে উঠে আবার পড়তে থাকে, এটা পড়তে থাকলো নিচের দিকে। সে জায়গাটাতে আমাদেরকে খানিকটা পিছিয়ে দিয়েছে। তাহলে এখন আমাদের আন্দোলনে গতিপ্রকৃতি কি হবে? 

ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেন, আন্দোলনটাকে তুঙ্গে ওঠানো, আমাদের দলের যে পরিকল্পনাটা ছিল, ২০২২ সালের আমাদের দলীয় সালতামামিতে, আমরা সম্পূর্ণভাবে সফল হয়েছি। আমাদের রাজনৈতিক দিকগুলো জনগণের সামনে তুলে ধরা, এটা আমরা সফল হয়েছি। কারণ ডিসেম্বরের ১০ তারিখে সমাবেশকে তারা প্রশাসন দ্বারা খানিকটা ব্যর্থ করতে পারলেও, মূলত আমরা ৯টি সমাবেশে প্রমাণ করেছি, সারা বাংলাদেশের ১৮ কোটি জনগণের মধ্যে আমাদের একটি অবস্থান আমরা সৃষ্টি করতে পেরেছি এবং আওয়াজ দিতে পেরেছি, যেটা ২০০৯ থেকে শুরু করে ২০১৪, ২০১৪ থেকে শুরু করে ২০১৮ এবং ২০১৮ থেকে শুরু করে বর্তমান, এই ১৪ বছরে সেরা আন্দোলন আমরা ২০২২-এ দেখিয়েছি। এতে এই জিনসিটাই প্রতয়ীমান হয়, বিএনপির যে ভোট ব্যাংক, সাপোর্ট ব্যাংক, জোট ব্যাংক, যেটি আমাদের রয়েছে, এটি একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ, এটি একটি কার্যকর।আমাদের সক্ষমতা আছে আন্দোলন করার, ২০২২ সালের সালতামামিতে এটা আমরা দেখতে পেয়েছি।


বিএনপি   আ ন ম এহসানুল হক মিলন   সাক্ষাৎকার  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

সিন্ডিকেট শব্দটি চোরাকারবারিদের সাথে যায়, শিল্পচর্চার সাথে না: মিম (ভিডিও)

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ২৭ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

নাদিয়া মিম, ২০১৪ সালে লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতায় জয় লাভ করে মিডিয়াতে পথ চলা শুরু করেন। তখন থেকেই নিয়োমিত মডেলিং-অভিনয় করে যাচ্ছেন।অল্প সময়েই দর্শকদের মাঝে জায়গা করে নেন তিনি। বর্তমানে ছোট পর্দাড় কাজ ও ওটিটির কাজ নিয়ে বেশ ব্যস্ত সময় যাচ্ছে তার। সমসাময়িক নানা কাজ ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে বাংলা ইনসাইডারের সাথে কথা হলো এই অভিনেত্রীর। 



বাংলা ইনসাইডার:  'মুসা' নাটকের শুটিং করছেন, নাটকটিতে আপনার চরিত্র নিয়ে জানতে চাই।

মিম:  সাজ্জাদ হোসেন দোদুল ভাইয়ের 'মুসা' নাটকে আমি তিথি চরিত্রে অভিনয় করছি। আর এ চরিত্রটি রহস্যে ঘেরা। ফাইনালে আসলে অনেক কিছুই হবে। আর আমার চরিত্রটি এখনো রহস্যে ঘেরাই আছে। এখনি সব কিছু আসলে বলে দিলে সত্য ফাঁস হয়ে যাবে। তাই আর কিছু এখনি বলতে চাই না। 

বাংলা ইনসাইডার:  চলচ্চিত্র নিয়ে পরিক্লপনা কি? 

মিম: আসলে চলচ্চিত্র নিয়ে আমার তেমন কোন পরিকল্পনা নেই। আসলে কাজ তো করি গল্পের জন্য। তাছাড়া অনেক কিছু টিমের উপর, গল্পের উপর অনেক কিছু নির্ভর করে। সো ব্যাটে-বলে মিলে গেলে চলচ্চিত্রে কাজ করবো।



বাংলা ইনসাইডার:  শোবিজের অনেকই সাইবার বুলিংয়ের শিকার হন। বিষয়টি আপনি কিভাবে দেখছেন? 

মিম: সাইবার বুলিংয়ের শিকার আসলে সবাই হচ্ছে। আমি বলবো আমরা যারা সেলিব্রেটি তারা তেমন একটা গায়ে লাগাই না। দিনশেষে পাবলিক ফিগার বলে একটা কথা আছেই। আর জনগণের তাদের মন্তব্যের অধিকার আছে । তবে হ্যাঁ যারা পজেটিভিলি ভক্ত হয়ে লিখে তাদেরটাই গ্রহণযোগ্য। আর যারা নিচু মনমানসিকতার, যাদের পরিবার শিক্ষা দেয়নি তাদের মন্তব্য নিয়ে আসলে কথা বলতেই চাই না। 

বাংলা ইনসাইডার: নাটকের সিন্ডিকেটের কথা প্রায়ই শোনা যায়। বিষয়টি নিয়ে আপনি কিভাবে দেখছেন? 

মিম : আসলে যার যার সাথে মিলে তারা একসাথে কাজ করবে তারা এক সাথে করবে এইটাই স্বাভাবিক। যেমন এই সিরিয়ালে আমারা যার কাজ করছি এটি নিয়ে তিন নাম্বার সিরিয়ালের কাজ করছি। এই সিরিয়ালে যারা আছে তাদের ৮০ ভাগ আর্টিস্ট ফের এক সাথেই কাজ করছি। আসলে আমি সিন্ডিকেট কি সেটা বুঝিনা। আর সিন্ডিকেট শব্দটি চোরাকারবারিদের সাথে যায়, শিল্পচার্চার সাথে যায় না।



বাংলা ইনসাইডার: পাঠকদের জন্য কিছু বলুন... 

মিম: পাঠকদের জন্য এক্টুকুই চাওয়ার আছে যে আপনাদের জন্য আমি আজকে মিম। আপনারা অবশ্যই কাজের রিভিউ দিবেন তবে পজেটিভ ভাবে। আমি সব সময় আমার দর্শকদের আমি ভালোবাসি , শ্রদ্ধা করি। সো সব সময় আমার সাথে ছিলেন , আশাকরি সামনেও থাকবেন। আর মুসা নাটকটি অবশ্যই দেখবেন কারণ এতে নতুন কিছু পাবেন আপনারা। 




মিম   মুসা   সিন্ডিকেট   নাটক  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘বায়ু দূষণে প্রথম হয়েছি, এটা অত্যন্ত গর্বের বিষয়’

প্রকাশ: ০৪:০৩ পিএম, ২৬ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

“ঢাকা তো প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় অবস্থানেই থাকে। বায়ু দূষণে আমরা প্রথম হয়েছি, এটা অত্যন্ত গর্বের বিষয়। এর ফলে আমরা তো শেষ হয়ে যাচ্ছিই, পরবর্তী প্রজন্ম, বিশেষ করে শিশু এবং বৃদ্ধরা একেবারে শেষ হয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ হিসেবে এটি ঠিক আছে। এর ফলে মানুষের গড় আয়ু কমে যাচ্ছে, পাশাপাশি একটা বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে, আমাদের অর্থ ব্যয় বাড়ছে। রাস্তায় বের হলে যে পরিমাণ কাপড়-চোপড় ধুতে হয়, ঘর-বাড়ি পরিষ্কার করতে হয়, টেবিলের ওপর আজকে পরিষ্কার করলে, কালকেই দেখবেন আবার ধুলো জমে আছে। এর ফলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় বেশি শ্রম দিতে হয়। ব্যক্তিগত এবং পারিবারিক ব্যয় বৃদ্ধি হয়। এটি আমরা গবেষণা করে দেখেছি, গড়ে মাসিক ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা ব্যয় বেড়ে যায় এই সময়ে, যখন বায়ু দূষণ বেড়ে যায়।“ - বলছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক এবং পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের (পবা) সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. আবদুস সোবহান।

বর্তমান সময়ে রাজধানী ঢাকা বায়ু দূষণে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে এবং বিগত কয়েকদিন থেকেই বায়ু দূষণে শীর্ষ অবস্থানে ঢাকা। বায়ু দূষণে রাজধানী ঢাকার সমসাময়িক অবস্থান, এর কারণ এবং প্রতিকার- এসব বিষয়ে বাংলা ইনসাইডারের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় এসব কথা বলেছেন প্রকৌশলী মো. আবদুস সোবহান। পাঠকদের জন্য প্রকৌশলী মো. আবদুস সোবহান- এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডারের নিজস্ব প্রতিবেদক আল মাসুদ নয়ন।

প্রকৌশলী মো. আবদুস সোবহান বলেন, স্বাস্থ্যক্ষেত্রেও আর্থিক ব্যয় বৃদ্ধি হয়। গড় আয়ু কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন রোগও বেড়ে যায়। ফলে স্বাস্থ্যক্ষেত্রেও আর্থিক ব্যয় বেড়ে যায়। এছাড়াও আমাদের স্থাপনাগুলো নষ্ট হচ্ছে। পথচারী পারাপারের জন্য যে ফুটওভার ব্রিজগুলো রয়েছে, সেখানে ধুলা পড়ে জং ধরে যায়। যেখানে ধূলা পড়ে থাকে, ওরাতো ঠিকমতো পরিষ্কার করে না। এর ফরে বিল্ডিং থেকে শুরু করে সমস্ত স্থাপনার আয়ুষ্কাল কমে যায়। এটাও একটা বিরাট অর্থনৈতিক প্রভাব।    

বায়ু দূষণের কারণ সম্পর্কে বলতে গিয়ে প্রকৌশলী মো. আবদুস সোবহান বলেন, প্রথমত ভ্রান্ত রিপোর্ট, যেটা পরিবেশ অধিদপ্তর বলছে, দ্বিতীয়ত আমাদের উন্নয়ন কার্যক্রম, তৃতীয়ত সিটি করপোরেশন এবং ওয়াসার বিভিন্ন কার্যক্রম। এই যে পরিবেশ অধিদপ্তরের একটি সমীক্ষা, এটি হয়েছে আজ থেকে সাত-আট বছর আগে। সে সময়ে সমীক্ষায় বলা হয়েছে, বায়ু দূষণের এক নম্বর কারণ হচ্ছে ইটভাটা, দুই নম্বর হচ্ছে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং তিন নম্বর হচ্ছে যানবাহনের দূষণ। ওই সমীক্ষা দিয়েই অনেকে চালিয়ে দিতে চান, কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপট ভিন্ন। বর্তমানে গত পাঁচ বছরে ঢাকা শহরে যে সমস্ত উন্নয়ন কর্মকাণ্ড হচ্ছে, তা হলো এক, দুই নম্বর হলো ইটভাটা, কারণ অনেকগুলো ইটভাটা ইতিমধ্যেই বন্ধ হয়ে গেছে অথবা তারা উন্নত প্রযুক্তিতে গিয়েছে। ঢাকা শহরের আশে-পাশে এখন আর তেমন ইটভাটা নেই। তার মানে হচ্ছে, ইটভাটা দুই নম্বরে চলে এসেছে, এখন আর এক নম্বরে নাই।

তিনি বলেন, এখন এক নম্বরে চলে এসেছে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড। গত পাঁচ বছরে সিটি করপোরেশন, ওয়াসার অনেকগুলো প্রকল্প হয়েছে। ওরা পুরো শহর কেটেকুটে তছনছ করে রাখছে। এখনও তাই চলছে। দুই নম্বরে চলে এসেছে যানবাহন, আমাদের যানবাহন, বিশেষ করে কাভার্ড ভ্যান প্রচুর পরিমাণে বাড়ছে। শুধু যে ব্যক্তিগত গাড়ি বাড়ছে তা নয়, কাভার্ড ভ্যানও প্রচুর পরিমাণে বাড়ছে। এখন ঢাকা শহরে দিন রাতে সব সময় যানবাহন চলছে। এসব যানবাহনগুলো ডিজেল চালিত। এসব ডিজেলের ধুয়ার কারণেও বায়ু দূষণ বাড়ছে। এখন শোনা যাচ্ছে আরও নিম্নমানের ডিজেল ব্যবহারের জন্য আমদানি করা হবে। এছাড়াও যানবাহনগুলো পুরাতন হচ্ছে। এরপর আমরা দেখছি ওয়াসা এবং সিটি করপোরেশন, মাসের পর মাস রাস্তা কেটে রাখে, সেখানে প্রচুর ধুলা উৎপাদন হয়। এর পর হচ্ছে কন্সট্রাকশন, নির্মাণ সামগ্রী পরিবহন। সিটি করপোরেশন-ওয়াসাসহ অন্যান্য সেবা সংস্থাসমূহ প্রচুর খোড়াখুড়ি করে। এছাড়াও শীতকালে আমরা বিভিন্ন জিনিস পুরাই, যেমন খর-কুটো, লতা-পাতা- এগুলো থেকেও বায়ু দূষণ হচ্ছে। তবে সারা বাংলাদেশের বায়ু দূষণের জন্য ইটভাটা এক নম্বর কারণ। 

বায়ু দূষণ থেকে প্রতিকারে জন্য কি ধরনের ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে? -এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রকৌশলী মো. আবদুস সোবহান বলেন, আমরা প্রত্যেকে যদি নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করি। আমাদের মেগা প্রকল্পগুলো যারা চালাচ্ছেন, তারা যদি বিদেশে এ কাজগুলো করতেন, তাহলে পরিবেশ বাদ দিয়ে কাজ করতে পারতেন না। অথচ এখানে কিন্তু তারা কিছু করছেন না। মূল বিষয় হচ্ছে লাভ, কত লাভ উঠিয়ে নেয়া যাবে? যত আমি লাভ উঠিয়ে নিতে পারবো, ততো কর্তৃপক্ষ আমার ওপর খুশি হবে। এদের প্রত্যেকের পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নিতে হবে। বলা আছে, এ ধরনের প্রকল্প করতে হলে তাদের পরিবেশ রক্ষায় কি কি ব্যবস্থা নিতে হবে। সেই ব্যবস্থাগুলো তারা নিচ্ছেন না। প্রকল্প পরিচালকও নিচ্ছেন না, আবার যারা মনিটর করবেন, পরিবেশ অদিদপ্তর, তারাও মনিটর করছেন না। আইন আছে কিন্তু আইনের কঠোর প্রয়োগ নেই। সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আইনেরও কঠোর প্রয়োগ থাকতে হবে।

তিনি বলেন, ওয়াসা এবং সিটি করপোরেশনকে যেটুকু কাজ তারা করবেন, সেটুকু আগে করতে হবে। তা না করে পুরো এলাকা কেটে ৬ মাস ফেলে রাখবে। অথচ যদি সেগমেন্ট ওয়াইজ কাজ করা হয়, একটা একটা করে রাস্তা করেন, তাহলে আর পুরো এলাকাটা দূষিত হয় না। অংশবিশেষ এলাকা দূষিত হবে। কর্তা ব্যক্তিরা, তারা সবাই এ বিষয়গুলো জানেন, বুঝেন কিন্তু কেন করেন না? এদেরকে এটা করতে বাধ্য করতে হবে। আমাদের যেমন আইনের প্রয়োগ নেই এবং আমাদের নাগরিকরাও অনেক দুর্বল। আমাদেরকে সোচ্চার হতে হবে। যানবাহনের ক্ষেত্রে উন্নতমানের জ্বালানি ব্যবহার করতে হবে। ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল বন্ধ করতে হবে। এসব বিষয়ে সচেতনতা যেমন বৃদ্ধি করা দরকার, সেভাবে  আইনও প্রয়োগ করা দরকার।

তিনি বলেন, মূল কথা হচ্ছে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে শুরু করে, ওয়াসা, সিটি করপোরেশন, বিআরটিএ, রাজউকসহ সংশ্লিষ্ট যারা দায়িত্বে রয়েছেন, তাদের যে আইনসিদ্ধ বিষয় রয়েছে সংগত কারণে সেগুলো পালন করা এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ করা। পাশাপাশি জনগনকে সচেতন করা এবং যারা এসব প্রকল্পের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছেন তাদেরকেও সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করা দরকার। 


বায়ু দূষণ   বাংলাদেশ   ঢাকা   পরিবেশ  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন