ইনসাইড টক

‘রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য প্রকৃত চিকিৎসা আড়াল করে রাখছে’


Thumbnail

স্বাধীনতা চিকিৎসা পরিষদ (স্বাচিপ) এর মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ বলেন, খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে গত এক সপ্তাহ যাবত পত্র-পত্রিকায়, টকশোতে বা রাজপথে বিএনপি বেশ সরব এবং তাদের মতাদর্শের বুদ্ধিজীবীরা খুব তোলপাড় করতেছে। বাংলাদেশের সব নাগরিকই তার অবস্থান থেকে চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার আছে তা সে জেলখানায় থাকুক বা স্বাভাবিক অবস্থায় থাকুক। সরকার খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ব্যাপারে কিন্তু কোন অবহেলাও করছে না কিংবা তাকে বিদেশ যেতে দিবে না, সেরকম কোন কথাও সরকার বলেছে না। এখানে প্রধানমন্ত্রী এবং আইনমন্ত্রীর অবস্থানটা একদম স্পষ্ট। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সেইদিনও বলেছেন মানবিক দিক বিবেচনায় সাজা স্থগিত রেখে বাসায় থাকা এবং বাসায় থেকে খালেদা জিয়া তার নিজের মত চিকিৎসকদের মাধ্যমে দেশের যেকোনো যায়গায় চিকিৎসা করার সুযোগ প্রধানমন্ত্রী করে দিয়েছে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে।পৃথিবীতে এটা একটা নজিরবিহীন ইতিহাস যে, একজন মুক্ত স্বাধীন মহিলা ফাতেমা, তাকে খালেদা জিয়ার সাথে রেখেছে। এমন কোন ইতিহাস কিন্তু নেই। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে, উনার যতটুকু এক্সিকিউটিভ ক্ষমতা ছিলো সম্পূর্ণ ক্ষমতা উনি ব্যবহার করে এই সুযোগ উনি দিয়েছেন এবং বাকীটা বলেছেন যে, আইনের মাধ্যমে করতে হবে। সেখানে আইনমন্ত্রীও কিন্তু স্পষ্ট করেছেন সংসদে, প্রেসে বিভিন্ন যায়গায়। তাদের যে আগের আবেদন ছিল সেটা কিন্তু নিষ্পত্তিকৃত বিষয়, নতুনভাবে একটা দরখাস্ত করে আইনের মাধ্যমে পদক্ষেপ নেবে -এটা আইনমন্ত্রী বলেছেন।

খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয় নিয়ে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় তিনি এসব কথা বলেছেন। পাঠকদের জন্য অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক মাহমুদুল হাসান তুহিন।

অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ বলেন, এখন পর্যন্ত খালেদা জিয়ার পরিবার বা রাজনৈতিক কেউ কিন্তু এখন পর্যন্ত আবেদন করেনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয়, কারাগারের ডিজি -কারও কাছে আমরা আবেদন করতে দেখিনাই। কিন্তু তারা রাজপথে আন্দোলন, সংগ্রাম, প্রেস-ব্রিফিং করছে, দেশ অচল করার হুমকি দিচ্ছে বিভিন্ন কথাবার্তা বলছে এবং কর্মসূচী দিয়েছে শনিবারের। এখন ব্যাপার হলো যে, খালেদা জিয়ার যে চিকিৎসা এই চিকিৎসা হচ্ছে নামীদামী মাল্টিডিসিপ্লিনারি এভারকেয়ার হাসপাতালে। সেখানে কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, চিকিৎসা যারা দিচ্ছেন তারা কিন্তু খালেদা জিয়ার চিকিৎসার ব্যাপারে কিছু বলতেছে না। সেখানে খালেদা জিয়ার দলীয় চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসা দিচ্ছে, তারা প্রেস-ব্রিফ করছে আর বিএনপি নেতারা প্রেস-ব্রিফ করছে। ওখানে কিন্তু বোর্ডও করেনি। এই ব্যাপারটা কিন্তু ঝাপসা। খালেদা জিয়ার যে প্রকৃত অবস্থা, চিকিৎসা কি হচ্ছে এটাও কিন্তু জানা যাচ্ছে না, এটা কিন্তু তারা গোপন রাখছে।

তিনি আরও বলেন, কিন্তু আমরা যেটা জানি খালেদা জিয়ার রক্তশূন্যতা হয়েছিল, হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, তিন ব্যাগ রক্ত দেয়ার পর ঠিক হয়েছে, এখন সে স্বাভাবিক অবস্থায় আছে, বেডে আছে এবং নিজে হেঁটে টয়লেটে যান এরকম অবস্থায় আছেন বলে শুনেছি। একজন বয়স্ক মহিলা যার অনেকগুলো রোগ আছে, এটা কিউরেবল না কিন্তু চিকিৎসায় নিয়ন্ত্রণ রাখা যায়, এটা আমরা জানি। সেক্ষেত্রে আমার মনে হয় যে, বিএনপি চিকিৎসা ব্যবস্থার স্বচ্ছ অবস্থা পরিষ্কার না করে তারা আন্দোলন সংগ্রাম করতে চায়, এইটা আমার মনে হয় তারা রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য বলতেছে। প্রকৃত চিকিৎসা আড়াল করে রাখছে। তারা ইস্যুটিকে রাজপথে নিয়ে যেতে চাচ্ছে। এই জন্য আমার মনে হয় সরকার এই যায়গায় স্পষ্ট হওয়া উচিৎ এবং আইনের যে ৪০১ ধারার কথা বলা হয় এটার সব সুযোগ কিন্তু সরকার দিয়েছে খালেদা জিয়াকে। এই মূহুর্তে তারা বলে অন্যদের কথা বলে যে তারা চিকিৎসার জন্য বাহিরে গিয়েছিল আসামি হিসেবে কিন্তু তারা বিচারাধীন ছিলো। খালেদা জিয়া জিয়া কিন্তু বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালতে একজন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। তার অন্যদের সাথে মিল নাই। খালেদা জিয়া নিজেও কিন্তু বিচারাধীন অবস্থায় লন্ডন তার ছেলের কাছে গিয়েছিল, চিকিৎসার জন্য গিয়েছিল। যদিও কেউ বলে ছেলের সঙ্গে বোঝাপড়া, কেউ বলে ষড়যন্ত্র। ২০১৫ সালে সম্ভবত গিয়েছিল। সুতরাং আমার  মনে হয় এই যায়গায় খালেদা জিয়ার পরিবার নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করতে পারছে না, তারা আসলে কি চায়। চিকিৎসা চায়, না রাজনীতি চায়, না বিদেশ নিতে চায় -এই যায়গাটা পরিষ্কার না।

অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ বলেন, আরেকটা ওরা বলে যে প্রতিহিংসার কথা বলে। জননেত্রী শেখ হাসিনার ওইদিন সাংবাদিক সম্মেলন নিয়ে টুইস্টেড করে কথা বলে। এই যে মামলা, এটা কিন্তু ওয়ান-ইলেভেন সরকারের মামলা, এটা কিন্তু শেখ হাসিনা সরকারের মামলা নয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই যে ১৫ আগস্টের কথা বলেন, ২১ আগস্টে উনি মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছেন, উনি ভ্যানিটি ব্যাগে বোমে নিয়ে গিয়েছিলেন বলেছিল, কোকোর মৃত্যুতে বাসায় গিয়েছিল কিন্তু ঢুকতে দেয়নি, বলেছিল শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী তো দুরের কথা বিরোধী দলের নেত্রীও হতে পারবে না, ২১ বার হত্যাচেষ্টা করলো, বঙ্গবন্ধুর খুনিদের পুরস্কৃত করেছিল, বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিরোধী দলের নেতার আসনে বসালো । এই যে তিক্ত অমানবিক ইতিহাস যেটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি করা হয়েছে। তারপরও খালেদা জিয়ার প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মানবিক আচরণ করেছেন এ পর্যন্ত। উনি এটাও বলছে যে রাখে আল্লাহ মারে কে। এটা টুইস্টেড করতেছে। এটা তো উনি উনার কথা বলছে যে, আল্লাহ উনারে রাখছে, মারে কে। এটাও টুইস্টেড করে বলে। সুতরাং এই সব মিলিয়ে তারা আসলে এই খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে একটা রাজনীতি করতেছে। আমি মনে করি যে, সরকারের উচিৎ যে, এই মুহূর্তে তারা রাজনীতি শুরু করেছে, ভুল ম্যাসেজ দিচ্ছে, কর্মসূচী দিচ্ছে,  সরকার যে মানবিক স্টেপ নিয়েছিল যে, সাজা স্থগিত রেখে বাসায় থেকে চিকিৎসার তা বাতিল করে সরকার আবার খালেদা জিয়াকে দেশের সর্বোচ্চ মাল্টিডিসিপ্লিনারি হাসপাতাল বঙ্গবন্ধুতে এনে এখানে স্পেশাল বিশেষজ্ঞ বোর্ডের মাধ্যমে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা উচিৎ। এটি নিয়ে তারা রাজনীতি করছেন, প্রকৃত অবস্থাও জানা যাচ্ছে না। সরকারের এখন দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে যে, খোঁজ নেয়া যে আসলে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা কি হচ্ছে, হচ্ছে না এবং সরকার নিজেই উদ্যোগ নিয়ে চিকিৎসা করা উচিৎ। আমি মনে করি, তারা এখন কিন্তু এভারকেয়ারের বাহিরে বিভিন্ন নামীদামী তাদের দলীয় স্পেশালিষ্ট চিকিৎসকদের দিয়ে চিকিৎসা করাচ্ছেন। তারা কিন্তু বিদেশ থেকে ডাক্তার এনেও চিকিৎসা করাতে পারে। কিন্তু সেইদিকে যাচ্ছে না। সেটা কিন্তু বলে না। তাই এইসব বিবেচনায় আমার মনে হয় সরকার এখন খালেদা জিয়ার চিকিৎসার দায়িত্ব বাংলাদেশের সর্বোচ্চ মাল্টিডিসিপ্লিনারি হাসপাতাল বঙ্গবন্ধুতে রেখে করা উচিৎ। জনগণের কাছে খালেদা জিয়ার প্রকৃত অবস্থান পরিষ্কার করা উচিৎ, যেন এটা নিয়ে রাজনীতি না করতে পারে।


স্বাচিপ   খালেদা জিয়া   বিএনপি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

'বিদ্যমান আইনে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধে আমাদের কিছু করার নেই'


Thumbnail 'বিদ্যমান আইনে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধে আমাদের কিছু করার নেই'

এখন দেশে অর্থনৈতিক সংকটের কথা বলা হচ্ছে। কেউ কেউ মনে করছেন যে, টাকা পাচার বন্ধ, ব্যাংকিং খাতে লুটপাট বন্ধ এবং সার্বিকভাবে দুর্নীতি যদি কমানো যেতো তাহলে সরকারকে আইএমএফ এর কাছ থেকে ঋণও নিতে হতো না এবং সরকারকে এই সংকটে পড়তে হতো না। এই প্রেক্ষাপটে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে কথা বলেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সচিব মো. মাহবুব হোসেন। তার সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হলো।

বাংলা ইনসাইডার: দুর্নীতি বন্ধের জন্য দুদক কি করছে, কতটুকু সক্রিয় আপনারা?

মো. মাহবুব হোসেন: আমাদের তফসিলে যে বিষয়গুলো বলা আছে, সেই তফসিলের ক্ষমতাবলে বা তফসিলের আওতায় যে সমস্যা বা অভিযোগগুলো, সেগুলোর বিষয়ে কাজ করা হচ্ছে। দুদক সেইসব অভিযোগগুলো অনুসন্ধান করছে। অনুসন্ধান করার করার পর যদি কোনো তথ্য থাকে তখন মামলা দায়ের হয়। মামলা দায়ের হলে কোর্টে যাই। কাজ চলমান আছে।

বাংলা ইনসাইডার: বিদেশে টাকা পাচার, যেমন পিকে হালদারের বিষয় কি বলবেন?

মো. মাহবুব হোসেন: টাকা পাচারের ক্ষেত্রে সমস্যা আছে। এক্ষেত্রে দুদকের ক্ষমতা সীমিত। কারণ মানিলন্ডারিং আইনে দুদককে শুধুমাত্র সরকারি কর্মচারী যদি মানিলন্ডারিং করে দুর্নীতির মাধ্যমে, সেইটা দুদক দেখভাল করতে পারবে বা মামলা নিতে পারবে বা তদন্ত করতে পারবে। তাছাড়া অন্য কোনো পাবলিক বা শিল্প প্রতিষ্ঠান নিজে যদি না করে সেখানে দুদকের যাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। আইনগতভাবে আমরা পারি না।

বাংলা ইনসাইডার: আপনারা কি মনে করেন না যে, এই আইনটি সংশোধন করা প্রয়োজন?

মো. মাহবুব হোসেন: আইন সংশোধন করা লাগবে। মহামান্য হাইকোর্টও বলেছে আইন সংশোধন করতে। আইন সংশোধনের জন্য আমরা কেবিনেটে চিঠিও দিয়েছি। কেবিনেট আর্থিক প্রতিষ্ঠানে দিয়েছে। ওইটার অগ্রগতি সম্পর্কে আমাদের জানা নেই। সংশোধন বলতে ওই তফসিলে আমাদের দুদককেও ক্ষমতাটা দিয়ে দিতে হবে। তাহলে আমরা ওইগুলো করতে পারবো। কিন্তু ওই সংশোধনীর অগ্রগতি আমরা এখনো পর্যন্ত জানি না।

বাংলা ইনসাইডার: ব্যাংকিং খাতে যেমন বিসমিল্লাহ গ্রুপ, হলমার্ক নিয়ে দুদক অনেক সক্রিয় ছিল, কিন্তু কোনো রেজাল্ট তো সাধারণ নাগরিকরা পেলো না। এটাতে এতো দীর্ঘদিন সময় কেন লাগছে? 

মো. মাহবুব হোসেন: আর্থিক প্রতিষ্ঠানের যেগুলোর অভিযোগ আমাদের কাছে রয়েছে, সেগুলোর তথ্য-উপাত্ত আমাদের নিতে হয়। বিভিন্ন জায়গা থেকে নিতে হয়। সেটার জন্য সময় লাগে। চাওয়ার সাথে সাথে কেউ সহজে দেয় না। বারবার চাইতে হয়। এটা একটা কারণ। 

বাংলা ইনসাইডার: বেসিক ব্যাংকের কেলেঙ্কারি, এটার বিষয়ে আপনারা তো এখনো কিছু করতে পারলেন না?

মো. মাহবুব হোসেন: এগুলো আমাদের এইখানে এখনো অনুসন্ধান পর্যায়ে আছে। তথ্য-উপাত্ত সব পাওয়া গেলে তারপরে তারা দিবে। এখনও পাওয়া যায়নি। এ কারণে এখনো রেডি হয়নি। আমার ৭ মাসের অভিজ্ঞতায় আমার মন্তব্য এইরকম। আর সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে, এই বিষয়ে আমার এখতিয়ার নেই। অনুসন্ধান, তদন্ত, মামলা এগুলো আলাদা বিষয়। 

বাংলা ইনসাইডার: দুদকের সচিব হিসেবে আপনি কি মনে করেন যে, দুদক যদি আরও সক্রিয় হতো তাহলে দুর্নীতিটা আরও কমে যেতো?

মো. মাহবুব হোসেন: দুদক তো সক্রিয় আছে। সচিব হিসেবে আমার বক্তব্য হলো, দুদক তৎপর আছে। আপনারা অগ্রগতি সহসাই দেখতে পাবেন। 

বাংলা ইনসাইডার: কি করলে দুদক আরও মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারবে?

মো. মাহবুব হোসেন: আমরা চেষ্টা করছি। কিন্তু বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত পেতে সময় লাগে। এটাই সমস্যা। 

বাংলা ইনসাইডার: আপনাদের জনবল নিয়ে কি কোনো সমস্যা আছে?

মো. মাহবুব হোসেন: জনবল নিয়ে আমাদের কোনো সমস্যা নেই। জনবল যা আছে সেটা যথেষ্ট।

মানিলন্ডারিং   দুর্নীতি   দুদক  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘বাজার সিন্ডিকেটকে নিয়ন্ত্রণ করা জরুরী’

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ০৭ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail ‘বাজার সিন্ডিকেটকে নিয়ন্ত্রণ করা জরুরী’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) জাপানিজ স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. আবুল বারাকাত বলেছেন, জ্বালানি হলো সব উৎপাদনের প্রাণকেন্দ্র। যে কারণে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে গেলে সবকিছুর দাম স্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। অর্থাৎ অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির এমন কোনো ক্ষেত্র নেই, যেখানে এর প্রভাব পড়বে না। শুধু পরিবহন নয়, পরিবহনের সাথে সংশ্লিষ্ট যা কিছু আছে, প্রতিটি সেক্টরে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়বে।

সাম্প্রতিক দেশে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। যার কারণে বাজারের অন্যান্য পণ্যের দামও বেড়ে যাওয়া আশঙ্কা রয়েছে। ফলে অন্যান্য পণ্যের বাজারে কি ধরনের প্রভাব পড়বে এ নিয়ে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় ড. আবুল বারাকাত এসব কথা বলেছেন। পাঠকদের জন্য এ বি এম আজাদ এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক শান্ত সিংহ।

অধ্যাপক ড. আবুল বারাকাত বলেন, কোনো পণ্যের দাম বেড়ে গেলে আমাদের দেশে একটা বড় ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। আর সেটা হলো কোনো কিছুর দাম বেড়ে গেলে বাকি সব পণ্যের দাম আনুপাতিক হারে বেড়ে যায়। জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে অন্যান্য পণ্যের দাম যতটুকু না বাড়ার কথা তার চেয়ে বেশি বেড়ে যাবে। যারা এটা বাড়ায় তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। প্রকৃতপক্ষে জিনিসের দাম বাজার নির্ধারণ করে না, এটা সিন্ডিকেট করে থাকে। একই সাথে এই সিন্ডিকেট সেটা নিয়ন্ত্রণও করে। সুতরাং এই সিন্ডিকেটকে  নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এটাকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে সব কিছুর দাম এমন বাড়ার বাড়বে, সেটা অস্বাভাবিক পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়ায়। ফলে মানুষের সীমাহীন দুর্ভোগ বেড়ে যাবে। সুতরাং বাজার সিন্ডিকেটকে নিয়ন্ত্রণ করা জরুরী।

তিনি আরও বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হলো কিন্তু এর দাম আবার কখন কমবে সেটা বলা মুশকিল। এটা কেউ বলতেও পারবেন না, বলাও সম্ভব নয়। এমন এক অবস্থা যেটাকে ঝুঁকি বলা যায় না, এটা হলো অনিশ্চয়তা। আর অনিশ্চয়তা ঝুঁকির চেয়ে খুবই খারাপ ব্যাপার। কারণ এটা পরিমাপ করা যায় না।

জ্বালানি তেল   বাজার   সিন্ডিকেট  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

'মূল্য বৃদ্ধির পরও জ্বালানি তেলে সরকারকে লোকসান দিতে হচ্ছে'


Thumbnail 'মূল্য বৃদ্ধির পরও জ্বালানি তেলে সরকারকে লোকসান দিতে হচ্ছে'

জ্বালানি তেলে এত বেশি পরিমাণ মূল্য বৃদ্ধির বিষয়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান এ বি এম আজাদ বলেছেন, যেটা আমাদের মূল জ্বালানির সব থেকে বড় অংশ সেটা হলো ডিজেল এবং এই ডিজেলের মোট ব্যবহারের পরিমাণ ৭১ শতাংশের উপরে। ডিজেলের প্রতি লিটারের আমদানি খরচ এখন (জুলাই মাসের হিসেবে) ১২২.১৩ টাকা। সেখানে সমন্বয় করে নতুন দাম ধরা হয়েছে ১১৪ টাকা। এখনও ৮.১৩ টাকা সরকারকে লোকসান বা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। ডিজেলের দাম ৩৪ টাকা বাড়লেও খরচ কিন্তু পুরোটা সমন্বয় হলো না।

সাম্প্রতিক দেশে সব ধরনের জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি, পরিবহনের ভাড়া সমন্বয়সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাংলা ইনসাইডার এর সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় এ বি এম আজাদ এসব কথা বলেছেন। পাঠকদের জন্য এ বি এম আজাদ এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর প্রধান বার্তা সম্পাদক মো. মাহমুদুল হাসান।

এ বি এম আজাদ বলেন, প্রান্তিক মানুষ ডিজেল ব্যবহার করে থাকে। সেখানে আমরা দেখেছি যে, ডিজেলের মূল্য ৩৪ টাকা বাড়ার কারণে দূরপাল্লার বাসের যাত্রীদের ভাড়া বৃদ্ধি পাবে ১৬.২২ শতাংশ। আগে দূরপাল্লার বাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ছিল ১.৮০ টাকা। আর এখন ২৯ পয়সা বেড়ে কিলোমিটার প্রতি ভাড়া হবে ২.০৯ টাকা। সিটি এলাকার বাসের ক্ষেত্রে ভাড়া বাড়বে ১৩.১৬ শতাংশ। সে হিসেবে আগে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ছিল ২.১৫ টাকা। সেটা এখন ২৮ পয়সা বেড়ে হবে ২.৪৩ টাকা। এখানে ভাড়া বৃদ্ধির হার সেই অর্থে বেশি নয়। তাহলে রোড সেক্টরে ১৬ শতাংশ এবং ১৩ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধি পাবে। লঞ্চেও মানুষ যাতায়াত করে। এটিও আমাদের এটি পরিবহণ ব্যবস্থা। সেখানে ভাড়া বাড়বে ১৯.১৮ শতাংশ। আগে ছিল প্রতি কিলোমিটারে ২.১৯ টাকা। সেখানে ৪২ পয়সা যোগ হয়ে হবে। তাহলে হবে ২.৬২ টাকা প্রতি কিলোমিটারে লঞ্চের ভাড়া। এটা আমাদের সব ক্যালকুলেশন অনুযায়ী করা হয়েছে। জ্বালানি সেক্টরে পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধিটা হবে। 

বিদ্যুৎ উৎপাদনে ডিজেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকলেও কি ডিজেলের কম খরচ হচ্ছে? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, আমাদের আগে জানতে হবে বিদ্যুতের ক্ষেত্রে ডিজেলের ব্যবহার কতটুকু। আমার কাছে যে তথ্য আছে সেটা হলো, বিদ্যুতের ক্ষেত্রে ৭.২২ শতাংশ ডিজেল ব্যবহার হয়। এই ক্ষেত্রে পরিমাণের দিক দিয়ে যদি চিন্তা করি তাহলে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ মেট্রিক টর ডিজেল বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। বিদ্যুতের বড় অংশ অর্থাৎ প্রায় ৭০ শতাংশ ব্যবহৃত হয় গ্যাস। এখন ডিজেল চালিত যে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র রয়েছে সেগুলোর উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। কারণ ডিজেলে বিদ্যুৎ উৎপাদন করলে সব থেকে বেশি খরচ হয়। যার জন্য আগে থেকে বন্ধ রাখা হয়। গত বছর কিছুটা ব্যবহৃত হতো। এ বছর হয়তো আরও একটু কম ব্যবহৃত হবে। কারণ একটি বা দুই যে প্লান্ট ইকোনমিক্যালি ভায়াবল সেগুলো হয়তো করবে। এটার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। এটা বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য। 

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান বলেন, বিদ্যুতের সাশ্রয় দরকার। করণ অনন্য জ্বালানিও তো এর সঙ্গে যুক্ত। যেটা আমার অংশ সেটা আমি বললাম। ডিজিলের বড় ব্যবহার হয় হলো পরিবহনে। এখানে সেই অর্থে সাশ্রয়ের কোনো পদক্ষেপ নেই। ডিমান্ড থাকলে সেটা তো আমাকে পূরণ করতে হবে। কারণ আমি তো পরিবহণ খাত নিয়ন্ত্রণ করি না।  

জ্বালানি তেল   সরকার   লোকসান  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘আমি প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করছি’

প্রকাশ: ০৪:০০ পিএম, ০৫ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail ‘আমি প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করছি’

দর্শকপ্রিয় অভিনেতা রাশেদ মামুন অপু। ছোট পর্দার পাশাপাশি কাজ করছেন নিয়মিত বড় পর্দাতেও। দুই জায়গাতেই তিনি তার অভিনয়ের মুনশিয়ানা দেখিয়েছেন। পাশাপাশি ওয়েব ফিল্মে দিয়েও বেশ আলোচনায় উঠে আসেন তিনি। এবার ঈদেও মুক্তি পেয়েছে তাঁর অভিনীত পরান সিনেমাটি। পাশাপাশি ওটিটি মাধ্যম চরকিতে মুক্তি পেয়েছে সিন্ডিকেট নামের ওয়েব সিরিজ। দুই জায়গাতেই নিজের সর্বচ্চটুকু দিয়ে বেশ প্রশংসা পাচ্ছেন এই অভিনেতা। সমসাময়িক কাজ নিয়ে বাংলা ইনসাইডারের সাথে কথা হলো সময়ের এই আলোচিত অভিনেতার।

বাংলা ইনসাইডার: ‘সিন্ডিকেট’, ‘পরাণ’ দিয়ে বেশ সাড়া পাচ্ছেন। কেমন উপভোগ করছেন?

অপু: একজন অভিনেতার প্রাপ্তি হচ্ছে বা আকাঙ্ক্ষা হচ্ছে তাঁর কাজ বিপুল সংখ্যক লোক দেখবে। সেই জায়গা থেকেই সিন্ডিকেট বেশ আলোচনায় এসেছে আর পরাণ তো ব্লকবাস্টার হিট। দর্শকদের কাছ থেকে অনেক বেশী সাড়া পাচ্ছি। সেই জায়গা থেকে আমি প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করছি।



বাংলা ইনসাইডার: বেশীরভাগ কাজেই নেগেটিভ চরিত্রে দেখা যাচ্ছে এর কারণ কী?

অপু: প্রতিটি কাজে নেগেটিভ চরিত্রটি বেঁছে নিয়েছি কারণ এই জায়গাতে অভিনয়ের অনেক জায়গা থাকে। সিনেমার ক্ষেত্রে নায়ক ছাড়া অন্য কোন চরিত্রে তেমন অভিনয় করার সুযোগ থাকে না। পাশাপাশি এই চরিত্রটি করতে আমি বেশ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি।

বাংলা ইনসাইডার: দীর্ঘদিন পর ফের হল মুখী হচ্ছেন দর্শক। বিষয়টি আপনি কিভাবে দেখছেন?

অপু: আমি যখন অনেক ছোট ছিলাম তখন বেদের মেয়ে জোসনা দেখতে গিয়েছিলাম। আমার বাবা একজন ব্যাংক কর্মকর্তা ছিলেন। সে সময় ব্যাংকের সবাই মিলে সিনেমাটি দেখতে গিয়েছিলাম। সেই যে ভালো লাগার উচ্ছ্বাস তা এতদিন পর পরাণ সিনেমায় দেখতে পেলাম। একজন অভিনেতার এরচেয়ে আর বড় প্রাপ্তি কী হতে পারে? পরিবারের সবাইকে নিয়ে সিনেমা দেখার যে আনন্দ তা মুখে বলে প্রকাশ করার মত না।



বাংলা ইনসাইডার: ইদানীং প্রায়ই দেখা যাচ্ছে এক সাথে কয়েকটি ছবি মুক্তি পেলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই তর্কে জড়াল। বিষয়টি নিয়ে আপনার মতামত কি?

অপু: ছোট্ট একটা ইন্ডাস্ট্রি আমাদের। দীর্ঘ খরার পর আবার নতুন করে সবে মাত্র ঘুরে দাঁড়তে শুরু করেছে। এখানে সবার মনোভাব এক হওয়া উচিত। অন্যদের কাজ গুলোও নিজের কাজ মনে করা উচিত কেননা অন্য একজনের কাজ ভালো চললে আমার নিজের কাজটাও ভালো চলবে। প্রত্যেকের প্রতি প্রত্যেকের মমত্ববোধ ও ভালোবাসাটা থাকা জরুরী। নয়তো এই ইন্ডাস্ট্রি বেশী দূর যেতে পারবে না।



বাংলা ইনসাইডার: অনেকেরই অভিনয়ে আইডল বলতে একজন থাকে। তা আপনার অভিনয়ের ক্ষেত্রে কে আইডল?

অপু: আমার নির্দিষ্ট কোনো আইডল নেই। আমি আমার প্রয়োজনে কাল্পনিক একজন আইডল তৈরি করে ফেলি। সেটি আরেকটি অপু। আমি যেটি দেখতে চাই, ভাবতে চাই, মনে করতে চাই বা আমি যাকে ধারণ করি তাঁর মাঝে সেটি দেখতে চাই, তাকে দিয়ে উৎসাহী হতে চাই।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড টক

‘বিএনপি-জামায়াত আন্দোলনের নামে সন্ত্রাসী পথটাই বেছে নেয়’


Thumbnail ‌‌‌‌বিএনপি-জামায়াত আন্দোলনের নামে সন্ত্রাসী পথটাই তারা বেছে নেয়

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেছেন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ধারাবাহিক একটা পর্যায়ে গিয়ে হরতাল ডাকে। কিন্তু এই সকল হরতালের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যটা কি? এটা হলো বিবেচনার ব্যাপার। আমরা যে বিষয়টি লক্ষ্য রাখছি এবং দেখে আসছি সেটা হলো বিএনপি-জামায়াত আন্দোলনের নামে সন্ত্রাসী পথটাই তারা বেছে নেয়।  অগ্নিসন্ত্রাস, বোমা হামলা, জ্বালাও-পোড়াও, ব্যারিকেড সৃষ্টি, রেল পথ উপড়ে ফেলা, অগ্নিসংযোগ থেকে আরম্ভ করে মালবাহী গাড়ি, ট্রাক, যাত্রীবাহী বাসগুলোতে তারা বিস্ফোরক দ্রব্য দিয়ে অগ্নিসংযোগ করে। তারা সেই অতীতের সন্ত্রাসী পথেই গেছে। এটা তো কোনো আন্দোলন না। এটা সন্ত্রাসী পথ এবং সন্ত্রাসী কায়দায় মানুষকে ভয় দেখানো। মানুষের লাশ ফেলানো এবং সেই লাশ নিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার অপচেষ্টা।

ভোলায় বিএনপির হরতাল, আন্দোলন প্রসঙ্গে আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বাংলা ইনসাইডারের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় এসব কথা বলেন। পাঠকদের জন্য আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ইনসাইডার এর নিজস্ব প্রতিবেদক মাহমুদুল হাসান তুহিন।

আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, আওয়ামী লীগ একটি রাজনৈতিক দল। এই দলের ইতিহাস ঐতিহ্য আছে। এই দলটিতে সন্ত্রাসীদের কোনো জায়গা নেই। কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সাথে আমাদের দল অতীতেও কখনো সম্পৃক্ত হয়নি, এখনো হবে না, আগামী দিনেও হওয়ার কোনো কারণ নেই। সেই জায়গায় আমরা পুলিশ দিয়ে অথবা সন্ত্রাসী কায়দায় তাদেরকে মোকাবিলার চিন্তা করি না। এটা আমাদের চিন্তাতেই নেই। আমরা মনে করি, বাংলাদেশের জনগণ তাদের নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠায়, নিজেদের মর্যাদা, নিজেদের অস্তিত্ব এবং উন্নয়ন অগ্রগতি সমৃদ্ধির চিন্তা বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিক এখন করে। এই সমৃদ্ধির পথে যারা বাধা সৃষ্টি করবে অথবা যারা আমাদের জান মালের উপর হামলা করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চাইবে তাদেরকে জনগণই মোকাবিলা করবে।

তিনি আরও বলেন, সেখানে জনগণের স্বার্থ, জনগণের সম্পদ, ব্যবসা-বাণিজ্য সবকিছুকে রক্ষা করার দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলায় যারা নিয়োজিত তাদের। তাদের যে দায়িত্ব আছে, তারা সেটা পালন করবে। এটা তো স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায়ই করবে। যদি কেউ জনগণের ওপর হামলা করে, জনগণকে জিম্মি করে কোনো ফায়দা লুটার চেষ্টা করে, সেক্ষেত্রে আমরা আমরা যারা রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে চাই না তারা তো ঘরে বসে থাকবো না। আমাদের নেতাকর্মীদের নিয়ে, জনগণকে নিয়েই আমরা রাজনৈতিকভাবেই তাদের মোকাবেলা করবো।

আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, আমাদের নেত্রী যেটা বলেছেন তিনি খুব যথার্থ কথা বলেছেন। আমাদের মনোভাব হলো যদি শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে তাহলে তাদেরকে চায়ের দাওয়াত দেওয়া হবে, যদি কেউ শান্তিপূর্ণ আন্দোলন ছেড়ে হিংসার পথে, ধ্বংসের পথে, নৈরাজ্যের পথে যাওয়ার চেষ্টা করে সেখানে তো জনগণের সাথে আওয়ামী লীগেরও দায়িত্ব আছে সেই অপচেষ্টাকারীদের রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করা এবং আমরা সেই কাজটি করবো। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তাদের আইনি জায়গা থেকে তো দায়িত্ব পালন করবেই, সেটা তো তারা করতেই পারে। রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের সাথে পুলিশ মিলে বিএনপি-জামায়াতকে মোকাবেলা করার প্রয়োজন নেই। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাই অনেক সংগঠিত, শক্তিশালী এবং ঐক্যবদ্ধ। আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্যদিয়েই আওয়ামী লীগের জন্ম, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক ভাষা হারিয়ে যারা সেই আওয়ামী লীগকে হুমকি-ধামকি দেয়, ভয় দেখায় তাদেরকে আমরা রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করবো।


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন