ইনসাইড থট

ওমিক্রন আর টিকা নিয়ে আবারও কিছু কথা

প্রকাশ: ১০:০০ এএম, ১৮ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail ওমিক্রন আর টিকা নিয়ে আবারও কিছু কথা

এই সেইদিন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জনগণকে হুমকি দিয়ে বলেন যে তারা যদি স্বাস্থ্যের পরামর্শ না মানে তবে তিনি লকডাউন আরোপ করবেন। একইসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে জনগণকে গুজবে কান না দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন এবং স্কুল বন্ধ হবে না বলে আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, তিনি প্রতিদিনের পরিবর্তিত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বার বার জনগণকে ভ্যাকসিন নিতে, বাইরে থাকাকালীন মাস্ক পরতে এবং রাজনৈতিক সমাবেশ সহ জনসমাগম এড়াতে অনুরোধ করেছেন। অন্যদিকে বিরোধী দলের নেতারা বলছেন বাইরে গণসমাবেশ ঠিক আছে, সরকার কেন তাদের বাধা দিচ্ছে! লোকেরা বলছে মাস্ক বাড়িতে ভুলে গেছে। রেস্তোরাঁর মালিক বলছেন কিভাবে আমি কোভিড ভ্যাকসিন পাস চাইতে পারি, তারা এই এলাকার লোক। দিনমজুররা বলছে বারবার লকডাউন দিলে আমি বাঁচব কী করে? শিক্ষার্থীরা বলছে, আমরা স্কুলে যেতে চাই এবং পড়াশোনার সময় বন্ধুদের সাথে দেখা করতে চাই। এটাই হল বাংলাদেশের বাস্তবতা।

যখন ওমিক্রন কমিউনিটি ট্রান্সমিশনে দৃঢ় এবং গভীরভাবে তার পা বাংলাদেশের ফেলেছে, দেশের প্রায় প্রতিটি কোণায় ভাইরাসটি মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে, যেমন ডেল্টা ওয়েভের সময় যা ঘটেছিল, সেই অবস্থায় এখন আর লকডাউন এবং স্কুল বন্ধ করে সংক্রমণ বন্ধ করার কোন সমাধান নয় বরং একটি ব্যর্থ কৌশল বলে আমি মনে করি। আজ ৬৬৭৬ জন নতুন সংক্রামিত লোকের মধ্যে শুধু মাএ ঢাকায় ৪,৯৯২ জন নতুন লোক সংক্রামিত হয়েছে। লকডাউন দিলে আগের মত ঢাকা থেকে জনাকীর্ণ ফ্যাশনে নগরবাসী জনগণ অন্যান্য জেলা ও গ্রামে ছুটে যাবে এবং ডেল্টার মত ওমিক্রন ভাইরাসকেও আরও ছড়িয়ে দেবে। লকডাউন, আগের মতোও কার্যকর বা প্রয়োগযোগ্য হবে না কিন্তু আমাদের অর্থনীতিকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করবে। যখন নিম্ন উদ্যোগের এবং ছোট ব্যবসার মানুষ কেবল নিজের পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে, আবারও লোকডাউন জীবিকাকে আরো ক্ষতিগ্রস্ত করবে, আরও অর্থনৈতিক দুর্ভোগ এবং অতিরিক্ত মৃত্যুর কারণ হবে। লোকডাউন রোগের সংক্রমণ এবং বিস্তার বন্ধ করবে না। ইউরোপের মতো অনেক দেশে হাজার হাজার মানুষ যেকোনো ধরনের লকডাউন বা বন্ধের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করছে। এমনকি গতকালও হল্যান্ডে হাজার হাজার মানুষ লকডাউনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করছিল, তারা বলছে তাদের জন্য এখন যথেষ্ট হয়েছে, তারা মানসিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিকভাবে আর সহ্য করতে পারছে না। বাংলাদেশেও একই ঘটনা ঘটতে পারে, আমরা কি তার জন্য প্রস্তুত?

অন্যদিকে, স্কুল বন্ধ হলেও সংক্রমণ বন্ধ হবে না, কারণ শিক্ষার্থীরা বাড়ির বয়স্ক ব্যক্তিদের দ্বারা সংক্রামিত হবে যেহেতু বড়রা অবাধে চলাফেরা করছে আর আক্রান্ত হচ্ছে অথবা শিক্ষার্থীরা আক্রান্ত হবে তাদের স্কুলে না যাবার কারণে সময় কাটানোর জন্য বাধাহীন সামাজিকীকরণ এবং বাইরে জমায়েতে মেলামেশার জন্য। এটি শিক্ষার্থীদের মানসিক, সামাজিকভাবে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করবে এবং তাদের নিজেদের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার ও অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নষ্ট করার সাথে সাথে বাংলাদেশের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ভবিষ্যতকে নষ্ট করবে।

হ্যাঁ, প্রতিদিন সংক্রামিত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, আজ তা বেড়ে ৬৬৭৬ এর উপরে পৌঁছেছে, সংক্রমণের হার ২০% এর বেশি বেড়েছে, মৃত্যুর সংখ্যা ৭জন থেকে বেড়ে ১০জন হয়েছে। আরও বেশি লোক হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে কিন্তু ২০২১ সালের জুলাইয়ে ডেল্টা তরঙ্গের তুলনায়, আমরা এখন অনেক ভালো অবস্থায় আছি। যাদের হাসপাতালে ভর্তি করার দরকার পরছে তাদের গুরুতর যত্নের প্রয়োজন খুবই কম, বরং একদুইদিন পর বাড়িতে বসে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে বলা হচ্ছে। মৃত্যুর হার খুবই ন্যূনতম। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আধিকারিকরা আজ বলেছেন যে কোভিডের কারণে মৃত্যুর ৮০% ভাগ তারাই যাদের টিকা দেওয়া হয়নি এবং বাকিরা আরো কিছু অন্যান্য রোগে ভুগছিলেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, বাংলাদেশে এখন Merck এবং Pfizer-এর অ্যান্টি-কোভিড চিকিৎসা খুব সহজে পাওয়া যায় এবং বাড়িতে নেওয়া যেতে পারে, যার ফলে হাসপাতালে যত্নের প্রয়োজন এবং মৃত্যু হ্রাস করছে। আমি আবার বলব আমরা এখনও ভালো অবস্থায় আছি। দুর্ভাগ্যবশত, এমনকি আমাদের সেরা প্রচেষ্টার সাথেও অল্প কিছু মৃত্যু ঘটছে এবং ঘটবে। কোনো দেশ, কোনো সমাজই প্রতিটি মৃত্যু ঠেকাতে পারছে না, পারবেও না। অতএব, লকডাউন বা স্কুল বন্ধের পরিবর্তে, বাংলাদেশের জন্য তিনটি জিনিস রয়েছে যা কিছু বাড়তি প্রচেষ্টায় প্রয়োগ করা সম্ভব এবং তা অনুসরণ করলে কোভিড-১৯ ভাইরাসের নেতিবাচক প্রভাব হ্রাস, বিশেষ করে ওমিক্রনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অনেক অগ্রগতি সম্ভব হতে পারে। কোভিড-১৯ ভাইরাস আমাদের সাথে আছে এবং আসন্ন ভবিষ্যতে কিছু সময়ের জন্য একই বা অন্য আকারে/রূপে আমাদের সাথে থাকবে। তার জন্য প্রস্তুত হয়া উচিত (লোক ডাউন বা স্কুল বন্ধ করা নয়): মাএ তিনটি বিষয় আমাদের আরো ভাল, টেকসই আর কাঠর ব্যবস্থা নিতে হবে:

১। টিকা: প্রথম, দ্বিতীয় এবং বুস্টার ডোজ। যতদূর সম্ভব, যত দ্রুত সম্ভব প্রতিদিন আরও বেশি মানুষকে টিকা দিন। আমি গর্ব করে বলতে পারি হ্যাঁ, আমরা এটা করতে পারি।
২। বাইরে, কর্মক্ষেত্রে মাস্ক ব্যবহার করা
৩। বেশী ভিড়ের বাহিরের আর ভিতরের গণ জমায়েত এড়ানো

ভ্যাকসিন সম্পর্কে কথা বলা যাক। আমরা অত্যন্ত ভাগ্যবান, একজন দূরদর্শী নেতা, আমাদের প্রধানমন্ত্রী কোভিড মোকাবেলায় বর্তমানের জ্ঞান এবং প্রমাণ সহ আমাদের নেতৃত্ব প্রদান করছেন।তার নেতৃত্বের এবং প্রতিদিনের কোভিড পরিস্থিতি তদারকি করার কারণে, সময়মত সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া, লোকদের টিকা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করা, মাস্ক ব্যবহার করা এবং গণসমাবেশ এড়ানোর পরামর্শ দেয়ার পাশাপাশি আমাদের পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন মজুদ থাকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার তদারকি করছেন। অতএব, আমরা ভাগ্যবান আমাদের কাছে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন রয়েছে এবং আরও ভ্যাকসিন আসছে। আমেরিকা সহ অন্যান্য বন্ধু দেশ এবং সংস্থা ভ্যাকসিন পাঠাচ্ছে। তাই ভ্যাকসিনের সমস্যা নেই বা হবে না। আমাদের টিকা দেওয়া আরো সম্প্রসারিত করার অসুবিধা গুলো কাটিয়ে উঠতে হবে। আত্মনির্ভরশীল এবং পর্যাপ্ত হওয়ার জন্য আমাদের ভ্যাকসিন তৈরি করতে হবে এবং দেশের উন্নয়ন ব্যাঙ্গোভ্যাক্সকে সফল করতে বা অন্যদের দ্বারা উদ্ভাবন করার লক্ষে সমস্ত সহায়তা প্রদান করতে হবে।

জনাব মিনহাজুল আবেদিন এবং অন্যরা একটি গবেষণা চালিয়ে দেখেছেন যে বাংলাদেশের প্রায় ৭৫% পুরুষ এবং মহিলা কোভিডের বিরুদ্ধে ভ্যাকসিন পেতে ইচ্ছুক যদি টিকা বিনামূল্যে দেওয়া হয়। ন্যূনতম ফি সহ ৪৬.৫% ভ্যাকসিন পাওয়ার অভিপ্রায় দেখিয়েছে। শুধুমাত্র ৮.৫% জন টিকা দিতে অনিচ্ছুক ছিল। বয়স্ক, গ্রামীণ, আধা-শহুরে, বস্তি সম্প্রদায়, কৃষক, দিনমজুর, গৃহকর্মী, স্বল্প শিক্ষিত মানুষ যারা অনিচ্ছুক তাদের মধ্যে রয়েছে। অতএব, সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ টিকা পেতে প্রস্তুত এবং ইচ্ছুক। আমি নিশ্চিত, উপযুক্ত তথ্য এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার এবং গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থার মাধ্যমে আমরা বেশিরভাগ বাংলাদেশীকে টিকা দেওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করতে পারি।

বাংলাদেশ অত্যন্ত সফলভাবে টিকাদান কার্যক্রম শুরু করেছে। আজ পর্যন্ত (১৫ই জানুয়ারি) ৮৫,২৮৭,৯৫৬ (৫১.৮%) মানুষ তাদের প্রথম ডোজ পেয়েছেন। ৫৬,১৯১,২৫২ (৩৪.১%) লোককে সম্পূর্ণরূপে টিকা দেওয়া হয়েছে এবং ১৯০,২৭৯ জন বুস্টার ডোজ পেয়েছে। গত সপ্তাহে, বাংলাদেশ প্রতিদিন গড়ে ১,১২২,১১৭ জনকে টিকা দেওয়া হয়েছে, যা গর্ব করার মত উল্লেখযোগ্য অর্জন। আমাদের এখন সেই অর্জনকে আগামী দিন, সপ্তাহ ও মাসে ধরে রাখতে হবে এবং দ্রুত আরো বাড়াতেই হবে, কারণ এটি একটি জরুরি অবস্থা, আমাদের হাতে বেশি সময় নেই। মন্ত্রণালয়কে আরও মনোযোগ দিতে হবে কেন ২৯,০৯৬,৭০৪ জন (প্রায় ৩ কোটি) লোক এখনও তাদের দ্বিতীয় ডোজ পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে? এটি কি ইলেকট্রনিক নোটিফিকেশন সিস্টেমের সমস্যার কারণে, নাকি আমরা এখনও ৩ মাসের ব্যবধান বজায় রাখছি, বা লোকেরা অনিচ্ছুক বা লোকেরা দীর্ঘ লাইনের কারণে অনেকক্ষণ অপেক্ষা করায় টিকা না নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন অথবা তারা তাদের প্রথম ডোজ অন্য কোথাও নিয়েছিল এবং শীঘ্রই সেখানে ফিরে যেতে পারছে না। একই ব্যক্তিকে বিভিন্ন স্থানে ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে না। ইলেকট্রনিক তথ্যের যুগে এটা দুর্ভাগ্যজনক হবে, বিশেষ করে বাংলাদেশে যেখানে ইলেকট্রনিক ও মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে বিপ্লব ঘটছে। আমি মনে করি আমাদের জরুরীভাবে এ বিষয়টি খতিয়ে দেখা দরকার। এবং আমাদের কোন বিলম্ব না করে যথাযথ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। আমাদের কাছে ইলেকট্রনিক তথ্য আছে, আমরা সেই ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার জন্য স্বেচ্ছাসেবকদের সংগঠিত করতে পারি এবং তাদের টিকা দেওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করতে বা আনতে পারি।

আমি খুশি যে মন্ত্রীসভা ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সীদের বুস্টার দেওয়া শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং আমি আশা করি আরও বেশি ভ্যাকসিন পাওয়ার সমর্থে মন্ত্রণালয় আরও নিম্ন বয়সের গোষ্ঠীকে অল্প সময়ের মধ্যে ক্রমবর্ধমানভাবে অন্তর্ভুক্ত করবে।

মনে রাখবেন, বেশিরভাগ ইউরোপীয় দেশ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ১২ বছরের কম বয়সী শিশুদেরও টিকা দেওয়া শুরু করেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচওর) ইঙ্গিতের জন্য বাংলাদেশের অপেক্ষা করা উচিত নয়। কোভিড, আরো বিশেষ করে কোভিড টিকা দেওয়া নিয়ে ডাব্লুএইচও-এর সিদ্ধান্তগুলি বৈজ্ঞানিক ভিত্তিতে নয়, বরং নৈতিক ভিত্তির উপর ভিত্তি করে করা হচ্ছে। কারণ গরীব অনেকদেশ কোভিড টিকা পাওয়া আর দেয়ার ক্ষেএে অনেক পিছনে পরে আছে, তাই তারা তাদের টিকা দেওয়ার শিশুদের অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্তে দেরি করছে। বাংলাদেশ যদি আরও বেশি এবং পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন নিশ্চিত করতে পারে, তবে দয়া করে WHO-এর জন্য অপেক্ষা না করে, শিশুদের টিকা দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবেন। আমেরিকা এবং পশ্চিমা দেশগুলি বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সহ শিশুদের টিকা দেওয়া বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে (মনে রাখবেন যে কোনও ব্যর্থতার জন্য সেসব দেশে আদালতে চিকিৎসা মামলা খুব বেশি; তাই সেসব দেশে নিরাপত্তা এবং কার্যকারিতা বিবেচনা করে সরকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়)।

দেশে জিনোমিক সিকোয়েন্সিংয়ের স্বল্পতার জন্য শুধুমাত্র অল্প সংখ্যক লোকের পরীক্ষা করা হয়েছে, তাই আমাদের পক্ষে বলা কঠিন যে কোন বৈকল্পিকটি এই ৪র্থ তরঙ্গ সৃষ্টি করছে, ওমিক্রন বা ডেল্টা? অনেক দেশে ওমিক্রনের দ্রুত বিস্তার ডেল্টা ট্রান্সমিশন বন্ধ করে দিয়েছে, সেখানে ডেল্টা শীঘ্রই বিলুপ্ত হতে পারে। বাংলাদেশে মানুষের সাথে কথা বলে এবং তাদের উপসর্গ গুলো শুনে, আমি বিশ্বাস করি নতুন তরঙ্গ ওমিক্রনের কারণেই হচ্ছে। আজ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আধিকারিক জানিয়েছেন যে এখন প্রায় ৭০% সংক্রামিত লোকেরা ওমিক্রন দ্বারা আক্রান্ত হয়েছেন।

আসুন আমরা ওমিক্রনের বিস্তারে আমাদের গর্বের মহিলা ক্রিকেট খেলোয়াড়দের কথা যেন উল্লেখ না করি যারা জিম্বাবুয়ে থেকে ফিরে এসেছিলেন এবং দুর্ভাগ্যবশত কয়েকজন ওমিক্রনে অক্লান্ত হয়েছিলেন। সম্পূর্ণ দায়িত্ব এবং অন্যের প্রতি সম্মান সহ তারা সফল ভাবে সময় মত তাদের কে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছিলেন। আমরা জানি তাদের অনেক আগেই দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে বাংলাদেশী অনেকেই ছুটি কাটাতে ঢাকায় বিমানে এসেছিল। আমরা তাদের পরীক্ষা করিনি এবং আমরা তাদের হারিয়েছি, বা কোয়ারেন্টাইনে রাখতে পারিনি। আমার মনে হয় ওমিক্রনের নতুন উত্থানের কারণ গুলো হল: বিগত ছুটির মরসুমের বহু বহির্গমন এবং সমাবেশ, নির্বাচন এবং রাজনৈতিক সমাবেশ, ছাত্রদের আন্দোলন, ভর্তির উদ্দেশ্য শত শত শিক্ষার্থীরা তাদের অভিভাবকদের সাথে প্রায় একে অপরের সাথে ঝুলে জড়ো হওয়া, বিপুল বিবাহের সমাবেশ এবং অন্যান্য গণসমাবেশের ইভেন্ট গুলোর ফলাফল। অতএব, সংক্রমণের উত্থান আরও কয়েক দিন চলবে।

৬.৮ কোটি জনসংখ্যার যুক্তরাজ্যে ৪ জানুয়ারি ২১৮,৩৭৬ জন সংক্রামিত ছিল এবং ১১ জানুয়ারিতে ৩৯৮ জন মারা গিয়েছিল। আজ আক্রান্তের সংখ্যা ৮৪,০০০-এ নেমে এসেছে। সেখানে ৭২% সম্পূর্ণ টিকা এবং প্রায় সমান % বুস্টার ডোজ পেয়েছে। সেখানে কোন লকডাউন বা স্কুল বন্ধ নেই। এমনকি সেখানে বিচ্ছিন্নতার সময়কাল ৫ দিনে হ্রাস করা হয়েছে। ৬ কোটি জনসংখ্যা নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় ১২ ডিসেম্বর ৩৭৮৭৫ জন সংক্রামিত হয়েছিল এবং জানুয়ারিতে ১৮১ জন মারা গিয়েছিল। আজ সংক্রামিত মানুষের সংখ্যা মাএ ১৬৯১ জন। সেখানে ২৭% লোককে সম্পূর্ণরূপে টিকা দেওয়া হয়েছে। সেখানেও এখনো লকডাউন নেই। উভয় দেশে সংক্রমণের ৯০% এর বেশি ওমিক্রনের কারণে হয়েছে। বাংলাদেশে ১৬ কোটি মানুষের সাথে তাদের তুলনা করে বলতে পারি আমরা এখনো ভালো অবস্থায় আছি। তাহলে কেন আমাদের আতঙ্কিত হতে হবে? যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং কয়েকটি ইউরোপীয় দেশের মতো ওমিক্রনের খুব বেশি নেতিবাচক প্রভাব ছাড়াই শীঘ্রই এই তরঙ্গের সংক্রমণ তার শিখরে পৌঁছে যাবে, এবং ধীরে ধীরে কমতে থাকবে। আমাদের আতঙ্কিত হওয়ার দরকার নেই তবে প্রস্তুত থাকতে হবে।

সুতরাং, কোন লকডাউন নয় এবং কখনই স্কুল বন্ধ করার দরকার হবে না। টিকাদানের জন্য মানুষকে অনুপ্রাণিত করতে, তাদের আস্থা ও আত্মবিশ্বাস তৈরি করতে, লোকদের আরও দ্রুত টিকা দেওয়ার জন্য আমরা যা করতে পারি সবই করতে হবে। যদি এবং যখন আরও টিকা পাওয়া যাবে এবং মজুদ থাকবে, তার নিশ্চয়তা সহ উপলব্ধ বিজ্ঞান এবং প্রমাণ ব্যবহার করে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জন্য অপেক্ষা না করে বাচ্চাদের টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্তে নিন। একইভাবে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিনের উপস্থিতি বৃদ্ধির সাথে, বুস্টার ডোজের জন্য আরো বয়সের গ্রুপকে অন্তর্ভুক্ত করুন। তাই দ্রুত ভ্যাকসিন, মাস্ক এবং ভিড়ের অন্দর এবং বহিরঙ্গন ইভেন্টগুলি এড়ানো, যদি আমরা তা করতে পারি তবে অন্যান্য কোভিড প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্য কর্ম ছাড়াই জীবন ও জীবিকার ক্ষেত্রে খুব বেশি নেতিবাচক প্রভাব বিনা ভাল থাকব।

আমি পড়ছিলাম কিভাবে, আমাদের আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষ বাইরে থাকাকালীন মুখোশ না পরা লোকদের অনুপ্রাণিত করছেন মুখোশ পরার জন্য এবং আতিথেয়তা ব্যবসার স্থানে, যেমন রেস্টুরেন্টে স্বাস্থ্য পরামর্শ বজায় রাখতে উদ্ভূত করছেন। আমি আরও খুশি হব যদি আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষ তাদের সাথে মুখোশ নিয়ে যান এবং ২০০ টাকা জরিমানা সহ তাদের মাস্ক বিতরণ করেন।

আমাদের কোভিড প্রতিরোধক কর্মসূচীর সাথে জনগণকে সাথে নিয়ে চলতে হবে। হুমকি কখনও কাজ করেনি, বরং সময়োপযোগী তথ্য, বিশ্বাস অর্জন এবং আত্মবিশ্বাসের বিকাশ, মানুষকে স্বাস্থ্য পরামর্শ অনুসরণ করতে অনুপ্রাণিত করে। আমি অনেক বিজ্ঞানী এবং মহামারী বিশেষজ্ঞ, যারা ভবিষ্যদ্বাণী করছেন তাদের সাথে তাল মিলিয়ে সাহস করে আবার বলবো, ওমিক্রন সংক্রমণ হয়ত ছদ্মবেশে আশীর্বাদ হতে পারে। আসুন এর সাথে বাঁচতে শিখি।

ওমিক্রন   করোনা  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড থট

ফেইলর ইজ দ্য পিলার অব সাকসেস?


Thumbnail ফেইলর ইজ দ্য পিলার অব সাকসেস?

এই কথাটি আমরা অনেক দিন অনেকভাবে শুনেছি যে, লোকে বলে 'ফেইলর ইজ দ্য পিলার অব সাকসেস'। এর সাথে আর একটা কথা বহুত প্রচলিত। সেটি হচ্ছে যে, 'একটি সফলতা আরেকটি সফলতাকে আনতে সাহায্য করে'। সুতরাং এক জায়গায় সফল হলে সে আরো সফল হয়। কিন্তু প্রথমে অসফল হলে সেটা যে একটা পিলার হয়, আরেকটা সফলতার জন্য এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা। কারণ হচ্ছে, তাই যদি হতো তাহলে যারা একাধারে ফেল করে যায়, এদের এতো পিলার জমা হতো যে, ওই পিলারের মধ্যে দিয়েই তো আর সফলতার দিকে যাওয়া যেতো না। অসফল হওয়ার একটি মাত্র জিনিস সেটি হচ্ছে যে, কেউ অসফল হলে তার চিন্তা করতে হবে, তিনি কেন অসফল হয়েছেন। যেমন পরীক্ষার কথাই বলি। পরীক্ষায় যদি মনে করা হয় যে, পরীক্ষক ফেল করিয়েছেন, তাহলে আর তার পক্ষে পাস করা সম্ভব না। কারণ তিনি তার পরীক্ষককে পড়াবেন না। সুতরাং ফেল যে করে সে নিজেই করে। 

আমার এই কথাগুলি মনে হলো সম্প্রতিকালে দুইদিকের বক্তব্য শুনে। একটি হচ্ছে দার্শনিক রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার বিভিন্ন বক্তব্য। যেখানে তিনি অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন। তিনি বলেন যে, পত্রিকা বা মিডিয়া কোথায় কি বললো, সেটা দেখে আপনারা ঘাবরাবেন না। আপনারা কাজটা সঠিকভাবে করছেন কিনা সেটা দেখবেন। অর্থাৎ তিনি এখানে গুরুত্ব দিচ্ছেন সফলতার দিকে। যেমন আমি নিজের উদাহরণই দিতে পারি। যদিও নিজের উদাহরণ দেওয়া ঠিক না তবুও বলি, কমিউনিটি ক্লিনিক ভালোভাবে চলছে। কিছু কিছু জায়গায় ঠিকমতো চলছে না, সেগুলো পত্রিকা বলে এবং বলার পরে আমি সেগুলো ঠিক করার চেষ্টা করি। অর্থাৎ এটা সফলতার দিকে যাচ্ছে। কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বপ্নদ্রষ্টা বঙ্গবন্ধুর কাছ থেকে পেয়েছেন তার কন্যা দার্শনিক রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা এবং এই কমিউনিটি ক্লিনিকের ভিতরে বিভিন্ন দর্শন তিনি দিয়েছেন। এই দর্শনগুলিকে নিয়ে আমরা এনালাইসিস করেছি এবং আমার এই অ্যানালাইসিসের শিক্ষক হচ্ছেন বর্তমান বাংলাদেশের সবচেয়ে, আমি বলবো যে সত্যিকারে লেখাপড়া করে সব কাজ করেন, শিক্ষিত কলামিস্ট সৈয়দ বোরহান কবীর। তার সঙ্গে বসে আমি দেখেছি যে, কমিউনিটি ক্লিনিকটা শুধুমাত্র যে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা ব্যবস্থার জন্য তাই নয়, প্রান্তিক জনগোষ্ঠির সাথে যোগাযোগ বৃদ্ধি করে।

একইভাবে স্কুলে মেয়েরা ঠিকমতো যায়। কারণ তাদের একটা ভবিষ্যৎ আছে। পাশ করলে তারা কমিউনিটি ক্লিনিকে কাজ করতে পারবে। তারপরে কমিউনিটি ক্লিনিকের কাজ করলে তাকে বাল্যবিবাহ দিতে পারে না। তারপরে যদি কমিউনিটি ক্লিনিকের সে কাজ করে তার একটা সম্মান হয়। তার বেতনটা তার স্বামী যদি খারাপ ধরনেরও হয়, সে জোর করে নিতে পারে না। একটা সামান্য উদাহরণ দিলাম। এরকম যদি অন্যান্য ক্ষেত্রে দেখা যায় যেমন, প্রধানমন্ত্রী বললেন যে, খাবারের দিকে আমাদের নজর দিতে হবে দুইটাভাবে। একটি হলো আমরা খাবার অপচয় করবো না। আরেকটি হচ্ছে যাতে আমাদের খাদ্যশস্য কোনরকম ঘাটতি না পড়ে সেদিকে লক্ষ্য রাখা। এটা হচ্ছে দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি। এই যে বিদেশে যাওয়া বন্ধ করলেন। এটা হচ্ছে পার্ট অফ দা মেজার। তার দর্শনের একটি অংশবিশেষ। মূল দর্শন কি? মূল দর্শন হচ্ছে একটি। সেটি হচ্ছে দেশপ্রেম। তিনি বাংলাদেশের প্রত্যেকটা মানুষকে ভালোবাসেন। 

আমি একটি উদাহরণ দেই। আমি তার সাথে একবার কক্সবাজার গিয়েছিলাম। কক্সবাজারের সব নেতাদের বক্তৃতা হয়ে গিয়েছে। তখন নেত্রী স্টেজে আসলেন। আমাকে কিছু বলার জন্য বললেন। ওই সময়ে সমস্ত কক্সবাজারে একটি মাত্র ছিট ছিলো আওয়ামী লীগের। আর সব বিএনপি'র। আমি বললাম যে, আপনাদের তো নেত্রী দেখে আপনাদের রেললাইনের ওপেনিং করছে, এখানে একটা এয়ারপোর্টের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করছেন। একের পর এক স্থাপনা করে যাচ্ছেন। আমি হলে এর কিছুই করতাম না। নেত্রী যখন আমার পরে বক্তৃতা দিলেন, অবাক ব্যাপার তিনি সাধারণত নেতাকর্মীদের বক্তব্যের বিষয়ে সেখানে কোনো উত্তর দেন না। তিনি তার দর্শন অনুযায়ী বক্তব্য দেন। ওইখানে তিনি একটু একসেপশন করলেন। সেটা ওনার দর্শনের অংশ। তিনি বললেন, আমি হচ্ছি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। আমাকে কে ভোট দিয়েছে, কে দেয়নি, আমার প্রতিনিধিকে নির্বাচিত করেছে কি নির্বাচিত করেনি, সেটি দেখার দায়িত্ব আমার না। আমার দায়িত্ব হচ্ছে বাংলাদেশের জনগণ এবং সেই জনগণের ভেতরে এই কক্সবাজারের জনগণও পরে। 

প্রান্তিক জনগোষ্ঠী যেরকম পড়ে, যারা আজকে কোনো কিছু করতে পারে না তারাও পরে, আর যারা আঘাত টাকার মালিক তারাও আমার জনগণ। সুতরাং আমি যেটা করেছি, এটা আমার ভোট পাওয়ার সাথে কোনো সম্পর্ক নাই। এটি একটি পজিটিভ দিক। আর অন্যদিকে কি শুনি? বলে সাত দিনের ভিতরে আমরা সরকার ফেলে দিতে পারবো। যারা কোনো কিছুতেই পাস করতে পারে না, তারা একজন দার্শনিক রাষ্ট্রনায়ককে ফেলে দিবে এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়, ফেলে দেওয়া তো দূরের কথা, আন্দোলনই তো করতে পারে না। তবে একটি ব্যাপার কিন্তু ঘটছে। সেটা হচ্ছে এই যে, অনেকে মনে করে যে আসলে ষড়যন্ত্র হচ্ছে এতে সামান্য সন্দেহ নাই। আমরা এই ষড়যন্ত্র সঠিকভাবে অনেক সময় বুঝতে পারি না। ১৫ অগস্ট যে ধরনের ষড়যন্ত্র করেছিল, এখন পৃথিবী পরিবর্তিত হয়ে গেছে। এখন সে ধরনের ষড়যন্ত্র হয় ন। একটি ষড়যন্ত্রের উদাহরণ দেই। সেটি হচ্ছে এই যে, সূক্ষ্মভাবে ষড়যন্ত্র চলে, আর মোটাদাগেরও চলে। মোটাদাগের ষড়যন্ত্র কি? একজন বিজ্ঞ যারা দেশ পরিচালনায় অপরিহার্য, বিদেশের কাছে তার ভাবমূর্তি নষ্ট করে দিলো। তাতে দুটো জিনিস হয়, সেই লোকটার কাজ করার আগ্রহ কমে যায় বা তারপরে যে আসবে সে ভয়ে অনেক কাজ ঠিকমতো করতে পারবে না। না হলে বাংলাদেশে এখন পৃথিবীর একটা এক্সাম্পল যেখানে কোনো রকম খুনোখুনি নাই, কোনো রকম জঙ্গি হামলা নাই। সমস্ত কিছু কিন্তু তিনি কন্ট্রোল করেছেন। এটা যাদের সহ্য হচ্ছে না, তারা আঘাত করছে। যারা এগুলো ঠিক করেছে তারা এখন তাদের ব্যাকবোন ভেঙে দিতে চায়। যাতে দেশে আবার একটি জঙ্গি পরিবেশ তৈরি করা যায়। 

তখন দেখা যাবে এই সন্ত্রাসীদের জন্যেই এখানে বাইরের শক্তি আসবে। তারা বিভিন্ন ইনফ্লুয়েন্স করবে। তাদের অস্ত্রপাতি বিক্রি হবে। সেটা একটা মোটাদাগের ষড়যন্ত্র। আর সূক্ষ্ম ষড়যন্ত্র কি? বিভিন্ন মিডিয়া খুললে দেখা যাবে, খুব কায়দা করে লিখতে চায়। তারা লিখে যে, সবই ঠিক আছে, ২০২৬ সালেই প্রবলেম হবে। উদ্দেশ্য হচ্ছে মানসিকভাবে জনগণকে দুর্বল করে দেওয়া। এই জন্যই তো তিনি দার্শনিক, রাষ্ট্রনায়কই শুধু নয়। ২০২৬ সালে তো দূরের কথা, তিনি তিনটি ভাগেই ভাগ করেন। বর্তমান পরিস্থিতি কিভাবে এর উত্তরণ করতে হবে। সেটাও তিনি ঠিকভাবে করছেন। ছয় মাস পরে কি হবে সেটাও তিনি করছেন। এর দার্শনিক ভিত্তি কি? দার্শনিক ভিত্তি তো শেখ হাসিনা। তার চিন্তা ধারায় যে কত টাইপের লোকদের দিয়ে যে তিনি কাজ আদায় করেন, চিন্তার বাইরে। অনেক লেখা দেখলে এখন বুঝবেন যে, যারা অনেক সুযোগ সুবিধা নিয়েছে তারা আজকাল জ্ঞানী জ্ঞানী লেখা লেখেন। তারা গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিল কিন্তু যেই মুহুর্তে থেকে নরমাল এক্সটেনশনের পর পদত্যাগ করার পরে তারা যখন বিজ্ঞ হয়ে গেলেন, তখন কিন্তু তারা বিজ্ঞ হওয়ার জন্য পার্টিকুলার পত্রিকাতেই লেখেন এবং সেখানে ঘুরেফিরে সরকারের বিপক্ষেই লেখেন।

অর্থাৎ এটা সূক্ষ্মভাবে চলছে। গ্রসলি বলতেছে যে, এই জায়গায় খুন হয়েছে, সেই নিউজটি হয়তো শেষ পেজে গেলে হতো, কিন্তু সেটা প্রথম পেজে আনা হচ্ছে। আরেক ধরনের ষড়যন্ত্র, পোস্ট এডিটরিয়ালে ২০২৬ সালে কি হবে সেটা এক ধরনের ষড়যন্ত্র। যে দার্শনিক এতো বড় করোনার থেকে দেশকে রক্ষা করতে পারলেন জীবন এবং জীবিকা দুটোই। আমরা ঠিকানাবিহীন ছিলাম। জাতির পিতা আমাদেরকে দেশের ঠিকানা দিলেন, তারপর পৃথিবীর মানচিত্র তখনও আমরা ঠিকানাবিহীন। তিনি সেখানে মধ্যম আয়ের দেশে এনে আমাদের ঠিকানা দিলেন। সেই দার্শনিক কি এই সূক্ষ্ম লেখা কি বুঝতে পারেন না এটা হতে পারে? অর্থাৎ এখানে তার কোনো ফেইলর নেই। এখানে ফেইলর ইজ দ্য পিলার অব সাকসেস এটা মিথ্যা। এটা সাকসেস ব্রিংস এনাদার সাকসেস। একটি সফলতার আরেকটি সফলতা আনবে এটাই তিনি প্রমাণ করেছেন। আর যারা বড় বড় কথা বলছেন, ৭ দিনে ফেলে দিবেন, একটা ফর্মুলা এরা কিন্তু এক জায়গায় বসে সব ঠিক করে। তারপরে ঠিক করে, কে কোনটা বলবে। সাধারন পাবলিক যাতে কনফিউজড হয়। সে ভাববে যে যে আর্টিকেল লেখা হয়েছে, সেটা তারা নিজের থেকে লিখেছে। অনেকে ভাববে যে, এনালাইসিস যেটা করছো সেটা নিজে থেকে করছে।

এটা কোনোটা আলাদা না। কারণ দেশটা এখন দুই ভাগে ভাগ হয়ে গেছে। একটি হচ্ছে যে, দেশপ্রেমিক দার্শনিক রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা এবং বিপক্ষ শক্তি সকলে এক। তার সাথে যারা আছেন তাদের ভেতরও সব লোক তাকে যে সমানভাবে সমর্থন করছেন বা তাদের কাজে এগিয়ে নিচ্ছেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি না। এর ভিতরও কিছু ভেজাল আছে। কিন্তু দার্শনিক রাষ্ট্রনায়কের কাছে এবং তার দেশপ্রেমের কাছে এরা কেউ টিকবে না। কখন কোথায় কাকে রাখতে হবে, কখন কাকে দূরে সরিয়ে নিতে হবে সেটা তিনি ভালোভাবেই জানেন এবং এটা করতে পারবেন। সুতরাং আমি মনে করি যে, দার্শনিক রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার একটি বিজয় আরেকটি বিজয়ের পথ শুধুমাত্র শুরু করে। একটি বিজয় আরেকটি বিজয়কে ত্বরান্বিত করে। সুতরাং তার প্রতিটি স্তরে বিজয় সুনিশ্চিত। আর যারা বলেন যে, ফেইলর ইজ দ্য পিলার অব সাকসেস তারা শুধু পিলারই তৈরি করবেন এবং সেই জন্যই যখন বলা হয় যে, বার বার দরকার শেখ হাসিনার সরকার, এটাই হচ্ছে বাস্তবতা এবং দার্শনিক রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা সেই পথেই যাচ্ছেন এবং ওই তথাকথিত ষড়যন্ত্র যত রকম ভাবেই করা হোক না কেন, এর আমি সফলতার কোনো সম্ভাবনা দেখি না। 

ফেইলর ইজ দ্য পিলার অব সাকসেস   প্রান্তিক জনগোষ্ঠী   কমিউনিটি ক্লিনিক   দার্শনিক রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড থট

রাইস ব্র্যান তেল কেন খাবেন?


Thumbnail রাইস ব্র্যান তেল কেন খাবেন?

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি যখন রাইস ব্র্যান তেল খাওয়ার পরামর্শ দিলেন তখন সয়াবিনের মূল্য ঊর্ধমুখী। দুষ্প্রাপ্যও বটে। তিনি রাইস ব্র্যান তেলের পক্ষে সাফাই গাইতে যেয়ে আমাদের তিন চার দশকের সঙ্গী সয়াবিন তেলের বেশ বদনাম করেছেন। বাণিজ্যমন্ত্রীর কথা শুনে অনেকেই বলছেন, আঙ্গুর ফল টক। মন্ত্রী বলেছেন, সয়াবিন তেল শরীরের জন্য ক্ষতিকর। তাতে অনেকেই উপহাস করছেন। কিন্তু যারা অনুসন্ধিৎসু, ইন্টারনেট ঘাটাঘাটি করেন, তারা জানেন রাইস ব্র্যান তেলের গুণাগুণ। গুণ জানলে মনে হবে, তিনি শতভাগ সত্যি কথা বলেছেন। হয়তো 'অসময়ে' বা 'দুঃসময়ে' বলেছেন বলে অনেকেই পাত্তা দিচ্ছেন না বা উপহাস করছেন।

রাইস ব্র্যান তেল চালের তুষ থেকে তৈরি করা হয়। ধানের তুষ সাধারণত পশুর খাদ্য হিসাবে ব্যবহার করা হয় বা বর্জ্য হিসাবে ফেলে দেয়া হয়। স্বাস্থ্য  উপকারিতার জন্য এটি সম্প্রতি তেল হিসাবে অনেকের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। সাধারণত জাপান, ভারত এবং চীন সহ এশিয়ার অনেক দেশে রান্নার তেল হিসাবে ব্যবহৃত হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, দেশে এখন ৫০ থেকে ৬০ হাজার টন রাইস ব্র্যান তেল উৎপাদন হয়। সেটি মোট চাহিদার দুভাগ মাত্র। তবে সেটিকে মোট চাহিদার ২৫ শতাংশ উৎপাদনের ব্যাপারে তিনি আশাবাদী। এখন দেখে নেয়া যাক, যে দশটি চিত্তাকর্ষক সুবিধার জন্য আপনি রাইস ব্র্যান তেল খাবেন।

এক. উপকারী পুষ্টি রয়েছে: রাইস ব্রান তেল অসম্পৃক্ত চর্বি, ভিটামিন ই এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টির একটি ভাল উৎস। এক টেবিল চামচ তেলে ১২০ ক্যালোরি এবং ১৪ গ্রাম ফ্যাট থাকে। ভিটামিন ই থাকে দৈনিক চাহিদার প্রায় ৩০ ভাগ। ক্যানোলা এবং অলিভ অয়েল জাতীয় দামি তেলের মত, রাইস ব্র্যান তেলে হৃদপিণ্ডের জন্য স্বাস্থ্যকর অসম্পৃক্ত চর্বি বেশি থাকে।

দুই. রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে: রাইস ব্র্যান তেল ইনসুলিন প্রতিরোধের উন্নতি করে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। যা টাইপ টু  ডায়াবেটিসের ঝুঁকির কারণ। ইঁদুরের উপরে গবেষণায় দেখা গেছে, রাইস ব্র্যান তেল ইনসুলিনের মাত্রা বাড়িয়ে রক্তে শর্করার মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে। ২০১৮ সালে জাপানের একটি মানব গবেষণায় অনুরূপ ফলাফল পাওয়া গেছে। যেদিন সকালে ১৯ জন সুস্থ ব্যক্তি খাবারের সাথে এ তেল ৩ দশমিক ৭ গ্রাম খেয়েছিলেন, তাদের রক্তে শর্করার মাত্রা শতকরা ১৫ ভাগ কমে গিয়েছিল।

তিন. হৃদপিণ্ডের স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে পারে: রাইস ব্র্যান তেল হৃদপিণ্ডকে চাঙ্গা রাখে। কোলেস্টেরল কমায়।  রক্তচাপ কমায়। কোলেস্টেরল কমানোর কারণে জাপান সরকার এটিকে স্বাস্থ্যকর খাদ্য হিসাবে স্বীকৃতি দেয়। ইঁদুরের প্রাথমিক গবেষণায় দেখা যায়, রাইস ব্রান তেল উল্লেখযোগ্যভাবে এল ডি এল (খারাপ) কোলেস্টেরল কমায়। এইচ ডি এল (ভাল) কোলেস্টেরল বাড়িয়ে দেয়। ২০০৯ সালে থাইল্যান্ডে ওপর একটি মানব গবেষণাতে  একই ফল পাওয়া যায়। এগারোটি গবেষণা নিয়ে পরিচালিত একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, এ তেল ব্যবহারকারীদের কোলেস্টেরল গড়ে ৬ দশমিক ৯ মিলিগ্রাম কমেছে। এক মিলিগ্রাম কমলেই হৃদরোগের ঝুঁকি এক থেকে দুই শতাংশ কমাতে পারে।

চার. অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি প্রভাব রয়েছে: রাইস ব্র্যান তেলে থাকা বেশ কিছু যৌগের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি প্রভাব রয়েছে। এই যৌগগুলির মধ্যে একটি হল ওরিজানল, যা ইনফেকশন ছড়ায়  এমন বেশ কয়েকটি এনজাইমকে দমন করতে পারে।  এটির  কার্যকারিতা রক্তনালী এবং হৃদপিণ্ডে বেশি। এ ইনফেকশন বন্ধ বা প্রতিরোধ করতে না পারলে হৃদপিণ্ডের রক্তনালীকে চিকন করে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

পাঁচ. ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে পারে: টোকোট্রাইয়েনল নামের একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্যান্সার প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে পারে।  টেস্ট-টিউব এবং প্রাণীজ গবেষণা ইঙ্গিত দেয় যে টোকোট্রিয়েনলগুলি স্তন, ফুসফুস, ডিম্বাশয়, লিভার, মস্তিষ্ক এবং অগ্ন্যাশয় সহ বিভিন্ন ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি দমন করে। একটি টেস্ট-টিউব গবেষণায় দেখা গেছে, এই টোকোট্রাইয়েনল  আয়নাইজিং বিকিরণের সংস্পর্শে থাকা মানব এবং প্রাণী কোষগুলিকে রক্ষা করে বলে মনে হয়। আয়নাইজিং বিকিরণের উচ্চ মাত্রা ক্যান্সারের মতো ক্ষতিকারক প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে। তবে মনে রাখবেন, এ  তেল ক্যান্সারের চিকিৎসা  হিসাবে নয়, প্রতিরোধ করতে পারে।

ছয়. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পারে: চালের তুষের তেল আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত করতে পারে। যা ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস এবং অন্যান্য রোগ সৃষ্টিকারী জীবের বিরুদ্ধে আপনার শরীরের প্রতিরক্ষার প্রথম লাইন। ইঁদুরের কোষে একটি সমীক্ষা প্রকাশ করেছে যে, রাইস ব্র্যান তেলের একটি উপাদান 'অরিজানল' রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। যাহোক, এটি স্পষ্ট নয় যে, এই প্রভাবটি মানুষের মধ্যে ঘটে কিনা।

সাত. ত্বকের স্বাস্থ্য বাড়াতে পারে: রাইস ব্র্যান তেলে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে পারে। ২০১২ সালে থাইল্যান্ডের একটি গবেষণা মতে, যাঁরা দৈনিক দুবার রাইস ব্রান নির্যাস যুক্ত জেল এবং ক্রিম ব্যবহার করেছেন, তাঁরা পরে হাতের ত্বকের পুরুত্ব, রুক্ষতা এবং স্থিতিস্থাপকতার উন্নতি অনুভব করেছে। যদিও এ বাপারে পর্যাপ্ত গবেষণা এখনো হয়নি, তবু খেয়াল করবেন যে, বাজারে বেশ কয়েকটি ময়েশ্চারাইজারে বা ওই জাতীয় পণ্যগুলিতে রাইস ব্র্যান তেল থাকে।

আট. কিডনি স্টোন রোগীদের জন্য ভালো: রাইস ব্র্যান তেল ক্যালসিয়াম শোষণ কমাতে সাহায্য করতে পারে। সুতরাং, এটি কিডনিতে নির্দিষ্ট ধরনের পাথরের গঠন কমাতে সাহায্য করতে পারে।

নয়. থাইরয়েডের কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে: থাইরয়েডের জন্য রাইস ব্রান তেল  একটি চমৎকার পরিপূরক। এটি হাইপারথাইরয়েডিজমে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে থাইরয়েড-উত্তেজক হরমোনের মাত্রা (টিএসএইচ) কমায়। উপরন্তু, এটি হাইপোথ্যালামাসের কাজকে প্রভাবিত করে। ফলে এটি যে কোনো ধরনের কর্মহীনতা প্রতিরোধ করে।

দশ. মেনোপজ পরবর্তী লক্ষণগুলি হ্রাস করে: রাইস ব্রান তেল মেনোপজ কালীন মহিলাদের এর সাথে সম্পর্কিত লক্ষণগুলিকে হ্রাস করে। এই লক্ষণগুলির মধ্যে গরম ঝলকানি এবং অন্যান্য জ্বালা অন্তর্ভুক্ত। এছাড়াও, এটি লুটিনাইজিং হরমোন উৎপাদনে বাধা দেয়, যা হরমোনের মাত্রায় আকস্মিক পরিবর্তনের জন্য দায়ী।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড থট

ভোজ্যতেলের সংকট নিরসনে অতিরিক্ত ব্যবহার কমানো, উৎপাদন বাড়ানো প্রয়োজন

প্রকাশ: ০২:০০ পিএম, ১৯ মে, ২০২২


Thumbnail ভোজ্যতেলের সংকট নিরসনে অতিরিক্ত ব্যবহার কমানো, উৎপাদন বাড়ানো প্রয়োজন

সম্প্রতি ভোজ্যতেলের মনুষ্য সৃষ্ট কৃত্রিম সংকটে লংকাকান্ড ঘটে যাচ্ছে। এই উছিলায় হারিয়ে যাওয়া গণবিচ্ছিন্ন বিভিন্ন ধরনের সংগঠন শিয়ালের মত গর্তের মধ্য থেকে হুয়াক্কা হুয়া ডাক দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। এই সংকটের মূল কারণ ভোজ্যতেলের আমদানি নির্ভরতা। ভোজ্যতেলের ৯০ শতাংশই আমদানি করতে হয়। তথ্যমতে ভোজ্যতেল আমদানিতে বছরে ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি খরচ হচ্ছে। ভোজ্যতেল সংকটের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরামর্শ অনুযায়ী ভোজ্যতেলের আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে আনতে তেলবীজের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য গবেষণা ও উৎপাদন বাড়ানোর কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে কৃষিবিজ্ঞানী ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের 'তেলজাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি' প্রকল্পের জাতীয় কর্মশালায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে জন প্রতি তেল ব্যবহারের পরিমাণ বেড়েছে। গবেষণার ফলাফলে বলা হয়েছে, ২০১৫ থেকে ২০১৯ সালে মাথাপিছু খাবার তেল ব্যবহারের পরিমাণ ৩৬ শতাংশ বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, খাবার তেলের ভোগ বেড়ে যাওয়া জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। কারণ তারা মনে করেন যে বাংলাদেশের নিম্নবিত্ত ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ পুষ্টিজনিত রোগে ভুগছে, তাই তাদের পুষ্টি চাহিদা পূরণে ভোজ্যতেল খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

পুষ্টি চাহিদা পূরণে যেমন পর্যাপ্ত তেল দরকার, তেমনি যারা স্থূলতা, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ কিংবা রক্তচাপের মতো সমস্যায় ভুগছেন তাদেরকে আবার চিকিৎসকের পরামর্শে মেপে মেপে তেল খেতে হবে। নিজের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি বুঝে পরিমিত পরিমাণে তেল খাওয়া বেশ জরুরি। সেক্ষেত্রে দেহের চাহিদা যদি কম-বেশি থাকে, তাহলে তেল খাওয়ার পরিমাণও কম-বেশি হবে। এছাড়া ৪০ বছরের ঊর্ধ্বে যাদের বয়স, দেহের ওজন বুঝে তাদের তেল গ্রহণের পরিমাণ কমিয়ে আনতে হবে।

এখন প্রশ্ন, কী ধরণের তেল খাচ্ছেন এবং সেটা কী পরিমাণে খাচ্ছেন? তেলে সাধারণত স্যাচুরেটেড, মনো-আনস্যাচুরেটেড ও পলি-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে, যেগুলো আমাদের রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রার তারতম্য ঘটায়।

স্যাচুরেটেড ফ্যাট রক্তের এলডিএল (খারাপ) কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ায়, যা আমাদের হৃদরোগের ঝুঁকিতে ফেলে। যে তেল বা চর্বি প্রাণী থেকে আসে যেমন গরু, খাসির চর্বি, ঘি, মাখন, ডালডা ইত্যাদি প্রাণীজ ফ্যাট। এগুলোকে স্যাচ্যুরেটেড ফ্যাটও বলা হয়। এই সকল তেল পরিহার করা উচিত। আবার পলি-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট রক্তের এইচডিএল (ভালো) কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ায়, যা উপকারি। গাছ, ফুল বা শস্য থেকে যে তেল আসে সেটা উদ্ভিজ্জ তেল, একে পলি-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটও বলা হয়। যে তেলে পলি-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট ও মনো-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটের মাত্রা বেশি, সেগুলোই ব্যবহার নিরাপদ।

বাংলাদেশের বাজারে প্রচলিত বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ তেলের মধ্যে রয়েছে সয়াবিন তেল, সরিষার তেল, ক্যানোলা তেল, জলপাই তেল, রাইস ব্র্যান তেল, সূর্যমুখী তেল, ভুট্টার তেল ইত্যাদি।

যে তেলে স্যাচুরেটেড ফ্যাট ৩৫ শতাংশের নিচে এবং আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট ৫০ শতাংশের ওপরে সেই তেল দৈনিক ব্যবহারের জন্য ভালো।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তেলের স্মোক পয়েন্ট (অর্থাৎ যে তাপমাত্রায় তেল পুড়ে ফ্যাটগুলো ভেঙে  আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এলডিহাইড তৈরি করে)। তাই রান্নার পদ্ধতির ওপরও অনেক কিছু নির্ভর করে। যেমন—অলিভ অয়েলে পলি-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকলেও এর স্মোক পয়েন্ট অনেক কম হওয়ায় ভাজাপোড়ার জন্য এই তেল ঠিক নয়। তবে সালাদ ড্রেসিং এবং অল্প আঁচের রান্নার জন্য ভালো। আমাদের দেশে যে পদ্ধতিতে খাবার রান্না করা হয় তাতে বেশি স্মোক পয়েন্ট (১৭৭ থেকে ২৩২ ডিগ্রি) সম্পন্ন তেলই উপযুক্ত। 

বর্তমানে আমরা রান্নায় সবচে বেশি ব্যবহার করি সয়াবিন তেল। কারণ এটি উদ্ভিজ্জ তেল। তবে তথ্যমতে সয়াবিন তেল অতিরিক্ত সেবনে ক্যান্সার, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। এই তেল অ্যান্টি-নিউট্রিয়েন্টস হিসেবে কাজ করে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, সয়াবিন তেল ডায়াবেটিস, স্থূলতা, স্নায়ুজনিত বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। এছাড়া চাহিদার কারনেই সয়াবিন তেল বেশি আমদানি করা হয়। আমরা যেন এর বিকল্প ভাবতেই পারি না। কেউ কেউ সরিষার তেলে রান্না করলেও তার সংখ্যা খুবই কম। এদিকে লাফিয়ে বেড়েছে সয়াবিন তেলের দাম। আমদানি নির্ভরতা কমাতে এবং সুস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে সয়াবিন তেলের ব্যবহার কমানো উচিত এবং সয়াবিন তেলের বিকল্প ভাবা উচিত। চাহিদা পূরণে দেশীয় তেলবীজ উৎপাদন বাড়ানো প্রয়োজন।

যে সকল তেল, যা সয়াবিন তেলের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যায়, যেগুলো স্বাস্থ্যকরও বটে। তন্মধ্যে, সরিষার তেল, সূর্যমুখী তেল, জলপাই তেল, বাদাম তেল, তিল তেল, ভেন্না তেল, তিসি তেল, রাইসব্রান তেল, ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

তবে সয়াবিন তেলের সহজলভ্য বিকল্প হলো সরিষার তেল। এতে মাত্র ৭ শতাংশ স্যাচুরেটেড ফ্যাট রয়েছে। সরিষার তেলে মনো-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ প্রায় ৬০ শতাংশ। ফলে আমাদের শরীরের কোলেস্টেরলের ভারসাম্য রক্ষা করতে সাহায্য করে। কার্ডিওভাসকুলার রোগের ঝুঁকি কমে, কারন সরিষার তেলে রয়েছে ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। সুস্বাস্থ্যের জন্য যা বেশ উপকারি। একসময় গ্রাম বাংলার একমাত্র ভোজ্যতেল ছিল সরিষার তেল। শুধু খাওয়ার জন্যই নয় চুল ও ত্বকের যত্নেও সরিষা তেল উপকারী। এর ওষুধি গুণের জন্য প্রাচীনকাল থেকেই আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে সরিষা তেলের উল্লেখ পাওয়া যায়। তবে ইদানিং সরিষার উৎপাদনও কমেছে। সয়াবিন তেলের কর্পোরেট আগ্রাসনে হারিয়ে গেছে স্বাস্থ্যসম্মত সরিষার তেল। সয়াবিনের ব্যাপক প্রচলনের ফলে সরিষা তেলের ব্যবহার দিন দিন কমে আসছে। 

সয়াবিন তেলের বিকল্প হিসেবে সূর্যমুখী তেলকে বিবেচনা করা হয়। এই তেল দেহের জন্য উপকারি, এটি বিপাক ক্রিয়া তরান্বিত করে। এই তেল প্রচুর পলি-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটসমৃদ্ধ। এর স্মোক পয়েন্ট অনেক বেশি (২২৭ ডিগ্রি)। দৈনিক যেকোনো রান্নার জন্য উপযোগী। সানফ্লাওয়ার তেলে ওমেগা-৩ ও ওমেগা-৬ আছে, যা রক্তের খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। সূর্যমুখী তেল উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি হ্রাস করে। এতে থাকা অসম্পৃক্ত ফ্যাট দেহের ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ায় এবং খারাপ কোলেস্টরলের মাত্রা কমায়।কোলেস্টেরলের মাত্রা কম থাকায় যারা ডায়েট করেন তাদের জন্য এটি উপযোগী। তবে গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত ভাজাপোড়ার ক্ষেত্রে এই তেল প্রযোজ্য নয়। এই তেল ভাজাপোড়া করার সময়ে এলডিহাইড নামের ক্ষতিকর উপাদান তৈরি করে, যা ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।

রাইসব্রান তেল মনো-আনস্যাচুরেটেড ও পলি-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটসমৃদ্ধ। এর স্মোক পয়েন্ট (২৫৪ ডিগ্রি) বেশি হওয়ায় যেকোনো খাবার রান্নায় ব্যবহার উপযোগী। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, এই তেল রক্তের কোলেস্টেরল ও রক্তচাপ কমায়। এ ছাড়া টাইপ টু ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে ব্লাড সুগারের মাত্রাও কমায়। তবে যাঁদের ব্লাড প্রেসার কম, তাঁদের চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে এই তেল ব্যবহার করা উচিত।

জলপাই তেল। রান্নায় জলাপাই তেল বা অলিভ অয়েলের ব্যবহারের ইতিহাস অনেক আগের। শত শত বছর ধরে ভূমধ্যসাগর অঞ্চলে এই তেল ব্যবহার করা হচ্ছে। আচ্ছাদিত জলপাই থেকে এই তেল তৈরি করা হয়। সয়াবিনের বিকল্প হিসেবে এই তেল ব্যবহার করা যায়। কোলেস্টেরল কম থাকায় এটি হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। জলপাই তেলের বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদান শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। ডায়াবেটিস প্রতিরোধ, স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ, হাড় মজবুত করা, ওজন কমানো, মনকে প্রফুল্ল রাখা এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। শুধু খাবারেই নয়, ত্বকের যত্নেও জলপাই তেল উপকারী। তাই শীতে ত্বক ও চুলের যত্নে নিয়মিত জলপাই তেল ব্যবহার করতে পারেন।

চিনাবাদাম তেল। স্বাস্থ্যকর তেল হিসেবে বিবেচিত হয় চিনাবাদাম তেল। এই তেলে স্যাচুরেটেড ফ্যাট কম থাকে। এটি প্রাকৃতিকভাবে চর্বিমুক্ত। এটি রক্তনালীতে চর্বি জমা হ্রাস করে। সয়াবিনের পরিবর্তে এই তেলও ব্যবহার করা যায়। 

খাবারে যে তেলই ব্যবহার করুন না কেন, এর দোষ-গুণ নির্ভর করে কিভাবে এবং কোন ক্ষেত্রে ব্যবহার করছেন তার ওপর। তাই তেল কেনার আগে অবশ্যই পুষ্টিমান দেখে কিনুন। একটি কথা অবশ্যই বিবেচনা করা জরুরি, তেল যতই ভালো হোক, খাবারে মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার এবং মাত্রাতিরিক্ত ভাজাপোড়া সবার জন্যই ক্ষতিকর।

আমাদের দেশে পটুয়াখালীসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলে তেল জাতীয় ফসলের উৎপাদন হচ্ছে। ধানের উৎপাদনকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে অতিরিক্ত ফসল হিসাবে আরও কোথায় কোথায় এসব তৈলবীজ জাতীয় ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। চর এলাকার পতিত প্রত্যেকটি জমি আবাদের আওতায় আনার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী তেলবীজ বা তেলজাতীয় ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি করতে চরাঞ্চলে অবস্থিত পতিত জমি ব্যবহার করা যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে এসকল জমিতে তেল জাতীয় ফসল সয়াবিন, সূর্যমুখী ও সরিষার আবাদ করা যেতে পারে। তেল জাতীয় ফসল আবাদে উৎপাদন খরচ কম এবং লাভ বেশি। এছাড়া শেখ হাসিনার কৃষিবান্ধব সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় বীজ, সার, প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণসহ সক সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাসও রয়েছে ।

কোথায় কোথায় সরিষার উৎপাদন বাড়ানো যায় সেটা নির্ধারণ করে এক্সটেনশন সিস্টেম ডেভেলপ করতে হবে, যাতে দ্রুত এর উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। তেল উৎপাদনকারী পণ্যের উৎপাদন বাড়াতে হলে গবেষণায় ফলাফল মাঠ পর্যায়ে কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে। তা কি ফলাফল বয়ে আনছে সে বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে। এটি করতে পারলে আগামী ৩-৪ বছরের মধ্যে ভোজ্যতেলের চাহিদা স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

ভোজ্যতেলের সংকট   উৎপাদন   ভোজ্যতেল   সংকট  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড থট

দার্শনিক রাষ্ট্রনায়কের কথা


Thumbnail দার্শনিক রাষ্ট্রনায়কের কথা

আমি আমার লেখায় প্রথমেই রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনাকে দার্শনিক রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে উল্লেখ করলাম। এর কারণ হচ্ছে এই যে, নেত্রীকে যখন আওয়ামী লীগের সভাপতি করা হয়, তিনি তখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এবং কিছু লোক তাকে আসতে বললেও অনেক বিজ্ঞ লোক তাঁকে খুব গভীর চিন্তা করে নিষেধ করেছিলেন এই কারণে যে, দেশে আসলে তাঁকে জীবন দিতে হবে। তাহলে বলা চলে যে, তিনি জীবনের মায়া ত্যাগ করে বাংলাদেশে আসলেন। কী জন্য আসলেন? আসলে একটি দার্শনিক চিন্তা নিয়ে; একটি দর্শনকে স্থায়ী রূপ দেওয়ার জন্য। সেই দর্শন হচ্ছে দেশপ্রেম। সেদিন কী ঘটেছিল সেই ঘটনা সবাই জানেন। তিনি যেদিন আসেন সে দিনকার ব্যাপারে আমি আলাদা কিছু বলতে চাই না। কারণ অনেক পত্র-পত্রিকায়ই লিখবেন এবং অনেকেই লিখবেন। সুতরাং ওই বিষয়ে আমি যাব না। আমি শুধু তার দর্শনের মধ্যেই আমার আলোচনা সীমাবদ্ধ রাখতে চাই। এই যে দেশপ্রেম, এটা কিন্তু শুধু মুখে বললে হবে না। তার একটি উদাহরণ দেই। ওয়ান-ইলেভেনের সময় যখন রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা দেশের বাইরে গিয়েছিলেন, তখন তাকে আসতে নিষেধ করা হলো। আবার তাঁর বিরুদ্ধে মামলাও করা হলো। যে কোনো সাধারণ লোকেরা দেশে মামলা-মোকদ্দমায় ভোগেন তারা বাইরে যাওয়ার জন্য অস্থির হয়ে যান। কিন্তু নেত্রী উল্টো হলেন। তিনি দেশে আসার জন্য পাগল হয়ে গেলেন। ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের মতো বিমান তাকে টিকিট দেয়নি। সরকার বলল, যে প্লেন তাকে আনবে সেই প্লেনের ল্যান্ডিং পারমিশন বাতিল হয়ে যাবে। অন্যভাবে বলা হলো, আসার পরে অজ্ঞাতভাবে তাকে হত্যা করা হবে। তিনি কোনো কিছুর তোয়াক্কা করলেন না। তিনি ওখানে অনেক আন্দোলন হওয়ার পরে দেশে এলেন। তার জোরটা কোথায়? কী জন্য তিনি তা পেরেছেন? পেরেছেন এ কারণে যে, একজন দার্শনিকের যে মূল দর্শন থাকে, দার্শনিক রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার দর্শন হচ্ছে দেশপ্রেম। দেশপ্রেমের জন্যই তিনি এসেছেন। সুতরাং জীবন এখানে তাঁর কাছে কোনো ব্যাপারই নয়। এখন নেত্রী অনেক কিছু করে চলেছেন এবং সবকিছুর ভিতর দেখা যায়, তাঁর আসল ব্যাপার হচ্ছে দেশপ্রেম। একমাত্র রাষ্ট্রনায়ক যার বিদেশে কোনো অ্যাকাউন্ট নেই। তিনি সততার একটি প্রতীক। 

আমি শুধু আমার নিজের স্বরভক্তির মতো বলছি যে, টুঙ্গিপাড়ার খোকা, তারপর মুজিবভাই, তারপর বঙ্গবন্ধু, তারপরে তিনি হলেন জাতির পিতা। এই যে পর্যায়ক্রমে হলেন। আর আমাদের দার্শনিক রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা, তিনি প্রথম ছিলেন ছাত্রনেত্রী হিসেবে সেই স্কুল জীবন থেকে শুরু। তারপরে তাঁর বিবাহ হলো। তিনি স্বামীর সঙ্গে জার্মানি গেলেন। সেই অবস্থায় তাঁরা দুই বোন বাইরে থাকায় তাঁরা বেঁচে গেলেও সবাইকে মেরে ফেলা হলো। তারপর তিনি এলেন। তখন তিনি হলেন আওয়ামী লীগের দলীয় প্রধান। আওয়ামী লীগের প্রধান থেকে তারপর অনেক সংগ্রাম করে তিনি তাঁর আসল অবস্থায় এলেন। প্রতিটি স্তরে তাঁকে সংগ্রাম করতে হয়েছে। সংগ্রাম করে তিনি সরকারপ্রধান হলেন বাংলাদেশের। তারপরও তাঁর সংগ্রাম চলল। তারপরে তিনি রাষ্ট্রনায়ক হলেন। এখন আমরা তাঁর বিভিন্ন কাজ, বিশেষ করে কমিউনিটি ক্লিনিক নিয়ে এনালাইসিস করতে গিয়ে দেখেছি, তাঁর দর্শনটা কী? তাঁর দর্শন হলো দেশপ্রেম থেকে। একটি বিষয় বলতে হয়, আমাদের দেশের যারা নিজেদের সিভিল সোসাইটির গুরু মনে করেন, যারা নিজেদের সততার প্রতীক মনে করেন তারা অনেকেই অনেক উপদেশ দেন এবং আমি মোটামুটি বেশ কয়েকজনকে চিনি, যারা আসলেই সৎ বলেই আমার বিশ্বাস। এখন দেশপ্রেমের বিষয়টি আমি আনতে চাই।

এই যে করোনাকালীন কঠিন সময়ে নেত্রী এ দেশের জীবন এবং জীবিকা দুটোই বাঁচালেন। বাঁচালেন কী জন্য? মূলত দেশপ্রেমের জন্য। এখন দেশপ্রেমের আসল বিষয়টি সম্বন্ধে একটু বলতে চাই। পাকিস্তান আমল থেকে শুরু করে অনেকেই ঘুষ খেত, অনেকেই টাকা বিভিন্নভাবে অনৈতিক পথে আয় করত। কিন্তু তারা দেশের ভিতরে খরচ করত। কিন্তু এখনকার যারা টাকা-পয়সা আয় করতে পারে, তারা বিদেশে নিয়ে যায়। ধনী-দরিদ্র সম্পর্কে এই সিভিল সোসাইটি থেকে এবং বিভিন্ন জায়গা থেকে অনেক লেখা পাই। পত্রিকা খুললেই বড় বড় লেখা পাই। কিন্তু যে জিনিসটা খুবই কম নজরে পড়ে সেটি হচ্ছে, এই যে শুধু টাকা বিদেশে পাচার হচ্ছে এতে ধনী-দরিদ্রের শূন্যস্থান বাড়ছে। এগুলো সবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে রাষ্ট্রনায়ক। শেখ হাসিনার দর্শন, দেশপ্রেম। এতে একটা জিনিস আমাদের সবার লক্ষ্য করতে হবে, যারা বিদেশে টাকা নিচ্ছে তাদের কোনো দেশপ্রেম নেই। আসল গোড়ায় হাত দিতে হবে। এই জন্যই তো তিনি দার্শনিক। তিনি গোড়ায় হাত দিয়েছেন। যাতে করে যারা দেশপ্রেমিক তারা টাকা-পয়সার কিছুতেই বিদেশে নিতে পারে না এবং এগুলোতে রাজনীতিবিদের যেগুলো সেগুলো নিয়ে অনেক হইচই হয়। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলছি, আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, দেখা গেল যে আমলারাই বিদেশে বেশি টাকা পাচার করেছেন। কিন্তু একজন আমলার বিষয়েও তো ঠিকমতো ইনভেস্টিগেশন হলো না। যারা ইনভেস্টিগেশন করবে এবং এগুলো দেখবে তারা (আমি জেনে বলছি) এতে আগ্রহী নয়। 

আমার জানামতে যারা এটা করতে পারে তাদেরও কিন্তু বিদেশে টাকা পয়সা নেওয়ার মতো সে রকম কোনো প্রমাণ নেই। কিন্তু তারা তাদের কলিগদের বিষয়ে হাত দিতে চায় না (শকুনের মাংস শকুন খায় না)। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদে অনেককে বসিয়েছেন। আমি শুরু করতে চাই একটা লোকের উদাহরণ হিসেবে বলে, সেটা হচ্ছে আমাদের মন্ত্রিপরিষদ সচিব। উনার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে আমার কোনোদিন আলাপও হয় নাই এবং আমি দেখিও নাই। যখন মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে নিয়োগ দেওয়া হয়, তখন অনেকে দাড়ি দেখে বলেছিলেন উনি তো জামায়াত-বিএনপি। পরে খোঁজ নিয়ে দেখা গেল যে, তিনি নিজেও মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বাস করেন এবং তার পরিবার মুক্তিযোদ্ধা এবং সম্ভবত মুক্তিযুদ্ধে একজন আত্মাহুতিও দিয়েছেন। অর্থাৎ রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা যে দার্শনিক তার প্রমাণ হলো, তিনি কে দেশপ্রেমিক সেটা কিন্তু বের করতে ভুল করেননি। তার কোনো ভুলভ্রান্তি নেই। এ রকম অনেক উদাহরণ আছে যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর যে দর্শন দেপ্রেম, তার থেকে বাইরে যান না। এখনো প্রধানমন্ত্রীর ওপরে যাদের ছায়া পড়ে, তাদের কার কার বিদেশে বাড়ি আছে সেটাও তো আমাদের দেখা দরকার। কারণ না হলে এদের দেশপ্রেম যদি না থাকে তাহলে নেত্রী যেহেতু রাজনীতিতে আছেন, তিনি তার জীবনের কোনো মায়া করেন না এবং তিনি যাকে দিয়ে যে কাজ করান তিনি সেটিই করেন। কিন্তু আমার প্রশ্ন হচ্ছে তার কাজ তো বেড়ে যায়। তার তো দার্শনিক চিন্তা-ভাবনা নিয়ে আরও অনেক কিছু করার সুযোগ ছিল সেই সময়টাতো নষ্ট হচ্ছে।


দার্শনিক   রাষ্ট্রনায়ক  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড থট

শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন

প্রকাশ: ০৮:০৬ এএম, ১৭ মে, ২০২২


Thumbnail শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন

কবি আসাদ মান্নান ‘চাই তাঁর দীর্ঘ আয়ু’ কবিতায় শেখ হাসিনা প্রসঙ্গে লিখেছেন- ‘মৃত্যুকে উপেক্ষা করে মহান পিতার স্বপ্নবুকে/নিরন্তর যিনি আজ এ জাতির মুক্তির দিশারী/ঘূর্ণিঝড়ে হালভাঙা নৌকাখানি শক্ত হাতে বৈঠা ধরে টেনে/অসীম মমতা দিয়ে পৌঁছুচ্ছেন আমাদের স্বপ্নের মঞ্জিলে,…’

কবির মতে, শেখ হাসিনা রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের  অনুসারী, তিনি মুক্তির দিশারি, মৃত্যুকে উপেক্ষা করে এগিয়ে চলেছেন নির্ভীকভাবে, আর গভীর মমতা দিয়ে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সচেষ্ট। কবির এই কথাগুলো সত্য হতো না, যদি না ১৯৮১ সালের ১৭ মে শেখ হাসিনা নিজ দেশে ফিরে আসতেন। আসলে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যেমন বাংলাদেশ নামের রাষ্ট্রের অভ্যুদয়ের ইতিহাস, তেমনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এদেশের শাসনকার্যে দীর্ঘকাল ক্ষমতায় আসীন থেকে মহিমান্বিত রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে মহাকালকে স্পর্শ করতে সক্ষম। এর কারণ আমরা ব্যাখ্যা করতে পারি রবীন্দ্রনাথের একটি উদ্ধৃতি দিয়ে। তিনি লিখেছেন ‘আমাদের অধিকাংশেরই সুখদুঃখের পরিধি সীমাবদ্ধ; আমাদের জীবনের তরঙ্গক্ষোভ কয়েকজন আত্মীয় বন্ধুবান্ধবের মধ্যেই অবসান হয়।...কিন্তু পৃথিবীতে অল্পসংখ্যক লোকের অভ্যুদয় হয় যাঁহাদের সুখদুঃখ জগতের বৃহৎব্যাপারের সহিত বদ্ধ। রাজ্যের উত্থানপতন, মহাকালের সুদূর কার্যপরম্পরা যে সমুদ্রগর্জনের সহিত উঠিতেছে পড়িতেছে, সেই মহান্ কলসংগীতের সুরে তাঁহাদের ব্যক্তিগত বিরাগ-অনুরাগ বাজিয়া উঠিতে থাকে। তাঁহাদের কাহিনী যখন গীত হইতে থাকে তখন রুদ্রবীণার একটা তারে মূলরাগিণী বাজে এবং বাদকের অবশিষ্ট চার আঙুল পশ্চাতের সরু মোটা সমস্ত তারগুলিতে অবিশ্রাম একটা বিচিত্র গম্ভীর, একটা সুদূরবিস্তৃত ঝংকার জাগ্রত করিয়া রাখে।’

অর্থাৎ শেখ হাসিনার ‘সুখদুঃখ জগতের বৃহৎব্যাপারের সঙ্গে বদ্ধ’। কারণ তিনি বঙ্গবন্ধু-কন্যা। অন্যদিকে বিশ্বকবির ভাবনাসূত্রে বলা যায়, শেখ হাসিনাকে কেবল ব্যক্তিবিশেষ বলে নয়, বরং মহাকালের অঙ্গস্বরূপ দেখতে হলে, দূরে দাঁড়াতে হয়, অতীতের মধ্যে তাঁকে স্থাপন করতে হয়, তিনি যে সুবৃহৎ রাজনৈতিক অঙ্গনে ৪০ বছর প্রধান ব্যক্তিত্ব হিসেবে আছেন সেটা-সুদ্ধ তাঁকে এক করে দেখতে হয়। এদিক থেকে তিনি ‘ইতিহাসস্র্রষ্টা মহান ব্যক্তিত্ব’। খণ্ড ক্ষুদ্র বর্তমান কালে তাঁর কৃতিত্ব মূল্যায়ন করতে হলে আমাদের জাতীয় ইতিহাসের সঙ্গে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক সংগ্রামকে একীভূত করে দেখতে হবে।

২.

২০২২ সালের ১৭ মে করোনা-মহামারি পরবর্তী একটি বিশেষ দিন বলে আমাদের কাছে গণ্য হচ্ছে। কারণ অধিকারবঞ্চিত মানুষের প্রাণপ্রিয় নেতা শেখ হাসিনার ৪১তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ। ১৯৮১ সালের ১৭ মে তিনি ভারত থেকে ফিরে এসেছিলেন প্রিয় জন্মভূমিতে। বাংলাদেশ তারপর থেকে নতুন করে পথ চলা শুরু করে। তাঁর প্রত্যাবর্তনের পর এদেশ পুনরায় ‘জয়বাংলা’র বাংলাদেশ হয়ে উঠেছিল। ৪১ বছর পূর্বের সেই দিনটি এখনকার মতো ছিল না। সেদিন ছিল ভারী বর্ষণ ও ঝড়ো হাওয়ার এক অপরাহ্ণ। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং ৩ নভেম্বর জাতীয় চার নেতার নির্মম হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশকে পাকিস্তানে পরিণত করেছিল। শেখ হাসিনার পদস্পর্শে সেই জল্লাদের দেশ পুনরায় সোনার বাংলা হয়ে ওঠার প্রত্যাশায় মুখরিত হয়েছিল। আজ তার প্রমাণ পাচ্ছি আমরা।

চতুর্থবারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনাভাইরাসের মহামারি মোকাবেলা করে আজ বিশ্বে অভিনন্দিত। সবসময় সংকট মোকাবেলা করা তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এজন্য বিশ্ব নেতৃবৃন্দ শেখ হাসিনার নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। অবশ্য ২০২০ সালের ২২ এপ্রিল আমেরিকার জনপ্রিয় ম্যাগাজিন ‘ফোর্বসে’ প্রকাশিত কানাডিয়ান লেখক অভিভাহ ভিটেনবারগ-কক্স রচিত Ô8 (More) Women Leaders Facing The Coronavirus CrisisÕ শীর্ষক প্রবন্ধে করোনাভাইরাসের মহামারি মোকাবেলায় শেখ হাসিনার প্রশংসা করা হয়। নারী নেতৃত্বাধীন সিঙ্গাপুর, হংকং, জর্জিয়া, নামিবিয়া, নেপাল, বলিভিয়া, ইথিওপিয়া এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রনায়কদের ওপর আলোকপাত করার সময় বলা হয়, শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন ১৬ কোটি ১০ লাখের মতো মানুষের দেশ বাংলাদেশের মহামারির সংকট মোকাবেলায় দ্রুত সাড়া দিয়েছেন, যাকে প্রশংসনীয় বলেছে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম। কলামে বলা হয়েছে, এদেশের পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য তিনি ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন সেগুলো এক অর্থে যুক্তরাজ্যও করতে পারেনি। তবে একথা সত্য, বিশ্ব মিডিয়ায় প্রশংসা পাবার জন্য শেখ হাসিনা কাজ করেন না। তাঁর দিনপঞ্জি জুড়ে আছে মানুষের জন্য কাজে ব্যস্ত সময়ের কর্মকাণ্ড। আর তাঁর এই বর্তমান নেতৃত্ব সম্ভব হয়েছে ১৯৮১ সালের ১৭ মে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ফলে।

তিনি ধনিদের বলেছেন গরিব মানুষের পাশে দাঁড়াতে।আওয়ামী লীগের সভাপতি হওয়ার পর থেকেই তিনি গরিবের পক্ষে কল্যাণকর রাজনীতি শুরু করেন। এজন্য নিজের দলের নেতাকর্মীদের মানুষের পক্ষে কাজ করার নির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি। উল্লেখ্য, ১৯৮৮ সালে কবি নির্মলেন্দু গুণ একটি জাতীয় দৈনিক সংবাদপত্রে কাজ করতেন। তখনকার ভয়াবহ বন্যার সময় তাঁকে সেসময়ের আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা একটা চিঠি লিখেছিলেন। ওই চিঠিতে মানুষের পাশে থাকার রাজনৈতিক অঙ্গীকার স্পষ্টভাবে ব্যক্ত হয়েছে। চিঠিটি নিম্নরূপ

‘‘বন্ধুবরেষু গুণ, আপনার অনুরোধে কিছু ছবি পাঠালাম। তবে আমার একটা অনুরোধ রাখবেন। ‘ত্রাণ বিতরণ করছি’ এ ধরনের কোনো ছবি ছাপাবেন না। মানুষের দুর্দশার ছবি যত পারেন ছাপান। আমার ধারণা এ ধরনের অর্থাৎ ত্রাণ বিতরণের ছবি টেলিভিশন ও খবরের কাগজে দেখে দেখে মানুষ বীতশ্রদ্ধ হয়ে গেছে।

ওরা গরিব, কিন্তু সেটা কি ওদের অপরাধ? একশ্রেণি যদি প্রয়োজনের অতিরিক্ত সম্পদ আহরণ না করত তাহলে এরা কি গরিব হতো? কার ধন কাকে বিলাচ্ছে? যা কিছু আছে সকলে মিলে ভাগ করে ভোগ করলে একের কাছে অপরের হাত পাতার প্রয়োজন হতো না। ওদেরই সম্পদ লুট করে সম্পদশালী হয়ে আবার ওদেরই দুর্দশার সুযোগ নিয়ে সাহায্য দানের নামে হাতে তুলে দিয়ে ছবি ছাপিয়ে ব্যক্তিগত ইমেজ অথবা প্রতিষ্ঠা লাভের প্রয়াস আমি মানসিকভাবে কিছুতেই মেনে নিতে পারি না। আমার বিবেকে বাধে। তবুও অনেক সময় পারিপার্শ্বিক চাপে পড়ে অনেক কিছুই করতে হয়। আমিও করি। বিবেকের টুঁটি চেপে ধরে অনেক সময় সমাজরক্ষার তাগিদে, সঙ্গীদের অনুরোধ বা অপরের মান রক্ষার জন্য এ ধরনের কাজ বা ছবি তুলতে হয় বৈকি। তবে যে যাই দান করুক না কেন, বিলি করুক না কেন, এটা তো ওই গরিব মানুষগুলোর অধিকার, তাদেরই প্রাপ্য। ক্ষমতার দাপটে কেড়ে নেওয়া ওদেরই সম্পদ অথবা ওদের পেটের ক্ষুধা দেখিয়ে দেশ-বিদেশ থেকে ভিক্ষে এনে এদের দান করা। এখানে ‘ক্রেডিট’ নেওয়ার সুযোগ কোথায়? এই ক্রেডিট নিতে যাওয়াটা কি দুর্বলতা নয়? আত্মপ্রবঞ্চনা নয়? কতকাল আর বিবেককে ফাঁকি দিবে? এই গরিব মানুষগুলোর মুখের গ্রাস কেড়ে খেয়ে আবার এদেরই হাতে ভিক্ষে তুলে দিয়ে ছবি ছাপিয়ে ইমেজ তৈরির পদ্ধতি আমি পছন্দ করি না।

আমি মনে করি, যা দান করব তা নীরবে করব, গোপনে করব। কারণ এটা লজ্জার ব্যাপার, গর্ব করার ব্যাপার মোটেই নয়। গর্ব করার মতো কাজ হতো যদি এই সমাজটাকে ভেঙে নতুন সমাজ গড়া যেত। গর্ব করার মতো হতো যদি একখানা কাঙালের হাতও সাহায্যের জন্য বাড়িয়ে না দিত। ফুটপাথে কঙ্কালসার দেহ নিয়ে ভিক্ষের হাত না বাড়াতে সেটাই গর্ব করার মতো হতো। যে স্বপ্ন আমার বাবা দেখেছিলেন, সেদিন কবে আসবে? আমার অনুরোধ আপনার কাছে, সেই ছবি ছাপাবেন না যে ছবি হাত বাড়িয়েছে সাহায্য চেয়ে, আর সেই হাতে কিছু তুলে দিচ্ছি ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে। অনেকেই তুলে থাকেন। আমার বড় অপরাধী মনে হয় নিজেকে। লজ্জা হয় গরিব মানুষদের কাছে মুখ দেখাতে। আমরা সমাজে বাস করি। দুবেলা পেট পুরে খেতে পারি। ভালোভাবে বাঁচতে পারি। কিন্তু ওরা কি পাচ্ছে? ওদের নিয়ে এ ধরনের উপহাস করা কেন? ওরা বরদাশত করবে না, একদিন জেগে উঠবেই সেদিন কেউ রেহাই পাবে না। আমার অনুরোধ আশা করি রাখবেন। শুভেচ্ছান্তে, শেখ হাসিনা, ৯. ১০. ৮৮’’

স্পষ্টত দেখা যাচ্ছে, ১৯৮১ থেকে ১৯৮৮ এই ৭ বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতায় শেখ হাসিনা দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কাছের মানুষে পরিণত হয়েছিলেন। অথচ ১৭ মে তাঁর দেশে ফেরা ছিল অতি সাধারণ, কারণ সেভাবেই তিনি দেশের জনগণের সামনে দাঁড়াতে চেয়েছিলেন। সেদিন তিনি এক বৃহৎ শূন্যতার মাঝে এসে দাঁড়িয়েছিলেন। এদেশে তাঁর ঘর নেই; ঘরের আপনজনও কেউ নেই। তাই সারা দেশের মানুষ তাঁর আপন হয়ে উঠল। তিনি ফিরে আসার আগে ছয় বছর স্বৈর-শাসকরা বোঝাতে চেয়েছিল তারাই জনগণের মুক্তিদাতা। কিন্তু সাধারণ মানুষ ক্ষণে ক্ষণে জেগে উঠছিল, বিচার দাবি করছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের। সেনা শাসকের হাতে ক্ষমতা কুক্ষিগত থাকায় জনগণের শাসনের দাবি নিয়ে রাজনীতির মাঠে রাতদিনের এক অক্লান্ত কর্মী হয়ে উঠেছিলেন শেখ হাসিনা। তিনি নেতা কিন্তু তারও বেশি তিনি কর্মী। কারণ দলকে ঐক্যবদ্ধ করা, বঙ্গবন্ধু ও তাঁর শাসনকাল সম্পর্কে অপপ্রচারের সমুচিত জবাব দেওয়া, পাকিস্তান ও অন্যান্য দেশের ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করা তাঁর প্রাত্যহিক কর্মে পরিণত হলো। দেশে ফেরার প্রতিক্রিয়ায় আবেগসিক্ত বর্ণনা আছে তাঁর নিজের লেখা গ্রন্থগুলোতে। কবি নির্মলেন্দু গুণ বলেছেন, শেখ হাসিনা যখনই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সিঁড়িতে পা রেখেছিলেন তখনই বুঝে নিয়েছিলেন ‘দুর্গম গিরি কান্তার মরু পথ।’ তাঁর ‘পথে পথে গ্রেনেড ছড়ানো’। শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের (১৯৮১ সালের ১৭ মে) আগে ৫ মে বিশ্বখ্যাত নিউজউইক পত্রিকায় বক্স আইটেমে তাঁর সাক্ষাৎকার থেকে জানা যায়, জীবনের ঝুঁকি আছে এটা জেনেও তিনি বাংলাদেশে এসেছিলেন। ১৯৮৩ সালের ২৪ মার্চের সামরিক শাসন জারির দুইদিন পর স্বাধীনতা দিবসে একমাত্র শেখ হাসিনাই সাভার স্মৃতিসৌধে গিয়েছিলেন। বলেছিলেন, ‘আমি সামরিক শাসন মানি না, মানবো না। বাংলাদেশে সংসদীয় ধারার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করবোই করবো।’ তাই তো কবি ত্রিদিব দস্তিদার শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে লিখেছেন, ‘আপনিই তো বাংলাদেশ’।

৩.

প্রকৃতপক্ষে ১৭ মে এদেশের ইতিহাসের মাইলফলক। সেদিন থেকেই দেশের রাজনৈতিক মঞ্চে দ্রুত দৃশ্যপট পরিবর্তন হতে থাকে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে বঙ্গবন্ধু ও জয়বাংলা স্লোগান নিষিদ্ধ ছিল। সেদিন থেকেই সেই স্লোগান প্রকম্পিত হয়ে উঠল আকাশে-বাতাসে; রাজপথ জনগণের দখলে চলে গেল। সেনাশাসক জিয়া এতোদিন শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের বিরুদ্ধে ছিলেন। কিন্তু প্রত্যাবর্তনের পূর্বে সেই বছরই শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন এবং জিয়ার অভিসন্ধি ভেস্তে যায়। সেদিনের ঢাকায় লক্ষ মানুষের বাঁধ ভাঙা স্রোত তাঁকে কেন্দ্র করে সমবেত হয়েছিল। তাদের কণ্ঠে ছিল বিচিত্র ধ্বনি ও প্রতিধ্বনি। শেখ হাসিনার আগমন শুভেচ্ছা স্বাগতম, ‘শেখ হাসিনা তোমায় কথা দিলাম, মুজিব হত্যার বদলা নেব, জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।’ আরো ছিলÑ শেখ হাসিনা আসছে, জিয়ার গদি কাঁপছে, গদি ধরে দিব টান জিয়া হবে খান খান। আবালবৃদ্ধ জনতা আবেগে অশ্রুসিক্ত হয়ে উচ্চারণ করেছিলেনÑ মাগো তোমায় কথা দিলাম, মুজিব হত্যার বদলা নেব।

সেদিনের প্রত্যয় শেখ হাসিনা ও তাঁর সরকারই বাস্তব করে তুলেছেন। জাতির পিতা হত্যাকাণ্ডের কয়েকজন খুনির ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। বাকি পলাতক আসামিদের ফিরিয়ে এনে শীঘ্রই ফাঁসি দেয়া হবে বলে আমরা মনে করি। ১৭ মে সম্পর্কে দৈনিক বাংলায় প্রকাশিত সংবাদ ছিল এরকমÑ ‘ঐদিন কালবোশেখির ঝড়ো হাওয়ার বেগ ছিল ৬৫ মাইল। এবং এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে লাখো মানুষ শেখ হাসিনাকে এক নজর দেখার জন্য রাস্তায় ছিল।’ দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিমানটি ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমান থেকে নেমেই তিনি দেশের মাটিতে চুমু খান। এ সময় বিপুল জনতার বিচিত্র স্লোগান মুখরিত করে তুলেছিল ঢাকার রাজপথ। যেন সূর্যোদয় হয়েছে, নতুন দিনের পথ চলা শুরু হলো। অশ্রুসজল সেই দিনের কথা আছে নানাজনের স্মৃতিচারণে। ঢাকা শহর তখন মিছিলের নগরী। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে বিকাল ৩.৩০ মিনিটের পর বিমানবন্দরের শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ে। শেখ হাসিনাকে বহনকারী বিমানটি মাটি স্পর্শ করার আগেই হাজার হাজার উৎসাহী জনতা সকল নিয়ন্ত্রণের সীমা, নিরাপত্তা বেষ্টনী অতিক্রম করে ফেলে। নিরাপত্তা কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের তৎপরতায় অবশেষে তিনি নেমে আসেন; হাত নেড়ে জনতাকে শুভেচ্ছা জানান। কিন্তু তাঁর অন্তরে ততক্ষণে রক্তক্ষরণ শুরু হয়েছে। বিকাল ৪.৩২ মিনিটে শেখ হাসিনা একটি ট্রাকে ওঠেন। এ সময় বজ্র নিনাদে জনতার স্লোগান চলছিল। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত আব্দুর রাজ্জাক যখন ফুলের মালা পরিয়ে অভিবাদন জানান তখন বাঁধ ভাঙা কান্নার জোয়ার এসে ভাসিয়ে দেয় শেখ হাসিনাকে; কেঁদে ওঠেন তিনি। সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি কেবল পাকিস্তানের কারাগার থেকে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের সঙ্গেই তুলনীয়।

শেখ হাসিনার ফিরে আসা খুব বেশি প্রয়োজন ছিল দেশ ও জনতার স্বার্থে। পূর্বেই উল্লেখ করেছি তাঁর প্রত্যাবর্তনের আগে নৈরাজ্যের যাঁতাকলে পিষ্ঠ হচ্ছিল মানুষ। পাকিস্তানি শাসক, দালাল-রাজাকার ও আন্তর্জাতিকভাবে কয়েকটি দেশের বাধা সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে এবং আপামর জনগণের অংশগ্রহণে ৯ মাসের মুক্তিসংগ্রামে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর গণতন্ত্র-সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা প্রতিষ্ঠা ও রক্ষা করার প্রচেষ্টা সফল হতে দেয় নি খুনিরা। ফলে ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট পরবর্তী সামরিক শাসকদের অভ্যুত্থান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ভূলুণ্ঠিত করে। দেশ অন্ধকারে নিক্ষিপ্ত হয়। দেশের প্রতিকূল এক সময়ে জননেত্রীকে আমরা রাজনীতির মঞ্চে পেলাম। তিনি দায়িত্ব নিলেন এবং লাখো জনতার সমাবেশে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বললেনÑ ‘আজকের জনসভায় লাখো লাখো চেনামুখ আমি দেখছি। শুধু নেই আমার প্রিয় পিতা বঙ্গবন্ধু, মা আর ভাইয়েরা এবং আরো অনেক প্রিয়জন। ভাই রাসেল আর কোন দিন ফিরে আসবে না, আপা বলে ডাকবে না। সব হারিয়ে আজ আপনারাই আমার আপনজন। ...বাংলার মানুষের পাশে থেকে মুক্তি সংগ্রামে অংশ নেয়ার জন্য আমি এসেছি। আমি আওয়ামী লীগের নেত্রী হওয়ার জন্য আসিনি। আপনাদের বোন হিসেবে, মেয়ে হিসেবে, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে আমি আপনাদের পাশে থাকতে চাই।’ গত চার দশক ধরে দেশি-বিদেশী চক্রান্ত ও হাজারো প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে তিনি জনগণের পাশেই আছেন; ভবিষ্যতে থাকবেনও। ১৯৮৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০০৭ সালের সামরিক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমল পর্যন্ত একাধিক বার বন্দি অবস্থায় নিঃসঙ্গ মুহূর্ত কাটাতে হয়েছে তাঁকে।

৪.

১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশ ও জনগণের কাছে প্রত্যাবর্তনের মতো শেখ হাসিনার দ্বিতীয় প্রত্যাবর্তনও ছিল আমাদের জন্য মঙ্গলকর। ২০০৭ সালে ১১ জানুয়ারির পর তাঁর দেশে ফেরার ওপর বিধিনিষেধ জারি করে সামরিক তত্ত্বাবধায়ক সরকার। তাঁকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেওয়ার সেই চক্রান্ত ব্যর্থ হয়। তিনি দেশে প্রত্যাবর্তন করেন। কিন্তু ১৬ জুলাই যৌথবাহিনী তাঁকে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করে ৩৩১ দিন কারাগারে বন্দি করে রাখে। সেসময় গণমানুষ তাঁর অনুপস্থিতি গভীরভাবে উপলব্ধি করেছে। তাঁর সাবজেলের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের উদ্বেগ, গ্রেফতারের সংবাদ শুনে দেশের বিভিন্ন স্থানে চারজনের মৃত্যুবরণ, বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের উৎকণ্ঠা আপামর জনগোষ্ঠীকে স্পর্শ করেছিল। কারণ সে সময় আদালতের চৌকাঠে শেখ হাসিনা ছিলেন সাহসী ও দৃঢ়চেতা; দেশ ও মানুষের জন্য উৎকণ্ঠিত; বঙ্গবন্ধুর কন্যা হিসেবে সত্যকথা উচ্চারণে বড় বেশি সপ্রতিভ। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার সন্ত্রাস, দুর্নীতি, ধর্ষণ ও লুটপাটের মাধ্যমে এদেশকে নরকে পরিণত করেছিল। নেত্রীকে গ্রেনেড, বুলেট, বোমায় শেষ করতে চেয়েছিল। কিন্তু তিনি ছিলেন নির্ভীক; এখনো তেমনটাই আছেন। নতুন প্রজন্মকে যথার্থ ইতিহাসের পথ দেখিয়েছেন তিনি নিজের রাজনৈতিক সততার মধ্য দিয়ে।  

স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর থেকে একাধিকবার শেখ হাসিনার প্রাণনাশের চেষ্টা করা হয়েছে। ১৯৮৩ সালের ১৬ আগস্ট জননেত্রীর ওপর ঢাকায় গ্রেনেড হামলা করা হয়েছিল। ১৯৮৬ সালের ১৬ অক্টোবর তাঁর বাসভবন আক্রান্ত হয়। ১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি- শেখ হাসিনার নেতৃত্বে চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে একটি বিরাট মিছিল নগরীর দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় তাঁর ওপর গুলিবর্ষণ করা হয়। এতে ৪০ জন নিহত হন। ১৯৮৯ সালের ১১ আগস্ট ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাসভবনে থাকাকালে বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের সংগঠন ফ্রিডম পার্টির ক্যাডাররা শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি ছোড়ে। ১৯৯১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদের উপ-নির্বাচনের সময় ধানমন্ডিতে তাঁর ওপর বন্দুকধারীরা রাসেল স্কোয়ারে আক্রমণ চালায়। ১৯৯৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর- ট্রেনে ভ্রমণকালে ঈশ্বরদী ও নাটোরে অজ্ঞাত বন্দুকধারীরা জননেত্রীর ওপর গুলিবর্ষণ করেছিল। এভাবেই দেশ-বিদেশে কখনো গোপনে কখনো বা প্রকাশ্যে চলেছে হত্যার ষড়যন্ত্র। ২০০০ সালের ২০ জুলাই পূর্ব নির্ধারিত জনসভাস্থল কোটালিপাড়া থেকে শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ৭৬ কেজি বিস্ফোরকের বোমা উদ্ধার করা হয়। ২০০৪ সালের ৫ জুলাই তুরস্কে সফরের সময় জননেত্রীকে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছিল। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ছিল ভয়াবহতম দিন। অজস্র গ্রেনেড নিক্ষেপের পরও নেতাকর্মীদের মানবঢালের বেষ্টনীর কারণে প্রাণে বেঁচে যান বঙ্গবন্ধু কন্যা। তবে নিহত হন অনেক আওয়ামী লীগের নিবেদিতপ্রাণ নেতা-কর্মী। এছাড়া অনলাইন, ব্লগ এবং ফেসবুকে জননেত্রীকে কটাক্ষ করে খাটো করার চেষ্টা করা হয়েছে বারবার। হত্যার প্রচেষ্টা ও হুমকির মধ্যেও শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে তাতে শীঘ্রই মহামারি অতিক্রম করে বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবেÑ এটা নিশ্চিত। তাই আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে সকল অশুভ শক্তির মোকাবেলা করতে হবে।

৫.

মূলত ১৯৮১ সানের ১৭ মে’র সেকাল আর ২০২২ সালের একালের মধ্যে অনেক পার্থক্য। কিন্তু সীমাবদ্ধ কালকে অতিক্রম করে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের রাজনীতি-অর্থনীতি ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে রেখেছেন সাফল্যের সুদীর্ঘ স্বাক্ষর। তিনি ২০১০ সালে নিউইয়র্ক টাইমস সাময়িকীর অনলাইন জরিপে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ১০ নারীর মধ্যে ষষ্ঠ স্থানে ছিলেন। এছাড়া ২০১১ সালে বিশ্বের সেরা প্রভাবশালী নারী নেতাদের তালিকায় সপ্তম স্থানে, ফোর্বসের করা ২০১৬ সালে বিশ্বের ক্ষমতাধর নারীদের তালিকায় ৩৬তম স্থানে ছিলেন। ফোর্বসের তালিকায় ২০১৮ সালে ২৬ এবং ২০১৯ সালে ক্ষমতাধর ১০০ নারীর মধ্যে তিনি ছিলেন ২৯তম। ২০১০ সালের ৮ মার্চ বিশ্ব নারী দিবসের শতবর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিশ্বখ্যাত সংবাদ সংস্থা সিএনএন ক্ষমতাধর ৮ এশীয় নারীর তালিকা প্রকাশ করেছিল। সেই তালিকায় ষষ্ঠ অবস্থানে ছিলেন শেখ হাসিনা।

একটানা ১৩ বছর ক্ষমতা থাকাকালীন তাঁর আরো অনেক অর্জন রয়েছে। যেমন, ২০১৪ সালে সমুদ্রসীমা জয়ের জন্য তিনি সাউথ সাউথ পুরস্কার লাভ করেন। ২০১৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ ৭০তম অধিবেশনে পরিবেশবিষয়ক সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘চ্যাম্পিয়নস অব দ্য আর্থ’ লাভ করেনÑ এই তালিকা আরো দীর্ঘ। তিনি ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে অনন্য অবদানের জন্য আইসিটি টেকসই উন্নয়ন পুরস্কার লাভ করেছেন। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু তৈরিসহ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করা, নারীর অধিকার, সুশাসন নিশ্চিতকরণ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে ধারাবাহিকতা রক্ষায় তিনি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সমাদৃত। আর বাংলাদেশের প্রতীক হিসেবে তিনি জনগণের কাছে আজ নন্দিত। তাঁর প্রত্যাবর্তন আজও শেষ হয়নি। এজন্য ১৭ মে ঐতিহাসিক দিবসে ইয়াফেস ওসমান রচিত ‘স্বদেশ প্রত্যাবর্তন : ১৭ মে ১৯৮১’ কবিতাটির একটি অংশ স্মরণ করছি-‘মনে কি পড়ে মনে কি পড়ে/বেদনার তরী বেয়ে একদিন/ছুঁয়ে ছিলে স্বদেশের মাটি।/চারিদিকে নাগিনীর বিষাক্ত নিশ্বাস/পিতার পতাকা হাতে তবু অবিচল,/খরস্রোতা নদী হয়ে অবিরাম বয়ে চলা/মানুষের মুক্তিটা গড়ে দেবে বলে।’


শেখ হাসিনার   স্বদেশ   প্রত্যাবর্তন  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন