ইনসাইড থট

বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশ – অস্ট্রেলিয়ার সম্পর্ক


Thumbnail বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশ – অস্ট্রেলিয়ার সম্পর্ক

প্রায় সতেরো বছর আগের ঘটনা। ড্রয়িংরুমে বসে অস্ট্রেলিয়ান বন্ধুদের সাথে টেলিভিশন দেখছি। আফ্রিকান কোন একটা শহরের ছবিতে কয়েকটা ইটের তৈরি ভবনের ছবি দেখে এক অস্ট্রেলিয়ান বন্ধু আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলো, বাংলাদেশে এরকম ভবন আছে? বন্ধুর প্রশ্নে আমি খুব একটা অবাক হই নি। কারণ তখন অধিকাংশ অস্ট্রেলিয়ানের কাছে বাংলাদেশ মানে ছিল প্রাকৃতিক দুর্যোগ-কবলিত দরিদ্র একটা দেশ।

এখন দিন বদলেছে। সারা বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের ইমেজ বদলে গেছে। বিশেষ করে ২০০৮ সালের নির্বাচনের পরে ক্ষমতায় এসে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে বদলে দিয়েছেন। পৃথিবীর কাছে বাংলাদেশ আজ এক উন্নয়ন বিস্ময়! অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসহ উন্নয়নের সকল সূচকে বাংলাদেশের ঈর্ষণীয় উন্নতি হয়েছে।  বাংলাদেশের ব্যাপারে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে যেমন বাংলাদেশের অভাবিত এই উন্নয়নের রহস্য উন্মোচনে বিশ্ব উন্মুখ, আরেকদিকে বাংলাদেশের সাথে বাণিজ্যিক ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নেও অনেক দেশের আগ্রহ বেড়েছে। এই তালিকায় এখন যোগ হয়েছে অস্ট্রেলিয়ার নাম।

পারস্পরিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কোন্নয়নের সকল সম্ভাবনা থাকা সত্বেও কোন এক অজ্ঞাত কারণে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কটা যেন তার কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় পৌছাতে পারছিল না। এই নিয়ে দুই দেশেরই পারস্পরিক আগ্রহে বোধ হয় ঘাটতি ছিল।  অথচ পশ্চিমা বিশ্বের দেশসমূহের মধ্যে অস্ট্রেলিয়াই স্বাধীন দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি প্রদান করে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সাহসী ভূমিকা রাখার জন্য অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক ওডারল্যান্ডকে বীরপ্রতীক উপাধিতে ভূষিত করা হয়। ওডারল্যান্ডই একমাত্র বিদেশী যিনি মুক্তিযুদ্ধে সাহসী ভূমিকার জন্য বীরপ্রতীক খেতাব উপাধি পেয়েছিলেন।  তবে আশার কথা হলো, গত কয়েকবছরে এই সম্পর্কের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশ সম্পর্কে অস্ট্রেলিয়ান সরকারসহ নীতিনির্ধারকদের ধারণা অনেক বদলে গেছে।  দুইদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে এখন নিয়মিত যোগাযোগ হয়। গত ৩১ অক্টোবরে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো শহরে শুরু হওয়া  জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলন কপ-২৬ এ অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাত করেছিলেন। এই সাক্ষাতটা অস্ট্রেলিয়ার অনরোধের ভিত্তিতেই অনুষ্ঠিত হয়েছিল। আগে যেখানে অস্ট্রেলিয়ার ডিপার্টমেন্ট অব ফরেন অ্যাফেয়ার্স ও ট্রেডের (ডিফাট) বার্ষিক প্রতিবেদনে বাংলাদেশে মানবিক সহায়তা প্রদানের ব্যাপারটাই মূলত উল্লেখ থাকতো, সেখানে ২০২০-২১ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে বাংলাদেশকে অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম ‘কী পার্টনার কান্ট্রি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই একই প্রতিবেদনে শ্রীলংকা, মালদ্বীপ, আফগানিস্তান, নেপাল এবং পাকিস্তান সম্পর্কে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষ থেকে মানবাধিকার ও মানবিক সহায়তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। 

গত কয়েক বছরে বাংলাদেশে বিনিয়োগে অস্ট্রেলিয়ার আগ্রহ বেড়েছে। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে বর্তমানে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতিও হচ্ছে। দ্বিপাক্ষিক এই বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশের সাথে অস্ট্রেলিয়া গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে ‘ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ফ্রেমওয়ার্ক অ্যারেঞ্জমেন্ট (টিফা)’ শীর্ষক একটা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। ভবিষ্যতের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতেও অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশকে শুল্ক ও কোটামুক্ত সুবিধা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রেও দুই দেশের সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য উন্নতি সাধিত হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল সিকিউরিটি কলেজ, অস্ট্রেলিয়ান স্ট্রাটেজিক পলিসি ইন্সটিটিউট, লোয়ি ইন্সটিটিউটের মত বিখ্যাত নীতিনির্ধারণী প্রতিষ্ঠানগুলোও আজকাল বাংলাদেশের সাথে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা খাতে অস্ট্রেলিয়ার সম্পর্ক নিয়ে কথা বলছে। এদের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে নিয়ে সম্প্রতি একাধিক নিবন্ধ লেখা হয়েছে। ঢাকার অস্ট্রেলিয়ান দূতাবাসে ডিফেন্স অ্যাটাশের অফিস খোলার ব্যাপারে অস্ট্রেলিয়ান সরকার বাংলাদেশ সরকারের কাছে অনুমতি চেয়েছে। এর থেকে বোঝা যায়, বাংলাদেশ সম্পর্কে অস্ট্রেলিয়ান নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টিভঙ্গি অনেক বদলেছে। এছাড়াও শিক্ষাখাত, ভিসা সহজীকরণ, বাংলাদেশ থেকে দক্ষ-অদক্ষ শ্রমিক আমদানিসহ বহুমুখী খাতে দুইদেশের কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা চলছে। সিডনি-ঢাকা সরাসরি বিমান যোগাযোগের ব্যাপারেও আমাদের দূতাবাসের পক্ষ থেকে জোর প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।  এসব কিছুই বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কের উন্নতিকেই নির্দেশ করে।

দুই দেশের সামগ্রিক সম্পর্ক উন্নয়নের মূলে রয়েছে দুই দেশেরই সরকারী পর্যায়ে এ ব্যাপারে আগ্রহ। বিশেষ করে ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অস্ট্রেলিয়া সফরের পর থেকে দ্বিপাক্ষিক এ সম্পর্ক বিনির্মাণের প্রচেষ্টাগুলো অধিক গতি পায়। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুল মোমেনও অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েই দুই দেশের সম্পর্কোন্নয়নে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। আর এই সম্পর্কোন্নয়নে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থিত আমাদের দূতাবাসের কর্মকর্তারাও দক্ষতার সাথে তাদের দায়িত্ব পালন করছেন। এক্ষেত্রে প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত কাজি ইমতিয়াজ হোসেন এবং বর্তমান রাষ্ট্রদূত মো. সুফিউর রহমানের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। ক্যানবেরায় সরকারী অফিসে কর্মরত উচ্চ পর্যায়ের অনেক কর্মকর্তার কাছে আমি শুনেছি, আমাদের বর্তমান রাষ্ট্রদূত সুফিউর রহমান অস্ট্রেলিয়ান সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধির কাছে বাংলাদেশের উজ্জ্বল ভাবমূর্তি তুলে ধরার ব্যাপারে এবং স্বার্থরক্ষায় খুবই তৎপর। তার এই কর্মতৎপরতার ফলও আমরা পাচ্ছি। কয়েকদিন আগে কথা প্রসঙ্গে সুফিউর রহমান বলছিলেন, ‘ড. মিল্টন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সার্বিক নির্দেশে ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেনের তত্ত্বাবধানে অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের স্বার্থরক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। ইতোমধ্যে আপনারা তার কিছু ফলও পেয়েছেন। আরো অনেকগুলো বীজ রোপন করেছি, তারও ফল ইনশাআল্লাহ আপনারা দ্রুত পাবেন।’  

রাষ্ট্রদূত সুফিউর রহমানের কথার প্রতিফলন আমরা অস্ট্রেলিয়ায় বসে দেখতে পাচ্ছি।  কেবল অস্ট্রেলিয়া-বাংলাদেশের সম্পর্কই নয়, আমরা বাংলাদেশের দূতাবাসের নিয়মিত কর্মকাণ্ডেও অনেক পরিবর্তন দেখছি। দূতাবাসের সেবামূলক কর্মকাণ্ড আগের চাইতে অনেক বেশী পেশাদারীত্বপূর্ণ ও সন্তোষজনক হয়েছে। তাদের কাজের জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতাও অনেক বেড়েছে। জবাবদিহিতার অংশ হিসাবে ২০১৯ সালের আগস্ট মাস থেকে দূতাবাসের ওয়েবসাইটে আগের মাসের কনসুলার সেবার বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়। সাম্প্রতিক একটা পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, পাঁচ হাজারের বেশী মেশিন রিডাবল পাসপোর্টের আবেদনের ক্ষেত্রে শতকরা ৯৯.৪ ভাগ আবেদনেরই সফল নিষ্পত্তি হয়েছে।  যে বত্রিশটা পাসপোর্ট আবেদন সফল হয় নি, সেটাও বাংলাদেশ সরকারের বিদ্যমান আইনের আবশ্যকতা পূরণ না করার কারণে হয় নি।  অতীতে আমরা দূতাবাসের কন্সুলার কর্মকাণ্ডে কিছুটা অনিয়ম লক্ষ্য করেছি, যা বর্তমান রাষ্ট্রদূত এসে কঠোর হাতে দমন করেছেন। আমাদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা ছিল, ক্যানবেরায় বাংলাদেশ দূতাবাসের একটা নিজস্ব ভবন হবে। আমাদের সেই আশাও আজ পূর্ণ হবার একেবারে দ্বারপ্রান্তে, আশা করি অচিরেই এই ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হবে। সিডনিবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে সম্পত্তি সিডনিতে দূতাবাসের একটা অফিস খোলা হয়েছে।  সিডনির কনসুলেটটার অবস্থান ও কার্যক্রম ইতোমধ্যেই কমিউনিটির প্রশংসা অর্জন করেছে। এছাড়া অস্ট্রেলিয়ার অন্যান্য শহরেও নিয়মিত কন্সুলার ক্যাম্প আয়োজন করা হচ্ছে, যার ফলে বাঙালি কমিউনিটি উপকৃত হচ্ছে।

আজ অস্ট্রেলিয়া দিবস। আর্থর ফি-লিপের নেতৃত্বে ১৭৮৮ সালের ২৬ জানুয়ারি সিডনির জলসীমায় বৃটিশ পতাকাবাহী যে প্রথম নৌবহরটা এসেছিলো, সেটাই অস্ট্রেলিয়ায় বৃটিশ উপনিবেশের সূচনা করেছিল। এই দিনটাকেই বর্তমানে সরকারিভাবে অস্ট্রেলিয়া দিবস উপলক্ষে পালন করা হয়।  যদিও আদিবাসী অস্ট্রেলিয়ানসহ অনেকেই এই দিনটাকে অস্ট্রেলিয়া দিবসের পরিবর্তে ‘ইনভেশন ডে’ বা দখলদারিত্বের দিন হিসেবে মনে করেন।  আপাতত এই বিতর্কে না গিয়েও প্রশান্তপাড়ের দেশ অস্ট্রেলিয়া থেকে সবাইকে এই বিশেষ দিনে আন্তরিক শুভেচ্ছা। বাংলাদেশ – অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কের পাঁচ দশক পূর্তিতে আমরা আশা করবো, আগামীতে বাংলাদেশ এবং অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ ও কূটনৈতিক সম্পর্কের আরো উন্নতি হবে। ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অস্ট্রেলিয়ার সক্রিয় অংশীদার হিসেবেও বাংলাদেশের সম্মান উজ্জ্বলতর হবে। চিয়ার্স মেটস।

বাংলাদেশ   অস্ট্রেলিয়া   প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড থট

শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যা: পিছনের রহস্য এবং আমাদের দায়িত্ব


Thumbnail শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যা: পিছনের রহস্য এবং আমাদের দায়িত্ব

আঁচল ফাউন্ডেশন-এর পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে যে, বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১০১ জন ছাত্র-ছাত্রী আত্মহত্যা করেছে যা বিগত বছরগুলোর তুলনায় আশঙ্কাজনকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। যেখানে একটি দেশের সর্বোচ্চ মেধাবী হিসেবে বিবেচিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের জ্ঞানের আলোয় আগামীদিনের বাংলাদেশকে আলোকিত করবে সেখানে, আজ তারাই আলোহীনভাবে দিশেহারা হয়ে আত্মহত্যা করছে বা আত্মহত্যার ঝুঁকিতে আছে যা সত্যিই ভবিষ্যতের বাংলাদেশের জন্য বড় হুমকি বা উদ্বেগের কারণ। চলুন, প্রথমেই খুঁজে দেখা যাক, ঠিক কি কারণে ছাত্র-ছাত্রীরা আত্মহত্যা করছে বা আত্মহত্যার ঝুঁকিতে আছে।

প্রথমত, যদিও বর্তমানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্বাভাবিক গতিতে চলছে কিন্তু তার পরেও দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার প্রভাব এখনও পুরোপুরি কাটিয়ে উঠা যায়নি, যেমন- সেশন জ্যাম, পড়াশুনায় আগের মত মনোযোগ দিতে না পারা, পরীক্ষায় ফলাফল খারাপ হওয়া ইত্যাদি। এছাড়াও চাকরি নামক যুদ্ধে সুযোগ কমে যাওয়ার ভয়, সরকারি চাকরিতে প্রবেশাধিকারেরে বয়স শেষ হয়ে যাওয়ার পথে, বয়স বেড়ে যাচ্ছে কবে নাগাদ পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে পারবে, অর্থনৈতিক অস্বচ্ছলতা, দীর্ঘদিন চাকরি নামক সোনার হরিণের পিছনে ছুটতে ছুটতে হতাশ হয়ে পড়া, প্রিয় মানুষদের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হওয়ার ভয়, সম্পর্কের টানাপোড়ন, জীবনের প্রায় পুরোটা জুড়ে থাকা সবচেয়ে প্রিয় মানুষটির হঠাৎ করে ছেড়ে চলে যাওয়া, একাকীত্বে ভোগা, সমবয়সীদের থেকে অনেক বেশী পিছিয়ে পড়া বা পড়ে যাওয়ার শঙ্কা, চাকরির ক্ষেত্রে নৈরাজ্য বা দুর্নীতি নিয়ে হতাশা কিংবা ক্রোধ, নিজের বা প্রিয় মানুষদের প্রত্যাশানুযায়ী চাকরি বা স্বপ্ন পূরণ করতে না পারা বা ব্যর্থ হওয়ার ভয় এবং সর্বোপরি ভবিষ্যৎ জীবন নিয়ে অনিশ্চয়তা তাদের মধ্যে একধরনের মানসিক সমস্যা তৈরি করে। আত্মহত্যাপ্রবণ ছাত্র-ছাত্রীদের একটা বড় অংশ আছে যারা দীর্ঘদিন ধরে এইসব কষ্টের বা সমস্যার কথাগুলো কাউকে বিশ্বাস বা ভরসা করে বলতে না পেরে তাদের সচেতন বা অবচেতন মনে একের পর এক জমাতে থাকে যা একসময় তার ধারণক্ষমতার বাইরে চলে যায়। ফলে সে তার নিজের আবেগের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। তখন তার জীবনের সমস্ত আনন্দ-সুখ ব্যর্থতায়-হতাশায় পর্যবসিত হয় এবং নিজ জীবনকে চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার সব পথ তার কাছে বন্ধ বলে মনে হয়। ফলে একসময় যে জীবন ছিল হাসি-আনন্দময়, ছিল অনেক স্বপ্ন-আশা-ভালবাসা, আজ সেই মহামূল্যবান জীবনকে নিজের কাছে অসহ্য বলে মনে হয় এবং সে বাঁচার আশা হারিয়ে ফেলে। আর তাই এই দুর্বিষহ-যন্ত্রণাদায়ক জীবন থেকে নিজেকে সহজে মুক্তি দিতে আত্মহত্যাকেই একমাত্র সহজ সমাধান হিসেবে দেখে। এই আত্মহত্যা প্রতিরোধে মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবী ছাড়াও বন্ধু-বান্ধব, পরিবার, সমাজ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

যেহেতু চাকরির পাওয়ার অনিশ্চয়তা আত্মহত্যার পিছনে একটি বড় কারণ হতে পারে, সে জন্য শিক্ষাব্যবস্থা চাকরির বাজারের চাহিদার সাথে সমন্বয় করে ঢেলে সাজাতে হবে যাতে ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের শিক্ষাজীবনেই চাকরি ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় যোগ্যতাগুলো অর্জন করতে পারে। এছাড়াও ছাত্র-ছাত্রীদের বিভিন্ন ধরনের একাডেমিক কিংবা ব্যক্তিগত যে কোন সমস্যায় শিক্ষকদের সহানুভূতিশীল ও নমনীয়তার সাথে সমস্যাগুলোর গুরুত্ব অনুধাবন করে পাশে থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যা তাদেরকে ভরসা দিবে এবং সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করবে। অন্যদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে দক্ষ মনোবিজ্ঞানী নিয়োগ দেয়া যারা শিক্ষার্থীদের মনের গভীরে জমানো কষ্টের কথাগুলো শুনে তাদের নেতিবাচক ও অযৌক্তিক চিন্তাতে পরিবর্তন আনার মাধ্যমে সামনের দেখতে না পাওয়া পথগুলোকে দেখতে সাহায্য করবে। পাশাপাশি প্রতিকূল পরিবেশে নিজেকে খাপ খাইয়ে চলার প্রয়োজনীয় মনোসামাজিক দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে তাদেরকে আত্মহত্যার পথ থেকে অনেকাংশে ফিরিয়ে আনতে পারে। এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউন্সেলিং সেন্টারের কার্যক্রম এবং শিক্ষকদের মধ্য থেকে যোগ্য ছাত্র-উপদেষ্টা নিয়োগের বিষয়টি আত্মহত্যা প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু মনোবিজ্ঞানীদের কাছে পৌঁছানোর আগে, আত্মহত্যাপ্রবণ ব্যক্তির কাছের মানুষদের বিশেষ করে তার পরিবারের সদস্য, বন্ধু-বান্ধব কিংবা নিকট আত্মীয়-স্বজনদেরকেই প্রথম ভূমিকা পালন করতে হবে যাতে তারা প্রাথমিকভাবে সাহায্য করার কাজটি করতে পারে। যেমন ধরুন, তাদেরকে যথাসম্ভব সময় দিয়ে ধৈর্য ধরে নিরপেক্ষ থেকে তাদের কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনা ও সমাধানের চেষ্টা করা, কাছের মানুষ হিসাবে তাদের প্রত্যেকের উচিত এধরণের সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তিদের নেতিবাচক বা দুর্বলতার বিষয়গুলোকে নিয়ে বার বার খোঁচাখুঁচি বা মজা না করে তাদের মধ্যকার ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরার মাধ্যমে তাদেরকে উৎসাহিত করা। কারণ আপনার কাছে যা মজার বা আনন্দের অন্যের কাছে সেটা ক্ষতির কারণ হতেই পারে। এছাড়াও আত্মহত্যা প্রবণতার লক্ষণগুলো সম্পর্কে প্রত্যেকের সচেতন থাকা যাতে সহজেই তারা আত্মহত্যাপ্রবণ ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে পারে এবং এ ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারে। অন্যদিকে প্রিয় মানুষ হিসেবে তার পাশে থাকার ভরসা দেওয়া যে জীবনে যাই ঘটুক  না কেন আপনি তার পাশে আছেন এবং থাকবেন।

পরিশেষে বলতে চাই, সমাজের একজন হিসেবে আমাদের প্রত্যেকেরই দায়িত্ব নিজ নিজ অবস্থান থেকে সাধ্যমত যতটুকু সম্ভব অন্যের সমস্যা সমাধানে পাশে থাকা, কারণ আপনার সামান্য সাহায্য অন্যের কাছে অনেক বড় প্রাপ্তি হতে পারে যা তাদের অগোছালো জীবনকে কিছুটা হলেও ছন্দে ফিরিয়ে আনতে পারে। আত্মহত্যা কোনো সমাধান নয়, একটি আত্মহত্যা শুধু একজন মানুষকে নয় একটি পুরো পরিবারকে ধ্বংস করে দিতে পারে। আসুন নিজে সচেতন হই অন্যকেও সচেতন করি। ভালো থাকুক আমাদের প্রিয় ছাত্রসমাজ।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড থট

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মৃত্যু ও স্থায়ী পঙ্গুত্ব রোধে প্রয়োজন সামাজিক সচেতনতা

প্রকাশ: ১১:০০ এএম, ২৬ মে, ২০২২


Thumbnail মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মৃত্যু ও স্থায়ী পঙ্গুত্ব রোধে প্রয়োজন সামাজিক সচেতনতা

পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ শুরু করতেই দুঃখের কালোমেঘে রাজু আহমেদ এর সুখী সংসারের চারিদিক অন্ধকার নেমে এলো। একটি ছেলে একটি মেয়ে নিয়ে তার চারজনের ছোট সংসার। আমার পৈতৃক নিবাস জুরাইনে, নিজ বাড়িতে বসবাস করে। রাজু আহমেদ পরিবারের বড় মেয়ে আহসানউল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল বিভাগের ছাত্রী। ছোট ছেলে আরাফাত রহমান, এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী। গত ১ এপ্রিল ঈদ পূর্ববর্তী আনন্দে বন্ধুদের সাথে মোটরসাইকেলে ঘুরতে বেরিয়েছে। সে এক বন্ধুর মোটরসাইকেলে পিছনের সীটে বসা ছিল। পথিমধ্যে ট্রাকের সাথে দুর্ঘটনায় আহত হয়ে সাবেক পঙ্গু হাসপাতাল বর্তমানে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (NITOR) ভর্তি হয়েছে। আমার এলাকার একটি ছেলে গুরুতর আহত, খবর পেয়ে দ্রুত হাসপাতালে ছুটে গেলাম। আরাফাত রহমান একজন ডগবগে যুবক। কি সুন্দর দেখতে!  বিছানায় শুয়ে আছে। পা কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। এক্স-রে রিপোর্ট অনুযায়ী ডান পায়ের লম্বা মোটা হাড়টি (Tibia) ভেঙে গেছে। পায়ের গোড়ালীর ছোট ছোট কয়েকটি হাড় ফেঁটে গেছে। হাঁটু থেকে গোড়ালী পর্যন্ত মাংসপেশিগুলো (Cuff muscles) হাড় থেকে সরে গেছে। প্রাণে বাঁচলেও অবস্থা গুরুতর। পা কেটে ফেলার সম্ভাবনা রয়েছে। বাবা-মায়ের চোখে অন্ধকার। বাবা-মায়ের আকুতি, ‘আমার ছেলের পা‘টা বাঁচান‘। রোগীর ভীড়ে হিমসিম খাচ্ছে চিকিৎসকরা। প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা অপারেশনের রোগীর লাইন লেগেই আছে। জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (NITOR) এর পরিচালক বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রফেসর ডাঃ গনি মোল্লা ও অধ্যাপক ডাঃ মো: ওয়াহিদুর  রহমান  এর স্মরণাপন্ন হলাম। উনাদের হস্তক্ষেপে ডাক্তারদের অক্লান্ত পরিশ্রমে অবশেষে পা বাঁচানো গেল বটে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা চলবে। পায়ের উরু থেকে মাংসসহ চামড়া নিয়ে গ্রাফটিং করা হয়েছে। অনেকগুলো লম্বা লম্বা ষ্টীলের রড দিয়ে পা‘ এর লম্বা হাড় ফিক্স করে রাখা হলেও গোড়ালীর ছোট ছোট হাড়গুলির কি হবে বুঝতে পারছি না। বিছানায় শুয়ে আছে। কবে নিজ পায়ে দাঁড়াবে বা আদৌ স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারবে কিনা, মহান আল্লাহই জানেন। এ ছেলের বা তার পরিবারের কত স্বপ্ন ছিল। একটি ছেলে, একটি মেয়ে নিয়ে ছোট পরিবার, সুখী পরিবার। পরিবারের পরিকল্পনা ঠিকই ছিল। বড় মেয়ে প্রকৌশলী হবে। ছোট ছেলে ডাক্তার হবে বা অন্য কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করবে। একটি দুর্ঘটনা ঐ ছোট পরিবারটির স্বপ্ন ভেঙ্গে চুরমার করে দিল। এমনি অসংখ্য দুর্ঘটনার খবর প্রতিদিন পত্রিকায় প্রকাশিত হচ্ছে। 

৫০ বছর বয়সী সিরাজ। এবারের ঈদযাত্রায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন। কুমিল্লা থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (NITOR) উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছিল। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে পথেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। পুরো পরিবারের ঈদ আনন্দ বিষাদে পরিণত হয়। কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া এলাকার হৃদয় হাসান (২৬) ঈদের পরদিন ১৮ জন বন্ধু মিলে মোটরসাইকেলে করে সিলেটের উদ্দেশে ঘুরতে বের হয়েছিল। দুর্ঘটনায় পড়ে তার ঠাঁই হয়েছে পঙ্গু হাসপাতালে। একটি পা কেটে ফেলতে হয়েছে। সঙ্গে থাকা বন্ধুর অবস্থাও আশঙ্কাজনক।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার ফলে মোটরসাইকেল আরোহীদের হেলমেট ব্যবহার প্রায় শতভাগ নিশ্চিত হলেও মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা বেড়েই চলেছে। পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদসূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী এবার ঈদের ছুটির চার দিনে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় কেবল ঢাকার NITOR এ ই মারা গেছেন ৬০ জন। সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ৮ শতাধিক যার অধিকাংশই বয়সে তরুণ। বেঁচে থাকা অনেকের হাত-পা কেটে ফেলতে হয়েছে। এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে হু হু করে বাড়ছে মোটরসাইকেলের সংখ্যা। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে দুর্ঘটনা। এবার ঈদুল ফিতরে লাখ লাখ মানুষ মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরেন।

তথ্যমতে, ঈদের সময় তিন দিনে ২১ হাজার ৩৬০টি মোটরসাইকেল বঙ্গবন্ধু সেতু পারাপার হয়, যা ১৯৯৮ সালে সেতুটি চালুর পর রেকর্ড। ২ মে থেকে ৭ মে পর্যন্ত ৬ দিনে সড়ক দুর্ঘটনায়  রাজধানীর NITOR-এ ১ হাজার ২৫০ জনের বেশি রোগী ভর্তি হন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভর্তি রোগীদের ৩০ শতাংশই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার। অনেকেরই হাত-পা কেটে ফেলতে হয়েছে। স্বাভাবিক সময়ে হাসপাতালটিতে দৈনিক দেড়’শ জনের মতো রোগী এলেও ঈদের সময় রোগীর সংখ্যা পৌঁছে যায় ২০০ থেকে ২৫০ জনে। ২ মে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে ১৯৭ জন হাসপাতালে আসেন। তাদের মধ্যে সংকটাপন্ন অবস্থায় ৬৫ জনের অস্ত্রোপচার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এদিকে দুর্ঘটনা এড়াতে মোটরসাইকেল চালকদের জন্য নতুন নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। বিআরটিএর তথ্যানুযায়ী, সাড়ে ৩৬ লাখ মোটরসাইকেল নিবন্ধন করা হলেও দেশে নিবন্ধিত চালকের সংখ্যা সাড়ে ২৩ লাখ। অর্থাৎ সরকারী তথ্য অনুযায়ী ১৩ লাখ মোটরসাইকেল চালক রয়েছেন যাদের ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। অন্যদিকে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকসিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এআরআই) গবেষণায় দেখা গেছে, মোটরসাইকেলের কারণে সড়কে দুর্ঘটনার হার ক্রমেই বাড়ছে। বর্তমানে সড়কে যত হতাহতের ঘটনা ঘটছে, এর ৪০ শতাংশই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার কারণে হচ্ছে।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ঈদুল ফিতরের ছুটির আগে-পরের দুই সপ্তাহে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩২৩ জন নিহত হন। নিহতের ৪৩ শতাংশই ছিলেন মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহী। নিহতদের বড় অংশই ছিল কিশোর-তরুণ। গণমাধ্যমে আসা খবরের চেয়ে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে আরও অনেক বেশি। দুর্ঘটনায় পড়ে পঙ্গু হাসপাতাল ও ঢাকা মেডিকেলেই প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৪৫০ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। সারা দেশে এই সংখ্যা ২ হাজারের মতো। এর মধ্যে ৩৫-৪০ ভাগই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার। সব খবর পত্র-পত্রিকায় আসছে না। 

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ২০২১ সালে ২ হাজার ৭৮টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটে যাতে  মারা যান ২ হাজার ২১৪ জন, যা সড়ক দুর্ঘটনায় মোট মৃত্যুর ৩৫ শতাংশ। ২০২০ সালের তুলনায় ২০২১ সালে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ৫০ শতাংশ এবং এ দুর্ঘটনাগুলোতে মৃত্যু ৫১ শতাংশ বেড়ে যায়। এ বিষয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে, মোটরসাইকেল অন্যান্য যানবাহনের চেয়ে ৩০ গুণ ঝুঁকিপূর্ণ। এ কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এর ওপর নানা বিধিনিষেধ দেওয়া হয়।

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আমরা অনেক তরুণকে হারাচ্ছি। যারা বেঁচে থাকছেন, তারা পঙ্গুত্ব বরণ করে নিজের, পরিবারের ও দেশের জন্য বোঝা হয়ে বেঁচে থাকছে। মোটরসাইকেল চালানো এক ধরনের ‘আসক্তি‘র মতো। এর ডিজাইনও করা হয় তরুণদের আকর্ষণ করার উপযোগী করে, যে কারণে যারা মোটরসাইকেল চালায়, তাদের প্রাইভেট কার দিলেও চালাতে চান না।  

প্রতিদিনই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের তালিকা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। প্রতিদিন কোন না কোন পরিবারের স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে যায়। তারপরও আমরা সচেতন হই না। ‘পাঠাও’ নামে অনুমোদিত বাহনের পাশাপাশি অনঅনুমোদিত বাহনের সংখ্যা কত? এর কোন পরিসংখ্যান নাই। ঐসকল বাহনের কতজনের বৈধ লাইসেন্স রয়েছে তারও কোন হিসাব নেই। আর অভিভাবকরাও দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছি কি? আমার ছেলে মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরতে বেরিয়েছে। কোথায় যাচ্ছে? কার বাইকে চড়ছে? চালকের লাইসেন্স রয়েছে কিনা? খোঁজ রাখি কি? 

অফিসিয়াল কাজে আগে ৫০ সিসি বা ৮০সিসি মোটরসাইকেল সরবরাহ করা হতো। কম অশ্বশক্তির ইঞ্জিন চালিত মোটরসাইকেলের গতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ। দুর্ঘটনা ঘটলেও মরনঘাতি হয় না। কিন্তু বর্তমানে ৩০০ সিসি বাইকের অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে। অফিসে যেতে তো ৩০০ সিসির বাইক দরকার নেই। রাস্তায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনারোধে সরকার ও দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানগুলোকেও দায়িত্ব নিতে হবে। দূরপাল্লার ভ্রমণে মোটরসাইকেল ব্যবহার বন্ধ করাই শ্রেয়।

রাস্তায় দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তারা লাইসেন্স ও অন্যান্য কাগজপত্র পরীক্ষণ ও বেপরোয়া চালনা নিয়ন্ত্রণে যথেষ্ট চেষ্টা করলেও দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আসছে না। এ ব্যাপারে আমাদের সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলা প্রয়োজন।

মোটরসাইকেল   দুর্ঘটনা   মৃত্যু   পঙ্গুত্ব   সচেতনতা  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড থট

খন্দকার মোশতাকের প্রেতাত্মাদের এখনই ধ্বংস করে দিতে পারবো


Thumbnail খন্দকার মোশতাকের প্রেতাত্মাদের এখনই ধ্বংস করে দিতে পারবো

আমি ঘুম থেকে উঠে সাধারণত প্রথমেই পত্রিকাগুলো পড়ি। শনিবার বাংলাদেশ প্রতিদিন পড়তে গেলে আমি সরাসরি ৪ নম্বর পৃষ্ঠায় চলে যাই। কারণ বর্তমানে বাংলা ভাষাভাষী কলামিস্টদের মধ্যে সবচেয়ে বুদ্ধিদীপ্ত কলামিস্ট সৈয়দ বোরহান কবীরের লেখা সেখানে ছাপা হয় প্রতি শনিবারে। এই জন্যই আমি তার কলমটা শনিবার প্রথমেই পড়ি। আমি গত শনিবারের (২১ মে) "গ্রিনরুমে এক-এগারোর কুশীলবরা" শিরোনামের কলামটি পড়তে যেয়ে অবাক হয়ে গেলাম। কারণ অনেকেই আক্ষরিক অর্থে পড়েন, কিন্তু ইন বিটুইন লাইনস যে কথাটা বলা হয় সেটা অনেককে লক্ষ্য করেন না। আমি সেটি পড়লাম। অনেকদিন পরে আবার দ্বিতীয়বারও ওই একই আর্টিকেলটি পড়লাম। পড়ে আমার কাছে মনে হলো যে, একটি বিরাট নৌবহরের সাথে একটি ডিঙ্গি নৌকার যেন সংগ্রাম হচ্ছে। এই ডিঙ্গি নৌকাটিতে মাঝি হিসেবে আছেন সৈয়দ বোরহান কবীর। কিন্তু অনেকে বুঝতে পারেনি যে, এই ডিঙ্গি নৌকার মধ্যে টর্পেডো হিসাবে (এটা সিম্বলিক অর্থে বলছি) আছেন দার্শনিক রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা। কেননা রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা এতদিন যে দেশ পরিচালনা করছেন, এটা কিন্তু তার দর্শনের কারণেই এবং তিনি দর্শন দিয়ে ক্ষমতায় যেরকম টিকে আছেন, তেমনিভাবে দেশের মঙ্গলও করে চলেছেন।

এখন তিনি যেহেতু এমন একটি পর্যায়ে এসেছেন যে, এই দার্শনিক শেখ হাসিনাকে নির্বাচনের মাধ্যমে পরাজিত করা সম্ভব নয়। সম্ভব নয় এই কারণে যে, দার্শনিক রাষ্ট্রনায়ক জানেন যে, কোথায় কোথায় কিভাবে তার যে সংগ্রাম, তার যে দেশপ্রেম, তার যে জনগণের ক্ষমতায়ন এরকম একের পর এক সবকিছু করতে হবে, তার জন্য তার একটি রোডম্যাপ আছে। সেই রোড ম্যাপটা যাতে লোকের দৃষ্টি থেকে দৃষ্টিভ্রম হয়, সেই জন্যই খন্দকার মোশতাকের প্রেতাত্মাদের অনেকের নাম সৈয়দ বোরহান কবীর তার লেখায় লিখে দিয়েছেন এবং খুব নির্মোহভাবে লিখেছেন। সামান্যতম কন্সেশন করে লেখেননি। যার জন্য আমি ভাবলাম যে, এই অবস্থাতে অন্ততপক্ষে এই যে ডিঙ্গি নৌকার মাঝি সৈয়দ বোরহান কবীর তিনি যা লিখেছেন তার উপরে একজন পাঠক হিসেবে আমারও কিছু প্রতিক্রিয়া দেওয়া উচিত। এটা সেইভাবে দেখলে বলা চলে যে, এটি একজন পাঠকের প্রতিক্রিয়া। দার্শনিক রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা তার একটি নবীন সহকর্মী গোষ্ঠী গড়ে তুলেছেন। তারা সকলেই সমান শক্তির নয়। হাতের পাঁচটা আঙুল যেমন সমান হয় না, কিন্তু পাঁচটা আঙুল মিলে সবকিছুই ধরা সম্ভব, তারাও এরকম। 

এখানে সব নাম উল্লেখ করতে করা সম্ভব নয়, তাই আমি প্রথমে বলব যে এখানে আছেন জাহাঙ্গীর কবির নানক, এখানে আছেন হাছান মাহমুদ, এখানে আছেন বাহাউদ্দিন নাছিম, এখানে আছেন মির্জা আজম, এখানে জনাব আব্দুর রাজ্জাক এবং আব্দুর রহমান, জুনিয়রদের মধ্যে এস এম কামাল এরকম অনেক নাম উল্লেখ করা চলে। এই টিমের বাইরে দুই-একজন সাইডলাইনে কেন বসে আছে, নাকি বাসিয়ে রাখা হচ্ছে, এই বিষয়ে আমি নিশ্চিত নই। যখন আমি লিখেছি যে, আমি প্রতিহত করবো। আমি বলতে এই যে আমি যে নাম উল্লেখ করলাম এরা সহ এই সমগ্র শক্তি। এখানে সিম্বলিক অর্থে আমি। 

আমি মনে করি যে, নেত্রীর যে কর্মীবাহিনী, সেই কর্মীবাহিনীর ভিতরে অধিকাংশ কর্মীবাহিনীর ভিতরে নেত্রীর বিষয়ে তাদের জীবন দিতে কোনরূপ দ্বিধাদ্বন্দ্ব নাই। এর মধ্যে ২-১ জন খন্দকার মোশতাকের প্রেতাত্মা এদিকে-ওদিকে ঢুকে নাই এইটা আমি হলফ করে বলতে পারি না। এটা সম্ভব। কিন্তু প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভিতরে আবার খন্দকার মোশতাকের মতো লোক নাই। অর্থাৎ শতকরা দেশের ৮০ ভাগ লোক দার্শনিক রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার পক্ষে জীবন দিতেই প্রস্তুত। শুধু সংগ্রাম করতে নয়। আমি আবার পুনরাবৃত্তি করে বলছি, জীবন দিতে প্রস্তুত। আমি এটি নিজে দেখেছি। সুতরাং এইখানে দার্শনিক রাষ্ট্রনায়কের সাথে ওই বজরা নিয়েই আসুক, আর খন্দকার মোশতাকের দলবলরা (যারা পেতাত্মা) তারা নতুন কোনো দোকান খুলে বসুক, কোনো লাভ হবে না। ১৯৭৫ আর ২০২২ এবং ২৩ একসময় নয়। আমি ১৭ মে আমার একটি লেখায় লিখেছিলাম যে দার্শনিক রাষ্ট্রনায়ক কিভাবে তিনি দার্শনিক রাষ্ট্রনায়ক হয়ে উঠলেন।

গত শনিবার (২১ মে) সৈয়দ বোরহান কবীর নাম দিয়ে আরও পরিষ্কার করে লিখেছেন। তবে যে সাহসের সাথে তিনি এই কলমটা লিখেছেন, আমি মনে করি এরকম সাহস নিয়ে নাম নিয়ে লেখার লোক আমার জানামতে কেউ নাই। এটি একমাত্র সৈয়দ বোরহান কবীরের পক্ষেই সম্ভব। তিনি সেই দায়িত্বটাই পালন করেছেন। মনে হচ্ছে যে, নেত্রী এতো মিডিয়া দিলেন, সব মিডিয়াগুলো কি ব্যবসায় চলে গেল? পত্রিকা খুললেই, মিডিয়া খুললে কোথাও তো দেখা যায় না যে, দেশের এতো উন্নতি হচ্ছে, এতো কিছু হচ্ছে। অথচ এরা একপেশে সব লেখা লিখছে। অর্থাৎ জনগণের দৃষ্টিকে আসলে এই দার্শনিক রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার থেকে দূরে নিচ্ছে। আমি এই প্রসঙ্গে উদাহরণের কারণে একটা ঘটনা বলি। যখন ১/১১ হয়, আমার নেত্রীর কাছে যেতে কোনো অ্যাপোয়েন্টমেন্ট কখনোই লাগেনা। তিনি তখন ধানমন্ডি পাঁচ নম্বর থাকেন। আমি গিয়েছি তার বাসায়। তখনই তিনি উপর থেকে নিচে নামবেন। আমাকে দেখে কুশলাদি বিনিময় করে সেখানে উপস্থিত তোফায়েল আহমেদসহ আরও ২ জন নেতাকে বললেন, এই ১/১১ এর যারা, এরা কিন্তু রাজনীতিবিদদের অবশ্যই এইবার শেষ করে দিয়ে এই তথাকথিত বুদ্ধিজীবীর নামে যারা জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় আসতে পারে না, তারা ক্ষমতায় আসার একটি পায়তারা করবে।

তখন আমার মনে আছে, তখন নেতারা বললেন, আরও কিছু দিন দেখে। কারণ এখন জনগণ আমাদের পক্ষে নাও থাকতে পারে। কিন্তু তখন নেত্রী খুব রেগে গেলেন। বললেন যে না আমাদের এখনই লড়তে হবে। এর কয়েক দিন পরে তিনি আমার চেম্বারে আসেন এবং তখন মিডিয়া তার কথা জন্য শোনার জন্য পাগল। আমাকে তিনি বললেন, শুধু চোখ দেখাতে যাবো। কোন মিডিয়া না। আমি বললাম যে, ঠিক আছে। এদিকে আমি সমস্ত মিডিয়াকে বললাম যে, নেত্রী আসবেন, চলে আসুন। তিনি আমার চেম্বার থেকে যখন বের হবেন, তখন তিনি দেখেন তার ফিজিক্যালি নামার উপায় নাই, এতো মিডিয়া। তখন ইতোমধ্যে তার সাধারণ সম্পাদককে এরেস্ট করা হয়েছে। শেখ সেলিমকে এরেস্ট করা হয়েছে। তিনি তখন মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলা শুরু করলেন। তিনি খুব কঠিনভাবে একটা সময়ে এসে আস্তে আস্তে গলার স্বর বাড়াতে শুরু করলেন এবং তার যে মেসেজ সেটাও খুব কঠিনভাবে দেওয়া শুরু করলেন। তিনি বললেন যে, এদের রুখে দিতে হবে। গণতন্ত্র রক্ষা করতে হবে। তার আবার চার-পাঁচ দিন পরে তিনি হাসপাতালে দেখতে গেলেন গায়িকা সাবিনা ইয়াসমিনকে।

তারপর আবার মিডিয়ার জিজ্ঞেস করলো। এইবার আরও কঠিনভাবে তিনি যারা অসাংবিধানিক পথে এসেছে তাদেরকে বললেন এবং তখন সবাই বললো যে এখন দুই-একদিনের মধ্যেই তিনি এরেস্ট হবেন। তার তিন-চার দিন পরেই তাকে এরেস্ট করা হয়। কিন্তু যে সত্যিকারে বাঘের বাচ্চা তাকে কোনোদিন খাঁচায় ভরে রাখা যায় না। দ্বিতীয়ত, যার রক্তের ভিতরে দার্শনিক চিন্তা-ভাবনা আছে, তিনি ঠিকই জানেন কিভাবে কি করতে হবে। তিনি মুক্তও হলেন এবং জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় এসে পর্যন্ত জনগণের ম্যান্ডেটই তিনি আছেন। কিন্তু পিছনের দরজা দিয়ে না। সুতরাং এখন বিরোধীরা ক্ষমতায় আসতে পাগল হয়ে গেছে। আসলে এই মুস্তাকের প্রেতাত্মারা এখন পাগল। এই পাগলরা সংগ্রাম করতে চাচ্ছে বা ক্ষমতা থেকে সরাতে চাচ্ছে একজন দার্শনিক রাষ্ট্রনায়ককে। এটা কোনদিনও সম্ভব না। বিশ্বের ইতিহাস এ কথা বলে না। সুতরাং আমি সৈয়দ বোরহান কবীরকে আবারো ধন্যবাদ দিয়ে বলতে চাই যে, তুমি আমার ছোট ভাই, তুমি আজকে যেই মেসেজটা দিলা জনগণকে, এই মেসেজটা জনগণ পেয়ে গেল এবং সবাই সজাগ হয়ে গেল এবং এর ফলে রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার হাত আরও শক্তিশালী হলো।


খন্দকার মোশতাকের   প্রেতাত্মাদের   ধ্বংস   করে   দিতে   পারবো  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড থট

ক্যান্সার চিকিৎসার সুযোগ ও অসংক্রামক রোগের ব্যয় বহনের সামর্থ্য


Thumbnail

১৯ মে বাংলা ট্রিবিউন পত্রিকায় আমাদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মহোদয়কে উদ্ধৃত করে ছাপা হয়েছে- “প্রতি বছর দেশে মোট মৃত্যুর ৭০ শতাংশই হয় অসংক্রামক রোগের কারণে। বৃহস্পতিবার (১৯ মে) বিকালে রাজধানীর বনানীতে হোটেল শেরাটনে আয়োজিত এক সায়েন্টিফিক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জাহিদ মালেক বলেন, দেশে প্রতিবছর ১০ লাখ মানুষ স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করেন। তার মধ্যে ৭০ শতাংশই মারা যায় বিভিন্ন ধরনের অসংক্রামক রোগে। অসংক্রামক রোগে প্রতিদিন ১ হাজার ৯০০ মানুষ মারা যান। ভালো চিকিৎসা সেবা দিতে গেলে গবেষণা দরকার। আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় সংক্রামক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণে আছে, তবে অসংক্রামক রোগ বেড়ে গেছে”।

আমার ক্যান্সার প্রকল্পের গুরু প্রফেসর রিচার্ড লাভ যিনি দুনিয়ার খ্যাতিমান ক্যান্সার চিকিৎসকদের অন্যতম একজন, বাংলাদেশে আমার সাথে তার কাজের রেশ টেনে ধরে প্রায়ই বলেন এই দেশে ক্যান্সার রোগ নির্ণয়ের ও চিকিৎসার অন্যতম বাধা হলো “চিকিৎসার সুযোগ, ব্যয় বহনের সামর্থ্য ও মানের ঘাটতি”। ২০০৭ সালে আমি যখন তার সাথে ক্যান্সার নিয়ে কাজ শুরু করি তখন মানুষের জন্যে ‘চিকিৎসার সুযোগ’ সৃষ্টিকেই আমরা গুরুত্ব দেই, ফলে গ্রামে কেমন করে সেই সুযোগ তৈরি করা সম্ভব সেরকম চ্যালেঞ্জ হাতে নিয়ে আমাদের দুইজনের পথ চলা। রিচার্ড লাভ তখন যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইয়ো স্টেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষক। চিকিৎসা বৈষম্যের বিরুদ্ধে নামকরা এক প্রতিবাদী গবেষক, আর আমি মাইক্রোসফটের সহায়তায় বাংলাদেশের গ্রামে গ্রামে তরুণদের তথ্য-প্রযুক্তি শিক্ষা সম্প্রসারণ নিয়ে কাজ করি। আমার উদ্দেশ্যও একই, প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে কেমন করে তথ্য-প্রযুক্তির সেবা-সুযোগ তৈরি করা যায়। রিচার্ড লাভ আমাকে বললেন, ওই মানুষগুলোর জন্যে ক্যান্সার চিকিৎসার সুযোগ তৈরিতে, যা তখন নেই বললেই চলে, যদি কাজ কর তাহলে তোমার “মিশন কমপ্লিট” হবে। আমরা তথ্য-প্রযুক্তির সাথে মিলিয়ে ক্যান্সার নির্ণয় ও সুলভে মান সম্পন্ন চিকিৎসার একটি ব্রত নিয়ে বাগেরহাটের রামপালে কাজ শুরু করলাম। ২০০৭ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত এই দশ বছরে প্রফেসর রিচার্ড লাভ অন্তত অর্ধেক সময় বাংলাদেশে আসা যাওয়া করেছেন এই কাজে আর আমাদের দেশের এমন কোন পর্যায় নেই যেখানে যেয়ে তিনি বাংলাদেশের ক্যান্সার চিকিৎসার মান বাড়াতে তদবির করেননি। গবেষণা, প্রশিক্ষণ আর চিকিৎসা সেবা সহায়তায় বাংলাদেশের অগণিত ডাক্তারকে পরামর্শ দিয়েছেন ও তার বিশেষজ্ঞ বন্ধুদের এ দেশে ডেকে এনে আমাদের চিকিৎসকদের হাতে কলমে কাজ শিখিয়েছেন। আমার ধারণা বাংলাদেশের ক্যান্সার চিকিৎসার সাথে যুক্ত প্রায় সকলেই প্রফেসর রিচার্ড লাভের নাম জানেন ও সাক্ষাৎ পেয়েছেন। এমনকি আমার মতো অচিকিৎসক মানবিকের ছাত্রকেও তিনি অবিরাম প্রশিক্ষণ দিয়ে ও কাজ করিয়ে ক্যান্সার গবেষক বানিয়ে ছেড়েছেন! পৃথিবীর নামকরা বেশ কিছু জার্নালে আমার এখন ১৯টি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে তার অনুপ্রেরণা থেকেই। 

২০১৪ সাল থেকে বাংলাদেশ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের আগ্রহে ও অনুপ্রেরণায় আমার কর্মস্থল রামপালে আমরা একটি ক্যান্সার চিকিৎসা ও গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনের কাজে হাত দেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী থেকে স্থানীয় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পর্যন্ত এমন কোন মানুষ নেই যারা আমাদের এই কাজে সহযোগিতা করেননি। তাতেই আমাদের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাতে লেগেছে ছ’বছর! এই ২০২১ সালের শেষের দিকে এর নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। ওদিকে কাজের কাজ যা হয়েছে রিচার্ড লাভ অভিমান করে এখন আর এই দেশে আসতে চাইছেন না। কারণ এই দীর্ঘসূত্রিতার জন্যে কে দায়ী সেটা তিনি আমাকে নির্ধারণ করে জানাতে বলেছেন, আমি তা খুঁজে পাচ্ছিনা। পেলেই তিনি আসতে শুরু করবেন এই কথা আমাকে বলেছেন।

এই প্রসঙ্গের অবতারণা এই কারণেই যে, আমাদের স্বাস্থ্য পরিষেবার অন্তর্গত সমস্যা আমাদের ভালো করে বুঝা দরকার। গত এক যুগ ধরে গ্রামাঞ্চলে ক্যান্সার চিকিৎসার সুযোগ তৈরি ও মানসম্পন্ন চিকিৎসা সেবা দিয়েছি আমরা প্রায় বাইশ হাজার মানুষকে। আমাদের গ্রাম প্রকল্পের কর্মীদের কাছে সেবা নিতে আসা প্রতিটি মানুষের সকল প্রকার প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত (নাম ঠিকানা থেকে শুরু করে সমস্যা, নিরীক্ষার বিবরণ, ধাপ অনুযায়ী চিকিৎসা সেবার সকল তথ্য) তথ্য-প্রযুক্তির মাধ্যমে সংরক্ষণ করা আছে। আর সেসব তথ্য কোন কম্পিউটারে নয় ক্লাউড সার্ভারে যাতে সহজে মুছে না যায়। আমাদের কর্মীদের কাছে আছে ইন্টারনেট সমেত মোবাইল ফোন, যার মাধ্যমে নির্ধারিত অ্যাপের মাধ্যমে সে প্রতিদিন গ্রামের মানুষের স্বাস্থ্য তথ্য সংগ্রহ করে হালনাগাদ করে যার মধ্যে আছে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিরীক্ষা ও সেসবের তথ্য। আর এসব তথ্য দেশ বিদেশের যে কোন চিকিৎসক যে কোন সময় পর্যবেক্ষণ করে ‘চিকিৎসা গাইডলাইন’ অনুসারে মানসম্পন্ন চিকিৎসা সেবা পরামর্শ অনলাইনেই দিতে পারেন।

এই দেশে তথ্য-প্রযুক্তিকে উপযুক্ত নিয়মে ব্যবহার করে স্বাস্থ্য সেবা বিশেষ করে দুর্বিনীত রোগ প্রতিরোধে যেমন ক্যান্সার, কিডনি জটিলতা, মস্তিষ্কের ও হৃদযন্ত্রের অসুখ বা যে কোন অসংক্রামক রোগের বিষয়ে আমরা কোন মনোযোগই দেইনি। আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যানসার (আইএআরসি)-র অনুমিত হিসাবসূত্রে, প্রতি বছর বাংলাদেশে নতুন করে এক লাখ ৫০ হাজার মানুষ ক্যানসারে আক্রান্ত হন। আর মারা যান এক লাখ আট হাজার মানুষ। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় এই হিসাবটা আমাদের নিজেদের কাছে নেই! আমরা যদি আমাদের সবগুলো চিকিৎসা কেন্দ্রে তথ্য-প্রযুক্তির ঠিকমতো ব্যবহার করতাম তা হলে সব রোগের তথ্যই আমাদের কাছে থাকতো। যে কারণে কোন পরিকল্পনা নিয়ে এগুলে একটা দীর্ঘসূত্রিতার বাধা এসে আমাদের সামনে দাঁড়ায়, কারণ বিষয়টা বুঝতে হলে সামগ্রিক যেসব তথ্য আমাদের নীতিমহলে থাকা দরকার ছিল তা তাঁদের কাছে নেই।

ডা লাভের উদ্বেগ অনুযায়ী মানসম্পন্ন চিকিৎসার কথাও যদি বলি তাহলেও এসে যাবে খরচের হিসাব। অকারণ পরীক্ষা ক্যান্সার নির্ণয়ের প্রধান বাধা। কারণ এতো খরচ আমাদের দেশের মানুষের সাধ্যের মধ্যে নেই। কিন্তু আমাদের জ্ঞানেও নেই এতো বাহুল্য পরীক্ষা কেমন করে আমরা বাদ দেবো, এর জন্যে দরকার গবেষণা ও পড়াশুনা যা আমাদের চিকিৎসক সমাজের সবচেয়ে বড়ো দুর্বলতা। আমরা দেখেছি অভিযোগের একটি নির্ধারিত সূত্র ধরে এগুলে ঠিক ঠিক রোগটি ধরে ফেলা যায় যা সামান্য ইমেজ পরীক্ষা বা টিস্যু পরীক্ষার মাধ্যমেও সম্ভব। সন্দেহজনক না হলে কেন আমরা একটি মানুষের শরীর, মন আর আর্থিক সামর্থ্য নিয়ে এমন খেলায় নামি তার কোন কারণ আমরা বুঝে উঠতে পারিনা।

এখানে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ত্রুটিকে যারা গালমন্দ করেন তাদেরও ভুল আছে। ত্রুটি আমাদের সামগ্রিক সচেতনতার অভাব। আমাদের অজ্ঞতাকে যারা পুঁজি করে রোজগার করেন তাদের বিরুদ্ধে নীতিতে ব্যবস্থা নেই, আর নেই জনগণের মধ্যে প্রতিরোধের সাহস। এটা সম্ভব হতো যদি সরকার জনগণের পাশে আছে এটা জনগণ বুঝতে পারতো।

সবিনয়ে পাঠকবর্গকে জানাই, ক্যান্সার মোটেই ভয়ের কোন অসুখ নয়। এটা সঠিক নির্ণীত হলে আপনি সম্পূর্ণ নিশ্চিত। আর যাই-ই হোক হৃদরোগ আর মস্তিষ্কের স্ট্রোকের চেয়ে তো ভালো। যারা আমাকে-আপনাকে ক্যান্সার নিয়ে ভয় দেখায় তাদের অকারণ পরীক্ষার চেষ্টা থেকে বিরত থাকতে সরকার যেন একটা নির্দেশনা দেয় তার জন্যে সবাই মিলে কথা বলুন।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড থট

ফেইলর ইজ দ্য পিলার অব সাকসেস?


Thumbnail ফেইলর ইজ দ্য পিলার অব সাকসেস?

এই কথাটি আমরা অনেক দিন অনেকভাবে শুনেছি যে, লোকে বলে 'ফেইলর ইজ দ্য পিলার অব সাকসেস'। এর সাথে আর একটা কথা বহুত প্রচলিত। সেটি হচ্ছে যে, 'একটি সফলতা আরেকটি সফলতাকে আনতে সাহায্য করে'। সুতরাং এক জায়গায় সফল হলে সে আরো সফল হয়। কিন্তু প্রথমে অসফল হলে সেটা যে একটা পিলার হয়, আরেকটা সফলতার জন্য এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা। কারণ হচ্ছে, তাই যদি হতো তাহলে যারা একাধারে ফেল করে যায়, এদের এতো পিলার জমা হতো যে, ওই পিলারের মধ্যে দিয়েই তো আর সফলতার দিকে যাওয়া যেতো না। অসফল হওয়ার একটি মাত্র জিনিস সেটি হচ্ছে যে, কেউ অসফল হলে তার চিন্তা করতে হবে, তিনি কেন অসফল হয়েছেন। যেমন পরীক্ষার কথাই বলি। পরীক্ষায় যদি মনে করা হয় যে, পরীক্ষক ফেল করিয়েছেন, তাহলে আর তার পক্ষে পাস করা সম্ভব না। কারণ তিনি তার পরীক্ষককে পড়াবেন না। সুতরাং ফেল যে করে সে নিজেই করে। 

আমার এই কথাগুলি মনে হলো সম্প্রতিকালে দুইদিকের বক্তব্য শুনে। একটি হচ্ছে দার্শনিক রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার বিভিন্ন বক্তব্য। যেখানে তিনি অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন। তিনি বলেন যে, পত্রিকা বা মিডিয়া কোথায় কি বললো, সেটা দেখে আপনারা ঘাবরাবেন না। আপনারা কাজটা সঠিকভাবে করছেন কিনা সেটা দেখবেন। অর্থাৎ তিনি এখানে গুরুত্ব দিচ্ছেন সফলতার দিকে। যেমন আমি নিজের উদাহরণই দিতে পারি। যদিও নিজের উদাহরণ দেওয়া ঠিক না তবুও বলি, কমিউনিটি ক্লিনিক ভালোভাবে চলছে। কিছু কিছু জায়গায় ঠিকমতো চলছে না, সেগুলো পত্রিকা বলে এবং বলার পরে আমি সেগুলো ঠিক করার চেষ্টা করি। অর্থাৎ এটা সফলতার দিকে যাচ্ছে। কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বপ্নদ্রষ্টা বঙ্গবন্ধুর কাছ থেকে পেয়েছেন তার কন্যা দার্শনিক রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা এবং এই কমিউনিটি ক্লিনিকের ভিতরে বিভিন্ন দর্শন তিনি দিয়েছেন। এই দর্শনগুলিকে নিয়ে আমরা এনালাইসিস করেছি এবং আমার এই অ্যানালাইসিসের শিক্ষক হচ্ছেন বর্তমান বাংলাদেশের সবচেয়ে, আমি বলবো যে সত্যিকারে লেখাপড়া করে সব কাজ করেন, শিক্ষিত কলামিস্ট সৈয়দ বোরহান কবীর। তার সঙ্গে বসে আমি দেখেছি যে, কমিউনিটি ক্লিনিকটা শুধুমাত্র যে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা ব্যবস্থার জন্য তাই নয়, প্রান্তিক জনগোষ্ঠির সাথে যোগাযোগ বৃদ্ধি করে।

একইভাবে স্কুলে মেয়েরা ঠিকমতো যায়। কারণ তাদের একটা ভবিষ্যৎ আছে। পাশ করলে তারা কমিউনিটি ক্লিনিকে কাজ করতে পারবে। তারপরে কমিউনিটি ক্লিনিকের কাজ করলে তাকে বাল্যবিবাহ দিতে পারে না। তারপরে যদি কমিউনিটি ক্লিনিকের সে কাজ করে তার একটা সম্মান হয়। তার বেতনটা তার স্বামী যদি খারাপ ধরনেরও হয়, সে জোর করে নিতে পারে না। একটা সামান্য উদাহরণ দিলাম। এরকম যদি অন্যান্য ক্ষেত্রে দেখা যায় যেমন, প্রধানমন্ত্রী বললেন যে, খাবারের দিকে আমাদের নজর দিতে হবে দুইটাভাবে। একটি হলো আমরা খাবার অপচয় করবো না। আরেকটি হচ্ছে যাতে আমাদের খাদ্যশস্য কোনরকম ঘাটতি না পড়ে সেদিকে লক্ষ্য রাখা। এটা হচ্ছে দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি। এই যে বিদেশে যাওয়া বন্ধ করলেন। এটা হচ্ছে পার্ট অফ দা মেজার। তার দর্শনের একটি অংশবিশেষ। মূল দর্শন কি? মূল দর্শন হচ্ছে একটি। সেটি হচ্ছে দেশপ্রেম। তিনি বাংলাদেশের প্রত্যেকটা মানুষকে ভালোবাসেন। 

আমি একটি উদাহরণ দেই। আমি তার সাথে একবার কক্সবাজার গিয়েছিলাম। কক্সবাজারের সব নেতাদের বক্তৃতা হয়ে গিয়েছে। তখন নেত্রী স্টেজে আসলেন। আমাকে কিছু বলার জন্য বললেন। ওই সময়ে সমস্ত কক্সবাজারে একটি মাত্র ছিট ছিলো আওয়ামী লীগের। আর সব বিএনপি'র। আমি বললাম যে, আপনাদের তো নেত্রী দেখে আপনাদের রেললাইনের ওপেনিং করছে, এখানে একটা এয়ারপোর্টের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করছেন। একের পর এক স্থাপনা করে যাচ্ছেন। আমি হলে এর কিছুই করতাম না। নেত্রী যখন আমার পরে বক্তৃতা দিলেন, অবাক ব্যাপার তিনি সাধারণত নেতাকর্মীদের বক্তব্যের বিষয়ে সেখানে কোনো উত্তর দেন না। তিনি তার দর্শন অনুযায়ী বক্তব্য দেন। ওইখানে তিনি একটু একসেপশন করলেন। সেটা ওনার দর্শনের অংশ। তিনি বললেন, আমি হচ্ছি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। আমাকে কে ভোট দিয়েছে, কে দেয়নি, আমার প্রতিনিধিকে নির্বাচিত করেছে কি নির্বাচিত করেনি, সেটি দেখার দায়িত্ব আমার না। আমার দায়িত্ব হচ্ছে বাংলাদেশের জনগণ এবং সেই জনগণের ভেতরে এই কক্সবাজারের জনগণও পরে। 

প্রান্তিক জনগোষ্ঠী যেরকম পড়ে, যারা আজকে কোনো কিছু করতে পারে না তারাও পরে, আর যারা আঘাত টাকার মালিক তারাও আমার জনগণ। সুতরাং আমি যেটা করেছি, এটা আমার ভোট পাওয়ার সাথে কোনো সম্পর্ক নাই। এটি একটি পজিটিভ দিক। আর অন্যদিকে কি শুনি? বলে সাত দিনের ভিতরে আমরা সরকার ফেলে দিতে পারবো। যারা কোনো কিছুতেই পাস করতে পারে না, তারা একজন দার্শনিক রাষ্ট্রনায়ককে ফেলে দিবে এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়, ফেলে দেওয়া তো দূরের কথা, আন্দোলনই তো করতে পারে না। তবে একটি ব্যাপার কিন্তু ঘটছে। সেটা হচ্ছে এই যে, অনেকে মনে করে যে আসলে ষড়যন্ত্র হচ্ছে এতে সামান্য সন্দেহ নাই। আমরা এই ষড়যন্ত্র সঠিকভাবে অনেক সময় বুঝতে পারি না। ১৫ অগস্ট যে ধরনের ষড়যন্ত্র করেছিল, এখন পৃথিবী পরিবর্তিত হয়ে গেছে। এখন সে ধরনের ষড়যন্ত্র হয় ন। একটি ষড়যন্ত্রের উদাহরণ দেই। সেটি হচ্ছে এই যে, সূক্ষ্মভাবে ষড়যন্ত্র চলে, আর মোটাদাগেরও চলে। মোটাদাগের ষড়যন্ত্র কি? একজন বিজ্ঞ যারা দেশ পরিচালনায় অপরিহার্য, বিদেশের কাছে তার ভাবমূর্তি নষ্ট করে দিলো। তাতে দুটো জিনিস হয়, সেই লোকটার কাজ করার আগ্রহ কমে যায় বা তারপরে যে আসবে সে ভয়ে অনেক কাজ ঠিকমতো করতে পারবে না। না হলে বাংলাদেশে এখন পৃথিবীর একটা এক্সাম্পল যেখানে কোনো রকম খুনোখুনি নাই, কোনো রকম জঙ্গি হামলা নাই। সমস্ত কিছু কিন্তু তিনি কন্ট্রোল করেছেন। এটা যাদের সহ্য হচ্ছে না, তারা আঘাত করছে। যারা এগুলো ঠিক করেছে তারা এখন তাদের ব্যাকবোন ভেঙে দিতে চায়। যাতে দেশে আবার একটি জঙ্গি পরিবেশ তৈরি করা যায়। 

তখন দেখা যাবে এই সন্ত্রাসীদের জন্যেই এখানে বাইরের শক্তি আসবে। তারা বিভিন্ন ইনফ্লুয়েন্স করবে। তাদের অস্ত্রপাতি বিক্রি হবে। সেটা একটা মোটাদাগের ষড়যন্ত্র। আর সূক্ষ্ম ষড়যন্ত্র কি? বিভিন্ন মিডিয়া খুললে দেখা যাবে, খুব কায়দা করে লিখতে চায়। তারা লিখে যে, সবই ঠিক আছে, ২০২৬ সালেই প্রবলেম হবে। উদ্দেশ্য হচ্ছে মানসিকভাবে জনগণকে দুর্বল করে দেওয়া। এই জন্যই তো তিনি দার্শনিক, রাষ্ট্রনায়কই শুধু নয়। ২০২৬ সালে তো দূরের কথা, তিনি তিনটি ভাগেই ভাগ করেন। বর্তমান পরিস্থিতি কিভাবে এর উত্তরণ করতে হবে। সেটাও তিনি ঠিকভাবে করছেন। ছয় মাস পরে কি হবে সেটাও তিনি করছেন। এর দার্শনিক ভিত্তি কি? দার্শনিক ভিত্তি তো শেখ হাসিনা। তার চিন্তা ধারায় যে কত টাইপের লোকদের দিয়ে যে তিনি কাজ আদায় করেন, চিন্তার বাইরে। অনেক লেখা দেখলে এখন বুঝবেন যে, যারা অনেক সুযোগ সুবিধা নিয়েছে তারা আজকাল জ্ঞানী জ্ঞানী লেখা লেখেন। তারা গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিল কিন্তু যেই মুহুর্তে থেকে নরমাল এক্সটেনশনের পর পদত্যাগ করার পরে তারা যখন বিজ্ঞ হয়ে গেলেন, তখন কিন্তু তারা বিজ্ঞ হওয়ার জন্য পার্টিকুলার পত্রিকাতেই লেখেন এবং সেখানে ঘুরেফিরে সরকারের বিপক্ষেই লেখেন।

অর্থাৎ এটা সূক্ষ্মভাবে চলছে। গ্রসলি বলতেছে যে, এই জায়গায় খুন হয়েছে, সেই নিউজটি হয়তো শেষ পেজে গেলে হতো, কিন্তু সেটা প্রথম পেজে আনা হচ্ছে। আরেক ধরনের ষড়যন্ত্র, পোস্ট এডিটরিয়ালে ২০২৬ সালে কি হবে সেটা এক ধরনের ষড়যন্ত্র। যে দার্শনিক এতো বড় করোনার থেকে দেশকে রক্ষা করতে পারলেন জীবন এবং জীবিকা দুটোই। আমরা ঠিকানাবিহীন ছিলাম। জাতির পিতা আমাদেরকে দেশের ঠিকানা দিলেন, তারপর পৃথিবীর মানচিত্র তখনও আমরা ঠিকানাবিহীন। তিনি সেখানে মধ্যম আয়ের দেশে এনে আমাদের ঠিকানা দিলেন। সেই দার্শনিক কি এই সূক্ষ্ম লেখা কি বুঝতে পারেন না এটা হতে পারে? অর্থাৎ এখানে তার কোনো ফেইলর নেই। এখানে ফেইলর ইজ দ্য পিলার অব সাকসেস এটা মিথ্যা। এটা সাকসেস ব্রিংস এনাদার সাকসেস। একটি সফলতার আরেকটি সফলতা আনবে এটাই তিনি প্রমাণ করেছেন। আর যারা বড় বড় কথা বলছেন, ৭ দিনে ফেলে দিবেন, একটা ফর্মুলা এরা কিন্তু এক জায়গায় বসে সব ঠিক করে। তারপরে ঠিক করে, কে কোনটা বলবে। সাধারন পাবলিক যাতে কনফিউজড হয়। সে ভাববে যে যে আর্টিকেল লেখা হয়েছে, সেটা তারা নিজের থেকে লিখেছে। অনেকে ভাববে যে, এনালাইসিস যেটা করছো সেটা নিজে থেকে করছে।

এটা কোনোটা আলাদা না। কারণ দেশটা এখন দুই ভাগে ভাগ হয়ে গেছে। একটি হচ্ছে যে, দেশপ্রেমিক দার্শনিক রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা এবং বিপক্ষ শক্তি সকলে এক। তার সাথে যারা আছেন তাদের ভেতরও সব লোক তাকে যে সমানভাবে সমর্থন করছেন বা তাদের কাজে এগিয়ে নিচ্ছেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি না। এর ভিতরও কিছু ভেজাল আছে। কিন্তু দার্শনিক রাষ্ট্রনায়কের কাছে এবং তার দেশপ্রেমের কাছে এরা কেউ টিকবে না। কখন কোথায় কাকে রাখতে হবে, কখন কাকে দূরে সরিয়ে নিতে হবে সেটা তিনি ভালোভাবেই জানেন এবং এটা করতে পারবেন। সুতরাং আমি মনে করি যে, দার্শনিক রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার একটি বিজয় আরেকটি বিজয়ের পথ শুধুমাত্র শুরু করে। একটি বিজয় আরেকটি বিজয়কে ত্বরান্বিত করে। সুতরাং তার প্রতিটি স্তরে বিজয় সুনিশ্চিত। আর যারা বলেন যে, ফেইলর ইজ দ্য পিলার অব সাকসেস তারা শুধু পিলারই তৈরি করবেন এবং সেই জন্যই যখন বলা হয় যে, বার বার দরকার শেখ হাসিনার সরকার, এটাই হচ্ছে বাস্তবতা এবং দার্শনিক রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা সেই পথেই যাচ্ছেন এবং ওই তথাকথিত ষড়যন্ত্র যত রকম ভাবেই করা হোক না কেন, এর আমি সফলতার কোনো সম্ভাবনা দেখি না। 

ফেইলর ইজ দ্য পিলার অব সাকসেস   প্রান্তিক জনগোষ্ঠী   কমিউনিটি ক্লিনিক   দার্শনিক রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন