ইনসাইড থট

বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিচারণ ও বর্তমান সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ

প্রকাশ: ১০:০০ এএম, ২৭ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিচারণ ও বর্তমান সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ

স্বাধীনতার রজতজয়ন্তীতে মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকথা আগামী প্রজন্মকে মুক্তিযোদ্ধাদের মুখে সরাসরি শোনানোর জন্য ‘শ্যামপুর-কদমতলী সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার ক্লাব’ ১৪ জানুয়ারি, ২০২২ শ্যামপুর মডেল স্কুল এন্ড কলেজের সভাকক্ষে মুক্তিযোদ্ধাদের ‘স্মৃতিচারণ’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল। মোট ৫৪জন বীর মুক্তিযোদ্ধা সরাসরি স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছিলেন। এছাড়াও মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে আরও কয়েকজন আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। তনমধ্যে দুটি আলোচনা এখানে উদ্ধৃত করছি। 

নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের খাস কামালকাটি গ্রামের অধিবাসী সাবেক ইপিআর  সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মমতাজ উদ্দিন। তিনি স্বাধীনতার পর রক্ষীবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুবিহীন বাংলাদেশে রক্ষীবাহিনীর চাকুরী ছেড়ে দিয়ে গ্রামে ফিরে আসেন। এরই মাঝে উনার স্ত্রী মারা যান। ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, স্বাধীন বাংলাদেশে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা দু’কন্যা ও এক পুত্রসন্তান নিয়ে কর্মহীন জীবনযাপন করতে থাকেন। অনাহারে-অর্ধাহারে জীবন কাটতে থাকে। এক পর্যায়ে বিভিন্ন স্কুলের সামনে মুড়ির মোয়া, চকলেট, চানাচুরের প্যাকেট ইত্যাদি বাচ্চাদের খাবার বিক্রি করতে শুরু করেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা মমতাজ উদ্দিন সাহেব অত্যন্ত পরহেজগার লোক ছিলেন। গ্রামের বিত্তশালীরা সাধ্যমত সাহায্য সহযোগিতা করতেন। তিনি বলতেন, "আমি গরীব ঘরের ছেলে ছিলাম। দেশ স্বাধীন করার জন্য মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলাম। দেশ স্বাধীন হয়েছে, আমি আমার পূর্বাবস্থায় ফিরে এসেছি‘। মুক্তিযোদ্ধার সনদ সংগ্রহ করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে ঢাকায় বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ করতেন। একদিন ঢাকা পুরাতন বিমানবন্দরের কাছে একটি মসজিদে জোহরের নামাজ আদায় করে মসজিদেই শুয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। একটু তন্দ্রা এসে যায়। এই ফাঁকে সাথে থাকা ব্যাগটা খোয়া যায়। ব্যাগে ছিল মুক্তিযুদ্ধের কাগজপত্র, জেনারেল ওসমানীর চিঠি, রক্ষীবাহিনীতে চাকুরীর কাগজপত্র ইত্যাদি। সবকিছুই শেষ, মুক্তিযোদ্ধার সনদ সংগ্রহ করতে পারলোনা। তারপর দীর্ঘদিন তিনি মনমরা হয়ে থাকতেন। টাকার অভাবে ঢাকা গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের কাগজপত্র ঠিকও করতে পারেন না, ভাতাদিও উঠাতে পারে না, এমনকি রক্ষীবাহিনীর চাকুরীর সুবিধাদিও সংগ্রহ করতে পারেন না। টুকিটাকি যা আয় হয় তা দিয়ে নিজ হাতে রান্না করে ছেলেমেয়েদের খাওয়াতেন। এভাবেই অত্যন্ত দুঃখকষ্ট, অর্থকষ্ট অযত্নে অবহেলায় একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা জীবনযাপন করতেন। একদা নীরবে ইহলোক ত্যাগ করেন। 
আব্দুল মোতালেব নামে আরেক  মুক্তিযোদ্ধার কাহিনী উঠে আসে রূপগঞ্জের খাসকামালকাটি গ্রামের অধিবাসী মেজবাউল হক বাচ্চু সাহেবের আলোচনায়।

বাচ্চু সাহেবের নিজ গ্রাম খাসকামালকাটি থেকে দুই কিলোমিটার দূরে অবস্থিত সাপ্তাহিক হাট বসে। এই গ্রামের লোকজন নিয়মিত ঐ হাটে সওদা করে। ১৯৭৬-৭৭ সালের দিকে হবে, মাটিতে ছালা বিছায়ে বসে ঝাঁকায় করে হলুদ মরিচ পিয়াজ রসুন বিক্রি করতেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মোতালেব। যা বেচাকেনা হতো তা দিয়েই খুবই কষ্টে অনাহারে অর্ধাহারে জীবন যাপন করতেন। হঠাৎ একদিন উধাও। কোন খোঁজ নাই। প্রায় ৪-৫ মাস পর গ্রামে ফিরে এসে বাজারের একই স্থানে দাঁড়িয়ে মানুষের সাথে কথা বলতে বলতে কাঁদছেন। চেহারা দেখে মনে হচ্ছিল খেয়ে পরে ভালই আছেন। সবার মনেই প্রশ্ন,  কান্না করছে কেন? তিনি বলছিলেন, ‘আমি ভাল আছি। ভাল বেতন পাই। ভাল খাবার খেতে পাই। কিন্তু তারপরও আমি কেন কাঁদছি? আমি মুক্তিযোদ্ধা। আমি যুদ্ধ করে দেশকে শত্রুমুক্ত করেছি। দেশ স্বাধীন করেছি। সেই স্বাধীন দেশে আমি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হয়ে পেটের তাগিদে রাজাকার মাওলানা মান্নানের বাড়িতে দারোয়ানের চাকুরী করি। মুক্তিযোদ্ধা হয়ে রাজাকার এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করি। এটাই আমার দুঃখ। সেই দুঃখে আমার বুক ফেটে কান্না আসছে’।

১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট কালো রাতে বঙ্গবন্ধু পরিবারের অধিকাংশ সদস্যসহ স্বাধীনতার পরাজিত শত্রুদের ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে কতিপয় উচ্চাভিলাষী সামরিক কর্মকর্তার হাতে শাহাদাতবরণ করার পর মুক্তিযোদ্ধাদের ভাগ্যাকাশে নেমে এসেছিল অন্ধকার। তাঁদের প্রতি শুরু হয়েছিল অবজ্ঞা আর অবহেলা। মুক্তিযোদ্ধারা অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু হয়ে গিয়েছিল। দীর্ঘ ২১ বছর পর বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধাদের পুনর্বাসন, মুক্তিযোদ্ধাদের নামের আগে ‘বীর’ শব্দ ব্যবহার বাধ্যতামূলক, মুক্তিযোদ্ধাদের আর্থিক সহায়তা বৃদ্ধি, চিকিৎসা সুবিধাসহ নানাবিধ কল্যাণমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন। তনমধ্যে উল্লেখযোগ্য:

১। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পারিবারিক জীবনে আর্থিক সচ্ছলতার জন্য সামাজিক নিরাপত্তাবলয় কর্মসূচির আওতায় জনপ্রতি মাসিক ১২,০০০/- টাকা হারে ১,৯২,৯৯৮ জন মুক্তিযোদ্ধাকে ভাতা প্রদান করা হচ্ছে।
২। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জীবনযাপন সুন্দর ও আনন্দময় করার লক্ষ্যে ২০২০-২১ অর্থ বছরে জনপ্রতি ১০,০০০/- টাকা করে ২টি উৎসব ভাতা, জনপ্রতি ২০০০/- টাকা হারে বাংলা নববর্ষ ভাতা ও জনপ্রতি ৫,০০০/- টাকা হারে বিজয় দিবস ভাতা ১,২০,৫২৪ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে প্রদান করা হয়েছে।

জুরাইন কবরস্থানে মৃত বীরমুক্তিযোদ্ধাদের জন্য নির্ধারিত স্থানে বিনা খরচে দাফনের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কবর সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এছাড়া বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস সহ বিভিন্ন দিবসে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধাদের খোঁজ নেন, কুশলাদি বিনিময় করেন।

দেশমাতৃকা শত্রুমুক্ত করতে জীবন উৎসর্গ করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা। বঙ্গবন্ধুকন্যা রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা স্বাধীনতা অর্জনে জীবন উৎসর্গকারী সেই বীর সেনানীদের সুন্দর সচ্ছল জীবনযাপন নিশ্চিত করেছেন।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড থট

ক্যান্সার চিকিৎসার সুযোগ ও অসংক্রামক রোগের ব্যয় বহনের সামর্থ্য


Thumbnail

১৯ মে বাংলা ট্রিবিউন পত্রিকায় আমাদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মহোদয়কে উদ্ধৃত করে ছাপা হয়েছে- “প্রতি বছর দেশে মোট মৃত্যুর ৭০ শতাংশই হয় অসংক্রামক রোগের কারণে। বৃহস্পতিবার (১৯ মে) বিকালে রাজধানীর বনানীতে হোটেল শেরাটনে আয়োজিত এক সায়েন্টিফিক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জাহিদ মালেক বলেন, দেশে প্রতিবছর ১০ লাখ মানুষ স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করেন। তার মধ্যে ৭০ শতাংশই মারা যায় বিভিন্ন ধরনের অসংক্রামক রোগে। অসংক্রামক রোগে প্রতিদিন ১ হাজার ৯০০ মানুষ মারা যান। ভালো চিকিৎসা সেবা দিতে গেলে গবেষণা দরকার। আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় সংক্রামক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণে আছে, তবে অসংক্রামক রোগ বেড়ে গেছে”।

আমার ক্যান্সার প্রকল্পের গুরু প্রফেসর রিচার্ড লাভ যিনি দুনিয়ার খ্যাতিমান ক্যান্সার চিকিৎসকদের অন্যতম একজন, বাংলাদেশে আমার সাথে তার কাজের রেশ টেনে ধরে প্রায়ই বলেন এই দেশে ক্যান্সার রোগ নির্ণয়ের ও চিকিৎসার অন্যতম বাধা হলো “চিকিৎসার সুযোগ, ব্যয় বহনের সামর্থ্য ও মানের ঘাটতি”। ২০০৭ সালে আমি যখন তার সাথে ক্যান্সার নিয়ে কাজ শুরু করি তখন মানুষের জন্যে ‘চিকিৎসার সুযোগ’ সৃষ্টিকেই আমরা গুরুত্ব দেই, ফলে গ্রামে কেমন করে সেই সুযোগ তৈরি করা সম্ভব সেরকম চ্যালেঞ্জ হাতে নিয়ে আমাদের দুইজনের পথ চলা। রিচার্ড লাভ তখন যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইয়ো স্টেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষক। চিকিৎসা বৈষম্যের বিরুদ্ধে নামকরা এক প্রতিবাদী গবেষক, আর আমি মাইক্রোসফটের সহায়তায় বাংলাদেশের গ্রামে গ্রামে তরুণদের তথ্য-প্রযুক্তি শিক্ষা সম্প্রসারণ নিয়ে কাজ করি। আমার উদ্দেশ্যও একই, প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে কেমন করে তথ্য-প্রযুক্তির সেবা-সুযোগ তৈরি করা যায়। রিচার্ড লাভ আমাকে বললেন, ওই মানুষগুলোর জন্যে ক্যান্সার চিকিৎসার সুযোগ তৈরিতে, যা তখন নেই বললেই চলে, যদি কাজ কর তাহলে তোমার “মিশন কমপ্লিট” হবে। আমরা তথ্য-প্রযুক্তির সাথে মিলিয়ে ক্যান্সার নির্ণয় ও সুলভে মান সম্পন্ন চিকিৎসার একটি ব্রত নিয়ে বাগেরহাটের রামপালে কাজ শুরু করলাম। ২০০৭ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত এই দশ বছরে প্রফেসর রিচার্ড লাভ অন্তত অর্ধেক সময় বাংলাদেশে আসা যাওয়া করেছেন এই কাজে আর আমাদের দেশের এমন কোন পর্যায় নেই যেখানে যেয়ে তিনি বাংলাদেশের ক্যান্সার চিকিৎসার মান বাড়াতে তদবির করেননি। গবেষণা, প্রশিক্ষণ আর চিকিৎসা সেবা সহায়তায় বাংলাদেশের অগণিত ডাক্তারকে পরামর্শ দিয়েছেন ও তার বিশেষজ্ঞ বন্ধুদের এ দেশে ডেকে এনে আমাদের চিকিৎসকদের হাতে কলমে কাজ শিখিয়েছেন। আমার ধারণা বাংলাদেশের ক্যান্সার চিকিৎসার সাথে যুক্ত প্রায় সকলেই প্রফেসর রিচার্ড লাভের নাম জানেন ও সাক্ষাৎ পেয়েছেন। এমনকি আমার মতো অচিকিৎসক মানবিকের ছাত্রকেও তিনি অবিরাম প্রশিক্ষণ দিয়ে ও কাজ করিয়ে ক্যান্সার গবেষক বানিয়ে ছেড়েছেন! পৃথিবীর নামকরা বেশ কিছু জার্নালে আমার এখন ১৯টি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে তার অনুপ্রেরণা থেকেই। 

২০১৪ সাল থেকে বাংলাদেশ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের আগ্রহে ও অনুপ্রেরণায় আমার কর্মস্থল রামপালে আমরা একটি ক্যান্সার চিকিৎসা ও গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনের কাজে হাত দেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী থেকে স্থানীয় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পর্যন্ত এমন কোন মানুষ নেই যারা আমাদের এই কাজে সহযোগিতা করেননি। তাতেই আমাদের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাতে লেগেছে ছ’বছর! এই ২০২১ সালের শেষের দিকে এর নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। ওদিকে কাজের কাজ যা হয়েছে রিচার্ড লাভ অভিমান করে এখন আর এই দেশে আসতে চাইছেন না। কারণ এই দীর্ঘসূত্রিতার জন্যে কে দায়ী সেটা তিনি আমাকে নির্ধারণ করে জানাতে বলেছেন, আমি তা খুঁজে পাচ্ছিনা। পেলেই তিনি আসতে শুরু করবেন এই কথা আমাকে বলেছেন।

এই প্রসঙ্গের অবতারণা এই কারণেই যে, আমাদের স্বাস্থ্য পরিষেবার অন্তর্গত সমস্যা আমাদের ভালো করে বুঝা দরকার। গত এক যুগ ধরে গ্রামাঞ্চলে ক্যান্সার চিকিৎসার সুযোগ তৈরি ও মানসম্পন্ন চিকিৎসা সেবা দিয়েছি আমরা প্রায় বাইশ হাজার মানুষকে। আমাদের গ্রাম প্রকল্পের কর্মীদের কাছে সেবা নিতে আসা প্রতিটি মানুষের সকল প্রকার প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত (নাম ঠিকানা থেকে শুরু করে সমস্যা, নিরীক্ষার বিবরণ, ধাপ অনুযায়ী চিকিৎসা সেবার সকল তথ্য) তথ্য-প্রযুক্তির মাধ্যমে সংরক্ষণ করা আছে। আর সেসব তথ্য কোন কম্পিউটারে নয় ক্লাউড সার্ভারে যাতে সহজে মুছে না যায়। আমাদের কর্মীদের কাছে আছে ইন্টারনেট সমেত মোবাইল ফোন, যার মাধ্যমে নির্ধারিত অ্যাপের মাধ্যমে সে প্রতিদিন গ্রামের মানুষের স্বাস্থ্য তথ্য সংগ্রহ করে হালনাগাদ করে যার মধ্যে আছে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিরীক্ষা ও সেসবের তথ্য। আর এসব তথ্য দেশ বিদেশের যে কোন চিকিৎসক যে কোন সময় পর্যবেক্ষণ করে ‘চিকিৎসা গাইডলাইন’ অনুসারে মানসম্পন্ন চিকিৎসা সেবা পরামর্শ অনলাইনেই দিতে পারেন।

এই দেশে তথ্য-প্রযুক্তিকে উপযুক্ত নিয়মে ব্যবহার করে স্বাস্থ্য সেবা বিশেষ করে দুর্বিনীত রোগ প্রতিরোধে যেমন ক্যান্সার, কিডনি জটিলতা, মস্তিষ্কের ও হৃদযন্ত্রের অসুখ বা যে কোন অসংক্রামক রোগের বিষয়ে আমরা কোন মনোযোগই দেইনি। আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যানসার (আইএআরসি)-র অনুমিত হিসাবসূত্রে, প্রতি বছর বাংলাদেশে নতুন করে এক লাখ ৫০ হাজার মানুষ ক্যানসারে আক্রান্ত হন। আর মারা যান এক লাখ আট হাজার মানুষ। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় এই হিসাবটা আমাদের নিজেদের কাছে নেই! আমরা যদি আমাদের সবগুলো চিকিৎসা কেন্দ্রে তথ্য-প্রযুক্তির ঠিকমতো ব্যবহার করতাম তা হলে সব রোগের তথ্যই আমাদের কাছে থাকতো। যে কারণে কোন পরিকল্পনা নিয়ে এগুলে একটা দীর্ঘসূত্রিতার বাধা এসে আমাদের সামনে দাঁড়ায়, কারণ বিষয়টা বুঝতে হলে সামগ্রিক যেসব তথ্য আমাদের নীতিমহলে থাকা দরকার ছিল তা তাঁদের কাছে নেই।

ডা লাভের উদ্বেগ অনুযায়ী মানসম্পন্ন চিকিৎসার কথাও যদি বলি তাহলেও এসে যাবে খরচের হিসাব। অকারণ পরীক্ষা ক্যান্সার নির্ণয়ের প্রধান বাধা। কারণ এতো খরচ আমাদের দেশের মানুষের সাধ্যের মধ্যে নেই। কিন্তু আমাদের জ্ঞানেও নেই এতো বাহুল্য পরীক্ষা কেমন করে আমরা বাদ দেবো, এর জন্যে দরকার গবেষণা ও পড়াশুনা যা আমাদের চিকিৎসক সমাজের সবচেয়ে বড়ো দুর্বলতা। আমরা দেখেছি অভিযোগের একটি নির্ধারিত সূত্র ধরে এগুলে ঠিক ঠিক রোগটি ধরে ফেলা যায় যা সামান্য ইমেজ পরীক্ষা বা টিস্যু পরীক্ষার মাধ্যমেও সম্ভব। সন্দেহজনক না হলে কেন আমরা একটি মানুষের শরীর, মন আর আর্থিক সামর্থ্য নিয়ে এমন খেলায় নামি তার কোন কারণ আমরা বুঝে উঠতে পারিনা।

এখানে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ত্রুটিকে যারা গালমন্দ করেন তাদেরও ভুল আছে। ত্রুটি আমাদের সামগ্রিক সচেতনতার অভাব। আমাদের অজ্ঞতাকে যারা পুঁজি করে রোজগার করেন তাদের বিরুদ্ধে নীতিতে ব্যবস্থা নেই, আর নেই জনগণের মধ্যে প্রতিরোধের সাহস। এটা সম্ভব হতো যদি সরকার জনগণের পাশে আছে এটা জনগণ বুঝতে পারতো।

সবিনয়ে পাঠকবর্গকে জানাই, ক্যান্সার মোটেই ভয়ের কোন অসুখ নয়। এটা সঠিক নির্ণীত হলে আপনি সম্পূর্ণ নিশ্চিত। আর যাই-ই হোক হৃদরোগ আর মস্তিষ্কের স্ট্রোকের চেয়ে তো ভালো। যারা আমাকে-আপনাকে ক্যান্সার নিয়ে ভয় দেখায় তাদের অকারণ পরীক্ষার চেষ্টা থেকে বিরত থাকতে সরকার যেন একটা নির্দেশনা দেয় তার জন্যে সবাই মিলে কথা বলুন।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড থট

ফেইলর ইজ দ্য পিলার অব সাকসেস?


Thumbnail ফেইলর ইজ দ্য পিলার অব সাকসেস?

এই কথাটি আমরা অনেক দিন অনেকভাবে শুনেছি যে, লোকে বলে 'ফেইলর ইজ দ্য পিলার অব সাকসেস'। এর সাথে আর একটা কথা বহুত প্রচলিত। সেটি হচ্ছে যে, 'একটি সফলতা আরেকটি সফলতাকে আনতে সাহায্য করে'। সুতরাং এক জায়গায় সফল হলে সে আরো সফল হয়। কিন্তু প্রথমে অসফল হলে সেটা যে একটা পিলার হয়, আরেকটা সফলতার জন্য এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা। কারণ হচ্ছে, তাই যদি হতো তাহলে যারা একাধারে ফেল করে যায়, এদের এতো পিলার জমা হতো যে, ওই পিলারের মধ্যে দিয়েই তো আর সফলতার দিকে যাওয়া যেতো না। অসফল হওয়ার একটি মাত্র জিনিস সেটি হচ্ছে যে, কেউ অসফল হলে তার চিন্তা করতে হবে, তিনি কেন অসফল হয়েছেন। যেমন পরীক্ষার কথাই বলি। পরীক্ষায় যদি মনে করা হয় যে, পরীক্ষক ফেল করিয়েছেন, তাহলে আর তার পক্ষে পাস করা সম্ভব না। কারণ তিনি তার পরীক্ষককে পড়াবেন না। সুতরাং ফেল যে করে সে নিজেই করে। 

আমার এই কথাগুলি মনে হলো সম্প্রতিকালে দুইদিকের বক্তব্য শুনে। একটি হচ্ছে দার্শনিক রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার বিভিন্ন বক্তব্য। যেখানে তিনি অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন। তিনি বলেন যে, পত্রিকা বা মিডিয়া কোথায় কি বললো, সেটা দেখে আপনারা ঘাবরাবেন না। আপনারা কাজটা সঠিকভাবে করছেন কিনা সেটা দেখবেন। অর্থাৎ তিনি এখানে গুরুত্ব দিচ্ছেন সফলতার দিকে। যেমন আমি নিজের উদাহরণই দিতে পারি। যদিও নিজের উদাহরণ দেওয়া ঠিক না তবুও বলি, কমিউনিটি ক্লিনিক ভালোভাবে চলছে। কিছু কিছু জায়গায় ঠিকমতো চলছে না, সেগুলো পত্রিকা বলে এবং বলার পরে আমি সেগুলো ঠিক করার চেষ্টা করি। অর্থাৎ এটা সফলতার দিকে যাচ্ছে। কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বপ্নদ্রষ্টা বঙ্গবন্ধুর কাছ থেকে পেয়েছেন তার কন্যা দার্শনিক রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা এবং এই কমিউনিটি ক্লিনিকের ভিতরে বিভিন্ন দর্শন তিনি দিয়েছেন। এই দর্শনগুলিকে নিয়ে আমরা এনালাইসিস করেছি এবং আমার এই অ্যানালাইসিসের শিক্ষক হচ্ছেন বর্তমান বাংলাদেশের সবচেয়ে, আমি বলবো যে সত্যিকারে লেখাপড়া করে সব কাজ করেন, শিক্ষিত কলামিস্ট সৈয়দ বোরহান কবীর। তার সঙ্গে বসে আমি দেখেছি যে, কমিউনিটি ক্লিনিকটা শুধুমাত্র যে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা ব্যবস্থার জন্য তাই নয়, প্রান্তিক জনগোষ্ঠির সাথে যোগাযোগ বৃদ্ধি করে।

একইভাবে স্কুলে মেয়েরা ঠিকমতো যায়। কারণ তাদের একটা ভবিষ্যৎ আছে। পাশ করলে তারা কমিউনিটি ক্লিনিকে কাজ করতে পারবে। তারপরে কমিউনিটি ক্লিনিকের কাজ করলে তাকে বাল্যবিবাহ দিতে পারে না। তারপরে যদি কমিউনিটি ক্লিনিকের সে কাজ করে তার একটা সম্মান হয়। তার বেতনটা তার স্বামী যদি খারাপ ধরনেরও হয়, সে জোর করে নিতে পারে না। একটা সামান্য উদাহরণ দিলাম। এরকম যদি অন্যান্য ক্ষেত্রে দেখা যায় যেমন, প্রধানমন্ত্রী বললেন যে, খাবারের দিকে আমাদের নজর দিতে হবে দুইটাভাবে। একটি হলো আমরা খাবার অপচয় করবো না। আরেকটি হচ্ছে যাতে আমাদের খাদ্যশস্য কোনরকম ঘাটতি না পড়ে সেদিকে লক্ষ্য রাখা। এটা হচ্ছে দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি। এই যে বিদেশে যাওয়া বন্ধ করলেন। এটা হচ্ছে পার্ট অফ দা মেজার। তার দর্শনের একটি অংশবিশেষ। মূল দর্শন কি? মূল দর্শন হচ্ছে একটি। সেটি হচ্ছে দেশপ্রেম। তিনি বাংলাদেশের প্রত্যেকটা মানুষকে ভালোবাসেন। 

আমি একটি উদাহরণ দেই। আমি তার সাথে একবার কক্সবাজার গিয়েছিলাম। কক্সবাজারের সব নেতাদের বক্তৃতা হয়ে গিয়েছে। তখন নেত্রী স্টেজে আসলেন। আমাকে কিছু বলার জন্য বললেন। ওই সময়ে সমস্ত কক্সবাজারে একটি মাত্র ছিট ছিলো আওয়ামী লীগের। আর সব বিএনপি'র। আমি বললাম যে, আপনাদের তো নেত্রী দেখে আপনাদের রেললাইনের ওপেনিং করছে, এখানে একটা এয়ারপোর্টের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করছেন। একের পর এক স্থাপনা করে যাচ্ছেন। আমি হলে এর কিছুই করতাম না। নেত্রী যখন আমার পরে বক্তৃতা দিলেন, অবাক ব্যাপার তিনি সাধারণত নেতাকর্মীদের বক্তব্যের বিষয়ে সেখানে কোনো উত্তর দেন না। তিনি তার দর্শন অনুযায়ী বক্তব্য দেন। ওইখানে তিনি একটু একসেপশন করলেন। সেটা ওনার দর্শনের অংশ। তিনি বললেন, আমি হচ্ছি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। আমাকে কে ভোট দিয়েছে, কে দেয়নি, আমার প্রতিনিধিকে নির্বাচিত করেছে কি নির্বাচিত করেনি, সেটি দেখার দায়িত্ব আমার না। আমার দায়িত্ব হচ্ছে বাংলাদেশের জনগণ এবং সেই জনগণের ভেতরে এই কক্সবাজারের জনগণও পরে। 

প্রান্তিক জনগোষ্ঠী যেরকম পড়ে, যারা আজকে কোনো কিছু করতে পারে না তারাও পরে, আর যারা আঘাত টাকার মালিক তারাও আমার জনগণ। সুতরাং আমি যেটা করেছি, এটা আমার ভোট পাওয়ার সাথে কোনো সম্পর্ক নাই। এটি একটি পজিটিভ দিক। আর অন্যদিকে কি শুনি? বলে সাত দিনের ভিতরে আমরা সরকার ফেলে দিতে পারবো। যারা কোনো কিছুতেই পাস করতে পারে না, তারা একজন দার্শনিক রাষ্ট্রনায়ককে ফেলে দিবে এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়, ফেলে দেওয়া তো দূরের কথা, আন্দোলনই তো করতে পারে না। তবে একটি ব্যাপার কিন্তু ঘটছে। সেটা হচ্ছে এই যে, অনেকে মনে করে যে আসলে ষড়যন্ত্র হচ্ছে এতে সামান্য সন্দেহ নাই। আমরা এই ষড়যন্ত্র সঠিকভাবে অনেক সময় বুঝতে পারি না। ১৫ অগস্ট যে ধরনের ষড়যন্ত্র করেছিল, এখন পৃথিবী পরিবর্তিত হয়ে গেছে। এখন সে ধরনের ষড়যন্ত্র হয় ন। একটি ষড়যন্ত্রের উদাহরণ দেই। সেটি হচ্ছে এই যে, সূক্ষ্মভাবে ষড়যন্ত্র চলে, আর মোটাদাগেরও চলে। মোটাদাগের ষড়যন্ত্র কি? একজন বিজ্ঞ যারা দেশ পরিচালনায় অপরিহার্য, বিদেশের কাছে তার ভাবমূর্তি নষ্ট করে দিলো। তাতে দুটো জিনিস হয়, সেই লোকটার কাজ করার আগ্রহ কমে যায় বা তারপরে যে আসবে সে ভয়ে অনেক কাজ ঠিকমতো করতে পারবে না। না হলে বাংলাদেশে এখন পৃথিবীর একটা এক্সাম্পল যেখানে কোনো রকম খুনোখুনি নাই, কোনো রকম জঙ্গি হামলা নাই। সমস্ত কিছু কিন্তু তিনি কন্ট্রোল করেছেন। এটা যাদের সহ্য হচ্ছে না, তারা আঘাত করছে। যারা এগুলো ঠিক করেছে তারা এখন তাদের ব্যাকবোন ভেঙে দিতে চায়। যাতে দেশে আবার একটি জঙ্গি পরিবেশ তৈরি করা যায়। 

তখন দেখা যাবে এই সন্ত্রাসীদের জন্যেই এখানে বাইরের শক্তি আসবে। তারা বিভিন্ন ইনফ্লুয়েন্স করবে। তাদের অস্ত্রপাতি বিক্রি হবে। সেটা একটা মোটাদাগের ষড়যন্ত্র। আর সূক্ষ্ম ষড়যন্ত্র কি? বিভিন্ন মিডিয়া খুললে দেখা যাবে, খুব কায়দা করে লিখতে চায়। তারা লিখে যে, সবই ঠিক আছে, ২০২৬ সালেই প্রবলেম হবে। উদ্দেশ্য হচ্ছে মানসিকভাবে জনগণকে দুর্বল করে দেওয়া। এই জন্যই তো তিনি দার্শনিক, রাষ্ট্রনায়কই শুধু নয়। ২০২৬ সালে তো দূরের কথা, তিনি তিনটি ভাগেই ভাগ করেন। বর্তমান পরিস্থিতি কিভাবে এর উত্তরণ করতে হবে। সেটাও তিনি ঠিকভাবে করছেন। ছয় মাস পরে কি হবে সেটাও তিনি করছেন। এর দার্শনিক ভিত্তি কি? দার্শনিক ভিত্তি তো শেখ হাসিনা। তার চিন্তা ধারায় যে কত টাইপের লোকদের দিয়ে যে তিনি কাজ আদায় করেন, চিন্তার বাইরে। অনেক লেখা দেখলে এখন বুঝবেন যে, যারা অনেক সুযোগ সুবিধা নিয়েছে তারা আজকাল জ্ঞানী জ্ঞানী লেখা লেখেন। তারা গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিল কিন্তু যেই মুহুর্তে থেকে নরমাল এক্সটেনশনের পর পদত্যাগ করার পরে তারা যখন বিজ্ঞ হয়ে গেলেন, তখন কিন্তু তারা বিজ্ঞ হওয়ার জন্য পার্টিকুলার পত্রিকাতেই লেখেন এবং সেখানে ঘুরেফিরে সরকারের বিপক্ষেই লেখেন।

অর্থাৎ এটা সূক্ষ্মভাবে চলছে। গ্রসলি বলতেছে যে, এই জায়গায় খুন হয়েছে, সেই নিউজটি হয়তো শেষ পেজে গেলে হতো, কিন্তু সেটা প্রথম পেজে আনা হচ্ছে। আরেক ধরনের ষড়যন্ত্র, পোস্ট এডিটরিয়ালে ২০২৬ সালে কি হবে সেটা এক ধরনের ষড়যন্ত্র। যে দার্শনিক এতো বড় করোনার থেকে দেশকে রক্ষা করতে পারলেন জীবন এবং জীবিকা দুটোই। আমরা ঠিকানাবিহীন ছিলাম। জাতির পিতা আমাদেরকে দেশের ঠিকানা দিলেন, তারপর পৃথিবীর মানচিত্র তখনও আমরা ঠিকানাবিহীন। তিনি সেখানে মধ্যম আয়ের দেশে এনে আমাদের ঠিকানা দিলেন। সেই দার্শনিক কি এই সূক্ষ্ম লেখা কি বুঝতে পারেন না এটা হতে পারে? অর্থাৎ এখানে তার কোনো ফেইলর নেই। এখানে ফেইলর ইজ দ্য পিলার অব সাকসেস এটা মিথ্যা। এটা সাকসেস ব্রিংস এনাদার সাকসেস। একটি সফলতার আরেকটি সফলতা আনবে এটাই তিনি প্রমাণ করেছেন। আর যারা বড় বড় কথা বলছেন, ৭ দিনে ফেলে দিবেন, একটা ফর্মুলা এরা কিন্তু এক জায়গায় বসে সব ঠিক করে। তারপরে ঠিক করে, কে কোনটা বলবে। সাধারন পাবলিক যাতে কনফিউজড হয়। সে ভাববে যে যে আর্টিকেল লেখা হয়েছে, সেটা তারা নিজের থেকে লিখেছে। অনেকে ভাববে যে, এনালাইসিস যেটা করছো সেটা নিজে থেকে করছে।

এটা কোনোটা আলাদা না। কারণ দেশটা এখন দুই ভাগে ভাগ হয়ে গেছে। একটি হচ্ছে যে, দেশপ্রেমিক দার্শনিক রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা এবং বিপক্ষ শক্তি সকলে এক। তার সাথে যারা আছেন তাদের ভেতরও সব লোক তাকে যে সমানভাবে সমর্থন করছেন বা তাদের কাজে এগিয়ে নিচ্ছেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি না। এর ভিতরও কিছু ভেজাল আছে। কিন্তু দার্শনিক রাষ্ট্রনায়কের কাছে এবং তার দেশপ্রেমের কাছে এরা কেউ টিকবে না। কখন কোথায় কাকে রাখতে হবে, কখন কাকে দূরে সরিয়ে নিতে হবে সেটা তিনি ভালোভাবেই জানেন এবং এটা করতে পারবেন। সুতরাং আমি মনে করি যে, দার্শনিক রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার একটি বিজয় আরেকটি বিজয়ের পথ শুধুমাত্র শুরু করে। একটি বিজয় আরেকটি বিজয়কে ত্বরান্বিত করে। সুতরাং তার প্রতিটি স্তরে বিজয় সুনিশ্চিত। আর যারা বলেন যে, ফেইলর ইজ দ্য পিলার অব সাকসেস তারা শুধু পিলারই তৈরি করবেন এবং সেই জন্যই যখন বলা হয় যে, বার বার দরকার শেখ হাসিনার সরকার, এটাই হচ্ছে বাস্তবতা এবং দার্শনিক রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা সেই পথেই যাচ্ছেন এবং ওই তথাকথিত ষড়যন্ত্র যত রকম ভাবেই করা হোক না কেন, এর আমি সফলতার কোনো সম্ভাবনা দেখি না। 

ফেইলর ইজ দ্য পিলার অব সাকসেস   প্রান্তিক জনগোষ্ঠী   কমিউনিটি ক্লিনিক   দার্শনিক রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড থট

রাইস ব্র্যান তেল কেন খাবেন?


Thumbnail রাইস ব্র্যান তেল কেন খাবেন?

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি যখন রাইস ব্র্যান তেল খাওয়ার পরামর্শ দিলেন তখন সয়াবিনের মূল্য ঊর্ধমুখী। দুষ্প্রাপ্যও বটে। তিনি রাইস ব্র্যান তেলের পক্ষে সাফাই গাইতে যেয়ে আমাদের তিন চার দশকের সঙ্গী সয়াবিন তেলের বেশ বদনাম করেছেন। বাণিজ্যমন্ত্রীর কথা শুনে অনেকেই বলছেন, আঙ্গুর ফল টক। মন্ত্রী বলেছেন, সয়াবিন তেল শরীরের জন্য ক্ষতিকর। তাতে অনেকেই উপহাস করছেন। কিন্তু যারা অনুসন্ধিৎসু, ইন্টারনেট ঘাটাঘাটি করেন, তারা জানেন রাইস ব্র্যান তেলের গুণাগুণ। গুণ জানলে মনে হবে, তিনি শতভাগ সত্যি কথা বলেছেন। হয়তো 'অসময়ে' বা 'দুঃসময়ে' বলেছেন বলে অনেকেই পাত্তা দিচ্ছেন না বা উপহাস করছেন।

রাইস ব্র্যান তেল চালের তুষ থেকে তৈরি করা হয়। ধানের তুষ সাধারণত পশুর খাদ্য হিসাবে ব্যবহার করা হয় বা বর্জ্য হিসাবে ফেলে দেয়া হয়। স্বাস্থ্য  উপকারিতার জন্য এটি সম্প্রতি তেল হিসাবে অনেকের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। সাধারণত জাপান, ভারত এবং চীন সহ এশিয়ার অনেক দেশে রান্নার তেল হিসাবে ব্যবহৃত হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, দেশে এখন ৫০ থেকে ৬০ হাজার টন রাইস ব্র্যান তেল উৎপাদন হয়। সেটি মোট চাহিদার দুভাগ মাত্র। তবে সেটিকে মোট চাহিদার ২৫ শতাংশ উৎপাদনের ব্যাপারে তিনি আশাবাদী। এখন দেখে নেয়া যাক, যে দশটি চিত্তাকর্ষক সুবিধার জন্য আপনি রাইস ব্র্যান তেল খাবেন।

এক. উপকারী পুষ্টি রয়েছে: রাইস ব্রান তেল অসম্পৃক্ত চর্বি, ভিটামিন ই এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টির একটি ভাল উৎস। এক টেবিল চামচ তেলে ১২০ ক্যালোরি এবং ১৪ গ্রাম ফ্যাট থাকে। ভিটামিন ই থাকে দৈনিক চাহিদার প্রায় ৩০ ভাগ। ক্যানোলা এবং অলিভ অয়েল জাতীয় দামি তেলের মত, রাইস ব্র্যান তেলে হৃদপিণ্ডের জন্য স্বাস্থ্যকর অসম্পৃক্ত চর্বি বেশি থাকে।

দুই. রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে: রাইস ব্র্যান তেল ইনসুলিন প্রতিরোধের উন্নতি করে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। যা টাইপ টু  ডায়াবেটিসের ঝুঁকির কারণ। ইঁদুরের উপরে গবেষণায় দেখা গেছে, রাইস ব্র্যান তেল ইনসুলিনের মাত্রা বাড়িয়ে রক্তে শর্করার মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে। ২০১৮ সালে জাপানের একটি মানব গবেষণায় অনুরূপ ফলাফল পাওয়া গেছে। যেদিন সকালে ১৯ জন সুস্থ ব্যক্তি খাবারের সাথে এ তেল ৩ দশমিক ৭ গ্রাম খেয়েছিলেন, তাদের রক্তে শর্করার মাত্রা শতকরা ১৫ ভাগ কমে গিয়েছিল।

তিন. হৃদপিণ্ডের স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে পারে: রাইস ব্র্যান তেল হৃদপিণ্ডকে চাঙ্গা রাখে। কোলেস্টেরল কমায়।  রক্তচাপ কমায়। কোলেস্টেরল কমানোর কারণে জাপান সরকার এটিকে স্বাস্থ্যকর খাদ্য হিসাবে স্বীকৃতি দেয়। ইঁদুরের প্রাথমিক গবেষণায় দেখা যায়, রাইস ব্রান তেল উল্লেখযোগ্যভাবে এল ডি এল (খারাপ) কোলেস্টেরল কমায়। এইচ ডি এল (ভাল) কোলেস্টেরল বাড়িয়ে দেয়। ২০০৯ সালে থাইল্যান্ডে ওপর একটি মানব গবেষণাতে  একই ফল পাওয়া যায়। এগারোটি গবেষণা নিয়ে পরিচালিত একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, এ তেল ব্যবহারকারীদের কোলেস্টেরল গড়ে ৬ দশমিক ৯ মিলিগ্রাম কমেছে। এক মিলিগ্রাম কমলেই হৃদরোগের ঝুঁকি এক থেকে দুই শতাংশ কমাতে পারে।

চার. অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি প্রভাব রয়েছে: রাইস ব্র্যান তেলে থাকা বেশ কিছু যৌগের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি প্রভাব রয়েছে। এই যৌগগুলির মধ্যে একটি হল ওরিজানল, যা ইনফেকশন ছড়ায়  এমন বেশ কয়েকটি এনজাইমকে দমন করতে পারে।  এটির  কার্যকারিতা রক্তনালী এবং হৃদপিণ্ডে বেশি। এ ইনফেকশন বন্ধ বা প্রতিরোধ করতে না পারলে হৃদপিণ্ডের রক্তনালীকে চিকন করে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

পাঁচ. ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে পারে: টোকোট্রাইয়েনল নামের একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ক্যান্সার প্রতিরোধে ভূমিকা রাখতে পারে।  টেস্ট-টিউব এবং প্রাণীজ গবেষণা ইঙ্গিত দেয় যে টোকোট্রিয়েনলগুলি স্তন, ফুসফুস, ডিম্বাশয়, লিভার, মস্তিষ্ক এবং অগ্ন্যাশয় সহ বিভিন্ন ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি দমন করে। একটি টেস্ট-টিউব গবেষণায় দেখা গেছে, এই টোকোট্রাইয়েনল  আয়নাইজিং বিকিরণের সংস্পর্শে থাকা মানব এবং প্রাণী কোষগুলিকে রক্ষা করে বলে মনে হয়। আয়নাইজিং বিকিরণের উচ্চ মাত্রা ক্যান্সারের মতো ক্ষতিকারক প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে। তবে মনে রাখবেন, এ  তেল ক্যান্সারের চিকিৎসা  হিসাবে নয়, প্রতিরোধ করতে পারে।

ছয়. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পারে: চালের তুষের তেল আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত করতে পারে। যা ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস এবং অন্যান্য রোগ সৃষ্টিকারী জীবের বিরুদ্ধে আপনার শরীরের প্রতিরক্ষার প্রথম লাইন। ইঁদুরের কোষে একটি সমীক্ষা প্রকাশ করেছে যে, রাইস ব্র্যান তেলের একটি উপাদান 'অরিজানল' রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। যাহোক, এটি স্পষ্ট নয় যে, এই প্রভাবটি মানুষের মধ্যে ঘটে কিনা।

সাত. ত্বকের স্বাস্থ্য বাড়াতে পারে: রাইস ব্র্যান তেলে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে পারে। ২০১২ সালে থাইল্যান্ডের একটি গবেষণা মতে, যাঁরা দৈনিক দুবার রাইস ব্রান নির্যাস যুক্ত জেল এবং ক্রিম ব্যবহার করেছেন, তাঁরা পরে হাতের ত্বকের পুরুত্ব, রুক্ষতা এবং স্থিতিস্থাপকতার উন্নতি অনুভব করেছে। যদিও এ বাপারে পর্যাপ্ত গবেষণা এখনো হয়নি, তবু খেয়াল করবেন যে, বাজারে বেশ কয়েকটি ময়েশ্চারাইজারে বা ওই জাতীয় পণ্যগুলিতে রাইস ব্র্যান তেল থাকে।

আট. কিডনি স্টোন রোগীদের জন্য ভালো: রাইস ব্র্যান তেল ক্যালসিয়াম শোষণ কমাতে সাহায্য করতে পারে। সুতরাং, এটি কিডনিতে নির্দিষ্ট ধরনের পাথরের গঠন কমাতে সাহায্য করতে পারে।

নয়. থাইরয়েডের কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে: থাইরয়েডের জন্য রাইস ব্রান তেল  একটি চমৎকার পরিপূরক। এটি হাইপারথাইরয়েডিজমে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে থাইরয়েড-উত্তেজক হরমোনের মাত্রা (টিএসএইচ) কমায়। উপরন্তু, এটি হাইপোথ্যালামাসের কাজকে প্রভাবিত করে। ফলে এটি যে কোনো ধরনের কর্মহীনতা প্রতিরোধ করে।

দশ. মেনোপজ পরবর্তী লক্ষণগুলি হ্রাস করে: রাইস ব্রান তেল মেনোপজ কালীন মহিলাদের এর সাথে সম্পর্কিত লক্ষণগুলিকে হ্রাস করে। এই লক্ষণগুলির মধ্যে গরম ঝলকানি এবং অন্যান্য জ্বালা অন্তর্ভুক্ত। এছাড়াও, এটি লুটিনাইজিং হরমোন উৎপাদনে বাধা দেয়, যা হরমোনের মাত্রায় আকস্মিক পরিবর্তনের জন্য দায়ী।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড থট

ভোজ্যতেলের সংকট নিরসনে অতিরিক্ত ব্যবহার কমানো, উৎপাদন বাড়ানো প্রয়োজন

প্রকাশ: ০২:০০ পিএম, ১৯ মে, ২০২২


Thumbnail ভোজ্যতেলের সংকট নিরসনে অতিরিক্ত ব্যবহার কমানো, উৎপাদন বাড়ানো প্রয়োজন

সম্প্রতি ভোজ্যতেলের মনুষ্য সৃষ্ট কৃত্রিম সংকটে লংকাকান্ড ঘটে যাচ্ছে। এই উছিলায় হারিয়ে যাওয়া গণবিচ্ছিন্ন বিভিন্ন ধরনের সংগঠন শিয়ালের মত গর্তের মধ্য থেকে হুয়াক্কা হুয়া ডাক দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। এই সংকটের মূল কারণ ভোজ্যতেলের আমদানি নির্ভরতা। ভোজ্যতেলের ৯০ শতাংশই আমদানি করতে হয়। তথ্যমতে ভোজ্যতেল আমদানিতে বছরে ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি খরচ হচ্ছে। ভোজ্যতেল সংকটের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরামর্শ অনুযায়ী ভোজ্যতেলের আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে আনতে তেলবীজের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য গবেষণা ও উৎপাদন বাড়ানোর কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে কৃষিবিজ্ঞানী ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের 'তেলজাতীয় ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি' প্রকল্পের জাতীয় কর্মশালায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে জন প্রতি তেল ব্যবহারের পরিমাণ বেড়েছে। গবেষণার ফলাফলে বলা হয়েছে, ২০১৫ থেকে ২০১৯ সালে মাথাপিছু খাবার তেল ব্যবহারের পরিমাণ ৩৬ শতাংশ বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, খাবার তেলের ভোগ বেড়ে যাওয়া জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। কারণ তারা মনে করেন যে বাংলাদেশের নিম্নবিত্ত ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ পুষ্টিজনিত রোগে ভুগছে, তাই তাদের পুষ্টি চাহিদা পূরণে ভোজ্যতেল খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

পুষ্টি চাহিদা পূরণে যেমন পর্যাপ্ত তেল দরকার, তেমনি যারা স্থূলতা, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ কিংবা রক্তচাপের মতো সমস্যায় ভুগছেন তাদেরকে আবার চিকিৎসকের পরামর্শে মেপে মেপে তেল খেতে হবে। নিজের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি বুঝে পরিমিত পরিমাণে তেল খাওয়া বেশ জরুরি। সেক্ষেত্রে দেহের চাহিদা যদি কম-বেশি থাকে, তাহলে তেল খাওয়ার পরিমাণও কম-বেশি হবে। এছাড়া ৪০ বছরের ঊর্ধ্বে যাদের বয়স, দেহের ওজন বুঝে তাদের তেল গ্রহণের পরিমাণ কমিয়ে আনতে হবে।

এখন প্রশ্ন, কী ধরণের তেল খাচ্ছেন এবং সেটা কী পরিমাণে খাচ্ছেন? তেলে সাধারণত স্যাচুরেটেড, মনো-আনস্যাচুরেটেড ও পলি-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে, যেগুলো আমাদের রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রার তারতম্য ঘটায়।

স্যাচুরেটেড ফ্যাট রক্তের এলডিএল (খারাপ) কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ায়, যা আমাদের হৃদরোগের ঝুঁকিতে ফেলে। যে তেল বা চর্বি প্রাণী থেকে আসে যেমন গরু, খাসির চর্বি, ঘি, মাখন, ডালডা ইত্যাদি প্রাণীজ ফ্যাট। এগুলোকে স্যাচ্যুরেটেড ফ্যাটও বলা হয়। এই সকল তেল পরিহার করা উচিত। আবার পলি-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট রক্তের এইচডিএল (ভালো) কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ায়, যা উপকারি। গাছ, ফুল বা শস্য থেকে যে তেল আসে সেটা উদ্ভিজ্জ তেল, একে পলি-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটও বলা হয়। যে তেলে পলি-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট ও মনো-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটের মাত্রা বেশি, সেগুলোই ব্যবহার নিরাপদ।

বাংলাদেশের বাজারে প্রচলিত বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ তেলের মধ্যে রয়েছে সয়াবিন তেল, সরিষার তেল, ক্যানোলা তেল, জলপাই তেল, রাইস ব্র্যান তেল, সূর্যমুখী তেল, ভুট্টার তেল ইত্যাদি।

যে তেলে স্যাচুরেটেড ফ্যাট ৩৫ শতাংশের নিচে এবং আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট ৫০ শতাংশের ওপরে সেই তেল দৈনিক ব্যবহারের জন্য ভালো।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তেলের স্মোক পয়েন্ট (অর্থাৎ যে তাপমাত্রায় তেল পুড়ে ফ্যাটগুলো ভেঙে  আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর এলডিহাইড তৈরি করে)। তাই রান্নার পদ্ধতির ওপরও অনেক কিছু নির্ভর করে। যেমন—অলিভ অয়েলে পলি-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকলেও এর স্মোক পয়েন্ট অনেক কম হওয়ায় ভাজাপোড়ার জন্য এই তেল ঠিক নয়। তবে সালাদ ড্রেসিং এবং অল্প আঁচের রান্নার জন্য ভালো। আমাদের দেশে যে পদ্ধতিতে খাবার রান্না করা হয় তাতে বেশি স্মোক পয়েন্ট (১৭৭ থেকে ২৩২ ডিগ্রি) সম্পন্ন তেলই উপযুক্ত। 

বর্তমানে আমরা রান্নায় সবচে বেশি ব্যবহার করি সয়াবিন তেল। কারণ এটি উদ্ভিজ্জ তেল। তবে তথ্যমতে সয়াবিন তেল অতিরিক্ত সেবনে ক্যান্সার, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। এই তেল অ্যান্টি-নিউট্রিয়েন্টস হিসেবে কাজ করে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, সয়াবিন তেল ডায়াবেটিস, স্থূলতা, স্নায়ুজনিত বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। এছাড়া চাহিদার কারনেই সয়াবিন তেল বেশি আমদানি করা হয়। আমরা যেন এর বিকল্প ভাবতেই পারি না। কেউ কেউ সরিষার তেলে রান্না করলেও তার সংখ্যা খুবই কম। এদিকে লাফিয়ে বেড়েছে সয়াবিন তেলের দাম। আমদানি নির্ভরতা কমাতে এবং সুস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে সয়াবিন তেলের ব্যবহার কমানো উচিত এবং সয়াবিন তেলের বিকল্প ভাবা উচিত। চাহিদা পূরণে দেশীয় তেলবীজ উৎপাদন বাড়ানো প্রয়োজন।

যে সকল তেল, যা সয়াবিন তেলের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা যায়, যেগুলো স্বাস্থ্যকরও বটে। তন্মধ্যে, সরিষার তেল, সূর্যমুখী তেল, জলপাই তেল, বাদাম তেল, তিল তেল, ভেন্না তেল, তিসি তেল, রাইসব্রান তেল, ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

তবে সয়াবিন তেলের সহজলভ্য বিকল্প হলো সরিষার তেল। এতে মাত্র ৭ শতাংশ স্যাচুরেটেড ফ্যাট রয়েছে। সরিষার তেলে মনো-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণ প্রায় ৬০ শতাংশ। ফলে আমাদের শরীরের কোলেস্টেরলের ভারসাম্য রক্ষা করতে সাহায্য করে। কার্ডিওভাসকুলার রোগের ঝুঁকি কমে, কারন সরিষার তেলে রয়েছে ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। সুস্বাস্থ্যের জন্য যা বেশ উপকারি। একসময় গ্রাম বাংলার একমাত্র ভোজ্যতেল ছিল সরিষার তেল। শুধু খাওয়ার জন্যই নয় চুল ও ত্বকের যত্নেও সরিষা তেল উপকারী। এর ওষুধি গুণের জন্য প্রাচীনকাল থেকেই আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে সরিষা তেলের উল্লেখ পাওয়া যায়। তবে ইদানিং সরিষার উৎপাদনও কমেছে। সয়াবিন তেলের কর্পোরেট আগ্রাসনে হারিয়ে গেছে স্বাস্থ্যসম্মত সরিষার তেল। সয়াবিনের ব্যাপক প্রচলনের ফলে সরিষা তেলের ব্যবহার দিন দিন কমে আসছে। 

সয়াবিন তেলের বিকল্প হিসেবে সূর্যমুখী তেলকে বিবেচনা করা হয়। এই তেল দেহের জন্য উপকারি, এটি বিপাক ক্রিয়া তরান্বিত করে। এই তেল প্রচুর পলি-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটসমৃদ্ধ। এর স্মোক পয়েন্ট অনেক বেশি (২২৭ ডিগ্রি)। দৈনিক যেকোনো রান্নার জন্য উপযোগী। সানফ্লাওয়ার তেলে ওমেগা-৩ ও ওমেগা-৬ আছে, যা রক্তের খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। সূর্যমুখী তেল উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি হ্রাস করে। এতে থাকা অসম্পৃক্ত ফ্যাট দেহের ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ায় এবং খারাপ কোলেস্টরলের মাত্রা কমায়।কোলেস্টেরলের মাত্রা কম থাকায় যারা ডায়েট করেন তাদের জন্য এটি উপযোগী। তবে গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত ভাজাপোড়ার ক্ষেত্রে এই তেল প্রযোজ্য নয়। এই তেল ভাজাপোড়া করার সময়ে এলডিহাইড নামের ক্ষতিকর উপাদান তৈরি করে, যা ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়।

রাইসব্রান তেল মনো-আনস্যাচুরেটেড ও পলি-আনস্যাচুরেটেড ফ্যাটসমৃদ্ধ। এর স্মোক পয়েন্ট (২৫৪ ডিগ্রি) বেশি হওয়ায় যেকোনো খাবার রান্নায় ব্যবহার উপযোগী। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, এই তেল রক্তের কোলেস্টেরল ও রক্তচাপ কমায়। এ ছাড়া টাইপ টু ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে ব্লাড সুগারের মাত্রাও কমায়। তবে যাঁদের ব্লাড প্রেসার কম, তাঁদের চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে এই তেল ব্যবহার করা উচিত।

জলপাই তেল। রান্নায় জলাপাই তেল বা অলিভ অয়েলের ব্যবহারের ইতিহাস অনেক আগের। শত শত বছর ধরে ভূমধ্যসাগর অঞ্চলে এই তেল ব্যবহার করা হচ্ছে। আচ্ছাদিত জলপাই থেকে এই তেল তৈরি করা হয়। সয়াবিনের বিকল্প হিসেবে এই তেল ব্যবহার করা যায়। কোলেস্টেরল কম থাকায় এটি হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। জলপাই তেলের বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদান শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। ডায়াবেটিস প্রতিরোধ, স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ, হাড় মজবুত করা, ওজন কমানো, মনকে প্রফুল্ল রাখা এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। শুধু খাবারেই নয়, ত্বকের যত্নেও জলপাই তেল উপকারী। তাই শীতে ত্বক ও চুলের যত্নে নিয়মিত জলপাই তেল ব্যবহার করতে পারেন।

চিনাবাদাম তেল। স্বাস্থ্যকর তেল হিসেবে বিবেচিত হয় চিনাবাদাম তেল। এই তেলে স্যাচুরেটেড ফ্যাট কম থাকে। এটি প্রাকৃতিকভাবে চর্বিমুক্ত। এটি রক্তনালীতে চর্বি জমা হ্রাস করে। সয়াবিনের পরিবর্তে এই তেলও ব্যবহার করা যায়। 

খাবারে যে তেলই ব্যবহার করুন না কেন, এর দোষ-গুণ নির্ভর করে কিভাবে এবং কোন ক্ষেত্রে ব্যবহার করছেন তার ওপর। তাই তেল কেনার আগে অবশ্যই পুষ্টিমান দেখে কিনুন। একটি কথা অবশ্যই বিবেচনা করা জরুরি, তেল যতই ভালো হোক, খাবারে মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার এবং মাত্রাতিরিক্ত ভাজাপোড়া সবার জন্যই ক্ষতিকর।

আমাদের দেশে পটুয়াখালীসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলে তেল জাতীয় ফসলের উৎপাদন হচ্ছে। ধানের উৎপাদনকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে অতিরিক্ত ফসল হিসাবে আরও কোথায় কোথায় এসব তৈলবীজ জাতীয় ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। চর এলাকার পতিত প্রত্যেকটি জমি আবাদের আওতায় আনার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী তেলবীজ বা তেলজাতীয় ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি করতে চরাঞ্চলে অবস্থিত পতিত জমি ব্যবহার করা যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে এসকল জমিতে তেল জাতীয় ফসল সয়াবিন, সূর্যমুখী ও সরিষার আবাদ করা যেতে পারে। তেল জাতীয় ফসল আবাদে উৎপাদন খরচ কম এবং লাভ বেশি। এছাড়া শেখ হাসিনার কৃষিবান্ধব সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় বীজ, সার, প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণসহ সক সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাসও রয়েছে ।

কোথায় কোথায় সরিষার উৎপাদন বাড়ানো যায় সেটা নির্ধারণ করে এক্সটেনশন সিস্টেম ডেভেলপ করতে হবে, যাতে দ্রুত এর উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। তেল উৎপাদনকারী পণ্যের উৎপাদন বাড়াতে হলে গবেষণায় ফলাফল মাঠ পর্যায়ে কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে। তা কি ফলাফল বয়ে আনছে সে বিষয়টি বিবেচনা করতে হবে। এটি করতে পারলে আগামী ৩-৪ বছরের মধ্যে ভোজ্যতেলের চাহিদা স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

ভোজ্যতেলের সংকট   উৎপাদন   ভোজ্যতেল   সংকট  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড থট

দার্শনিক রাষ্ট্রনায়কের কথা


Thumbnail দার্শনিক রাষ্ট্রনায়কের কথা

আমি আমার লেখায় প্রথমেই রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনাকে দার্শনিক রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে উল্লেখ করলাম। এর কারণ হচ্ছে এই যে, নেত্রীকে যখন আওয়ামী লীগের সভাপতি করা হয়, তিনি তখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এবং কিছু লোক তাকে আসতে বললেও অনেক বিজ্ঞ লোক তাঁকে খুব গভীর চিন্তা করে নিষেধ করেছিলেন এই কারণে যে, দেশে আসলে তাঁকে জীবন দিতে হবে। তাহলে বলা চলে যে, তিনি জীবনের মায়া ত্যাগ করে বাংলাদেশে আসলেন। কী জন্য আসলেন? আসলে একটি দার্শনিক চিন্তা নিয়ে; একটি দর্শনকে স্থায়ী রূপ দেওয়ার জন্য। সেই দর্শন হচ্ছে দেশপ্রেম। সেদিন কী ঘটেছিল সেই ঘটনা সবাই জানেন। তিনি যেদিন আসেন সে দিনকার ব্যাপারে আমি আলাদা কিছু বলতে চাই না। কারণ অনেক পত্র-পত্রিকায়ই লিখবেন এবং অনেকেই লিখবেন। সুতরাং ওই বিষয়ে আমি যাব না। আমি শুধু তার দর্শনের মধ্যেই আমার আলোচনা সীমাবদ্ধ রাখতে চাই। এই যে দেশপ্রেম, এটা কিন্তু শুধু মুখে বললে হবে না। তার একটি উদাহরণ দেই। ওয়ান-ইলেভেনের সময় যখন রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা দেশের বাইরে গিয়েছিলেন, তখন তাকে আসতে নিষেধ করা হলো। আবার তাঁর বিরুদ্ধে মামলাও করা হলো। যে কোনো সাধারণ লোকেরা দেশে মামলা-মোকদ্দমায় ভোগেন তারা বাইরে যাওয়ার জন্য অস্থির হয়ে যান। কিন্তু নেত্রী উল্টো হলেন। তিনি দেশে আসার জন্য পাগল হয়ে গেলেন। ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের মতো বিমান তাকে টিকিট দেয়নি। সরকার বলল, যে প্লেন তাকে আনবে সেই প্লেনের ল্যান্ডিং পারমিশন বাতিল হয়ে যাবে। অন্যভাবে বলা হলো, আসার পরে অজ্ঞাতভাবে তাকে হত্যা করা হবে। তিনি কোনো কিছুর তোয়াক্কা করলেন না। তিনি ওখানে অনেক আন্দোলন হওয়ার পরে দেশে এলেন। তার জোরটা কোথায়? কী জন্য তিনি তা পেরেছেন? পেরেছেন এ কারণে যে, একজন দার্শনিকের যে মূল দর্শন থাকে, দার্শনিক রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার দর্শন হচ্ছে দেশপ্রেম। দেশপ্রেমের জন্যই তিনি এসেছেন। সুতরাং জীবন এখানে তাঁর কাছে কোনো ব্যাপারই নয়। এখন নেত্রী অনেক কিছু করে চলেছেন এবং সবকিছুর ভিতর দেখা যায়, তাঁর আসল ব্যাপার হচ্ছে দেশপ্রেম। একমাত্র রাষ্ট্রনায়ক যার বিদেশে কোনো অ্যাকাউন্ট নেই। তিনি সততার একটি প্রতীক। 

আমি শুধু আমার নিজের স্বরভক্তির মতো বলছি যে, টুঙ্গিপাড়ার খোকা, তারপর মুজিবভাই, তারপর বঙ্গবন্ধু, তারপরে তিনি হলেন জাতির পিতা। এই যে পর্যায়ক্রমে হলেন। আর আমাদের দার্শনিক রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা, তিনি প্রথম ছিলেন ছাত্রনেত্রী হিসেবে সেই স্কুল জীবন থেকে শুরু। তারপরে তাঁর বিবাহ হলো। তিনি স্বামীর সঙ্গে জার্মানি গেলেন। সেই অবস্থায় তাঁরা দুই বোন বাইরে থাকায় তাঁরা বেঁচে গেলেও সবাইকে মেরে ফেলা হলো। তারপর তিনি এলেন। তখন তিনি হলেন আওয়ামী লীগের দলীয় প্রধান। আওয়ামী লীগের প্রধান থেকে তারপর অনেক সংগ্রাম করে তিনি তাঁর আসল অবস্থায় এলেন। প্রতিটি স্তরে তাঁকে সংগ্রাম করতে হয়েছে। সংগ্রাম করে তিনি সরকারপ্রধান হলেন বাংলাদেশের। তারপরও তাঁর সংগ্রাম চলল। তারপরে তিনি রাষ্ট্রনায়ক হলেন। এখন আমরা তাঁর বিভিন্ন কাজ, বিশেষ করে কমিউনিটি ক্লিনিক নিয়ে এনালাইসিস করতে গিয়ে দেখেছি, তাঁর দর্শনটা কী? তাঁর দর্শন হলো দেশপ্রেম থেকে। একটি বিষয় বলতে হয়, আমাদের দেশের যারা নিজেদের সিভিল সোসাইটির গুরু মনে করেন, যারা নিজেদের সততার প্রতীক মনে করেন তারা অনেকেই অনেক উপদেশ দেন এবং আমি মোটামুটি বেশ কয়েকজনকে চিনি, যারা আসলেই সৎ বলেই আমার বিশ্বাস। এখন দেশপ্রেমের বিষয়টি আমি আনতে চাই।

এই যে করোনাকালীন কঠিন সময়ে নেত্রী এ দেশের জীবন এবং জীবিকা দুটোই বাঁচালেন। বাঁচালেন কী জন্য? মূলত দেশপ্রেমের জন্য। এখন দেশপ্রেমের আসল বিষয়টি সম্বন্ধে একটু বলতে চাই। পাকিস্তান আমল থেকে শুরু করে অনেকেই ঘুষ খেত, অনেকেই টাকা বিভিন্নভাবে অনৈতিক পথে আয় করত। কিন্তু তারা দেশের ভিতরে খরচ করত। কিন্তু এখনকার যারা টাকা-পয়সা আয় করতে পারে, তারা বিদেশে নিয়ে যায়। ধনী-দরিদ্র সম্পর্কে এই সিভিল সোসাইটি থেকে এবং বিভিন্ন জায়গা থেকে অনেক লেখা পাই। পত্রিকা খুললেই বড় বড় লেখা পাই। কিন্তু যে জিনিসটা খুবই কম নজরে পড়ে সেটি হচ্ছে, এই যে শুধু টাকা বিদেশে পাচার হচ্ছে এতে ধনী-দরিদ্রের শূন্যস্থান বাড়ছে। এগুলো সবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে রাষ্ট্রনায়ক। শেখ হাসিনার দর্শন, দেশপ্রেম। এতে একটা জিনিস আমাদের সবার লক্ষ্য করতে হবে, যারা বিদেশে টাকা নিচ্ছে তাদের কোনো দেশপ্রেম নেই। আসল গোড়ায় হাত দিতে হবে। এই জন্যই তো তিনি দার্শনিক। তিনি গোড়ায় হাত দিয়েছেন। যাতে করে যারা দেশপ্রেমিক তারা টাকা-পয়সার কিছুতেই বিদেশে নিতে পারে না এবং এগুলোতে রাজনীতিবিদের যেগুলো সেগুলো নিয়ে অনেক হইচই হয়। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলছি, আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, দেখা গেল যে আমলারাই বিদেশে বেশি টাকা পাচার করেছেন। কিন্তু একজন আমলার বিষয়েও তো ঠিকমতো ইনভেস্টিগেশন হলো না। যারা ইনভেস্টিগেশন করবে এবং এগুলো দেখবে তারা (আমি জেনে বলছি) এতে আগ্রহী নয়। 

আমার জানামতে যারা এটা করতে পারে তাদেরও কিন্তু বিদেশে টাকা পয়সা নেওয়ার মতো সে রকম কোনো প্রমাণ নেই। কিন্তু তারা তাদের কলিগদের বিষয়ে হাত দিতে চায় না (শকুনের মাংস শকুন খায় না)। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদে অনেককে বসিয়েছেন। আমি শুরু করতে চাই একটা লোকের উদাহরণ হিসেবে বলে, সেটা হচ্ছে আমাদের মন্ত্রিপরিষদ সচিব। উনার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে আমার কোনোদিন আলাপও হয় নাই এবং আমি দেখিও নাই। যখন মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে নিয়োগ দেওয়া হয়, তখন অনেকে দাড়ি দেখে বলেছিলেন উনি তো জামায়াত-বিএনপি। পরে খোঁজ নিয়ে দেখা গেল যে, তিনি নিজেও মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বাস করেন এবং তার পরিবার মুক্তিযোদ্ধা এবং সম্ভবত মুক্তিযুদ্ধে একজন আত্মাহুতিও দিয়েছেন। অর্থাৎ রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা যে দার্শনিক তার প্রমাণ হলো, তিনি কে দেশপ্রেমিক সেটা কিন্তু বের করতে ভুল করেননি। তার কোনো ভুলভ্রান্তি নেই। এ রকম অনেক উদাহরণ আছে যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর যে দর্শন দেপ্রেম, তার থেকে বাইরে যান না। এখনো প্রধানমন্ত্রীর ওপরে যাদের ছায়া পড়ে, তাদের কার কার বিদেশে বাড়ি আছে সেটাও তো আমাদের দেখা দরকার। কারণ না হলে এদের দেশপ্রেম যদি না থাকে তাহলে নেত্রী যেহেতু রাজনীতিতে আছেন, তিনি তার জীবনের কোনো মায়া করেন না এবং তিনি যাকে দিয়ে যে কাজ করান তিনি সেটিই করেন। কিন্তু আমার প্রশ্ন হচ্ছে তার কাজ তো বেড়ে যায়। তার তো দার্শনিক চিন্তা-ভাবনা নিয়ে আরও অনেক কিছু করার সুযোগ ছিল সেই সময়টাতো নষ্ট হচ্ছে।


দার্শনিক   রাষ্ট্রনায়ক  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন