ইনসাইড থট

ক্যান্সার চিকিৎসার সুযোগ ও অসংক্রামক রোগের ব্যয় বহনের সামর্থ্য


Thumbnail

১৯ মে বাংলা ট্রিবিউন পত্রিকায় আমাদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মহোদয়কে উদ্ধৃত করে ছাপা হয়েছে- “প্রতি বছর দেশে মোট মৃত্যুর ৭০ শতাংশই হয় অসংক্রামক রোগের কারণে। বৃহস্পতিবার (১৯ মে) বিকালে রাজধানীর বনানীতে হোটেল শেরাটনে আয়োজিত এক সায়েন্টিফিক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জাহিদ মালেক বলেন, দেশে প্রতিবছর ১০ লাখ মানুষ স্বাভাবিক মৃত্যুবরণ করেন। তার মধ্যে ৭০ শতাংশই মারা যায় বিভিন্ন ধরনের অসংক্রামক রোগে। অসংক্রামক রোগে প্রতিদিন ১ হাজার ৯০০ মানুষ মারা যান। ভালো চিকিৎসা সেবা দিতে গেলে গবেষণা দরকার। আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় সংক্রামক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণে আছে, তবে অসংক্রামক রোগ বেড়ে গেছে”।

আমার ক্যান্সার প্রকল্পের গুরু প্রফেসর রিচার্ড লাভ যিনি দুনিয়ার খ্যাতিমান ক্যান্সার চিকিৎসকদের অন্যতম একজন, বাংলাদেশে আমার সাথে তার কাজের রেশ টেনে ধরে প্রায়ই বলেন এই দেশে ক্যান্সার রোগ নির্ণয়ের ও চিকিৎসার অন্যতম বাধা হলো “চিকিৎসার সুযোগ, ব্যয় বহনের সামর্থ্য ও মানের ঘাটতি”। ২০০৭ সালে আমি যখন তার সাথে ক্যান্সার নিয়ে কাজ শুরু করি তখন মানুষের জন্যে ‘চিকিৎসার সুযোগ’ সৃষ্টিকেই আমরা গুরুত্ব দেই, ফলে গ্রামে কেমন করে সেই সুযোগ তৈরি করা সম্ভব সেরকম চ্যালেঞ্জ হাতে নিয়ে আমাদের দুইজনের পথ চলা। রিচার্ড লাভ তখন যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইয়ো স্টেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষক। চিকিৎসা বৈষম্যের বিরুদ্ধে নামকরা এক প্রতিবাদী গবেষক, আর আমি মাইক্রোসফটের সহায়তায় বাংলাদেশের গ্রামে গ্রামে তরুণদের তথ্য-প্রযুক্তি শিক্ষা সম্প্রসারণ নিয়ে কাজ করি। আমার উদ্দেশ্যও একই, প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে কেমন করে তথ্য-প্রযুক্তির সেবা-সুযোগ তৈরি করা যায়। রিচার্ড লাভ আমাকে বললেন, ওই মানুষগুলোর জন্যে ক্যান্সার চিকিৎসার সুযোগ তৈরিতে, যা তখন নেই বললেই চলে, যদি কাজ কর তাহলে তোমার “মিশন কমপ্লিট” হবে। আমরা তথ্য-প্রযুক্তির সাথে মিলিয়ে ক্যান্সার নির্ণয় ও সুলভে মান সম্পন্ন চিকিৎসার একটি ব্রত নিয়ে বাগেরহাটের রামপালে কাজ শুরু করলাম। ২০০৭ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত এই দশ বছরে প্রফেসর রিচার্ড লাভ অন্তত অর্ধেক সময় বাংলাদেশে আসা যাওয়া করেছেন এই কাজে আর আমাদের দেশের এমন কোন পর্যায় নেই যেখানে যেয়ে তিনি বাংলাদেশের ক্যান্সার চিকিৎসার মান বাড়াতে তদবির করেননি। গবেষণা, প্রশিক্ষণ আর চিকিৎসা সেবা সহায়তায় বাংলাদেশের অগণিত ডাক্তারকে পরামর্শ দিয়েছেন ও তার বিশেষজ্ঞ বন্ধুদের এ দেশে ডেকে এনে আমাদের চিকিৎসকদের হাতে কলমে কাজ শিখিয়েছেন। আমার ধারণা বাংলাদেশের ক্যান্সার চিকিৎসার সাথে যুক্ত প্রায় সকলেই প্রফেসর রিচার্ড লাভের নাম জানেন ও সাক্ষাৎ পেয়েছেন। এমনকি আমার মতো অচিকিৎসক মানবিকের ছাত্রকেও তিনি অবিরাম প্রশিক্ষণ দিয়ে ও কাজ করিয়ে ক্যান্সার গবেষক বানিয়ে ছেড়েছেন! পৃথিবীর নামকরা বেশ কিছু জার্নালে আমার এখন ১৯টি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে তার অনুপ্রেরণা থেকেই। 

২০১৪ সাল থেকে বাংলাদেশ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের আগ্রহে ও অনুপ্রেরণায় আমার কর্মস্থল রামপালে আমরা একটি ক্যান্সার চিকিৎসা ও গবেষণা কেন্দ্র স্থাপনের কাজে হাত দেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী থেকে স্থানীয় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পর্যন্ত এমন কোন মানুষ নেই যারা আমাদের এই কাজে সহযোগিতা করেননি। তাতেই আমাদের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাতে লেগেছে ছ’বছর! এই ২০২১ সালের শেষের দিকে এর নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। ওদিকে কাজের কাজ যা হয়েছে রিচার্ড লাভ অভিমান করে এখন আর এই দেশে আসতে চাইছেন না। কারণ এই দীর্ঘসূত্রিতার জন্যে কে দায়ী সেটা তিনি আমাকে নির্ধারণ করে জানাতে বলেছেন, আমি তা খুঁজে পাচ্ছিনা। পেলেই তিনি আসতে শুরু করবেন এই কথা আমাকে বলেছেন।

এই প্রসঙ্গের অবতারণা এই কারণেই যে, আমাদের স্বাস্থ্য পরিষেবার অন্তর্গত সমস্যা আমাদের ভালো করে বুঝা দরকার। গত এক যুগ ধরে গ্রামাঞ্চলে ক্যান্সার চিকিৎসার সুযোগ তৈরি ও মানসম্পন্ন চিকিৎসা সেবা দিয়েছি আমরা প্রায় বাইশ হাজার মানুষকে। আমাদের গ্রাম প্রকল্পের কর্মীদের কাছে সেবা নিতে আসা প্রতিটি মানুষের সকল প্রকার প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত (নাম ঠিকানা থেকে শুরু করে সমস্যা, নিরীক্ষার বিবরণ, ধাপ অনুযায়ী চিকিৎসা সেবার সকল তথ্য) তথ্য-প্রযুক্তির মাধ্যমে সংরক্ষণ করা আছে। আর সেসব তথ্য কোন কম্পিউটারে নয় ক্লাউড সার্ভারে যাতে সহজে মুছে না যায়। আমাদের কর্মীদের কাছে আছে ইন্টারনেট সমেত মোবাইল ফোন, যার মাধ্যমে নির্ধারিত অ্যাপের মাধ্যমে সে প্রতিদিন গ্রামের মানুষের স্বাস্থ্য তথ্য সংগ্রহ করে হালনাগাদ করে যার মধ্যে আছে উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিরীক্ষা ও সেসবের তথ্য। আর এসব তথ্য দেশ বিদেশের যে কোন চিকিৎসক যে কোন সময় পর্যবেক্ষণ করে ‘চিকিৎসা গাইডলাইন’ অনুসারে মানসম্পন্ন চিকিৎসা সেবা পরামর্শ অনলাইনেই দিতে পারেন।

এই দেশে তথ্য-প্রযুক্তিকে উপযুক্ত নিয়মে ব্যবহার করে স্বাস্থ্য সেবা বিশেষ করে দুর্বিনীত রোগ প্রতিরোধে যেমন ক্যান্সার, কিডনি জটিলতা, মস্তিষ্কের ও হৃদযন্ত্রের অসুখ বা যে কোন অসংক্রামক রোগের বিষয়ে আমরা কোন মনোযোগই দেইনি। আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যানসার (আইএআরসি)-র অনুমিত হিসাবসূত্রে, প্রতি বছর বাংলাদেশে নতুন করে এক লাখ ৫০ হাজার মানুষ ক্যানসারে আক্রান্ত হন। আর মারা যান এক লাখ আট হাজার মানুষ। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় এই হিসাবটা আমাদের নিজেদের কাছে নেই! আমরা যদি আমাদের সবগুলো চিকিৎসা কেন্দ্রে তথ্য-প্রযুক্তির ঠিকমতো ব্যবহার করতাম তা হলে সব রোগের তথ্যই আমাদের কাছে থাকতো। যে কারণে কোন পরিকল্পনা নিয়ে এগুলে একটা দীর্ঘসূত্রিতার বাধা এসে আমাদের সামনে দাঁড়ায়, কারণ বিষয়টা বুঝতে হলে সামগ্রিক যেসব তথ্য আমাদের নীতিমহলে থাকা দরকার ছিল তা তাঁদের কাছে নেই।

ডা লাভের উদ্বেগ অনুযায়ী মানসম্পন্ন চিকিৎসার কথাও যদি বলি তাহলেও এসে যাবে খরচের হিসাব। অকারণ পরীক্ষা ক্যান্সার নির্ণয়ের প্রধান বাধা। কারণ এতো খরচ আমাদের দেশের মানুষের সাধ্যের মধ্যে নেই। কিন্তু আমাদের জ্ঞানেও নেই এতো বাহুল্য পরীক্ষা কেমন করে আমরা বাদ দেবো, এর জন্যে দরকার গবেষণা ও পড়াশুনা যা আমাদের চিকিৎসক সমাজের সবচেয়ে বড়ো দুর্বলতা। আমরা দেখেছি অভিযোগের একটি নির্ধারিত সূত্র ধরে এগুলে ঠিক ঠিক রোগটি ধরে ফেলা যায় যা সামান্য ইমেজ পরীক্ষা বা টিস্যু পরীক্ষার মাধ্যমেও সম্ভব। সন্দেহজনক না হলে কেন আমরা একটি মানুষের শরীর, মন আর আর্থিক সামর্থ্য নিয়ে এমন খেলায় নামি তার কোন কারণ আমরা বুঝে উঠতে পারিনা।

এখানে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ত্রুটিকে যারা গালমন্দ করেন তাদেরও ভুল আছে। ত্রুটি আমাদের সামগ্রিক সচেতনতার অভাব। আমাদের অজ্ঞতাকে যারা পুঁজি করে রোজগার করেন তাদের বিরুদ্ধে নীতিতে ব্যবস্থা নেই, আর নেই জনগণের মধ্যে প্রতিরোধের সাহস। এটা সম্ভব হতো যদি সরকার জনগণের পাশে আছে এটা জনগণ বুঝতে পারতো।

সবিনয়ে পাঠকবর্গকে জানাই, ক্যান্সার মোটেই ভয়ের কোন অসুখ নয়। এটা সঠিক নির্ণীত হলে আপনি সম্পূর্ণ নিশ্চিত। আর যাই-ই হোক হৃদরোগ আর মস্তিষ্কের স্ট্রোকের চেয়ে তো ভালো। যারা আমাকে-আপনাকে ক্যান্সার নিয়ে ভয় দেখায় তাদের অকারণ পরীক্ষার চেষ্টা থেকে বিরত থাকতে সরকার যেন একটা নির্দেশনা দেয় তার জন্যে সবাই মিলে কথা বলুন।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড থট

অর্থনীতির চাকা ঘুরিয়ে দেবে পদ্মা সেতু


Thumbnail

অনেকেই বলেছিলেন- সম্ভব না। ভাঙা শব্দ দুটি জোড়া লাগিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন- সম্ভাবনা। সেই সম্ভাবনা আজ জাতির সামনে উপস্থিত। এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। যার জন্যে অধীর আকুল আগ্রহে গোটা জাতি। বহুল প্রতীক্ষা, কাঙ্ক্ষিত, অনেক সাধনার পরে- ঠিক কোন বিশেষণে জাতির এই মাহেন্দ্রক্ষণটিকে উপস্থাপন করা সম্ভব বুঝতে পারছি না। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর মতো বড় একটি কাজ করে দেখানো একইসঙ্গে আনন্দের, গর্বের এবং সামর্থ্য প্রমাণের।

খুবই কী সহজবোধ্য ছিল নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু নির্মাণের ঘোষণাটি? মোটেও না। তবে মনের জোরে অনেক অসাধ্য সাধন হয়ে যায়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যখন নিজেদের টাকায় এই সেতু নির্মাণের ঘোষণা দেন, তখনও অনেক ‘যদি’ ‘কিন্তু’তে ঘুরপাক খাচ্ছিল জাতির এই স্বপ্নের সেতুটি। তবে বঙ্গবন্ধুকন্যার তেজদীপ্ত অঙ্গীকার জাতিকে এই অমূল্য উপহার এনে দিয়েছে। তাও খুব অল্প সময়ে। এমন এক সময়ে সেতুটির নির্মাণ কাজ দুর্বার গতিতে এগিয়ে গেছে, যখন করোনাভাইরাস মহামারীতে স্থবির গোটা পৃথিবী। অথচ এই কঠিন প্রতিবন্ধকতাও পদ্মার সামনে  দাঁড়াতে পারেনি বাধার দেয়াল হয়ে। 
একেবারে তিল তিল করে গড়ে উঠেছে আপাদমস্তক আস্ত সেতুটি। পদ্মা সেতুর গায়ে তুলির শেষ আঁচড়টি দেয়ার পর গত সপ্তায় জ্বলে ওঠে দুই পাশের বাতিগুলো। এতেই যেন জেগে উঠল প্রাণের সঞ্চার। তিল তিল করে গড়া আশার চিলতে যেন ধপ করেই উড়তে শুরু হলো এবার। এক সময়ের অন্ধকার পল্লী আজ জ্বলজ্বল করছে পদ্মার আলোয়। আলোকিত হয়েছে চারপাশ। ডানা মেলতে শুরু করেছে দেখা অদেখা উজ্জ্বল স্বপ্নগুলো। পদ্মা সেতুর ছবি দেখে মনে হয় যেন শিল্পীর গাঁথুনি দিয়ে একটু একটু করে বানানো একটি ক্যানভাস। এটি কেবল একটি সেতু নয়, আমাদের সামর্থ্যরে স্মারক হয়ে থাকবে। একইসঙ্গে বিশ্বকে একটি বার্তাও দিয়ে গেল, বাঙালি বরাবরের মতোই অদম্য। আমরা চাইলে সবই পারি।

তবে এই অসাধ্যটি সাধন হতো না, যদি না জাতির পিতার সুযোগ্য উত্তরসূরি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্ববাসীর সামনে এই অঙ্গীকার করতেন। তিনি প্রমাণ করে দিয়েছেন, কিভাবে অজেয়কে জয় করতে হয়। প্রধানমন্ত্রীর এই প্রতিশ্রুতি বাঙালির জাতির সামনে বহুকাল প্রেরণা হয়ে থাকবে। 

সবচেয়ে বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, অনেকগুলো জেলার মানুষ এ প্রথম সড়কপথে পদ্মা পারাপার তথা রাজধানীর সঙ্গে যোগসূত্র রচনা করতে পারবে। শরীয়তপুরের মানুষ নিশ্চয়ই কখনও ভাবেনি উত্তাল প্রমত্ত পদ্মার ঢেউয়ে জীবন-মৃত্যুর মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা ছাড়াও নদী পারাপারের বন্দোবস্ত হবে কোনো এক কস্মিনকালে!

পদ্মা সেতু দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটাবে, যার প্রকৃষ্ট প্রমাণ বঙ্গবন্ধু সেতু, যাকে ঘিরে উত্তরবঙ্গে শিল্প বিপ্লব ঘটেছে। এই সেতুর ফলে উত্তরবঙ্গের অর্থনীতিতে যে পরিবর্তন হয়েছে তা বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে প্রায় ২% অবদান রেখেছে।

পদ্মা সেতুর ক্ষেত্রেও এ ধরনের অবদান অনুমান করা হয়েছে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, যমুনার চেয়ে পদ্মা সেতুর অবদান বেশি হবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পদ্মা সেতুর পথ ধরে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ম্যানুফ্যাকচারিং ব্যবসা, আরএমজি, অ্যাসেম্বলিং প্লান্ট, স্টোরেজ সুবিধাসহ অনেক ছোট-বড় শিল্প গড়ে উঠবে। এডিবির হিসাব অনুযায়ী, এই সেতুকে ঘিরে প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ আঞ্চলিক অর্থনীতিকে চাঙ্গা করবে। জাইকার হিসাব অনুযায়ী, ঢাকা থেকে ভ্রমণের সময় ১০ শতাংশ হ্রাস জেলা অর্থনীতিকে ৫.৫ শতাংশে উন্নীত করবে, যা এই অঞ্চলের বার্ষিক জিডিপি প্রবৃদ্ধি ১.৭ শতাংশ বৃদ্ধি করবে।

শুধু কতগুলো জেলার মানুষ সড়ক পথে ঢাকা ছোঁবার আনন্দ পাবে তা নয়, জাতীয় অর্থনীতিকেও অনেকখানি চাঙা করে তুলবে এই সেতু। এই যেমন যশোরের গদখালীর ফুল, যা বিদেশেও রপ্তানি হয়; অথচ ঢাকায় পৌঁছানোই ছিল বাস্তবতার প্রেক্ষিতে অত্যন্ত ব্যয়বহুল। এখন খুব সহজে ঢাকায় পৌঁছে যাবে ভোরে ফোটা ফুলটিও। খরচও পড়বে না আহামরি কিছু। খুলনার মাছ বলুন আর বরিশালের ধান-পান, সবই রাজধানী ছোঁবে কোনো রকমের ঝক্কি ঝামেলা ছাড়াই। এই পণ্য আনা-নেওয়ায় বিশাল একটি ঝামেলা থেকে মুক্তি পাচ্ছে লাখ লাখ মানুষ, তা সরাসরি ঘুরিয়ে দিবে অর্থনীতির মোড়। বাড়বে জিডিপি। আর গতিশীল হবে অন্তত তিন কোটি মানুষের জীবিকার চাকা।

আজকের এই বিশেষ ক্ষণে সমগ্র জাতির মতো আমরাও আনন্দিত, আহ্লাদিত। আমাদের আনন্দটা একটু বেশিই। কেননা, স্বপ্নের পদ্মা সেতুতে রয়েছে আমাদের উৎপাদিত দুটি গুরুত্বপূর্ণ সামগ্রী সিমেন্ট এবং বিটুমিন। সেতু নির্মাণে প্রয়োজনীয় সিমেন্টের ৮০ ভাগের বেশি জোগান দিয়েছে বসুন্ধরা গ্রুপ। ‘দেশ ও জাতির কল্যাণে’ প্রতিপাদ্যে দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলা বসুন্ধরা গ্রুপ জাতির গর্বের সেতুর সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারাটা সীমাহীন আনন্দের।

সেতুটি মসৃণ করতে ভূমিকা রেখেছে বসুন্ধরা বিটুমিন। দেশে উৎপাদিত আধুনিক ও উন্নত গ্রেডের এই বিটুমিন ব্যবহৃত হয়েছে পদ্মাসেতুর সংযোগ সড়কগুলোতেও। বসুন্ধরা বিটুমিনের কারখানা স্থাপনের মূল লক্ষ্যই ছিল দেশের সড়ক খাতে অভাবনীয় পরিবর্তন এনে দেওয়া। বিদেশ থেকে আমদানিকৃত নিম্ন গ্রেডের বিটুমিনে সড়ক টেকসই হয় না। ভেঙে যায় নতুন সড়কও। এতে ভোগান্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকারকে গুণতে হয় বিশাল অংকের বৈদেশিক মুদ্রা। দেশে বসুন্ধরা বিটুমিন উৎপাদন শুরু হওয়ায় বহুমুখী সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছে। পদ্মা সেতুর মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে এই বিটুমিনের ব্যবহার এর গুণগত মানকেই তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে।

একজন বাণিজ্য সহায়ক নেতা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়াতে বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন যা খুবই সহায়ক বলে মনে করেন ব্যবসায়ীরা। ফলস্বরূপ, বাংলাদেশী উদ্যোক্তারা অন্যান্য দেশের সাথে আমদানি বৈষম্য কমাতে নতুন নতুন উৎপাদনমুখী ব্যবসা অন্বেষণ করছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রীর আরও আশীর্বাদ দরকার যাতে আমদানি সহায়ক শিল্পগুলো দেশীয় উদ্যোক্তাদের দ্বারা সহজে বেড়ে উঠতে পারে।

অন্যদিকে, বসুন্ধরাই একমাত্র বাংলাদেশি কোম্পানি, যাদের সিমেন্ট ব্যবহৃত হয়েছে মূল সেতুর পিলারে। মূল পিলারে আর কোনো দেশি ব্র্যান্ডের সিমেন্ট ব্যবহৃত হয়নি। এ ছাড়া প্রকল্পের সংযোগ সড়কের কাজ আরো আগে শেষ হয়েছে। পুরো সংযোগ সড়কের কাজ এককভাবে শতভাগ বসুন্ধরা সিমেন্ট দিয়ে হয়েছে। এ ছাড়া জাজিরা ও মাওয়া এই দুই প্রান্তে নদীশাসনের কাজে আমাদের ১৪টি সিমেন্ট সাইলো দেওয়া আছে। এটাও শতভাগ বসুন্ধরা সিমেন্ট দিয়ে হচ্ছে। পদ্মা রেলওয়ে লিংক প্রকল্প যার মাধ্যমে পদ্মা সেতু থেকে যশোর পর্যন্ত রেলপথ তৈরি হচ্ছে সেখানেও এককভাবে শুধু বসুন্ধরা সিমেন্ট ব্যবহৃত হবে। এভাবে দেশের সর্ববৃহৎ মেগাপ্রকল্প পদ্মা সেতুতে চার লাখ টন সিমেন্ট সরবরাহ করে সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে বসুন্ধরা সিমেন্ট।

এতসব আনন্দের উল্টো পৃষ্ঠায় দুঃখের গল্পও কম নয়। সেই প্রারম্ভিক ষড়যন্ত্রই কিন্তু শেষ কথা নয়। বরং সেটি ছিল শুরু। এরপর সেতুর একেকটি পিলার মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে, তার গুজব কল্পনার ডালপালা ছাড়িয়েছে হু হু করে। কোটি কোটি মানুষের আস্থা আর ভরসার এই সেতুটি থামিয়ে দিতে অযুত নিযুত মাস্টারপ্ল্যান ভেস্তে গেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সার্বক্ষণিক তদারকির কাছে কোনো অপশক্তিই ভিড়তে পারেনি। আমি মনে করি, এই সেতুটি হয়েছে শুধুমাত্র বঙ্গবন্ধুকন্যার আন্তরিকতার কারণে। অথচ উদার মানসিকতার পরিচয় দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘দেশের মানুষ চেয়েছে বলেই শেষপর্যন্ত পদ্মা সেতু বাস্তবায়ন হয়েছে।’ এই সেতুটিও হয়ে থাকুক প্রধানমন্ত্রীর প্রতি গণমানুষের আস্থা আর ভালোবাসার প্রতীক হয়ে।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড থট

বিশ্বে শেখ হাসিনা এখন সফলতার প্রতীক, আর বাংলাদেশের মর্যাদার প্রতীক


Thumbnail বিশ্বে শেখ হাসিনা এখন সফলতার প্রতীক, আর বাংলাদেশের মর্যাদার প্রতীক

বাঙালির জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা আজ সারা পৃথিবীতে সফলতার মূর্ত প্রতীক, তিনি এখন বাংলাদেশের মর্যাদার প্রতীক। এটা আজ প্রতিষ্ঠিত, গত এক যুগে বাংলাদেশ পৃথিবীতে মর্যাদার এক আকাশচুম্বী জায়গা করে নিয়েছে। বাংলাদেশের এই মর্যাদার প্রতীক শেখ হাসিনা, কারণ যে সফলতার কারণে বাংলাদেশের এই মর্যাদা, সেই সফলতার মূল নায়ক তিনি।

শেখ হাসিনার সফলতার গল্প আজ শুধু জাতীয় কিংবা আঞ্চলিক পর্যায়ে নয়, গোটা পৃথিবীতে তাঁর সাফল্যের কাহিনী ছড়িয়ে পড়েছে। বর্তমান গণতান্ত্রিক বিশ্বে তিনি সবচেয়ে দীর্ঘতম সময় ধরে নেতৃত্ব দেয়া জাতীয় নেতা। অর্থনৈতিক, সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে তার মতো সফলতা পাওয়া নেতা পৃথিবীতে বিরল। গত দুই দশকে পৃথিবীর কোন জাতীয় নেতা শেখ হাসিনার মতো এরকম সফলতা দেখতে পারেনি। তাঁর সফলতার গল্প আজ বিশ্ব নেতাদের মুখে মুখে। তাঁর উন্নয়ন কৌশল আজ পৃথিবীর নানা দেশ অনুসরণ করছে। মোটা দাগে বলতে গেলে, শেখ হাসিনা সারা বিশ্বে আজ সফলতার এক প্রতীক। 

রাত পোহালে বাংলাদেশের সর্বশেষ মর্যাদার প্রতীক, বাঙালির স্বপ্নের সেতু, পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করবেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা। এই অসম্ভবকে সম্ভব করার জন্য পুরো দুনিয়া এখন শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানাচ্ছে। এটা সত্যি, অনেকের মতে পদ্মায় সেতু নির্মাণ বাংলদেশের জন্য এক অসাধ্য কাজ ছিল। তার উপর রয়েছে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র। তাই এই কাজটি বাংলাদেশের কোন নেতা করতে পারবেন- এটি এদেশের অনেকেই বিশ্বাস করতে পারেননি। অন্যদিকে,  ষড়যন্ত্রকারীরা শেখ হাসিনার শক্তি- সামর্থ সম্পর্কে ধারণা করতে পারেনি। তারা ভুলে গিয়েছিলো, শেখ হাসিনা বাঙালি জাতির পিতা শেখ মুজিবের মেয়ে, যে শেখ মুজিব তদানীন্তন বিশ্ব ব্যবস্থার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে এবং বিশ্বের পরাশক্তিদের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে বাংলাদেশ সৃষ্টি করেছিলেন। ষড়যন্ত্রকারীরা  নানাভাবে বলে আসছিলো, বাংলাদেশ পদ্মা সেতু নির্মাণের মতো কঠিন কাজটি করতে পারবে না l পুরো পৃথিবীকে অবাক করে দিয়ে রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা এই  অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন। পিতার মতো শেখ হাসিনাও বিশ্ব মোড়লদের কর্তৃত্বকে  চ্যালেঞ্জ করে বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ভৌত কাঠামো পদ্মা সেতু নির্মাণ করলেন। শেখ হাসিনা উন্নয়নশীল বিশ্বের একমাত্র নেতা যিনি বিশ্ব ব্যবস্থার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে এই বিশাল কাজটি করতে পারলেন। তাঁর এই কাজের সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়বে বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থায়।

বিশ্বে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধির একমাত্র কারণ পদ্মা সেতু নয়। আরও বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে আকাশচুম্বী সাফল্য অর্জন করেছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ। কৃষি বিপ্লব, পোশাক রপ্তানি, স্বাস্থ্য সেবা, নারীর ক্ষমতায়ন, বিদ্যুৎ উৎপাদন, দ্রুত সময়ে ব্যাপকভিত্তিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, এসডিজি অর্জনে বিশ্বে শ্রেষ্ঠত্ব, সামাজিক নিরাপত্তা চিশ্চিতকরণ, সমুদ্রে অধিকার প্রতিষ্ঠা, তথ্য প্রযুক্তিতে বৈপ্লবিক উন্নয়ন - এসকল ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক সাফল্য দেখিয়ে বিশ্বে বাংলাদেশ মর্যাদার স্থান করে নিয়েছে। গত একযুগেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ এই সাফল্য দেখিয়ে আসছে। তাই শেখ হাসিনার পদ্মা সেতু নির্মাণের ঘটনাটি তাঁর নিরবিচ্ছিন্ন সাফল্যের ধারাবাহিকতা l এটি বিচ্ছিন্ন কোন সাফল্য নয়। 

যে আকাশ চুম্বী স্বপ্ন নিয়ে জাতির পিতা স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, ১৯৭৫ সালে জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করে সেই স্বপ্নকে নস্যাৎ করতে চেয়েছিলো বাংলাদেশ বিরোধী চিহ্নিত অশুভ শক্তি। তারা ভেবেছিলো, জাতির পিতার মৃত্যুর পর বাংলাদেশ পথভ্রষ্ট হবে, বাংলাদেশ আর দাঁড়াতে পারবে না। তাদের এই ষড়যন্ত্রকে নস্যাৎ করে জাতির পিতার কন্যা শেখ হাসিনা পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়নে নানা কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করলেন। সেই কমিটমেন্টের সর্বশেষ নমুনা স্বপ্নের পদ্মা সেতু নির্মাণ। তাই আজ জাতীয় উদযাপনের এই দিনে জাতির পিতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বের এই সাফল্য দেখে আজ ভারতের সাবেক একজন সেনানায়ক জেনারেল সুজান সিং উবানের প্রায় চল্লিশ বছর পূর্বের একটি লেখার কথা মনে পড়ছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে জেনারেল উবানের এক গৌরবজনক ভূমিকা রয়েছে। ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত  তাঁর লেখা বই Phantoms of Chittagong: The "Fifth Army" in বাংলাদেশ  এ উল্লেখ করেছেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার পর থেকে বাংলাদেশে কোন যোগ্য নেতৃত্ব গড়ে উঠেনি। তাঁর লেখায় বাংলাদেশের ভবিষ্যত যোগ্য নেতৃত্বের ইঙ্গিত রয়েছে। তিনি লিখেছিলেন, বাংলাদেশ মেধাবী ও যোগ্য নেতৃত্বের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নেতৃত্ব দিবে। তখন অনেকেই বাংলাদেশকে অনুসরণ করবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ ও মেধাদীপ্ত নেতৃত্বে বিশ্বে বাংলাদেশের বীরত্বপূর্ণ উত্থান- জেনারেল উবানের প্রায় ৪০ বছর পূর্বের লেখার সত্যতা প্রমাণ করে। 

একজন বাঙালি হিসেবে আজ আমি গর্বিত, আমরা শেখ হাসিনার মতো একজন নেতা পেয়েছি যিনি বাংলাদেশকে আজ বিশ্বে নেতৃত্বের পর্যায়ে নিয়ে এসেছেন, যিনি বাঙালিকে বিশ্বজয়ের স্বাদ পাইয়ে দিয়েছেন। শেখ হাসিনা পিতার মতো জাতিকে মমতা দিয়ে আগলিয়ে রেখেছেন, মহামারী- বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও বিপর্যয় সহ সকল বিপদ- আপদ থেকে জাতিকে রক্ষা করে চলেছেন,  দেশকে রক্ষার জন্য পিতার মতো মৃত্যুঝুঁকি কাঁধে নিয়ে দেশের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। এই বাংলাদেশ যতদিন বেঁচে থাকবে, কালজয়ী রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তাঁর নানা যুগান্তরকারী অবদানের জন্য ততদিন তিনি বাঙালির হৃদয়ে বেঁচে থাকবেন।


পদ্মা সেতু   শেখ হাসিনা  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড থট

কার সাধ্য বাংলাদেশকে রুখে!

প্রকাশ: ০৬:০৯ পিএম, ২৪ Jun, ২০২২


Thumbnail কার সাধ্য বাংলাদেশকে রুখে!

পদ্মা যেন প্রায় সমুদ্র। একেবারে ছোটবেলায় তো আর সমুদ্র দেখিনি। গোপালগঞ্জে দাদার বাড়ি যাওয়ার সময় পাড়ি দিতে হতো পদ্মা নদী। পাড়ি দিয়ে চলে যেতাম, কিন্তু মনের মধ্যে প্রবল হয়ে জেগে থাকত তার অক্ষয় রূপ। কারণ গ্রামের বাড়ি যাওয়ার পথে পদ্মা পার হওয়াটাই যেন আসল ঘটনা। স্মৃতি থেকে অন্য সবকিছু মুছে গেলেও পদ্মাকে মুছে দেয় সাধ্য কার! তার সে কী বিশালতা! এপারে দাঁড়ালে ওপার দেখা যায় না। ওই যে গানে শুনেছি ‘কূল নাই, কিনার নাই, নাই সে দরিয়ার পাড়ি’, তার সঙ্গে পদ্মার স্মৃতিই যেন একাকার হয়ে আছে। এ যেন সেই দরিয়া, সেই অপার সমুদ্র।

পদ্মা আমরা পাড়ি দিতাম রাজবাড়ি থেকে ফেরিতে করে। দুয়েকবার স্পিডবোটেও গেছি বলে মনে পড়ে। তবে ফেরিই ছিল আসল। পদ্মা পাড়ি দেওয়া কি এতই সহজ! বাংলাদেশে সব নদীর রানি সে। তার সামনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হবে, দেবীর দর্শনার্থীর মতো আকুল হয়ে দীর্ঘ লাইনে ধীরে ধীরে এগোতে হবে, তবেই না মুক্তি। আবার ফেরিতে উঠেও কি যাত্রা এত দ্রুত শেষ হয়! তরঙ্গে তরঙ্গে মনের মধ্যে পদ্মার ছাপ গভীর হয়ে উঠতে থাকে। আর পদ্মার সঙ্গে মিলমিশে থাকে জেলেদের ইলিশ ধরার আনন্দ।

দীর্ঘ পথে পদ্মা মর্মে মর্মে বুঝিয়ে দেয় ওর অস্তিত্ব। বুঝিয়ে দেয়, সে আছে—সৌন্দর্যে, বিশালত্বে, আবেগে, বাংলাদেশের মূল ধমনী হয়ে, আমাদের জীবনযাত্রায়। বাংলাদেশের গহন থেকে উঠে এসে পদ্মা তার তীব্র স্রোত নিয়ে ঢুকে গেছে আমাদের জীবনের গভীরে।

সেই পদ্মা নদীর দুই পার এবার যুক্ত হলো সেতুবন্ধে। ভারতীয় পুরাণের কাহিনীতে সমুদ্রের অতল বুকে অসাধ্য এক সেতু গড়ে তুলেছিলেন রাম, সীতাকে উদ্ধারের জন্য। পদ্মা সেতুর মধ্যেও যেন লুকিয়ে আছে তার এক প্রতীকী তাৎপর্য। পদ্মার প্রকৃতির কারণে এই সেতু গড়ে তোলা ছিল দুঃসাধ্য। আর সেতুটি তো দক্ষিণবঙ্গের বিপুল জনপদকে বিচ্ছিন্নতা থেকে উদ্ধারের এক পরম পথ। পদ্মা সেতু রচনায় যে অনমনীয় নেতৃত্বের প্রয়োজন ছিল, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্থির প্রতিজ্ঞায় বীরের মতো সেটা দিয়ে এসেছেন। একদিন যখন তিনি থাকবেন না, এই সেতু থাকবে তাঁর দৃঢ় সংকল্পের উদাহরণ হয়ে, বাংলাদেশের অসম্ভব প্রাণশক্তির এক নিদর্শন হয়ে।

এই সেতুর গড়ে ওঠার পথে পদে পদে ছিল বাধা। প্রথমে ছিল প্রকল্পটি থেকে বিশ্বব্যাংকের সরে যাওয়া। প্রধানমন্ত্রী বললেন, নিজেদের টাকা দিয়েই আমরা নিজেদের এই সেতু গড়ে তুলব। প্রথমে শুনে মনে হয়েছিল, এ একটা অসম্ভব ভাবনা। অনেকেই হাহাকার করে উঠেছিলেন। বলেছিলেন নানা আশঙ্কার কথা। নানা রকমের গুজবে আর জল্পনায় বাতাস ভারি হয়ে গিয়েছিল। এত বড় একটি প্রকল্প যে নিজেদের টাকায় করা সম্ভব, এই অটল আত্মবিশ্বাস নিয়ে প্রায় একাকী এগিয়ে গেলেন শেখ হাসিনা। অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখালেন। পদ্মা সেতু সম্ভবত তাঁর শ্রেষ্ঠতম অবদান, এই বঙ্গবাসীর জন্য। মানুষ নশ্বর, কিন্তু এই সেতুটি তাঁর স্মৃতি জাগিয়ে রাখবে। সব বাধা পেরিয়ে বাংলাদেশের নিজেরই আর্থিক সামর্থ্যে যে এটি হতে পারল, সে এক চমকপ্রদ ঘটনা। পদ্মা সেতু বাঙালির ক্ষয় হতে থাকা সাহস আবার আমাদের বুকে ফিরিয়ে দিল। পদ্মা সেতু ভবিষ্যতে আমাদের কী দেবে, সেটা পরের কথা। আপাতত আমাদের হারিয়ে যাওয়া সাহস ফিরিয়ে দেওয়াই এর সবচেয়ে বড় কীর্তি।

শেখ হাসিনা এ অব্দি অনেক দুঃসহ পথ পাড়ি দিয়ে এসেছেন। ১৯৭৫ সালের নৃশংস এক হত্যাকাণ্ডে হারিয়েছেন পরিবারের প্রায় সবাইকে। তাঁর প্রাণসংহারের চেষ্টা হয়েছে বারবার। একাধিকবার কোনোক্রমে প্রাণে বেঁচেছেন। সেসব অন্ধকার তাঁকে ভেতর থেকে ন্যুব্জ করে ফেলারই কথা ছিল হয়তো। কিন্তু প্রতিবার তিনি মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছেন। এগিয়ে গেছেন প্রচণ্ড ইতিবাচক এক সংকল্প নিয়ে। পদ্মা সেতু তাঁর অনমনীয় সংকল্পের এক অমোঘ চিহ্ন।

বলছিলাম ভবিষ্যতের কথা। সেসব অর্থনীতিবিদ আর বিশেষজ্ঞদের বিষয়। তবে আমাদের অভিজ্ঞতা বলে, বাংলাদেশের মতো নদীবহুল দেশে প্রতিটি সেতুই অসম্ভব লাভজনক হয়েছে। মানুষের জন্য, দেশের জন্য। শুধু লাভের হিসেবই বা এখানে আসবে কেন? একেকটি সেতু একেক অঞ্চলের জনপদকে যেভাবে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে, তার হিসাব শুধু নগদ টাকায় গোণা যাবে না। উত্তরাঞ্চলের প্রতি বছরের করুণ দুর্ভিক্ষ যে কর্পূরের মতো উবে গেল, তার পেছনে এক যমুনা সেতুর ভূমিকাই অসামান্য। তাই পদ্মা সেতুকে ঘিরে শুধু এই নদীটির দুই পারের মানুষদেরই নয়, সারা দেশবাসীরই বিপুল উত্তেজনা। পদ্মা সেতুর স্বপ্নের মধ্যে যেন সারা দেশের মানুষের বিন্দু বিন্দু স্বপ্ন একাকার হয়ে মিশে আছে। দক্ষিণবঙ্গের মানুষের স্বপ্ন, এই সেতু আসছে তাদের উন্নততর জীবনের দিকে পাড়ি দেওয়ার একটি বাহন হয়ে। এই সেতুর ঘটকালিতে দুই পারের ভূখণ্ডের পরিণয়ে সারা দেশের মানুষই যেন বরযাত্রী।

পদ্মার দুই পার আলিঙ্গন করুক। সমস্ত পথে দেশের মানুষের মধ্যে সেতুবন্ধ গড়ে উঠুক। কার সাধ্য বাংলাদেশকে রোখে!


মন্তব্য করুন


ইনসাইড থট

পদ্মা সেতুর বিরোধিতাকারীদের ক্ষমা করে দিস


Thumbnail পদ্মা সেতুর বিরোধিতাকারীদের ক্ষমা করে দিস

প্রিয় বন্ধু মাহে আলম ও আনু,

আজ সকালে ঘুম থেকে উঠার পর থেকে তোদের দুজনের কথা খুব মনে পড়ছে। খুব খারাপ লাগছে। তোরা জানিস কিনা জানি না। আগামীকাল সকালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রমত্তা পদ্মার বুকে নির্মিত পদ্মাসেতু উদ্বোধন করবেন। সারা দেশ তাই আনন্দে উদ্বেলিত। খুশির জোয়ারে ভাসছে সবাই। তোদের আর আমার মত যাদের বাড়ি ভোলা, ফরিদপুর বা যশোরে- তারা জানে এ সেতুর মর্ম। তোরা তো জীবন দিয়ে সেটা প্রমান করে গেলি। যারা আরিচা গোয়ালন্দ পাড়ি দিয়েছে ফেরি, লঞ্চ আর স্পিড বোটে তাদের মধ্যে তো খুশির জোয়ার বইবেই। এসব শুনে কি তোদের মন খারাপ লাগছে? তবে আজ আরো অনেকেরই মন খারাপ। যারা ষড়যন্ত্র করে পদ্মা সেতু নির্মাণ বন্ধ করতে পারেনি, আজ তাদের মন খুব বেজার। যারা বলেছিলো এ সরকার পদ্মা সেতু করতে পারবে না, তাদের মন তো খারাপ হবারই কথা। যারা বলেছিলো জোড়াতালির পদ্মা সেতুতে উঠবেন না। রিস্ক আছে। তাদের তো আতে ঘা লাগবারই কথা।

শুনলাম, আমাদের শৈশব কৈশোরের শহর বরিশাল থেকে অর্ধশত লঞ্চের মিছিল যাচ্ছে জাজিরায়। সরাসরি লঞ্চ মিছিলটি দেখতে পারলে ভালোই লাগতো। কিন্তু সম্ভব না। আমি আছি প্রবাসে। আর তোরা তো এখন তারা হয়ে আকাশে। আচ্ছা, তোরা কি উপর থেকে সব কিছু দেখতে পারিস? দেখতে পারলে তো ভালোই হতো। লঞ্চ মিছিলটি দেখতে পারতি। লঞ্চ মিছিলের কথা শুনেও তোদের ভালো লাগছে না? বুঝেছি। তোদের আর বিশ্ব ব্যাংকের পেছনে লাগাদের খারাপ লাগার কারণ এক না। তোরা হয়ত ভাবছিস, পদ্মা সেতু আরো আগে হলে তোদেরকে প্রমত্তা পদ্মায় ডুবে মরতে হতো না। ঠিকই তো। সেদিন তোরা লঞ্চ বা স্পিড বোটে পদ্মা পাড়ি না দিলে তোরা ওভাবে মরতি না। হ্যা রে, পানিতে ডুবে মরতে তোদের কি খুব কষ্ট হয়েছিল? আজকের এই সেতুটি থাকলে তোরা কি সেদিন লঞ্চ বা স্পিড বোটে উঠতিস। নিশ্চয়ই না। পদ্মা সেতু থাকলে হয়ত সেদিন বেঁচে যেতি। অকালে মরতে হতো না। কি জানি? বেঁচে থাকলে হয়তো দুজনেই আজ ডাক্তার হিসাবে দেশ দশের সেবা করতে পারতিস।

বন্ধু আনোয়ার হোসেন আনু, তোর জন্য একটু কম খারাপ লাগছে। তোর মৃত্যুর তারিখ ২৩ মে ১৯৯৬। তখন এ সেতু নিয়ে মাত্র কথাবার্তা শুরু হয়েছে। কিন্তু বন্ধু মাহে আলম, তোর জন্য আজ আমার বেশি কষ্ট হচ্ছে। কান্না পাচ্ছে। স্পিড বোট দুর্ঘটনায় তুই হারিয়ে গেছিস ২০১৩ সালের ২৮ নভেম্বর। সরকার এপ্রিল ২০১০ সালে এ প্রকল্পের জন্য প্রাক-যোগ্যতা টেন্ডার আহ্বান করে। সেতুর নির্মাণ কাজ ২০১১ সালের প্রথম দিকে শুরু করার কথা ছিল। সেতুটি প্রস্তুত হওয়ার কথা ছিল ২০১৩ সালের শেষের দিকে। দেশি বিদেশী চক্রান্তে বিশ্ব ব্যাংক সেদিন অর্থায়ন থেকে সরে না গেলে হয়ত ওই সময়ের মধ্যে সেতুটি হয়ে যেত। তাহলে তোকে আর সেদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্পিড বোটে উঠতে হতো না। বন্ধুরা আমার, দেশি বিদেশী এসব কুচক্রীদের  ক্ষমা করে দিস। ওদের অনেকেই আমাদের এ দেশের সন্তান। হয়তো দেশপ্রেমের একটু অভাব রয়েছে। তবুও---। ওদের প্রতি রাগ, ক্ষোভ, দুঃখ পুষে রাখিস না। অভিশাপ দিস না। শুধু দোআ করিস, আল্লাহ যাতে ওদেরকে হেদায়েত করেন। ভবিষ্যতে ওরা যাতে তোদের মতো আর কারো মৃত্যুর কারণ হয়ে না দাঁড়ায়।

ইতি
তোদের সহপাঠী বন্ধু কামরুল
১৮ তম ব্যাচ, ১৯৮৬-৮৭ শিক্ষাবর্ষ
শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ, বরিশাল 

পদ্মা সেতু উদ্বোধন   পদ্মা সেতু   উদ্বোধন  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড থট

বাংলার রাজনৈতিক নক্ষত্র শেখ হাসিনা


Thumbnail

আমার আগের লেখাটিতে অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হকের লেখা থেকে উল্লেখ করে লিখেছিলাম, নেতৃত্ব অর্জনে সাধনা ও সংগ্রাম করতে হয়। বিশ্ব ব্যাংকের মতে, সেই সাধনা ও সংগ্রামের  মাঝে প্রকাশ পায় নেতৃত্ব দানকারী ব্যক্তির দৃঢ়তা, দূরদর্শিতা, স্বল্প মেয়াদি ও দীর্ঘ মেয়াদি ভিশন, গণতান্ত্রিক, স্বচ্ছ, মুক্ত এবং শুদ্ধ প্রক্রিয়া সৃজনের সক্ষমতা, দূরদৃষ্টি সম্পন্ন পরিকল্পনা ও পলিসিগুলোকে অপমার জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য করবার যোগ্যতা, অপ্রতুল সম্পদের সুষম বন্টনের দক্ষতা প্রদর্শন সহ বেশ কিছু গুণাবলী। আর এসব গুণাবলী যখন চৌকসভাবে কোনো ব্যক্তির মাঝে প্রকাশ পায় তিনি নক্ষত্রের মতো স্ব-আলোয় আলোকিত।

আমি বাংলার আপামর জনতার নেত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলার রাজনৈতিক নক্ষত্র বলতে চাই।  হয়তো অজানা কেউ কিংবা আগামী প্রজন্মর কেউ জানতে চাইবেন তিনি কিভাবে বাংলার রাজনৈতিক নক্ষত্র? আমি তাদের জন্য একে একে বলে যাবো জাতির পিতার কন্যা শেখ হাসিনার মহান কীর্তিগুলোকে।  শুধু আমিই নই আমার মতো যেকোন বাঙালি পরিবার নেতৃত্বের উজ্জ্বল নক্ষত্রের উদাহরণ দিতে গিয়ে বলবেন শেখ হাসিনা। এক জনমে নাকি সব কিছুর সাধন হয় না। এক জনমে নাকি সবকিছু পাওয়া যায় না। আমাদের নবী ঈসা (আঃ )কে পৃথিবীতে আসতে হবে হজরত মুহাম্মদ (সা:) এর উম্মত হতে।  কিন্তু এক জনমে সফল হয়েছেন এমন ব্যক্তির হিসেবে নেয়া হয় তবে সবকিছু  দিতে ও পেয়েছেন যিনি তিনি শেখ হাসিনা।  

১৯৮১ সালে যখন দেশে ফিরে আসলেন তখন কারো ধারণা ছিল না যে বিভক্ত হয়ে যাওয়া একটি দলকে তিনি সুসংগঠিত করতে সক্ষম হবেন। ২১ বছর তিনি বাংলার পথে প্রান্তে হেঁটেছেন জাতির পিতার হত্যার বিচার এবং বাংলার জনগণের স্বপ্ন পূরণের প্রতিজ্ঞায়।  তিনি বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়বেন। তিনি বাংলার মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দেবেন একটি শুদ্ধ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। আর তাই বিশ্বকে হতবাক করে দিয়ে তিনি বেছে নিয়েছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ধারণাকে। দেশে তিনটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে।  

বাংলাদেশের সংবিধানকে তার কিছু পূর্বসূরিরা আদর্শ সংবিধান হতে দেয় নি। তিনি জনগণের কাছে দেয়া প্রতিশ্রুতিকে অক্ষরে অক্ষরে পালন করে আবার ফিরে গেছেন ১৯৭২ সালের সংবিধানে। জনগণের আকাঙ্খার প্রতি শ্রদ্ধা ও সেটা অর্জনে দৃঢ়তা আজ যেন অন্যদের জন্য অনুকরণীয়। একটি দেশকে সকলের জন্য করে তোলার আপ্রাণ চেষ্টা ছিল তার স্বপ্ন। তিনি সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে পার্বত্য চুক্তি এবং সকল ধর্মের মানুষের শান্তির নিবাসে পরিণত করেছেন।

আজ উদ্বোধন হচ্ছে পদ্মা সেতু। বাঙালির প্রাণের সেতু। বাঙালির মুক্তির সেতু। এই সেতু কেবল দৃঢ়তা, স্বচ্ছতা, জাবাবদিহিতা, স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদি দূরদৃষ্টি ও প্রজ্ঞার স্বাক্ষর বহন করে না। এই সেতু যেন এক মহানায়কের মহান কীর্তি। আজ আমাদের বাংলাদেশকে এক নতুন দিগন্তে কোমল, শুভ্র প্রখর আলোয় আলোকিত করেছেন শেখ হাসিনা। 

আজ পারমাণবিক বিদ্যুৎ কিংবা মহাকাশে স্যাটেলাইট কেবল স্বপ্ন নয় - বাস্তব ও সত্য। আর এই সফলতার দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশকে নিয়ে যেতে যার অবদান তিনি আমাদের আপা শেখ হাসিনা। মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করতে গিয়ে প্রবেশ পথে একটি লেখা দেখেছিলাম - Dream Large . সেই থেকে আমি আমার বড়ো বড়ো স্বপ্নের কথা আমাদের আপাকে বলতাম। আমরা এমন বাংলাদেশ গড়বো যাতে আমাদের যারা দেশ ছেড়ে চলে গেছে তারা এক মহাকর্ষণ শক্তি অনুভব করবে প্রাণের মাঝে। আর সেই শক্তি হ্যামিলনের বংশী বাদকের মোহনীয় শক্তি- ফিরিয়ে আনবে সকল বাঙালিকে তার নিজের বাসভুমিতে। শুনেছি যারা বাসভূমি ছাড়ে তারা নাকি হতভাগা। যেন এক জন  বাঙালিকে হতভাগ না হতে হয় সেই শান্তি ও সমৃদ্ধির বাংলা গড়েছেন শেখ হাসিনা।  

মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমাদের স্বাধীনতা যাতে প্রাণের মাঝে প্রতিটি নাগরিক উপলব্ধি করে সেজন্য তিনি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছেন। আজ আমরা বাংলার কলংকিত ইতিহাসকে সমুজ্জল করেছি নেত্রী শেখ হাসিনার মুক্তির পথে হেঁটে।

এখন নৌকার পালে বইছে হাওয়া। যারা এক সময় কেঁড়ে নিয়ে বন্ধ করেছিল বিনিয়োগের ঝাঁপি, আজ সেই  বিশ্ব সমাজ বাংলার এই মহান নেত্রীর পিছনে ছুটছে। কিন্তু আর ঋণের বোঝা নয়, বাংলাকে শ্রীলঙ্কা বা পাকিস্তান বানানো নয় - নিজের সম্পদ আজ নির্দ্বিধায় আমরা তুলে দিয়েছে নেত্রীর হাতে যাতে ভিক্ষার থলি নিয়ে দাতা দেশের পেছনে ছুটতে না হয় জাতির উন্নয়ন স্বপ্নকে বাস্তবায়নে।  

আজ আমরা অর্জন করেছি সমুদ্রের বুকে আরেক বাংলাদেশ। সেই সুনীল সাগরে আমরা খুঁজে পাবো আগামী প্রজন্মর উন্নয়নের রসদ। জয় বাংলা বলতে বলতে আবার ফিরে আসবেন কবি জীবনান্দ দাস, নজরুল, রবীন্দ্রনাথ তাদের হারানো বাংলায়। আগামী প্রজন্ম গর্বে বিশ্ববাসীকে বলবে - শেখ হাসিনা বাংলার রাজনৈতিক নক্ষত্র।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আজ বিশ্ব দরবারে শান্তির পতাকা বহন করছে অতীতের সকল কালিমা মুছে। আজ আমাদের তরুণ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাংকিং নিয়ে ভাবছে। তাদের সকল  স্বপ্ন বাস্তবায়নে আলোকবর্তিকা হয়ে আবির্ভুত হয়েছেন জাতির পিতার কন্যা শেখ হাসিনা।এখন আমাদের গাইবার সময় - যতদিন রবে পদ্মা মেঘনা যমুনা বহমান, ততদিন রবে  স্বর্ণ শিখরে শেখ হাসিনা সন্মান। জয়তু শেখ হাসিনা - উন্নয়নের কিংবদন্তি অর্থনৈতিক স্বাধীনতার মহানায়ক - হাজার সালাম আপনার চরণে। আমরা বিশ্ব  জয় করবো আপনার নেতৃত্বে।রাজনৈতিক নেতৃত্বের উজ্জ্বল নক্ষত্র শেখ হাসিনা মনে প্রাণে বাঙালি।

শেখ হাসিনা   পদ্মা সেতু  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন