ইনসাইড থট

ড. ইউনূসের বিবৃতি অসত্য এবং বিভ্রান্তিমূলক


Thumbnail ড. ইউনূসের বিবৃতি অসত্য এবং বিভ্রান্তিমূলক

গ্রামীণ ব্যাংকের প্রাক্তন এমডি ড. ইউনূসের পক্ষে গণমাধ্যমে একটি বিবৃতি পাঠানো হয়েছে। এতে গ্রামীণ ব্যাংক সম্পর্কিত আইনের নানা ভুল ব্যাখ্যা এবং অসত্য তথ্য দেয়া হয়।

গ্রামীণ ব্যাংক কোন বেসরকারি ব্যাংক নয়, এটি একটি statutory public authority বা সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ/প্রতিষ্ঠান। সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ বলতে সে সকল প্রতিষ্ঠানকে বুঝায়, যে প্রতিষ্ঠান কোন নির্দিষ্ট আইনের দ্বারা সৃষ্ট এবং আইনে উল্লেখিত বিধানাবলীর আলোকে ঐ প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হয়।

গ্রামীণ ব্যাংক ১৯৮৩ সালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি কর্তৃক জারিকৃত অর্ডিন্যান্স The Grameen Bank Ordinance, 1983( Ordinance NO. X।VI OF 1983 ) এর মাধ্যমে সৃষ্টি হয়। আইনটির ধারা ২ তে বলা আছে, আইনটি সেসব গ্রামীণ এলাকায় কার্যকর হবে, যে সকল এলাকা সরকার কর্তৃক গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

১৯৮৩ সালের আইনের ধারা ৪(৪) এ বলা আছে, সরকার গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ব্যাংক কোম্পানিজ আইন অথবা ব্যাঙ্ক কোম্পানিজ সম্পর্কিত অন্য কোন আইনের কোন বিধান গ্রামীণ ব্যাংকে প্রয়োগ করতে পারবে।

এই আইনের ধারা ৩ অনুযায়ী আইনটি একটি বিশেষ আইন। কারণ এই আইনের ধারা ৩ এ এই আইনের প্রাধান্য (overriding clause) রয়েছে। ধারা ৩ এ বলা হয়েছে, অন্যান্য আইনে বিধানাবলী যা-ই থাকুক না কেন, এই আইনের বিধান কার্যকরী হবে।

৬০ বছরের বেশি বয়সে গ্রামীণ ব্যাংকার দায়িত্বে থাকা প্রসঙ্গে ড. ইউনূসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গ্রামীণ ব্যাংক এমন একটি ব্যাংক যার ৭৫ শতাংশ শেয়ারের মালিক এর ঋণগ্রহীতারা। একটি আলাদা আইনের মাধ্যমে কিছু অনন্য বৈশিষ্ট্য সন্নিবেশ করে গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। ফলে অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকের সঙ্গে এর পার্থক্য আছে। গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয় এর পরিচালনা পরিষদ কর্তৃক নির্ধারিত শর্তে একটি চুক্তির অধীনে। এই নিয়োগের জন্য কোনও বয়সসীমা আইনে বা পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্তে উল্লেখ ছিল না।’

ব্যাংকের পেইড-আপ ক্যাপিটাল বা পরিশোধিত শেয়ার মূলধনের ক্ষেত্রে ঋণ গ্রহীতারা এর কত ভাগ মালিক, এর সাথে ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর (এমডি) পদে নিয়োগ কিংবা ঐ পদের মেয়াদের কোন সম্পর্ক নেই । এমডি পদে নিয়োগ এবং পদের মেয়াদের ক্ষেত্রে একমাত্র আইনের বিধানই প্রযোজ্য হবে। অন্যান্য ব্যাংকের সাথে গ্রামীণ ব্যাংকের যে পার্থককের কথা বলা হচ্ছে, ব্যাংকের  এমডি'র চাকুরীর মেয়াদের সাথে এই পার্থককের কোন সম্পর্ক নেই। বরং সকল সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকের মতো গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি পদটি একটি পূর্ণকালীন চাকুরীর পদ এবং উক্ত ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদটি অন্যান্য সকল ব্যাংকের চেয়ারম্যানের পদের মতো মেয়াদ ভিত্তিক ও অপূর্ণকালীন।

ড۔ ইউনূসের পক্ষে বিবৃতিতে বলা হয়, গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয় এর পরিচালনা পরিষদ কর্তৃক নির্ধারিত শর্তে একটি চুক্তির অধীনে। এই নিয়োগের জন্য কোনও বয়সসীমা আইনে বা পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্তে উল্লেখ ছিল না।’ এই বক্তব্য অসত্য। কারণ ১৯৮৩ সালের গ্রামীণ ব্যাংকের অর্ডিন্যান্স এর ধারা ১৪(১) অনুযায়ী এই ব্যাংকের এমডি'র নিয়োগ চূড়ান্তভাবে অনুমোদন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এমডি পদে প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য একটি সিলেকশন কমিটি থাকে এবং সেই বাছাইয়ের ভিত্তিতে ব্যাংকের বোর্ড এমডি নিয়োগ করে।  এই অধ্যাদেশ অনুযায়ী গ্রামীণ ব্যাংকের চেয়ারম্যানও নিয়োগ করে সরকার। গ্রামীণ ব্যাংক একটি সংবিধিবদ্ধ সরকারি প্রতিষ্ঠান বলেই আইনে এই নিয়োগের ক্ষমতা সরকারের হাতেই রাখা হয়েছে।

১৯৮৩ সালের গ্রামীন ব্যাংক আইন অনুযায়ী ব্যাংকের এমডি পদটি একটি সার্বক্ষণিক পদ এবং তিনি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী ( সিইও)। আইনের ধারা ৯ (২) অনুযায়ী এমডি পদাধিকার বলে ব্যাংকের পরিচালক, তবে এমডি বোর্ডে ভোট প্রদান করতে পারবেন না। আইনের ধারা ১০(২) অনুযায়ী কোন কারণে চেয়ারম্যানের পদ শুন্য হলে সরকার এমডি ছাড়া অন্য যেকোনো পরিচালককে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দিতে পারে।

আইনের উল্লিখিত বিধানাবলী পড়লে এটি পরিষ্কার যে, গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি পদটি একটি সার্বক্ষণিক চাকুরী। যেকোনো সার্বক্ষণিক পদের একটা মেয়াদ থাকে। ১৯৮৩ সালের অধ্যাদেশে এমডি পদের অবসরের সময়সীমা উল্লেখ না থাকলেও এটি নির্ধারণের ক্ষমতা সরকারের রয়েছে। কারণ ১৯৮৩ সালের আইনের ধারা ৪(৪) এ বলা আছে, সরকার গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ব্যাংক কোম্পানিজ আইন অথবা ব্যাংক কোম্পানিজ সম্পর্কিত অন্য কোন আইনের কোন বিধান গ্রামীণ ব্যাংকে প্রয়োগ করতে পারবে। সরকারের এই ক্ষমতা প্রয়োগ করা ছাড়াও Interpretation of Statutes এর সাধারণ নীতি অনুযায়ী দেশের অভ্ভন্তরে অন্যান্য ব্যাংকের এমডি পদের মেয়াদের সাথে সামঞ্জস্য রেখেই গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি'র চাকুরীর মেয়াদ ধরতে হবে। অন্যান্য সকল ব্যাংকে এই মেয়াদ তখন ছিল ৬০ বছর। এছাড়া সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৫২(১) তে আইনের যে সংজ্ঞা আছে, তাতে প্রথা বা রীতি-কেও আইন হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। ফলে অন্যান্য ব্যাংকের চাকুরীর বিধান প্রথা হিসেবে গ্রামীণ ব্যাংকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

গ্রামীণ ব্যাংকের আইন এর ধারা ৮ (২) অনুযায়ী ব্যাংক তার কার্যাবলী পরিচালনার ক্ষেত্রে সবসময়ই জনস্বার্থকে প্রাধান্য দিবে। এই বিধানের আওতায় ব্যাংকটির প্রতিটি কাজ ও সিদ্ধান্তে সরকারের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি প্রয়োজন।

এছাড়া, The Genera। Clauses Act 1897 এর বিধান অনুযায়ী গ্রামীণ ব্যাংকের চেয়ারম্যান, এমডি এবং নিয়োগকৃত পরিচালকদের নিয়োগ সরকার বাতিল করতে পারে। কারণ Genera। Clauses Act 1897 এ বলা আছে, যে কর্তৃপক্ষ নিয়োগ প্রদান করতে পারে, সেই একই কর্তৃপক্ষ নিয়োগ বাতিল করতে পারে।

ড۔ ইউনূসের বিবৃতিতে পদ্মা সেতু নিয়ে তার পক্ষ থেকে কোন ধরণের প্রভাব বিস্তার করা হয়নি মর্মে যে দাবী করা হয়, এই বিষয়ে ড۔ ইউনূসের কাছে বাংলাদেশের জনগনের প্রশ্ন হচ্ছে, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে লবিস্ট ফার্মের মাধ্যমে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার কেন খরচ করেছিলেন ? যুক্তরাষ্ট্রে লবিস্ট ফার্ম তিনি কেন নিয়োগ করেছেন - এটি বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষ জানে।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড থট

জাতীয় শোক দিবসে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ধৃষ্টতা


Thumbnail

জাতীয় শোক দিবস হচ্ছে সমগ্র জাতির জন্য সবচেয়ে শোকাবহ দিন। কেননা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়। সাথে হত্যা করা হয় বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবকে, তার সন্তানদের, পুত্রবধূদের, বঙ্গবন্ধুর ছোট ভাইকে এবং নিকটাত্মীয়দেরকে। যদিও আমরা শুধু ১৫ আগস্টকে জাতীয় শোক দিবসের গুরুত্ব সহকারে পালন করি কিন্তু আসলে সারা বছরই আমাদের অনেকেরই মনের ভিতরে শোকাবহ আবহাওয়া থাকে। আমরা সেটা নিয়েই বেঁচে আছি এবং বঙ্গবন্ধু কন্যা দার্শনিক রাষ্ট্রনায়ক বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন কে তিনি তার বুকে ধারণ করে নিজস্ব দর্শন দিয়ে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ একের পর এক করে চলছেন। এখন তিনি এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছেছেন যে, এই দার্শনিক রাষ্ট্রনায়কের ফটো কোথাও দেওয়া হলো কি না হলো- এই সব কিছুর অনেক ঊর্ধ্বে তিনি। তিনি কারও কাছে কিছু আশা করেন না। বরং সবাইকে তিনি দিয়ে যাচ্ছেন দেশের মঙ্গলের জন্য। প্রান্তিক জনগোষ্ঠী থেকে শুরু করে সকলের প্রতি তিনি যত্নবান। 

স্বাস্থ্য বিষয়ে যদি বলি তাহলে দেখা যাবে, সেই কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে শুরু করে ক্যান্সার ইনস্টিটিউট, কিডনি ইনস্টিটিউট এর প্রত্যেকটা জিনিস করেছেন এই দার্শনিক রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা। অর্থাৎ বঙ্গবন্ধু যে সংবিধানে স্বাস্থ্যের অধিকারের কথা বলেছেন তিনি তার রূপ দিয়েছেন। তাহলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব হচ্ছে, দার্শনিক শেখ হাসিনা এই সংগঠনগুলিকে যা করতে বলেন, সেগুলি করা এবং সেগুলির যত্ন নেওয়া। জাতীয় শোক দিবস অত্যন্ত গাম্ভীর্যের সাথে পালন করা হয়। এর আগে দেখা যেত ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ বিভিন্ন লোক বঙ্গবন্ধুর ছবি ছোট করে দিতেন আর নিজেদের ছবি বড় করে পোস্টার করতেন। সেগুলি আওয়ামী লীগ বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু যে জিনিসটি সরকার বন্ধ করতে এখন পর্যন্ত সম্পূর্ণভাবে পরাজিত হয়েছে, সেটি হচ্ছে বিভিন্ন মন্ত্রী এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ফটো দেওয়া এই জাতীয় শোক দিবস কে কেন্দ্র করে। 

গতকাল সোমবার আমি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সাহেবের আমন্ত্রণে  একটি শোক সভায় গিয়েছিলাম। শোক সভায় গিয়ে আমি অত্যন্ত মর্মাহত হয়েছি। কেননা এর আগে নিয়মিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের একটি বিজ্ঞাপন চলেছে। সেই বিজ্ঞাপনে ডান দিকে আছে মাননীয় মন্ত্রী মহোদয়ের ছবি আর বামদিকে আছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ছবি। তাতে এই জাতীয় শোক দিবসের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কি কি কাজ করেছে তার বিভিন্ন বর্ণনা। কাজগুলো খুব ভালো করেছে। আমি মনে করি যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দার্শনিক নেতৃত্বে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাজগুলো অবশ্যই আমাদের সমর্থন দেওয়া উচিত। আমিও সেগুলো কে সমর্থন দেই। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, এই যে কাজগুলি হিসেবে দিলেন, ডানপাশে মন্ত্রীর ছবি বামদিকে দার্শনিক শেখ হাসিনার ছবি। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর ছবি কোথায়? জাতীয় শোক দিবস তো বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে। পত্রিকায়ও দেখলাম, যে সব পত্রিকা এই রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনাকে পারলে হত্যা করার জন্য প্ররোচিত করে, সেসব পত্রিকাগুলো গুরুত্বের সাথে এই বিজ্ঞাপন ছেপেছে। উদ্দেশ্য হচ্ছে তারা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে কিছু লেখেন না। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তো দার্শনিক রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার বাইরে না। তাহলে তাদেরকে কেন তেল দিতে হবে। আমার মনে হচ্ছে যে, এই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যারা বিভিন্ন স্তরের কাজ করছেন, এরা ঘাপটি মেরে থাকা লোক এবং এরা নির্বাচন যত কাছে আসছে তারা তাদের রুপ দেখাচ্ছে। 



স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব ড. মু: আনোয়ার হোসেন হাওলাদার সাহেব উনি একজন সৎ লোক, ভালো লোক বলে শুনেছি। কালকেই প্রথম উনার সঙ্গে আমার দেখা হলো। তাকে আমি যখন বললাম, আপনার বিভাগ থেকে যে বিজ্ঞাপন গণমাধ্যমে গেছে সেখানে বঙ্গবন্ধুর ছবি নাই কেন। তিনি বললেন, স্যার আমি তো দেখি নাই। একজন সচিব তার বিভাগ থেকে বিজ্ঞাপন যাচ্ছে অথচ তিনি জানেন না। একের পর এক প্রতিদিন সে বিজ্ঞাপন যাচ্ছে এবং সেখানে বঙ্গবন্ধুর ফটো নাই সেটা তার চোখে পড়ে নি। উনি কি মসজিদের ইমামতি করতে এসেছেন? না স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিবের দায়িত্ব পালন করছেন? এ বিষয়ে আমার সন্দেহ আছে। হেলথের ডিজি একজন খুব সৎ, ভালো এবং আমার সন্তান তুলল্য। তাকে আমি খুব আদর করি। আমিও হেলথের ডিজি ছিলাম। সেখানে অনেক দায়িত্ব। কিন্তু সে দায়িত্ব অবশ্যই সচিব বা মন্ত্রীর পিছনে ঘোরাঘোরি করা নয় কিংবা তাদেরকে খুশি করার বিষয় নয়। দায়িত্ব হলো তাকে রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা তাকে যে দায়িত্ব দিবেন সেটা ভালোভাবে করবেন। তিনি দেখবেন দেশের মঙ্গল হলো কিনা এবং স্বাস্থ্য বিভাগ ঠিকমত চলবো কি না। কিন্তু সেরকম অনেক দায়িত্বের ব্যাপারে তার নমুনা দেখি না। আমি সভাতে খুব ইমোশনাল গিয়েছিলাম। আমি খুব পরিস্কার ভাবে তাদেরকে বলেছি কিন্তু তারা তাদের উত্তর দিতে পারেননি। 

এর আগে তারা হঠাৎ করে ২ মে প্রথম মুজিবনগর সরকার পালন করেছিল। সেদিন সেখানে শুধু মন্ত্রী আর দুই সচিব ছিলেন।  আমরা কেউ ছিলাম না। আমার শ্রদ্ধেয় পিতৃতুল্য এইচ টি ইমাম সাহেব তার বইতে আমার কি অবদান ছিল, আমি কোন পদে ছিলাম ভালো করে লিখেছেন অনেক বইয়ে। সে সময় আমাদের সাথে কাজ করতো একজন মেডিকেল স্টুডেন্ট। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাকে সর্বোচ্চ পুরস্কার স্বাধীনতা পুরস্কার দিয়েছেন। তাদের কাউকেই সেদিন ডাকা হলো না। আমি সে সময় বলেছিলাম, যে তিনজনকে ডেকেছেন মুক্তিযুদ্ধের সময় এরা তো কিশোর ছিল। তারা তো ভালো ধারণা রাখেন না। আমরা যারা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি এবং বিশেষ করে স্বাস্থ্য বিভাগে কাজ করেছি তাদের ডাকা উচিত ছিল। এটাও আমার মনে হয় তারা গুরুত্বপূর্ণ মনে করেনি। কারণ আমাদেরকে তেল দিয়ে তো কোনো লাভ নাই। আমরা তো তাদের কোন উপকার বা ক্ষতি করতে পারবো না। আমার দাবি হচ্ছে সরকারের ভিতরে এই ঘাপটি মেরে থাকা যে সচিব বক্তব্যের শেষে জয় বাংলা বলেননি।  স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব মোঃ সাইফুল হাসান বাদল উনি বক্তব্যের শেষ সুন্দর করে জয় বাংলা বলেছেন কিন্তু স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব সেটা করেননি। 

জাতীয় শোক দিবসে যিনি জয় বাংলা বলার প্রয়োজন অনুভব করেন না সেই ধরনের সচিবের আমাদের প্রয়োজন কি আমি বুঝতে সক্ষম নই। আমার দাবি হচ্ছে যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে একটি তদন্ত কমিটি করা হোক। তদন্ত করে বের করা দরকার কোথায় ঘাপটি মেরে থাকা এই সকল লোক আছে, যারা বঙ্গবন্ধুকে অবমূল্যায়ন করে অর্থাৎ বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে অবমূল্যায়ন করে। এখন দার্শনিক শেখ হাসিনা তো চাওয়া পাওয়ার কিছু নেই। তাকে কি করলেন, তার ফটো দিলেন, কেন দিলেন এতে তার কিছু যায় আসে না। উনি ফটোর জন্য কাঙ্গাল নয়। যদি আপনাদের ফটো দেওয়ার এত ইচ্ছা থাকতে তাহলে আপনাদেরই ফটো দিয়ে ভরিয়ে দিন। আমি খুব গুরুত্ব সহকারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি এবং তার কার্যালয় থেকে অবশ্যই এই বিষয়ে একটি সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন এই আশা করছি।

জাতীয় শোক   স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়   ধৃষ্টতা   বিজ্ঞাপন  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড থট

১৫ আগস্ট বেঁচে যাওয়া দেড় বছরের সেই শিশুটি এখন বরিশালের মেয়র!

প্রকাশ: ১০:০০ পিএম, ১৫ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail ১৫ আগস্ট বেঁচে যাওয়া দেড় বছরের সেই শিশুটি এখন বরিশালের মেয়র!

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভয়াল কালরাতে ঢাকার ২৭ মিন্টো রোডের বাসায় গুলিবিদ্ধ মায়ের কোলের মধ্যে থেকে অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া স্বজনের রক্তে ভেজা সেই সময়ের মাত্র দেড় বছরের শিশু আজকের বরিশাল সিটি কর্পোরেশেনর মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ। স্বল্প সময়ের মধ্যে নিজের মেধা, প্রজ্ঞা ও রাজনৈতিক দূরদর্শিতা দিয়ে পাদ প্রদীপের আলোয় আসা এক উদীয়মান সূর্য সাদিক আব্দুল্লাহর আলোয় আলোকিত বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের রাজনীতির অঙ্গন। ২০১৮ সালের ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে নৌকা মার্কার মেয়র প্রার্থী হিসেবে তিনি (সাদিক) বিপুল ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি (সাদিক) বঙ্গবন্ধুর বোন জামাতা শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাতের জ্যেষ্ঠপুত্র মন্ত্রী পদমর্যাদার পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ কমিটির আহবায়ক, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সিনিয়র সদস্য ও বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ এমপি’র জ্যেষ্ঠপুত্র। পূর্বপুরুষের পদাঙ্ক অনুসরণ করে সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ নিজেকে শুধু যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবেই নয়; দলীয় নেতাকর্মীদের আশা ও ভরসার প্রতীক হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন। বিএনপির কাছে দখল হয়ে যাওয়া বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদটি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। মেয়র নির্বাচিত হয়ে সাদিক আব্দুল্লাহ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বরিশাল নগরীকে একটি তিলোত্তমা অপরূপা শহরে রূপান্তরিত করার মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। ১৫ আগস্ট ভয়াল কালরাতে রক্তঝরা অচিন্তনীয় বিয়োগান্তক অধ্যায়ের শোকগাঁথায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সঙ্গে দাদা তৎকালীন কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রব সেরনিয়াবাত ও চার বছরের ভাই সুকান্ত বাবু সেরনিয়াবাতসহ পরিবারের অনেক স্বজনকে হারিয়েছেন সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ। সেই ভয়াল কাল রাতে অলৌকিকভাবে তার (সাদিক) বাবা আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ, বুলেটবিদ্ধ হয়ে মা শাহান আরা বেগম ও তার কোলে থাকা দেড় বছরের শিশুপুত্র সাদিক আব্দুল্লাহ প্রাণে বেঁচে যান। শরীরে ঘাতকের বুলেট বহন করে অসহ্য যন্ত্রণা নিয়ে মা শাহান আরা বেগম ও স্বজন হারানো বাবা আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর ন্যায় সাদিক আব্দুল্লাহও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সুখ-দুঃখের অংশীদার। ৭৫’র পরবর্তী সেনাশাসক জিয়াউর রহমান থেকে শুরু করে বিএনপি-জামায়াতের জোট সরকার এবং ১/১১’র সেনা সমর্থিত তত্বাবধায়ক সরকারের আমলেও মিথ্যা মামলাসহ নানা ষড়যন্ত্রে হয়রানির শিকার করা হয় আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ ও তার পরিবারকে। তবে সকল চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের মাঝেও এ পরিবারটি বরিশালে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের একমাত্র ভরসাস্থল ও শেষ ঠিকানা। আজও তারা করে স্বজন হারানোর দুঃসহ বেদনা ভয়াল ও আতঙ্কের কালো রাত্রির রক্তাক্ত অধ্যায় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতকরা বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের পাশাপাশি হামলা চালিয়েছিল সেরনিয়াবাত পরিবারের ওপর। ওইদিন ভোর সোয়া পাঁচটার দিকে কৃষকলীগের প্রতিষ্ঠাতা ও তৎকালীন মন্ত্রী (বঙ্গবন্ধুর বোন জামাতা) আব্দুর রব সেরনিয়াবাতের ২৭ মিন্টো রোডের বাসভবনে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়। ঘাতকরা তাদের পরিকল্পনা সফল করতে হেভি মেশিনগান সংযোজিত দ্রুতগতির জীপ, প্রচুর পরিমাণে এমুনিশন ও গুলিসহ এক প্লাটুন ল্যান্সার সৈন্য নিয়ে ইতিহাসের ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞে মেতে ওঠে। আব্দুর রব সেরনিয়াবাতের মিন্টো রোডের বাসভবনে উপস্থিত ছিলেন পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজনসহ বরিশালের একটি ব্যান্ড গ্রুপের সদস্যরা। জানা গেছে, হামলাকারীরা প্রথমেই বাসার সিকিউরিটিকে নিষ্ক্রিয় করতে খুব দ্রুতগতিতে পুরো বাড়িটি ঘিরে ফেলে। শুরু করে বৃষ্টির মতো গুলিবর্ষণ। গুলি শব্দে বাড়ির সকলের ঘুম ভেঙ্গে আতঙ্কিত হয়ে পরেন। ব্যাপক আক্রমণের একপর্যায়ে ঘাতকরা বাড়ির সবকিছু তছনছ করে দরজা ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করে। বাড়িতে আক্রমণের শুরুতেই আব্দুর রব সেরনিয়াবাত তার বাড়ির রেডফোন দিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ মনিকে বিষয়টি অবহিত করে জানতে পারেন বঙ্গবন্ধুর ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়ির চারদিকেও একই অবস্থা। এতে সে (রব সেরনিয়াবাত) তাৎক্ষণিকভাবে বিমূঢ় হয়ে বসে পরেন। সে সময় আব্দুর রব সেরনিয়াবাত শুধু মুখে একটি কথাই বলেছিলেন, ‘হে আল্লাহ বংশে বাতি দেয়ার মতো তৌফিক রেখ’। ঠিক সেই মুহূর্তে ঘাতক সৈনিকরা দরজা ভেঙ্গে বাসার মধ্যে প্রবেশ করে সকলকে নিচতলায় নিয়ে আসে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন-আব্দুর রব সেরনিয়াবাত, তার স্ত্রী আমিনা বেগম, মেয়ে বেবী ও বিউটি সেরনিয়াবাত, ছেলে আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাত, আরিফ সেরনিয়াবাত, শহীদ সেরনিয়াবাত, আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর স্ত্রী শাহান আরা বেগম ও তার সন্তানসহ বরিশালের অনেকেই। ঘাতকরা দোতালা থেকে সবাইকে অস্ত্রের মুখে নিচতলায় নামিয়ে আনার সময় আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর ৪ বছর ১ মাস ২৩ দিন বয়সের শিশুপুত্র সুকান্ত বাবু সেরনিয়াবাত মায়ের কোলে যেতে চাইলে শহীদ সেরনিয়াবাত তাকে কোলে তুলে নেন। পরিবারের সদস্যসহ অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনদের ঘাতকরা একটি কক্ষে দাঁড় করিয়ে রাখেন। এ সময় ঘাতকের হুংকারে আব্দুর রব সেরনিয়াবাতের স্ত্রী ও বঙ্গবন্ধুর বোন আমিনা বেগম ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে জিজ্ঞেস করেছিলেন-‘বাবা তোমরা কি আমাদের মাইরা ফেলবা’ এর সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় ঘাতকদের নির্মম ব্রাশফায়ার। ঘাতকের ক্রমাগত ব্রাশফায়ারে একে একে গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পরেন আব্দুর রব সেরনিয়াবাত, তার স্ত্রী আমিনা বেগম, পুত্রবধূ শাহান আরা বেগম, শহীদ সেরনিয়াবাত ও কোলে থাকা সুকান্ত বাবু সেরনিয়াবাতসহ অন্যান্যরা। কোমরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় শাহান আরা বেগমসহ অন্যরা কাতরাচ্ছিলেন। ঘাতকরা এ অবস্থায় চলে যায়। এ সময় আহত বিউটি সেরনিয়াবাত রক্তাক্ত রব সেরনিয়াবাতকে ধরে চিৎকার করে কেঁদে উঠলে ঘাতকরা ফিরে এসে দ্বিতীয় দফায় গুলি চালায়। ঘাতকের নির্মম ১৬টি বুলেট বিদ্ধ হয় বেবী সেরনিয়াবাতের শরীরে। এ সময় ভাগ্যক্রমে রক্ষা পেয়ে যায় আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর একমাত্র মেয়ে কান্তা সেরনিয়াবাত ও দেড় বছরের ছেলে (বর্তমান বরিশাল সিটি মেয়র) সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ।


মন্তব্য করুন


ইনসাইড থট

বঙ্গবন্ধু হত্যায় আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র

প্রকাশ: ০৩:০০ পিএম, ১৫ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail বঙ্গবন্ধু হত্যায় আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র

১৬ আগস্ট ভারতের পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ প্রসঙ্গে দিল্লিতে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত স্যাক্সবি ওয়াশিংটনকে জানিয়েছেন, স্বাধীনতা দিবসের ছুটি থাকায় ১৬ আগস্ট দিল্লিতে তিনটি মাত্র পত্রিকা বেরিয়েছে। প্রতিটি পত্রিকা মুজিবের মৃত্যুর খবরকে শিরোনাম করেছে। তারা তাঁর বড় ছবি ছেপেছে। নতুন প্রেসিডেন্টের ছবি ছেপেছে ছোট করে। টাইমস অব ইন্ডিয়া তার প্রথম পৃষ্ঠায় 'যুক্তরাষ্ট্রই প্রথম খবরটি [অভ্যুত্থানের বিষয়] প্রকাশ করেছে' শিরোনামে সংবাদ ছাপে। কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়ার (সিপিআই) দৈনিক প্যাট্রিয়ট প্রথম পৃষ্ঠায় দুই কলামজুড়ে রিপোর্ট ছেপেছে—'অভ্যুত্থানের খবর প্রথম জানল ওয়াশিংটন'। প্রতিটি ক্ষেত্রে পাঠক তার নিজের মতো করে ভাবার সুযোগ পাবে।

বাংলাদেশের অভ্যুত্থান সম্পর্কে ভারত সরকারের প্রথম বিবৃতিটি সে দেশের সংবাদপত্রে ছাপা হয় ১৭ আগস্ট। রাষ্ট্রদূত স্যাক্সবি ওই তারিখেই ওয়াশিংটনে প্রেরিত এক তারবার্তায় বিবৃতিটি এভাবে উদ্ধৃত করেন: 

ভারত সরকার বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘটনাবলি-সম্পর্কিত প্রতিবেদনসমূহ সতর্কতার সঙ্গে পাঠ এবং পর্যবেক্ষণ করছে। প্রতিবেশী দেশের রাজনৈতিক ঘটনাবলিতে আমরা উৎকণ্ঠা এড়িয়ে থাকতে পারি না। তবে এসবই বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়।

রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের ঘটনা এক বিরাট আঘাত বয়ে এনেছে। স্বাধীনতার জন্য সাহসিকতার সঙ্গে জাতীয় সংগ্রামে নেতৃত্বদানকারী শেখ মুজিবুর রহমানের মর্মস্তদ মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।

আমাদের সময়ের অনন্যসাধারণ ব্যক্তিত্বদের একজন হিসেবে আমরা ভারতে তাঁকে গভীরভাবে শ্রদ্ধা করি। উপমহাদেশের দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা ও মৈত্রীর সম্পর্ক গড়ে তোলার যে স্বপ্ন, সে বিষয়ে ভারতীয় জনগণ সংকল্পবদ্ধ। এই আদর্শ অর্জনে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। 

১৮ আগস্ট দিল্লিতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম স্যাক্সবি ভারতীয় পত্রপত্রিকায় বাংলাদেশের পরিস্থিতির বিবরণ বিষয়ে পররাষ্ট্র দপ্তরের কাছে একটি মূল্যায়ন প্রতিবেদন পেশ করেন। এতে তিনি উল্লেখ করেন, একাদিক্রমে তৃতীয় দিনের মতো ভারতীয় মিডিয়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে ব্যাপকভাবে খবর ও মন্তব্য প্রকাশ করা অব্যাহত রেখেছে। তবে খবরগুলো খণ্ডিত এবং সম্পাদকীয় মন্তব্য সতর্কতামূলক। বৈদেশিক সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে, এমন কিছু বিষয় প্রকাশে অবশ্য সরকারের সেন্সরশিপ জারি রয়েছে।

১৬ আগস্ট মুজিব হত্যাকাণ্ডের সংবাদ পত্রিকাগুলো ব্যানার হেডলাইনে প্রকাশ করে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার আট কলাম শিরোনাম ছিল 'সেনা অভ্যুত্থানে মুজিব নিহত'। পৃথক উপশিরোনামে লেখা হয়: ১. প্রধানমন্ত্রী মনসুর আলী নিহত, ২. সামরিক শাসন জারি ও ৩. ইসলামি প্রজাতন্ত্র ঘোষিত । খবরের সূত্র হিসেবে এপির (মার্কিন সংবাদ সংস্থা 'অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস') নাম উল্লেখিত হয়। ইউনাইটেড নিউজ অব ইন্ডিয়ার বরাতে মোশতাককে পাকিস্তানপন্থী বলে উল্লেখ করা হয়। অন্যান্য খবরের মধ্যে ছিল মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরই প্রথম অভ্যুত্থানের খবর প্রচার করেছে এবং পিন্ডি নতুন সরকারকে স্বীকৃতি ও সাহায্য দিতে ছুটে গেছে। পত্রিকাগুলো অবশ্য মুজিবের প্রশংসাও করে: 'মুজিব ছিলেন অদম্য সাহসী, যিনি একটি আধুনিক জাতির স্রষ্টা।'

[মার্কিন দলিলে মুজিব হত্যাকাণ্ড]


মন্তব্য করুন


ইনসাইড থট

বঙ্গবন্ধুর লাশ সাগরে ফেলে দেওয়ার প্রস্তাব করেছিলো তাহের

প্রকাশ: ০২:০০ পিএম, ১৫ অগাস্ট, ২০২২


Thumbnail বঙ্গবন্ধুর লাশ সাগরে ফেলে দেওয়ার প্রস্তাব করেছিলো তাহের

লে. কর্নেল আবু তাহের গোপনে গণবাহিনী গড়ে তুলছিলেন। ডালিম ও নুর তাঁর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। তাহের ও ডালিমের চিন্তাধারা ছিল একই রকম। তাহের ১৫ আগস্টের অভ্যুত্থানে সরাসরি অংশ নেননি। তবে ওই দিনই তিনি অভ্যুত্থানকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেন।

লে. কর্নেল আবু তাহের মেজর রশিদের অনুরোধে সকাল নয়টায় ঢাকা বেতারকেন্দ্রে যান। সেখানে তিনি খন্দকার মোশতাক আহমদ, তাহেরউদ্দিন ঠাকুর, মেজর ডালিম ও মেজর জেনারেল খলিলুর রহমানকে দেখতে পান। অভ্যুত্থানকারীদের যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সশস্ত্র বাহিনীর তিন প্রধানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন তিনি। তিনি খন্দকার মোশতাককে পাঁচটি প্রস্তাব দেন। প্রস্তাবগুলো ছিল:

১. অবিলম্বে সংবিধান বাতিল করতে হবে;
২. সারা দেশে সামরিক আইন জারি এবং এর প্রয়োগ করতে হবে;
৩. দলনির্বিশেষে সব রাজনৈতিক বন্দীকে মুক্তি দিতে হবে;
৪. বাকশালকে বাদ দিয়ে একটি সর্বদলীয় জাতীয় সরকার গঠন করতে হবে;
৫. অবিলম্বে একটি গণপরিষদ তথা পার্লামেন্টের জন্য সাধারণ নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে।

সামরিক শাসন জারির দাবি ছিল তাহেরের একান্ত নিজস্ব। এ বিষয়ে তিনি গণবাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড কিংবা জাসদের পার্টি ফোরামের সঙ্গে আলোচনা করেননি এবং এসব প্রস্তাব উত্থাপনের জন্য পার্টি তাকে কোনো ম্যান্ডেট দেয়নি। প্রকৃতপক্ষে এই প্রস্তাব ছিল জাসদের মূলনীতির সঙ্গে পুরোপুরি সাংঘর্ষিক। বিশেষ করে, সামরিক আইন জারির প্রস্তাবটি বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের মধ্য থেকে গড়ে ওঠা যেকোনো সুস্থ রাজনৈতিক দলের জন্যই অপমানজনক এবং প্রগতিশীল রাজনীতির চেতনাবিরোধী। তাহের সব সময় শেখ মুজিবের 'ফ্যাসিবাদী' রাজনীতির বিরোধী ছিলেন এবং তাঁর সরকারের উৎখাত চাইতেন। জাসদও একই দাবি করেছে। কিন্তু জাসদ কখনোই দেশে সামরিক শাসন চায়নি।

খন্দকার মোশতাক আহমদ বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। মেজর রশিদ শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে তাহেরকে উপস্থিত থাকতে অনুরোধ করেছিলেন। তাহের যখন দুপুরে বঙ্গভবনে পৌঁছান, ততক্ষণে শপথ অনুষ্ঠান শেষ হয়ে গেছে। তাহের আগস্ট হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত মেজর রশিদসহ সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং সকালে খন্দকার মোশতাককে দেওয়া তাঁর প্রস্তাবগুলো আবার উল্লেখ করেন। আলোচনার একপর্যায়ে তিনি সেনাবাহিনীর উপপ্রধান জেনারেল জিয়াউর রহমানকে ডেকে নেন। সবাই তাহেরের প্রস্তাবগুলো সময়োচিত বলে একমত হন। দুই দিন পর সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নঈম জাহাঙ্গীর নারায়ণগঞ্জে তাহেরের বাসায় যান পরিস্থিতি সম্পর্কে আঁচ করতে। ১৯৭১ সালে নঈম ১১ নম্বর সেক্টরে তাহেরের সহযোদ্ধা ছিলেন এবং প্রায়ই তাঁর সঙ্গে দেখাসাক্ষাৎ করতেন। তাহের আক্ষেপ করে নঈমকে বললেন, ওরা বড় রকমের একটা ভুল করেছে। শেখ মুজিবকে কবর দিতে অ্যালাও করা ঠিক হয়নি। এখন তো সেখানে মাজার হবে। উচিত ছিল লাশটা বঙ্গোপসাগরে ফেলে দেওয়া।

১৫ আগস্টের পর গণবাহিনীর পক্ষ থেকে একটি লিফলেট প্রচার করা হয়। লিফলেটের শিরোনাম ছিল, 'খুনি মুজিব খুন হয়েছে অত্যাচারীর পতন অনিবার্য।

[জাসদের উত্থান পতন: অস্থির সময়ের রাজনীতি]


মন্তব্য করুন


ইনসাইড থট

বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব ও ভালোবাসার শক্তি পরিচয়


Thumbnail বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব ও ভালোবাসার শক্তি পরিচয়

প্রখ্যাত ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড ফ্রস্টের কাছে বঙ্গবন্ধুর দেয়া ১৯৭২ সালের ১৮ জানুয়ারী তারিখে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র-সহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের টেলিভিশন চ্যানেলে “ডেভিড ফ্রস্ট প্রোগ্রাম ইন বাংলাদেশ” শিরোনামে প্রচারিত সাক্ষাৎকারটি একটি ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে এযাবৎকাল বিবেচিত হয়ে এসেছে। পাকিস্তানী কারাগার থেকে মুক্ত স্বাধীন বাংলাদেশে এসে পৌঁছাবার মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় বঙ্গবন্ধু ও ডেভিড ফ্রস্টের এই কথোপকথনের মধ্যে পাওয়া যায় বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, শক্তিমত্তা, দর্শন ও বাংলাদেশের মানুষের প্রতি তার অগাধ ভালোবাসা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন। সে সময়ের ৫২ বছর বয়সী বঙ্গবন্ধু তাঁর ৩৫ বছরের রাজনৈতিক জীবনে যে গভীর দেশপ্রেমের রাজনীতি করেছেন তার একটি পরিণত রূপ দেখে ডেভিড ফ্রস্ট নিশ্চয়ই অবাক হয়েছিলেন, কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের জন্যে যে ইতিহাস-বীক্ষা এই সাক্ষাৎকারের পরতে পরতে রয়েছে তার অন্তর্গত অনুসন্ধান বঙ্গবন্ধুকে বুঝতে প্রজন্মান্তর উৎসাহিত করবে।

ডেভিড ফ্রস্ট বঙ্গবন্ধুর কাছে প্রথমেই জানতে চান কেন তিনি ২৫ মার্চ সবরকম আশঙ্কার খবর জেনেশুনেও বাড়িতেই ছিলেন। সেদিন সন্ধ্যায় যখন ৩২ নং বাড়ি পাকিস্তানী সামরিক কম্যান্ডোরা ঘিরে রেখেছিল, বঙ্গবন্ধু উত্তরে বলছেন, “তারা চেয়েছিল আমি বাড়ির বাইরে এলেই আমাকে হত্যা করবে। এতে তারা বিশ্বের কাছে প্রচার করতো যে শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে আমাদের আপোষ আলোচনা চলছে কিন্তু তাঁর নিজের দলের চরমপন্থীরা তাঁকে মেরে ফেলেছে ফলে ইয়াহিয়া খানের এখন ব্যবস্থা নেয়া ছাড়া আর কোন উপায় নেই। এটা ছিল তাদের প্রাথমিক চিন্তা। আমি জানতাম তারা নিষ্ঠুর ও অসভ্য প্রকৃতির, তারা আমার মানুষদের হত্যা করবে। আমি ভাবলাম আমি মরি তা-ও ভালো কিন্তু আমার দেশবাসী রক্ষা পাক যারা আমাকে এতো ভালবাসে”। কেন কোলকাতা বা দেশ ছেড়ে আর কোথাও গেলেন না এর প্রত্যুত্তরে বঙ্গবন্ধু বললেন, “আমি যেতে চাইলে যে কোন স্থানেই যেতে পারতাম কিন্তু আমি দেশের মানুষের নেতা, আমি তো তাদের প্রতিরোধ করার ডাক দিয়ে রেখেছি, আমি কেমন করে তাদের ছেড়ে যাই”?

২৫ মার্চ দিবাগত রাত দেড়টার দিকে বঙ্গবন্ধুর ৩২ নং বাড়ির চতুর্দিকে গুলিবর্ষণ করতে করতে পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর একটি দল তাঁকে গ্রেফতার বা হত্যার জন্যে এগিয়ে আসে। বঙ্গবন্ধু তাঁর শোবার ঘরে ছিলেন, সেখানেও গুলি এসে পড়ে। বঙ্গবন্ধু সে বিভীষিকাময় পরিস্থিতির বর্ণনা দিচ্ছেন ডেভিড ফ্রস্টের কাছে, “আমার ছয় বছরের শিশু সন্তানটি ঘুমিয়ে ছিল, আমার স্ত্রীকে দুই সন্তান নিয়ে সে ঘরে বসে থাকতে বলে বিদায় নিয়ে আমি দরোজা খুলে ঘরের বাইরে চলে এলাম। সামরিক লোকদের উদ্দেশ্যে আমি বললাম, “গুলি থামাও, কী চাও তোমরা? কেন গুলি করছো? তারা চারদিক থেকে ঘিরে আমাকে বেয়নেট চার্জ করতে উদ্যত হলে একজন অফিসার বাধা দিয়ে আমার হাত ধরে টেনে নিয়ে চললো আর অন্যদের উদ্দেশ্যে বলতে লাগলো আমাকে যেন মারা না হয়। তখন পেছন থেকে সেনাদের কেউ কেউ আমার পিঠে ও পায়ে বন্দুকের বাট দিয়ে আঘাত করছিল ও ধাক্কা দিচ্ছিল। আমি উচ্চস্বরে বললাম, আমাকে যেন ধাক্কা দেয়া না হয় ও আমার পাইপ আনতে যেতে দিতে বললাম, বা তারা যেন আমার স্ত্রীর কাছ থেকে তা নিয়ে আসে। আমি পাইপ আনতে যেয়ে দেখলাম আমার স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন, তিনি আমাকে পাইপ ও একটা ছোট স্যুটকেস হাতে তুলে দিলেন”। বন্দী বঙ্গবন্ধু যাবার পথে পথে দেখলেন চারিদিকে আগুন জ্বলছে। জানালেন, “আমি এই বাড়িতে আর ফিরে আসবো কিনা জানতাম না কিন্তু একটা কথা মনে ছিল যে যদি মরি মাথা উঁচু করেই মরবো যেন আমার দেশের মানুষকে লজ্জা পেতে না হয় যে আমাদের নেতা আত্মসমর্পণ করেছে এই ভেবে। তাহলে তারা দুনিয়ার কাছে মুখ দেখাতে পারতো না”। বঙ্গবন্ধু ফ্রস্টের কাছে আরও উল্লেখ করলেন, “I told them that a man who is ready to die, nobody can kill him. You can kill a man physically, but can you kill a man's soul? You can't, it's my faith. I'm a Mussalman and a Mussalman dies only once, not twice, I'm a human being. I love humanity. I'm a leader of this nation, and my people love me and I love them. There is nothing I expect from them now. They have given everything for me because I was ready to give everything for them. I want to make them free. I have no objection to die. I want to see them happy. I become emotional when I feel the love and affection my people gave me” । এর মানে দেশের মানুষের ভালবাসায় সিক্ত বঙ্গবন্ধু মৃত্যুভয়ে কখনও শঙ্কিত ছিলেন না।

২৫ মার্চ দিবাগত রাতে ৩২নং বাড়িতে ঘটে যাওয়া ঘটনার সাথে ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্টের ঘটনার এক অদ্ভুত মিল খুঁজে পাওয়া যায়। একই কায়দায় গুলি ছুড়তে ছুড়তে কাপুরুষ হত্যাকারীরা বঙ্গবন্ধুর বাড়ি ঘিরে ফেলে। একই কায়দায় বঙ্গবন্ধু ঘরে থেকে বের হয়ে হুঙ্কার দিয়ে জানতে চান, “কে তোমরা, কি চাও?” শুধু পার্থক্য এই যে, পাকিস্তানী সৈন্যরা যা পারেনি বাংলাদেশের কতিপয় ঘাতক তা পেরেছে, বঙ্গবন্ধুর বুকের উপর গুলি চালিয়ে দিতে পেরেছে। হত্যাকারীরা বাংলাদেশেরই মানুষ যে দেশের মানুষকে বঙ্গবন্ধু ভালবেসে তাঁর সারা জীবনের রাজনীতি করেছেন ও যে দেশের মানুষের প্রতি ছিল তাঁর অসীম মায়া ও বিশ্বাস। নিরাপত্তাজনিতকারণে তাঁকে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় থাকতে হবে এমন চিন্তা এই মানুষটি কস্মিনকালেও করেননি কারণ তিনি জানতেন এই দেশের মানুষ কখনই তাঁকে মারতে পারে না। ডেভিড ফ্রস্ট্রের কাছেই তিনি বলেছিলেন, “আমার সবচেয়ে বড় শক্তি আমি দেশের মানুষকে ভালবাসি, আর আমার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হচ্ছে আমি তাদেরকে খুব বেশী ভালবাসি”।

সে ভালোবাসার প্রতিদান স্বাধীন বাংলাদেশের কিছু অসভ্য ও বর্বর প্রকৃতির লোকের হাতে কলঙ্কিত হয়েছে কিন্তু এ কথাও সত্যি যে বঙ্গবন্ধুর মতো নেতাকে ভালোবেসে এই দেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষ ১৯৭১ সালে জীবন দিতে প্রস্তুত ছিল, ৩০ লক্ষ মানুষ অকাতরে জীবন দিয়েছে, ২ লক্ষ মা-বোনদের নির্মম পৈশাচিকতার শিকার হ’তে হয়েছে। পরাজয় নিশ্চিত জেনে পাকিস্তানীরা দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের পর্যন্ত পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে, শত সহস্র মানুষ গৃহহারা হয়েছে, আপনজন হারিয়েছে।  বঙ্গবন্ধু জানতেন এই পাকিস্তানীরা কত ভয়ঙ্কর। তাই ডেভিড ফ্রস্টের কাছে বলছেন, “They are not human beings, they are criminals, they are fanatics, inhuman, uncivilized creatures... I've seen many human beings with human qualities, but I think the soldiers of West Pakistan are not human beings, they are worse than animals. People may have animal qualities, but people cannot be worse than animals. But these people are worse than animals, because an animal would kill a man attacking it, but not torture it. But they killed my people torturing them for 5 days, 7 days, 15 days”। এমনকি কথোপকথনের ফাঁকে ঘৃণাভরে ইয়াহিয়া খানকে তিনি ‘ক্রিমিনাল’ হিসেবে উল্লেখ করে কোনদিন তার ছবি পর্যন্ত তিনি দেখতে চাননা বলে জানান। ভূট্টোর বরাত দিয়ে বঙ্গবন্ধু একটি তথ্য ডেভিড ফ্রস্ট-কে জানান যে, ইয়াহিয়া খান ক্ষমতার পালাবদলের সময়ে ভূট্টোকে বলেছিল, “Mr. Bhutto, I've created the greatest blunder of not killing Sheikh Mujibur Rahman”।

ডেভিড ফ্রস্টের কাছে দেয়া এই সাক্ষাৎকারে বঙ্গবন্ধু বেশ কয়েকবার অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠেন। বিশেষ করে দেশের মানুষকে যুদ্ধাকালীন সময়ে যে নিদারুণ দুঃখ-দুর্দশা, অত্যাচার, পৈশাচিকতার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে সেসব কথা উল্লেখ করতে যেয়ে। আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের প্রতি যে নির্মম অত্যাচার হয়েছে ও বহু নেতা-কর্মীকে প্রাণ দিতে হয়েছে তাঁদের কথাও তিনি নাম ধরে স্মরণ করেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও স্বাধীন বাংলাদেশের যে অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক তার নানারকম দিক উঠে এসেছে এই কথোপকথনে। যে কেউ আমাদের মুক্তি সংগ্রাম ইতিহাসের বহু বৈচিত্র্যরূপ তথ্যের সন্ধান পাবেন যদি তা অনুধাবনের চেষ্টা করেন আর বর্তমান সময়ে তা খুবই জরুরী। সত্যরূপের বঙ্গবন্ধুকে ভালো করে বুঝতে হলে যে অনুসন্ধান জ্ঞান আমাদের প্রয়োজন তা সময়ের সাথে সাথে মূল্যবান হয়ে উঠছে, এ কথা একবাক্যে সবাই এখন স্বীকার করবেন। বঙ্গবন্ধুর মতো বিশাল পটভূমি ধারণ করে মানুষের মুক্তি আন্দোলনে বিশ্ব আসনে ঠাই পেয়েছেন এমন নেতৃত্বের সংখ্যা খুব বেশী নয়। ডেভিড ফ্রস্ট বঙ্গবন্ধুর কাছে জানতে চেয়েছিলেন, “যথার্থ নেতৃত্বের সংজ্ঞা কি?’ – উত্তরে বঙ্গবন্ধু খুবই দৃঢ় কণ্ঠে জানিয়েছিলেন, “যথার্থ নেতৃত্ব আসে সংগ্রামের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। আকস্মিকভাবে কেউ নেতা হতে পারে না, তাঁকে সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আসতে হবে ও মানুষের মঙ্গলের জন্যে নিজেকে উৎসর্গ করতে হবে। নেতার থাকতে হবে আদর্শ, থাকতে হবে নীতি। কেবলমাত্র এইসব গুণাবলী থাকলেই কেউ নেতা হতে পারে”।

বঙ্গবন্ধু তাঁর আদর্শ ও নীতিতে আজীবন অবিচল ছিলেন, সংগ্রামের মধ্যে নেতৃত্ব দিয়েই তিনি জাতির পিতার আসনে ঠাই পেয়েছেন ও মানুষের মঙ্গলের জন্যে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। লক্ষ্যের প্রতি বিশ্বাস ও নিজের দেয়া নেতৃত্বের সংজ্ঞায় তাঁর কোন বিরোধ বা দ্বন্দ্ব ছিল না, যে কারণে তিনি ‘হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী’র মর্যাদাও অর্জন করেছেন। এতো বৈচিত্র্যময় গূণাবলী আর অর্জন ক’জন বাঙালীর আছে?    


বঙ্গবন্ধু  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন