ইনসাইড থট

বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ ও কিছু আত্মজিজ্ঞাসা!

প্রকাশ: ০৮:৩২ এএম, ০৬ ডিসেম্বর, ২০২১


Thumbnail

১০ই জানুয়ারি ১৯৭২। বেলা আড়াইটা। আকাশে ঝকঝকে রোদ। কমেট বিমানের চাকা স্পর্শ করল তেজগাঁও বিমানবন্দরের রানওয়ে। উপচে পড়া ভিড় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে একনজর দেখার জন্য। তারপর সেখান থেকে সরাসরি সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। মঞ্চহীন ট্রাকের ওপর দাঁড়িয়ে সেদিন স্বাধীন দেশের লাখ লাখ মানুষের সামনে উচ্চারণ করলেন দেশ-মানুষের প্রতি তার ভালোবাসার কথা, অঙ্গীকারের কথা। তখনও মাথার উপর ছিল রোদের ঝলকানি। সেদিন তিনি পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে বার্তা দিয়েছিলেন এই বলে - “…তোমরা আমার লাখ লাখ মানুষকে হত্যা করেছে, মা-বোনদের বেইজ্জত করেছ, বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিয়েছ, কোটি লোককে ভিটেছাড়া করে ভারতে যেতে বাধ্য করেছ- তারপরেও মনের মধ্যে তোমাদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ পুষে রাখতে চাই না। তোমরা স্বাধীন থাকো, আমাদের স্বাধীনভাবে থাকতে দাও। তোমাদের সঙ্গে সব চুকে বুকে গেছে।…“

শুধুমাত্র জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর এই উচ্চারণকে যদি বিশ্লেষণ করা যায় যেখানে জড়িয়ে রয়েছে এদেশের প্রতি তার অগাধ প্রেম, ভালোবাসা, আবেগ আর ক্ষমা করে দেবার মত মহান সাহসিকতা ও উদারতার বহিঃপ্রকাশ। অথচ এই মহামানব কেই একদিন চলে যেতে হল ঘাতকের নির্মম বুলেটের আঘাতে সিঁড়ির উপর পড়ে থাকল তার রক্তে ভেজা নিস্তার দেহ। কালো ফ্রেমের চশমার ভেতর দিয়ে একটি লাল সবুজের সোনার বাংলার যে স্বপ্ন বঙ্গবন্ধু দেখেছিল ঘাতকেরা ভেবেছিল তাকে হত্যা করার মধ্যে দিয়ে তার সেই স্বপ্নকে গলা টিপে হত্যা করবে! সেদিন তারা এতোটুকু ভাবেনি হয়তো বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা যায় কিন্তু তার স্বপ্ন কে হত্যা করা যায় না! কখনো সম্ভব নয়!

এই আগস্ট বাঙালিদের কাছে শোকের একটি মাস। আবার অন্যভাবে বলতে গেলে আত্মিক উপলব্ধির একটি মাস। কারণ ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট আমরা হারিয়েছি জাতির পিতাকে। আমরা সেই সাথে হারিয়েছি বঙ্গমাতাকে, ছোট্ট রাসেলকে। হারিয়েছি বঙ্গবন্ধুর পুত্র-পুত্রবধূ ও তার নিকট আত্মীয় স্বজনকে। তাই এই মাসটি আমাদের আত্মিক উপলব্ধির একটি মাস। কারণ প্রতি বছর এই মাসটি আসলে আমাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়। অন্তরাত্মাকে প্রশ্ন করলে সে প্রশ্ন বারেবারে প্রতিধ্বনিত হয়। বাঙালী হিসেবে স্বার্থপরতার কথা, বিশ্বাসঘাতকতার কথা! আমাদের উপলব্ধি করতে শেখায় জাতি হিসেবে আমরা কত অকৃতজ্ঞ! সেদিন জাতির পিতাকে নির্মমভাবে হত্যা করেও ঘাতকদের মধ্যে ন্যূনতম অনুশোচনা হয়নি। তাদের হাত এতোটুকু কাঁপেনি। সেদিন তারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে ভেবেছিল বাংলাদেশকে হত্যা করবে! তবে তারা ভুলে গিয়েছিল একজন বঙ্গবন্ধুকে হয়তো বুলেটের আঘাতে ক্ষতবিক্ষত করা যায়, পৃথিবী থেকে সরানো যায় কিন্তু বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, দেশপ্রেম, চিন্তা-চেতনা বাংলার প্রতিটি ঘরে ঘরে কোটি বঙ্গবন্ধুর জন্ম দেয়। যারা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নকে তাদের ভালোবাসা, সংকল্প আর আশা দিয়ে পুনরুজ্জীবিত করতে চায়। দেশকে সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলতে চায় তার দেখানো মতাদর্শে। তাই বঙ্গবন্ধুর কখনো মৃত্যু হয় না, বেঁচে থাকে জন্ম-জন্মান্তর।

পৃথিবীতে এমন নজির খুব একটা নেই বললেই চলে। স্বাধীনতা-পরবর্তী অত্যন্ত অল্প সময়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু যে দেশপ্রেমের দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গিয়েছিলেন দেশের পুনর্গঠনে, সার্বিক টেকসই উন্নয়নে - আমরা যদি শুধুমাত্র তার সেই সুদূর প্রসারী চিন্তাভাবনাগুলোকে বাস্তবায়ন করতে পারি এখনও আমরা দেশকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে সক্ষম হব। যার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা তার পিতার সোনার বাংলার স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথেই হাঁটছেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু স্বপ্ন দেখেছিলেন দেশের কোন মানুষ কখনো আশ্রয়হীন থাকবে না। স্বপ্ন দেখেছিলেন এমন একটি বাংলাদেশের যেখানে গ্রামীণ অর্থনীতি হবে সুদৃঢ়। স্বপ্ন দেখেছিলেন প্রত্যেকটি মানুষ হবে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী। তার দৃষ্টিভঙ্গি ছিল প্রখর, স্বতন্ত্র এবং বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। তিনি অঙ্গীকার করেছিলেন তার দেশের প্রত্যেকটি মানুষ খাবার পাবে, আশ্রয় পাবে, শিক্ষা পাবে, উন্নত জীবনের অধিকারী হবে। তার ভাষায় “এই হচ্ছে আমার স্বপ্ন”। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পিতার সেই স্বপ্নকে বুকে ধারণ করেই পথ চলছেন বাংলার মানুষের জন্য সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র এবং বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে। তিনি সেখানে যুক্ত করছেন নতুন মাত্রা।

তবে কথা থেকে যায় আসলে আমরা সবাই কি সত্যিই তার সাফল্যের জয়গান গাইছি সঠিক সুরে? কিংবা সাফল্য গুলোকে ম্রিয়মান করার জন্য অন্য কোনো অশুভ পদক্ষেপ নিচ্ছি কিনা? কারণ এই আগস্ট আমাদের অনেক কিছু শিখিয়েছে। আগেই বলেছি আত্মোপলব্ধি-পরমাত্মার উপলব্ধি এর কথা। বঙ্গবন্ধুকে ঘিরে ষড়যন্ত্রের জাল কিন্তু ঘর থেকেই শুরু হয়েছিল। এ কথা আমাদের মোটেও ভুলে গেলে চলবেনা। বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে সমূলে ধ্বংস করার পাঁয়তারা কিন্তু তার অতি কাছের মানুষেরাই করেছিল যা ইতিহাসের সাক্ষী। যদি প্রশ্ন করা হয় বঙ্গবন্ধুর প্রধান অর্জন কি? এক কথায় উত্তর মিলবে “স্বাধীন বাংলাদেশ”। যেখানে যুক্ত রয়েছে মানুষের জীবনের গল্প, শহীদের গল্প, ভাষার গল্প, প্রতিটি রক্তকণা গল্প! অথচ আজ স্বাধীনতার এত বছর পরও আমরা খুঁজে পাই বৈপরীত্য! আমরা খুঁজে পাই সেই সকল স্বার্থপরতার আর অকৃতজ্ঞতার হাতছানি। যারা আজও সোনার বাংলা গঠনে জননেত্রী শেখ হাসিনার সাফল্যকে রুখে দিতে চায়!

ইতিমধ্যে আমরা পত্র-পত্রিকায় দেখেছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষদের আশ্রয়ন প্রকল্পের নির্মাণ ত্রুটির কথা, বারে বারে পদ্মা সেতুর একই পিলারে আঘাত আনার কথা, নামে-বেনামে ভুঁইফোড় সংগঠনের জেগে ওঠার কথা, করোনাকালীন সময়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর অসাধু কর্মতৎপরতার কথা সহ অনেক খবর। সত্যিকার অর্থে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ যারা মনেপ্রাণে ধারণ করে তারা কখনোই এ ধরনের সাফল্যকে ম্রিয়মাণ হতে দেবে না। আমরা জানি বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা কোন অন্যায়ের সাথে আপোষ করেন না। দেশকে সোনার বাংলা গঠনকল্পে দেশের সাধারণ মানুষের দুঃখ কষ্ট লাঘব করার উদ্দেশ্যে, দেশকে অর্থনৈতিক দিক থেকে উন্নয়নের লক্ষ্যে তিনি সর্বদা প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তাহলে এই দায়টা কার? জাতি হিসেবে এ লজ্জা কি আমাদের নয়? যে চরম অবহেলা জনিত কারণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রাণপণ প্রচেষ্টা এবং স্বপ্নপূরণের পথে বাধার সৃষ্টি হয় সে গুলোকে যদি সঠিক সময়ে সঠিক পন্থায় পর্যবেক্ষণ এবং চিহ্নিত না করা হয় তাহলে সকল প্রাপ্তি ম্রিয়মান হয়ে যাবে দিনশেষে। আর জাতি হিসেবে এটি হবে আমাদের জন্য চরম ব্যর্থতার। যে ব্যর্থতাগুলো হয়তো সামনে চরম বিপদ ডেকে আনবে! যার জন্য এখন থেকেই আমাদের সচেষ্ট এবং সদা জাগ্রত থাকতে হবে।

লেখার শেষাংশে মনে করতে চাই মানুষকে ভালোবেসে বঙ্গবন্ধু একদিন বলেছিলেন “…মানুষকে ভালোবাসলে মানুষও ভালোবাসে। যদি সামান্য ত্যাগ স্বীকার করেন, তবে জনসাধারণ আপনার জন্য জীবন দিতেও পারে।…” তিনি আরও বলেছিলেন “…আমার সবচেয়ে বড় শক্তি আমার দেশের মানুষকে ভালবাসি, সবচেয়ে বড় দুর্বলতা আমি তাদেরকে খুব বেশী ভালবাসি।…” আমরা কি সত্যি তার সেই ভালোবাসার মূল্য দিতে পেরেছি কিংবা এখনো পারছি? প্রশ্ন থেকে যায় মনে! আর এই প্রশ্নটির সামনে হয়তো একদিন আমাদের সবাইকে দাঁড়াতেই হবে!


বঙ্গবন্ধু   সোহরাওয়ার্দী উদ্যান  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড থট

হারিছ চৌধুরীর নীরব মৃত্যু ও কিছু প্রশ্ন!


Thumbnail

চারদলীয় জোট সরকারের শাসনামলে দোর্দণ্ড প্রতাপশালীদের একজন ছিলেন আবদুল হারিছ চৌধুরী। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে পরাজিত হলেও খালেদা জিয়া তাকে তার বিশেষ সহকারী নিয়োগ দিয়েছিলেন। আর ফিরে তাকাতে হয় নি। ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসার পর খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হন। তিনি এতটাই ক্ষমতাধর ছিলেন যে, নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে নিজ বাড়িতে ডাকঘর, স্কুল, পুলিশ ক্যাম্প ও ব্যাংকের শাখা বসিয়েছিলেন। সেখানে গড়ে তুলছিলেন ব্যক্তিগত মিনি চিড়িয়াখানা। আয়ের বৈধ কোনো উৎস না থাকলেও রাতারাতি বিপুল অর্থবিত্তের মালিক হয়ে যান হারিছ চৌধুরী। তার কানাইঘাটের বাড়িকে বলা হতো সিলেটের ‘হাওয়া ভবন’।  ১/১১ এর পট পরিবর্তনের পর দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ঝটিকা অভিযান শুরু হলে আত্মগোপনে চলে যান হারিছ চৌধুরী। আড়ালে চলে গেলেও গণমাধ্যমে একের পর এক তার দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের সংবাদ প্রকাশিত হতে থাকে। সম্প্রতি জানা গেল তিনি তিন মাস আগে ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেছেন। 

হারিছ চৌধুরীর মৃত্যুর সংবাদটি অবিশ্বাস্য মনে হলেও হারিছ চৌধুরীর কন্যা ও লন্ডন বিএনপির শীর্ষ নেতারা খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। প্রমাণ হয়েছে - ইন্টারপোলের রেড নোটিশে থাকা কেউ চাইলে আত্মগোপনে থাকতে পারে। তিনি কবে, কিভাবে দেশ ছাড়লেন, কোথায় ছিলেন, কি করেছেন, কবে ও কিভাবে দেশে এলেন - এমন অনেক প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। কিন্তু এ রহস্যকে ছাড়িয়ে যে প্রশ্নটি বড় হয়ে উঠেছে তা হচ্ছে -  বিএনপির গুম দাবি করা ব্যক্তিদের সন্ধানও কি একদিন এভাবে পাওয়া যাবে?


২০১৫ সালের ১০ মার্চ ঢাকা থেকে নিখোঁজ হন  বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ। দু'মাস পর ১১ মে মেঘালয় রাজ্যের শিলংয়ে 'উদ্দেশ্যহীন ভাবে ঘোরাফেরা' করার সময় তাকে আটক করে শিলং পুলিশ। তার নামে অবৈধ অনুপ্রবেশের মামলা হয়। বলা হয়েছিল, গোয়েন্দা পরিচয়ে তাকে তার উত্তরার বাসা থেকে তুলে একটি প্রাইভেট কারে শিলং নেওয়া হয়েছে। এক দেশ থেকে আরেক দেশে নিয়ে ছেড়ে দেয়ার দাবি হাস্যকর ও অবাস্তব একটি বিষয়। 

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, হারিছ চৌধুরী ছিলেন আলোচিত/সমালোচিত একজন ব্যক্তি। বিএনপির শাসনামলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও তখনকার পাওয়ার হাউস হিসেবে পরিচিত  "হাওয়া ভবন" - উভয় স্থানেই অবাধ বিচরণ ছিল তার। এছাড়া মোসাদ্দেক আলী ফালুর সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্য ও মালয়েশিয়ায় যৌথ ব্যবসা রয়েছে বলেও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়। হারিছের বিরুদ্ধে ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা ও শাহএএমএস কিবরিয়া হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মামলা রয়েছে। এছাড়া দুদকের দুর্নীতি মামলা ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় তার যথাক্রমে তিন ও সাতবছরের জেল ও দশ লাখ টাকা জরিমানা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করেছেন আদালত। ২০১৮ সালে ইন্টারপোলে তার বিরুদ্ধে রেড নোটিশ ইস্যু হয়। কিন্তু তিনি সফলভাবেই গা ঢাকা দিয়ে থাকতে সক্ষম হন। 

জানা যায়, ২০০৭ সালে ২৯ জানুয়ারি সিলেটের জকিগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে ভারতের করিমগঞ্জে পাড়ি জমান হারিছ চৌধুরী। সেখান থেকে পাকিস্তান হয়ে ইরানে তার ভাই আবদুল মুকিত চৌধুরীর কাছে যান। ইরানে থেকে তিনি যুক্তরাজ্যে যান এবং যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসা নেন বলেও গণমাধ্যমের সূত্রে জানা যায়। এর আগে যুদ্ধাপরাধী মাওলানা আবুল কালাম আজাদ ভারত হয়ে পাকিস্তানে পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন। এছাড়া বিদেশে এসাইলামের জন্য পিনাকী ভট্টাচার্য নামের এক ইউটিউবার নাটক করে মিয়ানমার হয়ে ফ্রান্সে আশ্রয় নিয়েছিলেন বলেও জানা যায়। তাই ধারণা করা অস্বাভাবিক নয় যে - ভারত ও মিয়ানমার সীমান্তে চোরাচালানে জড়িত কোনো সিন্ডিকেট হয়তো তাদেরকে দেশ থেকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করে।

খবরে জানা যায়, নিখোঁজের ৯ বছর পর বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীকে নিয়ে মন্তব্য করে দলের বিরাগভাজন হয়েছিলেন বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাস। তিনি ইলিয়াস আলীর ‘গুমের’ পেছনে দলের ভেতরে থাকা কয়েকজন নেতাকে দায়ী করেন। 
 
গুম অবশ্যই নিন্দনীয় ও অনাকাঙ্ক্ষিত একটি বিষয়। কিন্তু রাজনৈতিকভাবে ঘায়েল করতেও যে গুম নাটক হতে পারে তার নজির রয়েছে। ছাত্র অধিকার পরিষদ নেতা তারেককে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তুলে নিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে সেই সংগঠনের নেতাকর্মীরাই আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে তার বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতা করে লুকিয়ে থাকার তথ্য ফাঁস করে। বিএনপির পক্ষ থেকে গত ১২ বছরে প্রায় ছয়শ নেতাকর্মীকে গুম করার অভিযোগ তোলা হয়েছে। কিন্তু তথ্য পাওয়া যায় ৮৭ জনের। এদের মধ্যে কতজন ব্যক্তিগত কোন্দলের শিকার, কতজন স্বেচ্ছায় গা ঢাকা দিয়ে আছে - কে জানে! যেমন: একজন কাপড় বিক্রেতাকে কোনো রাজনৈতিক দল কেন প্রতিপক্ষ করবে - তার বিশ্বাসযোগ্য জবাব খুঁজে পাই নি। ব্যক্তিগত কোন্দলকে রাজনৈতিক মেরুকরণ করে পরোক্ষভাবে বিচারের পথ বন্ধ করা হয়েছে কিনা তাও বিবেচনার দাবি রাখে। তবে যেহেতু গুম ইস্যুতে সরকারকে টার্গেট করে প্রচারণা চলে আসছে, তাই সরকারের উচিত এ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে জনগণকে প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে অবহিত করা এবং প্রয়োজনে আন্তর্জাতিকভাবে বিষয়টি তুলে ধরা ।

লেখক: রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক ও বিশ্লেষক

হারিছ চৌধুরী   বিএনপি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড থট

ওমিক্রন আর টিকা নিয়ে আবারও কিছু কথা

প্রকাশ: ১০:০০ এএম, ১৮ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

এই সেইদিন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জনগণকে হুমকি দিয়ে বলেন যে তারা যদি স্বাস্থ্যের পরামর্শ না মানে তবে তিনি লকডাউন আরোপ করবেন। একইসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে জনগণকে গুজবে কান না দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন এবং স্কুল বন্ধ হবে না বলে আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, তিনি প্রতিদিনের পরিবর্তিত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বার বার জনগণকে ভ্যাকসিন নিতে, বাইরে থাকাকালীন মাস্ক পরতে এবং রাজনৈতিক সমাবেশ সহ জনসমাগম এড়াতে অনুরোধ করেছেন। অন্যদিকে বিরোধী দলের নেতারা বলছেন বাইরে গণসমাবেশ ঠিক আছে, সরকার কেন তাদের বাধা দিচ্ছে! লোকেরা বলছে মাস্ক বাড়িতে ভুলে গেছে। রেস্তোরাঁর মালিক বলছেন কিভাবে আমি কোভিড ভ্যাকসিন পাস চাইতে পারি, তারা এই এলাকার লোক। দিনমজুররা বলছে বারবার লকডাউন দিলে আমি বাঁচব কী করে? শিক্ষার্থীরা বলছে, আমরা স্কুলে যেতে চাই এবং পড়াশোনার সময় বন্ধুদের সাথে দেখা করতে চাই। এটাই হল বাংলাদেশের বাস্তবতা।

যখন ওমিক্রন কমিউনিটি ট্রান্সমিশনে দৃঢ় এবং গভীরভাবে তার পা বাংলাদেশের ফেলেছে, দেশের প্রায় প্রতিটি কোণায় ভাইরাসটি মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে, যেমন ডেল্টা ওয়েভের সময় যা ঘটেছিল, সেই অবস্থায় এখন আর লকডাউন এবং স্কুল বন্ধ করে সংক্রমণ বন্ধ করার কোন সমাধান নয় বরং একটি ব্যর্থ কৌশল বলে আমি মনে করি। আজ ৬৬৭৬ জন নতুন সংক্রামিত লোকের মধ্যে শুধু মাএ ঢাকায় ৪,৯৯২ জন নতুন লোক সংক্রামিত হয়েছে। লকডাউন দিলে আগের মত ঢাকা থেকে জনাকীর্ণ ফ্যাশনে নগরবাসী জনগণ অন্যান্য জেলা ও গ্রামে ছুটে যাবে এবং ডেল্টার মত ওমিক্রন ভাইরাসকেও আরও ছড়িয়ে দেবে। লকডাউন, আগের মতোও কার্যকর বা প্রয়োগযোগ্য হবে না কিন্তু আমাদের অর্থনীতিকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করবে। যখন নিম্ন উদ্যোগের এবং ছোট ব্যবসার মানুষ কেবল নিজের পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে, আবারও লোকডাউন জীবিকাকে আরো ক্ষতিগ্রস্ত করবে, আরও অর্থনৈতিক দুর্ভোগ এবং অতিরিক্ত মৃত্যুর কারণ হবে। লোকডাউন রোগের সংক্রমণ এবং বিস্তার বন্ধ করবে না। ইউরোপের মতো অনেক দেশে হাজার হাজার মানুষ যেকোনো ধরনের লকডাউন বা বন্ধের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করছে। এমনকি গতকালও হল্যান্ডে হাজার হাজার মানুষ লকডাউনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করছিল, তারা বলছে তাদের জন্য এখন যথেষ্ট হয়েছে, তারা মানসিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিকভাবে আর সহ্য করতে পারছে না। বাংলাদেশেও একই ঘটনা ঘটতে পারে, আমরা কি তার জন্য প্রস্তুত?

অন্যদিকে, স্কুল বন্ধ হলেও সংক্রমণ বন্ধ হবে না, কারণ শিক্ষার্থীরা বাড়ির বয়স্ক ব্যক্তিদের দ্বারা সংক্রামিত হবে যেহেতু বড়রা অবাধে চলাফেরা করছে আর আক্রান্ত হচ্ছে অথবা শিক্ষার্থীরা আক্রান্ত হবে তাদের স্কুলে না যাবার কারণে সময় কাটানোর জন্য বাধাহীন সামাজিকীকরণ এবং বাইরে জমায়েতে মেলামেশার জন্য। এটি শিক্ষার্থীদের মানসিক, সামাজিকভাবে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করবে এবং তাদের নিজেদের ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার ও অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নষ্ট করার সাথে সাথে বাংলাদেশের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ভবিষ্যতকে নষ্ট করবে।

হ্যাঁ, প্রতিদিন সংক্রামিত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, আজ তা বেড়ে ৬৬৭৬ এর উপরে পৌঁছেছে, সংক্রমণের হার ২০% এর বেশি বেড়েছে, মৃত্যুর সংখ্যা ৭জন থেকে বেড়ে ১০জন হয়েছে। আরও বেশি লোক হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে কিন্তু ২০২১ সালের জুলাইয়ে ডেল্টা তরঙ্গের তুলনায়, আমরা এখন অনেক ভালো অবস্থায় আছি। যাদের হাসপাতালে ভর্তি করার দরকার পরছে তাদের গুরুতর যত্নের প্রয়োজন খুবই কম, বরং একদুইদিন পর বাড়িতে বসে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে বলা হচ্ছে। মৃত্যুর হার খুবই ন্যূনতম। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আধিকারিকরা আজ বলেছেন যে কোভিডের কারণে মৃত্যুর ৮০% ভাগ তারাই যাদের টিকা দেওয়া হয়নি এবং বাকিরা আরো কিছু অন্যান্য রোগে ভুগছিলেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, বাংলাদেশে এখন Merck এবং Pfizer-এর অ্যান্টি-কোভিড চিকিৎসা খুব সহজে পাওয়া যায় এবং বাড়িতে নেওয়া যেতে পারে, যার ফলে হাসপাতালে যত্নের প্রয়োজন এবং মৃত্যু হ্রাস করছে। আমি আবার বলব আমরা এখনও ভালো অবস্থায় আছি। দুর্ভাগ্যবশত, এমনকি আমাদের সেরা প্রচেষ্টার সাথেও অল্প কিছু মৃত্যু ঘটছে এবং ঘটবে। কোনো দেশ, কোনো সমাজই প্রতিটি মৃত্যু ঠেকাতে পারছে না, পারবেও না। অতএব, লকডাউন বা স্কুল বন্ধের পরিবর্তে, বাংলাদেশের জন্য তিনটি জিনিস রয়েছে যা কিছু বাড়তি প্রচেষ্টায় প্রয়োগ করা সম্ভব এবং তা অনুসরণ করলে কোভিড-১৯ ভাইরাসের নেতিবাচক প্রভাব হ্রাস, বিশেষ করে ওমিক্রনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অনেক অগ্রগতি সম্ভব হতে পারে। কোভিড-১৯ ভাইরাস আমাদের সাথে আছে এবং আসন্ন ভবিষ্যতে কিছু সময়ের জন্য একই বা অন্য আকারে/রূপে আমাদের সাথে থাকবে। তার জন্য প্রস্তুত হয়া উচিত (লোক ডাউন বা স্কুল বন্ধ করা নয়): মাএ তিনটি বিষয় আমাদের আরো ভাল, টেকসই আর কাঠর ব্যবস্থা নিতে হবে:

১। টিকা: প্রথম, দ্বিতীয় এবং বুস্টার ডোজ। যতদূর সম্ভব, যত দ্রুত সম্ভব প্রতিদিন আরও বেশি মানুষকে টিকা দিন। আমি গর্ব করে বলতে পারি হ্যাঁ, আমরা এটা করতে পারি।
২। বাইরে, কর্মক্ষেত্রে মাস্ক ব্যবহার করা
৩। বেশী ভিড়ের বাহিরের আর ভিতরের গণ জমায়েত এড়ানো

ভ্যাকসিন সম্পর্কে কথা বলা যাক। আমরা অত্যন্ত ভাগ্যবান, একজন দূরদর্শী নেতা, আমাদের প্রধানমন্ত্রী কোভিড মোকাবেলায় বর্তমানের জ্ঞান এবং প্রমাণ সহ আমাদের নেতৃত্ব প্রদান করছেন।তার নেতৃত্বের এবং প্রতিদিনের কোভিড পরিস্থিতি তদারকি করার কারণে, সময়মত সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া, লোকদের টিকা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করা, মাস্ক ব্যবহার করা এবং গণসমাবেশ এড়ানোর পরামর্শ দেয়ার পাশাপাশি আমাদের পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন মজুদ থাকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করার তদারকি করছেন। অতএব, আমরা ভাগ্যবান আমাদের কাছে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন রয়েছে এবং আরও ভ্যাকসিন আসছে। আমেরিকা সহ অন্যান্য বন্ধু দেশ এবং সংস্থা ভ্যাকসিন পাঠাচ্ছে। তাই ভ্যাকসিনের সমস্যা নেই বা হবে না। আমাদের টিকা দেওয়া আরো সম্প্রসারিত করার অসুবিধা গুলো কাটিয়ে উঠতে হবে। আত্মনির্ভরশীল এবং পর্যাপ্ত হওয়ার জন্য আমাদের ভ্যাকসিন তৈরি করতে হবে এবং দেশের উন্নয়ন ব্যাঙ্গোভ্যাক্সকে সফল করতে বা অন্যদের দ্বারা উদ্ভাবন করার লক্ষে সমস্ত সহায়তা প্রদান করতে হবে।

জনাব মিনহাজুল আবেদিন এবং অন্যরা একটি গবেষণা চালিয়ে দেখেছেন যে বাংলাদেশের প্রায় ৭৫% পুরুষ এবং মহিলা কোভিডের বিরুদ্ধে ভ্যাকসিন পেতে ইচ্ছুক যদি টিকা বিনামূল্যে দেওয়া হয়। ন্যূনতম ফি সহ ৪৬.৫% ভ্যাকসিন পাওয়ার অভিপ্রায় দেখিয়েছে। শুধুমাত্র ৮.৫% জন টিকা দিতে অনিচ্ছুক ছিল। বয়স্ক, গ্রামীণ, আধা-শহুরে, বস্তি সম্প্রদায়, কৃষক, দিনমজুর, গৃহকর্মী, স্বল্প শিক্ষিত মানুষ যারা অনিচ্ছুক তাদের মধ্যে রয়েছে। অতএব, সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ টিকা পেতে প্রস্তুত এবং ইচ্ছুক। আমি নিশ্চিত, উপযুক্ত তথ্য এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার এবং গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থার মাধ্যমে আমরা বেশিরভাগ বাংলাদেশীকে টিকা দেওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করতে পারি।

বাংলাদেশ অত্যন্ত সফলভাবে টিকাদান কার্যক্রম শুরু করেছে। আজ পর্যন্ত (১৫ই জানুয়ারি) ৮৫,২৮৭,৯৫৬ (৫১.৮%) মানুষ তাদের প্রথম ডোজ পেয়েছেন। ৫৬,১৯১,২৫২ (৩৪.১%) লোককে সম্পূর্ণরূপে টিকা দেওয়া হয়েছে এবং ১৯০,২৭৯ জন বুস্টার ডোজ পেয়েছে। গত সপ্তাহে, বাংলাদেশ প্রতিদিন গড়ে ১,১২২,১১৭ জনকে টিকা দেওয়া হয়েছে, যা গর্ব করার মত উল্লেখযোগ্য অর্জন। আমাদের এখন সেই অর্জনকে আগামী দিন, সপ্তাহ ও মাসে ধরে রাখতে হবে এবং দ্রুত আরো বাড়াতেই হবে, কারণ এটি একটি জরুরি অবস্থা, আমাদের হাতে বেশি সময় নেই। মন্ত্রণালয়কে আরও মনোযোগ দিতে হবে কেন ২৯,০৯৬,৭০৪ জন (প্রায় ৩ কোটি) লোক এখনও তাদের দ্বিতীয় ডোজ পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে? এটি কি ইলেকট্রনিক নোটিফিকেশন সিস্টেমের সমস্যার কারণে, নাকি আমরা এখনও ৩ মাসের ব্যবধান বজায় রাখছি, বা লোকেরা অনিচ্ছুক বা লোকেরা দীর্ঘ লাইনের কারণে অনেকক্ষণ অপেক্ষা করায় টিকা না নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন অথবা তারা তাদের প্রথম ডোজ অন্য কোথাও নিয়েছিল এবং শীঘ্রই সেখানে ফিরে যেতে পারছে না। একই ব্যক্তিকে বিভিন্ন স্থানে ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে না। ইলেকট্রনিক তথ্যের যুগে এটা দুর্ভাগ্যজনক হবে, বিশেষ করে বাংলাদেশে যেখানে ইলেকট্রনিক ও মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে বিপ্লব ঘটছে। আমি মনে করি আমাদের জরুরীভাবে এ বিষয়টি খতিয়ে দেখা দরকার। এবং আমাদের কোন বিলম্ব না করে যথাযথ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। আমাদের কাছে ইলেকট্রনিক তথ্য আছে, আমরা সেই ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার জন্য স্বেচ্ছাসেবকদের সংগঠিত করতে পারি এবং তাদের টিকা দেওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করতে বা আনতে পারি।

আমি খুশি যে মন্ত্রীসভা ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সীদের বুস্টার দেওয়া শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং আমি আশা করি আরও বেশি ভ্যাকসিন পাওয়ার সমর্থে মন্ত্রণালয় আরও নিম্ন বয়সের গোষ্ঠীকে অল্প সময়ের মধ্যে ক্রমবর্ধমানভাবে অন্তর্ভুক্ত করবে।

মনে রাখবেন, বেশিরভাগ ইউরোপীয় দেশ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ১২ বছরের কম বয়সী শিশুদেরও টিকা দেওয়া শুরু করেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচওর) ইঙ্গিতের জন্য বাংলাদেশের অপেক্ষা করা উচিত নয়। কোভিড, আরো বিশেষ করে কোভিড টিকা দেওয়া নিয়ে ডাব্লুএইচও-এর সিদ্ধান্তগুলি বৈজ্ঞানিক ভিত্তিতে নয়, বরং নৈতিক ভিত্তির উপর ভিত্তি করে করা হচ্ছে। কারণ গরীব অনেকদেশ কোভিড টিকা পাওয়া আর দেয়ার ক্ষেএে অনেক পিছনে পরে আছে, তাই তারা তাদের টিকা দেওয়ার শিশুদের অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্তে দেরি করছে। বাংলাদেশ যদি আরও বেশি এবং পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন নিশ্চিত করতে পারে, তবে দয়া করে WHO-এর জন্য অপেক্ষা না করে, শিশুদের টিকা দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবেন। আমেরিকা এবং পশ্চিমা দেশগুলি বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সহ শিশুদের টিকা দেওয়া বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে (মনে রাখবেন যে কোনও ব্যর্থতার জন্য সেসব দেশে আদালতে চিকিৎসা মামলা খুব বেশি; তাই সেসব দেশে নিরাপত্তা এবং কার্যকারিতা বিবেচনা করে সরকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়)।

দেশে জিনোমিক সিকোয়েন্সিংয়ের স্বল্পতার জন্য শুধুমাত্র অল্প সংখ্যক লোকের পরীক্ষা করা হয়েছে, তাই আমাদের পক্ষে বলা কঠিন যে কোন বৈকল্পিকটি এই ৪র্থ তরঙ্গ সৃষ্টি করছে, ওমিক্রন বা ডেল্টা? অনেক দেশে ওমিক্রনের দ্রুত বিস্তার ডেল্টা ট্রান্সমিশন বন্ধ করে দিয়েছে, সেখানে ডেল্টা শীঘ্রই বিলুপ্ত হতে পারে। বাংলাদেশে মানুষের সাথে কথা বলে এবং তাদের উপসর্গ গুলো শুনে, আমি বিশ্বাস করি নতুন তরঙ্গ ওমিক্রনের কারণেই হচ্ছে। আজ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আধিকারিক জানিয়েছেন যে এখন প্রায় ৭০% সংক্রামিত লোকেরা ওমিক্রন দ্বারা আক্রান্ত হয়েছেন।

আসুন আমরা ওমিক্রনের বিস্তারে আমাদের গর্বের মহিলা ক্রিকেট খেলোয়াড়দের কথা যেন উল্লেখ না করি যারা জিম্বাবুয়ে থেকে ফিরে এসেছিলেন এবং দুর্ভাগ্যবশত কয়েকজন ওমিক্রনে অক্লান্ত হয়েছিলেন। সম্পূর্ণ দায়িত্ব এবং অন্যের প্রতি সম্মান সহ তারা সফল ভাবে সময় মত তাদের কে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছিলেন। আমরা জানি তাদের অনেক আগেই দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে বাংলাদেশী অনেকেই ছুটি কাটাতে ঢাকায় বিমানে এসেছিল। আমরা তাদের পরীক্ষা করিনি এবং আমরা তাদের হারিয়েছি, বা কোয়ারেন্টাইনে রাখতে পারিনি। আমার মনে হয় ওমিক্রনের নতুন উত্থানের কারণ গুলো হল: বিগত ছুটির মরসুমের বহু বহির্গমন এবং সমাবেশ, নির্বাচন এবং রাজনৈতিক সমাবেশ, ছাত্রদের আন্দোলন, ভর্তির উদ্দেশ্য শত শত শিক্ষার্থীরা তাদের অভিভাবকদের সাথে প্রায় একে অপরের সাথে ঝুলে জড়ো হওয়া, বিপুল বিবাহের সমাবেশ এবং অন্যান্য গণসমাবেশের ইভেন্ট গুলোর ফলাফল। অতএব, সংক্রমণের উত্থান আরও কয়েক দিন চলবে।

৬.৮ কোটি জনসংখ্যার যুক্তরাজ্যে ৪ জানুয়ারি ২১৮,৩৭৬ জন সংক্রামিত ছিল এবং ১১ জানুয়ারিতে ৩৯৮ জন মারা গিয়েছিল। আজ আক্রান্তের সংখ্যা ৮৪,০০০-এ নেমে এসেছে। সেখানে ৭২% সম্পূর্ণ টিকা এবং প্রায় সমান % বুস্টার ডোজ পেয়েছে। সেখানে কোন লকডাউন বা স্কুল বন্ধ নেই। এমনকি সেখানে বিচ্ছিন্নতার সময়কাল ৫ দিনে হ্রাস করা হয়েছে। ৬ কোটি জনসংখ্যা নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় ১২ ডিসেম্বর ৩৭৮৭৫ জন সংক্রামিত হয়েছিল এবং জানুয়ারিতে ১৮১ জন মারা গিয়েছিল। আজ সংক্রামিত মানুষের সংখ্যা মাএ ১৬৯১ জন। সেখানে ২৭% লোককে সম্পূর্ণরূপে টিকা দেওয়া হয়েছে। সেখানেও এখনো লকডাউন নেই। উভয় দেশে সংক্রমণের ৯০% এর বেশি ওমিক্রনের কারণে হয়েছে। বাংলাদেশে ১৬ কোটি মানুষের সাথে তাদের তুলনা করে বলতে পারি আমরা এখনো ভালো অবস্থায় আছি। তাহলে কেন আমাদের আতঙ্কিত হতে হবে? যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং কয়েকটি ইউরোপীয় দেশের মতো ওমিক্রনের খুব বেশি নেতিবাচক প্রভাব ছাড়াই শীঘ্রই এই তরঙ্গের সংক্রমণ তার শিখরে পৌঁছে যাবে, এবং ধীরে ধীরে কমতে থাকবে। আমাদের আতঙ্কিত হওয়ার দরকার নেই তবে প্রস্তুত থাকতে হবে।

সুতরাং, কোন লকডাউন নয় এবং কখনই স্কুল বন্ধ করার দরকার হবে না। টিকাদানের জন্য মানুষকে অনুপ্রাণিত করতে, তাদের আস্থা ও আত্মবিশ্বাস তৈরি করতে, লোকদের আরও দ্রুত টিকা দেওয়ার জন্য আমরা যা করতে পারি সবই করতে হবে। যদি এবং যখন আরও টিকা পাওয়া যাবে এবং মজুদ থাকবে, তার নিশ্চয়তা সহ উপলব্ধ বিজ্ঞান এবং প্রমাণ ব্যবহার করে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জন্য অপেক্ষা না করে বাচ্চাদের টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্তে নিন। একইভাবে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিনের উপস্থিতি বৃদ্ধির সাথে, বুস্টার ডোজের জন্য আরো বয়সের গ্রুপকে অন্তর্ভুক্ত করুন। তাই দ্রুত ভ্যাকসিন, মাস্ক এবং ভিড়ের অন্দর এবং বহিরঙ্গন ইভেন্টগুলি এড়ানো, যদি আমরা তা করতে পারি তবে অন্যান্য কোভিড প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্য কর্ম ছাড়াই জীবন ও জীবিকার ক্ষেত্রে খুব বেশি নেতিবাচক প্রভাব বিনা ভাল থাকব।

আমি পড়ছিলাম কিভাবে, আমাদের আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষ বাইরে থাকাকালীন মুখোশ না পরা লোকদের অনুপ্রাণিত করছেন মুখোশ পরার জন্য এবং আতিথেয়তা ব্যবসার স্থানে, যেমন রেস্টুরেন্টে স্বাস্থ্য পরামর্শ বজায় রাখতে উদ্ভূত করছেন। আমি আরও খুশি হব যদি আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষ তাদের সাথে মুখোশ নিয়ে যান এবং ২০০ টাকা জরিমানা সহ তাদের মাস্ক বিতরণ করেন।

আমাদের কোভিড প্রতিরোধক কর্মসূচীর সাথে জনগণকে সাথে নিয়ে চলতে হবে। হুমকি কখনও কাজ করেনি, বরং সময়োপযোগী তথ্য, বিশ্বাস অর্জন এবং আত্মবিশ্বাসের বিকাশ, মানুষকে স্বাস্থ্য পরামর্শ অনুসরণ করতে অনুপ্রাণিত করে। আমি অনেক বিজ্ঞানী এবং মহামারী বিশেষজ্ঞ, যারা ভবিষ্যদ্বাণী করছেন তাদের সাথে তাল মিলিয়ে সাহস করে আবার বলবো, ওমিক্রন সংক্রমণ হয়ত ছদ্মবেশে আশীর্বাদ হতে পারে। আসুন এর সাথে বাঁচতে শিখি।

ওমিক্রন   করোনা  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড থট

শেখ হাসিনার দূরদর্শিতা এবং আমাদের অক্ষমতা


Thumbnail

দুই বছর পরে বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রচেষ্টায় বাংলাদেশের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান এখন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। শেখ হাসিনা যেভাবে চান অথবা জনগণ যেভাবে চায় সেভাবে হয়তো সম্পূর্ণ হয়নি। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। যে কোনো গণতান্ত্রিক দেশের দিকে তাকালেই দেখা যাবে গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিতে, গণতন্ত্র সুসংহত করতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে সঠিকভাবেই কাজ করার জন্য সম্পূর্ণ তৈরি হতে সময় লাগে। এ ক্ষেত্রে আমাদের নির্বাচন কমিশনও অন্যতম প্রতিষ্ঠান যেটি সাধারণ নির্বাচন থেকে শুরু করে যে কোনো নির্বাচনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের নির্বাচন কমিশন সব সময় তাদের সঠিক দায়িত্ব যে ঠিকমতো পালন করেছে তা বলা বুকে হাত রেখে সম্ভব হবে না। তাদেরও অনেক সীমাবদ্ধতা আছে। এর মধ্যেই কেউ অল্প অল্প প্রকাশ্যে করছেন কিন্তু ভিতরে-ভিতরে সবাই আলোচনা শুরু করেছেন। সেটি হচ্ছে, আমাদের পরবর্তী সাধারণ নির্বাচন কেমন হবে। নির্দ্বিধায় বলা চলে, পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে যার ভোট যাকে তিনি দিতে চান তাকেই দেবেন এবং এ সুযোগ প্রতিষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের আগে এবং নির্বাচন হয়ে গেলে কিছু আলাপ-আলোচনা বিশ্বের সব গণতান্ত্রিক দেশেই হয়। আমাদের দেশে পরবর্তী নির্বাচন নিয়ে আলাপ-আলোচনা হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, নির্বাচনে জনগণের আকাঙ্খিত প্রার্থী শেষ পর্যন্ত নির্বাচিত হবেন। অর্থাৎ যিনি নির্বাচনে নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য নন তিনি কোনো একটি ওহি পেয়ে নির্বাচিত হবেন তা সম্ভব হবে না। এর মানে এই নয় যে একশ ভাগ নির্বাচনই সঠিক হবে, তা কোথাও সম্ভব নয়। তবে মোটামুটিভাবে নির্বাচন সঠিকভাবে পরিচালিত হবে। অনেকে এও বলেন, রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার এ নির্বাচন যেটা আমাদের দুই বছর পরে হবে তাতে তিনি কী ভূমিকা পালন করবেন। এটা নির্দ্বিধায় বলা চলে যে শেখ হাসিনা নির্বাচন যাতে নির্বাচনের মতো হয় গণতান্ত্রিক পথে হয় তার জন্য আন্তরিক। তিনি যখন দেশে ফেরেন বঙ্গবন্ধু হত্যার পরে, তখন তাঁর আকাঙ্খা ছিল যার ভোট তিনি দেবেন, যাকে খুশি তাকে দেবেন। তিনি তা প্রতিষ্ঠা করে চলেছেন।

অনেকেই বলেন, শেখ হাসিনার ক্ষমতার উৎস কী? এক কথায় এর উত্তর- জনগণ। আমরা তাঁর বিগত দিনের যেসব কাজকর্ম দেখেছি এবং তিনি যেভাবে রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন, যেভাবে যে কোনো প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হতে দিচ্ছেন তাতে এটা স্পষ্ট জনগণই তাঁর ক্ষমতার উৎস। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, চারজন বিচারপতি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একজন সম্পর্কেও সামান্যতম কোনো নেতিবাচক আলাপ-আলোচনা কোথাও হয়নি। অর্থাৎ সবচেয়ে যোগ্যদেরই রাষ্ট্রপতি নিয়োগ দিয়েছেন। দেশে যেটাই হোক না কেন, সরাসরি শেখ হাসিনার সেখানে কোনো হাত থাকুক বা না থাকুক, দায়দায়িত্ব কিন্তু তাঁর ওপরে পড়ে। আমি যদি ঘুরিয়ে বলি যে ভালো কাজটির কৃতিত্ব আমরা সবাই নিতে চাই কিন্তু যে কাজটি সঠিকভাবে হয় না তার সব দায়িত্ব সঠিকভাবে না হওয়ার জন্য আমরা দায়ী করি প্রধানমন্ত্রীকে। এটা একটা উদাহরণ যে আমাদের জুডিশিয়ারি, অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এবং পার্লামেন্ট- এ তিনটি অঙ্গকেই তিনি সমানভাবে শক্তিশালী ও প্রতিষ্ঠিত করে চলেছেন। এই কারণের জন্যই নির্বাচন সঠিকভাবে হবে। এটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে যতটুকু সম্ভব ততটুকু তিনি করবেন এবং সফল হবেন। শেখ হাসিনা সম্পর্কে অনেকে অনেকভাবে মূল্যায়ন করেন। কিন্তু একটি মূল্যায়ন অনেকেই সঠিকভাবে করেন তিনি কাজটি করার পরে। তিনি যখন যে কাজটি সঠিকভাবে করেন, কাজটি করার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত অনেকেই বুঝতে সক্ষম হন না যে তিনি শেষ পর্যন্ত কাজটি সঠিকভাবেই সম্পন্ন করতে সক্ষম হবেন। মোটামুটিভাবে এর ব্যতিক্রম প্রায় কোনো ক্ষেত্রেই নেই। এজন্যই আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সম্পর্কে অনেকে বলছেন এবং আলাপ-আলোচনা করছেন যে আওয়ামী লীগ সংগঠন হিসেবে এখন দুর্বল হয়ে গেছে। আমি নিজেও বিশ্বাস করি আওয়ামী লীগের যে রকম শক্তিশালীভাবে চলা প্রয়োজন সেখানে কিছু ঘাটতি আছে। কিন্তু আমরা অচিরেই দেখতে পাব যে, সে ঘাটতিও ঠিক করে ফেলেছেন। অর্থাৎ শক্তিশালী আওয়ামী লীগকেই আমরা দেখব আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে এবং সেখানে আওয়ামী লীগ সংগঠন হিসেবে কোনো উল্লেখ করার মতো দুর্বলতা আমরা দেখতে পাব না।

অনেকে লেখালেখি করেন প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন করবেন কি না। আমাদের পরিষ্কারভাবে বুঝতে হবে, গণতন্ত্র শক্তিশালী এবং দেশের উন্নতি ঠিকমতো করতে হলে কোন মন্ত্রীকে দিয়ে কীভাবে কাজ করাবেন তা প্রধানমন্ত্রী ভালো করেই বোঝেন। আমাদের যে বিচার সে বিচার অনেক সময় একপেশে হয়। যেমন আমি যখন ঢাকার কোনো রাস্তা দিয়ে গাড়িতে যাই তখন আমি ওই রাস্তার অবস্থাই শুধু বুঝতে পারি। কিন্তু নেত্রী যদি ওই শহরের ওপর হেলিকপ্টার দিয়ে ঘোরেন তাহলে কিন্তু তিনি সব রাস্তার অবস্থা বোঝেন। সুতরাং আমার বিচার হবে একটি রাস্তার অবস্থা দেখে আর শেখ হাসিনার বিচার হবে সব রাস্তার অবস্থা দেখে, পর্যালোচনা করে। সুতরাং সার্বিকভাবে যেহেতু আমরা গণতন্ত্রে আছি সেহেতু যে কোনো জায়গায় যে কোনো মন্ত্রণালয়ে কোনো দুর্বলতা বা যেটাই থাকুক সেটা দেখা তাঁর দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। সুতরাং আমার মনে হয় সে দায়িত্বটা আমরা তাঁর ওপরই ছেড়ে দিই এবং তা ছেড়ে দেওয়া হবে যুক্তিপূর্ণ। কেননা তিনি বুঝবেন যে কোন মন্ত্রীকে দিয়ে কখন কোন অবস্থায় কীভাবে মন্ত্রণালয় চালাতে হবে। আগত দিনে আপনারা দেখবেন যখন যেখানে প্রয়োজন হবে সেখানে সঠিকভাবে সেভাবেই প্রধানমন্ত্রী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। অনেক মন্ত্রীর নামও কিন্তু একেবারে সাধারণ মানুষ না-ও জানতে পারে, এও ঠিক। কিন্তু এ কথাও সত্য, সেই মন্ত্রণালয়ের কাজ কি আপনারা কখনো পর্যালোচনা করে দেখেছেন সে কাজে কোনো গাফিলতি হচ্ছে কি না? আমি তো দেখি রাষ্ট্রের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রতিটি অঙ্গ সঠিকভাবে চলছে। তা না হলে আমরা কী করে আজ মধ্য আয়ের দেশ হলাম? আমরা কী করে সামনের দিকে উন্নত দেশে পরিণত হচ্ছি? মানবাধিকার থেকে শুরু করে প্রতিটি জায়গায় আমাদের উন্নতি হচ্ছে। হ্যাঁ, কিছু কিছু জায়গায় হয়তো কিছু কিছু প্রতিষ্ঠানে, যেসব প্রতিষ্ঠান তাদের দায়িত্ব যেভাবে পালন করা প্রয়োজন, অর্থাৎ কী দায়িত্ব পালন করলেন তা কি জনগণকে দেশে এবং বিদেশে জানানোর প্রয়োজন সেটা সঠিকভাবে অনেক ক্ষেত্রে জানতে সক্ষম হচ্ছেন না। উদাহরণ হিসেবে মানবাধিকার কমিশনের কথাই বলি। মানবাধিকার কমিশনকে আরও সোচ্চার হতে হবে। যেমন এর আগে মিজানুর রহমান ছিলেন। তিনি কিন্তু বিভিন্ন জায়গায় অন্ততপক্ষে এর থেকে বেশি ভোকাল ছিলেন। সুতরাং এসব প্রতিষ্ঠানে যারা দায়িত্ব গ্রহণ করেন তাদের মিউ মিউ করে চললে হবে না। এটা কোনো আমলার কাজ নয়। এ কাজটি এমন লোকদের দিতে হবে যারা এ সম্পর্কে জানেন, বোঝেন। আমার ব্যক্তিগত মত হচ্ছে, এখন মানবাধিকার কমিশনে প্রয়োজনে সময় শেষ না হলেও একজন বিচারককে দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। যে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষককেও দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। অথবা যারা রাজনৈতিকভাবে সচেতন কিন্তু সরাসরি দলের সঙ্গে যুক্ত নন তাদেরও দেওয়া যায়। কারণ তাহলে আমি মনে করি তারা এ দায়িত্বটি আরও ভালোভাবে পালন করতে পারবেন।
শেখ হাসিনার কিন্তু সব দিকেই দৃষ্টি আছে। কেউ যদি মনে করেন তাঁর দৃষ্টি কোনো দিকে ঠিকমতো নেই তাহলে ভুল করবেন। কারণ একটি পলিসি নিয়ে তিনি কাজ করেন। তিনি হইচই না করে বড় কিছু না করে বরং একজন বিজ্ঞ রাজনীতিবিদ হিসেবে এখন বর্তমান যুগে বুদ্ধিভিত্তিকভাবে রাজনীতি করেন। দেশ চালানো থেকে শুরু করে প্রত্যেক জায়গায় বুদ্ধিভিত্তিক সিদ্ধান্তই জয়ী হয়। তিনি বুদ্ধিভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেই প্রতিটি কাজ করেন। যার জন্য বিভিন্ন জায়গায় যেমন আমি আপনাদের আমার ব্যক্তিগত উদাহরণ হয়তো হয়ে যাচ্ছে তবু দিচ্ছি, কমিউনিটি ক্লিনিকের দায়িত্ব আমার ওপর দিয়ে এখনো এই বয়সে এসে তিনি আস্থা রেখেছেন। কেননা কমিউনিটি ক্লিনিক শুধু প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবার জন্য এবং জনগণকে সম্পৃক্ত করার জন্য। যাতে তারা কমিউনিটি ক্লিনিক চালায় সেজন্য না। তার সঙ্গে জনগণকে সম্পৃক্ত করতে হবে যাতে করে তারা বুঝতে পারে যে শেখ হাসিনা সামগ্রিকভাবে দেশের জন্য স্বাস্থ্যব্যবস্থা শুরু করে আরও দেশের কী কী উন্নতি করছেন যেমন পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেল, রাস্তাঘাট চার লেনের জায়গায় ছয় লেন, আজকে ইলেকট্রিসিটি ফেইলর বলতে নেই এ রকম আরও অনেক উদাহরণ আছে আমি দিতে চাই না। যতগুলো স্পেশালাইজড হাসপাতাল হয়েছে যেমন ক্যান্সার ইনস্টিটিউট, শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউট প্রতিটি কিন্তু শেখ হাসিনার অবদান। সুতরাং তিনি প্রতিটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। এজন্যই সাধারণ মানুষ বিশ্বাস করে যে শেখ হাসিনা থাকলেই সব ঠিক আছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা থাকবেন কি থাকবেন না তা জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে। কিন্তু যেহেতু অতীত কাজ এবং বর্তমান কাজ প্রমাণ করে শেখ হাসিনার সমকক্ষ কোনো রাজনীতিবিদ বাংলাদেশে তো নেই, বিশ্বে খুঁজে পাওয়া বেশ কঠিন। আমাদের দেশের রাজনীতি অনেক উন্নত দেশের চেয়ে কঠিন। যেমন একটি উদাহরণ দিই। আমেরিকার মতো জায়গায় যখন পুলিশের গুলিতে কেউ মারা যায় তখন তারা টার্ম ইউজ করে পুলিশ এমন একটা পরিস্থিতিতে পড়েছিল যে নিজেকে রক্ষা বা জনগণকে রক্ষার জন্য গুলি করতে বাধ্য হয়েছে। আর আমাদের দেশে হলে সেটাই মিডিয়ায় লেখা হয় যে বিচারবহির্ভূত হত্যা করা হয়েছে। দেখেন একইভাবে ভাষার পার্থক্যের কারণে আমাদের এখানে হয়ে যায় যে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একই জিনিস করা হয় আইন রক্ষার জন্য। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও অনেক লোক নিখোঁজ হয় তখন তাদের ব্যাপারে গুম শব্দ ব্যবহার করা হয় না। তাদের ব্যাপারে আলাদা শব্দ ব্যবহার করা হয়। আমি উদাহরণ হিসেবে বলছি, এ বিষয়গুলো আমাদের কিন্তু লক্ষ্য করতে হবে। র‌্যাব আজ একটি সুসংগঠিত প্রতিষ্ঠান এবং এ প্রতিষ্ঠান সুসংগঠিত হওয়ার ফলে আমাদের দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো আছে এটা তো অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। হারিয়ে যাওয়া মানেই গুম নয়, এটা মনে রাখতে হবে। সবারই মনে থাকার কথা ফরহাদ মজহার খুব নামকরা লেখক। তিনিও হারিয়ে গেলেন। তারপর দেখা গেল কি তিনি এক বান্ধবীর সঙ্গে খুলনায় গেছেন। এ রকম অনেক ঘটনাও ঘটে। সুতরাং আমাদের এসব বিষয় পুরোটা না জেনেই আমরা যখন মন্তব্য করি তখন তা দেশের বিরুদ্ধে যায়।

এভাবে সব ক্ষেত্রে যে উন্নতি হচ্ছে তার বিরুদ্ধে যেন ষড়যন্ত্র না হয় সেজন্য আমাদের সচেতন থাকতে হবে। বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা থেকে শুরু করে আমাদের যে ডেমোক্র্যাটিক প্রসেস তাতে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। এখন কোনো দল যদি মনে করে তাদের নির্বাচনে জেতার সম্ভাবনা নেই তাহলে তারা অসাংবিধানিক পথে জেতার বা ক্ষমতা গ্রহণের চেষ্টা করলে তা হবে অনুচিত। বোঝা উচিত যারা দলীয় রাজনীতি করেন অসাংবিধানিক পথে ক্ষমতা আসাকে সমর্থন করা তাদের পক্ষে উচিত হবে না। কারণ অসাংবিধানিক পথে যারা ক্ষমতায় আসে তারা কোনো দিন রাজনৈতিক দলের  কাছে ক্ষমতা প্রদান করে না। এতে মানুষেরও কোনো উপকার হয় না।

লেখক : প্রধানমন্ত্রীর সাবেক উপদেষ্টা।


জাতীয় নির্বাচন   প্রধানমন্ত্রী   মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র   মানবাধিকার কমিশন  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড থট

আসুন কোভিড ভ্যাকসিন এবং টিকা প্রদান সম্পর্কে কথা বলি

প্রকাশ: ১২:০০ পিএম, ১৪ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

বাংলাদেশ সেই দেশগুলির মধ্যে একটি, যেখানে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি একটি সাফল্যের গল্প। ৯৯% এর বেশি শিশুকে টিকা সময় মত দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ কয়েক দশক ধরে টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে অনন্য জ্ঞান, দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতার বিকাশ ঘটিয়েছে, যা নিয়ে আমরা সবাই খুবই গর্বিত। বাংলাদেশে টিকাদান কর্মসূচির পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে বিপুল সংখ্যক দক্ষতা সম্পূর্ণ পরিচালক রয়েছে। বাংলাদেশও সেই দেশগুলির মধ্যে একটি, যে দেশ প্রতিদিন হাজার হাজার এবং লাখ লাখ মানুষকে টিকা দেওয়ার জাতীয় টিকা দিবস পরিচালনা করেছে। আমি যখন দিল্লিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব আঞ্চলিক অফিসে ডিরেক্টর ছিলাম, টিকাদানের বর্ধিত কর্মসূচি (EPI) ছিল আমার বিভাগের দায়িত্বগুলির মধ্যে একটি এবং আমি দেখেছি কিভাবে বাংলাদেশী বিশেষজ্ঞরা ভারত এবং অন্যান্য দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলির পাশাপাশি আফ্রিকার অনেক দেশকে টিকা প্রোগ্রাম, বিশেষ করে পোলিও টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়নে সাহায্য করেছিল এবং এখনও করছে। কাজেই টিকাদান কর্মসূচিতে বাংলাদেশের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা, ও দক্ষতা রয়েছে এতে কোনো সন্দেহ নেই। তাই আমি বুঝতে চাই যে, অনেক ইউরোপীয় দেশের আগে ২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারিতে সফলভাবে কোভিড ভ্যাক্সিনেশন শুরু করা সত্ত্বেও, কেন আজ অবধি আমরা আমাদের জনসংখ্যার মাএ ৩৫% লোককে সম্পূর্ণরূপে টিকা দিতে পেরেছি? হ্যাঁ, আমি জানি এবং বুঝতে পারি, টিকা সফলভাবে শুরু করার পরে, ভারত সরকারের দুর্ভাগ্যজনক সিদ্ধান্তের কারণে, আমরা ভ্যাকসিন পেতে গুরুতর সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিলাম। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অত্যন্ত নিবেদিতপ্রাণ প্রচেষ্টায় আমরা এপ্রিলের শেষের দিকে আমরা চীন থেকে সাইনোফার্ম ভ্যাকসিন পেতে শুরু করি এবং জুন মাসের মধ্যে বিভিন্ন দেশ থেকে বিভিন্ন ধরনের ভ্যাকসিন পেতে শুরু করেছি। সেদিন প্রধানমন্ত্রী সংসদে আমাদের জানান এবং নিশ্চয়তা দেন যে বাংলাদেশে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন মজুদ আছে এবং আরও ভ্যাকসিন আসছে। তাহলে, কেন আমরা আজ পর্যন্ত আমাদের কভারেজ আরও দ্রুত বাড়াতে পারিনি বা পারছি না।

ভ্যাকসিন এবং টিকা দেওয়ার ক্ষমতা দুটি ভিন্ন সমস্যা, এবং টিকা দেওয়ার কভারেজ বাড়ানোর জন্য উভয় বিষয় বিবেচনা করা প্রয়োজন। ২০২১ সালের প্রথমে কিছু অনিবার্য কারণে ভ্যাকসিন পাওয়া যায়নি কিন্তু এখন আমাদের কাছে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন আছে। ফাইজার সহ সমস্ত কোভিড ভ্যাকসিন সংরক্ষণ এবং সরবরাহ করার জন্য একটি কার্যকর কোল্ড চেইন সিস্টেম তৈরি করার জন্য আমাদের কাছে গত বছর যথেষ্ট সময় ছিল। তাই আমি বিশ্বাস করি এখন বাংলাদেশে ভ্যাকসিন ও কোল্ড চেইন সুবিধা পর্যাপ্ত রয়েছে। আমি আরও শুনেছি যে বাংলাদেশ কোভিড টিকা দেওয়ার জন্য বেশ যথেষ্ট সিরিঞ্জ কিনেছে। সারাদেশে হাজার হাজার স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান/স্বাস্থ্য সুবিধা রয়েছে, বিশেষ করে হাজার হাজার কমিউনিটি সেন্টার এবং এর প্রশিক্ষিত কর্মীরা প্রতিটি জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে এসেছেন। এই সকল স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান এবং এর কর্মীরা ন্যূনতম প্রশিক্ষণ সহ সহজেই মানুষকে টিকা দিতে পারে। আমি আরও জানি যে হাজার হাজার তরুণ স্বেচ্ছাসেবককে টিকাদান কর্মসূচিতে সহায়তা প্রদানের জন্য কম সময়ে সংগঠিত করা যেতে পারে। আমি এটাও জানি যে বাংলাদেশ টিকা দেওয়ার পর প্রতিকূল প্রভাব মোকাবেলা করতে এবং প্রয়োজনীয় মানসিক-সামাজিক এবং স্বাস্থ্যসেবা সহায়তা প্রদানের জন্য প্রতিষ্ঠিত ব্যবস্থা রয়েছে। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো বাংলাদেশের বিপুল বন্দী জনগোষ্ঠী রয়েছে যারা হয় বিভিন্ন কারখানায় বা মেগা প্রকল্পের কাজে ব্যস্ত। জনসংখ্যার সেই গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক উন্নতির অংশীদার লোকদের দোরগোড়ায় সহজেই ভ্যাকসিন সরবরাহ করে টিকা প্রদান করা যেতে পারে। উপযুক্ত ক্ষুদ্র পরিকল্পনার (micro-planning) মাধ্যমে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়েও টিকাদানের আয়োজন করা যেতে পারে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কাছে একটি মাইক্রো প্ল্যান করার জন্য যথেষ্ট সময় ছিল এবং লোকেদের টিকা দেওয়ার জন্য যথেষ্ট স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ারও সময় ছিল। অন্যদিকে সুখবর যে বাংলাদেশের মানুষ সচেতন এবং ভ্যাকসিন নিতে ইচ্ছুক। মানুষ এবং স্কুলগামী শিশুদের বিশাল লাইন দেখে আমরা বলতে পারি যে লোকেরা কোভিড ভ্যাকসিন পেতে ইচ্ছুক। সারা বিশ্বের মতো, কিছু লোক বা লোকের দল বাংলাদেশেও আছে যারা টিকা নিতে চায় না। ভুল ধারনা করলে আমাকে সংশোধন করুন, কিন্তু আমি বিশ্বাস করি যে বাংলাদেশে সেই ভ্যাকসিন বিরোধী মানুষের সংখ্যা খুবই কম। ১৬৬ মিলিয়ন (১৬.৬ কোটি) জনসংখ্যার মধ্যে প্রায় ১২% লোক ১২ বছরের কম বয়সী। অতএব, ১২ বছরের বেশি বয়সী সমস্ত যোগ্য জনসংখ্যার ৮০% লোকদের টিকার কভারে আনতে আমাদের ১১৭ মিলিয়ন লোককে টিকা দিতে হবে। অতএব, দুটি ডোজ দিতে আমাদের ২৬০ মিলিয়ন (১০% অপচয় যোগ করে) ডোজ ভ্যাকসিন প্রয়োজন। সেই জনসংখ্যার ৮০% কে বুস্টার ডোজ প্রদান করতে আমাদের ১৩০মিলিয়ন অতিরিক্ত ডোজ প্রয়োজন। সুতরাং, আমাদের কাছে ভ্যাকসিন, পর্যাপ্ত কোল্ড চেইন এবং পরিবহন সহ প্রয়োজনীয় লজিস্টিকস রয়েছে বা নিশ্চিত, আমাদের কাছে সিরিঞ্জ রয়েছে, আমাদের জনগণের জন্য পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য সুবিধা রয়েছে এবং টিকা পরিচালনা করার জন্য বিপুল সংখ্যক, আমি বিশ্বাস করি প্রশিক্ষিত, স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী রয়েছে। সর্বপরি মানুয টিকা নিতে ইচ্ছুক। তাহলে কেন, এখন পর্যন্ত ৩৩-৩৫% সম্পূর্ণ টিকা কভারেজ বাংলাদেশে? আমদের কি আরো বেশী টিকা প্রদান করার সক্ষমতা নেই? আমরা কি এখন পর্যন্ত ৬০-৭০% লোককে সম্পূর্ণ কোভিড টিকার কভারে আনতে পারতাম না? দয়া করে আমাকে সংশোধন করে বলেন, বাধা কোথায়? এগুলো কি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বের নাকি পরিকল্পনার অভাব? আমি আরও জানতে চাই যে আমাদের অনেক কথা হওয়া ভ্যাকসিন উৎপাদন ও আমাদের দেশের নিজস্ব মহৎ উদ্যোগ mRNA ভ্যাকসিন ব্যাঙ্গোভ্যাক্স উন্নয়নে কোথায় আছি?

এখানে আমি একটি বিষয় উত্থাপন করতে চাই। আমি ঢাকার অনেক লোকের সাথে কথা বলেছি, যারা মধ্যবিত্ত এবং উচ্চ মধ্যবিত্তের গ্রুপের লোক। তাদের বাসায় বাড়ির কর্মী(রা), বাহিরের গেটের গার্ডের পাশাপাশি ড্রাইভার রয়েছে। যাদের অনেকেই সকালে আসে রাতে তাদের বাড়ীতে ফিরে যায়। যখন আমি তাদের কাছে জানতে চেয়েছিলাম যে এই গোষ্ঠীর কত শতাংশ লোককে টিকা দেওয়া হয়েছে এবং তারা তাদের ঐ সকল বাড়ীর কাজের লোকদের টিকা পেতে সাহায্য করার জন্য কী করেছে। কেউ কেউ প্রচেষ্টা গ্রহণ করে কাজের লোকদের তাদের এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের নিবন্ধন করতে এবং টিকা দিতে সাহায্য করেছে, কিন্তু অনেকেই কোন আগ্রহ দেখাননি বা বলেছেন যে এই লোকদের নিবন্ধন করা যাবে না কারণ তাদের জাতীয় পরিচয় পএ এবং জন্ম শংসাপত্র নেই, তাই নিবন্ধন করা যাবে না। সেই বহুল সংখ্যার বাড়ির কর্মী, গার্ড এবং ড্রাইভারদের মধ্যে কতজন এখনও টিকা নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন তা বিশ্লেষণ করার জন্য আমাদের কাছে কি কোনও তথ্য আছে? এই গোষ্ঠীর কতজন লোক সংক্রামিত হচ্ছে বা অজান্তে পরিবারের সদস্যদের সংক্রামিত করছে, আমরা কি তা জানি? আমি এইমাত্র পড়লাম মিস্টার তাপস, ঢাকার মেয়র ও তার পরিবার সবাই সংক্রমিত হয়েছেন, আমরা কি জানি তারা কিভাবে সংক্রমিত হলেন (তাদের খুব ন্যূনতম উপসর্গ রয়েছে এবং তারা নিজেদেরকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে জেনে আমি খুশি)?

তারপর, আমি বাংলাদেশের জন্ম নিবন্ধন (অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন পরিকল্পনার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য) কভারেজ বিশ্লেষণ শুরু করি। জন্ম নিবন্ধনের বৈশ্বিক অগ্রগতি মূলত দক্ষিণ এশিয়ায় বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালে ব্যাপক অগ্রগতি দ্বারা চালিত হয়েছে। ভারতে, নিবন্ধিত শিশুদের অনুপাত ২০০৫-২০০৬ সালে ৪২% শতাংশ থেকে ২০১৫-২০১৬ সালে ৮০শতাংশে উন্নীত হয়েছে৷ ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ সালে-এ, বাংলাদেশ স্থানীয় সরকার বিভাগের (এলজিডি) জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন প্রকল্পের অংশ হিসাবে অনলাইন জন্ম নিবন্ধন তথ্য সিস্টেমে (BRIS) ১০০মিলিয়ন জন্ম নিবন্ধন সম্পন্ন করে CRVS-এর জন্য একটি মাইলফলক স্পর্শ করেছে। তবুও এখনো বাংলাদেশ ও নেপালে মোট জন্ম নিবন্ধন মাত্র ৫৬%। পাকিস্তান ও আফগানিস্তান ৪২%। ইন্দোনেশিয়া ৭৫%, মায়ানমার ৮১%। ইউনিসেফের মতে, এখন পর্যন্ত পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মাত্র ৩৭ শতাংশ জন্ম নিবন্ধিত। ফলে পাঁচ বছরের কম বয়সী এক কোটি বাংলাদেশি শিশুর সরকারিভাবে কোনো অস্তিত্ব নেই। বাংলাদেশে জন্ম নিবন্ধন, একটি বিনামূল্যে পরিষেবা, জন্মের ৪৫দিনের মধ্যে সম্পন্ন করার কথা। কিন্তু অনেক পিতামাতাই এর গুরুত্ব সম্পর্কে অবগত নন। তারা সাধারণত একটি শিশুর স্কুলে ভর্তির ঠিক আগে জন্ম নথির জন্য আবেদন করে, সাধারণত ছয় বছর বয়সে। সুগঠিত ও সারাদেশে অভিন্ন বন্টন এবং সম্পূর্ণ ইন্টারনেট সংযোগ সহ স্বাস্থ্য সুবিধা এবং কমিউনিটি হেলথ ক্লিনিকের কমিউনিটি হেলথ ওয়ার্কারদের (CHW) মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারের কাছে স্বাস্থ্য পরিচর্যা পৌঁছানোর ব্যবস্থা থাকার পরেও কেন আমরা এখনও জন্ম নিবন্ধনের ক্ষেত্রে পিছিয়ে আছি? যদি পরিস্থিতি এই হয় এবং জন্ম নথিপত্র কোভিড টিকা দেওয়ার পূর্বশর্ত হয়, তাহলে কতজন যোগ্য লোক কোভিড ভ্যাকসিন এবং টিকা নিতে সক্ষম হবে না তার হিসাব কি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জানা আছে? আমরা এটা সংশোধন করার জন্য কি করছি, যাতে সবাই, বিশেষ করে সেইসব দরিদ্র গৃহকর্মীরা কোভিড ভ্যাকসিন পেতে পারে তার জন্য?

যদিও ওমিক্রন সংক্রমণ এখনও ২০২১ সালের জুলাইয়ের ডেল্টার মতো খারাপ নয়, দেশে সাম্প্রতিক কোভিড সংক্রমণ ক্রমবর্ধমান সম্পর্কে আমরা সবাই মনে হয় বিভ্রান্ত এবং আতঙ্কিত। হ্যাঁ, আমাদের উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত। তবে প্রতিদিনের কতজন পরীক্ষা করা হয়েছে, সংক্রমিত হয়েছে এবং সংক্রমণের হারের সংবাদের পাশাপাশি আমি বলবো স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় উচিত দৈনিক কতজন লোককে প্রথম, দ্বিতীয় এবং বুস্টার ডোজ টিকা দেওয়া হয়েছে তার তথ্য দেওয়া। এটি টিকাদানকারীদের অনুপ্রাণিত করবে এবং সাধারণ জনগণের আরও আস্থা তৈরি করবে। ওমিক্রনের বাংলাদেশে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে, কমিউনিটি ট্রান্সমিশন শুরু হয়েছে এবং আমরা, যেমন আমেরিকা এবং অনেক পশ্চিমা দেশের মত ওমিক্রনের ব্যাপক সংক্রমণ বন্ধ করতে সক্ষম হব না। তবে, যুক্তরাজ্য এবং দক্ষিণ আফ্রিকার মত আমরাও ওমিক্রনের দ্রুত সংক্রমণ এবং খারাপ প্রভাব যেমন দুর্ভোগ এবং মৃত্যু কমাতে পারি টিকাদান, মুখোশ পরা এবং জনসমাগম ও ভিড়ের স্থান এড়িয়ে চললে।

আমি বিস্মিত হয়েছি, বিএনপির একজন খুব বেশী কথাবার্তা বলার নেতা অভিযোগ করেছেন যে, দোষী সাব্যস্ত, দণ্ডিত বন্দী নেএীর মুক্তির দাবিতে জনসমাবেশ করতে না দেওয়া, কোভিড সংক্রমণ বন্ধের নামে সরকারের তাদের ঠেকানোর চক্রান্ত বলে। আমি নিজেকে জিজ্ঞাসা করি, তারা আসলে কি চায়? আমি এই রাজনীতিবিদদের বোঝার চেষ্টা করি, তারা কি সংক্রামিত হওয়া রোধে, কোভিড-এ কষ্ট এবং মৃত্যু কমাতে কাজ করছে, নাকি অনেক কষ্ট এবং মৃত্যু মধ্যে ঘোলা জলে মাছ ধরতে চায়? তারা কি লোকেদের সংক্রামিত হতে, কষ্ট এবং মৃত্যু হতে পারে জেনেও তাদের নিষ্ফল জনসমাবেশ চালিয়ে যেতে পেরে খুশি? তারা কার জন্য রাজনীতি করেন, তারা কি মানুষের ভালো আর উন্নতির জন্য নাকি মানুষের বিরুদ্ধে কাজ করছেন? ক্ষমতাসীন দলসহ সব রাজনৈতিক দল যারা এখনও জনসমাবেশ করছেন আমি তাদেরও একই প্রশ্ন করব।

আমি আশ্চর্য হয়েছি যে বিএনপি নেতারা বা অন্য দলের নেতারা তাদের গণসমাবেশে ভাষণ দেওয়ার সময় জনগণকে মুখোশ পরতে বা টিকা নিতে বলছেন না, বা তা করতে অনুপ্রাণিত করছেন। এটা কি শুধু সরকারের দায়িত্ব নাকি আমাদের সকলের কর্তব্য?

ওমিক্রন সম্পর্কে আর আলোচনা না করে, আসুন বরং সবাইকে টিকা দিতে, মানুষকে মুখোশ পরতে অনুপ্রাণিত করতে এবং তাদের জীবন ও জীবিকা নিরাপদ করার জন্য জনসমাগম এড়াতে একসঙ্গে কাজ করি - এবং বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন বাধাহীনভাবে অব্যাহত থাকতে কাজ করি। সেটা হবে আমাদের রাজনৈতিক, সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্ব।

করোনা   ওমিক্রন   টিকা  


মন্তব্য করুন


ইনসাইড থট

নারায়ণগঞ্জের এক কিশোর মুক্তিযোদ্ধার স্মৃতিচারণ

প্রকাশ: ১১:০০ এএম, ১৪ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের খাস কামাল কাটি গ্রামের আনুমানিক ৭-৮ বছরের ডানপিটে কিশোর মোঃ মেজবাহুল হক বাচ্চু সাহেবের স্মৃতিচারণ। 

‘‘২৬ মার্চ এর কালো রাতে ঢাকা আক্রান্ত যখন হইল, তারপরের দিন থেকেই আমাদের গ্রামের সামনের রাস্তা দিয়া  নারী-পুরুষ-শিশু ঢাকা থেকে বের হয়ে নিজ নিজ গন্তব্যে যাইতেছিল। আমরা তখন ঐ অসহায় মানুষদের হেল্প করার জন্য মুরব্বীদের নির্দেশে রাস্তার পাশে পানির কলস, মুড়ি নিয়ে বসে থাকতাম তাদেরকে খাওয়ানোর জন্য, ডাইকা ডাইকা খাওয়াইতাম। আবার অনেক সময় তাদের সাথে থাকা লাগেজ, ব্যাগ ইত্যাদি মাথায় করে নিয়া যাইয়া গুদারাঘাট অর্থাৎ আমাদের গ্রাম থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে নিয়ে গিয়ে আসতাম। বেশ কয়েকদিন এভাবে কাজ করেছি। 

তারপর মুক্তিযুদ্ধ আরম্ভ হইল। সেসময় একটু ডানপিটে ছিলাম। আমরা কিছু ছেলেপেলে এক সাথে হয়ে কলাগাছের ছোট চারা দিয়ে কেটে রাইফেল বানাইয়া (ক্ষেতের) উচা আইল সামনে রেখে পজিশন নিয়ে, মুক্তিযোদ্ধাদের দেখে এগুলো করতাম। 

মুক্তিযোদ্ধাদ্বারা তখন আমাদের গ্রামের সামনের ঐ রাস্তা দিয়েই যাইতেন। আমরা তখন তাদের রাইফেল, গুলির বাতিল অনেক সময় তাদের সাথে থাকা ব্যাগ ও বিভিন্ন মালসামানা আমরা মাথায় করে এগিয়ে দিয়ে আসতাম অনেক দূর পর্যন্ত।

আজকে আমাদের পূর্বাচল উপশহর হইতাছে। এই পূর্বাচল উপশহরটি ছিল একটি ব্যাকওয়ার্ড জায়গা, টেক টিলা জংগল। এই উপশহরের মাঝখানে একটা জায়গা ছিল, বলতো ‘ধামচির গজারী গড়‘। এখানে বিশাল বড় মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্প ছিল। মুক্তিযোদ্ধারা যেখানেই যাইতেন, এই গড়ে চলে আসতেন। আমরা তাদের জিনিসপত্র আগাইয়া দিয়া যাইতাম। 

আমাদের বাড়ির সামনে দিয়া শাতলশীতলক্ষ্যা নদী বইয়া গেছে। অনেক সময় আমি দেখেছি মুক্তিযোদ্ধারা নদী পার হইয়া, সাতরাইয়া পার হইয়া এই পারে চলে আসতো। পাক হানাদার আমাদের এই পারের চেয়ে ঐ পারেই অর্থাৎ ডাঙ্গা বাজার, আতলাপুর বাজার, ঐ সমস্ত এলাকায়ই তারা আসতো, হানা দিতে। আর সব সময়তো এই শীতলক্ষ্যা নদী দিয়া তারা গানবোট দিয়া তারা চইলা যাইতে। যাইহোক মুক্তিযোদ্ধাদের ...... অনেক সময় আগাইয়া দিতাম। আর আমার আব্বার সাথে থেকে গ্রাম থেকে চাল, ডাউল, মরিচ, পিয়াজ এইগুলি উঠাইতো আমার আব্বা ও সাথে থাকা লোকজন। আমি সাথে যাইতাম। মরিচের ব্যাগটাতো হালকা, মরিচের ব্যাগটা আমার কাছে দিত। প্রত্যেক বাড়ি বাড়ি যাইয়া এগুলি উঠাইতাম। উঠাইয়া আমার আব্বা ও অন্য লোকজন তারা মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্পে দিয়া আসতো। 

আমার হৃদয় বিচারক স্মৃতি আজও মনে পড়ে। আমার এক মামা, আমার মা‘র আপন মামাতো ভাই, দুইটা ভাই। ছোট বেলাযই তাদের বাপ মারা যায়। আমার নানি তাদেরকে লালনপালন করে। ৭১‘এ একজনের বয়স ২৪ বছর, আরেকজনের বয়স ২২ বছর। একজনের নাম আব্দুস সালাম, আরেকজনের নাম আব্দুল আজিজ। দুই ভাইই মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। আমার নানীকে না বলে মুক্তিযুদ্ধে চলে যায়। তখন ছোট মামা, আজি মামা, দীর্ঘ দিন মা‘কে দেখে না। তখন নদী পার হইয়া, নৌকা দিয়া নদী পার হইয়া মায়েরে দেখার জন্য আসছিল, প্রায় ৭ মাস পর। নদীর পারটা ছিল খাড়া। নৌকা থেকে নাইমা নদীর পাড়ের উপরে উঠছে, তখন দেখে আর্মি, আর্মির সামনে পরে। এটা ছিল কালীগঞ্জে। আমার পার্শ্ববর্তী থানা কালীগঞ্জ। তখন সেনাবাহিনীর লোকজনদের দেখাইয়া দেয় রাজাকারেরা। এইডাই আব্দুল আজিজ মুক্তিযোদ্ধা। সেনাবাহিনী ধইরা নিয়া যায়। আমার নানি পিছনে পিছনে পশ্চিমা সেনাদের পায়ে ধরছে, বাবা ডাকছে। সৈন্যরা লাথ্থি দিয়া ফালাইয়া দিছে। তাই আমার মামা বলতেছিল, ‘মা, কুত্তাদের পায়ে ধরিস না‘। ঐ যে আমার মামাকে নিয়া গেল আর পাওয়া যায় নাই। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর কালীগঞ্জ থানা থেকে তার জামাকাপড় গুলি পাওয়া গেল।

তারপর আরেক আত্মীয়, ফুফাতো বোনের জামাই, দুলাভাইও মুক্তিযোদ্ধা ছিল। উনার বাড়ী ছিল ডাঙ্গা, ডাঙ্গা বাজারের সাথে। ডাঙ্গা বাজার যখন আক্রান্ত হইল, পশ্চিমা সেনাবাহিনী ডাঙ্গা বাজারে আগুন দিল। অনেক বড় বাজার ছিল। পলাশ থানার ডাঙ্গা বাজার। আগুন দিল। তখন আমার দুলাভাইসহ অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধারা খবর পেয়ে দুরের থেকে আইলো, আইসা, ধান ক্ষেতের মধ্যে পজিশন নিয়া বইসা গেলো যে, পশ্চিমা সেনাবাহিনীরা যখন নদীর পাড়ে আসবে, বাজার থেকে নদীর পাড়ে আসবে স্পিড বোট বা লঞ্চে উঠার জন্য, তখন গুলি করবে। কিন্তু সেনাবাহিনীর লোকজন তাদের লঞ্চে না উঠে পিছনের দিক থেকে, ধান ক্ষেতে যারা আশ্রয় নিয়েছিল, ধান ক্ষেতের মধ্যে ব্রাশ ফায়ার মেরে তাদের হত্যা করেছিল। অনেক লোক মারা গেছিল। 

আমরা অনেক সময় দেখতাম নদীর মধ্যে একসাথে দুইটা বা চারটা লাশ বাঁধা, ফুইলা ভাইসা ভাইসা যাইতাছে। আর আমাদের সামনে দিয়া যে শীতলক্ষ্যা নদী ...চইলা গেছে, সেই পলাশ, কাপাসিয়া হইয়া ময়মনসিংহের টোক‘এ যাইয়া মিলছে ব্রক্ষ্মপুত্রের সাথে। এই শীতলক্ষ্যা নদী দিয়া গানবোটে প্রত্যেক দিন যাইতো, আমার বাড়ীর সামনে আইসা ফাঁকা গুলি করতো। সেগুলো স্মৃতিতে আজও ভাইসা উঠে। এবং এগুলি মনে হইলে গর্ববোধ করি যে , কিছু হইলেও সেই স্বাধীনতার জন্য অল্প বয়সে করতে পারছি‘‘।

মুক্তিযুদ্ধ  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন