ইনসাইডার এক্সক্লুসিভ

পরিচয় গোপন করতেই হারিছ চৌধুরীর মৃত্যু নাটক

প্রকাশ: ০৫:০০ পিএম, ১৩ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail পরিচয় গোপন করতেই হারিছ চৌধুরীর মৃত্যু নাটক

হারিছ চৌধুরী মারা যাননি। তার মৃত্যু সংক্রান্ত কোনো তথ্য নেই লন্ডন বা ঢাকায়। ধারণা করা হচ্ছে, পরিচয় গোপন করার জন্যই হারিছ চৌধুরী মৃত্যুর নাটকটি সাজিয়েছেন। এ ব্যাপারে বাংলা ইনসাইডার এর অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। উল্লেখ্য যে, চার মাস আগে হারিছ চৌধুরী মারা গেছেন বলে তার চাচাতো ভাই একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস দেন। এই ফেসবুকে স্ট্যাটাসে বলা হয় যে, হারিছ চৌধুরী করোনায় আক্রান্ত হয়ে লন্ডনের একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছেন। তার চাচাত ভাই সিলেট জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আশিক চৌধুরী এই তথ্য দেন এবং তিনি দাবি করেন, গত আগস্ট মাসে হারিছ চৌধুরী মারা গেছেন। লন্ডনের করোনা আক্রান্ত বা বিভিন্ন মৃত্যু সংক্রান্ত তথ্য গুলো পাওয়া যায় ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসে (এনএইচএস)। ন্যাশনাল হেলস সার্ভিসের (এনএইচএস) তথ্য খতিয়ে দেখা যায় যে, সেখানে গত আগস্ট, সেপ্টেম্বর এমনকি অক্টোবরে হারিছ চৌধুরী নামে কেউ মারা যায়নি। তাহলে হারিছ চৌধুরী মারা গেলেন কিভাবে? আবার একটি মহল জানাচ্ছে, হারিছ চৌধুরী দেশে এসেছিলেন এবং দেশে আসার পর তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। কিন্তু বাংলাদেশের ইমিগ্রেশন সূত্র নিশ্চিত করেছে, হারিছ চৌধুরী মোস্ট ওয়ান্টেড ক্রিমিনাল। কাজেই তার বাংলাদেশে আসার প্রশ্নই আসে না।

উল্লেখ্য যে, ওয়ান-ইলেভেনের সময় হারিছ চৌধুরী পালিয়ে ভারতে গিয়েছিলেন। সেখানে তার নানা বাড়ি রয়েছে। সেখান থেকে হারিছ চৌধুরী লন্ডনে যান। কিন্তু বাংলা ইনসাইডার এর অনুসন্ধানে পাওয়া যাচ্ছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পরে হারিছ চৌধুরী তার নাম পরিবর্তন করেন এবং ভারত থেকে তিনি অন্য নামে একটি পাসপোর্ট গ্রহণ করেন। তবে তার পাসপোর্টের নামটি কি সেটি এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে হারিছ চৌধুরীর পরিবারের ঘনিষ্ঠ একজন নিশ্চিত করেছে যে, হারিছ চৌধুরী তার নাম বদল করেছেন এবং ভারতীয় পাসপোর্ট নিয়ে তিনি লন্ডনে প্রবেশ করেন। ওই ভারতীয় পাসপোর্ট থাকার কারণে তিনি লন্ডন, কানাডা এবং যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ করেছেন। একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, এই পাসপোর্ট গ্রহণের পর হারিছ চৌধুরী অবাধে বেশ কয়েক বছর বিভিন্ন দেশে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন। কিন্তু বাংলাদেশ যখন দণ্ডিত অপরাধীদের তালিকা ইন্টারপোলকে প্রদান করে এবং যখন তারেক জিয়াকে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ গ্রহণ করে তখন জানা যায় যে, হারিছ চৌধুরী লন্ডনে অবস্থান করছেন।

গত বছরের শুরু থেকেই হারিছ চৌধুরীকে লন্ডনে তারেক জিয়ার সঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেখা যেতে থাকে এবং তখন হারিছ চৌধুরীর ব্যাপারে ইন্টারপোল সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থা সজাগ হয়ে যায়। উল্লেখ্য, হারিছ চৌধুরী একাধিক মামলায় দণ্ডিত হয়ে পলাতক জীবনযাপন করছিলেন। যখন হারিছ চৌধুরীর অবস্থান সম্পর্কে ইন্টারপোল এবং বাংলাদেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা নিশ্চিত হয় তখন হারিছ চৌধুরীর নাম ইন্টারপোলের রেড তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আবেদন করে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ আবেদনের পরপর হারিছ চৌধুরী আবার আত্মগোপনে যান। গত বছর জুলাই মাসে হারিছ চৌধুরী করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন, এ খবর সঠিক। করোনায় আক্রান্ত হয়ে ওই সময়ে যারা বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তাদের মধ্যে একজনের নাম শুভাশিস চৌধুরী, যার চেহারার সঙ্গে হারিছ চৌধুরীর চেহারা হুবহু মিল রয়েছে। তিনি রয়েল হসপিটাল লন্ডনে করোনার চিকিৎসা নিয়েছিলেন এবং ওই হাসপাতালের তথ্য বিবরণী পর্যালোচনা করে যে সমস্ত তথ্য পাওয়া গেছে তাতে ওই শুভাশিস চৌধুরীর সঙ্গে হারিছ চৌধুরীর অনেকগুলো মিল রয়েছে। প্রথমত, শুভাশিস চৌধুরী বাঙালি। দ্বিতীয়ত, শুভাশিস চৌধুরীকে ক্যান্সারে আক্রান্ত দেখানো হয়েছে। হারিছ চৌধুরী ও ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। তৃতীয়ত, শুভাশিস চৌধুরী ভারত থেকে যুক্তরাজ্যে এসেছেন এবং রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছেন বলেও উল্লেখ করা হয়।

লন্ডন রয়েল হাসপাতালের এই তথ্য বিশ্লেষণ করে মনে করা হয় যে, এই ব্যক্তিটি হারিছ চৌধুরী। তিনি হয়তো ভারতীয় পরিচয় দিয়ে লন্ডনে এসেছিলেন কিন্তু তারপর তাকে যখন স্থানীয় বাঙালিরা চিনে ফেলে এবং তার ব্যাপারে খোঁজখবর নেওয়া হয় তখন তিনি আবার আত্মগোপনে যান। এরপরও যখন তিনি রক্ষা পাচ্ছিলেন না, এজন্যই তার এই মৃত্যুর নাটক সাজানো হয়েছে। এখন হারিছ চৌধুরীকে মৃত দেখিয়ে শুভাশিস চৌধুরী যদি হারিছ চৌধুরী হয়ে যান তাহলে অন্তত হারিছ চৌধুরী তার সমস্ত মামলাগুলো থেকে রেহাই পাবেন এবং তাকে যে ইন্টারপোল খুঁজচ্ছেন সেখান থেকেও তিনি মুক্তি পাবেন। এ যেন হিন্দি ছবির একটি গল্পের মতোই। হারিছ চৌধুরীর মতো যে শুভাশিস চৌধুরী, যিনি যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়েছেন তিনি যদি শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক আশ্রয় পান বা ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পান তাহলে তিনি যে পাসপোর্টটি পাবেন সেটি শুভাশিস চৌধুরী নামেই হবে। তাহলে কাগজে-কলমে হারিছ চৌধুরীর যদি মৃত হয় এবং শুভাশিস চৌধুরী যদি ব্রিটিশ পাসপোর্ট পান তাহলে হারিছ চৌধুরীকে আর কে পায়। পরিচয় গোপন করার জন্যই হারিছ চৌধুরীর এই মৃত্যুর নাটকটি সাজানো হয়েছে বলে বিভিন্ন মহল মনে করছে। লন্ডনের প্রবাসীরা বলছেন যে, হারিছ চৌধুরীর মত একজন বিএনপির নেতা লন্ডনে মারা যাবেন তার খবর কেউ রাখবে না এটি হতে পারে না, এটি অবিশ্বাস্য। এমনকি হারিছ চৌধুরীর মেয়ে ব্যারিস্টার মুনা বা তার ছেলের মধ্যে কোন পরিবর্তন নাই। তারা সকলেই লন্ডনে বসবাস করে। এরকম পরিস্থিতিতে হারিছ চৌধুরী যে মারা গেছেন এটি স্রেফ যে নাটক তা বুঝতে কারো অসুবিধা হবার কথা নয়।

বিএনপি   লন্ডন   হারিছ চৌধুরী  


মন্তব্য করুন


ইনসাইডার এক্সক্লুসিভ

জিয়া: একজন সফল গুপ্তচরের রোমাঞ্চকর কাহিনী

প্রকাশ: ০৭:০০ পিএম, ২৫ মার্চ, ২০২২


Thumbnail জিয়া: একজন সফল গুপ্তচরের রোমাঞ্চকর কাহিনী

জিয়াউর রহমানকে বলা হয় মুক্তিযোদ্ধা। তিনি একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব এবং জীবিতদের মধ্যে সর্বোচ্চ খেতাব বীর উত্তম পেয়েছিলেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের জেড ফোর্সের অধিনায়ক হিসেবেও পরিচিত। তাকে অনেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা বলে এবং আওয়ামী লীগ সরকার যখন নতুন অনুসন্ধানে জিয়াউর রহমানের মুক্তিযুদ্ধের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন করে তখন বিভিন্ন মহল তার প্রতিবাদ করতেও এতটুকু কার্পণ্য করেন না। কিন্তু জিয়াউর রহমান কে ছিলেন, কি ছিলেন এবং একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে তার ভূমিকা কি ছিল -এই নিয়ে এখন নতুন করে বিতর্ক উঠেছে। আর এই বিতর্কের প্রেক্ষিতে বাংলা ইনসাইডারের অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় জিয়াউর রহমান একজন মেজর ছিলেন এবং তার পোস্টিং ছিলো চট্টগ্রামে। এই সময় ২৫ মার্চে পাকিস্তান বাহিনী অপারেশন সার্চ লাইটের নামে বাংলাদেশের ওপর এক গণহত্যা চাপিয়ে দেয় এবং এই নৃশংসতম গণহত্যা এবং নারকীয় তাণ্ডবের প্রেক্ষিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা ঘোষণা দেন গ্রেফতার হওয়ার আগে। আর বঙ্গবন্ধুর ঘোষিত এই স্বাধীনতা পুনঃপাঠ করেন চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের একজন নেতা। পরবর্তীতে জিয়াউর রহমানকে দিয়েও ঐ ঘোষণা পাঠ করানো হয় ২৬শে মার্চ। জিয়াউর রহমান তার জীবিতকালে কখনোই নিজেকে স্বাধীনতার ঘোষক দাবী করেননি। তিনি তার ‘একটি জাতির জন্ম’ শীর্ষক লেখাতেও বঙ্গবন্ধুর ঘোষণাই তিনি পাঠ করেছেন বলে স্বীকার করেছেন। কিন্তু পঁচাত্তরের পরবর্তীতে ইতিহাস বিকৃতির ধারায় জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশের বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং স্বাধীনতার ঘোষক বলার এক ন্যক্কারজনক ইতিহাস বিকৃতির ধারা আমরা লক্ষ্য করি।

আসুন দেখি জিয়াউর রহমান কে ছিলেন:

জিয়াউর রহমান সেনাবাহিনীর একজন সদস্য ছিলেন এবং পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই তাকে তাদের এজেন্ট বানিয়েছিল ১৯৬৮ সালে। কৌশলগত কারণে তাকে চট্টগ্রামে রাখা হয়েছিল। ৭০ -এর নির্বাচনের পর যখন বাংলাদেশের রাজনীতির টালমাটাল অবস্থা  সেই সময় বাংলাদেশের ওপর সশস্ত্র হামলা করার জন্য চট্টগ্রাম বন্দরে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী বিপুল অস্ত্র উদ্ধার করেছিল। আইএসআই এর এজেন্ট হওয়ার কারণে এবং আইএসআই এর একজন কর্মকর্তা হওয়ার কারণে সেই অস্ত্র উদ্ধারের দায়িত্ব পড়েছিল জিয়াউর রহমানের ওপর। কিন্তু জনগণের বাঁধার মুখে জিয়াউর রহমান সেই অস্ত্র উদ্ধার করতে পারেনি বরং অস্ত্রগুলোকে আটক করা হয়। ওই সময় যে বাঙ্গালিদের ওপর গুলি করা হয়েছিল, সেই গুলি চালানোর ক্ষেত্রেও জিয়াউর রহমানের ভূমিকা ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে আইএসআই এর নির্দেশে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের পক্ষে অবস্থান করেন এবং স্বাধীনতা যুদ্ধকে নিয়ন্ত্রণ করা এবং যুদ্ধের খবরাখবর পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থাকে সরবরাহ করার দায়িত্ব পড়ে তার ওপর। আর এই কারণে আইএসআই এর ব্লু-প্রিন্ট অনুযায়ী জিয়াউর রহমান একজন মুক্তিযোদ্ধা বনে যান। আসলে তিনি পাকিস্তানের গুপ্তচর হিসেবেই একাত্তরে ৯ মাস কাজ করেছেন। আর এ কারণেই দেখা গেছে যে, এই ৯ মাসের যুদ্ধে একটি সেক্টরের অধিনায়ক হওয়ার পরও তিনি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেননি বরং যুদ্ধের বিভিন্ন খোঁজ খবর নিয়েছেন। এই সময় কর্নেল বেগের একটি চিঠি জিয়াউর রহমানের কাছে দেওয়া হয়েছিল যে চিঠিটি জিয়াউর রহমানের আসল পরিচয় উদঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ওই চিঠিটিতে জেনারেল বেগ জিয়াউর রহমানের কাজের প্রশংসা করেছিলেন এবং তার পরিবার ভালো আছে বলেও তাকে আশ্বস্ত করেছিলেন।

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমানের ভূমিকা সমর বিজ্ঞানের দিক থেকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, একজন গুপ্তচর ভেতরে থেকে যা যা করতে পারেন জিয়াউর রহমান তাই করেছেন। আর এই কারণে একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে শেষ দিকে জিয়াউর রহমানের কাছ থেকে কমান্ড কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের পর জিয়াউর রহমান আইএসআই এর নিদেশেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হন এবং উপ-সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু তার মূল লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশকে আস্তে আস্তে পাকিস্তান বানানো এবং সেই আইএসআই এর মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী জিয়াউর রহমানকে প্যারোলে রেখেছিল পাকিস্তান সরকার।

১৯৭৫ সালের ১৫ সালের আগস্টের ঘটনাকে যদি আমরা বিশ্লেষণ করি তাহলে দেখবো যে, সেখানে যে সমস্ত সামরিক অফিসাররা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিল তারা সবাই মুক্তিযোদ্ধা কিন্তু তারা পাকিস্তান থেকে ভারতে এসে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল। কেউ কেউ মুক্তিযুদ্ধের শেষ প্রান্তে এসে অংশগ্রহণ করেছিল। কেন? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজলেই জিয়াউর রহমানের রোমাঞ্চকর গুপ্তচরবৃত্তির চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যাবে। খুনি ফারুক, খুনি রশিদ কিংবা খুনি ডালিম -এরা সবাই পাকিস্তানে ছিল। বিভিন্ন দেশে গুপ্তচরবৃত্তির একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হলো, যখন তারা দেখে যে যুদ্ধে তাদের পরাজয় অনিবার্য তখন তারা কিছু কিছু লোককে প্রতিপক্ষের মধ্যে ঢুকিয়ে দেয়। জার্মানরা এটি করেছিল, সোভিয়েত ইউনিয়ন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে এটা করেছিল। বিশ্বে দেশে দেশে এটি হয়ে থাকে।

সাম্প্রতিক সময়ে ‘র’ এর ওপর প্রকাশিত গ্রন্থে দেখা যায় ‘র’ পাকিস্তানে এরকম বহু গোয়েন্দাকে নিযুক্ত করেছিল যারা আসলে ‘র’ এর এজেন্ট কিন্তু কাজ করে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে বা পাকিস্তান সরকারে। এই প্রক্রিয়াতেই জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের সেনাবাহিনীতে ছিলেন এবং তার প্রধান কাজ ছিল আইএসআই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা। খুনি মোশতাক যেমন পাকিস্তানের দোসর ছিলেন, যেভাবে গুপ্তচরদেরকে মুক্তিযোদ্ধা বানিয়ে ভারতে পাঠানো হয়েছিল একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের নীলনকশা হিসেবে, ঠিক তেমনিভাবে জিয়াউর রহমানও পাকিস্তানি গুপ্তচর হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে একটা গুরুত্বপূর্ণ পদ দখল করেছিলেন। আর এই পাকিস্তানি গুপ্তচররাই পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট সরাসরি হত্যা চক্রের সাথে জড়িত ছিল এবং যেটির মাস্টারমাইন্ড ছিলেন জিয়াউর রহমান। জিয়াউর রহমান তার দীর্ঘ জীবনে কোনদিনই বাংলাদেশের আনুগত্য প্রকাশ করেননি। বরং পাকিস্তানের একজন পেইড এজেন্ট হিসেবে কাজ করেছেন এবং পাকিস্তানের নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়ন করাই ছিল তার কর্মজীবনের প্রধান লক্ষ্য। সেদিক থেকে জিয়াউর রহমান একজন সফল গুপ্তচর। তার গুপ্তচরবৃত্তি রোমাঞ্চকর গোয়ন্দা থ্রিলারকেও হার মানায়।

জিয়াউর রহমান  


মন্তব্য করুন


ইনসাইডার এক্সক্লুসিভ

গুম হওয়া চৌধুরী আলম মালয়েশিয়ায়?

প্রকাশ: ১০:০০ পিএম, ১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

মালয়েশিয়ার সাবেক রাষ্ট্রদূত খায়রুজ্জামান আটকের পর সেখানে চৌধুরী আলমেরও সন্ধান পাওয়া গেছে বলে মালয়েশিয়ার একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। মালয়েশিয়ার দুটি গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত খবর বেরিয়েছে। তবে মালয়েশিয়া সরকার এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেননি। চৌধুরী আলম বিএনপির একজন নেতা, তিনি বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ওয়ার্ড কাউন্সিলর ছিলেন এবং সন্ত্রাস, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। বিএনপির সময় তিনি একছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন পল্টন, মতিঝিল, মালিবাগ, শান্তিনগর এলাকায়। আর এই সময় তার কথায় সবকিছু হতো। কোন ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছুই করার ছিল না। চৌধুরী আলমের কথাই সেখানে আইন ছিলো। সেই চৌধুরী আলম ২০১০ সালের ২৪শে জুন ইন্দিরা রোড থেকে নিখোঁজ হন।

মায়ের ডাক যে গুমের তালিকা প্রদান করেছে সে গুমের তালিকায় চৌধুরী আলমের নাম রয়েছে। মায়ের ডাকের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছিল যে, চৌধুরী আলমকে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা উঠিয়ে নিয়েছে এবং তাকে গুম করা হয়েছে। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বারবার বলে এসেছে, চৌধুরী আলমের ব্যাপারে তারা কোনো কিছুই জানেনা। বিভিন্ন সূত্র থেকে বিভিন্ন সময় বলা হয়েছে যে, চৌধুরী আলম দেশের বাইরে পলাতক অবস্থায় রয়েছেন। বিভিন্ন সময়ে যে সব বিএনপি নেতারা মালয়েশিয়ায় গেছেন তারা একাধিকবার বলেছেন যে, চৌধুরী আলমের সাথে তাঁর কথা হয়েছে। এছাড়া এই এলাকার চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণের জন্য চৌধুরী আলম মাঝে মাঝেই বাংলাদেশে ফোন করেন, এমন তথ্য পাওয়া গেছে। কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ এ কথা স্বীকার করেনি। চৌধুরী আলমের কথিত গুমের বিষয়টিকে মায়ের ডাক এবং বাংলাদেশের সুশীল বুদ্ধিজীবীর একটি অংশ ফলাও করে প্রচার করে বিভিন্ন সময়। কিন্তু এখন চৌধুরী আলমের মালয়েশিয়া থাকার খবর মোটামুটি নিশ্চিত করেছে সেখানকার আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা। এখন তার পরিচয় সঠিক কিনা, সেটি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, জেল হত্যা মামলার আসামী এবং মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের সাবেক হাইকমিশনার মেজর অবসরপ্রাপ্ত খায়রুজ্জামানকে বুধবার আটক করে মালয়েশিয়ার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মালয়েশিয়ার আমপাং সেলেঙ্গা নামক এলাকায় ১১ নম্বর ব্লকের ২০/২ এর ৭ নম্বর অ্যাপার্টমেন্ট থেকে তাকে আটক করা হয়। বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে এবং অবৈধ অভিবাসীর অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে মালয়েশিয়া সরকার জানিয়েছে। গত সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী রিটার স্বামী খায়রুজ্জামান দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন এবং তিনি যে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন এ সম্পর্কে অনেকে বললেও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

মালয়েশিয়ার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে যে, শুধু খায়রুজ্জামান না, এরকম বহু ব্যক্তি মালয়েশিয়া আত্মগোপন করে আছে এবং যাদেরকে বাংলাদেশ সরকার খুঁজছে। এদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট বিভিন্ন মামলা রয়েছে। আর খায়রুজ্জামানের এই গ্রেপ্তারের পরপরই মালয়েশিয়ার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে যে, আরও একজন পলাতক ব্যক্তির সন্ধান তারা পেয়েছেন, যিনি চৌধুরী আলম। এখন তার পরিচয় যাচাই-বাছাই করার পর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে। বাংলাদেশে গুম নিয়ে যে অভিযোগগুলো প্রায় করা হয় সে অভিযোগগুলো যে সত্য নয়, তা বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত হচ্ছে। হারিছ চৌধুরীর ঘটনা এবং এর আগে বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন আহমেদের ভারতে পালিয়ে যাওয়া এবং সেখান থেকে তাকে উদ্ধার। আর সর্বশেষ চৌধুরী আলমের ঘটনার পর প্রমাণ হয়েছে যে, গুম নাটকটিও বিএনপি-জামায়াত জোটের সৃষ্টি। সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য বিভিন্ন দেশে আত্মগোপন করে সেগুলোকে গুম বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

বিএনপি   চৌধুরী আলম   গুম  


মন্তব্য করুন


ইনসাইডার এক্সক্লুসিভ

ইলিয়াস আলী কি লন্ডনে?

প্রকাশ: ০৮:০০ পিএম, ০৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২২


Thumbnail ইলিয়াস আলী কি লন্ডনে?

হারিছ চৌধুরীর মৃত্যু নিয়ে বিতর্ক এবং রহস্যের জট কাটতে না কাটতেই বিএনপির আরেক নেতা ইলিয়াস আলীকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। লন্ডনে বিএনপির একাধিক নেতা দাবি করেছেন যে, ইলিয়াস আলীকে দেখা গেছে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে এ নিয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। লন্ডনে বিএনপির একজন প্রভাবশালী নেতা তার ফেসবুকে ‘ইলিয়াস ভাইয়ের সঙ্গে দেখা হলো, আলহামদুলিল্লাহ’ বলে কিছুক্ষণ রাখেন। তারপর তিনি তার সেই ফেসবুক স্ট্যাটাসটি ডিলিট করে দেন বলে লন্ডনে অবস্থিত বিএনপির অন্তত দুজন নেতা জানিয়েছেন। এর পরেই গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে যে, ইলিয়াস আলী কি এখন তাহলে লন্ডনে অবস্থান করছেন?

২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল মধ্যরাতে রাজধানীর ঢাকায় তাকে এবং তার গাড়িচালককে শেষবারের মতো দেখা গেছে। এরপর ইলিয়াস আলীকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ইলিয়াস আলীকে গুম করে ফেলা হয়েছে। সরকার এ দাবি বরাবরই অস্বীকার করে আসছে। কিন্তু ইলিয়াস আলী কোথায় আছে সে সম্পর্কে কোন তথ্যই পাওয়া যায়না। ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁর স্ত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং প্রধানমন্ত্রী তাকে আশ্বস্ত করেন যে, সরকার তাকে খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করবে। বিএনপির অবশ্য ইলিয়াস আলী একমাত্র নিখোঁজ নেতা নন, এর আগে হারিছ চৌধুরী এবং সালাউদ্দিন আহমেদ নিখোঁজ হয়েছিলেন। পরবর্তীতে সালাউদ্দিন আহমেদকে ভারতে পাওয়া যায়। তিনি ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় সেখানকার সীমান্তরক্ষীদের হাতে ধরা পড়েন। এখনো সালাউদ্দিন আহমেদ ভারতে অবস্থান করছেন। হারিছ চৌধুরীও ওয়ান-ইলেভেনের সময় পালিয়ে ভারতে গিয়েছিলেন, সেখান থেকে তিনি লন্ডনে যান বলেও বিভিন্ন মহল বলেছে। যদিও তার পরিবার বলছে যে, তিনি কখনোই লন্ডনে যাননি, ঢাকায় ছিলেন। যদিও বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বলছে যে, হারিছ চৌধুরীর ২০০৭ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ঢাকায় থাকা অবাস্তব, অসম্ভব। সম্প্রতি সিআইডি হারিছ চৌধুরীর মৃত্যুজট নিয়ে তদন্ত করছে।

ইলিয়াস আলী নিখোঁজের পর থেকেই এই নিখোঁজের ঘটনাটিকে গুম বলে চালানোর চেষ্টা করছে এবং বারবার বলা এ ব্যাপারে অভিযোগের তীর সরকার দিকে দেয়া হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, ২০১০ সালে ইলিয়াস আলী বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছিলেন। বিএনপির সিলেটের রাজনীতিতে একটি অংশের সঙ্গে তার বিরোধ ছিলো। মির্জা আব্বাস কিছুদিন আগে দলের এক আলোচনা সভায় দাবি করেছেন যে, ইলিয়াস আলী নিখোঁজের পিছনে বিএনপি দায়ও কম নয়। যদিও তিনি পরবর্তীতে তাঁর এই বক্তব্যকে গণমাধ্যমে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন এবং এ ব্যাপারে তিনি ব্যাখ্যাও দিয়েছেন। কিন্তু ইলিয়াস আলী যে মারা গেছেন এমন কোন নিশ্চিত তথ্য কারো কাছে নেই। হারিছ চৌধুরীর মৃত্যু এবং তিনি বাংলাদেশে ছিলেন, এই দুটি তথ্যের পর সকলে নড়েচড়ে বসেন এবং তখন মনে করা হয় যে, যেকোনো ব্যক্তি আত্মগোপনে বাংলাদেশে বা বিদেশে থাকতে পারেন।

ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার পর প্রথমদিকে তাঁর পরিবার অনেকটা মুষড়ে পড়লেও এখন তারা স্বাভাবিক রয়েছেন এবং ইলিয়াস আলীর স্ত্রীকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অনেকটা সক্রিয় দেখা যাচ্ছে। আর এটা নিয়ে খোদ বিএনপির মধ্যেই সংশয় দেখা দিয়েছে যে, ইলিয়াস আলী যদি সত্যিই মারা যেয়ে থাকেন তাহলে তাদের পরিবারের তো এরকম অবস্থা থাকার কথা না। নিশ্চিত ভাবেই অনেকে মনে করেন যে, ইলিয়াস আলী হয়তো কোথাও আত্মগোপন করে আছেন। বিএনপির অনেক নেতাই এরকম আত্মগোপন করে আছেন বিভিন্ন বাস্তবতার কারণে। সে কারণেই সাম্প্রতিক সময়ে যখন লন্ডনে বিএনপির একজন নেতা ইলিয়াস আলীর সঙ্গে দেখা করেছেন বলে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন, তখন চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। যদিও বিএনপি'র একাধিক নেতা দাবি করছেন যে, ইলিয়াস আলীকে নিয়ে মাঝে মাঝে এরকম গুজব ছড়ানো হয়, এটির কোনো ভিত্তি নেই। ইলিয়াস আলী যদি লন্ডনে থাকতেন তাহলে অবশ্যই তার সঙ্গে যোগাযোগ হতো। তবে অনেকেই মনে করেন যে, কৌশলগত কারণে এবং সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্যই হয়তো ইলিয়াস আলীর আত্মগোপনের নাটককে গুম হিসেবে চালানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

ইলিয়াস আলী   বিএনপি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইডার এক্সক্লুসিভ

বিএনপি-জামায়াতের লবিস্ট নিয়োগের আদ্যোপান্ত

প্রকাশ: ০৫:০০ পিএম, ০২ ফেব্রুয়ারী, ২০২২


Thumbnail বিএনপি-জামায়াতের লবিস্ট নিয়োগের আদ্যোপান্ত

রাষ্ট্র বিরোধী তৎপরতায় যুক্ত বিএনপি-জামায়াত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এই দুই দলই লবিস্ট নিয়োগ করে অবৈধভাবে দিয়েছে কোটি কোটি টাকা। এ সংক্রান্ত তথ্য প্রমাণ নিয়ে বাংলা ইনসাইডারের এক্সক্লুসিভ।  

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলঃ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে লবিং এর জন্য ব্যয়ের সবার জন্য উন্মুক্ত ডাটাবেসের উপর ভিত্তি করে, বাংলা ইনসাইডার ২০০৭ সাল থেকে বিরোধী দলে থাকাকালীন বিএনপির দ্বারা ভাড়া করা পাঁচটি লবিং সংস্থাকে চিহ্নিত করেছে৷ 

আগস্ট ২০১৮-এ, যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক বিএনপি নেতা আবদুল সাত্তার বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর লক্ষ্যগুলি প্রচার করার জন্য ‘ব্লু স্টার স্ট্র্যাটেজিস এলএলসিকে’ নিয়োগ করেছিলেন। এছাড়াও, ফার্মটি বিএনপি এবং তাদের চাওয়া অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থ সম্পর্কে এর কর্মকর্তা, নীতি প্রভাবক এবং মিডিয়াকে প্রভাবিত করে এবং বিএনপির লক্ষ্যগুলি জানাতে একটি ন্যারেটিভ তৈরি করে। চুক্তিতে সাত্তার স্বতন্ত্রভাবে স্বাক্ষর করেছিলেন, তবে ডকুমেন্টেশন থেকে বোঝা যায় যে তিনি বিএনপির পক্ষে কাজ করছিলেন। ফর্মের একটি অংশে বলা হয়েছে যে "বিদেশী ব্যক্তিত্ব" আব্দুল সাত্তার এবং এটি নিশ্চিত করা হয়েছে যে তিনি একটি "বিদেশী রাজনৈতিক দলের" সদস্য। 

উপরন্তু, "বিদেশী ব্যক্তিত্ব যদি বিদেশী রাজনৈতিক দল হয়" তবে তার বিশদ জানতে চেয়ে জমা দেওয়া নথিপত্রের বিভাগে বলা হয়েছেঃ "বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, ২৮, ১ ভিআইপি রোড, ঢাকা ১২০৫, বাংলাদেশ"।

নথিগুলি নিশ্চিত করেছে যে, লবিং ফার্মে অর্থপ্রদান করা হয়েছে যার পরিমাণ দুই বছরের মেয়াদে কমপক্ষে ২,৭৮,৫৮২ ডলার। (আগস্ট ২০১৮ এ ১০,০০০ ডলার, সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে মার্চ ২০১৯ এর মধ্যে কাজের জন্য ১,৯৭,৭৯০ ডলার এবং মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর ২০১৯ এর মধ্যে কাজের জন্য ৭০,৭৯২ ডলার) । সিঙ্গাপুর-ভিত্তিক ওভারসিজ-চাইনিজ ব্যাঙ্কিং কর্পোরেশন লিমিটেডের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে শেষ অর্থপ্রদান করা হয়েছিল।

২০২১ সালের মার্চে, মার্কিন সংস্থাটি উল্লেখ করেছে যে, ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে, বিএনপির সাথে তাদের আর সম্পর্ক নেই। কারণ "তিনি [বিএনপি] পাওনা অর্থ পরিশোধ করতে অক্ষম ছিলেন।"

বিএনপির লবিং করার জন্য ব্লু স্টার স্ট্র্যাটেজিসের সাথে এই একই চুক্তির অংশ হিসাবে, রাস্কি পার্টনার্সকে ব্লু স্টার স্ট্র্যাটেজিস (সাত্তার নয়) দ্বারা ৮৬,৬২৭ ডলার প্রদান করা হয়েছিল।

রাস্কির স্টাফ সদস্য এক ইমেইলে লিখেছেন, “আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সাথে কাজ করি” এবং বলেছেন “হুমায়ুন কবির — বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা — এই সপ্তাহে ওয়াশিংটন, ডিসিতে থাকবেন এবং আমি তার সাথে তোমাকে যোগাযোগ করিয়ে দিবো।

জানুয়ারী ২০১৫ সালে, আকিন গাম্প স্ট্রস হাউয়ার অ্যান্ড ফেল্ড এলএলপির আইনজীবী টবি ক্যাডম্যানের কাছে একটি প্রস্তাব পাঠায় যে “আকিন গাম্প ওয়াশিংটন, ডিসিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে (নীতি বিশ্লেষণ সহ) নীচে বর্ণিত হিসাবে আইনি পরিষেবা প্রদানের মাধ্যমে সমর্থন করার প্রস্তাব দিতে পেরে আনন্দিত। এটিতে বলাছিল, এর পরিসেবাগুলির মধ্যে "ওয়াশিংটনে বিএনপি এবং রাজনীতিবিদদের মধ্যে সংলাপের সুবিধা প্রদান (আসন্ন নির্বাচনের সাথে সম্পর্কিত) এবং বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধের বিচার, বাণিজ্য নীতি এবং বাণিজ্য আলোচনা, মানবাধিকার লঙ্ঘন সম্পর্কিত লবিং সহ যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে সাধারণ সম্পর্ক অন্তর্ভুক্ত থাকবে।"

ফেব্রুয়ারী ২০১৫ সালে, ইউএস ফার্মটি একটি নথি জমা দেয় যাতে নিশ্চিত করা হয় যে এটি একটি "আনুষ্ঠানিক লিখিত চুক্তির" ভিত্তিতে বিএনপির জন্য কাজ করছে এবং সম্মত চুক্তি হিসাবে ক্যাডম্যানের কাছে পাঠানো প্রস্তাবটি যুক্ত করেছে।

নথিগুলি নিশ্চিত করে যে মার্কিন লবিস্ট ছয় মাস কাজ করেছে। যদিও প্রস্তাবে বিএনপির প্রতি মাসে ৪০,০০০ ডলার দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল, তবে ফার্মের জমা দেওয়া ফর্মগুলিতে দেখা যায় যে কোনও টাকা দেওয়া হয়নি। অ্যানেক্স বিদেশী ক্লায়েন্টদের কাছ থেকে প্রাপ্ত সমস্ত অর্থের তালিকা করে, সেখানে বলা হয়েছে, "বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল: শূন্য"। ক্যাডম্যান বলেছেন যে, চুক্তিটি "কখনও কার্যকর হয়নি" অর্থাৎ মনে হচ্ছে, বিএনপি কখনই টাকা দেয়নি।

২০০৭ সালে, জরুরি অবস্থার সময় যখন বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ কেউই সরকারে ছিল না তখন পিলসবারি উইনথ্রপ শ পিটম্যান এলএলপিকে বিএনপি "একটি গণতান্ত্রিক সরকার পুনরুদ্ধার এবং বাংলাদেশে নির্বাচন ত্বরান্বিত করার জন্য" নিয়োগ করেছিল।

মার্কিন ফার্মের জমা দেওয়া নথিতে প্রকৃতপক্ষে উল্লেখ করা হয়েছে যে, “তারা যে কর্মকর্তার সাথে চুক্তি করেছেন তার নাম ও পদবী খালেদা জিয়া।”

ফার্মটিকে ১,৬০,০০০ ডলার প্রদান করা হয়েছিল।

একই বছর, ২০০৭ সালে, কোরভিস কমিউনিকেশনস বিএনপির পক্ষে একটি একক প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রচার করেছিল কিন্তু এই কাজের জন্য কোন অর্থ পায়নি।

সুতরাং এটা পরিষ্কার যে বিএনপি "কোনও লবিস্ট নিয়োগ করেনি" এমন দাবি করা মির্জা আলমগীরের ভুল। তারা শুধু তাদের নিয়োগই করেনি, মার্কিন সরকারের কাছে জমা দেওয়া প্রতিবেদন অনুসারে তারা মোট ৪,৪৮,৫৮২ ডলার প্রদান করেছে। যদি তারা তাদের সমস্ত চালান পরিশোধ করত তবে অঙ্কটি আরও বড় হত।

জামায়াতে ইসলামী: বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামী সরাসরি কোনো লবিং ফার্ম নিয়োগ করেনি, তবে একটি নিউইয়র্ক ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান “অর্গানাইজেশন ফর পিস অ্যান্ড জাস্টিস (ওপিজে)”, দুটি লবিং ফার্ম নিয়োগ করেছে। লবিস্টদের জমা দেওয়া নথি অনুসারে, ওপিজে হল জামায়াতে ইসলামী গ্রুপ। "জামায়াতে ইসলামীর সহানুভূতিশীলরা “অর্গানাইজেশন ফর পিস অ্যান্ড জাস্টিস ইনকর্পোরেটেডের” পরিচালক হিসাবে কাজ করে। মিশনটি হল পার্টির সদস্যদের রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং সরকার-প্রভাবিত ট্রাইব্যুনাল দ্বারা বিচার করা থেকে বিরত রাখা"। 

২০১৮ সালে, ওপিজে, হাশ ব্ল্যাকওয়েল স্ট্র্যাটেজিস, এলএলসি নিয়োগ করেছিল এটি নিশ্চিত করার জন্য যে "যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নীতিগুলি, বর্তমানে বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং গণতন্ত্র, উন্নয়ন এবং মানবাধিকারের সমর্থনকারী, জামায়াতে ইসলামীর স্বার্থের পরিপন্থী কোনও উপায়ে পরিবর্তন না হয়, বা এমন পরিবেশ তৈরি করতে না পারে যেখানে জামায়াতে ইসলামীকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বা  আন্তর্জাতিক স্তরে নিরাপত্তা হুমকি হিসাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়।" জমা দেওয়া নথিগুলি থেকে বোঝা যায় যে ওপিজে জামায়াতের পক্ষে লবিস্ট হিসাবে কাজ করছিল, যেহেতু ফর্মটি ওপিজেকে একটি "বিদেশী রাজনৈতিক দল" হিসাবে নিশ্চিত করেছে। 

এটি পাঁচ মাসের কাজের জন্য ৫৫,০০০ ডলার প্রদান করেছিল। 

২০১৪-২০১৭ সালে, ওপিজে ক্যাসিডি এবং সহযোগীদের নিয়োগ করেছিল যারা "মানবাধিকার লঙ্ঘন সম্পর্কে শিক্ষামূলক বৈঠকে নিযুক্ত ছিল এবং জামায়াতে ইসলামীর সদস্যদের রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং সরকার দ্বারা প্রভাবিত ট্রাইব্যুনাল দ্বারা বিচার ও মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা থেকে বিরত রাখার জন্য কৌশলগত পরামর্শ প্রদান করেছিল।" এটি মোট ২,৮৫,৯৫২ ডলার প্রদান করেছে। (এপ্রিল থেকে জুন ২০১৪ এটি ব্যয় করেছে ৫০,০০০ ডলার; ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই ২০১৫ পর্যন্ত, এটি ৭৫,০০০ ডলার ব্যয় করেছে; আগস্ট ২০১৫ থেকে জানুয়ারি ২০১৬ পর্যন্ত, এটি ব্যয় করেছে ৫০,০৩৭; এবং ২০১৬ সালে কাজের জন্য, এটি ১,১০,০০০ ডলার খরচ করেছে)। ক্যাসিডি তাদের সহায়তা করার জন্য ক্লোকরুম ফার্মের উপদেষ্টাদের সাথেও চুক্তি করেছিল।

২০১১ এবং ২০১৩ সালের মধ্যে, মীর মাসুম আলী, যিনি তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকতেন এবং উত্তর আমেরিকার মুসলিম উম্মাহর মিডিয়া এবং প্রকাশনার প্রকল্প পরিচালক ছিলেন। এটি একটি সংগঠন যা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মার্কিন সমর্থকদের আকর্ষণ করে। "বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল এবং রাজনৈতিক বিরোধীদের বিষয়ে" লবিংয়ের জন্য একই আইন সংস্থা, ক্যাসিডি এবং অ্যাসোসিয়েটসকে মোট ৩,৭০,০০০ পাউন্ড প্রদান করে। মীর মাসুম আলী জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর ভাই। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক যুদ্ধাপরাধের জন্য দোষী সাব্যস্ত হন মীর কাসেম আলী এবং পরবর্তীতে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। মাসুম ২০১১ সালে ২,১০,০০০ ডলার ২০১২ সালে ১,৪০,০০০ ডলার এবং ২০১৩ সালে ২০,০০০ ডলার প্রদান করেছিলেন।

(২০১১ সালে, ইনস্টিটিউট ফর ইউএস বাংলাদেশ রিলেশনস ক্যাসিডি অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটসকে নিয়োগ করেছিল এবং ফার্মটিকে ২১০,০০০ ডলার প্রদান করেছিল। তবে, আমরা নিশ্চিত করতে পারিনি যে এই সংস্থাটি কোনভাবেই জামায়াতের সাথে যুক্ত কিনা)।

মার্কিন সরকারের কাছে জমা দেওয়া হিসাবের রিপোর্ট অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জামায়াতে ইসলামীর সুবিধার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক জামায়াত সংগঠনগুলির দ্বারা পরিচালিত লবিং কাজের জন্য মোট প্রদান করা অর্থের পরিমাণ ৭,১০,৯৫২ ডলার। উল্লেখ্য যে, ২০১৩ সালে, বাংলাদেশ সরকার জামায়াতের বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা অভিযোগ করেছিল যে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিরুদ্ধে লবিং করার জন্য জামায়াত ২৫ মিলিয়ন ডলার খরচ করেছে।

ব্যাংকিং নিয়ন্ত্রণ

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ঠিকই বলেছিলেন যে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমতি ছাড়া বাংলাদেশ থেকে এই তদবিরের জন্য অর্থ প্রদান করা বিএনপির (বা প্রকৃতপক্ষে জামায়াত) পক্ষে বেআইনি হত। এর কারণ বাংলাদেশে বিদ্যমান সাধারণ মুদ্রা বিধিনিষেধের কারণে দেশের বাইরে অর্থ নিয়ে যাওয়া নিষিদ্ধ।  

বিএনপির চুক্তিতে যে অর্থ দেয়া হয়েছে তার উৎস জানা যায়নি। যাইহোক, এটি উল্লেখযোগ্য যে ২০১৮-২০১৯ সালে ব্লু স্টারের সাথে ২,৭৮,৫৮২ ডলারের মোট অর্থপ্রদানের চুক্তিতে যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক ব্যক্তি আব্দুল সাত্তার স্বাক্ষর করেছিলেন (এবং বিএনপি নয়, যদিও মনে করা হয় এটি তাদের পক্ষে স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং তারা এটি থেকে উপকৃত হয়েছে)এবং ধারণা করা হয় যে, এই চুক্তির জন্য অর্থ বাংলাদেশের বাইরে থেকে এসেছে। প্রকৃতপক্ষে জমা দেওয়া নথিগুলি থেকে আমরা জানি যে, ৭০,৭৯২ডলার এর দ্বিতীয় পেমেন্ট সিঙ্গাপুর-ভিত্তিক ওভারসিজ-চাইনিজ ব্যাঙ্কিং কর্পোরেশন লিমিটেডের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া হয়েছিল।

যদি লবিং ফি বাংলাদেশের বাইরে থেকে দেওয়া হয় (এবং দেশ থেকে অর্থ অবৈধভাবে নেওয়া হয়নি) তাহলে কোন ফৌজদারি অপরাধ সংঘটিত হয় না।
২০০৭ সালে করা ১,৬০,০০০ ডলার এর অর্থপ্রদানের সাথে বাংলাদেশে বিএনপির সাথে সরাসরি একটি চুক্তি জড়িত ছিল — তবে এই অর্থ বাংলাদেশ বা বাইরে থেকে দেওয়া হয়েছিল কিনা তা জানা যায়নি। যদি দেয়া হয় তবে এটি দলের জন্য একটি আইনি সমস্যা হতে পারে।

জামায়াত-ই-ইসলামীর তদবিরের সাথে জড়িত সমস্ত সংস্থা বা ব্যক্তি বাংলাদেশের বাইরে থাকে - এবং ধারণা করা হয় যে, দেশের বাইরে থেকেও অর্থ দেওয়া হয়েছিল। 

এটি উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউট কর্তৃক কনেওয়াগো কনসাল্টিং এলএলসিকে দেওয়া ৩৫,০০০ ডলার প্রদানের ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রযোজ্য।

আর্থিক নিরীক্ষা 

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সঠিক বলেছিলেন যে, রাজনৈতিক দলের নিয়ম অনুযায়ী দলগুলিকে নির্বাচন কমিশনে আর্থিক প্রতিবেদন জমা দিতে হয়। নিয়মের ৯ (বি) ধারায় বলা হয়েছে যে, প্রতিটি পক্ষকে "প্রতি বছরের ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে একটি নিবন্ধিত চার্টার্ড অ্যাকাউন্টিং ফার্ম দ্বারা পূর্ববর্তী ১২ মাসের করা অডিট রিপোর্টের একটি অনুলিপি" জমা দিতে হবে। 

তবে, এই নিয়মগুলি শুধুমাত্র ২০০৮ সালে কার্যকর হয়েছে এবং পূর্ববর্তী বছরগুলিতে প্রযোজ্য নয়৷ এই বিধিগুলি প্রণয়নের আগে, অনুরূপ আইনি প্রয়োজন ছিল না। এর অর্থ হল, লবিস্টদের অর্থপ্রদানের বিষয়ে বিএনপি তথ্য প্রকাশ করার ক্ষেত্রে, ৯ (বি) ধারা ২০০৭ সালে পিলসবারি উইনথ্রপ শ পিটম্যানকে অর্থপ্রদানে অন্তর্ভুক্ত হবে না, যদিও ২০১৮ সালের আগস্টে ব্লু স্টার স্ট্র্যাটেজিস এলএলসি/রাস্কিকে  অর্থপ্রদানের সাথে জড়িত হতে পারে।
যেহেতু সমস্ত জামায়াতপন্থী লবিং ২০০৮ সালের পরেই হয়েছিল, তাই তাত্ত্বিকভাবে এই সমস্ত লবিং অর্থপ্রদানের ক্ষেত্রে ৯(বি) ধারা প্রযোজ্য হতে পারে। যদিও এটি শুধুমাত্র ২০১৩ পর্যন্ত করা অর্থপ্রদানের বিষয়ে চিন্তার কারণ হতে পারে, যে সময়ে হাইকোর্ট জামায়াত-ই-ইসলামীর দল হিসেবে নিবন্ধন বাতিল করেছিল।

২০০৮ সালের নিয়মগুলি একটি অডিটে কী অন্তর্ভুক্ত করা উচিত বা কী করা উচিত নয় তার বিশদ বিবরণ দেয় না এবং ২০০৮ এর নিয়মগুলিকে এভাবে ব্যাখ্যা করা অসম্ভব যাতে রাজনৈতিক দলগুলিকে অন্য দেশে বসবাসকারী কোনও সংস্থা বা ব্যক্তির দ্বারা প্রদত্ত অর্থপ্রদানের বিশদ অন্তর্ভুক্ত করা যায়, এমনকি যদি সেই অর্থগুলি রাজনৈতিক দলের সুবিধার জন্য ব্যাবহার করা হয়েছিল - বিশেষ করে যখন নিয়মগুলি স্পষ্টভাবে এটি উল্লেখ করে না।

বিএনপি   জামায়াত   যুক্তরাষ্ট্র   লবিস্ট   লবিং  


মন্তব্য করুন


ইনসাইডার এক্সক্লুসিভ

আইভীকে হারানোর সব চেষ্টাই করেছেন শামীম ওসমান

প্রকাশ: ০৫:০০ পিএম, ১৭ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail আইভীকে হারানোর সব চেষ্টাই করেছেন শামীম ওসমান

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন শেষ হয়েছে। প্রায় ৭০ হাজার ভোটের ব্যবধানে সেলিনা হায়াৎ আইভী তৃতীয়বারের মতো সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। আপাতদৃষ্টিতে এই নির্বাচন ছিলো আওয়ামী লীগের প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভীর সঙ্গে বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী তৈমুর আলম খন্দকারের লড়াই। কিন্তু পর্দার পেছনে আইভীকে মূলত লড়তে হয়েছে তার দলের প্রতিপক্ষ শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে। বৃহত্তর ভাবে বলতে গেলে ওসমান পরিবারের বিরুদ্ধে। শুরু থেকেই ওসমান পরিবার আইভীর বিরুদ্ধে ছিলো। একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বাংলা ইনসাইডারকে নিশ্চিত করেছে যে, এই নির্বাচনে তৈমুর আলম খন্দকারকে প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করানোর ক্ষেত্রে শামীম ওসমান এবং ওসমান পরিবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তাদের অর্থায়নের ব্যবস্থা করা হয়েছিল রাইফেল ক্লাবের একজন ব্যবসায়ী নেতার মাধ্যমে। এই বিষয়গুলো যখন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব জানেন তখন জাহাঙ্গীর কবির নানকের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা শামীম ওসমানের সঙ্গে কথা বলেন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বার্তাটি জানিয়ে দেন।

আওয়ামী লীগ সভাপতির বার্তা ছিলো খুবই স্পষ্ট। দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে যারাই কাজ করবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আওয়ামী লীগ সভাপতির এই নির্দেশনার আলোকেই নারায়ণগঞ্জ ছাত্রলীগকে বিলুপ্ত করা হয়। এরপর শামীম ওসমান একটি সংবাদ সম্মেলনের নাটক করেন এবং সেখানে তিনি নৌকা প্রতীকের পক্ষে সমর্থন ঘোষণা করেন। কিন্তু এই আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আড়ালে হয়েছে ভয়ঙ্কর খেলা। শামীম ওসমানের লোকজন নির্বাচনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আইভীর বিরুদ্ধে কাজ করেছেন এবং এ নিয়ে আইভীও শঙ্কিত ছিলেন। সেলিনা হায়াৎ আইভী জানতেন যে, শামীম ওসমান এই নির্বাচনে অনেক কিছুই করতে পারেন। আর এ কারণেই তিনি বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রে নির্বাচনী এজেন্টদের নাম প্রকাশ করেন ভোটের আগের দিন গভীর রাতে। কারণ তার শঙ্কা ছিলো যে, শামীম ওসমানের লোকজন তাদেরকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা দিতে পারেন। এরকম ঘটনার পরও অন্তত তিনজন এজেন্টকে শামীম ওসমানের লোকজন ভয় দেখিয়েছেন বলে প্রত্যক্ষ প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং তারা দুপুর ১২টায় ভোট কেন্দ্রে যেতে সক্ষম হয়েছিলেন।

আইভী চেয়েছিলেন নির্বাচনটি সুষ্ঠু হোক এবং পুলিশ যেন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে। অন্যদিকে, শামীম ওসমানের পক্ষের লোকজন চেয়েছিল নির্বাচনকে যেকোনো মূল্যে বিতর্কিত করতে এবং একটা সহিংসতার আবরণ তৈরি করতে। যদিও প্রকাশ্যে শামীম ওসমান ভোটের দিন বলেছেন যে, নৌকার বিজয় সুনিশ্চিত। কিন্তু নৌকাকে হারাতে তিনি যে ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছেন সে সম্পর্কে বেশকিছু তথ্য-প্রমাণ আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির হাতে রয়েছে। আর এ কারণেই নির্বাচনের পরপরই স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের নির্বাচন সমন্বয়কারী জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছেন, নারায়ণগঞ্জে এখনো অনেক কাজ করতে হবে এবং এ বিষয়গুলো তারা আওয়ামী লীগ সভাপতিকে অবহিত করবেন। তবে কি বিষয় সে সম্পর্কে তিনি কিছু বলতে অস্বীকৃতি জানান।

বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে যে, শামীম ওসমান মুখে বলেছেন এক কথা আর কাজ করেছেন অন্যরকম। এ ধরনের বেশকিছু অভিযোগ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব পেয়েছে। একাধিক সূত্র বলছে যে, নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কমিটিগুলো শামীম ওসমানের পকেট কমিটি। সেখানকার ছাত্রলীগ, যুবলীগ, মহিলা যুবলীগ, কৃষকলীগ,  শ্রমিকলীগ ইত্যাদি সবই শামীম ওসমানের পকেটে। কিন্তু সাধারণ কর্মীরা আইভীর পক্ষে হলেও শামীম ওসমানকে ভয় পায়। আর একারণেই আইভী চেয়েছিলেন যে, প্রভাবমুক্ত একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন হোক। শেষ পর্যন্ত প্রভাবমুক্ত নিরপেক্ষ নির্বাচন হওয়ার কারণে তৃতীয়বারের মতো আইভী নির্বাচিত হয়েছেন। তবে এই নির্বাচনের পর নারায়ণগঞ্জে একটা বড় ধরনের শুদ্ধি অভিযান হবে। নারায়ণগঞ্জ নির্বাচনের সঙ্গে জড়িত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় অন্তত দুজন নেতা বাংলা ইনসাইডারকে নিশ্চিত করেছেন, শামীম ওসমান যে আইভীবিরোধী তৎপরতা করেছেন সে সম্পর্কে তথ্য-প্রমাণ তাদের হাতে আছে এবং এগুলো তারা আওয়ামী লীগ সভাপতির কাছে দেবেন।

শামীম ওসমান   নাসিক নির্বাচন   ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন