ইনসাইডার এক্সক্লুসিভ

কতবার মারা গেলেন হারিছ চৌধুরী?

প্রকাশ: ০৫:০০ পিএম, ১৪ জানুয়ারী, ২০২২


Thumbnail কতবার মারা গেলেন হারিছ চৌধুরী?

হারিছ চৌধুরীর মৃত্যু নিয়ে বিএনপি নিজেই নিজের ফাঁদে পড়েছে। তাকে মৃত বানিয়ে তার বিরুদ্ধে সমস্ত ওয়ারেন্ট এবং মামলা আড়াল করার যে প্রয়াস বিএনপির বিভিন্ন মহল করেছিল, সেই প্রয়াসে বিএনপি নিজেই ধরা পড়েছে। এখন পর্যন্ত হারিছ চৌধুরীর তিনটি মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া গেছে। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো যে, যুক্তরাজ্য শাখার বিএনপির সভাপতি মালেক দাবি করেছিলেন যে, হারিছ চৌধুরী কখনো লন্ডনে আসেননি। অথচ হারিছ চৌধুরীর সঙ্গে মালেকের ছবি এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘুরছে-ফিরছে। এই ছবিটি ২০১৮ সালের। অর্থাৎ ২০১৮ সাল থেকেই হারিছ চৌধুরী যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছিলেন। এখন পর্যন্ত হারিছ চৌধুরীর যে সমস্ত মৃত্যুর খবর জানা গেছে তার মধ্যে রয়েছে-

১. হারিছ চৌধুরীর ভাই সিলেট বিএনপির সহ-সভাপতি দাবি করেছেন যে, হারিছ চৌধুরী লন্ডনে মারা গেছেন। তার বর্ণনা মতে, তিনি প্রথমে করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। পুরোপুরি সুস্থ হয়ে বাসায় ফেরেন। এরপর তিনি আবার অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং শেষ পর্যন্ত মারা যান। কিন্তু তার এই বক্তব্যের কোন সত্যতা এনএইচএস-এ পাওয়া যায়নি। যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল মেডিকেল সার্ভিসের (এনএইচএস) তথ্য অনুযায়ী হারিছ চৌধুরী নামে কোন ব্যক্তি ২০২০ সালের আগস্ট, সেপ্টেম্বর, অক্টোবরে মৃত্যুবরণ করেননি।

২. হারিছ চৌধুরীর দ্বিতীয় মৃত্যুর খবর জানাচ্ছেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি মালেক। তিনি এক অবিশ্বাস্য গল্প ফেঁদেছেন। তিনি দাবি করছেন, হারিছ চৌধুরী কখনোই বাংলাদেশ থেকে বের হননি। বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থা এবং ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে জানিয়েছেন যে, হারিছ চৌধুরী জকিগঞ্জ এলাকা দিয়ে ভারতে আশ্রয় গ্রহণ করেন এবং সেখানেই তিনি ছিলেন। ভারতেই তিনি দীর্ঘদিন বসবাস করেছেন, এ ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং গোয়েন্দা বিভাগ নিশ্চিত বলে জানিয়েছেন। তার কোনো ভাবেই বাংলাদেশে প্রবেশ করার কোনো কারণ নেই। বাংলাদেশের ইমিগ্রেশন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালে হারিছ চৌধুরীর বাংলাদেশী পাসপোর্ট বাতিল হয়ে যায় এবং সেটি আর নবায়ন করা হয়নি। অর্থাৎ ২০১৩ সাল থেকে তিনি আর বাংলাদেশে থাকেন না। অন্য কোনভাবে বাংলাদেশে আসার কোন সম্ভাবনা আছে কিনা এটি নাকচ করে দিয়ে আইনশৃঙ্খলার একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, এটা অসম্ভব, হারিছ চৌধুরী মোস্ট ওয়ান্টেড ক্রিমিনাল। তিনি একাধিক মামলায় দণ্ডিত। কাজেই তিনি ঢাকায় আসবেন, বোনের বাসায় থাকবেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে দেখবেন না, বিএনপি নেতারা দেখবেন না এটি অবিশ্বাস্য, অবাস্তব এবং কোনভাবেই সম্ভব নয়। কাজেই হারিছ চৌধুরীর বাংলাদেশে মৃত্যুর খবরটিও একেবারেই আষাঢ়ে গল্পের মত।

৩. এখন অনুসন্ধান করতে গিয়ে হারিছ চৌধুরী তৃতীয় মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। হারিছ চৌধুরীর মেয়ে সামিরা তানজিন চৌধুরী ব্রিটিশ নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য যে আবেদন করেছিলেন সেই আবেদনে তিনি তার পিতা হারিছ চৌধুরীকে মৃত দেখিয়েছেন। ২০১৯ সালে সামিরা তানজিন চৌধুরী ব্রিটিশ নাগরিকত্ব লাভ করেন এবং এই নাগরিকত্বের যে আবেদন পত্র দেখা গেছে সে আবেদন পত্রে তিনি হারিছ চৌধুরীকে মৃত দেখিয়েছেন। শুধু সামিরা তানজিন চৌধুরী নয় ছেলে নয়, ছেলে নায়েম শাফি জনি, এবং স্ত্রী হোসনে আরা চৌধুরীও হারিছ চৌধুরীকে তাদের কাগজপত্র মৃত দেখিয়েছেন। ধারণা করা হয়, হারিছ চৌধুরী যেহেতু মোস্ট ওয়ান্টেড ক্রিমিনাল, ইন্টারপোলে তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট ছিলো, সে কারণেই তার পরিবারের সদস্যরা তাঁকে মৃত দেখিয়েছেন এবং হারিছ চৌধুরী তাদের সঙ্গেই যে লন্ডনে বসবাস করছেন, এটি মোটামুটি নিশ্চিত।

তাহলে হারিছ চৌধুরী তিনটি মৃত্যুর মধ্যে কোনটি সত্যি? তিনি কি আদৌ মারা গেছেন? একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, হারিছ চৌধুরী মৃত্যুবরণ করেননি। বরং একটি ভারতীয় পাসপোর্ট নিয়ে তিনি যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন। নানা কৌশলগত কারণে হারিছ চৌধুরীকে এখন মৃত দেখানো হচ্ছে। এই মৃত দেখানোর মধ্যেই হারিছ চৌধুরীর যে সমস্ত সম্পদ ছিলো বিভিন্ন দেশে সে সম্পদগুলো তার পরিবারের সদস্যরা ভাগ-বাটোয়ারা করেছে। বিভিন্ন সূত্র বলছে যে, দেশে অধিকাংশ সম্পত্তি ক্রোক হয়েছে। তার যে বেনামী সম্পত্তিগুলো ছিলো সেগুলো তার ছেলে, মেয়ে এবং স্ত্রীর নামে আগেই হস্তান্তর করেছিলেন। দুবাই, যুক্তরাজ্য, কানাডায় হারিছ চৌধুরীর বিপুল সম্পদ রয়েছে। এই সম্পদগুলোর মালিকানা তার স্ত্রী, পুত্র এবং কন্যার নামে হস্তান্তর করার জন্যই হয়তো হারিছ চৌধুরী এই নাটকটি সাজিয়েছেন বলে অনেকে মনে করেন। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, গত বছরের আগস্টে যদি হারিছ চৌধুরী মারা যান তাহলে ডিসেম্বরে তারেক জিয়ার বাড়ি থেকে কে বের হলো? ডিসেম্বরে অন্তত ৩ দিন হারিছ চৌধুরী কালো রংয়ের একটি একটি বিএমডব্লিউ গাড়িতে করে তারেক জিয়ার বাড়িতে গিয়েছিলেন, এমন তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ সংক্রান্ত সিসিটিভিও এখন যুক্তরাজ্যের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে রয়েছে বলে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া গেছে।

বিএনপি   হারিছ চৌধুরী  


মন্তব্য করুন


ইনসাইডার এক্সক্লুসিভ

ভিকির জন্মদিনে, ভি-ক্যাটের নিউ ইয়র্ক ডায়েরি

প্রকাশ: ১১:৫৭ এএম, ১৮ মে, ২০২২


Thumbnail ভিকির জন্মদিনে, ভি-ক্যাটের নিউ ইয়র্ক ডায়েরি

এ'বছর জন্মদিনে দেশ থেকে অনেক দূরে নিউ ইয়র্কে রয়েছেন ভিকি, সঙ্গী ক্যাটরিন।।



নিউ ইয়র্কে বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে জন্মদিন কাটালেন ভিকি।



ভিকির জন্মদিনের ভেন্যু।



 নিউ ইয়র্কে চুটিয়ে বোলিং করছেন ক্যাটরিনা! এই গেম তাঁর খুব প্রিয়।



নিউ ইয়র্কে প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার একটি রেস্তোরাঁ আছে, নাম 'সোনা'! সেখানে জুটিতে ডিনারে গিয়েছিলেন ক্যাটরিনা আর ভিকি

ভিকি   জন্মদিনে   ভি-ক্যাট   নিউ ইয়র্ক ডায়েরি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইডার এক্সক্লুসিভ

জিয়া: একজন সফল গুপ্তচরের রোমাঞ্চকর কাহিনী

প্রকাশ: ০৭:০০ পিএম, ২৫ মার্চ, ২০২২


Thumbnail জিয়া: একজন সফল গুপ্তচরের রোমাঞ্চকর কাহিনী

জিয়াউর রহমানকে বলা হয় মুক্তিযোদ্ধা। তিনি একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খেতাব এবং জীবিতদের মধ্যে সর্বোচ্চ খেতাব বীর উত্তম পেয়েছিলেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের জেড ফোর্সের অধিনায়ক হিসেবেও পরিচিত। তাকে অনেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা বলে এবং আওয়ামী লীগ সরকার যখন নতুন অনুসন্ধানে জিয়াউর রহমানের মুক্তিযুদ্ধের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন করে তখন বিভিন্ন মহল তার প্রতিবাদ করতেও এতটুকু কার্পণ্য করেন না। কিন্তু জিয়াউর রহমান কে ছিলেন, কি ছিলেন এবং একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে তার ভূমিকা কি ছিল -এই নিয়ে এখন নতুন করে বিতর্ক উঠেছে। আর এই বিতর্কের প্রেক্ষিতে বাংলা ইনসাইডারের অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় জিয়াউর রহমান একজন মেজর ছিলেন এবং তার পোস্টিং ছিলো চট্টগ্রামে। এই সময় ২৫ মার্চে পাকিস্তান বাহিনী অপারেশন সার্চ লাইটের নামে বাংলাদেশের ওপর এক গণহত্যা চাপিয়ে দেয় এবং এই নৃশংসতম গণহত্যা এবং নারকীয় তাণ্ডবের প্রেক্ষিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা ঘোষণা দেন গ্রেফতার হওয়ার আগে। আর বঙ্গবন্ধুর ঘোষিত এই স্বাধীনতা পুনঃপাঠ করেন চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের একজন নেতা। পরবর্তীতে জিয়াউর রহমানকে দিয়েও ঐ ঘোষণা পাঠ করানো হয় ২৬শে মার্চ। জিয়াউর রহমান তার জীবিতকালে কখনোই নিজেকে স্বাধীনতার ঘোষক দাবী করেননি। তিনি তার ‘একটি জাতির জন্ম’ শীর্ষক লেখাতেও বঙ্গবন্ধুর ঘোষণাই তিনি পাঠ করেছেন বলে স্বীকার করেছেন। কিন্তু পঁচাত্তরের পরবর্তীতে ইতিহাস বিকৃতির ধারায় জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশের বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং স্বাধীনতার ঘোষক বলার এক ন্যক্কারজনক ইতিহাস বিকৃতির ধারা আমরা লক্ষ্য করি।

আসুন দেখি জিয়াউর রহমান কে ছিলেন:

জিয়াউর রহমান সেনাবাহিনীর একজন সদস্য ছিলেন এবং পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই তাকে তাদের এজেন্ট বানিয়েছিল ১৯৬৮ সালে। কৌশলগত কারণে তাকে চট্টগ্রামে রাখা হয়েছিল। ৭০ -এর নির্বাচনের পর যখন বাংলাদেশের রাজনীতির টালমাটাল অবস্থা  সেই সময় বাংলাদেশের ওপর সশস্ত্র হামলা করার জন্য চট্টগ্রাম বন্দরে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী বিপুল অস্ত্র উদ্ধার করেছিল। আইএসআই এর এজেন্ট হওয়ার কারণে এবং আইএসআই এর একজন কর্মকর্তা হওয়ার কারণে সেই অস্ত্র উদ্ধারের দায়িত্ব পড়েছিল জিয়াউর রহমানের ওপর। কিন্তু জনগণের বাঁধার মুখে জিয়াউর রহমান সেই অস্ত্র উদ্ধার করতে পারেনি বরং অস্ত্রগুলোকে আটক করা হয়। ওই সময় যে বাঙ্গালিদের ওপর গুলি করা হয়েছিল, সেই গুলি চালানোর ক্ষেত্রেও জিয়াউর রহমানের ভূমিকা ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে আইএসআই এর নির্দেশে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের পক্ষে অবস্থান করেন এবং স্বাধীনতা যুদ্ধকে নিয়ন্ত্রণ করা এবং যুদ্ধের খবরাখবর পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থাকে সরবরাহ করার দায়িত্ব পড়ে তার ওপর। আর এই কারণে আইএসআই এর ব্লু-প্রিন্ট অনুযায়ী জিয়াউর রহমান একজন মুক্তিযোদ্ধা বনে যান। আসলে তিনি পাকিস্তানের গুপ্তচর হিসেবেই একাত্তরে ৯ মাস কাজ করেছেন। আর এ কারণেই দেখা গেছে যে, এই ৯ মাসের যুদ্ধে একটি সেক্টরের অধিনায়ক হওয়ার পরও তিনি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেননি বরং যুদ্ধের বিভিন্ন খোঁজ খবর নিয়েছেন। এই সময় কর্নেল বেগের একটি চিঠি জিয়াউর রহমানের কাছে দেওয়া হয়েছিল যে চিঠিটি জিয়াউর রহমানের আসল পরিচয় উদঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ওই চিঠিটিতে জেনারেল বেগ জিয়াউর রহমানের কাজের প্রশংসা করেছিলেন এবং তার পরিবার ভালো আছে বলেও তাকে আশ্বস্ত করেছিলেন।

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে জিয়াউর রহমানের ভূমিকা সমর বিজ্ঞানের দিক থেকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, একজন গুপ্তচর ভেতরে থেকে যা যা করতে পারেন জিয়াউর রহমান তাই করেছেন। আর এই কারণে একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে শেষ দিকে জিয়াউর রহমানের কাছ থেকে কমান্ড কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের পর জিয়াউর রহমান আইএসআই এর নিদেশেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হন এবং উপ-সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু তার মূল লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশকে আস্তে আস্তে পাকিস্তান বানানো এবং সেই আইএসআই এর মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী জিয়াউর রহমানকে প্যারোলে রেখেছিল পাকিস্তান সরকার।

১৯৭৫ সালের ১৫ সালের আগস্টের ঘটনাকে যদি আমরা বিশ্লেষণ করি তাহলে দেখবো যে, সেখানে যে সমস্ত সামরিক অফিসাররা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিল তারা সবাই মুক্তিযোদ্ধা কিন্তু তারা পাকিস্তান থেকে ভারতে এসে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল। কেউ কেউ মুক্তিযুদ্ধের শেষ প্রান্তে এসে অংশগ্রহণ করেছিল। কেন? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজলেই জিয়াউর রহমানের রোমাঞ্চকর গুপ্তচরবৃত্তির চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যাবে। খুনি ফারুক, খুনি রশিদ কিংবা খুনি ডালিম -এরা সবাই পাকিস্তানে ছিল। বিভিন্ন দেশে গুপ্তচরবৃত্তির একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হলো, যখন তারা দেখে যে যুদ্ধে তাদের পরাজয় অনিবার্য তখন তারা কিছু কিছু লোককে প্রতিপক্ষের মধ্যে ঢুকিয়ে দেয়। জার্মানরা এটি করেছিল, সোভিয়েত ইউনিয়ন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে এটা করেছিল। বিশ্বে দেশে দেশে এটি হয়ে থাকে।

সাম্প্রতিক সময়ে ‘র’ এর ওপর প্রকাশিত গ্রন্থে দেখা যায় ‘র’ পাকিস্তানে এরকম বহু গোয়েন্দাকে নিযুক্ত করেছিল যারা আসলে ‘র’ এর এজেন্ট কিন্তু কাজ করে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে বা পাকিস্তান সরকারে। এই প্রক্রিয়াতেই জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের সেনাবাহিনীতে ছিলেন এবং তার প্রধান কাজ ছিল আইএসআই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা। খুনি মোশতাক যেমন পাকিস্তানের দোসর ছিলেন, যেভাবে গুপ্তচরদেরকে মুক্তিযোদ্ধা বানিয়ে ভারতে পাঠানো হয়েছিল একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের নীলনকশা হিসেবে, ঠিক তেমনিভাবে জিয়াউর রহমানও পাকিস্তানি গুপ্তচর হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে একটা গুরুত্বপূর্ণ পদ দখল করেছিলেন। আর এই পাকিস্তানি গুপ্তচররাই পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট সরাসরি হত্যা চক্রের সাথে জড়িত ছিল এবং যেটির মাস্টারমাইন্ড ছিলেন জিয়াউর রহমান। জিয়াউর রহমান তার দীর্ঘ জীবনে কোনদিনই বাংলাদেশের আনুগত্য প্রকাশ করেননি। বরং পাকিস্তানের একজন পেইড এজেন্ট হিসেবে কাজ করেছেন এবং পাকিস্তানের নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়ন করাই ছিল তার কর্মজীবনের প্রধান লক্ষ্য। সেদিক থেকে জিয়াউর রহমান একজন সফল গুপ্তচর। তার গুপ্তচরবৃত্তি রোমাঞ্চকর গোয়ন্দা থ্রিলারকেও হার মানায়।

জিয়াউর রহমান  


মন্তব্য করুন


ইনসাইডার এক্সক্লুসিভ

গুম হওয়া চৌধুরী আলম মালয়েশিয়ায়?

প্রকাশ: ১০:০০ পিএম, ১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২২


Thumbnail

মালয়েশিয়ার সাবেক রাষ্ট্রদূত খায়রুজ্জামান আটকের পর সেখানে চৌধুরী আলমেরও সন্ধান পাওয়া গেছে বলে মালয়েশিয়ার একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। মালয়েশিয়ার দুটি গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত খবর বেরিয়েছে। তবে মালয়েশিয়া সরকার এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেননি। চৌধুরী আলম বিএনপির একজন নেতা, তিনি বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ওয়ার্ড কাউন্সিলর ছিলেন এবং সন্ত্রাস, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। বিএনপির সময় তিনি একছত্র আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন পল্টন, মতিঝিল, মালিবাগ, শান্তিনগর এলাকায়। আর এই সময় তার কথায় সবকিছু হতো। কোন ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছুই করার ছিল না। চৌধুরী আলমের কথাই সেখানে আইন ছিলো। সেই চৌধুরী আলম ২০১০ সালের ২৪শে জুন ইন্দিরা রোড থেকে নিখোঁজ হন।

মায়ের ডাক যে গুমের তালিকা প্রদান করেছে সে গুমের তালিকায় চৌধুরী আলমের নাম রয়েছে। মায়ের ডাকের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছিল যে, চৌধুরী আলমকে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা উঠিয়ে নিয়েছে এবং তাকে গুম করা হয়েছে। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বারবার বলে এসেছে, চৌধুরী আলমের ব্যাপারে তারা কোনো কিছুই জানেনা। বিভিন্ন সূত্র থেকে বিভিন্ন সময় বলা হয়েছে যে, চৌধুরী আলম দেশের বাইরে পলাতক অবস্থায় রয়েছেন। বিভিন্ন সময়ে যে সব বিএনপি নেতারা মালয়েশিয়ায় গেছেন তারা একাধিকবার বলেছেন যে, চৌধুরী আলমের সাথে তাঁর কথা হয়েছে। এছাড়া এই এলাকার চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণের জন্য চৌধুরী আলম মাঝে মাঝেই বাংলাদেশে ফোন করেন, এমন তথ্য পাওয়া গেছে। কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ এ কথা স্বীকার করেনি। চৌধুরী আলমের কথিত গুমের বিষয়টিকে মায়ের ডাক এবং বাংলাদেশের সুশীল বুদ্ধিজীবীর একটি অংশ ফলাও করে প্রচার করে বিভিন্ন সময়। কিন্তু এখন চৌধুরী আলমের মালয়েশিয়া থাকার খবর মোটামুটি নিশ্চিত করেছে সেখানকার আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা। এখন তার পরিচয় সঠিক কিনা, সেটি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, জেল হত্যা মামলার আসামী এবং মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের সাবেক হাইকমিশনার মেজর অবসরপ্রাপ্ত খায়রুজ্জামানকে বুধবার আটক করে মালয়েশিয়ার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মালয়েশিয়ার আমপাং সেলেঙ্গা নামক এলাকায় ১১ নম্বর ব্লকের ২০/২ এর ৭ নম্বর অ্যাপার্টমেন্ট থেকে তাকে আটক করা হয়। বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে এবং অবৈধ অভিবাসীর অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে মালয়েশিয়া সরকার জানিয়েছে। গত সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী রিটার স্বামী খায়রুজ্জামান দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন এবং তিনি যে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন এ সম্পর্কে অনেকে বললেও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

মালয়েশিয়ার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে যে, শুধু খায়রুজ্জামান না, এরকম বহু ব্যক্তি মালয়েশিয়া আত্মগোপন করে আছে এবং যাদেরকে বাংলাদেশ সরকার খুঁজছে। এদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট বিভিন্ন মামলা রয়েছে। আর খায়রুজ্জামানের এই গ্রেপ্তারের পরপরই মালয়েশিয়ার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে যে, আরও একজন পলাতক ব্যক্তির সন্ধান তারা পেয়েছেন, যিনি চৌধুরী আলম। এখন তার পরিচয় যাচাই-বাছাই করার পর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে। বাংলাদেশে গুম নিয়ে যে অভিযোগগুলো প্রায় করা হয় সে অভিযোগগুলো যে সত্য নয়, তা বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত হচ্ছে। হারিছ চৌধুরীর ঘটনা এবং এর আগে বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন আহমেদের ভারতে পালিয়ে যাওয়া এবং সেখান থেকে তাকে উদ্ধার। আর সর্বশেষ চৌধুরী আলমের ঘটনার পর প্রমাণ হয়েছে যে, গুম নাটকটিও বিএনপি-জামায়াত জোটের সৃষ্টি। সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য বিভিন্ন দেশে আত্মগোপন করে সেগুলোকে গুম বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

বিএনপি   চৌধুরী আলম   গুম  


মন্তব্য করুন


ইনসাইডার এক্সক্লুসিভ

ইলিয়াস আলী কি লন্ডনে?

প্রকাশ: ০৮:০০ পিএম, ০৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২২


Thumbnail ইলিয়াস আলী কি লন্ডনে?

হারিছ চৌধুরীর মৃত্যু নিয়ে বিতর্ক এবং রহস্যের জট কাটতে না কাটতেই বিএনপির আরেক নেতা ইলিয়াস আলীকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। লন্ডনে বিএনপির একাধিক নেতা দাবি করেছেন যে, ইলিয়াস আলীকে দেখা গেছে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে এ নিয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। লন্ডনে বিএনপির একজন প্রভাবশালী নেতা তার ফেসবুকে ‘ইলিয়াস ভাইয়ের সঙ্গে দেখা হলো, আলহামদুলিল্লাহ’ বলে কিছুক্ষণ রাখেন। তারপর তিনি তার সেই ফেসবুক স্ট্যাটাসটি ডিলিট করে দেন বলে লন্ডনে অবস্থিত বিএনপির অন্তত দুজন নেতা জানিয়েছেন। এর পরেই গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে যে, ইলিয়াস আলী কি এখন তাহলে লন্ডনে অবস্থান করছেন?

২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল মধ্যরাতে রাজধানীর ঢাকায় তাকে এবং তার গাড়িচালককে শেষবারের মতো দেখা গেছে। এরপর ইলিয়াস আলীকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ইলিয়াস আলীকে গুম করে ফেলা হয়েছে। সরকার এ দাবি বরাবরই অস্বীকার করে আসছে। কিন্তু ইলিয়াস আলী কোথায় আছে সে সম্পর্কে কোন তথ্যই পাওয়া যায়না। ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁর স্ত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং প্রধানমন্ত্রী তাকে আশ্বস্ত করেন যে, সরকার তাকে খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করবে। বিএনপির অবশ্য ইলিয়াস আলী একমাত্র নিখোঁজ নেতা নন, এর আগে হারিছ চৌধুরী এবং সালাউদ্দিন আহমেদ নিখোঁজ হয়েছিলেন। পরবর্তীতে সালাউদ্দিন আহমেদকে ভারতে পাওয়া যায়। তিনি ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময় সেখানকার সীমান্তরক্ষীদের হাতে ধরা পড়েন। এখনো সালাউদ্দিন আহমেদ ভারতে অবস্থান করছেন। হারিছ চৌধুরীও ওয়ান-ইলেভেনের সময় পালিয়ে ভারতে গিয়েছিলেন, সেখান থেকে তিনি লন্ডনে যান বলেও বিভিন্ন মহল বলেছে। যদিও তার পরিবার বলছে যে, তিনি কখনোই লন্ডনে যাননি, ঢাকায় ছিলেন। যদিও বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বলছে যে, হারিছ চৌধুরীর ২০০৭ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ঢাকায় থাকা অবাস্তব, অসম্ভব। সম্প্রতি সিআইডি হারিছ চৌধুরীর মৃত্যুজট নিয়ে তদন্ত করছে।

ইলিয়াস আলী নিখোঁজের পর থেকেই এই নিখোঁজের ঘটনাটিকে গুম বলে চালানোর চেষ্টা করছে এবং বারবার বলা এ ব্যাপারে অভিযোগের তীর সরকার দিকে দেয়া হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, ২০১০ সালে ইলিয়াস আলী বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছিলেন। বিএনপির সিলেটের রাজনীতিতে একটি অংশের সঙ্গে তার বিরোধ ছিলো। মির্জা আব্বাস কিছুদিন আগে দলের এক আলোচনা সভায় দাবি করেছেন যে, ইলিয়াস আলী নিখোঁজের পিছনে বিএনপি দায়ও কম নয়। যদিও তিনি পরবর্তীতে তাঁর এই বক্তব্যকে গণমাধ্যমে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন এবং এ ব্যাপারে তিনি ব্যাখ্যাও দিয়েছেন। কিন্তু ইলিয়াস আলী যে মারা গেছেন এমন কোন নিশ্চিত তথ্য কারো কাছে নেই। হারিছ চৌধুরীর মৃত্যু এবং তিনি বাংলাদেশে ছিলেন, এই দুটি তথ্যের পর সকলে নড়েচড়ে বসেন এবং তখন মনে করা হয় যে, যেকোনো ব্যক্তি আত্মগোপনে বাংলাদেশে বা বিদেশে থাকতে পারেন।

ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার পর প্রথমদিকে তাঁর পরিবার অনেকটা মুষড়ে পড়লেও এখন তারা স্বাভাবিক রয়েছেন এবং ইলিয়াস আলীর স্ত্রীকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অনেকটা সক্রিয় দেখা যাচ্ছে। আর এটা নিয়ে খোদ বিএনপির মধ্যেই সংশয় দেখা দিয়েছে যে, ইলিয়াস আলী যদি সত্যিই মারা যেয়ে থাকেন তাহলে তাদের পরিবারের তো এরকম অবস্থা থাকার কথা না। নিশ্চিত ভাবেই অনেকে মনে করেন যে, ইলিয়াস আলী হয়তো কোথাও আত্মগোপন করে আছেন। বিএনপির অনেক নেতাই এরকম আত্মগোপন করে আছেন বিভিন্ন বাস্তবতার কারণে। সে কারণেই সাম্প্রতিক সময়ে যখন লন্ডনে বিএনপির একজন নেতা ইলিয়াস আলীর সঙ্গে দেখা করেছেন বলে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন, তখন চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। যদিও বিএনপি'র একাধিক নেতা দাবি করছেন যে, ইলিয়াস আলীকে নিয়ে মাঝে মাঝে এরকম গুজব ছড়ানো হয়, এটির কোনো ভিত্তি নেই। ইলিয়াস আলী যদি লন্ডনে থাকতেন তাহলে অবশ্যই তার সঙ্গে যোগাযোগ হতো। তবে অনেকেই মনে করেন যে, কৌশলগত কারণে এবং সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্যই হয়তো ইলিয়াস আলীর আত্মগোপনের নাটককে গুম হিসেবে চালানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

ইলিয়াস আলী   বিএনপি  


মন্তব্য করুন


ইনসাইডার এক্সক্লুসিভ

বিএনপি-জামায়াতের লবিস্ট নিয়োগের আদ্যোপান্ত

প্রকাশ: ০৫:০০ পিএম, ০২ ফেব্রুয়ারী, ২০২২


Thumbnail বিএনপি-জামায়াতের লবিস্ট নিয়োগের আদ্যোপান্ত

রাষ্ট্র বিরোধী তৎপরতায় যুক্ত বিএনপি-জামায়াত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এই দুই দলই লবিস্ট নিয়োগ করে অবৈধভাবে দিয়েছে কোটি কোটি টাকা। এ সংক্রান্ত তথ্য প্রমাণ নিয়ে বাংলা ইনসাইডারের এক্সক্লুসিভ।  

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলঃ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে লবিং এর জন্য ব্যয়ের সবার জন্য উন্মুক্ত ডাটাবেসের উপর ভিত্তি করে, বাংলা ইনসাইডার ২০০৭ সাল থেকে বিরোধী দলে থাকাকালীন বিএনপির দ্বারা ভাড়া করা পাঁচটি লবিং সংস্থাকে চিহ্নিত করেছে৷ 

আগস্ট ২০১৮-এ, যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক বিএনপি নেতা আবদুল সাত্তার বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনের জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর লক্ষ্যগুলি প্রচার করার জন্য ‘ব্লু স্টার স্ট্র্যাটেজিস এলএলসিকে’ নিয়োগ করেছিলেন। এছাড়াও, ফার্মটি বিএনপি এবং তাদের চাওয়া অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থ সম্পর্কে এর কর্মকর্তা, নীতি প্রভাবক এবং মিডিয়াকে প্রভাবিত করে এবং বিএনপির লক্ষ্যগুলি জানাতে একটি ন্যারেটিভ তৈরি করে। চুক্তিতে সাত্তার স্বতন্ত্রভাবে স্বাক্ষর করেছিলেন, তবে ডকুমেন্টেশন থেকে বোঝা যায় যে তিনি বিএনপির পক্ষে কাজ করছিলেন। ফর্মের একটি অংশে বলা হয়েছে যে "বিদেশী ব্যক্তিত্ব" আব্দুল সাত্তার এবং এটি নিশ্চিত করা হয়েছে যে তিনি একটি "বিদেশী রাজনৈতিক দলের" সদস্য। 

উপরন্তু, "বিদেশী ব্যক্তিত্ব যদি বিদেশী রাজনৈতিক দল হয়" তবে তার বিশদ জানতে চেয়ে জমা দেওয়া নথিপত্রের বিভাগে বলা হয়েছেঃ "বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, ২৮, ১ ভিআইপি রোড, ঢাকা ১২০৫, বাংলাদেশ"।

নথিগুলি নিশ্চিত করেছে যে, লবিং ফার্মে অর্থপ্রদান করা হয়েছে যার পরিমাণ দুই বছরের মেয়াদে কমপক্ষে ২,৭৮,৫৮২ ডলার। (আগস্ট ২০১৮ এ ১০,০০০ ডলার, সেপ্টেম্বর ২০১৮ থেকে মার্চ ২০১৯ এর মধ্যে কাজের জন্য ১,৯৭,৭৯০ ডলার এবং মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর ২০১৯ এর মধ্যে কাজের জন্য ৭০,৭৯২ ডলার) । সিঙ্গাপুর-ভিত্তিক ওভারসিজ-চাইনিজ ব্যাঙ্কিং কর্পোরেশন লিমিটেডের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে শেষ অর্থপ্রদান করা হয়েছিল।

২০২১ সালের মার্চে, মার্কিন সংস্থাটি উল্লেখ করেছে যে, ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর থেকে, বিএনপির সাথে তাদের আর সম্পর্ক নেই। কারণ "তিনি [বিএনপি] পাওনা অর্থ পরিশোধ করতে অক্ষম ছিলেন।"

বিএনপির লবিং করার জন্য ব্লু স্টার স্ট্র্যাটেজিসের সাথে এই একই চুক্তির অংশ হিসাবে, রাস্কি পার্টনার্সকে ব্লু স্টার স্ট্র্যাটেজিস (সাত্তার নয়) দ্বারা ৮৬,৬২৭ ডলার প্রদান করা হয়েছিল।