ইনসাইডার এক্সক্লুসিভ

‘আমূলের’ মত দুগ্ধশিল্পে বিপ্লব ঘটাবে বাংলাদেশ

প্রকাশ: ০৭:০০ পিএম, ৩০ নভেম্বর, ২০২২


Thumbnail

কলকাতায় আমার প্রথম সকাল। একটি বাংলা হোটেল থেকে নাস্তা সেড়ে চা খেতে বসলাম পাশের দোকানে। চায়ের পাশাপাশি ছোট ছোট গ্লাসে বিক্রি হচ্ছে দুধ। দাম বাংলাদেশি মুদ্রায় ১২.৫ টাকা। কৌতুহল বসত আমিও এক গ্লাস নিলাম। হালকা চিনি দিয়ে জাল দেয়ায় মিষ্টি স্বাদ। কেউ কেউ দুধের সাথে রুটি খেয়ে নাস্তাও সেরে নিচ্ছেন। সময় বাড়ার সাথে সাথে দোকানের ভীড়ও বাড়তে শুরু করল। কলকাতার রাস্তা ধরে হাটলে প্রায়ই দেখা মিলবে এমন সারি সারি দুধ ও মিষ্টান্নের দোকান। মিষ্টিজাত পণ্যের দাম এতো কম কিভাবে জানতে চাইলে এক দোকানদার জানান খামারি থেকে সরাসরি তার কাছে দুধ আসে তাই দুধ কম দামে পাওয়া যায়।

কিছু বিষয় নিশ্চিত হওয়ার জন্য আমি সরেজমিনে চলে যাই হুগলি জেলার তারকেশ্বর গ্রামে। সেখানে আমূলসহ আরও কিছু প্রতিষ্ঠানের ভিলেজ মিল্ক কালেকশন পয়েন্ট পরিদর্শন করি। সেখানের এক কর্মকর্তা বাংলা ইনসাইডারকে বলেন, “আমূলসহ কিছু বেসরকারি ভেন্ডর যেভাবে কাজ করছে তার জন্যই মূলত পুরো ভারতে দুধের এই বিপ্লব। আমরা গ্রামের প্রত্যন্ত পর্যন্ত গিয়ে খামারিদের কাছ থেকে দুধ সংগ্রহ করি। আমাদের নিজেদের কালেকশন বুথ আছে। কালেকশন ম্যান আছে। খামারিদের কষ্ট করতে হয় না। তারা শুধু তাদের দুধ নিয়ে আসে এবং দুধের মান অনুযায়ী ন্যায্য মুল্য নিয়ে যায়।

ঐ গ্রামে আমূল ছাড়াও ছোট বড় আরো অনেক ডেইরি দেখা যায়। কপিলা ডেয়ারি প্রতিষ্ঠাতার সাথে কথা বলে জানা যায়, সরকার থেকে তাদের জন্য বিভিন্ন রকমের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তারা এইসব প্রশিক্ষণ কাছে লাগিয়ে বিভিন্ন রকম কাজে নিজেদের অন্তর্ভুক্ত করছে। এছাড়াও তিনি নিজে দেখিয়েছেন কিভাবে তিনি খামারিদের দুধগুলো ফ্যাট মেপে তার দাম নির্ধারণ করেছেন।

বর্তমানে দুধ উৎপাদনে বিশ্বের এক নম্বর দেশ ভারত। খাদ্য ও কৃষি সংস্থা কর্পোরেট পরিসংখ্যান ডাটাবেস (এফএওএসটিএটি) এর তথ্য অনুযায়ী ২০২০-২০২১ অর্থবছরে ভারত রেকর্ড পরিমাণ ২০৯৯.৬ লক্ষ টন দুধ উৎপাদন করে যা ২০১৪-২০১৫ সাল থেকে ৬০০ লক্ষ টন বেশি। বিশ্বের মোট দুধ উৎপাদনের ২৩ শতাংশ শুধু ভারত থেকেই উৎপন্ন হয়। ভারতের ডেইরিই হলো একক বৃহত্তম কৃষিপণ্য যার অবদান জাতীয় অর্থনীতিতে ৫ শতাংশ এবং গত ৫ বছরে যার চক্রবৃদ্ধি বার্ষিক বৃদ্ধির হার ছিল ৬ দশমিক ৪ শতাংশ, যার আকার প্রায় ১৫৯.১৮ বিলিয়ন ডলার। ভারতের বর্তমান এই সমৃদ্ধ দুগ্ধ শিল্পের পেছনে সবচেয়ে বেশি অবদান যে ব্যাক্তির তিনি হলেন ড. ভার্গিস কুরিয়েন। আজ থেকে প্রায় ৭০ বছর আগে দুধের গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা, উপকারিতা ও সহজলভ্যতার বিষয়টি তিনি দৃঢ়ভাবে উপলব্ধি করেছিলেন। তাঁর নিষ্ঠা, গবেষণা আর অক্লান্তিক প্রচেষ্টায় ভারত আজ পৃথিবীর মধ্যে এক নম্বর দুধ উৎপাদনকারী দেশ। প্রচুর পরিমাণ দুধ উৎপাদন হওয়ায় দুধের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বিভিন্ন প্রকার দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদনেও ভারত অন্যতম।

প্রানিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে বর্তমানে দুধের চাহিদা ১ কোটি ৫৬ লাখ ৬৮ হাজার টন। কিন্তু ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশে দুধ উৎপাদন হয় প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ ৭৪ হাজার টন। যা চাহিদার তুলনায় প্রায় ২৫ লক্ষ টন কম। দুধে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে না পারার পেছনে খারামিদের দুধের ন্যায্য মুল্য না পাওয়া এবং মধ্যস্থতাকারী দ্বারা শোষিত হওয়াকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাজারে যেদিন বেশি দুধ ওঠে ওইদিন দামই পাওয়া যায় না। যে দাম পাই সেই বিক্রি করি।

— বাতেন মিয়া,
ক্ষুদ্র খামারি


১৯৪৫ সালে ভারতের গুজরাটের দুগ্ধ খামারিরাও একই শোষণের শিকার হয়ে আসছিল। দুধ বাজার ব্যবস্থা পুরোপুরি ঠিকাদার এবং মধ্যস্থতাকারী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ছিল। ‘পেস্টনজি এডুলজি’ নামক প্রতিষ্ঠানের চতুর ব্যাবসায়ীরা খামারিদের ওপর একচেটিয়া রাজত্ব কায়েম করেছিল, যেখানে তাদের নির্ধারিত দামেই খামারিদের দুধ বিক্রি করতে হতো। কিন্তু দির্ঘদিন চলতে থাকা এই শোষণের বিরুদ্ধে আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নেয় খামারিরা। তাদের এই আন্দোলনের নায়ক ছিলেন ত্রিভুবন দাস প্যাটেল। খামারিদের বেঁচে থাকার লড়াইয়ে তাদের নেতা ত্রিভুবন দাস প্যাটেল তখন কৃষককে ঐক্যবদ্ধ করে পেস্টনজির শোষণের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়েছিলেন। তারা সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি সমবায় তৈরি করেন। ডেইরি খামারিদের ভাগ্যোন্নয়নে তারা যৌথভাবে কায়রা জেলা সমবায় দুধ উৎপাদনকারী ইউনিয়ন লিমিটেড (কেডিসিএমপিইউএল) নামে সমবায় তৈরি করে আন্দোলন শুরু করেন, যেটিকে পরবর্তীকালে ড. ভার্গিস কুরিয়েন ‘আমূল’ নামে নামকরন করেন।

ড. কুরিয়েন ত্রিভুবন দাস প্যাটেলকে নিয়ে যে সমবায় আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন সেখানে সমবায়ীদের ভূমিকা ছিল খামারীদের কাছে থেকে দুধ সংগ্রহ করা এবং দুধের গুণমান অনুযায়ী তাদের যথাযথ মূল্য প্রদান করা। দ্বিতীয় ধাপে সেই দুধ চলে যায় জেলা পর্যায়ের সমবায়ে যেখানে দুধ এনে প্রক্রিয়াজাত করা হয় এবং বাজারের জন্য প্রস্তুত করা হয়। তৃতীয় পর্যায়ে রয়েছে স্টেট লেভেল মিল্ক ফেডারেশন, যেখানে দুধ এবং বিভিন্ন দুগ্ধজাত পণ্যের যেমন: পনির, মাখন, ঘি ইত্যাদির মার্কেটিং করা এবং এদের গুণগত মান নিশ্চিত করা হয়। এই ৩ ধাপের প্রক্রিয়াটি আমূল প্যাটার্ন নামেও পরিচিত। এর ফলে মধ্যস্থতাকারীকে পুরো ব্যাবস্থা থেকে নির্মুল করা সম্ভব হয় এবং খামারিরা দুধের ন্যায্য মুল্য পেতে শুরু করে। এতে করে আরো খামারিরা উৎসাহিত হয় এবং দুধ উৎপাদন বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।

এই আমূল প্যাটার্ন খামারি এবং গ্রাহক উভয়ের জন্যই লাভজনক হওয়ায় এটি দ্রুত ছড়িয়ে পরে পুরো ভারতজুড়ে। পশ্চিম বঙ্গের বিভিন্ন শহর এবং গ্রাম ঘুরে দেখলে এই দুগ্ধ সমবায়গুলো দেখতে পাওয়া যায়। দুধ উৎপাদনকারী খামারিরা কোন ঠিকাদার কিংবা মধ্যস্থতাকারী ছাড়া সরাসরি তাদের দুধ এই সমবায়ে বিক্রি করেন। মেশিনের মাধ্যমে তৎক্ষণাৎ দুধের মান এবং ফ্যাটের পরিমাণ নির্নয় করা হয় এবং সেই অনুযায়ী দুধের যে দাম আসে সেই দামে তারা তাদের দুধ বিক্রি করতে পারছে। এর ফলে তারা শোষণের শিকার হয় না এবং আর্থিকভাবেও স্বচ্ছল থাকেন।

কলকাতার ডেইরী প্রতিষ্ঠান এক্সপ্রেস ডেইরীর সিইও এস.কে সিং বলেন, ডেইরি খাতের উন্নয়নে প্রাইভেট ভেন্ডর এবং গ্রামীণ খামারিরা নিজেরাতো অবদান রাখছেনই, পাশাপাশি সরকারও তাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করে আসছে। খামারিদের বীমার ব্যাবস্থা করে দিয়েছে যাতে গরু মারা গেলেও তারা ক্ষতির শিকার না হয়।

এস.কে সিং বলেন, প্রাইভেট কিংবা সরকারি ভেন্ডর গ্রামে গ্রামে থেকে দুধ সংগ্রহ করে করে দুধ চিলিং রুমে সংরক্ষণ করে রাখেন এবং খামারির টাকা সাথে সাথে তাকে পরিশোধ করে দেন। এতে করে খামারিরা উৎসাহিত হয় এবং আরও বেশি দুধ উৎপাদনে আগ্রহি হয়। ৩০ দিন খামারির কাছ থেকে আমি দুধ নিলাম টাকা দিলাম না, তাহলে ওই গরিব খামারি গরুকে খাওয়াবে কি? অসুখ হলে চিকিৎসা কিভাবে করাবে?

তিনি জানান তাদের এক্সপ্রেস ডেইরী গ্রামীণ খামারিদের থেকে সরাসরি দুধ সংগ্রহ করেন। সেই দুধ তারা পাস্তুরিত করে রাখেন। মহিষের দুধ থেকে তারা ক্রিম আলাদা করে ঘি, মাখন ইত্যাদি পন্য তৈরি করছেন। যা তারা ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করেন। এর ফলে লাভবান হচ্ছেন সবাই।

বাংলাদেশে বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে দেখলে দেখা যায়, দুধ উৎপাদনকারী খামারিদের দুর্দশা এবং হতাশা। কেউ কেউ সরাসরি ক্রেতার কাছে দুধ বিক্রি করতে পারলেও, বেশিরভাগই ঠিকাদার কিংবা মধ্যস্থতাকারীর ওপর নির্ভরশীল। সকালে গোয়ালা এসে দুধ নিয়ে যায় এবং তাদের নির্ধারিত দামেই খমারিদের দুধ বিক্রি করতে হয় যা বাজারমূল্য থেকে অনেক কম। সেই দুধের টাকাও খামারিরা পায় মাস শেষে। অনেকের পক্ষেই কোনো টাকা ছাড়া সারা মাস গরুর খরচ চালানো কষ্টকর হয়ে যায়। নারায়ণগঞ্জের খামারি মাহফুজা বেগম জানান গ্রামে দুধ বিক্রির গ্রাহক না থাকায় বাধ্য হয়ে তিনি গোয়ালার কাছে দুধ বিক্রি করেন। তিনি বলেন, গ্রামের মানুষের টাকা আছে দুধ কিন্না খাওয়ার? আমাগো থাইকা দুধ নিয়া যাইয়া শহরে অনেক টাকায় বিক্রি করে। আমাগোরে টাকাও দেয় মাস শেষে। গরুর খরচ চালাইতেই অবস্থা খারাপ।

বেশিরভাগ খামারিদের কাছে দুধ সংরক্ষণের ব্যাবস্থা না থাকায় তারা কম টাকায় হলেও দিনের দুধ দিনেই বিক্রি করে দিচ্ছেন। গাজীপুরের খামারি বাতেন মিয়া বলেন, বাজারে যেদিন বেশি দুধ ওঠে ওইদিন দামই পাওয়া যায় না। আর দুধ বাড়ি ফেরত আইনাতো কোনো লাভ নাই, নষ্ট হইয়া যায়। তাই যা পাই তাতেই বিক্রি করি।

তবে দেশে খামারিদের এই চিত্র পরিবর্তনের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রাণিসম্পদ অধিদফতর ‘প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্প’ বাস্তবায়নে কাজ করছে। খামারিদের একত্রিত করার জন্য তারা দেশব্যাপী প্রান্তিক খামারিদের নিয়ে বিভিন্ন ভ্যালুচেইন ভিত্তিক ৫ হাজার ৫০০টি প্রোডিউসার গ্রুপ (পিজি) গঠন করেছে। যার সাথে সংযুক্ত রয়েছেন প্রায় ১ লক্ষ ৫০ হাজারেরও বেশি খামারি।  তালিকাভুক্তদের জন্য থাকবে ফিল্ড স্কুল। যেখানে খামারিদের খামার আধুনিকায়ন, দক্ষতা উন্নয়ন, নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচয় করানো, উৎপাদিত দুধ, মাংস ও ডিমের হাইজিন নিশ্চিত করা, দুধ ও মাংসের উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং খামারে উৎপাদিত পণ্যের বিপণন ব্যবস্থাপনার উপরেও প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেয়া হবে। এই প্রকল্পের আওতায় ৪০০টি ভিলেজ মিল্ক কালেকশন সেন্টার ও ২০টি মিল্ক হাব স্থাপন করা হবে। যেখানে খামারিরা ন্যায্য মুল্যে তাদের উৎপাদিত দুধ বিক্রি করতে পারবে।

দেশে দুধ উৎপাদনের পরিমাণ আস্তে আস্তে বাড়ছে এবং বাংলাদেশ দুধ উৎপাদনে যে অবস্থানে আছে তাতে সামনের দিনগুলোতে উৎপাদনের পরিমাণ আরও বাড়বে।

— ড. মো. গোলাম রাব্বানী
চিফ টেকনিক্যাল কো-অর্ডিনেটর, প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্প


কোনো খামারির গরু অসুস্থ হলে যেনো সহজেই চিকিৎসা পায় তার জন্য চালু করা হয়েছে মোবাইল ভেটেরিনারি ক্লিনিক। দেশের ৬১ জেলার ৩৬০টি উপজেলায় চালু হয়েছে এই ভ্রাম্যমাণ প্রাণিচিকিৎসা ক্লিনিক। খামারির দোরগোড়ায় চিকিৎসকসহ পৌঁছে যাবে এই ভ্রাম্যমাণ ক্লিনিক। কোনো প্রকার অর্থ ছাড়া বিনা মুল্যে এই সেবা গ্রহণ করতে পারবে যেকোনো খামারি। ফলে পশু মৃত্যুর হার কমবে এবং খামারিরাও বড় ক্ষতির থেকে রেহাই পাবে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, শুধুমাত্র গত দশ বছরে দেশে খামার বেড়েছে ১০ লাখ ২ হাজার, যেখানে ২০১০-১১ অর্থবছরে ছিল ৩ লাখ ৪৭ হাজার। এ সময়ে গরুর খামার বেড়েছে ১ লাখ ৯০ হাজার ৪৪০, আগে ছিল ৭৯ হাজার ৮৫০। দেশে এখনও দুধের ঘাটতি থাকলেও গত ১০ বছরে দুধের উৎপাদন বেড়েছে ৮০ লাখ টনেরও বেশি। খুব শীঘ্রই এ ঘাটতি পুরন করে দুধ রপ্তানি করারও আশাবাদ ব্যাক্ত করেন বিশেষজ্ঞরা।

সম্প্রতি নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে দুগ্ধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং খামার ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে ‘বাংলাদেশ ডেইরি উন্নয়ন বোর্ড আইন, ২০২২’ এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের (এলডিডিপি) চীফ টেকনিক্যাল কো-অর্ডিনেটর ড. মো. গোলাম রব্বানী বাংলা ইনসাইডারকে বলেন, এই বোর্ড মূলত দুধ উৎপাদন থেকে শুরু করে উৎপাদন পরবর্তী ভোক্তা পর্যন্ত যাওয়া সব ধরনের কাজ করবে। যেমন- দুধ উৎপাদন করা, সংগ্রহ করা, দুধ প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে বহমুখীভাবে বাজারজাতকরণসহ ভোক্তার স্বার্থ সংরক্ষণ ইত্যাদি বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করবে। এছাড়া বোর্ডের আওতায় খামারিরা সংযুক্ত থাকবে। তবে যারা আগ্রহী নন তারা তাদের মতো করে উৎপাদন করবে।

তিনি বলেন, দেশে দুধ উৎপাদনের পরিমাণ আস্তে আস্তে বাড়ছে এবং বাংলাদেশ দুধ উৎপাদনে যে অবস্থানে আছে তাতে সামনের দিনগুলোতে উৎপাদনের পরিমাণ আরও বাড়বে। উৎপাদন বাড়লে উৎপাদিত বাড়তি দুধ যেন নষ্ট না হয়, উৎপাদনকারী খামারিরা যাতে কোনোভাবে ক্ষতির শিকার না হন এবং বাজার ব্যবস্থা নিয়ে ভবিষ্যতে যাতে কোনো সংকট তৈরি না হয় ইত্যাদি বিষয়াবলি গুলোকে সুষ্ঠুভাবে দেখভাল করার জন্য সরকার বাংলাদেশ ডেইরি উন্নয়ন বোর্ড আইন পাশ করছে। আর এই আইনের বাস্তবায়ন হলে খামারিরা সরাসরি লাভবান হবে।

‘প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্প’ এর সুফল ইতোমধ্যে পেতে শুরু করেছে দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের খামারিরা। ‘বাংলাদেশ ডেইরি উন্নয়ন বোর্ড আইন, ২০২২’ এবং ‘প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্প’ বাস্তবায়িত হলে আমূলের মত বাংলাদেশও দুগ্ধ শিল্পে একটি বিপ্লব ঘটাবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



মন্তব্য করুন


ইনসাইডার এক্সক্লুসিভ

মসিউর রহমানই হচ্ছেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি

প্রকাশ: ০৭:০০ পিএম, ২৬ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

কোন অঘটন না ঘটলে প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমানই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন। সরকারের নীতিনির্ধারক মহল এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বাংলা ইনসাইডারকে নিশ্চিত করেছেন।

উল্লেখ্য যে, বর্তমান রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের মেয়াদ আগামী এপ্রিলে শেষ হতে যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে ফেব্রুয়ারির ১৯ তারিখ ভোটের দিন রেখে বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগ্রহী প্রার্থীরা ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন। ১৩ ফেব্রুয়ারি যাচাই বাছাইয়ের পর ১৪ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা যাবে।

মনোনয়ন জমা দেয়ার পর পরই নতুন রাষ্ট্রপতি চূড়ান্ত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য কোন রাজনৈতিক দল এবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দিচ্ছে না। যেহেতু ৩৪৩ জন সংসদ সদস্যের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে এবং সংসদে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, কাজেই আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ ড. মসিউর রহমানকে চূড়ান্ত করেছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

মসিউর রহমান একজন বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা। মসিউর রহমান একজন সিএসপি কর্মকর্তা ছিলেন। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। ১৯৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর তিনি অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব ছিলেন।

সরকারি চাকরি থেকে অবসরের পর মসিউর রহমান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ের পর শেখ হাসিনা সরকার গঠন করেন এবং মসিউর রহমানকে মন্ত্রীর পদমর্যাদায় তাঁর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেন। ২০১৬ সালের অক্টোবরে আওয়ামী লীগের দলীয় পরিষদের নির্বাচনে তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৯ সালে তিনি পুনরায় একই পদে নিয়োগ পান।



মন্তব্য করুন


ইনসাইডার এক্সক্লুসিভ

ভোটে যেতে তারেক চায় হাজার কোটি টাকা

প্রকাশ: ০৮:০১ পিএম, ১৩ জানুয়ারী, ২০২৩


Thumbnail

তারেক জিয়া। লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। তিনি এখন বিএনপির সর্বেসর্বা হর্তাকর্তা। তার নির্দেশেই বিএনপির সবকিছু করছে। তিনি যা সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন, সেটি পালন করাই যেন বিএনপি নেতাদের একমাত্র কাজ। তাকে নিয়েই বিএনপিতে সন্দেহ এবং রহস্য। বাংলা ইনসাইডারের হাতে এসেছে তার নির্বাচন ভাবনা নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য। অন্তত তিনজন বিদেশি কূটনীতিকদের সাথে তারেক জিয়ার বৈঠক হয়েছে বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে। ওই বৈঠকে তারেক জিয়া বিএনপিকে আগামী নির্বাচনে নিয়ে যাওয়ার  ইঙ্গিত দিয়েছেন। এজন্য তিনি দাবি করেছেন এক হাজার কোটি টাকা। এই টাকা পেলেই বিএনপির সুর পাল্টে যাবে এবং বিএনপি নির্বাচনে যাবে এমন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন মহলে। 

একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, লন্ডনে রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়ে বসবাসরত তারেক জিয়া মূলত চাঁদাবাজি, পদ বাণিজ্য এবং কমিটি বাণিজ্য করেই বিপুল পরিমাণ অর্থের মালিক। সেখানে তিনি রাজকীয় জীবনযাপন করছেন। আগামী নির্বাচন তার টাকা উপার্জনের একটি বড় অস্ত্র হিসেবে মনে করা হচ্ছে। 

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন মনোনয়ন বাণিজ্য করে তারেক জিয়া অন্তত সাড়ে তিনশ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছিলেন। এবং এই টাকাই তার রাজকীয় জীবনযাপনের প্রধান উৎস। বিএনপি নেতা আব্দুল আউয়াল মিন্টু, তাবিদ আউয়াল, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মাধ্যমে এই টাকার লেনদেন হয়েছিল, যে টাকাগুলো সিঙ্গাপুর, দুবাই, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব হয়ে লন্ডনে গিয়েছে। এই টাকাগুলো যে সূত্র ধরে গেছে, তার প্রমাণ পাওয়া যায় তার একটি কনসাল্টিং পিআর ফার্মের হিসাব খতিয়ে দেখলেই। 

হিসেবে দেখা যায় যে,লন্ডনে তারেক জিয়া এবং তার স্ত্রীর এই কোম্পানির স্ফীতি ঘটেছে দুইশত গুন। তাদের অ্যাকাউন্টে এখন এই সম্পত্তির পরিমাণ বাংলাদেশি টাকায় প্রায় পাচশ কোটি টাকা। অথচ, তারা কি ব্যবসা করছে, সে সম্পর্কে তেমন কোনো তথ্য জমা দিতে পারেনি। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় ব্রিটিশ সরকার তদন্ত করলেও রহস্যজনক কারণে সেই সমস্ত তদন্ত মাঝপথে থেমে গেছে। এখন বিএনপির ভূমিকা কি, আগামী নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করবে কি করবে না, ইত্যাদি বিষয়ে জানার জন্য অন্তত তিনটি দেশের কূটনীতিকরা লন্ডনে তারেক জিয়ার সাথে বৈঠক করেছেন। এই বৈঠকে তারেক জিয়া নির্বাচনে না যাওয়ার কথা সরসরি কোথাও বলেননি বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। 

সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন দূতাবাসের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদের সাথে একান্ত বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে তিনি প্রথম জানেন, তারেক জিয়া নির্বাচন করতে আগ্রহী। আমীর খসরু মাহমুদ এই ঘটনায় অন্তত বিস্মিত হন। তিনি জানতে চান, তার এই তথ্যের সত্যতা কি? তখন মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, লন্ডনে মার্কিন একজন কূটনীতিকের সাথে তারেক জিয়ার দু’দফা বৈঠক হয়েছে এবং সে বৈঠকে তারেক জিয়া বলেছেন যে, সরকার যদি তার সাথে একটি সমঝোতা করে, তাহলে তিনি নির্বাচনে যেতে পারেন। 

বিএনপির একজন নেতা বলছেন, তারেকে জিয়া ভালোমতোই জানেন, নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি আদায় করা সম্ভব না। তিনি এটিও জানেন, আগামী নির্বাচনে তাদের যে সাংগঠনিক অবস্থা, তাতে বিজয়ী হওয়া সম্ভব নয়। এই বাস্তবতায় বিএনপির পক্ষ থেকে বিএনপিকে আন্দোলনে ঠেলে দিয়ে একটা শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করা এবং সেই অবস্থান থেকে সরকারের সাথে পর্দার আড়ালে দর কষাকষি, টাকা-পয়সার লেনদেন চূড়ান্ত করাটাই তারেক জিয়ার রাজনৈতিক কৌশল বলে কেউ কেউ মনে করছেন। আর এই রকম একটি তথ্য তিনি আরেকটি প্রতিবেশি দেশের কূটনীতিকদেরকেও দিয়েছেন। সেখানে তিনি বলেছেন যে, বিএনপি যদি নির্বাচনে যায়, তাহলে কত টাকা আমাদেরকে দেওয়া হবে। এ ব্যাপারে তিনি একটি সুনির্দিষ্ট তথ্য চেয়েছেন। এর পর ওই কূটনীতিক তার সাথে আর কথা বাড়াননি। কারণ, যে বিপুল আর্থিক লেনদেনের কথা বলা হচ্ছে, সেটি তার কাছে অবাস্তব মনে হয়েছে। 

একাধিক সূত্র বলছে, সরকারের কাছেও তারেকের পক্ষ থেকে প্রস্তাব এসেছে, যদি তাকে এক হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়, তাহলে তিনি বিএনপিকে নির্বাচনমূখী করবেন। কিন্তু সরকারে অবস্থান এখন পর্যন্ত সুষ্পষ্ট। সরকার বলছে, সংবিধান অনুযায়ী আগামী নির্বাচন হবে এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলের নিজস্ব সিদ্ধান্তের ব্যাপার। সে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কোনো রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করবে কি করবে না, সেটা তাদের বিষয়। তবে শেষ পর্যন্ত তারেকের প্রস্তাব সরকার বা অন্য কেউ গ্রহণ করবে কি না সেটাই এখন দেখার বিষয়।


মন্তব্য করুন


ইনসাইডার এক্সক্লুসিভ

ওয়াশিংটনে পিটার ডি হাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল

প্রকাশ: ০৮:০০ পিএম, ২২ ডিসেম্বর, ২০২২


Thumbnail

বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাসের বিরুদ্ধে পক্ষপাত, কূটনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন এবং দলীয়  রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে। ১৪ জন বাংলাদেশের নাগরিক যৌথভাবে ওয়াশিংটনের পররাষ্ট্র দপ্তরে অভিযোগ দাখিল করেছেন। অভিযোগে পিটার ডি হাসের সাম্প্রতিক কার্যক্রম দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে এবং দুই দেশের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির তৈরি করছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এই অভিযোগ গ্রহণ করেছে এবং এই বিষয়টি তদন্ত করে দেখবে বলে আবেদনকারীদেরকে আশ্বস্ত করা হয়েছে। গত সোমবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন বিশিষ্ট নাগরিক ওয়াশিংটনের পররাষ্ট্র দপ্তরে এই অভিযোগটি দাখিল করেন। তারা অভিযোগে কয়েকটি সুস্পষ্ট বিষয় উল্লেখ করেছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে যে, পিটার ডি হাস বাংলাদেশের যাওয়ার পরপরই বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলাচ্ছেন। যা আন্তর্জাতিক কূটনীতির রীতিনীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে যে, বিএনপির একাধিক নেতাদের সঙ্গে তিনি বিভিন্ন সময় বৈঠক করছেন এবং এই সমস্ত বৈঠকগুলো একপেশে অযাচিত এবং দুই দেশের সম্পর্কের জন্য হানিকর বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। 

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধু এবং দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে চলছে। পিটার ডি হাসের কারণে এই সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে। গত ১৪ ডিসেম্বর মার্কিন রাষ্ট্রদূত শাহীনবাগ যাওয়া নিয়ে এই অভিযোগে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে যে, পিটার ডি হাস যে শাহীনবাগে গেছেন সেটি সম্পর্কে বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র দপ্তর বা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় কাউকে তিনি অবহিত করেনি। অথচ এরকম একটি স্পর্শকাতর জায়গায় তার যাওয়ার আগে সরকারকে অবহিত করা উচিত ছিল। এভাবে যার কারণে তার নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে। একজন রাষ্ট্রদূত এভাবে যেতে পারেন কিনা সে ব্যাপারেও তারা প্রশ্ন তুলেছেন। ছাড়াও সাজেদুল ইসলাম সুমনের বাসায় যাওয়া প্রসঙ্গে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি একজন বিএনপি নেতা ছিলেন এবং তাঁর মাদক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। 

ধারণা করা হয় যে, মাদক ব্যবসায়ী পক্ষের সহিংসতার কারণেই তিনি গুম হয়ে থাকতে পারেন। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে তদন্ত যাচাই-বাছাই না করে এক পাক্ষিক অবস্থান গ্রহণ করে পিটার ডি হাস কূটনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন করেছেন বলেও মনে করেন প্রবাসী এই বাংলাদেশীরা। তারা অভিযোগে এটাও উল্লেখ করেছেন যে, কূটনীতির একটি মৌলিক বিষয় হলো নিরপেক্ষ অবস্থানে থাকা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক না গলানো। কিন্তু পিটার ডি হাস অনেক ক্ষেত্রে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের পক্ষ অবলম্বন করছেন। যে রাজনৈতিক দলটির সঙ্গে জঙ্গী এবং মৌলবাদীদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এর মাধ্যমে তিনি কূটনীতির যে আচার-আচরণ সেটি লঙঘন করেছেন। বিবৃতিতে অনতিবিলম্বে তাকে বাংলাদেশ থেকে সরিয়ে নেয়ার আবেদন করা হয়েছে। বলা হয়েছে, না হলে এটি দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে বিঘ্ন সৃষ্টি করবে এবং বাংলাদেশ সম্পর্কে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ভুল বার্তা দেবে। এখন দেখার বিষয় যে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর পিটার ডি হাসের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো কিভাবে খতিয়ে দেখে। তবে একটি সূত্র বলছে যে, পিটার ডি হাস যেভাবে শাহীনবাগে গেছেন সেটা ওয়াশিংটন পছন্দ করেনি এবং এ রকম যাওয়ার আগে যে ধরনের সর্তকতা অবলম্বন করা উচিত ছিল এবং উপযুক্ত কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা উচিত ছিল সেটি তিনি করেননি। 

সাম্প্রতিক সময়ে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে নিয়ে পিটার ডি হাসের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। তখন  ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ইমরান সুস্পষ্টভাবে বলেন যে, তিনি যদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করে যেতেন তাহলে তার নিরাপত্তা উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতো। পিটার ডি হাসের বিষয়টি এখন ওয়াশিংটন কিভাবে দেখছে এবং কিভাবে এর সমাধান করবে সেটাই এখন দেখার বিষয়। 

ওয়াশিংটন   পিটার ডি হাস   মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর  


মন্তব্য করুন


ইনসাইডার এক্সক্লুসিভ

২ মাস পর মানবাধিকার কমিশনের নতুন কমিটি গঠন

প্রকাশ: ০৫:২৩ পিএম, ০৬ ডিসেম্বর, ২০২২


Thumbnail

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের বর্তমান কমিটির মেয়াদ অতিক্রান্ত হওয়ার দুই মাস পর নতুন কমিটি গঠন করা হচ্ছে। আগামীকাল এই সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে একাধিক সূত্র বাংলা ইনসাইডারকে নিশ্চিত করেছে।

মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান এবং একজন স্থায়ী সদস্য মনোনয়ন চূড়ান্ত করার জন্য স্পিকার ড. শিরীন শারমিনের নেতৃত্বে একটি কমিটি করা হয়েছিলো। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সার্বক্ষণিক সদস্য এবং সাবেক সচিব ড. কামাল উদ্দিন আহমেদকে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে সাবেক রেলপথ সচিব সেলিম রেজাকে মানবাধিকার কমিশনের সার্বক্ষণিক সদস্য হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ একাধিক মন্ত্রণালয়ে সচিবের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এর আগে সার্বক্ষণিক সদস্য হিসেবে তিনি দক্ষতার পরিচয় দিয়েছিলেন। বাংলাদেশ-ভারত স্থলসীমান্ত চূড়ান্তকরণের ক্ষেত্রে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিলো এবং মানবাধিকার বিষয়ে তার দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা রয়েছে।

অন্যদিকে সার্বক্ষণিক সদস্য সেলিম রেজা একসময় প্রবাসী কল্যাণের সচিব ছিলেন এবং পরবর্তীতে তিনি রেলপথ সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ শেষ হওয়ার পর তিনি অবসরে ছিলেন।

মানবাধিকার কমিশন  


মন্তব্য করুন


ইনসাইডার এক্সক্লুসিভ

কাল চলে যাচ্ছেন আহমেদ কায়কাউস

প্রকাশ: ১১:৪৪ এএম, ০৬ ডিসেম্বর, ২০২২


Thumbnail

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমেদ কায়কাউস আজ তার শেষ কর্মদিবস পালন করছেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব হিসেবে আজ তার চাকরির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক হিসেবে তার যোগ দিতে আগামীকাল ওয়াশিংটনের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ড. আহমদ কায়কাউসের স্থলাভিষিক্ত হতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর বর্তমান সিনিয়র সচিব মোঃ তোফাজ্জল হোসেন মিয়া। এবং প্রধানমন্ত্রীর সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন। আগামীকাল এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে জনপ্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। 

ড. আহমেদ কায়কাউস ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। ড. আহমদ কায়কাউস প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। বিশেষ করে তার পরিচ্ছন্ন ইমেজ এবং দক্ষতার জন্য তিনি বিভিন্ন মহলে প্রশংসিত হয়েছিলেন। তাছাড়া ড. আহমদ কায়কাউস প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পেশাদারিত্ব এবং শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।


আহমেদ কায়কাউস  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন