ঢাকা, বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮ , ১১ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

হুইলচেয়ারের বিজ্ঞানী

বিশ্বজুড়ে ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৪ মার্চ ২০১৮ বুধবার, ০২:১৭ পিএম
হুইলচেয়ারের বিজ্ঞানী

একনজরেই তাঁকে চেনা যেত। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির হুইল চেয়ারের বন্দী ছিলেন স্বপ্নদ্রষ্টা বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং।  তিনি আমাদের মহাবিশ্ব সম্পর্কে কল্পনাগুলোকে দৃশ্যত বদলে দিয়েছিলেন। ১৯৬৩ সালে প্রথম মোটর নিউরন রোগে আক্রান্ত হলে তিনি ক্রমশ পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েন। হকিং ছোটবেলাতে চটপটে ছিলেন। ভালোবাসতেন দৌড়াতে আর ঘোড়া চালাতে। এই চটপটে বিজ্ঞানী তরুণ বয়সেই অত্যাধুনিক প্রযুক্তির হুইল চেয়ারে বন্দী হয়ে পড়লেন। ধীরে ধীরে তাঁর বাকশক্তিও লোপ পেল। তারপর থেকে কম্পিউটারাইজড ভয়েস সিন্থেসাইজার ব্যবহার করে কথা বলতেন। এত কিছুর পরও তিনি থেমে থাকেননি।

বিশ্বসেরা পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং ১৯৮৮ সালে ‘এ ব্রিফ হিস্টরি অব টাইম’ শিরোনামে বইটি লিখে খ্যাতি অর্জন করেন। বইটির ১০ মিলিয়ন কপিও বিক্রি হয়েছিল। তবে তিনি জানতেন খুব কম মানুষই বইটি পড়েছেন। কারণ তাঁর টাইম, স্পেস ও ব্ল্যাক হোল সম্পর্কের তত্ত্বগুলো সাধারণ মানুষের পক্ষে বোঝা বরাবরই কঠিন ছিল।

স্টিফেন হকিং এর ছিল চমৎকার যোগাযোগ দক্ষতা। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য লেকচার দিয়েছেন, অনেক ইন্টারভিউও দিয়েছেন। তাঁর যোগাযোগ দক্ষতার কারণেই এক সময় গণমাধ্যমে তিনি সেলেব্রেটি হয়ে ওঠেন। হকিং এর জীবনের উপর নির্মিত চলচ্চিত্র থিওরি অব এভরিথিং সেরা চলচ্চিত্র হিসেবে ২০১৫ সালের অস্কারে নমিনেশন পেয়েছিল। সেবার এডি রেডমেইন হকিং এর চরিত্রে অভিনয়ের জন্য অস্কারও জিতেছিলেন।

স্টিফেন হকিং এর ভাবনা মহাবিশ্বের সৃষ্টিরহস্যে নিবিষ্ট ছিল। আর এই আধুনিক সৃষ্টিতত্ত্বের উজ্জ্বল নক্ষত্রই ৭৬ বছর বয়সে চিরতরে নিভে গেলেন।

স্টিফেন হকিংয়ের পুরো নাম স্টিভেন উইলিয়াম হকিং। তিনি ১৯৪২ সালের ৮ জানুয়ারি ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ডে জন্মগ্রহণ করেন।  তাঁর বাবা ছিলেন জীব বিজ্ঞানের গবেষক। আর মা ছিলেন রাজনৈতিক কর্মী। হকিংএর ছোট বেলা কেটেছে  লন্ডনে ও সেইন্ট অ্যালবানসে। ছেলেবেলা থেকেই বিজ্ঞানে আর গণিতে হকিংয়ের আগ্রহ ছিল তাঁর। তিনি মহাবিশ্ব সৃষ্টির রহস্য ‘বিগ ব্যাং থিউরি’র প্রবক্তা। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি পদার্থবিজ্ঞানে প্রথম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হন। তারপর স্নাতকোত্তরের সৃষ্টিতত্ব গবেষণার জন্য কেমব্রিজে যান। কেম্ব্রিজেই তিনি জটিল মোটর নিউরন রোগে আক্রান্ত হয়ে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হতে শুরু করেন। তখন হকিং এর বয়স মাত্র ২২। চিকিৎসকেরা জানিয়ে দিলেন তিনি আর মাত্র ৩ বছর বাঁচবেন। এসময় তিনি তাঁর প্রথম স্ত্রী জেনকে বিয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

ডাক্তারদের ধারণার তুলনায় হকিং এর এই রোগ অনেক ধীরে বাড়তে থাকে। তারপর হকিং দম্পতির ৩ সন্তান পৃথিবীতে আসে। লুসি, রবার্ট ও টিম তাদের বাবার মৃত্যুতে বলেছেন, ‘আমরা দু:খের সঙ্গে জানাচ্ছি যে আমাদের প্রিয় বাবা আজ মারা গেছেন। তিনি শুধু একজন বড় বিজ্ঞানীই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন অসাধারণ মানুষ, তাঁর কাজ বহু বছর বেঁচে থাকবে।‘

স্টিফেন হকিংএকবার বলেছিলেন, ‘কেন আমরা ও এই মহাবিশ্ব টিকে আছে এই আলোচনাতে সকল দার্শনিক, বিজ্ঞানী ও সাধারণ মানুষ অংশ নিতে পারে। আমরা এর উত্তর খুঁজে পেলে তা হবে মানুষের জীবনের জয়। তারপরই আমরা ঈশ্বরের মন জানতে পারবো।’

একদিন হয়তো স্টিফেন হকিং এর কাজ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে একদল তরুণ বিজ্ঞানী এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাবেন। কেননা শত  শত বছরের বিজ্ঞানের বিপ্লবের পর স্টিফেন হকিংই বিজ্ঞানকে জনপ্রিয় করে তুলেছেন।  প্রিয় হকিংকে বিদায়।

বাংলা ইনসাইডার/ডিজি/জেডএ