ঢাকা, শনিবার, ২১ এপ্রিল ২০১৮ , ৮ বৈশাখ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

সিরিয়া যুদ্ধের সাত বছর

বিশ্বজুড়ে ডেস্ক 
প্রকাশিত: ১৬ এপ্রিল ২০১৮ সোমবার, ০৮:০২ এএম
সিরিয়া যুদ্ধের সাত বছর

এক যুদ্ধ, যা লাখো মানুষের জীবন কেড়ে নিয়েছে। এর কয়েকগুণ মানুষকে গৃহহীন করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের দু:খ হয়ে এখনো চলছে সেই যুদ্ধ। গত সাত বছর ধরেই যুদ্ধ চলছে সিরিয়ায়।

সাত বছর আগে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দিয়েই ছিল এর শুরু। সেই বিক্ষোভ রূপ নেয় গৃহযুদ্ধের। এখন সেই যুদ্ধ পরিণত হয়েছে বিশ্বশক্তিদের মধ্যেকার বিরোধে।

সিরিয়া যুদ্ধের জটিল সমীকরণ

সিরিয়া যুদ্ধের কেন্দ্রে আছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ। রাশিয়া ও ইরানের পাশাপাশি তাঁকে সমর্থন দিচ্ছে নিজ শক্তিশালী কয়েকটি সশস্ত্র শিয়া জঙ্গি গোষ্ঠী। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও তাদের পশ্চিমা মিত্রদের ভাষায় বাশার বিরোধী ‘মধ্যপন্থী’ বিদ্রোহী গোষ্ঠীদের সহায়তা করছে তাঁরা।

আসাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিদ্রোহীদের মধ্যে আছে জাইশ আল-ইসলাম ও আহরার আল-শাম। ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এখনো যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে তারা। সিরিয়ার সরকারি বাহিনী সরে আসার পর সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলের বড় একটি অংশের দখল নেয় কুর্দি বিদ্রোহীরা। তাদের সহায়তা করছে যুক্তরাষ্ট্র। কুর্দিরা নিজেদের জন্য একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের দাবিতে যুদ্ধ চালিয়ে আসছে। ইসলামিক স্টেট জঙ্গিদের বিপক্ষেও যুদ্ধ করছে কুর্দিরা। আবার কুর্দিদের বিপক্ষে যুদ্ধ করছে তুরস্ক।

শিয়া মতবাদে বিশ্বাসী ইরানের বিরুদ্ধে শক্তি সঞ্চয় করার উদ্দেশ্যে সিরিয়ার বিদ্রোহী দলগুলোকে অস্ত্র ও অর্থ জোগান দিচ্ছে সৌদি আরবও। আবার শিয়া জঙ্গিগোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে অস্ত্র সহায়তা দিচ্ছে ইরান। ওই অস্ত্র সহায়তা বন্ধ করতেই সম্প্রতি সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল।

যুদ্ধের শুরু

২০১১ সালে প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ শুরু হয় সিরিয়ার দক্ষিণের শহর `ডেরা`য়। অবশ্য অনেক আগে থেকেই কর্মসংস্থানের অভাব, দুর্নীতির মত নানা কারণে অস্থিরতা বিরাজ করছিল দেশটিতে। বিক্ষোভকে `বিদেশী মদদপুষ্ট সন্ত্রাসবাদ` আখ্যা দেন প্রেসিডেন্ট আসাদ। বিক্ষোভ দমন করতে আসাদ সরকারের বাহিনী অভিযান চালায়। আন্দোলন বিরোধী অভিযানের পরিপ্রেক্ষিতে প্রেসিডেন্ট বাশারের পদত্যাগের আন্দোলন শুরু হয় দেশজুড়ে। বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সরকারের অভিযানও জোরদার হয়।

বিদ্রোহীরা শুরুতে নিজেদের জীবন রক্ষার্থে অস্ত্র হাতে তুলে নেয়। পরে তার এক হয়ে নিজেদের এলাকার সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। সহিংসতা ছড়িয়ে পরে সিরিয়াকে গৃহযুদ্ধের মুখে ফেলে।

সিরিয়া যুদ্ধে কেন রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র অন্যান্যরা

প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে সমর্থন দেওয়ার পেছনে রাশিয়ার সমর্থন রাজনৈতিক স্বার্থে। মধ্যপ্রাচ্যে রাশিয়ার সবচেয়ে বন্ধুভাবাপন্ন দেশ সিরিয়া। আসাদ সরকার ক্ষমতাচ্যুত ভূমধ্যসাগরে সিরিয়ার তারতুস নৌঘাঁটিও হাতছাড়া হবে রাশিয়ার। আসাদকে সমর্থন দিয়ে এসেছে ইরানও। মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি প্রতিপত্তি ছড়িয়ে পড়া বন্ধ করতে সিরিয়ার সরকারকে সমর্থন দিয়েছে ইরান।

তুরস্ক, যুক্তরাষ্ট্র ও কয়েকটি পশ্চিমা দেশ সময়ে সময়ে সিরিয়ার বিদ্রোহীদের সাহায্য করেছে। কিন্তু রাশিয়ার বিমান সহায়তা আর ইরানের সেনা সমর্থনে সিরিয়ার সরকারি বাহিনী বিদ্রোহীদের দমন করতে সক্ষম হয়েছে।

ফ্রি সিরিয়ান আর্মি নামের একটি বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে সহায়তা করছে তুরস্ক। ইসলামপন্থী জঙ্গিদের সহায়তা করার অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

তুরস্ক মনে করে কুর্দিশ বিদ্রোহীদের উত্থান হলে ও তারা সার্বেভৗমত্ব পেলে তা তুরস্কের স্বাধীনতাকে হুমকিতে ফেলবে। তারা কুর্দিশ বাহিনী ওয়াইপিজি`কে জঙ্গি মনে করে। ওয়াইপিজি যুক্তরাষ্ট্রের মদদপুষ্ট, তাই ন্যাটো`র সদস্য তুরস্ক এখন রাশিয়ার বন্ধুভাবাপন্ন।

আর সিরিয়ার দক্ষিণের প্রতিবেশী ইসরায়েলের প্রধান চিন্তা দেশটিতে ইরানের শক্তিবৃদ্ধি। আর হিজবুল্লাহর কাছে আধুনিক অস্ত্র সরবরাহও ইসরাইলের চিন্তার কারণ।

লক্ষ প্রাণহানি

যুক্তরাজ্যভিত্তিক মনাবাধিকার সংস্থা সিরিয়ান অবজাভেরটরি ফর হিউম্যান রাইটসের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮`র মার্চ পর্যন্ত তিন লাখ ৫৩ হাজার ৯০০ মানুষ সিরিয়া যুদ্ধে মারা গেছে, যার এক লাখ ৬ হাজার মানুষ বেসামরিক।


বাংলা ইনসাইডার/জেডএ