ঢাকা, শুক্রবার, ২০ জুলাই ২০১৮ , ৫ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ আসন্ন?

বিশ্বজুড়ে ডেস্ক 
প্রকাশিত: ১৬ এপ্রিল ২০১৮ সোমবার, ১১:৩৪ এএম
তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ আসন্ন?

বিশ্বের পরা শক্তিগুলোর মধ্যকার সম্পর্ক আশঙ্কাজনক ভাবে অবনতি হয়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও তাঁদের মিত্র পশ্চিমা দেশগুলো এবং রাশিয়া পারস্পরিক কূটনীতিক বহিষ্কারের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়। এবারে সিরিয়ায় সরকারি স্থাপনা লক্ষ্য করে যৌথ বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স।

অপরদিকে সিরিয়ার আসাদ সরকারকে সমর্থন দিচ্ছে রাশিয়া। রাশিয়া বলেছে এই ধরনের হামলার অবশ্যই পরিনতির মাধ্যমে জবাব দেওয়া হবে। এভাবেই বিশ্বের চারটি পরা শক্তি সামরিক দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছে। সঙ্গে পূর্বের পাল্টাপাল্টি কূটনৈতিক বহিষ্কারের ফলে কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নের মাধ্যমে সংকট সমাধানও এখন যে কোনো সময়ের চেয়ে কঠিন।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন সিরিয়াতে পশ্চিমা বিশ্ব নতুন করে হামলা চালালে আন্তর্জাতিক সম্পর্কে গোলযোগ তৈরি হবে। এছাড়া পুতিন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে। গত রোববার সিরিয়াতে যুক্তরাষ্ট্র ও তাঁদের মিত্রদের সিরিয়ায় হামলার বিষয়েও ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন।

অপরদিকে  সিরিয়া সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ভবিষ্যতে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার হলে ফের হামলা চালাতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত আছে। গত সপ্তাহে সিরিয়ার পূর্ব গৌতার বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত শহর দৌমায় রাসায়নিক হামলায় ৮৫ জন নিহত হয়। এছাড়া পাঁচ শতাধিক মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ে। এর পরিপ্রেক্ষিতে রাসায়নিক অস্ত্র ও গবেষণাগার লক্ষ্য করে হামলা চালানোর হয়েছে বলে জানায় যুক্তরাষ্ট্র ও তাঁদের পশ্চিমা মিত্র যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স।

অপরদিকে যুক্তরাজ্য ও চীনের সম্পর্কও এখন ভালো নয়। দেশ দুটির বাণিজ্যিক যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে। এছাড়া চলছে পাল্টাপাল্টি কর আরোপ। উত্তর করিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে ট্রাম্পের সাক্ষাৎ হবার কথা রয়েছে। উত্তর কোরিয়া এখন অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি চায়। যদি বিশ্বের পরা শক্তি গুলো সরাসরি বিভক্ত হয়ে পড়ে তবে উত্তর কোরিয়ার অবস্থান এশিয় শক্তির দিকেই হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কেননা দেশটির ওপর অর্থনৈতিক অবরোধ চলাকালে রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে গোপন বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিল উত্তর কোরিয়ার।

এদিকে সিরিয়ায় যৌথ হামলার ঘটনায় জার্মানি সমর্থন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সকে। এঞ্জেলা মেরকেল বলেছেন, ভবিষ্যতে রাসায়নিক হামলার ব্যাপারে সিরিয়াকে সতর্ক করতে এই হামলার দরকার ছিল। তবে এই হামলার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে চীন। দেশটি বলছে সিরিয়ার হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। এছাড়া ইরান এই হামলায় নিন্দায় জানিয়েছে। ইরানের শীর্ষ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি এই হামলাকে অপরাধ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘এই হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের আমি সরাসরি অপরাধী বলছি।’ 


বাংলা ইনসাইডার/ডিজি/জেডএ