ঢাকা, রোববার, ২৪ জুন ২০১৮ , ৯ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

হাওয়াইয়ে আগ্নেয়গিরির খেলা

বিশ্বজুড়ে ডেস্ক 
প্রকাশিত: ২০ মে ২০১৮ রবিবার, ০২:৫৬ পিএম
হাওয়াইয়ে আগ্নেয়গিরির খেলা

চলতি মাসের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই দ্বীপে সক্রিয় হয়ে ওঠে কিলাওয়েয়া আগ্নেয়গিরি। জ্বালামুখ থেকে উদগীরন হয় টগবগ করে ফুটতে থাকা লাভা, ছাই, ধোঁয়ার কুণ্ডলী আর গ্যাস।

প্রথম উদগীরণের পর দু সপ্তাহ কেটে গেছে। এখনো সক্রিয় কিলাওয়েয়া আগ্নেয়গিরি। আগ্নেয়গিরির এর উদগীরণে বিস্মিত অনেকেই। আর  আগ্নেয়গিরি বিশেষজ্ঞ তামসিন মাথার ও ডেভিড পাইল আগ্নেয়গিরির নাটকীয় এই বৈশিষ্ট্রের ব্যখ্যা দিয়েছেন বিবিসিকে:

সৃষ্টি ও ধ্বংস

কিলাওয়েয়া হাওয়াইয়ের সবচেয়ে শক্তিশালী আগ্নেয়গিরি। ১৯৮৩ সাল থেকে এর পূর্ব অংশ থেকে সারাক্ষণই লাভা বের হয়। সেই লাভার ঝরনা আর তার স্রোতে ১৪৪ স্কয়ার কিলোমিটার এলাকা চাপা পড়ে গেছে। প্রায় সাড়ে ১৪ কিলোমিটার রাস্তা ধ্বংস হয়ে গেছে। কিন্তু আগ্নেয়গিরিটির কারণে নতুন জমিও তৈরি হয়েছে।

জ্বালামুখ ও লাভা লেক

২০০৮ সালে গ্যাস বের হওয়ার নতুন মুখ তৈরি হতে থাকে। কয়েক বছর ধরে আস্তে আস্তে আগ্নেয়গিরিটির জ্বালামুখে রীতিমতো লাভার লেক তৈরি হয়ে গেছে। এ বছরের মার্চ ও এপ্রিলে বন্যার পানির মতো গনগনে সেই লাভার উচ্চতা বাড়তে থাকে। আবার কয়েক সপ্তাহ পর আবার তা নেমে যায়।

লাভার স্রোত

কিলাওয়েয়ার লাভাকে বলা হয় বিশ্বের সবচাইতে গরম। জ্বালামুখের আশপাশে রয়েছে নালার মতো। সেগুলো থেকে ধীরে ধীরে যখন লাভার স্রোত নামতে থাকে। ওপরের অংশে তৈরি হয় আস্তরণ। কিন্তু নিচে ঠিকই ছিল লাভার স্রোত। কালো শুকনো লাভা সামনে এগুতে থাকে।

আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণ

মূলত ১৯৯২ সাল থেকে কিলাওয়েয়া আগ্নেয়গিরির উপর নজর রাখছিলেন ভূতাত্ত্বিকরা। কীভাবে পৃথিবীর মাটির আবরণের নিচে এর কার্যক্রম চলে সে সম্পর্কে তাদের বেশ ধারণা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বিবিসিকে বলেন, উদগীরনের ধাপে ধাপে ভূপৃষ্ঠে নতুন ফাটল দেখা দেয়। এর কোনটা দিয়ে গরম গ্যাস বের হয়। আবার কোথাও থেকে জ্বলন্ত লাভা। আস্তে আস্তে লাভা লেকে লাভার উচ্চতা কমতে থাকে এবং তা ভূপৃষ্ঠের পানির স্তরে নেমে যায়। এসময় বিস্ফোরণের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। ভূপৃষ্ঠের পানির সাথে মিশে গেলে ধোয়ার বিস্ফোরণ ঘটে। আগ্নেয়গিরি নিয়ে বহু গবেষণা হলেও এর অনেক আচরণ এখনো সঠিকভাবে পূর্বাভাস দেওয়া যায়না।

বাংলা ইনসাইডার/জেডএ