ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ , ৯ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

থাই গুহায় থাকা ১২ কিশোর ও হ্যারিসের গল্প

বিশ্বজুড়ে ডেস্ক 
প্রকাশিত: ১২ জুলাই ২০১৮ বৃহস্পতিবার, ১২:১১ পিএম
থাই গুহায় থাকা ১২ কিশোর ও হ্যারিসের গল্প

রিচার্ড হ্যারিস একজন অষ্ট্রেলিয়ান চিকিৎসক। ছুটি কাটাতে বেড়াতে গিয়েছিলেন থাইল্যান্ডে। হঠাৎ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা থেকে জানতে পারলেন থাই গুহায় আটকে থাকা ১২ কিশোর ও কোচের কথা। তখনই হলিডে বাতিল করলেন তিনি। সিদ্ধন্ত নিলেন একজন সেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করবেন।

কিশোরদের হারিয়ে যাওয়ার প্রথম এক সপ্তাহে কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে জানা গেল যা তারা থাম লুয়াং নামের একটি গুহার গভীরে আটকা পড়ে আছে। গুহার বিভিন্ন অংশ পানিতে ডুবে যাওয়ায় ওই কিশেররা বের হয়ে আসতে পারছিল না।

এমন পরিস্থিতিতে হ্যারিস সিদ্ধান্ত নিলেন গুহার ভেতরে যাবেন। তিনি ওয়াইল্ড বোয়ার ফুটবল দলের কিশোর সদস্যদের শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করে দেখতে চিকিৎসক হিসেবে গুহার ভেতরে গেলেন। গুহায় প্রবেশের পর সেখান থেকে বেরিয়ে না এসে কিশোরদের সঙ্গে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। এরপর টানা  তিনদিন সেখানেই ছিলেন এই চিকিৎসক।

কিশোরদের গুহার ভিতর থেকে সফলভাবে বের করে আনার পিছনে হ্যারিসের গুরুত্বপূর্ণ ভ্যমিকা রয়েছে। প্রথমে যে অপেক্ষাকৃত দুর্বল ছেলেদেরকে বের করে আনা হয়েছিল সেটা হয়েছিল তাঁরই নির্দেশনায়। তারপর তিনদিন ধরে জটিল ও বিপদজনক এক অভিযান চালিয়ে এক এক করে সবাইকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।

গুহার ভেতর থেকে যেসব উদ্ধারকারী সবার শেষে বেরিয়ে এসেছিলেন হ্যারিস তাদের মধ্যে একজন। উদ্ধার করা কিশোরদের নিযে সবাই যখন আনন্দ করছে, হ্যারি তখন সে আনন্দে যোগ দিতে পারেননি।

অভিযান শেষ হওয়ার পরপরই তাঁর পিতা মারা গেছেন বলে খবর পান হ্যারিস। দ্রুত তিনি বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা করেন।

ড. হ্যারিসকে খুঁজে বের করেছিল ব্রিটিশ ডুবুরিরা। তারপরই তাকে এই উদ্ধার অভিযানে অংশ নিতে অনুরোধ করা হয়েছিল। অস্ট্রেলিয়ার সরকার বলছে, হ্যারি একজন ধীর স্থির এবং হৃদয়বান ব্যক্তি। বাচ্চাদের উদ্ধার অভিযানে অংশ নিতে গিয়ে তিনি দ্বিতীয়বার চিন্তা করেন নি।

অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রী জুলি বিশপ বলেছেন, গুহার ভেতরে আটকে পড়া লোকজনকে উদ্ধার করার ব্যাপারে ড. হ্যারিসের যে অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান আছে সেসব কারণে তিনি আন্তর্জাতিকভাবে সুপরিচিত।

বলা হচ্ছে, আটকে পড়া শিশুদেরকে তিনি আশ্বস্ত করেছেন, সাহস যুগিয়েছেন। এছাড়াও বের হয়ে আসার জন্যে তিনি তাদেরকে প্রস্তুত করেছেন। বিশেষ করে গুহার ভেতরে ডুবসাঁতার দেওয়ার ব্যাপারে উৎসাহ দিয়েছেন, তিনিই এই হ্যারিস।

এই চিকিৎসকের অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ক্রিসমাস আইল্যান্ড এবং চীনে গুহার ভেতরে এবং বহু অভিযানে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে। দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ায় ২০১১ সালে এমন একটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছিল যখন তার একজন বন্ধু অক্সিজেনের অভাবে মারা গিয়েছিলেন। বন্ধুর মৃতদেহটি তখন তাকেই গুহার ভেতর থেকে উদ্ধার করে আনতে হয়েছিল।

বাংলা ইনসাইডার/ বিপি/ জেডএ