ঢাকা, বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

ট্রুম্যান থেকে ট্রাম্প

বিশ্বজুড়ে ডেস্ক 
প্রকাশিত: ২০ জুলাই ২০১৮ শুক্রবার, ০৮:০০ এএম
ট্রুম্যান থেকে ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সাম্প্রতিক যুক্তরাজ্য সফরে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের সঙ্গে উইন্ডসর ক্যাসেলে সাক্ষাৎ করেন। এই সাক্ষাৎপর্বে ট্রাম্পের কিছু আচরণ বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

রয়্যাল গার্ড অব অনার পরিদর্শনের সময় রীতি অনুযায়ী রানির নেতৃত্বে না হেঁটে একা একাই সামনে এগিয়ে যেতে থাকেন ট্রাম্প। একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ট্রাম্প রানির পথ আগলে দাঁড়িয়ে আছেন। আর বাধ্য হয়ে রানি তাঁর পাশ কাটিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন। অনেকেই বলছেন ট্রাম্প ইচ্ছাকৃতভাবে রানীকে অসম্মান করেছেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগেও রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ আরও ১১ জন মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। কেমন ছিল সেই সাক্ষাৎপর্বগুলো, এখানে সেটাই তুলে ধরা হলো:

হ্যারি ট্রুম্যান (অক্টোবর ৩১, ১৯৫১)

রানি এলিজাবেথ সর্বপ্রথম যে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি হলেন, হ্যারি ট্রুম্যান। ১৯৫১ সালের ৩১ অক্টোবরে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রিত ছিলেন ২৫ বছরের প্রিন্সেস এলিজাবেথ এবং তাঁর স্বামী প্রিন্স ফিলিপ। তখনো রানির মর্যাদা পাননি তিনি। বাবা ষষ্ঠ জর্জের প্রতিনিধি হিসেবে ওই বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। দু’ দেশের পারস্পারিক সম্পর্ক নিয়ে সেসময় তাদের মধ্যে আলোচনা হয়।

ডোয়াইট ডি. আইসেনহাওয়ার (অক্টোবর ১৭, ১৯৫৭)

যুক্তরাজ্যের রানি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার চার বছর পর দ্বিতীয় এলিজাবেথ যুক্তরাষ্ট্র সফর করেন। সেটাই ছিল রানি হিসেবে তাঁর প্রথম বিদেশ সফর। স্নায়ুযুদ্ধকালীন সেসময়ে যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য সম্পর্ক কিছুটা সঙ্কটপূর্ণ অবস্থায় ছিল। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হ্যারোল্ড ম্যাকমিলানও তখন জরুরি বৈঠকের জন্য ওয়াশিংটনে অবস্থান করছিলেন।

জন এফ. কেনেডি (জুন ১৫, ১৯৬১)

১৯৬১ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ. কেনেডি এবং ফার্স্ট লেডি জ্যাকলিন কেনেডি যুক্তরাজ্য সফর করেন। বাকিংহাম প্যালেসে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের সঙ্গে তাদের সাক্ষাৎ হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্টের সম্মানে সেখানে রাজকীয় ডিনারের আয়োজন করা হয়।  সেই সন্ধ্যার স্মৃতি কখনোই ভুলবেননা বলে কেনেডি রানিকে লিখেছিলেন।

রিচার্ড নিক্সন (ফেব্রুয়ারি ১৫, ১৯৬৯)

১৯৫৭ সালে ভাইস প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন সময়েও নিক্সনের সঙ্গে রানির দেখা হয়েছিলো। তবে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ১৯৬৯ সালে রানি এলিজাবেথের সঙ্গে রিচার্ড নিক্সনের প্রথম বৈঠক হয়। নিক্সন তখন এক অনির্ধারিত সফরে যুক্তরাজ্যে ছিলেন।

জেরাল্ড ফোর্ড (জুলাই ১৭, ১৯৭৬)

যুক্তরাষ্ট্রের ৩৮তম প্রেসিডেন্ট জেরাল্ড ফোর্ড ১৯৭৬ সালে হোয়াইট হাউসে রানির সঙ্গে বৈঠক করেন। যুক্তরাষ্ট্র তখন ২০০ তম স্বাধীনতাদিবস উদযাপন করছিল। রানির সম্মানে হোয়াইট হাউসের ডিনারের আয়োজন করা হয়। বলরুমে জেরাল্ড ফোর্ডের সঙ্গে রানিকে সেবার ব্যালে ড্যান্স করতেও দেখা যায়।

জিমি কার্টার (মে ৭, ১৯৭৭)

১৯৭৬ সালের যুক্তরাষ্ট্র সফরের পরের বছরই রানি এলিজাবেথের সঙ্গে দেশটির নবনিযুক্ত প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের সাক্ষাৎ হয়। ন্যাটো সম্মেলনে অংশ নিতে কার্টার তখন যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছিলেন। বাকিংহাম প্যালেসে রানি এলিজাবেথের মায়ের ঠোঁটে চুমু দিয়ে কার্টার সেবার রাজকীয় প্রটোকল ভঙ্গ করেছিলেন। রানি এলিজাবেথের মা কিছুটা ক্ষুব্ধ হয়ে বলেছিলেন, ‘আমার স্বামীর মৃত্যুর পর এই প্রথম কেউ এটা করলো।’

রোনাল্ড রিগ্যান( জুন ৭, ১৯৮২)

১৯৮২ সালে তখনকার মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান তাঁর স্ত্রী ন্যান্সিকে নিয়ে যুক্তরাজ্য সফর করেন। তিনিই প্রথম প্রেসিডেন্ট, যিনি উইন্ডসর ক্যাসলে পুরো রাত কাটিয়েছিলেন। রিগ্যান এরপর আরও দু’বার যুক্তরাজ্য সফরে এসে রানির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন।

জর্জ এইচ. ডব্লিউ. বুশ (জুন ১, ১৯৮৯)

জর্জ এইচ. ডব্লিউ. বুশ রানির সঙ্গে প্রথম দেখা করেন লন্ডনে ১৯৮৯ সালে। ওই সফরে তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচারের সঙ্গেও বৈঠক করেন সিনিয়র বুশ। এর দু’বছর পর রানি এলিজাবেথের ওয়াশিংটন সফরকালে আবারও তাদের সাক্ষাৎ হয়।

বিল ক্লিনটন (জুন ৪, ১৯৯৪)

প্রেসিডেন্ট ক্লিনটন তাঁর শাসনামলে বেশ কয়েকবার যুক্তরাজ্য সফর করেন। উত্তর আয়ারল্যান্ডের শান্তি প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত থাকার কারণে একাধিকবার রানির সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়েছিলো। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ৫০ তম বার্ষিকীতে ১৯৯৪ সালে যুক্তরাজ্যের পোর্টসমাউথে তাদের প্রথম দেখা হয়। এর ছয় বছর পর রানির আমন্ত্রণে বিল ক্লিনটন তাঁর স্ত্রী হিলারি এবং কন্যা চেলসিয়ার সঙ্গে বাকিংহাম প্যালেসে এক চা চক্রে যোগ দেন।

জর্জ ডব্লিউ. বুশ ( নভেম্বর ২১, ২০০৩)

মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে রানির সঙ্গে জর্জ ডব্লিউ. বুশের প্রথম সাক্ষাৎ হয় ২০০৩ সালে লন্ডনে। ট্রাম্পের সফরের আগে এটাই ছিলো কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের সবচেয়ে বিতর্কিত যুক্তরাজ্য সফর। সেসময় অন্তত ১লক্ষ মানুষ ইরাক যুদ্ধের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করতে লন্ডনের রাস্তায় নেমে এসেছিলো।

বারাক ওবামা (মে ২৪, ২০১১)

২০১১ সালে যুক্তরাজ্য সফরকালে রানির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তখনকার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা। রানিকে ১৯৩৯ সালে তাঁর বাবা-মায়ের যুক্তরাষ্ট্র সফরের কিছু ছবি উপহার দেন ওবামা। রানিও ওবামাকে যুক্তরাজ্যের সাবেক কয়েকজন শাসক এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টদের মধ্যকার চিঠি উপহার দেন। এরপর আরও দু’বার রানির সঙ্গে তাঁর দেখা হয়েছিলো। রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের ৯০ তম জন্মবার্ষিকীতে ওবামা বলেন, ‘সত্যিই তিনি আমার পছন্দের মানুষদের মধ্যে একজন।’

বাংলা ইনসাইডার/এএইচসি/জেডএ