ঢাকা, রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২০, ১০ কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

পাকিস্তানের নির্বাচনে পীর প্রভাব

বিশ্বজুড়ে ডেস্ক 
প্রকাশিত: ২৩ জুলাই ২০১৮ সোমবার, ০২:২৬ পিএম
পাকিস্তানের নির্বাচনে পীর প্রভাব পীরদের সম্মেলন

চলতি সপ্তাহেই পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সাধারণ নির্বাচন। এই নির্বাচনে ভোটদানের মাধ্যমে দেশটির জনগণ তাদের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী নির্ধারণ করবেন। মজার ব্যাপার হচ্ছে, প্রার্থীর যোগ্যতা, দক্ষতা সবকিছু ছাপিয়ে ভোটের যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে দেশটির অসংখ্য সুফি নেতা বা পীরেরা। বিভিন্ন প্রার্থীর পক্ষে সমর্থন ঘোষণা করছেন তারা। এমনকি ভক্ত অনুসারীদের আদেশও দিচ্ছেন মনোনীত প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার জন্য। অনেক পীর কিংবা তাদের বংশধররা নিজেরাই সরাসরি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।

বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের পার্লামেন্টের মোট সদস্যের মধ্যে ১৬ শতাংশই হলো পীর অথবা তাদের কোনো বংশধর। তবে অনেক পীর নিজেরা সরাসরি নির্বাচনে অংশ না নিয়ে অন্য প্রার্থীদের জন্য প্রচারণা চালিয়ে  থাকেন।

সম্প্রতি ইসলামাবাদের একটি কমিউনিটি সেন্টারে কয়েকশো পীর ও সুফি সাধকদের একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে পীরদের কয়েকশ ভক্তের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সাবেক ক্রিকেটার ও পিটিআই পার্টির নেতা ইমরান খান। সেখানে প্রভাবশালী গোরা শরীফ দরবারের পীর ইমরানের প্রতি তাঁর সমর্থন ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে তিনি তার অনুসারীদের আদেশ দেন তারা সবাই যেন ইমরান খানের দলকে সমর্থন করেন।

সম্মেলনে উপস্থিত একজন ভক্ত বলেন,`আমরা পীর সাহেবের গোলাম। তার আদেশ যাই হোক না কেন, আমরা আনন্দের সঙ্গে তা মেনে নেবো। সেটি ঠিক না ভুল, তা নিয়ে আমরা বিতর্কে যাবো না।’

ইমরান খানকে সমর্থন দেওয়া প্রসঙ্গে একজন পীর বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ ইসলামিক স্কলারের সঙ্গে আলাপ আলোচনার পর আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এখন তারা সবাই নিজেদের এলাকায় ফিরে যাবে এবং তাদের ভক্ত অনুসারীদের ইমরান খানকে ভোট দেওয়ার জন্য বলবে।`

ওই সম্মেলনে ইমরান খান ঘোষণা করেন, তিনি পাকিস্তানকে একটি ইসলামিক কল্যাণ রাষ্ট্র বানাতে চান।

এর আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ ধর্মীয় গোষ্ঠীর বেশিরভাগ সমর্থন পেয়েছিলেন। কিন্তু এবারের নির্বাচনে ইমরানই সেই সমর্থন পাচ্ছেন।

বিশ্লেষকরা জানান, শিক্ষা, সচেতনতা আর ইন্টারনেটের ব্যবহার বৃদ্ধি পেলেও আধ্যাত্মবাদ বিষয়টি পাকিস্তানে এখনো ব্যাপকভাবে প্রচলিত। ফলে দেশটিতে পীরদের প্রভাবও ব্যাপক।

বাংলা ইনসাইডার/এএইচসি/জেডএ