ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮, ২৮ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

পেঁচার খোঁজে পঁচিশ বছর!

বিশ্বজুড়ে ডেস্ক 
প্রকাশিত: ১৩ আগস্ট ২০১৮ সোমবার, ০৬:৪৭ পিএম
পেঁচার খোঁজে পঁচিশ বছর!

পেঁচার খোঁজে ২৫ বছর কাটিয়ে দিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা গুপ্তধন সন্ধানীরা। তবুও পাওয়া যায়নি সেটির খোঁজ। মজার ব্যাপার হলো, খোঁজা হচ্ছে একটি নকল পেঁচার মূর্তি। তবে যে সেটি খুঁজে পাবে, সে পুরস্কার হিসেবে পেয়ে যাবে সোনা দিয়ে তৈরি আসল মূর্তিটি।

পেঁচাকাণ্ডের শুরুটা ১৯৯৩ সালে। ওই বছর ফ্রান্সে ‘সোনালি পেঁচার খোঁজে` নামক একটি বই প্রকাশিত হয়। বইটির লেখক ম্যাক্স ভ্যালেন্টিন পেঁচার নকল মূর্তিটি ফ্রান্সেরই কোন এক জায়গায় লুকিয়ে রাখেন। এরপর সেই গুপ্তধনের বিষয়ে তার লেখা বইয়ে কিছু সূত্র দিয়ে দেন। সেই সূত্র ধরে দেশ বিদেশের বহু গুপ্তধন অনুসন্ধানকারী খুঁজে চলেছে নকল পেঁচাটি।

‘সোনালি পেঁচার খোঁজে` বইয়ের ১১টি ধাঁধার ভেতরেই গুপ্তধনের আসল সন্ধান রয়েছে বলে মনে করা হয়। বইটি লেখার পর ভ্যালেন্টিন বেশ কিছুদিন ইন্টারনেটে একটি চ্যাট লাইন ব্যবহার করতেন, যেখানে গুপ্তধন অনুসন্ধানকারীরা তাকে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করতে পারতেন। বর্তমানে তার সেসব উত্তরই গুপ্তধন খোঁজার একটি তথ্যাগার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

গুপ্তধনের রহস্য উদ্ঘাটন করতে ইন্টারনেটে কয়েকটি ফোরাম তৈরি হয়েছে, যারা নিয়মিত আলোচনার বাইরেও প্রতিবছর বিশেষ সভায় মিলিত হন। এমনকি ফ্রান্সের আদালতে গুপ্তধন অনুসন্ধানকারীদের স্বার্থ দেখভাল করার জন্য একটি সমিতিও তৈরি হয়েছে।

ভ্যালেন্টিন নয় বছর আগে মারা যান। তবে তিনি গুপ্তধনের রহস্য একটি চিঠিতে লিখে মুখবন্ধ খামের ভেতর রেখে গেছেন, যা এখন তার পরিবারের হেফাজতে রয়েছে। এই রহস্যের আরেকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হলেন শিল্পী মিচেল বেকার, যিনি বইয়ের ভেতরের অঙ্কন এবং পেঁচার স্বর্ণমূর্তিটি তৈরি করেছেন। সেটি তারই হেফাজতে রয়েছে। তবে ব্রোঞ্জের পেঁচাটি কোথায় লুকানো রয়েছে তা বেকারেরও অজানা। চার বছর আগে তিনি সেটি বিক্রি করার চেষ্টা করেছিলেন। তবে গুপ্তধন অনুসন্ধানকারীরা এতে আপত্তি জানান। এ ঘটনা আদালত পর্যন্ত গড়ায়। ফ্রান্সের একটি আদালত মূর্তিটির বিক্রি নিষিদ্ধ করে আদেশও জারি করে।

পেঁচাটির সন্ধান পাওয়া যাবে না বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকেই। কেউ কেউ আবার বলছেন, পুরো বিষয়টিই হয়তো মজা ছাড়া আর কিছুই নয়। তবে সত্যিকারের অনুসন্ধানকারীরা ভ্যালেন্টিনের ওপরই আস্থা রাখছেন। তিনি তার বইয়ে বলে গেছেন, ‘যদি সব অনুসন্ধানকারী তাদের জ্ঞান ও বুদ্ধি একত্র করেন, তবে পেঁচাটিকে দুই ঘণ্টার মধ্যেই খুঁজে পাওয়া যাবে।’


সূত্র: বিবিসি

বাংলা ইনসাইডার/এএইচসি/জেডএ