ঢাকা, শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ , ৬ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

ভারতের উত্থানপর্ব

বিশ্বজুড়ে ডেস্ক 
প্রকাশিত: ১৫ আগস্ট ২০১৮ বুধবার, ০১:৩২ পিএম
ভারতের উত্থানপর্ব

বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ ভারতের ৭১তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত হচ্ছে আজ। ১৯৪৭ সালে ১৫ আগস্ট স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর থেকেই ক্রমাগত উন্নতির পথে এগিয়ে যাচ্ছে দেশটি। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শক্তিধর দেশ হিসেবেও নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে তারা।

বর্তমানে বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহৎ অর্থনীতির দেশ ভারত। ফ্রান্সের মতো শিল্পোন্নত দেশকে পেছনে ফেলে এই কীর্তি গড়েছে তারা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অভ্যন্তরীণ উৎপাদন এবং পণ্যের ব্যবহার বিষয়ক কৌশলই অর্থনীতিতে দেশটিকে এই শক্ত অবস্থান এনে দিয়েছে। বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এশিয়ার পরবর্তী অর্থনৈতিক পরাশক্তি হতে যাচ্ছে ভারত। লন্ডনভিত্তিক সেন্টার ফর ইকোনমিক অ্যান্ড বিজনেস রিসার্চ এর মতে, ২০৩২ সাল নাগাদ পৃথিবীর তৃতীয় বৃহৎ অর্থনীতির দেশে পরিণত হবে দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটি।

অনেকেই মনে করেন, গণতন্ত্রই দেশটির সফলতার মূল কারণ। দক্ষিণ এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশে গণতন্ত্র বাধাগ্রস্ত করে সেনাসরকারের আবির্ভাব ঘটলেও ভারতে কখনো তেমনটা দেখা যায়নি। চীনের মতো শক্তিশালী প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে টক্কর দিয়ে ভারতের এই উত্থানকে বিশাল অর্জন হিসেবে উল্লেখ করে থাকেন বিশ্লেষকরা।

মহাকাশ গবেষণায়ও এগিয়ে যাচ্ছে ভারত। এখন পর্যন্ত ৫৭ টিরও বেশি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপন করেছে দেশটি। যদিও মহাকাশ গবেষনায় বিপুল পরিমান অর্থ ব্যয় করার কারণে সমালোচনার মুখেও পড়তে হয় দেশটিকে। ১২১ কোটি জনসংখ্যার দেশ ভারতে বহু মানুষই দারিদ্রসীমার নীচে বাস করছে, সেখানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতের ব্যয়কে অপ্রয়োজনীয় বলে মনে করেন অনেকেই। 

অর্থনীতির অন্যতম বৃহৎ শক্তি হিসেবে ভারতের উত্থান হলেও এর ঠিক বিপরীত চিত্রও পাওয়া যাবে সেখানে। দারিদ্র, বৈষম্য, জাতিগত বিদ্বেষ প্রকট আকার ধারণ করেছে দেশটিতে। সকল ধর্মের সম অধিকারের কথা বলা হলেও ভারতে বিভিন্নভাবে বঞ্চনার স্বীকার হচ্ছে সংখ্যালঘু নাগরিকরা। দেশটির জনগণের একাংশ যখন উচ্চতর শিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছে, অপর একটি অংশ তখন লেখাপড়ার সুযোগই পাচ্ছে না। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অর্মত্য সেন অশিক্ষাকেই ভারতের অগ্রগতির মূল বাধা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, শুধু অর্থনৈতিক অগ্রগতি নয়, কোনো দেশের প্রকৃত উন্নয়নের জন্য দেশটির সকল ক্ষেত্রে এর জনগণের সমান অংশগ্রহণ প্রয়োজন। ভারতে এই বিষয়টিই অনুপস্থিত বলে মনে করছেন তারা।


বাংলা ইনসাইডার/এএইচসি/জেডএ