ঢাকা, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০ আশ্বিন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

বাণিজ্যযুদ্ধের বড় অস্ত্র এলএনজি

বিশ্বজুড়ে ডেস্ক 
প্রকাশিত: ১৮ আগস্ট ২০১৮ শনিবার, ০১:২৮ পিএম
বাণিজ্যযুদ্ধের বড় অস্ত্র এলএনজি

ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম বছরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্পর্ক তুলনামূলক উষ্ণ ছিল। ট্রাম্পের ঐতিহাসিক বেইজিং সফরে দু’দেশের প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত হৃদ্যতা বিশ্ব গণমাধ্যমসহ সারা বিশ্বের নজর কেড়েছিল। এমনকি, ট্রাম্প শি জিনপিংকে ‘বন্ধু’ বলেও সম্বোধন করেছিলেন। তবে বছর ঘুরতে না ঘুরতেই তাঁদের বন্ধুত্বের রং ফিকে হয়ে এসেছে। ট্রাম্পের মেয়াদের দ্বিতীয় বছরেই দুই দেশের অর্থনীতি বাণিজ্যযুদ্ধে জড়িয়েছে। পরস্পরের পণ্যের ওপর দ্বিতীয়বারের মতো পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপ করেছে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র।

চলমান বাণিজ্যযুদ্ধে চীনের সঙ্গে বিদ্যমান বাণিজ্য ঘাটতি দূর করাই হচ্ছে ট্রাম্পের মূল লক্ষ্য। একই সঙ্গে ২০১৯-২০ সালে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রফতানিকারক দেশগুলোর তালিকায় কাতারের পর দ্বিতীয় শীর্ষ অবস্থানে উঠে আসার পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন।

অপরদিকে, চীন মাত্রাতিরিক্ত পরিবেশ দূষণ মোকাবেলা ও জলবায়ু পরিবর্তনের হার কমিয়ে আনতে তুলনামূলক পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবহারে করছে। যার ফলপ্রসূতে চীনে এলএনজির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। চলতি বছরের মধ্যেই এলএনজি আমদানিকারক দেশগুলোর বৈশ্বিক তালিকায় দক্ষিণ কোরিয়াকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় শীর্ষ অবস্থানে উঠে আসবে চীন। জ্বালানি পণ্যটির আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অনেকটাই নির্ভরশীল দেশটি। বাণিজ্যযুদ্ধের মধ্যেও বেইজিং যুক্তরাষ্ট্র থেকে সাত হাজার কোটি ডলারের পণ্য আমদানির কথা জানিয়েছে। এর মধ্যে বড় একটি অংশ এলএনজি আমদানিতে ব্যয় হবে।

বাণিজ্যযুদ্ধের অংশ হিসেবে চীন সয়াবিনসহ একাধিক মার্কিন পণ্যের ওপর বাড়তি শুল্ক আরোপ করলেও ব্যতিক্রম ছিল এলএনজি। তবে বাড়তি শুল্কযুক্ত মার্কিন পণ্যের তালিকায় এলএনজির নাম বিবেচনায় রয়েছে। এ কারণেই এলএনজিকে চলমান বাণিজ্যযুদ্ধে সবচেয়ে বড় চীনা অস্ত্র হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

আবার, মার্কিন এলএনজিতে বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে বাড়তি শুল্ক আরোপ করা হলে স্বল্পমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি রপ্তানি খাতে প্রভাব পড়বে। জ্বালানি পণ্যটির রপ্তানি কমে মজুদ বাড়তে শুরু করবে। যার ফলে, আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দামে বড় ধরনের উত্থান-পতনের সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে, চীনে রপ্তানি কমে এলে যুক্তরাষ্ট্র এলএনজি রপ্তানির নতুন বাজার খুঁজতে শুরু করবে। এক্ষেত্রে ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশসহ আমদানিকারক দেশগুলোর সামনে ছাড়কৃত মূল্যে এলএনজি আমদানির সুযোগ তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে বাড়তি শুল্কের কারণে মার্কিন এলএনজির দাম বেড়ে গেলে চীনা আমদানিকারকরা এলএনজি আমদানির নতুন উেসর সন্ধান করবে। এতে কাতার, অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়াসহ জ্বালানি পণ্যটির রপ্তানিকারক দেশগুলোর সামনে নতুন বাজার বিস্তারের সম্ভাবনা রয়েছে।

মার্কিন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ নিল অ্যাটকিনসন এ বিষয়ে বলেছেন, মার্কিন এলএনজিতে বাড়তি শুল্ক আরোপের চীনা পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি খাতের জন্য বড় একটি আঘাত হিসেবে দেখা দেবে। এ পরিকল্পনার বাস্তবায়ন হলে বেইজিং-ওয়াশিংটন দুই পক্ষের জন্যই আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। অপরদিকে, এলএনজির অন্যান্য রপ্তানিকারক ও আমদানিকারক দেশগুলোর লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


বাংলা ইনসাইডার/বিকে