ঢাকা, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১০ আশ্বিন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

পাকিস্তানে বার বার পরাজিত গণতন্ত্র

বিশ্বজুড়ে ডেস্ক 
প্রকাশিত: ১৮ আগস্ট ২০১৮ শনিবার, ০২:২৩ পিএম
পাকিস্তানে বার বার পরাজিত গণতন্ত্র

কোন পথে এগোচ্ছে পাকিস্তান? স্বৈরাচার না গণতন্ত্র! স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকে ৭০ বছরের ইতিহাসে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দেশের শাসন ক্ষমতা থাকছে সেনাবাহিনীর হাতে। গণতন্ত্র রক্ষা সম্ভব হচ্ছে না বলে কোনো সরকারই ক্ষমতায় এসে সরকারপ্রধান ৫ বছর মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেননি। জনপ্রতিনিধিদের বারবার পরাজিত হতে হয়েছে সেনা অভ্যুত্থানের কাছে। এতে দেশটি যেমন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের আস্থা হারাচ্ছে, তেমনি হয়ে উঠছে জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদীদের আশ্রয়স্থল।

পাকিস্তানে রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্রে আছে সামরিক শক্তি, যার বলি হয়েছে বহু জনপ্রতিনিধি। দেশটির ২২তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন ইমরান খান। প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল মুসলিম লীগ ও পিপলস পার্টিকে হটিয়ে এবারই প্রথম ক্ষমতা গ্রহণ করেন ইমরান খানের দল তেহরিক-ই-ইনসাফ।

পাকিস্তানের গণতান্ত্রিক অভুত্থান এবারও ঝুঁকির মুখে রয়েছে বলে মত বিশ্লেষকদের। নির্বাচনে পিটিআই দল জয়ী হলেও, আড়ালে সেনাবাহিনীর জয় হয়েছে বলেই মনে করছে অনেকে। সেনাবাহিনীর মনোনীত সাবেক ক্রিকেটার ইমরান খান শুরু থেকেই নারী কেলেঙ্কারিসহ নানা অভিযোগে অভিযুক্ত। ১৯৯৬ সালে রাজনৈতিক দল গঠন করলেও, ২০১৩ সাল থেকে রাজনীতির মাঠে তৎপর দেখা যায় ইমরান খানের দলকে।

২০১৩ সালের নির্বাচনে নওয়াজ শরিফ ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই সেনাবাহিনী ইমরান খানকে ব্যবহার করে চাপে রেখেছে নওয়াজ শরিফের দলকে। এমনকি সেনাবাহিনীর সহায়তায় ইসলামাবাদ ঘেরাও করে সরকার পতনের উদ্যোগও নিয়েছিলেন ইমরান খান। যদিও তাঁর সে চেষ্টা সে সময় সফল হয়নি।

এদিকে তিনবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েও পূর্ণ ক্ষমতা ভোগ করতে পারেনি সর্বশেষ ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। সর্বশেষ দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত করে তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছে। কারণ একটাই, সেনাবাহিনীর কাছে কখনোই গ্রহণযোগ্য ছিলেন না তিনি। এমন কৌশলে তাঁকে ক্ষমতা থেকে হটানো হয়েছে যেন তিনি পুনরায় ক্ষমতায় ফিরে না আসতে পারেন। শঙ্কার মুখে পড়েছে তাঁর পরিবারের রাজনৈতিক ভবিষ্যতও।

স্বাধীনতার পর পাকিস্তানে প্রথম ক্ষমতায় আসেন মুসলিম লীগের নেতা লিয়াকত আলী খান। ভারত বিভাগ ও পাকিস্তানের স্বাধীন হওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন তিনি। কিন্তু তিনিও সম্পূর্ণ করে যেতে পারেননি মেয়াদ। এক সভায় জরুরি ঘোষণা দেওয়ার সময় আততায়ীর গুলিতে নিহত হন তিনি।

একই পরিণতি হয়েছে পাকিস্তানের নিন্দিত আরেক সাবেক প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টোর কন্যা পাকিস্তান পিপলস পার্টির নেতা বেনজীর ভুট্টোর। দুইবার নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীকে কয়েকবার হত্যার চেষ্টা হয়। সর্বশেষ ২০০৭ সালে এক আত্মঘাতী বোমা হামলায় বেনজির ভুট্টো মারা যান। বেনজীর ভুট্টোর মৃত্যুর পর নেতৃত্বে ব্যর্থতা দেখা দিলে পিপিপি পরিণত হয়েছে পাকিস্তানের এক অর্থহীন রাজনৈতিক শক্তিতে।

সর্বাধিক সময় ক্ষমতায় ছিলেন প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানি। ক্ষমতায় ছিলেন প্রায় ৪ বছর ৩ মাস। তাঁকেও ক্ষমতা থেকে অপসারনের জন্য দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত করা হয়। পরে আদালত অবমাননার দায়ে অভিযুক্ত করে তাঁকেও ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। এভাবে পাকিস্তানে সেনাবাহিনীর কাছে বার বার পরাজিত হয়েছে গণতন্ত্র। পাকিস্তানের গণতন্ত্র এক তাসের ঘরের নাম, সামরিক বাতাসে যেকোনো সময় হুড়মুড়িয়ে থুবড়ে পড়ে।


বাংলা ইনসাইডার/জেডআই/জেডএ