ঢাকা, শনিবার, ১৯ জুন ২০২১, ৫ আষাঢ় ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

দেশে দেশে ঈদের ঐতিহ্যবাহী খাবার

বিশ্বজুড়ে ডেস্ক 
প্রকাশিত: ২২ আগস্ট ২০১৮ বুধবার, ০৩:০৪ পিএম
দেশে দেশে ঈদের ঐতিহ্যবাহী খাবার

ঈদ মানেই খুশি, ঈদ মানেই আনন্দ। নিজ দেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে মিল রেখে বিভিন্ন দেশে উদযাপন করা হয় মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদ। ঈদের খুশিকে দ্বিগুণ করতে তৈরি করা হয় নানা ধরনের সুস্বাদু খাবার। দেশে বিদেশে তৈরি করা হয় বিভিন্ন স্বাদের খাবার। এক এক দেশের খাবারের স্বাদ আবার এক এক রকম। উপমহাদেশের দেশগুলোতে সেমাই দিয়ে সকালের শুরুটা করা হলেও, অন্যান্য দেশগুলোতে আবার দেখা যায় সুস্বাদু নানা ধরনের ডেজার্ট বা মিষ্টান্নের সমাহার। আসুন তবে জেনে নেই বিশ্বের কয়েকটি দেশের ঈদের ঐতিহ্যবাহী সুস্বাদু নানা খাবার সম্পর্কে:

দক্ষিণ এশিয়া

বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার বেশিরভাগ দেশগুলোতে সাধারণত মিষ্টি জাতীয় খাবারে ঈদের সকাল শুরু হয়। ঘি, চিনি দিয়ে তৈরি সুস্বাদু সেমাই রান্না করা হয়ে থাকে ভিন্ন স্বাদে। অনেকে আবার ঘন দুধ ও নারকেলের ঝুরি দিয়ে তৈরি করে থাকে সেমাই। পাকিস্তানে ’শির খুরমা’ নামে এক বিশেষ ধরনের সেমাই তৈরি করা হয়। এটি তাদের দেশে ঈদের জনপ্রিয় খাবার। এছাড়া ঈদের দিন বিভিন্ন ধরনের খাবার যেমন- জর্দা সেমাই, কুনাফা, ক্ষীর, ফিরনি প্রভৃতি খাবারের প্রচলন রয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে।

মরক্কো

আফ্রিকার পশ্চিম সীমান্তের দেশ মরক্কোতেও মহা সমারোহে ঈদ-উল-আযহা উদযাপিত হয়। এখানে ঈদের বিশেষ খাবারের নাম হলো ‘তাজিন’। তবে মরক্কোর বিশেষ এই খাবারটি শুধু মরক্কোতেই নয়, পুরো আফ্রিকাতেই বেশ জনপ্রিয়। সবজির সঙ্গে মাছ, মাংস ভাপে দিয়ে তৈরি করা হয় ঈদের এই সুস্বাদু খাবার তাজিন।

রাশিয়া

পূর্ব ইউরোপের দেশ রাশিয়ার জনসংখ্যার প্রায় ১৫ শতাংশ মুসলিম। মিষ্টির পরিবর্তে ঝাল বা মাংস জাতীয় খাবার রাশিয়ার ঐতিহ্য। রুশ মুসলিমদের কাছে ঈদের জনপ্রিয় খাবার হলো মানতি। ডাম্পলিং বা পুলি পিঠার মতো দেখতে মাংসের পুর দিয়ে তৈরি করা এই বিশেষ ধরনের খাবার ভীষণ সুস্বাদু। মাখন বা টক ক্রিম দিয়ে পরিবেশন করা হয় এটি। তবে এলাকাভেদে এই খাবারের স্বাদে কিছুটা তারতম্য রয়েছে।

চীন

জনসংখ্যায় বৃহত্তম দেশ চীনে মুসলিমের সংখ্যা প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখের মতো। পবিত্র ঈদ উপলক্ষ্যে চীনের ঐতিহ্যবাহী খাবার হলো শানজি। চীনের মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে এই খাবারটি বেশ জনপ্রিয়। ময়দার লেই দিয়ে মোটা করে নুডুলস বানিয়ে ডুবো তেলে কড়া করে ভেজে পরিবেশন করা হয় ঐতিহ্যবাহী খাবার শানজি। এরপর বিশাল থালায় পিরামিডের মতো সাজিয়ে পরিবেশন করা হয় এই বিশেষ খাবারটি।

মধ্যপ্রাচ্য

ঈদ উপলক্ষ্যে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে মাংসজাতীয় খাবার ’ল্যাম্ব রোস্ট’ ভীষণ জনপ্রিয়। এছাড়া তৈরি করা হয় মাখন দিয়ে তৈরি এক ধরনের বিশেষ কুকি বা বিস্কিট। বিশেষ এই বিস্কিটের মধ্যে খেঁজুর বা আখরোটের পুর দিয়ে ওপরে বাদাম ও হাল্কা চিনির গুঁড়া মিশিয়ে ঈদের খাবারের সঙ্গে পরিবেশন করা হয় এটি। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে এই কুকির নামও ভিন্ন। সিরিয়ায় মামুল, ইরাকে ক্লাইচা ও মিশরে কাহাম নামে এই কুকিজ পরিচিত।

ইন্দোনেশিয়া

সবচেয়ে বেশি মুসলিমের বাস ইন্দোনেশিয়ায়। কাজেই, এখানে ঈদ উদযাপন করা হয় যথাযথ ধর্মীয় ভাব-গাম্ভীর্যের মধ্যেই। ইন্দোনেশিয়ায় ঈদ উদযাপনের প্রধান ঐতিহত্যবাহী খাবারের নাম হলো কেটুপাত। পাম গাছের পাতায় মোড়া চালের আটার পিঠার মতো দেখতে এটি। খেতেও বেশ সুস্বাদু। মাংসের তৈরি বিভিন্ন ধরনের খাবারের সঙ্গে খাবার টেবিলে পরিবেশন করা হয় দারূণ স্বাদের এই মুখরোচক খাবারটি।

আফগানিস্তান

আফগানিস্তানে ঈদের দিন সকালে বিশেষভাবে যে খাবারটি রান্না করা হয়, সেটি হল বোলানি। পাতলা রুটির ভেতরে সবজি, আলু, ডাল বা কুমড়ার পুর দিয়ে বিশেষভাবে তৈরি করা হয় এই মুখরোচক খাবারটি। পরিবেশন করা হয় টক দইয়ের সাথে। ঈদ ছাড়াও আফগানিস্তানের মুসলিমদের কাছে এই খাবারটি ভীষণ জনপ্রিয়।

বাংলা ইনসাইডার