ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

নেতৃত্ব সংকটে অস্ট্রেলিয়ার সংসদ স্থগিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১০:৫৪ এএম, ২৩ অগাস্ট, ২০১৮


Thumbnail

অস্ট্রেলিয়ায় চলমান নেতৃত্ব সংকটের মধ্যেই সংসদ অধিবেশন স্থগিত করেছে দেশটির সরকার। সংকট সমাধানে সংসদে গৃহীত সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুলকে উৎখাত করবে, এমন আশঙ্কা থেকেই অধিবেশন স্থগিত করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিবিসি এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে।

সংসদ অধিবেশন স্থগিত করার বিষয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বিল শর্টেন বলেন, ‘দেশে বর্তমানে কোনো কার্যকরী সরকার নেই। বর্তমান সরকার সংসদ মুলতবি করতে পারে, কিন্তু তারা তাদের ব্যর্থতাকে কোনোভাবেই অস্বীকার করতে পারবে না।’

বেশ কিছুদিন সহকর্মীদের বিদ্রোহের মুখে দলের নেতৃত্ব ধরে রাখার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুল। তাঁর নিজ দলের মধ্যেই বিভাজন বাড়তে থাকায় অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিতেও বিশৃঙ্খল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

এর আগে স্থানীয় সময় গত মঙ্গলবার টার্নবুল দলের নেতৃত্বের একটি ভোটে জয় পান। এরপরই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানান দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পিটার ডুটনসহ মন্ত্রিসভার ১০ জন সদস্য। তবে প্রাথমিকভাবে দুইজন মন্ত্রীর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করলেও বাকী আটজনের পদত্যাগপত্র প্রত্যাখ্যান করা হয়। এর পরেরদিনই সরকারের আরেকজন মন্ত্রী পদত্যাগ করেন। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী মন্ত্রী জেমস ম্যাকগ্র্যা তাঁর পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়েছে বলেও দাবি করেন।

সম্প্রতি কুইসল্যান্ডের উপনির্বাচনে হেরে যাওয়ায় টার্নবুলের মধ্য-ডান কোয়ালিশন আগামী বছর মে’তেই সাধরণ নির্বাচনের মুখোমুখি হবে।

বাংলা ইনসাইডার/এএইচসি/জেডএ

 



মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

থাইল্যান্ডে শিশু ডে-কেয়ার সেন্টারে বন্দুকধারীর হামলা, নিহত ৩১

প্রকাশ: ০২:২০ পিএম, ০৬ অক্টোবর, ২০২২


Thumbnail থাইল্যান্ডে শিশু ডেকেয়ার সেন্টারে বন্দুকধারীর হামলা, নিহত ২৮

বরখাস্ত পুলিশ কর্মকর্তার হামলায় থাইল্যান্ডে কমপক্ষে ৩১ জন প্রাণ হারিয়েছেন। হামলার কারণ এখনো জানা যায়নি। থাইল্যান্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় নং বুয়া লম্ফু এলাকার শিশুদের প্রি-স্কুল ডে-কেয়ার সেন্টারে এ ঘটনা ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ওই পুলিশ কর্মকর্তা সম্প্রতি বরখাস্ত হন। হামলার পর থেকে তিনি পলাতক।

পুলিশ জানিয়েছে, হতাহতের মধ্যে শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ রয়েছেন। হামলাকারীর গুলি ও ছুরিকাঘাতে হতাহতের ঘটনা ঘটে।
থাইল্যান্ডে নির্বিচারে গুলির ঘটনা খুবই বিরল।

এর আগে, ২০২০ সালে থাইল্যান্ডের নাখোঁ রাতচাসিমা এক সৈনিকের গুলিতে ৩১ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। ওই হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হন। 


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

ইমরান খানের লংমার্চ, সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত

প্রকাশ: ১২:৩৩ পিএম, ০৬ অক্টোবর, ২০২২


Thumbnail ইমরান খানের লংমার্চ, সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত

ইমরান খানের লংমার্চ ঠেকাতে পাকিস্তানে সেনা নামানোর সিদ্ধান্ত  নিয়েছে পাকিস্থান সরকার। ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) নেতা ফাওয়াদ চৌধুরী দাবি করেছেন, পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে তার দলের লংমার্চের সমস্ত ব্যবস্থা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। 

তার এই ঘোষণার পরই প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের নেতৃত্বাধীন ফেডারেল সরকার সেনাবাহিনী ডাকার এবং রাজধানী শহরে সেনা মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

মূলত পিটিআই প্রধান ইমরান খান সমাবেশের ডাক দিলে ইসলামাবাদে সেনা মোতায়েন করবে শেহবাজের সরকার। বৃহস্পতিবার (৬ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য ডন এবং ভারতীয় বার্তাসংস্থা এএনআই।

দ্য ডন পত্রিকার খবর অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রানা সানাউল্লাহর সভাপতিত্বে এক বৈঠকে ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) লংমার্চ ঠেকাতে রাজধানী ইসলামাবাদে সেনা মোতায়েনের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সরকারি সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে পাকিস্তানের প্রধান সারির এই সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের প্রবেশ বন্ধ করতে রাজধানী ইসলামাবাদের রেড জোনে পাকিস্তান সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হবে।

পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রানা সানাউল্লাহ বলেছেন, মন্ত্রিসভা সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, কোনো অবস্থাতেই পিটিআইকে ইসলামাবাদে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।

এর আগে পিটিআই চেয়ারম্যান ও পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান দলীয় কর্মীদের ইসলামাবাদে ‘হাকিকি আজাদি মার্চ’-এর জন্য প্রস্তুত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং তার দলের নেতা ও কর্মীদের শপথ নিতে বলেছিলেন যে, তারা দেশের জন্য জিহাদ বিবেচনা করে তার ডাকের পর লংমার্চে অংশ নেবেন।

ডন বলছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রানা সানাউল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে সদস্যদের অবহিত করা হয়, ইমরান খানের লংমার্চে প্রায় ২০ হাজার লোক অংশগ্রহণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। আর তাই লংমার্চ চলাকালীন ফেডারেল রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে সিন্ধ প্রদেশের পুলিশ, রেঞ্জার্স এবং এফসিকে নিযুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তানের শীর্ষ এই নিরাপত্তা কমিটি।

পাকিস্তানের সংবিধানের ২৪৫ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে, পাকিস্তানের সেনাবাহিনী রাজধানী ইসলামাবাদের রেড জোনে সরকারি ভবন এবং কূটনৈতিক এলাকা সুরক্ষিত করা এবং এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে।

এছাড়া গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ওই সভায় সদস্যরা লংমার্চের সময় অস্ত্র বহনে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত নেন। আরেক সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ জানিয়েছে, পিটিআইয়ের লংমার্চকে সমর্থন করার পরিকল্পনাকারী ফেডারেল কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত সোমবার রাজধানী ইসলামাবাদের বানি গালার বাসভবনে অনুষ্ঠিত দলীয় বৈঠকের সময় ইমরান খান খাইবার-পাখতুনখাওয়া এবং পাঞ্জাব প্রদেশের দলীয় কর্মীদের সরকারবিরোধী বিক্ষোভের চূড়ান্ত রাউন্ডের জন্য সমস্ত প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান বলে এক প্রতিবেদনে জানায় দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন।

বৈঠকে পাকিস্তানের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবারের স্বাধীনতা মিছিল ও সমাবেশ সম্পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে বাস্তবায়িত হবে। সোমবারের সেই বৈঠকে পাকিস্তানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি, পারভেজ খট্টক এবং ইয়াসমিন রশিদসহ সিনিয়র নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে বেশ কয়েকটি সূত্রের বরাত দিয়ে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন জানায়, আগামী ৯ অক্টোবর মহানবী (সা.) এর জন্মবার্ষিকীর পর যেকোনো সময় দলীয় কর্মীদের লংমার্চের ডাক দেওয়া হতে পারে।

পিটিআই প্রধান ইমরান খান দীর্ঘ সময় ধরে বারবারই বলে আসছেন যে, ‘শুধুমাত্র আগাম নির্বাচনই পাকিস্তানে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক সংকটের অবসান ঘটাতে পারে’। ইমরানের দাবি, সময়মত নির্বাচন হলে দেশ আজ যে অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে তা থেকে রক্ষা করত।

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী দাবি করেছেন, পাকিস্তানের বিরাজমান পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার একমাত্র উপায় হলো দেশে নতুন সাধারণ নির্বাচন নিশ্চিত করা।

গত মাসে পাঞ্জাবের রহিমিয়ার খান জেলায় একটি মহাসমাবেশে বক্তৃতা করার সময় ইমরান খান বলেছিলেন, সময় হলে তিনি সরকারবিরোধী বিক্ষোভের চূড়ান্ত আহ্বান জানাবেন। তিনি তখন জোর দিয়ে বলেছিলেন, তিনি নিশ্চিত যে- তিনি ‘এক বলে তিন উইকেট নিতে পারবেন’।

উল্লেখ্য, গত এপ্রিলে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে দেশজুড়ে রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ করে আসছেন ইমরান খান। এসব সমাবেশে তিনি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতা থেকে বিতাড়িত হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন। এ নিয়ে দেশটির রাজনীতিতে উত্তাপ বিরাজ করছে।

মূলত, আগামী বছরের অক্টোবরে পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচন ঘিরে দেশজুড়ে নির্বাচনী সমাবেশ করছেন ইমরান খান। তার এসব সমাবেশ ঘিরে দেশটিতে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে রয়েছে। তবে ইমরান খান বলছেন, তার জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে পড়েছে সরকার।

মূলত পাকিস্তানে আগাম নির্বাচনের দাবিতে বর্তমান জোট সরকারের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে আন্দোলন জোরদারের চেষ্টা করছে পিটিআই।

ইমরান খান   লংমার্চ   সেনা মোতায়েন  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

মেক্সিকোয় মেয়রসহ ১৮ জনকে গুলি করে হত্যা

প্রকাশ: ১০:২৬ এএম, ০৬ অক্টোবর, ২০২২


Thumbnail মেক্সিকোয় মেয়রসহ ১৮ জনকে গুলি করে হত্যা

মেক্সিকোর সান মিগুয়েল টোটোলাপান শহরের মেয়র কনরাডো মেন্ডোজা আলমেদাসহ অন্তত ১৮ জনকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার (৫ বুধবার) টোটোলাপান শহরের সিটি হলে ঘটনাটি ঘটে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশ ও কাউন্সিল কর্মীরা।

একে কাপুরুষোচিত হত্যাকাণ্ড উল্লেখ করে বিচারের দাবি জানিয়েছেন মেয়র কনরাডো মেন্ডোজা আলমেদার দল পিআরডি। হত্যাকাণ্ডের ঘটনার কঠিনতম বিচার দাবি করেছে পিআরডি। খবর বিবিসির।

একাধিক সূত্রের বরাতে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেয়র মেন্ডোজা আলমেদারকে গুলি করার আগে তার বাবা সাবেক মেয়র হুয়ান মেন্ডোজা অ্যাকোস্টাকেও হত্যা করে। নৃশংস ঘটনার পর বন্দুকধারীদের গ্রেফতারে ওই এলাকায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছে জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। শহরের মোড়ে মোড়ে চেক পোস্ট বসিয়ে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এ ঘটনায় শহরজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি রয়েছে, প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না অনেকে।

গত কয়েক বছর ধরে মেক্সিকোয় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা বেড়েছে। সাংবাদিক, পুলিশ, মানবাধিকারকর্মীসহ বহু মানুষকে হত্যার সঙ্গে জড়িত স্থানীয় সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো।


বন্দুক হামলা   মেক্সিকো  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

গ্রীক উপকূলে নৌকাডুবে অন্তত ১৫ অভিবাসীর মৃত্যু

প্রকাশ: ০৯:৫৩ এএম, ০৬ অক্টোবর, ২০২২


Thumbnail গ্রীক উপকূলে নৌকাডুবে অন্তত ১৫ অভিবাসীর মৃত্যু

গ্রীক উপকূলে নৌকাডুবির ঘটনায় অন্তত ১৫ অভিবাসী মারা গিয়েছেন। এ ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছে আরও প্রায় ২০ জন। বৃহস্পতিবার ( অক্টোবর) ভোরে মধ্য এজিয়ান সাগরের গ্রীক দ্বীপ লেসবস উপকূলে অভিবাসীদের বহনকারী একটি নৌকা ডুবে গেলে প্রাণহানির এই ঘটনা ঘটে।

গ্রিসের কোস্টগার্ডের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডুবে যাওয়া নৌকাটিতে প্রায় ৪০ জন আরোহী ছিল। তবে এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে গ্রিসের কোস্টগার্ড।

সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ১৫টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও প্রায় ২০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তুরস্কের উপকূলের কাছে অবস্থিত লেসবস দ্বীপের পূর্বদিকে নৌকাটি ডুবে যায়।


গ্রীক উপকূল   নৌকাডুবি   অভিবাসী  


মন্তব্য করুন


ওয়ার্ল্ড ইনসাইড

বিনিয়োগে মন্দা, বেকারত্ব বাড়ার আশঙ্কা

প্রকাশ: ০৯:২১ এএম, ০৬ অক্টোবর, ২০২২


Thumbnail বিনিয়োগে মন্দা, বেকারত্ব বাড়ার আশঙ্কা

বিশ্বজুড়ে রেকর্ড উচ্চতায় মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবেলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো আগ্রাসীভাবে সুদের হার বাড়াচ্ছে। এদিকে এখনো অব্যাহত রয়েছে করোনা মহামারীর কারণে সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতা। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিপর্যস্ত অবস্থা পার করছে বিশ্ব অর্থনীতিতেও। এ অবস্থায় আগামী বছর বৈশ্বিক অর্থনীতি মন্দায় পড়তে যাচ্ছে।

অপরদিকে বিদ্যমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বিশ্ব অর্থনীতি নিয়ে আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল দুঃসংবাদই দিয়েছে। সংস্থাটি বলছে, আগামী বছরেও বিশ্বের প্রায় সব দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার কমবে, মূল্যস্ফীতির থাবা আরও বেড়ে যাবে।

বিনিয়োগ মন্দায় বাড়বে বেকারত্ব, শ্রমের মূল্য কমে যাবে। একই সঙ্গে উৎপাদনশীলতাও কমে যাবে। কৃষি উপকরণের মূল্যবৃদ্ধির কারণে এ খাতেও উৎপাদন কমবে। এতে পণ্যের দাম আরও বেড়ে যেতে পারে।

বিশ্বের প্রায় সব দেশ এখন চড়া মূল্যস্ফীতির কবলে আক্রান্ত। আগামী বছরে এ হার আরও বাড়বে। মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় অস্থিরতা আরও বেড়ে যাবে। সুদের হার বেড়ে গিয়ে বিশ্বব্যাপী বৈদেশিক বিনিয়োগকে বাধাগ্রস্ত করবে।

এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশে। এর মধ্যে বাংলাদেশের মুদ্রার মান আরও কমে যাবে। রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিলের (আইএমএফ) এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। আইএমএফ ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক অক্টোবর’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি বুধবার তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে। এছাড়া আইএমএফ এ দিনে বিশ্ব অর্থনীতি নিয়ে আরও কয়েকটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় যে বিঘ্ন করোনার সময় থেকে ঘটছে, তা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর আরও বেশি প্রকট হয়েছে। এ কারণে বিশ্বব্যাপী পণ্যের সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় একদিকে দাম বেড়েছে, অন্যদিকে উৎপাদনও কম হয়েছে।

পণ্যমূল্য বাড়ার কারণে প্রায় সব দেশেই মূল্যস্ফীতির হার রেকর্ড পরিমাণে বেড়েছে। ইউরোপ-আমেরিকায় গত ৪০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যস্ফীতি এখন। থাইল্যান্ডে গত ১০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে সুদের হার বেড়ে গেছে। এ হার আরও বাড়বে। সুদের হার বাড়ার কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব আরও বাড়বে। 
এতে বলা হয়, মূল্যস্ফীতির হার নিয়ন্ত্রণে উন্নত দেশগুলো সংকোচনমুখী মুদ্রানীতি অনুসরণ করছে।

এতে অর্থের প্রবাহ কমে যাবে। কিন্তু এতে মূল্যস্ফীতির হার কতটুকু কমবে সে নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কেননা বিশ্ববাজারে পণ্য বাড়ছে এবং মুদ্রার মান কমে যাচ্ছে। একই সঙ্গে সরবরাহ ব্যবস্থাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। 

তবে প্রতিবেদনে সুখবর দিয়ে বলা হয়, আগামী বছরে জ্বালানি তেলের দাম আরও কমবে। এর প্রভাবে মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা কমতে পারে। তবে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় কর্মসংস্থানের গতি বাড়বে না। ফলে বেকারত্ব আরও বেড়ে যাবে। 

প্রতিবেদনে আমেরিকা, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও চীনের অর্থনীতি পর্যালোচনা করে বলা হয়, এদের জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার কমার কারণে ভোগের মাত্রা কমে যাবে। এর প্রভাবে বিশ্বের স্বল্পোন্নত দেশগুলোর পণ্য রপ্তানি বাধাগ্রস্ত করবে।

যা ওইসব দেশের ব্যালেন্স অব পেমেন্টে আঘাত করবে। বেসরকারি খাতের প্রবাহ কম হওয়ার কারণে শ্রমিকদের ভাতা কমে যাবে। এতেও ভোগের মাত্রা কমে যাবে। 

এতে বলা হয়, ২০২৪ সাল পর্যন্ত অর্থনীতিতে একটি অস্থিতিশীলতা বজায় থাকবে। এরপর থেকে অর্থনীতি স্বাভাবিক ধারায় এগোবে। 

আইএমএফ’র অন্য এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতির হার আরও বাড়বে। তবে জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার কিছুটা বাড়তে পারে। ইউরোপ-আমেরিকার মন্দার কারণে রপ্তানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

করোনার প্রভাবে গত বছর মজুরির হার বৃদ্ধি পায়নি। এ বছরও এ খাতে সুখবর নেই। কারণ মুদ্রা সরবরাহ কমানোর কারণে বেসরকারি খাতের তৎপরতা কমে যাবে। ইতোমধ্যে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

ফলে মজুরিতে নেতিবাচক প্রভাব চলতি বছরও অব্যাহত থাকবে। সূত্র জানায়, ইউরোপ-আমেরিকার মন্দার কারণে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় সেপ্টেম্বরে কমে গেছে।

আগামীতে এ হার আরও কমতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া রেমিট্যান্সও কমেছে। তবে রেমিট্যান্স বাড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিনিয়োগ   মন্দা   বেকারত্ব  


মন্তব্য করুন


বিজ্ঞাপন