ঢাকা, রোববার, ০৯ আগস্ট ২০২০, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

রক্ষীবিহীন জেলখানা

বিশ্বজুড়ে ডেস্ক 
প্রকাশিত: ২৪ আগস্ট ২০১৮ শুক্রবার, ০৭:২৯ পিএম
রক্ষীবিহীন জেলখানা

কারাবন্দীর সংখ্যার দিক থেকে ব্রাজিলের অবস্থান বিশ্বে চতুর্থ। দেশটির কারাগারগুলোতে সন্ত্রাসীদের আধিপত্য, দাঙ্গা হাঙ্গামার ঘটনা প্রায়ই আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলোর শিরোনামে আসে। পাশাপাশি ধারণ ক্ষমতার তুলনায় কয়েকগুণ বেশি বন্দী রাখা এবং কারাগারের ভেতরের শোচনীয় অবস্থার কারণেও দেশটির দুর্নাম রয়েছে। কিন্তু এর ঠিক বিপরীত চিত্রও আছে।

অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য প্রোটেকশন অ্যান্ড অ্যসিসটেন্স টু কনভিক্টস (এপ্যাক) নামে একটি সংস্থা ব্রাজিলে কতগুলো কারাগার পরিচালনা করে। পৃথিবীর অন্য যেকোনো দেশের বন্দীশালা থেকে একেবারেই ভিন্ন ওই কারাগারগুলো। সেখানে নেই কোনো কারারক্ষী, নেই কোনো অস্ত্র।

ব্রাজিলে এপ্যাক পরিচালিত ৪৯টি কারাগার রয়েছে। ১৯৭২ সালে একদল ক্যাথলিক খ্রিস্টান প্রথম এ ধরনের কারাগার প্রতিষ্ঠা করেন। এভিএসআই ফাউন্ডেশন নামে ইতালির একটি এনজিও এবং ব্রাজিলের সাবেক কারাবাসীদের একটি প্রতিষ্ঠান এর অর্থায়ন করে থাকে।

গত মার্চে ব্রাজিলের উত্তরাঞ্চলের রনডোনিয়া এলাকায় এপ্যাক এর নতুন একটি কারাগার উদ্বোধন করা হয়। সেখানকার বন্দীরা নিজেদের পোষাকই ব্যবহার করতে পারেন। প্রচলিত কারাগারগুলোর মতো আসামিদের জন্য নির্দিষ্ট পোশাক পড়তে হয় না তাদের। এছাড়াও কারাগারের সেলগুলোতে আয়না ও মেকআপ সরঞ্জামেরও ব্যবস্থা রয়েছে।

ব্রাজিলের পটভূমিতে এপ্যাক পরিচালিত কারাগারগুলো অনেক বেশি নিরাপদ, সস্তা, এবং মানবিক বলেই স্বীকৃতি পাচ্ছে। এই কারাগারগুলোতে যে বন্দীদের আনা হয় তাদের বেশিরভাগই আসে প্রচলিত জেলখানাগুলো থেকে। বন্দীরা তাদের অপরাধের জন্য অনুতপ্ত কিনা, সেটাই দেখা হয় এই কারাগারগুলোতে। নিয়মিত শ্রম দেওয়া এবং শিক্ষা গ্রহণের ব্যাপারে কঠোর নিয়মকানুন রয়েছে সেখানে। মাঝে মাঝে স্থানীয় অধিবাসীদের সঙ্গে কাজ করতেও দেওয়া হয় তাদের। সেখানকার বন্দীদের `রিকুপারেন্দোস` নামে ডাকা হয়।  এর অর্থ যাদের আরোগ্য লাভের প্রক্রিয়া চলছে। এভিএসআই ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি জ্যাকোপো সাবাতিয়েলো জানান, এই কারাগারগুলোর মূল নীতি হচ্ছে কঠোর পরিশ্রম করা এবং অন্যকে ভালবাসা।

এপ্যাক এর কারাগার থেকে কোনো বন্দী পালানোর চেষ্টা করলে তাকে ব্রাজিলের প্রচলিত কোন কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে পাত্রিসিয়া নামের একজন বন্দী বলেন, ‘আমি কখনই সেখানে ফিরে যেতে চাই না। সেখানে ছোট একটা ঘরে ২০ জন বন্দীকে থাকতে হতো। ঘুমাতে হতো নোংরা তোষকের ওপর। আর যে খাবার দেওয়া হতো তা ছিল জঘন্য।’


বাংলা ইনসাইডার/ এএইচসি/জেডএ