ঢাকা, রোববার, ১৭ অক্টোবর ২০২১, ২ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

বাতিল হয়েছে মিয়ানমার সেনা প্রধানের ফেসবুক

বিশ্বজুড়ে ডেস্ক 
প্রকাশিত: ২৮ আগস্ট ২০১৮ মঙ্গলবার, ১১:১৯ এএম
বাতিল হয়েছে মিয়ানমার সেনা প্রধানের ফেসবুক

মিথ্যা ও বিদ্বেষমূলক তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে মিয়ানমারের সেনা প্রধান মিন অং লাইং কে নিষিদ্ধ করেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক। দেশটির সেনাবাহিনীর সব অফিসিয়াল পেজও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

এর আগে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ‘গণহত্যার অভিপ্রায়` থেকেই রাখাইনের অভিযানে রোহিঙ্গা মুসলমানদের নির্বিচারে হত্যা, নারী নিপীড়ণের মতো ঘটনা ঘটিয়েছে বলে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ গঠিত স্বাধীন আন্তর্জাতিক ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইন প্রয়োগের নামে ভয়ঙ্কর ওই অপরাধ সংঘটনের জন্য মিয়ানমারের সেনাপ্রধান এবং জ্যেষ্ঠ পাঁচ জেনারেলকে বিচারের মুখোমুখি করার সুপারিশ করেছে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন। অনুসন্ধান মিশনের আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে গুরুতর মানবাধিকার লংঘনের অপরাধের প্রামাণ্য খুঁজে পেয়েছেন।

জাতিসংঘের এ প্রতিবেদন প্রকাশের পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক মিয়ানমারের সেনা প্রধানসহ মিয়ানমারের ২০ জন নাগরিক ও সংস্থাকে ফেসবুকে নিষিদ্ধ করার বিষয়ে বিবৃতি প্রদান করে।

ফেসবুক কর্তৃপক্ষ সেই বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা মিয়ানমারের ২০ জন নাগরিক ও সংস্থাকে ফেসবুকে নিষিদ্ধ করছে। তারা জানায়, ‘আমরা পুনরায় তাদেরকে জাতিগত ও ধর্মীয় উত্তেজনা উস্কে দেওয়ায় আমাদের সেবা ব্যবহার প্রতিরোধে আমরা ফেসবুকের ছয়টি পাতা ও অ্যাকাউন্ট ফেসবুক থেকে সরিয়ে ফেলি। আমরা এসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত থাকা ইনস্টাগ্রাম থেকে একটি অ্যাকাউন্ট বাতিল করেছি। এ ২০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার বাতিল করেছি।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মিয়ানমারের জাতিগত সন্ত্রাস বাস্তবিকই ভয়াবহ। চলতি মাসের গোড়ায়, ফেসবুকে ভুল তথ্যের মাধ্যমে সহিংসতা ছড়ানো প্রতিরোধে পদক্ষেপ নেওয়ায় ফেসবুক এক আপডেট শেয়ার করে। ১৮টি ফেসবুক ও একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট এবং ৫২ টি ফেসবুক পাতা সরানো হয়েছে যেগুলো ১২ মিলিয়ন লোক এসব অ্যাকাউন্ট ও পাতা ফলো করতো। তারা এসব অ্যাকাউন্ট ও পাতাগুলোর ডাটা ও কনটেন্ট সংরক্ষণ করে রেখে পাতাগুলো বাতিল করা হয়েছে। তারা জানায়, তারা মিয়ানমারে ফেসবুকের অপব্যবহার প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে থাকবে।

প্রসঙ্গত, মিয়ানমারে প্রায় ৯ দশমিক ৭ মিলিয়ন লোক নিয়মিত ফেসবুক ব্যবহার করেন। ফেসবুক মিয়ানমারে জনগণের যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তবে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও কট্টরপন্থি বৌদ্ধরা ফেসবুকের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্যও প্রচার করেছে।


বাংলা ইনসাইডার/এসএইচ/জেডএ