ঢাকা, রোববার, ১৭ অক্টোবর ২০২১, ২ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

যে শহরের কোনো বাড়িতেই দরজা নেই

বিশ্বজুড়ে ডেস্ক 
প্রকাশিত: ২৮ আগস্ট ২০১৮ মঙ্গলবার, ০৮:২৭ পিএম
যে শহরের কোনো বাড়িতেই দরজা নেই

ভারতে মহারাষ্ট্রের ছোট্ট একটি শহর শনি শিঙনাপুর। সাধারণ একটি শহরের মতো মনে হলেও পৃথিবীর অন্য যেকোনো এলাকার থেকে ভিন্ন এই শহরটি। ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় ২০০ টির মতো বাড়ি রয়েছে সেখানে। কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার হলো, কোনো বাড়িতেই নিরাপত্তার জন্য দরজা বা তালা ব্যবহারের প্রচলণ নেই শহরটিতে। সেখানে দেবতার পূজা করা হয়, কিন্তু কোনো মন্দির নেই। ৩০০ বছর ধরে সেখানকার বাসিন্দারা এভাবেই বসবাস করে আসছে। শনি শিঙনাপুরের দোকানপাট এমনকি ব্যাংকেও তালা ব্যবহার করা হয় না। শহরটির কোথাও তালা-চাবি বিক্রিও হয় না। 

শনি শিঙনাপুরের বাসিন্দারা নিরাপত্তার জন্য কেবলমাত্র দেবতা শনির ওপরেই আস্থা রাখেন। তাদের বিশ্বাস, দেবতা শনি থাকতে অন্য কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রয়োজনই নেই। কোনো বাড়িতে চোর আসলেও সে চুরি করতে পারে না। নিজে থেকেই ফিরে যায় সে। এমনটাই জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মূল্যবান সামগ্রী রাখার জন্য কোনো ট্রাঙ্ক বা লকারও দরকার হয় না তাদের। সাধারণ রান্নার সামগ্রী রাখার জার বা কন্টেইনারেই টাকা, স্বর্ণালঙ্কারসহ যেকোন ধরনের মুল্যবান জিনিসপত্র রেখে দেয় তারা। কেউ সেসব চুরি করলে অন্ধ হয়ে যাবে বলে বিশ্বাস করা হয় সেখানে। কেউ অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে কোনো কাজ করলে পরবর্তী সাত বছর তাকে দুর্দশা ভোগ করতে হবে বলেও বিশ্বাস করেন স্থানীয়রা।

শিঙনাপুরের বাসিন্দাদের অতিথিপরায়ণতার জন্যেও সুখ্যাতি রয়েছে। প্রতিদিন শহরটিতে প্রায় ৪০ হাজার পর্যটক ও পূণ্যার্থীর আগমন ঘটে। সেখানকার বাসিন্দাদের সকলেই অতিথিপরায়ণ এবং অত্যন্ত শান্ত স্বাভাবের বলেই জানিয়েছেন পর্যটকরা। শহরটির ঘরগুলোর দরজাই শুধু নয়, বাসিন্দাদের হৃদয়ও অতিথিদের জন্য সবসময়ই খোলা থাকে বলে জানিয়েছে তারা।

শনি শিঙনাপুরে কোনো পুলিশ স্টেশনও ছিল না। তবে পর্যটক ও পূন্যার্থীদের সাহায্য করার জন্য ২০১৫ সালে সেখানে একটি থানা উদ্বোধন করা হয়। 

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘আমাদের কোনো নিরাপত্তা ক্যামেরারও দরকার হয় না। কারণ ঈশ্বর সবসময়ই আমাদের দেখছেন। বিদ্যুৎ বিভ্রাট বা অন্য কোনো কারণে নিরাপত্তা ক্যামেরার কাজ বন্ধ থাকতে পারে কিন্তু ঈশ্বর সবসময়ই সজাগ থাকেন। কোনো কিছুই তাঁর দৃষ্টি এড়িয়ে যেতে পারে না।’

একজন পর্যটক বলেন, ‘এখানকার বাসিন্দারা তাদের সম্পদ নয় বরং বিশ্বাসকেই সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হিসেবে সংরক্ষণ করছে। বর্তমান বিশ্বে এটা সত্যিই বিরল এক দৃষ্টান্ত।’

বাংলা ইনসাইডার/এএইচসি