ঢাকা, রোববার, ১৭ অক্টোবর ২০২১, ২ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

বিমসটেক কী এবং কেন?

বিশ্বজুড়ে ডেস্ক 
প্রকাশিত: ৩০ আগস্ট ২০১৮ বৃহস্পতিবার, ০২:৩২ পিএম
বিমসটেক কী এবং কেন?

নেপালের কাঠমান্ডুতে বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টিসেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশনের (বিমসটেক) চতুর্থ শীর্ষ সম্মেলন শুরু হয়েছে আজ। বঙ্গোপসাগর উপকূলবর্তী সাতটি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন এই সম্মেলনে। এই সম্মেলনের প্রাক্কালে অনেকের মধ্যে প্রশ্ন উঠতে পারে এই সংগঠনটি কী? কেন গঠন করা হয়েছিল? এর উদ্দেশ্য, নীতি এবং পরিকল্পনাই বা কী? এই বিষয়গুলোই এখানে তুলে ধরা হলো:

১৯৯৭ সালের ৬ জুন থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের একটি বৈঠকে একটি নতুন আন্তঃআঞ্চলিক জোট গঠন করা হয়। সভায় অংশগ্রহণকারী মূল আলোচক দেশগুলোর নামের অনুযায়ী নতুন এই জোটের নাম দেওয়া হয় বিসটেক (বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা অ্যান্ড থাইল্যান্ড ইকোনোমিক কোঅপারেশন। জোটের শুরুর দিকে মিয়ানমার পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র হিসেবে অংশ নেয়। পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালের ২২ ডিসেম্বর জোটের প্রথম মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে দেশটিকে পূর্ণ সদস্য হিসেবে গ্রহণ করা হয়। মিয়ানমারের যোগদানের পর জোটের নাম পরিবর্তন করে বিমসটেক করা হয়।

১৯৯৮ সালের ডিসেম্বরে ঢাকায় অনুষ্ঠিত বিমসটেক এর মন্ত্রী পর্যায়ের দ্বিতীয় বৈঠকে নেপালকে পর্যবেক্ষকের মর্যাদা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২০০৩ এ নেপাল ও ভূটানকে জোটের পূর্ণ সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

বিমসটেক এর প্রথম শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ২০০৪ সালের ৩১ জুলাই। ওই সম্মেলনে সদস্য রাষ্ট্রগুলো জোটের নাম পরিবর্তনের পক্ষে সিদ্ধান্ত নেন। জোটের পরিবর্তিত নাম হয়, বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টিসেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশনের (বিমসটেক)।

২০১৪ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর ঢাকায় বিমসটেক এর সদরদপ্তর উদ্বোধন করা হয়। সংগঠনটির মূল উদ্দেশ্য হলো, দক্ষিণ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া এবং বঙ্গোপসাগর  উপকূলের দেশগুলোর মধ্যে প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে পারষ্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করা। এছাড়াও ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন, মানব সম্পদ কৃষি, যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন খাতের সার্বিক উন্নয়নও বিমসটেক এর মূল উদ্দেশ্যের অন্তর্ভুক্ত।

বিমসটেক সভাপতি নির্ধারনের ক্ষেত্রে সদস্য দেশগুলোর নামের আদ্যাক্ষরের অগ্রক্রম নীতি অনুসরন করে। একারণে বিমসটেকের সভাপতিত্বের পর্যায়ক্রম শুরু হয় বাংলাদেশকে দিয়ে। ১৯৯৭-১৯৯৯ সাল পর্যন্ত বিমসটেকের সভাপতিত্ব করে বাংলাদেশ। এর পর ভারত ২০০০ সালে, মায়ানমার (২০০১-২০০২), শ্রীলঙ্কা (২০০২-২০০৩), থাইল্যান্ড (২০০৩-২০০৫) সালে সভাপতিত্ব করে।  ২০০৫ থেকে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, বিমসটেক এর উন্নয়ন সহযোগীর ভূমিকা পালন করে আসছে।

বিশ্লেষকদের কেউ কেউ বলছেন, দক্ষিণ এশিয়ার জোট সার্ককে পেছনে ফেলে বিমসটেককেই বর্তমানে এ অঞ্চলে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিমসটেকের মাঝেই সার্ক বিলীন হয়ে যেতে পারে এমনটাও বলেছেন কেউ কেউ। এ বিষয়ে দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জানান, বিমসটেক আর সার্কের লক্ষ্য ভিন্ন। সার্ক দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর জোট। আর বিমসটেক হলো, বঙ্গোপসাগরকে ঘিরে থাকা বা বাণিজ্যের জন্য এর ওপর নির্ভরশীল দেশগুলোর জোট। অতএব, একটির কারণে আরেকটির গুরুত্ব কমে যাওয়ার কোন কারণ নেই। 

বাংলা ইনসাইডার/এএইচসি/জেডএ

বিষয়: বিমসটেক