ঢাকা, শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ১ পৌষ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

যে শহরে বিড়াল পোষা নিষিদ্ধ

বিশ্বজুড়ে ডেস্ক 
প্রকাশিত: ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ রবিবার, ০৯:২৬ পিএম
যে শহরে বিড়াল পোষা নিষিদ্ধ

আদুরে চেহারা আর মিষ্টি স্বভাবের কারণে বিশ্বের সর্বত্রই বিড়ালের জনপ্রিয়তা ব্যাপক। কিন্তু দুষ্ট মিষ্টি এই প্রাণীটির উপরেই নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে নিউজিল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলীয় ওমাউই শহর কর্তৃপক্ষ। বন্য প্রাণী রক্ষার চেষ্টা হিসেবেই এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলে দাবি তাদের।  

শহর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওমাউইতে সব বিড়ালের নিবন্ধন করতে হবে। সেগুলোর শরীরে মাইক্রোচিপ বসাতে হবে এবং বন্ধ্যা করতে হবে। পোষা বিড়ালের মৃত্যু হলে শহরটির বিড়ালপ্রেমীরা নতুন করে আর বিড়াল পালনের অনুমতি পাবেন না বলেও জানানো হয়েছে।

ওমাউইর পাখি সংরক্ষণাগার দ্য স্মিথসোনিয়ান মাইগ্রেটরি বার্ড সেন্টারের প্রধান ড.  পিটার মারা বলেন, প্রতিবছর কোটি কোটি পাখি এবং স্তন্যপায়ী প্রাণীর হত্যা করে এসব বিড়াল। তাই এদের যেখানে সেখানে ঘুরে বেড়ানো বন্ধ করা উচিৎ।

এক গবেষণায় দেখা গেছে, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়াতে বিড়ালের শিকার হয়ে কয়েকটি প্রজাতির প্রাণী বিলুপ্ত হয়ে যেতে বসেছে। তাই বিড়াল পালনে বিধি-নিষেধ আরোপ করাটা সঠিক পদক্ষেপ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ‘ওমাউইতে পোষা বিড়ালগুলো যেভাবে আরাম-আয়েশে দিন কাটাচ্ছে সেভাবেই তারা থাকবে। আমরা কেবল নতুন বিড়াল পালনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছি।

ওমাউই ল্যান্ড কেয়ার চ্যারিটেবল ট্রাস্টের চেয়ারম্যান জন কলিনস বলেন, ‘অত্যন্ত মূল্যবান ইকো সিস্টেমের ভারসাম্য রক্ষায় বিড়াল পালনের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। আমরা বিড়াল বিদ্বেষী নই। কিন্তু বন্যপ্রাণী সমৃদ্ধ পরিবেশ নিশ্চিত করতে এই নিষেধাজ্ঞাটা জরুরি।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, বিড়াল বিশ্বের ১০০টি ভয়ংকর আক্রমণাত্মক নন-নেটিভ প্রজাতির মধ্যে অন্যতম। অন্তত ৬৩ প্রজাতির প্রাণী বিড়ালের আক্রমণের কারণে বিলুপ্তির মুখে রয়েছে। ওমাউইতে এই সমস্যাটি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

সাম্প্রতিক এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৮৬ মিলিয়ন পোষা বিড়াল রয়েছে। প্রতি বছর দেশটিতে প্রায় চার বিলিয়ন পাখি এবং ২২ বিলিয়ন স্তন্যপায়ী প্রাণী বিড়ালের আক্রমণের শিকার হচ্ছে। ব্রিটেনে এ সংখ্যা ৫৫ মিলিয়ন জানিয়েছে।

অস্ট্রেলিয়াতেও প্রতি রাতে বিড়াল বহু বিরল প্রজাতির প্রাণীর মৃত্যুর কারণ হচ্ছে। ২০১৫ সাল থেকে সেখানে বিড়ালের কবল থেকে প্রাণীদের রক্ষা করতে বিশ্বের বৃহত্তম ক্যাটপ্রুফ বেষ্টনীর ব্যবস্থা করে। রাতে পোষা বিড়ালের বাড়ির বাইরে যাওয়া বন্ধ করতে সেখানে জাতীয়ভাবে কারফিউও জারি করা হয়। গত বছর কুইন্সল্যান্ডের স্থানীয় কাউন্সিল অফিস বন্য বিড়ালের মাথার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করলে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

ওমাউইর বাসিন্দারা বিড়াল পালনের ওপর নিষেধাজ্ঞাকে অগ্রহণযোগ্য বলে মনে করছে। অনেকে বলছেন, বিড়ালের থেকে মানুষ আরও বেশি বন্য প্রজাতি ধ্বংস করছে। এ কারনে মানুষের বংশবিস্তারও কি রোধ করা উচিৎ নয়?

বাংলা ইনসাইডার/এএইচসি/জেডএ