ঢাকা, রোববার, ১৭ অক্টোবর ২০২১, ২ কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

যে কারাগারগুলোর কথা শুনলে আঁতকে উঠবেন?

বিশ্বজুড়ে ডেস্ক 
প্রকাশিত: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮ শুক্রবার, ০৪:৩১ পিএম
যে কারাগারগুলোর কথা শুনলে আঁতকে উঠবেন?

কারাগার শব্দটি শুনলে অপরাধ, বন্দি অবস্থা, খুন, সিনতাই ইত্যাদি অনেক কিছু মাথায় আসে। আবার মনে আসে বিখ্যাত সেইসব নেতাদের কথা, যারা কারাবন্দি থেকেই দেশকে পৃথিবীর মানচিত্রে উজ্জ্বল করেছেন। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কারাগারগুলোতে লেখাপড়া, খেলাধুলাসহ কারাবন্দিদের জন্য নানা ধরনে সুযোগ সুবিধা থাকে। তবে বিশ্বে এমনও কিছু কারাগার আছে, যার কথা শুনলে আঁতকে উঠতে হয়। আজকে এমনই কিছু কারাগার সম্পর্কে জানাব:

১. ক্যাম্প ২২:

উত্তর কোরিয়ার একটি কারাগার ক্যাম্প ২২। ২০১২ সালে এই কারাগার থেকে একজন রক্ষী চীনে পালিয়ে যায়। তখনই প্রথম এই কারাগারটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের নজরে আসে। জানা যায়, উত্তর কোরিয়ার রাজনৈতিক বন্দিদের এখানে এনে রাখা হয়। এমনকি আন্দোলনের শিকড় উপরে ফেলার জন্য পর্যায়ক্রমে তিন পুরুষ ধরে পরিবারের সদস্যদের এখানে এনে রাখার ঘটনাও ঘটেছে। ১৯৬৫ সাল থেকে এখানে প্রায় ৫০,০০০ বন্দি আনা হয়। এদরকে গিনিপিগ হিসেবে ব্যবহার করে ল্যাবে রাসায়নিক বোমা সহ অনেক ধরনের মরণাস্ত্রের পরীক্ষা করা হয়।

২. কারানডিরো:

ব্রাজিলের একটি ভয়ঙ্কর কারাগার কারানডিরো। ৪৬ বছরের ইতিহাসে কয়েক হাজার কয়েদী হত্যার ঘটনা ঘটেছিল এই কারাগারে। এর মধ্যে সবথেকে বড় ঘটনাটি ঘটে ১৯৯২ সালে। এসময় সেখানকার পাহারদারদের নৃশংসতায় ১৩০০ কয়েদী মারা যায়। এরপর ২০০২ সালে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিবেদনের পর ব্রাজিল সরকার এটি বন্ধ করে দেয়।

৩. টাডমোর মিলিটারী প্রিজন:

সিরিয়াতে অবস্থিত বিশ্বের আরেকটি ভয়ঙ্কর কারাগার টাডমোর মিলিটারী প্রিজন। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এর মতে এটি সর্বাধিক মানবাধিকার লঙ্ঘিত কারাগারগুলোর একটি। ১৯৮০ সালে প্রেসিডেন্ট হাফিজ আল আসাদ তাঁর ওপর আক্রমণের অভিযোগে প্রায় ২৪০০ বন্দিকে হত্যা করেন। আর এই ঘটনা ঘটেছিল মাত্র ২ সপ্তাহের মধ্যে।

৪. বাং কোয়াং কারাগার:

বাং কোয়াং কারাগারটি থাইল্যান্ডে অবস্থিত। এই কারাগারে বন্দিদের অনেকেই প্রথম মাসের ডিটেশন এর সময়ই পাগল হয়ে যায়। এটি থাইল্যান্ডের সবচেয়ে সহিংস কারাগার হিসেবে পরিচিত। দেশটির সবচেয়ে বিপদজ্জনক অপরাধীদের এখানে রাখা হয়। কয়েক হাজার কারাবন্দির ধারণক্ষমতা ও দূর্বিষহ জীবনযাপন জন্য এটি পরিচিত।

৫. লা সাবেন্তা:

ভেনিজুয়েলা একটি কারাগার লা সাবেন্তা। দক্ষিণ আমেরিকার মধ্যে এটি অন্যতম কুখ্যাত ও নৃশংস কারাগার হিসেবে পরিচিত। কারাগারের মধ্যকার সহিংসতা এখানকার নিত্য নৈমিত্তিক ঘটনা। একে অপরকে হত্যা করা, কোনো চিকিৎসা সেবা না দেওয়া, কম খাবার সরবরাহ, বিভিন্ন রোগ সংক্রমণ হওয়া ইত্যাদি এখানে প্রতিদিনই ঘটে থাকে।

৬. এল রোডিও:

ভেনুজুয়েলার আরেকটি কারাগার এল রোডিও। জানা যায়, হুগু স্যাভেজের শাসন আমলে অপরাধের মাত্রা প্রচণ্ড বেড়ে গিয়েছিল। তখন এই কারাগারটি তৈরি করা হয়। এই কারাগারে এখনো প্রায় ৫০,০০০ বন্দি দন্ডিত হবার অপেক্ষায় আছে। ২০১১ সালের জুনের ঘটনা, প্রায় মাসব্যাপী ঘটা এক ভয়াবহ দাঙ্গায় বহু লোক মারা গিয়েছিল। কারাগারটি রক্তগঙ্গায় পরিণত হয়েছিল।

৭. ম্যাক্সিমাম সিকিউরিটি প্রিজন:

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরেন্সে অবস্থিত একটি কারাগার হলো ম্যাক্সিমাম সিকিউরিটি প্রিজন। এটি দেশটির সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বিশিষ্ট কারাগার, যেখানে অপরাধীরা অন্য বন্দি কিংবা রক্ষীদের সঙ্গে মারামারি করা তো দূরের ব্যাপার কথাও বলতে পারে না। এই কারাগারে এমন অজস্র ঘটনা আছে, কথা বলতে না পারার কারণে মানসিক বিকারগ্রস্থ হয়ে অনেকে আত্মহত্যা করেছে।

৮. দিয়ারবাকির কারাগার:

তুরস্কের সবচেয়ে ধর্ষকামী ও শাস্তিপ্রদানকারী কারাগার দিয়ারবাকির। এই কারাগারে প্রায় সবসময়ই মানকাধিকার লঙ্ঘেনের ঘটনা ঘটে। এখানে কারাবন্দিদের  অসম্ভব শর্ত দেওয়া থেকে শুরু করে, শারীরিক মানসিক নির্যাতন, যৌন নির্যাতন, এমনকি শিশু নির্যাতন পর্যন্ত করা হয়। আর কারাগারে এই অবস্থা থেকে বাঁচার জন্য বন্দিরা ক্ষুধা ধর্মঘট, নিজেদের শরীরে আগুন লাগানো, এমকি আত্মহত্যা পর্যন্ত করে থাকে।

৯. গিতারামা কেন্দ্রীয় কারাগার:

রুয়ান্ডায় অবস্থিত গিতারামা কেন্দ্রীয় কারাগারকে পৃথিবীর নরক বলা যেতে পারে। এই কারাগারে প্রতি ১ বর্গফুট জায়গায় ৪ জন বন্দি থাকে। এখানেই তাদের থাকা, খাওয়া, ঘুম সহ অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয় কাজ করতে হয়। ৪০০ জনের জন্য নির্মিত এ কারাগারে ৭,০০০ বন্দিকে রাখা হয়। এমন আবদ্ধ অবস্থায় থাকার ফলে বিভিন্ন রোগে মারা যায় বন্দিরা। হতাশা থেকে অনেক বন্দি আবার সহবন্দিদের মাংস খাওয়ার মতো জঘন্য অপরাধও করে থাকে।

১০. আলা কার্টাজ আইল্যান্ড প্রিজন:

যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোতে অবস্থিত একটি কারাগার হলো আলা কার্টাজ আইল্যান্ড প্রিজন। ১৯২০ সালে নির্মিত এই কারাগারকে শয়তানের দ্বীপ বলা হয়। এই কারাগার এমন ভাবে নির্মিত হয়েছিল যে পালানো অসম্ভব। এখানে একে অপরের সঙ্গে দেখা কিংবা কথা বলাও নিষেধ ছিল। এই কারাগার নিয়ে নিয়ে হলিউডে অনেক চলচ্চিত্রও নির্মিত হয়েছে।


বাংলা ইনসাইডার/বিপি