ঢাকা, বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ , ৪ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

মানবাধিকারহীন মিয়ানমার, গণতন্ত্র টিকবে কি করে?

বিশ্বজুড়ে ডেস্ক 
প্রকাশিত: ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ মঙ্গলবার, ০৭:১৮ পিএম
মানবাধিকারহীন মিয়ানমার, গণতন্ত্র টিকবে কি করে?

মানবাধিকার লঙ্ঘনে বিশ্বের সব দেশের সীমা ছাড়িয়েছে মিয়ানমার। যে দেশে মানবাধিকার নেই, সে দেশে গণতন্ত্র টিকে থাকবে কি করে? একের পর এক মানবাধিকার বিরোধী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে দেশটি। রোহিঙ্গা ইস্যু থেকে শুরু করে রয়টার্সের সাংবাদিকদের রায় ঘোষণা পর্যন্ত সব ক্ষেত্রেই মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠছে দেশটির ওপর।

মত প্রকাশের স্বাধীনতার জন্য আটক করা হয়েছে সংবাদ কর্মীদের। শুধু আন্তর্জাতিক নয়, দেশটির নিজস্ব মিডিয়া গুলোতেও মত সরকার বিরোধী কোন খবর প্রকাশ করা নিষিদ্ধ সেখানে। প্রকাশ করলেই ঢুকতে হবে জেলে। যে দেশে স্বাধীনতা নেই মানবাধিকার নেই, সে দেশে গণতন্ত্র টিকবে কি করে?

সম্প্রতি রোহিঙ্গাদের তথ্য সংগ্রহের জন্য আটক করা হয় রয়টার্সের দুই সাংবাদিকদের। রাষ্ট্রের গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয় তাঁরা। বিচারের কাঠ গড়ায় দাঁড় করিয়ে সাজা দেওয়া হয় দুই সাংবাদিককে। হল ভর্তি মিডিয়া কর্মীদের সামনে এই দুই সাংবাদিককে সাত বছরের কারাদন্ড দেওয়া হয়। অবশ্য তাদের মধ্যে গুটি কয়েকই অনুগ্রহ আশা করেছিল। তবে কেউই আশা করতে পারে নি শাস্তি এতোটা কঠোর হবে।

এমন এক ঘটনা যা পুরো বিশ্বকে নাড়া দিয়েছে, পুরো বিশ্বের মানবতাবোধ জাগিয়ে তুলেছে, এ নিয়ে মাথা ব্যথা নেই গণজাগরণ নেত্রী সু চির। মুখ দিয়ে বের হরো না একটি টু শব্দও। অথচ এই সু চিই ক্ষমতায় আসার আগে সাধারণ মানুষের সঠিক বিচারের জন্য সেনাবাহিনীদের বিরুদ্ধে লড়েছেন। মানবাধিকারের জন্য লড়েছেন।

অং সান সু চি`র দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি ২০১৫’র নির্বাচনে জয়লাভ করার পর থেকেই যেন দেশের পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে। নির্বাচনে জিতলে দেশের চেহারা পাল্টাবে, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মাধ্যমগুলোকে এই প্রতিশ্রুতিই দিয়েছিলেন সুচি। দেশের চেহারা পাল্টেছে ঠিকই, তবে স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠায় নয়, স্বাধীনতা খর্ব করায়। ক্ষমতায় আসার পর যেন পুরোপুরি পাল্টে গেলেন শান্তিতে নোবেল জয়ী এ নারী নেত্রী।

প্রায় নয় মাস আগে দুই সাংবাদিক ওয়া লন ও কিউ সোয়েকে আটক করে মিয়ানমার সরকার। রাখাইনের উত্তরাঞ্চলে ১০ রোহিঙ্গাকে হত্যা করে পুঁতে রাখার বিষয়ে গোপনে কিছু তথ্য সংগ্রহ করে তাঁরা। তবে বিষয়টি মিয়ানমার নিরাপত্তা বাহিনীর নজরে চলে আসে। তাদের ধরার জন্য ফন্দি আটে পুলিশ। ইয়াঙ্গুনের কাছেই এক এলাকায় ভোজনের আমন্ত্রন জানানো হয় তাদের। সেখানেই তথ্যসহ মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে আটক হন তাঁরা। প্রলোভন দেখিয়ে তথ্যগুলো হাতিয়ে নিয়ে সেগুলো পুড়িয়ে ফেলে পুলিশ।


বাংলা ইনসাইডার/জেডআই/জেডএ