ঢাকা, শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ , ৫ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

ভূমিকম্পের ১২ বিস্ময়কর তথ্য

বিশ্বজুড়ে ডেস্ক 
প্রকাশিত: ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ বুধবার, ০৭:০৪ পিএম
ভূমিকম্পের ১২ বিস্ময়কর তথ্য

ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করা কঠিন বিষয়। এর মোকাবিলায় প্রয়োজন সতর্কতা ও সচেতনতা। প্রতি বছরই বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভূমিকম্প হয়। এতে হতাহতের ঘটনাসহ নানা ক্ষয়ক্ষতি ঘটে। প্রাকৃতিক এই দুর্যোগ সম্পর্কে অনেক কিছুই আমাদের অজানা রয়েছে। চলুন জেনে নেই ভূমিকম্প নিয়ে কিছু বিস্ময়কর তথ্য। 

বছরে লাখ লাখ ভূমিকম্প হয়

ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বছরে লাখ লাখ ভূমিকম্প হয়। এর বেশিরভাগিই বোঝা যায় না কারণ অত্যন্ত প্রত্যন্ত এলাকায় এসব হয় অথবা সেগুলোর মাত্রা থাকে খুবই কম। তবে যুক্তরাষ্ট্রে ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জিওলজিক্যাল সার্ভের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর গড়ে ১৭টি বড় ধরনের ভূমিকম্প হয় রিখটার স্কেলে যার মাত্রা ৭ এর উপরে। ৮ মাত্রার ভূমিকম্প হয় মাত্র একবার।

ভূমিকম্প হলে দিনের দৈর্ঘ্য বাড়তে বা কমতে পারে

ফলে পৃথিবীর ভর বণ্টনে পরিবর্তন ঘটতে পারে। জাপানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ২০০৯ সালের ১১ মার্চ একটি বড় ধরনের ভূমিকম্প আঘাত হানে, যার মাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৯। এর প্রভাবে পৃথিবী ঘুরতে থাকে সামান্য দ্রুত গতিতে আর তখন দিনের দৈর্ঘ্য কমে যায়। সেদিন দিন ১দশমিক ৮ মাইক্রো সেকেন্ড ছোট ছিলো।

সান ফ্রান্সিসকো মিলছে লস অ্যাঞ্জেলেসে

ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে দুই শহর কয়েক লাখ বছর পর একত্রিত হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকো শহর প্রত্যেক বছর গড়ে দুই ইঞ্চি করে লস অ্যাঞ্জেলসের দিকে সরে যাচ্ছে। শহরের এই অবস্থান পরিবর্তনের কারণ হচ্ছে সান অ্যানড্রেয়াস ফল্টের দুটো দিক ক্রমশ একটি অপরটিকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

ভূমিকম্পের আগে পানি থেকে গন্ধ বের হয়

বিজ্ঞানীরা বলছেন, ভূমিকম্পের আগে পুকুর, খাল-বিল, হ্রদ, জলাশয়ের স্থির পানি থেকে দুর্গন্ধ আসতে পারে। এমনকি সেই পানি সামান্য উষ্ণও হয়ে পড়তে পারে। প্লেট সরে যাওয়ার কারণে মাটির নিচ থেকে যে গ্যাস নির্গত হয় তার কারণে এটা হয়ে থাকে।

ভূমিকম্পের পরেও পানিতে ঢেউ উঠতে পারে

ভূমিকম্পের পরেও পুকুর বা সুইমিং পুলের পানিতে কখনো ঢেউ দেখা যায়। বিজ্ঞানীদের মতে, ভূমিকম্প শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা ধরে পানিতে তরঙ্গ অব্যাহত থাকতে পারে। মেক্সিকোতে ১৯৮৫ সালে একবার ভূমিকম্প হয়েছিলো ১৯৮৫ সালে যেবার এই মেক্সিকো থেকে ২০০০ কিলোমিটার দূরে অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুইমিং পুলের পানি ছিটকে পড়তে পড়তে শেষ হয়ে গিয়েছিল।

ভূমিকম্পের কারণেই ইনকা সভ্যতার সৃষ্টি

ভূমিকম্পের কারণে যাতে বাড়িঘর ধসে না যায় সে বিষয়টি মাথায় রেখেই ইনকা আমলের স্থাপত্য ভবন ও জাপানি প্যাগোডা নির্মিত হয়েছিলো। ৫০০ বছর আগে ইনকার স্থাপত্য কর্মীরা যখন মাচু পিচু শহর নির্মাণ করে তারা বাড়িঘর নির্মাণের ব্যাপারে একটি আদিকালের জ্ঞান কাজে লাগিয়েছিলো যাতে ঘন ঘন হওয়া ভূমিকম্পের হাত থেকে তাদের বাড়িঘর বেঁচে যেতে পারে।

বেশিরভাগ ভূমিকম্পের উৎস প্রশান্ত মহাসাগর

পৃথিবীতে যত ভূমিকম্প হয় তার অধিকাংশ, ৯০ শতাংশই হয় রিং অফ ফায়ার এলাকাজুড়ে। এই এলাকাটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে।

১০ ফুট পশ্চিমে সরে যায় চিলির শহর

চিলির কনসেপসিওন শহরে ২০১০ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি বড় ধরনের এক ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিলো । রিখটার স্কেলে যেটির মাত্রা ছিল ৮ দশমিক ৮। এর ফলে পৃথিবীর শক্ত উপরিভাগে ফাটল ধরে এবং চিলির একটি শহর ১০ ফুট পশ্চিমে সরে যায়।

ভূমিকম্পে কমে যায় এভারেস্টের উচ্চতা

নেপালে ২০১৫ সালের ২৫শে এপ্রিল আঘাত হানে ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্প। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। কমে আসে হিমালয়ের অনেক পর্বতের উচ্চতাও। মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা কমে গিয়েছিলো এক ইঞ্চির মতো।

বড় এক ক্যাটফিশের কারণে ভূ-কম্পন

প্রাচীন গ্রিকরা বিশ্বাস করতেন সমুদ্রের দেবতা পজিডন রেগে গিয়ে পৃথিবীর ওপর আঘাত করলে ভূমিকম্প হতো। ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, জাপানি এক দ্বীপে মাটির নিচে চাপা পড়ে গিয়েছিলো নামাজু নামের বিশাল এক ক্যাটফিশ। পৌরাণিক কল্পকাহিনীতে বলা হয়, অনেক ভূমিকম্প হয়েছিলো এই মাছটির কারণে।

ভূমিকম্পে প্রাণীর আচরণে পরিবর্তন ঘটে

ইন্দোনেশিয়া এবং ২০০৪ সালে প্রত্যক্ষ দর্শীরা বলেছেন যে, সুনামির আগে তারা অনেক পশু পাখিকে দেখেছেন উঁচু এলাকার দিকে ছুটে যেতে। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, ভূমিকম্পের আগে ছোট ছোট কম্পন পশুপাখিরা টের পেয়ে যায়।

ভূমিকম্পের কারণ চিহ্নিত করেন ব্রিটিশ বিজ্ঞানী

ব্রিটেনের একজন প্রকৌশলী জন মাইকেল প্রথম ভূমিকম্পের কারণ উদঘাটন করেছেন। এই আবিষ্কার হয়েছে ১৮’শ শতাব্দীর শুরুর দিকে। তাকে দেখা হয় ভূ-কম্পন বিদ্যার একজন জনক হিসেবে। তিনি বলেন, ভূ-পৃষ্ঠের বহু নিচে শিলা-খণ্ডের অবস্থান পরিবর্তনের কারণে ভূমিকম্প হয়ে থাকে।

বাংলা ইনসাইডার/জেডআই/জেডএ