ঢাকা, রোববার, ২৬ মে ২০১৯, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

‘ঘড়ি বন্ধক রেখে রুটি কিনতে হতো’

বিশ্বজুড়ে ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮ মঙ্গলবার, ০২:৩৯ পিএম
‘ঘড়ি বন্ধক রেখে রুটি কিনতে হতো’

আফ্রিকান বংশোদ্ভুত প্রথম নারী সাংবাদিক হিসেবে হোয়াইট হাউসে নিয়োজিত ছিলেন অ্যালিস ডানিগান। বলা হয়ে থাকে, শুধুমাত্র কৃষ্ণাঙ্গ হওয়ার কারণে সাংবাদিক সম্মেলনে তাঁর প্রশ্ন না-শোনার ভান করতেন প্রেসিডেন্ট আইজেনহাওয়ার।

‘অ্যাসোসিয়েটেড নিগ্রো প্রেস’-এর ওয়াশিংটন ব্যুরো চিফ হিসেবে প্রতিদিন হোয়াইট হাউসে যেতেন অ্যালিস। উপস্থিত থাকতেন প্রেসিডেন্টের সাংবাদিক সম্মেলনে। কিন্তু তাঁর কোন প্রশ্ন খেয়ালই করতেন না তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আইজেনহাওয়ার। মি. প্রেসিডেন্ট বলে চিৎকারও করতেন তিনি। কিন্তু আইজেনহাওয়ার ফিরেও তাকাতেন না তাঁর দিকে।

অ্যালিস তাঁর আত্মজীবনীতে লিখেছেন, ‘অত্যন্ত অপমানজনক ছিল সেই দিনগুলো। তবু হাল ছাড়িনি আমি। পরের দিন আবার যেতাম। একই রকম ভাবে প্রেসিডেন্টের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করতাম। কিন্তু ব্যর্থ হতাম প্রতিবারই। তবু স্বপ্ন দেখতাম, দেশের কৃষ্ণাঙ্গ মানুষগুলোও একসময় সমান অধিকার পাবেন। নারী সাংবাদিকরাও সসম্মানে কাজ করার সুযোগ পাবেন।

আইজেনহাওয়ারের আগে প্রেসি়ডেন্ট ট্রুম্যানের সময়েও হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকতা করেছেন অ্যালিস। প্রেসিডেন্টের ওয়েস্ট কোস্ট সফরে যোগ দিতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই প্রস্তাব খারিজ করে দেন ‘অ্যাসোসিয়েটেড নিগ্রো প্রেস’-এর মালিক তথা প্রধান সম্পাদক ক্লড বার্নেট। তাকে বলে হয়েছিল, ‘মেয়েরা এ ধরনের সফরে যায় না।’ তবু হাল ছাড়েননি অ্যালিস। নিজেই খরচ জোগাড় করে উঠে বসেছিলেন প্রেসিডেন্টের ট্রেনে। মধ্যরাতে মন্টানার মিসৌলাতে যাত্রাবিরতি করে ট্রেনটি। প্ল্যাটফর্মে কয়েকশ আফ্রিকান শিক্ষার্থী জড়ো হয়ে ‘কৃষ্ণাঙ্গদের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন করেন প্রেসিডেন্টকে। রাতপোশাকে ট্রেনের দরজায় দাঁড়িয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রুম্যান বলেন,‘আমি চাই এ দেশের প্রতিটি মানুষ নাগরিক অধিকার পান।’ সাংবাদিক হিসেবে সেই ঘটনার একমাত্র সাক্ষী ছিলেন অ্যালিস। পরের দিন তাঁর পত্রিকার শীর্ষ সংবাদ ছিল, ‘মাঝরাতে নাগরিক অধিকারের সমর্থনে কথা বললেন পাজামা পরা প্রেসিডেন্ট!’

তিন জন প্রেসিডেন্টেকে হোয়াইট হাউসে পেয়েছিলেন অ্যালিস। এর মধ্যে প্রেসিডেন্ট কেনেডিকে তিনি সবচেয়ে পছন্দ করতেন বলে জানান। যখনই কোন প্রশ্ন করার জন্য হাত তুলতেন অ্যালিস, প্রেসিডেন্ট কেনেডি তাঁকে প্রশ্ন করার সুযোগ দিতেন।

অ্যালিস তাঁর আত্মজীবনীতে জানান, সাংবাদিকতার কাজ করে তাকে দারিদ্রের সঙ্গেও লড়তে হয়েছে। প্রতি সোমবার বেতন পেতেন তিনি। কিন্তু তা এতটাই কম ছিল যে, শনিবারের আগেই সব শেষ হয়ে যেত। প্রতি শনিবার অফিস থেকে বেরিয়ে নিজের হাতঘড়ি বন্ধক রেখে খাবার খরচ জোগাড় করতে হতো তাকে। কিন্ত ঘড়ি বন্ধক রেখে যে অর্থ পেতেন তা দিয়ে শুধু রবিবারের রুটিটুকুই কেনা যেত। সোমবারে আবার সেই ঘড়ি ছাড়িয়ে নিয়ে হোয়াইট হাউসে যেতেন অ্যালিস।

কৃষ্ণাঙ্গ এবং নারী হওয়ার কারণে প্রতিটি ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হতে হয়েছিলো অ্যালিসকে। কিন্তু হাল না ছাড়া এই যোদ্ধার স্বপ্ন ঠিকই সত্যি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে আফ্রিকান বংশোদ্ভূত নারীরাও এখন সম্মানের সঙ্গে কাজ করতে পারছেন। অ্যালিসের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ওয়াশিংটনের সংবাদ সংগ্রহশালা মিউজিয়ামে তাঁর ব্রোঞ্জ মূর্তিও স্থাপন করা হয়েছে। 

বাংলা ইনসাইডার/এএইচসি/জেডএ