ঢাকা, বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ৫ পৌষ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

ইয়েমেন যুদ্ধ: দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে অর্ধ কোটি শিশু

বিশ্বজুড়ে ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ বুধবার, ১২:১৪ পিএম
ইয়েমেন যুদ্ধ: দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে অর্ধ কোটি শিশু

চলমান যুদ্ধের প্রভাবে ইয়েমেনে ১০ লাখেরও বেশি শিশু দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে রয়েছে। এমন সতর্ক বার্তাই দিয়েছে আন্তর্জাতিক সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন। তবে বেশ কয়েকটি দাতব্য সংস্থার মতে, দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে থাকা শিশুর সংখ্যা ৫০ লাখের কাছাকাছি। আজ বুধবার বিবিসি তাদের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়া এবং মুদ্রার মান কমে যাওয়ার কারণে ইয়েমেনের বহু পরিবারই খাদ্য সংকটে রয়েছে। বিদ্রোহী অধ্যুষিত হুদাইদাহ’র যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে খাদ্য সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। বন্দরনগরী হুদাইদাহই দেশটিতে আন্তর্জাতিক ত্রাণ পৌঁছানোর প্রধান পথ।

সেভ দ্য চিলড্রেনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান যুদ্ধের ফলে শিক্ষক ও সরকারি কর্মচারীদের বেতন প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বিলম্ব ঘটছে। এমন অনেকে আছেন যারা ২ বছর ধরে বেতন পাচ্ছেন না। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি। যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগের তুলনায় বর্তমানে খাবারের দাম অন্তত ৬৮ শতাংশ বেশি। এই একই সময়ে দেশটির মূদ্রার মান কমেছে, ১৮০ শতাংশ।

সেভ দ্য চিলড্রেনের প্রধান নির্বাহী হেল থর্নিং স্মিডট বলেন, ‘কয়েক লাখ শিশু রয়েছে যারা জানে না পরবর্তী বেলার খাবার জুটবে কিনা।’

স্মিডট আরও বলেন, ‘উত্তর ইয়েমেনের এক হাসপাতাল পরিদর্শনের সময় আমি দেখেছি, ক্ষুধার কারণে বাচ্চারা এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে যে তারা কাঁদতেও পারছে না।’

এর আগে জাতিসংঘ এক প্রতিবেদনে জানায়, বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানব-সৃষ্ট মানবিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে ইয়েমেনে। গত তিনবছরে সেখানে ৯ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে এবং প্রায় ৫৪ হাজার মানুষ আহত হয়েছে। এদের বেশিরভাগই বেসামরিক নাগরিক। দেশটির ৭৫ শতাংশ মানুষের জরুরী মানবিক সহায়তা প্রয়োজন। অন্তত সোয়া কোটি মানুষের বেঁচে থাকার জন্য জরুরী খাদ্য সহায়তা দরকার। প্রায় পৌনে দুই কোটি মানুষের জানা নেই, তাদের পরবর্তী বেলার খাবার জুটবে কিনা। পাঁচ বছরের কম বয়সী কয়েক লাখ শিশু চরম অপুষ্টিতে ভুগছে, যা তাদের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলছে। দেশটিতে স্বাস্থ্য সেবা ভেঙে পড়েছং। কলেরা আর ডিপথেরিয়া ছড়িয়ে পড়েছে।

মানব ইতিহাসের অন্যতম প্রাচীন বসতি ইয়েমেন আরব বিশ্বের সবচেয়ে গরীব দেশ হিসেবে পরিচিত। দেশটিতে লড়াইয়ের শুরুটা হয়েছিলো আরব বসন্তের মধ্য দিয়ে। আরব বসন্ত সেখানে স্থিতিশীলতা বয়ে আনবে মনে করা হলেও বাস্তবে উল্টোটাই ঘটেছে।

বাংলা ইনসাইডার/এএইচসি/জেডএ