ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৯ আশ্বিন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

আফ্রিকা সফর নিয়ে আলোচনায় মেলানিয়া

বিশ্বজুড়ে ডেস্ক 
প্রকাশিত: ০৮ অক্টোবর ২০১৮ সোমবার, ০৩:৩৯ পিএম
আফ্রিকা সফর নিয়ে আলোচনায় মেলানিয়া

সদ্যই আফ্রিকা সফর করলেন মার্কিন ফার্স্টলেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। ফার্স্টলেডি হিসেবে এটাই মেলানিয়ার প্রথম একক বিদেশ সফর। সফরে ঘানা, মালাবি, কেনিয়া ও মিসরে যান মেলানিয়া। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ছাড়াই এ সফর করায় গোটা বিষয়টিই নানা আলোচনা- সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। এখানে কয়েকটি বিষয় তুলে ধরা হলোঃ

একলা চলো নীতি নাকি ট্রাম্প বিরোধিতা?

মেলানিয়া একাই আফ্রিকা ভ্রমণ করায় অনেকেই বলতে শুরু করেন, তিনি একলা চলো নীতি গ্রহণ করছেন। আবার কেউ কেউ বলছেন, ফার্স্টলেডি আসলে এই সফরের মাধ্যমে নিজের ট্রাম্প বিরোধি মনোভাবই প্রকাশ করেছেন। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন একটু ভিন্ন কথা। তাদের মতে, মার্কিন ফার্স্টলেডিদের এমন সফর নতুন কিছু নয়। এর আগেও বেশ কয়েকজন ফার্স্টলেডি এমন সফর করেছেন।

আফ্রিকা ট্যুরে মেলানিয়া তাঁর ‘বি বেস্ট’ উদ্যোগকে সামনে রেখে মূলত নারী ও শিশু স্বাস্থ্য উন্নয়নে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তাঁর এই কর্মকাণ্ডই ট্রাম্পের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। মালাউইয়ে এইচআইভি নিয়ে কাজ করা একটি সংগঠনের পরিচালক বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের একটি নির্বাহী আদেশের কারণে আমরা মা ও শিশুকে পর্যাপ্ত সহায়তা করতে পারছি না।

আফ্রিকা সফরে একটি হাতি ও গণ্ডার সংরক্ষণকেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন মেলানিয়া। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন হাতি ও গণ্ডার শিকারের ব্যাপারে আইন শিথিল করার পক্ষপাতী।

দায়িত্ব গ্রহণের আগে থেকেই আফ্রিকা নিয়ে কড়া মন্তব্য করে আসছিলেন ট্রাম্প। ইবোলা মহামারির সময় ২০১৪ সালে তিনি বলেছিলেন, ‘পশ্চিম আফ্রিকা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সকল ফ্লাইট বাতিল করা উচিত।‘ হাইতি ও এল সালভেদরসহ বেশ কিছু আফ্রিকান দেশ নিয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘এসব দেশ থেকে কোনও অভিবাসী চায় না যুক্তরাষ্ট্র।’

টুপি বিতর্ক

আফ্রিকার দেশ কেনিয়া সফরকালে মেলানিয়ার টুপি নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। ১৯ শতকের পিথ হ্যাটের আদলে বানানো একটি টুপি পরে নাইরোবি ন্যাশনাল পার্কে সংরক্ষণ কর্মকাণ্ড দেখতে গিয়েছিলেন মেলানিয়া। ১৯ শতকে ইউরোপীয় খনিমালিকরা এ টুপি পরতেন। এতে তীব্র গরম থেকে রক্ষা পাওয়া যেত। দ্রুতই তা স্থানীয় কমান্ডিং অফিসারদের উর্দিতে পরিণত হয়। স্থানীয়দের কাছে এ টুপি হয়ে ওঠে নিপীড়নকারী এবং ঔপনিবেশিক শাসনের প্রতীক। এ কারণেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মেলানিয়াকে নিয়ে সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে।

গ্ল্যামারহীন সফর?

মেলানিয়ার আফ্রিকা সফরকে অনেকেই গ্ল্যামারহীন সফর হিসেবে অভিহিত করছেন। এ নিয়ে বিস্ময়ও প্রকাশ করছেন অনেকে। কেননা বর্তমান মার্কিন ফার্স্টলেডিকে একজন ফ্যাশন সচেতন গ্লামারাস নারী হিসেবেই জানেন সবাই। প্রায় সব সফরেই তাঁর পোশাক ও অঙ্গভঙ্গি নিয়ে নানা আলোচনা হয়। এবারের আফ্রিকা সফরও এর ব্যতিক্রম নয়। তবে এই সফরে তাঁর পোশাক ও প্রসাধনের ক্ষেত্রে গ্ল্যামারের কমতি ছিল বলে মনে করছেন বেশ কয়েকজন রূপ বিশেষজ্ঞ। কেউ কেউ আবার এ বিষয়ে দ্বিমতও পোষন করেছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এবারের আফ্রিকা সফরে নিজের গ্ল্যামারের মাধ্যমে মানুষের দৃষ্টি আকৃষ্ট করতে চাননি মেলানিয়া। এ কারণেই অন্যান্য সফরের চেয়ে এই সফরে ফার্স্টলেডিকে তুলনামূলক সাদামাটা মনে হয়েছে।

বাংলা ইনসাইডার/এএইচসি/জেডএ