ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, ৯ আশ্বিন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

‘মাইকেলের ধ্বংসলীলা অকল্পনীয়’

বিশ্বজুড়ে ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২ অক্টোবর ২০১৮ শুক্রবার, ১১:২২ এএম
‘মাইকেলের ধ্বংসলীলা অকল্পনীয়’

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় ‘মাইকেল’ অকল্পনীয় ধ্বংসলীলা চালিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন রাজ্যের গভর্নর রিক স্কট। গত বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় আঘাত হানা এই ঘূর্নিঝড়ের তাণ্ডবে এখন পর্যন্ত ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। খবর বিবিসি`র।

গভর্নর স্কট বলেন, `মাইকেল যে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে তা এক কথায় অকল্পনীয়। বহু পরিবার সর্বস্ব হারিয়েছে। অনেকের জীবনই চিরতরে বদলে দিয়েছে মাইকেল।’

বিবিসি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্লোরিডার উত্তর পশ্চিমে ব্যাপক তাণ্ডবলীলা চালিয়েছে `দানবীয়` ঘূর্ণিঝড় মাইকেল। উপকূলীয় এলাকা প্লাবিত হয়েছে। কয়েকটি এলাকায় ভূমিধসেরও সৃষ্টি হয়েছে। ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে বহু ঘর-বাড়ি। কয়েকশ’ গাছ উপড়ে পড়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এক শিশুসহ ছয়জন নিহত হয়েছে। ফ্লোরিডা, অ্যালাবামা ও জর্জিয়ার কয়েক লক্ষ বাড়িঘর বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।  বন্ধ রাখা হয়েছে স্কুল-কলেজসহ সরকারি কার্যালয়গুলো। মাইকেল এখন ক্রান্তীয় ঝড়ে পরিণত হয়ে ক্যারোলাইনার দিকে যাচ্ছে বলেও জানিয়েছে বিবিসি।

গত বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় ফ্লোরিডার প্যানহ্যান্ডেলে আঘাত হানে মাইকেল। এর প্রভাবে উপকূলীয় শহরগুলোতে তাৎক্ষণিক বন্যা দেখা দেয়। আবহাওয়াবিদরা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ধেয়ে আসার পথে ঘূর্ণিঝড়টির শক্তি অর্জনের গতি ছিল রীতিমতো বিস্ময়কর।

মার্কিন আবহাওয়াদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার ক্রান্তীয় নিম্নচাপ হিসেবে তৈরি হওয়া ঝড়টি মঙ্গলবারই দুই মাত্রার হারিকেনে পরিণত হয়। এরপর বুধবার ঘণ্টায় ১৫৫ মাইল বেগে আঘাত হানার সময় এর মাত্রা ছিল পাঁচের কাছাকাছি।

মাইকেলের তীব্র বাতাস ২০০১ সালের আগে নির্মিত স্থাপনাগুলোর জন্য বিপজ্জনক হতে পারে বলে আগেই সতর্কবার্তা দিয়েছিল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, `২০০১ সালের আগের স্থাপনাগুলো নিয়েই আমরা চিন্তিত। সেগুলো যেন টিকে থাকে আমরা সেটিই আশা করব। তবে ঝড়ের সময় সেখানে যেন কোনো লোকজন না থাকে।`

বারবার সতর্কবার্তার পরেও বেশ কিছু মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে যায়নি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর ফলে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। ফ্লোরিডার গডসেন কাউন্টিতে গাছের নিচে চাপা পড়ে মারা গেছে একজন। অন্যদিকে সেমিনল কাউন্টিতে তীব্র বাতাসে লোহার তৈরি গ্যারেজের ছাদ ছোট একটি বাড়িতে উড়ে এসে পড়ে। এতে ১১ বছর বয়সী এক মেয়ে নিহত হয় বলে জানা গেছে।

আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, মাইকেল যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানা তৃতীয় সর্বোচ্চ শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়। এর আগে ১৯৬৯ সালে মিসিসিপিতে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় ‘ক্যামিলি’ এবং ১৯৩৫ সালে ফ্লোরিডায় আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড়টির পরই এর ভয়াবহতা বর্ণনা করা হচ্ছে। ফ্লোরিডায় আঘাত হানার আগে এটি মধ্য আমেরিকার বেশ কয়েকটি দেশে তাণ্ডব চালায়। চলতি সপ্তাহেই মাইকেলের আঘাতে হন্ডুরাস, নিকারাগুয়া ও এল সালভাদরে ১৩ জনের প্রাণহানি ঘটে।

বাংলা ইনসাইডার/এএইচসি