ঢাকা, রোববার, ০৯ আগস্ট ২০২০, ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

কেমন ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাবা?

বিশ্বজুড়ে ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২ অক্টোবর ২০১৮ শুক্রবার, ০২:০৪ পিএম
কেমন ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাবা?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন কেচ্ছা প্রকাশ পেয়েই চলেছে। এবার আলোচনায় উঠে এসেছে তাঁর পরিবার। বলা হচ্ছে, ট্রাম্প এবং তাঁর সহোদররা তাদের বাবার কাছ থেকে পাওয়া সম্পদ কম দেখিয়ে বড় অঙ্কের কর ফাঁকি দিয়েছিলেন। এই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাবা ফ্রেড ট্রাম্প। কে ছিলেন এই ফ্রেড ট্রাম্প? কতটা ধনী ছিলেন তিনি? কীভাবে অর্জন করেছিলেন বিপুল সম্পত্তি? এ বিষয়গুলোই এখানে তুলে ধরা হলোঃ

কীভাবে ধনকুবের হয়েছিলেন ফ্রেড ট্রাম্প?

১৯০৫ সালে জার্মান অভিবাসী এলিজাবেথ ক্রাইস্ট আর ফ্রেডেরিক ট্রাম্প সিনিয়রের ঘরে জন্ম হয় ডোনাল্ড ট্রাম্পের পিতা ফ্রেডেরিক ক্রাইস্ট ট্রাম্পের। মাত্র ১৩ বছর বয়সে ফ্রেডের বাবা মারা যান। এরপর ১৯২০ এর দশকে মায়ের সঙ্গে মিলে নির্মান ব্যবসায় নামেন ফ্রেড। যুক্তরাষ্ট্রের কুইন্সে একক পরিবারের উপযোগী ছোট আকারের বাড়ি নির্মান শুরু করেন তিনি। মাত্র ১৭ বছর বয়সেই এই ব্যবসায় সাফল্য পান ট্রাম্প সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা। সেসময় গৃহায়ন খাতে মার্কিন সরকারের বিনিয়োগকে কাজে লাগিয়ে ব্যবসা বড় করেন তিনি। ভালো মানের বিল্ডিং বানানোর মাধ্যমে বাজারে সুনাম অর্জন করেন তিনি। তাঁর বানানো অনেক স্থাপনা এখনো টিকে আছে বলে জানা যায়।

বিতর্কিত ছিলেন তিনিও

ফ্রেড ট্রাম্প সাধারণত সরকারি অর্থায়ন প্রকল্পগুলো কম দামে কিনে নিতেন। এরপর তা চড়া দামে বিক্রি করে অতিরিক্ত মুনাফা করতেন। এই পদ্ধতি আইনগতভাবে অবৈধ না হলেও ১৯৫৪ সালে কংগ্রেসের সামনে জবাবদিহি করতে হয় তাঁকে।

১৯৭০ সালে ফ্রেডের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘুদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ আনা হয়। তিনি কৃষ্ণাঙ্গ ও পুয়ের্তো রিকো`র অভিবাসীদের কাছে বাড়ি ভাড়া দিতেন না বলে জানা যায়। সেসময় তাঁর বিরুদ্ধে নাগরিক অধিকার আইনে মামলা হয়। বাবার বৈষম্যমূলক আচরণের পক্ষে আগ্রাসী ভূমিকার জন্য তখন ডোনাল্ড ট্রাম্পও নিয়মিত সংবাদ মাধ্যমের শিরোনাম হতে শুরু করেন।

ধনী বাবার ধনী সন্তান

ট্রাম্প সবসময়ই নিজেকে একজন স্ব-প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হিসেবে বর্ণনা করেছেন। দাবি করেছেন, তিনি তাঁর বাবার কাছ থেকে মাত্র এক মিলিয়ন ডলার ঋণ নিয়েছিলেন। তবে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের ভাষ্যমতে, বর্তমান হিসাবে বাবার রিয়েল এস্টেট সাম্রাজ্য থেকে অন্তত ৪১৩ মিলিয়ন ডলার মূল্যমানের সম্পদ নিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। যার মধ্যে একটি বড় অংশেরই কর ফাঁকি দেওয়া হয়েছিল।

ডোনাল্ড ট্রাম্প এমনও দাবি করেছেন যে সম্পূর্ণ নিজের প্রচেষ্টায় বাবার ব্যবসাকে ক্ষুদ্র আঞ্চলিক গণ্ডি থেকে বের করে বৃহৎ রূপ দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু প্রকৃত সত্য হলো, বারবার ধনী বাবার সাহায্যের দরকার হয়েছিলো তাঁর। অনেকে বলেন, ফ্রেডের বিপুল পরিমান সম্পদ না থাকলে ট্রাম্প কখনই ধনকুবের হতে পারতেন না।

ফ্রেড ট্রাম্পের মৃত্যুর দেড় বছর আগেই তাঁর উত্তরসূরিরা পিতার অধিকাংশ সম্পদের মালিকানা পেয়ে যায়। সেসময় তাঁরা সম্পদের মূল্যমান উল্লেখ করেছিল ৪১ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলার। প্রকৃতপক্ষে তা ছিল এর চেয়ে বহুগুণ বেশি।

সম্প্রতি, ফ্রেড ট্রাম্পের দুইশ’র বেশি কর বিবৃতির উল্লেখ করে নিউ ইয়র্ক টাইমস জানায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বাবা তাঁদের সন্তানদের প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ দিয়ে গিয়েছিলেন। কর সংক্রান্ত নথিতে উল্লেখ রয়েছে এর বিপরীতে ৫২ দশমিক ২ মিলিয়ন ডলার কর পরিশোধ করেছিলেন তাঁরা। কিন্তু আইন অনুযায়ী, করের অঙ্কটা হওয়া উচিত ছিল ৫৫০ মিলিয়ন ডলার।

কর ফাঁকি দেওয়ার উদ্দেশ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাঁর সহোদররা ফ্রেড ট্রাম্পের সম্পদের মূল্যমান বহুগুণ কমিয়ে উল্লেখ করেছিলেন বলে জানায় নিউইয়র্ক টাইমস।

সম্পদের প্রদর্শন

সম্পদের পাহাড় গড়লেও তা প্রদর্শনে বিশ্বাস করতেন না ফ্রেড ট্রাম্প। ১৯৯৯ সালে ফ্রেড ট্রাম্প মারা যাওয়ার পর এমনটাই লিখেছিল নিউ ইয়র্ক টাইমস। ৯৩ বছর বয়সে ফ্রেড যখন মারা যান, তখন তিনি কুইন্সের জ্যামাইকা এস্টেটে বাসবাস করতেন। ট্রাম্পসহ তাঁর সহদররাও সেখানেই বেড়ে উঠেছিলেন। ফ্রেডের মৃত্যুর এক বছর পর তাঁর স্ত্রী ম্যারি অ্যানও মারা যান।

ফ্রেড ট্রাম্প সম্পদ প্রদর্শন পছন্দ না করলেও তাঁর সন্তান ডোনাল্ড ট্রাম্পের মনোভাব অনেকটাই ভিন্ন। ২০১৬ সালে নির্বাচনী প্রচারণার সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, তাঁর ব্যক্তিগত সম্পদের মূল্য ১০ বিলিয়ন ডলার। তবে সম্পদের এই অঙ্ক নিয়ে যথেষ্ট বিতর্ক রয়েছে।

পারস্পারিক মন্তব্য

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সবসময়ই তাঁর বাবার প্রশংসা করেছেন। বাবা তাঁর জীবনের অনুপ্রেরণা বলেও জানিয়েছেন তিনি। বারবার ট্রাম্প বলেছেন, তিনি শুধু তাঁর বাবার অর্থ-বিত্তই উত্তরাধিকার সূত্রে পাননি, অর্জন করেছেন তাঁর ব্যবসায়িক চিন্তাধারাও।

অন্যদিকে ফ্রেড ট্রাম্প একবার ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্পর্কে বলেছিলেন, ‘ওর দূরদর্শিতা প্রশংসনীয়। সে যেখানেই হাত দেয় সেটাই সোনায় পরিনত হয়।’

বাংলা ইনসাইডার/এএইচসি/জেডএ

বিষয়: ট্রাম্প