ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২০, ১৫ মাঘ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

জনপ্রিয় যে নেতাদের বারবার ক্ষমতায় এনেছে জনগণ

বিশ্বজুড়ে ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৯ ডিসেম্বর ২০১৮ শনিবার, ১২:২০ পিএম
জনপ্রিয় যে নেতাদের বারবার ক্ষমতায় এনেছে জনগণ

যেকোনো দেশেই সরকারপ্রধানরা ক্ষমতাগ্রহণের পর অর্ধেক মেয়াদ পার হতেই তাদের জনপ্রিয়তা কমতে শুরু করে। এমনটাই বলে থাকেন বিশ্লেষকেরা। কিন্তু এর ব্যতিক্রমও রয়েছে। বেশ কয়েকজন রাষ্ট্রনেতা বা সরকারপ্রধান রয়েছেন, যারা জনগণের ভোটে জয় পেয়ে বারবার ক্ষমতায় এসেছেন। এখানে এমন কয়েকজন জনপ্রিয় নেতার কথাই তুলে ধরা হলো:

মাহাথির মোহাম্মদ, মালয়েশিয়া

১৯৮১ সালে প্রথম মেয়াদে মালয়েশয়ার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন মাহাথির মোহাম্মদ। টানা ২২ বছর দেশ শাসনের পর ২০০৩ সালে অবসরে যান তিনি। তার শাসনামলে মালয়েশিয়া দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়। মাহাথিরের বিরুদ্ধে বিরোধীপক্ষকে কঠোর হাতে দমন করার অভিযোগ থাকলেও অর্থনৈতিক সাফল্য তাকে মালয়েশিয়ার অবিসংবাদিত নেতার আসনে বসায়। ২০০৩ সালের অক্টোবরে ক্ষমতা ছাড়ার সময় তিনি বলেছিলেন, `আমি অসন্তুষ্ট। কারণ সফল হওয়ার জন্য আমি যেসব অর্জন করতে চেয়েছিলাম, তার সামান্যই অর্জন করতে পেরেছি।’ অবসর ভেঙে এ বছর আবারও জনতার ভোটে জয় পেয়ে ক্ষমতায় এসেছেন ৯২ বছর বয়সী মাহাথির।

ইন্দিরা গান্ধী, ভারত

১৯৬৬ সালে ভারতের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন ইন্দিরা গান্ধী। এরপর ১৯৭১ সালে সাধারণ নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয় পেয়ে দ্বিতীয় বারের মত প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন তিনি। একটানা ১৯৬৬ সাল থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এই নেত্রী। এরপর ১৯৮০ সালে চতুর্থবারের মত নির্বাচনে জয়লাভ করে প্রধাননমন্ত্রী নির্বাচিত হন ইন্দিরা গান্ধী।

অ্যাঞ্জেলা মেরকেল, জার্মানি

জনগণের ভোটে জিতে টানা চতুর্থ মেয়াদে জার্মানির নেতৃত্ব দিচ্ছেন অ্যাঞ্জেলা মেরকেল। শুধু নিজ দেশই নয়; ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জি-সেভেন এর মতো আন্তর্জাতিক জোটগুলোতেও অগ্রণী ভূমিকা রাখছেন তিনি। জার্মানির ইতিহাসের প্রথম নারী চ্যান্সেলর হিসেবে ২০০৫ সালে দায়িত্ব নেন মেরকেল। এরপর থেকে শুধু তাঁর উত্থানই দেখেছে বিশ্ব। শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার কারণে নিজ দেশে তাঁর জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়লেও বহির্বিশ্বে এখনো সমান জনপ্রিয় তিনি। ‘দ্য ডিসাইডার’ নামে পরিচিত এই নেত্রী ২০২১ সালে অবসর গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছেন।

হুগো শাভেজ, ভেনেজুয়েলা

২০১৩ সালে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত টানা ১৪ বছর ভেনেজুয়েলার নেতৃত্ব দিয়ে গেছেন হুগো শাভেজ। তাকে টানা চারবার রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে নির্বাচিত করেছিলেন ভেনেজুয়েলার সাধারণ মানুষ। ১৯৯৮ সালে প্রথম রাষ্ট্র প্রধানের দায়িত্ব নেওয়ার পর শাভেজ তাঁর দেশের তীব্র খাদ্য সংকট দূর করেছিলেন। সেন্টার ফর ইকোনমিক অ্যান্ড পলিসি রিসার্চের ২০০৯ সালের এক রিপোর্টে দেখা যায়, শাভেজের এক দশকের শাসনামলে দেশের দরিদ্রতা ও অপুষ্টিজনিত মৃত্যু হ্রাস পেয়েছিল ৫০ শতাংশ। আর শিশু মৃত্যু কমেছিল এক তৃতীয়াংশ। দেশের শিক্ষার হার ৯৯ শতাংশে উন্নীত করতে পেরেছিলেন তিনি। ভেনেজুয়েলার একটি শিশুও যেন অপুষ্টিতে না ভোগে, এটাই ছিল তাঁর অঙ্গীকার।

জ্যোতি বসু, ভারত (পশ্চিমবঙ্গ)

দমন-পীড়ন বা কোনো ছল-চাতুরির আশ্রয় না নিয়ে গণতান্ত্রিকভাবেই টানা ২৪ বছর ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় ছিলেন কমরেড জ্যোতি বসু। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সদস্য থাকাকালে ২৫০ টাকা মাসিক বেতনের বড় একটা অংশ তিনি পার্টির ফান্ডে দান করতেন। বিরোধী দলীয় নেতা হওয়ার পর তাঁর বেতন কিছুটা বেড়ে দাঁড়ায় ৭৫০ টাকা। সেসময়ও নিজে বেতন না নিয়ে সেটা পার্টির কাজেই ব্যয় করতেন। সততা এবং আদর্শনিষ্ঠতা নিয়ে তাঁর ঘোরতর বিরোধীরাও কখনো প্রশ্ন তুলতে পারেনি। তাঁর নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপে গরীব জনগণও ক্ষমতার স্বাদ পেয়েছিল। জ্যোতি বসুর সময়ে পশ্চিমবঙ্গে ভারতের অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় জাতপাত ও সাম্প্রদায়িকতার বিষয়গুলোও খুবই কম ছিল বলে জানা যায়। ১৯৭৭ সালে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েছিলেন তিনি। দুই যুগ নেতৃত্ব দেওয়ার পর ২০০০ সালে শারীরিক অসস্থতার কারণে অবসরে যান জনগণের এই নেতা।

বাংলা ইনসাইডার/এএইচসি/এমআর