ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ মার্চ ২০১৯, ৬ চৈত্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

মার্কিন প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা কতটুকু?

বিশ্বজুড়ে ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯ জানুয়ারি ২০১৯ বুধবার, ০২:০০ পিএম
মার্কিন প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা কতটুকু?

মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি ভাবা হয়। তিনি চাইলেই বিশ্বে কোন বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারেন। পারেন যে কোন রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে। কিন্তু দেশের ভিতরে আসলে তার ক্ষমতা আসলে কতটুকু? তিনি যদি সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তিই হন, তাহলে কী করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বহু আকাঙ্ক্ষিত সীমান্ত দেয়াল নির্মাণ বাজেট আটকে গেল? তিনি নিজ দেশের মধ্যে কেন কোনঠাসা অবস্থায় থাকেন?

এটাই হলো মার্কিন গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য। ক্ষমতার ভারসাম্য মার্কিন সংবিধানে এমনভাবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে যেন প্রেসিডেন্টের লাগাম টেনে ধরা যায়। আবার কংগ্রেস যেন দলীয় কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে না পারে সে ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে মার্কিন সংবিধানে।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান বলছে, রাষ্ট্রপতি সে দেশের নির্বাহী শাখাগুলোর প্রধান। তার দায়িত্ব হল সংবিধানে বর্ণিত এবং কংগ্রেস অনুমোদিত রাষ্ট্রীয় আইনের যথাযথ প্রয়োগ করা। তিনি কংগ্রেস সদস্যদের ভোটে পাশ হয়ে আসা কোন বিল বা আইনেও ভেটো দিতে পারেন।

মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট নিজের মতো করে একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করতে পারেন। যে কাউকে বিশেষ ক্ষমা ঘোষণার এখতিয়ারও তার রয়েছে। এমনকি গুরুত্বপূর্ণ কোনো নীতির পরিবর্তন থেকে শুরু করে সাধারণ বিষয়েও তিনি নির্বাহী আদেশ জারি করতে পারেন। তবে কোন একক ব্যক্তি যেন নিরঙ্কুশ প্রভাব বিস্তার করতে না পারে, সেজন্যে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাকে সীমাবদ্ধও করেছে মার্কিন সংবিধান। প্রেসিডেন্টের নির্বাহী আদেশ যদি সংবিধান বহির্ভুত হয়, তবে দেশটির বিচার বিভাগ তা বাতিল করতে পারে।

প্রেসিডেন্ট বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের দূত, বিচারক এমনকি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিও নিয়োগ দিতে পারেন। তবে সেক্ষেত্রে প্রতিনিধি পরিষদ এবং সিনেটের অনুমোদনের দরকার হয়। যেকোনো চুক্তি সম্পাদনের ক্ষেত্রেও তাকে জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সমর্থন পেতে হয়।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে দেশটির কংগ্রেসে রিপাবলিকানদেরই একক আধিপত্য ছিল। ট্রাম্পের ইচ্ছামতোই চলছিল সবকিছু। কিন্তু গত বছরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর এ অবস্থা পাল্টে যায়। প্রতিনিধি পরিষদে এখন ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। এতোদিন ট্রাম্প হয়তো বুঝতেই পারেননি যে, তার ইচ্ছামতো সবকিছু চলবে না। বাজেটে নিজের চাহিদামতো বরাদ্দ পাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু এখন পরিস্থিতি পাল্টে গেছে। মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণের জন্য ট্রাম্পের চাহিদা মতো ৫৭০ কোটি মার্কিন ডলার অর্থ বরাদ্দ দেয়নি কংগ্রেস। এর জের ধরেই অচল হয়ে পড়েছে দেশটির ফেডারেল সরকারের একাংশ।

মার্কিন কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের আধিপত্যে মহাশক্তিধর ট্রাম্পকে এখন কিছুটা অসহায়ই মনে হচ্ছে। এটাই হলো চেক এন্ড ব্যালান্স বা ক্ষমতার ভারসাম্য। এটাই হলো গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।

বাংলা ইনসাইডার/এএইচসি/এমআর