ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ৭ ফাল্গুন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন প্রথাভাঙা রাজকন্যা?

বিশ্বজুড়ে ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ শনিবার, ০২:০৮ পিএম
প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন প্রথাভাঙা রাজকন্যা?

থাইল্যান্ডের রাজপরিবারে চলছে রাজা বনাম রাজকন্যা প্রবল যুদ্ধ। ৬৭ বছর বয়সী রাজকুমারী সিরিভাধানা বার্ণাভাদি দেশটির প্রধানমন্ত্রী হতে প্রার্থিতা ঘোষণা করেছেন। আর তার নিজের ছোট ভাই রাজা মাহা ভাজিরালংকর্ণ সরাসরি এর বিরোধিতা করছেন। তিনি বলছেন, রাজপরিবারের সদস্য হয়ে রাজনীতিতে যুক্ত হওয়াটা সংবিধানপরিপন্থী এবং প্রথাবিরুদ্ধ কাজ। প্রথা ভাঙার এই ফল ভয়ংকর হতে পারে বলেও হুংকার দিচ্ছেন তিনি। কিন্তু রাজার হুঙ্কারে ভড়কে যাওয়ার মানুষ যে তিনি নন, এর প্রমাণ সিরিভাধানা বহুবার দিয়েছেন। রাজপরিবারের প্রথাবিরুদ্ধ অঘটনও ঘটিয়েছেন বেশ কয়েকবার।  

যে থাই রাজপরিবারে রাজকন্যাদের কঠোর অনুশাসনের মধ্যে থাকতে হয়, সেই পরিবারের সদস্য হয়েই সিরিভাধানা কয়েকটি সিনেমায় অভিনয় করে ফেলেছেন। পড়াশোনা করেছেন ম্যাসাচুসেটস ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজিতে। ১৯৭২ সালে পরিবারের অমতেই এক আমেরিকান নাগরিককে বিয়ে করে রাজপরিচয়ও ত্যাগ করেছিলেন তিনি। কী মনে হচ্ছে, প্রথা ভাঙাকেই যিনি অভ্যাস বানিয়ে ফেলেছেন তিনি খুব সহজেই প্রধানমন্ত্রিত্বের যুদ্ধে জিতে যাবেন? বিষয়টা কিন্তু মোটেই এতোটা সহজ নয়।

সিরিভাধানা নির্বাচনের দৌড়ে টিকে থাকতে পারেন কিনা, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। থাইল্যান্ডের সংবিধান বলছে, রাজপরিবারের সদস্যদের রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ হতে হবে। তাই থাই রাজপরিবারের দীর্ঘ ইতিহাসে কখনোই রাজনীতিতে সক্রিয় হননি কেউ।

রাজকন্যা সিরিভাধানা বলছেন, তিনি রাজপরিচয় ত্যাগ করেছেন, সাধারণ মানুষের মতোই জীবন যাপন করছেন। তাই দেশের একজন নাগরিক হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে দেশকে বদলে দেওয়ার অধিকার তার আছে। কিন্তু তিনি কি আসলেই রাজপরিচয় এবং সুযোগ-সুবিধা ভোগ করা ত্যাগ করেছেন? স্বয়ং তার ভাই রাজা ভাজিরালংকর্ণ বলছেন, সিরিভাধানা এর সবকিছুই ভোগ করছেন। দেশটির মিডিয়াও জানাচ্ছে, ২০০১ সালে বিদেশি স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর দেশে ফিরে সিরিভাধানা আবারও রাজ পদমর্যাদা গ্রহণ করেন। শেষ পর্যন্ত তিনি নির্বাচনী দৌড়ে থাকতে পারবেন কিনা, তা নির্ভর করছে থাই নির্বাচন কমিশনের ওপর।

বিশ্লেষকরা বলছেন, থাইল্যান্ডে রাজপরিবারকে সম্মানের চোখে দেখা হয়। রাজাকেও মান্য করা হয়। সেজন্যে রাজা বিরোধিতা করায় সিরিভাধানার প্রার্থিতা বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা আছে। ইতিমধ্যে রাজকন্যার দল থাই রাকসা চার্ট পার্টি তাঁর প্রার্থিতা বাতিলের কথা জানিয়েছে। কিন্তু সিরিবাধানা শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন তার ঘনিষ্ঠজনরা।  

শেষ পর্যন্ত যদি রাজকন্যার প্রার্থিতা টিকেও যায় তার জয় পাওয়াটা সহজ হবে না বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কারণ আগামী ২৪ মার্চের এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুথ চান ওচা। ২০১৪ সালে তৎকালীন সরকারপ্রধান ইংলাক সিনাওয়াত্রাকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিলেন এই জান্তা প্রধান। এখনো দেশের প্রশাসন তার নিয়ন্ত্রণে। এতো এতো প্রতিবন্ধকতা আর শক্ত প্রতিপক্ষকে কুপোকাত করে প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন কি প্রথাভাঙা রাজকন্যা?

বাংলা ইনসাইডার/এএইচসি/এমআর