ঢাকা, বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০১৯, ১০ বৈশাখ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

কোন মন্ত্রে সাপ-নেউলকে বশে রেখেছিল ভিয়েতনাম?

বিশ্বজুড়ে ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ রবিবার, ০২:২২ পিএম
কোন মন্ত্রে সাপ-নেউলকে বশে রেখেছিল ভিয়েতনাম?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের যেন গলায় গলায় ভাব চলছে। একজন আরেকজনকে চিঠি লিখছেন, আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন, এমনকি পাশাপাশি বসে আলাপ-আলোচনাও করছেন। কিন্তু বছরখানেক আগের অবস্থাটা মনে আছে তো? এই দুই নেতা যেন পারমাণবিক যুদ্ধই বাধিয়ে ফেলছিলেন তখন। কার অস্ত্রের কতো শক্তি তা নিয়ে এদের হুমকি-পাল্টা হুমকি দিতেও দেখা গেছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, ওই সময়টাতেও ‘সাপে-নেউলে’ এই দুই দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক ছিল ভিয়েতনামের। আর এখন তো যুক্তরাষ্ট্র-উত্তর কোরিয়া দুই দেশেরই মধ্যমণিতে পরিণত হয়েছে ভিয়েতনাম। নিজেদের দ্বিতীয় বৈঠকের জন্যেও ট্রাম্প- কিম এই দেশটিকেই বেছে নিয়েছেন। কিন্তু কোন মন্ত্রে এক সময়ের চরম শত্রু যুক্তরাষ্ট্র-উত্তর কোরিয়াকে বশে রেখেছিল ভিয়েতনাম?

এই ত্রিমুখী বন্ধুত্বের মূল কারণ হয়তো ভিয়েতনামের নীতি। দেশটি পুরোপুরিভাবে কম্যুনিস্ট নেতৃত্বাধীন। কিন্তু একই সঙ্গে তারা পুঁজিবাদীও বটে। কম্যুনিস্ট নেতৃত্বাধীন হওয়ায় বহু আগে থেকেই উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে তাদের পরম বন্ধুত্ব চলে আসছিল। আর পুঁজিবাদী নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও তাদের সুসম্পর্ক আছে। যদিও ভিয়েতনামে মার্কিন আগ্রাসনের কথা তারা ভুলে যায়নি। কিন্তু অতীতকে পেছনে ফেলে দুপক্ষই বেশ সতর্কতার সঙ্গে তাদের সম্পর্ক রক্ষা করছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যক্তরাষ্ট্র আর উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে ভিয়েতনামের সুসম্পর্কের আরেকটি কারণ হতে পারে দেশটির ভু-রাজনৈতিক অবস্থান। চীনের সঙ্গে টক্কর দিয়ে এশিয়ায় নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় ভিয়েতনামকে কাজে লাগাতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। উত্তর কোরিয়াও তাদের চরম দুর্দিনে গুটিকয়েক যে দেশগুলোর সাহায্য পেয়েছে তার মধ্যে ভিয়েতনাম একটি। মূলত এসব কারণেই বহুবছর ধরেই যুক্তরাষ্ট্র আর উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখে চলতে পেরেছে ভিয়েতনাম।

বাংলা ইনসাইডার/এএইচসি