ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ৭ ফাল্গুন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

চীনে মুসলিমদের দমন-পীড়ন: সত্য নাকি গুজব?

বিশ্বজুড়ে ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ সোমবার, ০২:০০ পিএম
চীনে মুসলিমদের দমন-পীড়ন: সত্য নাকি গুজব?

চীনে বসে ধর্ম পালন-কথাটা শুনলেই আঁতকে ওঠেন অনেকে। কম্যুনিস্টপন্থী চীন সম্পর্কে আমাদের ধারণাটা অনেকটা এরকম যে, ওখানে ধর্ম পালন করা যায় না, বিশেষ করে মুসলিমরা সেখানে অনেকটা বন্দীদের মতোই জীবন-যাপন করেন। নামাজ-রোজা সেখানে নিষিদ্ধ। আর লাখ লাখ উইঘুর মুসলিমদের ডিটেনশন সেন্টারে আটকে রাখার খবর তো প্রায় প্রতিদিনই আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের শিরোনাম হচ্ছে। কিন্তু আসলেই কি তাই? চীন কি সত্যিই ধর্মপ্রাণ মুসলিমদের জন্য বধ্যভূমি?

চীনের গুয়াংডং প্রদেশে বসবাসকারী একাধিক মুসলিম ধর্মাবলম্বী বলছেন, ধর্ম পালনে তারা কোনো বাধার মুখেই পড়েন না। রোজা ও নামাজের ওপর চীনের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টিও গুজব বলে উল্লেখ করছেন তারা। এমনকি বিদেশি যেসব মুসলিমরা পেশাগত কারণে চীনে বসবাস করছেন তারাও ধর্ম পালনে চীনের কঠোর নীতির বিষয়টিকে হেসে উড়িয়ে দিচ্ছেন। শেনঝেন শহরে ১৫ বছর ধরে বসবাসকারী একজন ধর্মপ্রাণ মুসলিম জানালেন, তিনি নামাজ-রোজা তো বটেই নির্বিঘ্নে কোরবানির আনুষ্ঠানিকতাও পালন করে আসছেন। তাহলে চীনকে নিয়ে বহির্বিশ্বে কেন এতো সমালোচনা যে, তারা রোজা-নামাজ করলেই কোমরে দড়ি বেঁধে জেলখানায় পুরে দেয়?

বিশ্লেষকরা বলছেন, এর একটি কারণ হলো পশ্চিমা মদদপুষ্ট কিছু সংবাদমাধ্যম প্রকৃত ঘটনাকে ফুঁলিয়ে ফাঁপিয়ে পরিবেশন করে। ধর্মীয় উগ্রপন্থার বিষয়ে বিশ্বের অধিকাংশ দেশই কঠোর, চীনও এর ব্যতিক্রম নয়। অন্যসব দেশের মতোই চীনও সন্দেহভাজন যেকোনো ধর্মের অনুসারিকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এরকম কিছু ঘটনাই আন্তর্জাতিক বেশকিছু সংবাদ মাধ্যম রংচং মাখিয়ে পরিবেশন করে বলে জানিয়েছেন অনেকে।

কিন্তু চীনের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগই কি মিথ্যা? এগুলো কি একেবারেই ভিত্তিহীন? বিশেষ করে উইঘুর মুসলিমদের ওপর তাদের দমন-পীড়ন চালানোর যে অভিযোগ উঠছে তা কি পুরোটাই বানোয়াট?

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, শিক্ষা-দীক্ষায় চীনের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া একটি সম্প্রদায় হলো উইঘুর। স্বায়ত্ত্বশাসিত যে অঞ্চলটিতে তারা বাস করে সেখানে বেশ কয়েক বছর ধরেই বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী হান সম্প্রদায়ের লোকেরাও গিয়ে বসতি গড়ছে। এ কারণে উইঘুররা হান তথা সরকারের ওপর কিছুটা ক্ষুব্ধ। কখনো কখনো তারা সহিংসও হয়ে ওঠে। আর এই সহিংসতা কিংবা বিক্ষোভ দমনে চীন বরবরই খড়্গহস্ত। বিক্ষোভকারীদের ওপর নির্যাতনের খবরগুলোও তাই মিথ্যে নয় বলেই উল্লেখ করছেন পর্যবেক্ষকরা।

বাংলা ইনসাইডার/এএইচসি/এমআর