ঢাকা, সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০১৯, ৯ বৈশাখ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

সৌদি যুবরাজের পাকিস্তান সফর: পেছনে কী?

অর্চি হক
প্রকাশিত: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ রবিবার, ০২:০৩ পিএম
সৌদি যুবরাজের পাকিস্তান সফর: পেছনে কী?

রাজা-বাদশাহরা যেখানেই যান গরীব-দুঃখী আর অভাবীদের মধ্যে মুক্তহস্তে দান দক্ষিণা করে আসেন। রাজা-বাদশাহদের নিয়ে এই ধারণা কিন্তু বহু পুরনো। দান-দক্ষিণার জন্য সৌদি বাদশাহদেরও রয়েছে বিশেষ খ্যাতি। এজন্যই দারিদ্রক্লিষ্ট পাকিস্তানে সৌদি সিংহাসনের সম্ভাব্য উত্তরসূরী যুবরাজ মুহাম্মাদ বিন সালমান (এমবিএস) এর সফরকে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আর্থিক সংকটে থাকা পাকিস্তান যেন যুবরাজের সাহায্য-সহযোগিতার জন্য মুখিয়ে আছে।

পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান যুবরাজ এমবিএস’র সন্তুষ্টি পেতে কোনো কসুর করছেন না। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন কিংবা বিলাসবহুল কোনো হোটেলের বদলে যুবরাজকে নিজের বাসভবনেই আতিথ্য দিচ্ছেন তিনি। যুবরাজ এমবিএস’র মতিগতি যারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন তারা বলছেন, যুবরাজের যেকোনো পদক্ষেপের পেছনেই থাকে সূক্ষ্ম কোন উদ্দেশ্য। এজন্যই প্রশ্ন উঠছে, পাকিস্তান নাহয় দয়া-দাক্ষিণ্য পেতে যুবরাজকে কুর্নিশ করছে, কিন্তু এই সফরের পেছনে যুবরাজের উদ্দেশ্যটা কী?

বিশ্লেষকরা বলছেন, পাকিস্তানের যেমন যুবরাজের আর্থিক সহযোগিতা দরকার, তেমনি যুবরাজেরও পাকিস্তানকে দরকার। সাংবাদিক খাসোগি হত্যা আর ইয়েমেনে সৌদি বাহিনীর হামলার কারণে এমবিএসের ইমেজ চরম সংকটে রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদিও যুবরাজের ঢাল হয়ে দাঁড়াচ্ছেন, তবুও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে যুবরাজের পক্ষে কথা বলার লোক যেন খুবই কম। হয়তো এ কারণেই এমবিএস পাকিস্তান সফর করে ইমরানের সঙ্গে বন্ধুত্বটা একটু পোক্ত করতে চাইছেন। তুরস্কসহ অনেক দেশই তার বাদশাহ হওয়ার বিরোধিতা করছে। সেক্ষেত্রে ইমরানের মতো কিছু বন্ধু জুটিয়ে এমবিএস হয়তো তার দল ভারি করতে চাইছেন।  

যুবরাজ পাকিস্তানকে গুরুত্ব দেওয়ার কারণ আছে আরও। সৌদি যেমন সম্পদশালী রাষ্ট্র, পাকিস্তানও তেমনি সামরিক দিক থেকে অত্যন্ত শক্তিশালী। এই দুই দেশের মধ্যে সামরিক সম্পর্কও বহু বছরের পুরনো। প্রায় চার দশক আগে যখন মক্কার বেশ কয়েকটি স্থাপনায় সন্ত্রাসী হামলা হয়েছিল, তখন পাকিস্তানী সৈন্য মোতায়েন করা হয়েছিল। এটা ধরেই নেয়া হয় যে সৌদি আরব যদি কখনো বড় নিরাপত্তা সঙ্কটে পড়ে তাহলে পাকিস্তান সৈন্য সরবরাহ করবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যুবরাজ পাকিস্তানকে গুরুত্ব দেওয়ার আরেকটি কারণ হতে পারে পারমাণবিক বোমা। অনেকেই ধারণা করেন যে, সৌদি আরবের কখনো দরকার পড়লে পাকিস্তানই তাদের পারমাণবিক বোমা বানানোর প্রযুক্তি সরবরাহ করবে। তাছাড়া প্রতিপক্ষ ইরানকে চাপে রাখতেও পাকিস্তানকে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা থাকতে পারে এমবিএসের। এসব কারণে অনেকেই বলছেন, পাকিস্তানের দরকার টাকা আর যুবরাজ এমবিএসের দরকার বিশ্বস্ত ভৃত্য, যে সবসময়ই যুবরাজের সুরে সুর মেলাবে। সেই ভৃত্যের খোঁজেই কি পাকিস্তানে এসেছেন যুবরাজ?

বাংলা ইনসাইডার/এএইচসি/এমআর