ঢাকা, সোমবার, ২৭ মে ২০১৯, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

স্টিফেন হকিং: বাজে ছাত্র থেকে বিখ্যাত বিজ্ঞানী

বিশ্বজুড়ে ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৪ মার্চ ২০১৯ বৃহস্পতিবার, ০২:০৩ পিএম
স্টিফেন হকিং: বাজে ছাত্র থেকে বিখ্যাত বিজ্ঞানী

ছোটবেলায় পরীক্ষায় খারাপ রেজাল্ট করলেই সবাই বাতিলের খাতায় পড়ে যান না, এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ বোধয় স্টিফেন হকিং। বিশ্বের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানীদের প্রসঙ্গ উঠলেই চলে আসে তার নাম। অথচ বিখ্যাত এই বিজ্ঞানী স্কুলজীবনে ছিলেন খুবই খারাপ ছাত্র।

হকিংয়ের বয়স যখন নয় বছর, তখন ক্লাসের মেধাক্রমের সর্বশেষ ছাত্র ছিলেন তিনি। কিন্তু পরীক্ষায় কম নম্বর পেলে কী হবে, তার বুদ্ধির তীক্ষ্ণতা ঠিকই বুঝতে পেরেছিলেন শিক্ষকরা। এজন্য রেজাল্ট যেমনই হোক না কেন শিক্ষকদের রোষানলে কখনোই পড়তে হয়নি তাকে। আমাদের দেশের প্রেক্ষিতে এটা একটু অবাক করা বিষয়ই বটে। বিজ্ঞান নিয়ে ছোট্ট হকিংয়ের অসীম আগ্রহের কারণে শিক্ষক আর বন্ধুরা আদর করে তাকে আইনস্টাইন বলেই ডাকতেন।

হকিং বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার খারাপ ছাত্র তকমাটা একেবারে হারিয়েই গিয়েছিল। বাবার ইচ্ছা ছিলো ছেলে বড় হয়ে ডাক্তার হবে নয়তো অক্সফোর্ডে পড়বে। কিন্তু অতো সামর্থ ছিল না তার। স্টিফেন হকিংকে তাই স্কলারশিপ পরীক্ষায় টিকে তারপরই অক্সফোর্ডে পড়তে হয়েছিল।

হকিং যে শুধু প্রতিভারই অন্য নাম তা কিন্তু নয়, খেয়ালিপনারও অন্য নাম হতে পারে স্টিফেন হকিং। স্কুল-কলেজে গণিতে অত্যন্ত ভালো ফল করা হকিং সবাইকে অবাক করে দিয়ে অক্সফোর্ডে বেছে নিয়েছিলেন কসমোলজি। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথম দিকে খুব বেশি নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েছিলেন তিনি। এই নিঃসঙ্গতা থেকে বের হতেই বোট রেসিং টিমে যোগ দিয়েছিলেন। রেসিং টিমে সবসময় তার দায়িত্ব হতো নৌকার হাল ধরে রাখা।

হকিংয়ের জীবনীকার ক্রিস্টিন লার্সেন একবার বলেছিলেন, হকিং এমন একজন, যাকে জীবনের প্রতিটি ধাপে লড়তে হয়েছে। কখনো অর্থকষ্ট, কখনওবা শারীরিক অক্ষমতা তার বড় হওয়ার পথে বাধা হয়ে দাড়িয়েছে। কিন্তু প্রতিভা আর অসীম জীবনীশক্তি দিয়ে তিনি সব বাধাই উপড়ে ফেলেছিলেন। বাজে ছাত্র থেকেই হয়ে উঠেছিলেন বিখ্যাত বিজ্ঞানী। হুইল চেয়ারে বসেই পুরো পৃথিবীকে নতুন করে মহাকাশ চিনিয়েছিলেন তিনি। আজ এই জ্যোতির্বিদের আঁধারে হারিয়ে যাওয়ার দিন। ২০১৮ সালের আজকের দিনেই পৃথিবী ছেড়ে অজানায় পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি।

বাংলা ইনসাইডার/এএইচসি/এমআর