ঢাকা, সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০১৯, ৯ বৈশাখ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

থাইল্যান্ডে নতুন বোতলে পুরনো মদ

বিশ্বজুড়ে ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৫ মার্চ ২০১৯ সোমবার, ০২:১১ পিএম
থাইল্যান্ডে নতুন বোতলে পুরনো মদ

দীর্ঘ পাঁচ বছর সামরিক শাসনের পর গতকাল রোববার থাইল্যান্ডে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। এই নির্বাচন দেশটিতে গণতন্ত্র ফেরাবে বলে আশা করছিলেন অনেকে। কিন্তু তাদের আশাহতই হতে হচ্ছে। কারণ গণতন্ত্র ফেরানোর এই নির্বাচনে জয় পেতে যাচ্ছে সেনা সমর্থিত রাজনৈতিক দল পালাং প্রাচারাত পার্টি (পিপিআরপি)। ফলে ক্ষমতাসীন সামরিক শাসক প্রায়ুথ চান-ওচার হাতেই থাকছে দেশের শাসনভার। নির্বাচনের মোড়কে দেশটিতে নতুন বোতলে পুরোনো মদই ফিরে এলো।

অবশ্য নির্বাচনের ফল সেনা সমর্থিত পালাং প্রাচারাত পার্টির বিপক্ষে গেলেও যে সামরিক শাসন হেলে পড়তো, তা কিন্তু নয়। গত পাঁচ বছরের শাসনামলে প্রায়ুথ চান-ওচা শাসনব্যবস্থায় এমনভাবে পরিবর্তন এনেছেন যে, ভোটের ফল যেদিকেই যাক না কেন প্রধানমন্ত্রীত্ব থাকবে সেনা শাসকদের হাতেই। থাইল্যান্ডের পার্লামেন্ট ৭৫০ সদস্যের এবং দুই কক্ষ বিশিষ্ট। ২০১৬ সালে প্রায়ুথ নিয়ম জারি করেন যে, ২৫০ আসনের উচ্চ কক্ষ সিনেটের সদস্যদের সবাইকেই সেনাবাহিনী নিয়োগ করবে। আর ৫০০ আসনের নিম্ন কক্ষের সদস্যরা হবে জনগণের ভোটে নির্বাচিত। প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হতে হলে পার্লামেন্টের উভয় কক্ষের মিলিতভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন পাওয়ার নিয়ম। সে হিসেবে সেনা সমর্থিত প্রার্থী নিম্ন কক্ষে মাত্র ১২৬ জন সদস্যের সমর্থন পেলেই প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন।

একারণে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার বুলি আওড়িয়ে সেনা সরকার জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করলেও জনগণকে নতুন বোতলে সেই পুরোনো মদই পেতে হচ্ছে। নির্বাচনটা যেন এক প্রহসন ছাড়া আর কিছুই নয়।

বাংলা ইনসাইডার/এএইচসি