ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ মে ২০১৯, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

কেন রোজা রাখছেন ভারতের শত শত হিন্দু কারাবন্দি?

বিশ্বজুড়ে ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৬ মে ২০১৯ বৃহস্পতিবার, ০২:০৩ পিএম
কেন রোজা রাখছেন ভারতের শত শত হিন্দু কারাবন্দি?

সারাবিশ্বের মুসলিমরাই রমজান মাস এলে সিয়াম সাধনা করেন। যারা কারাবন্দি তারাও রোজা রাখেন। অমুসলিম দেশগুলোতেও কারা কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে ধর্মীয় বিধান মেনে রোজা রাখেন মুসলিম বন্দিরা। তাদের জন্য সেভাবেই সেহরি ও ইফতারের ব্যবস্থা করে কর্তৃপক্ষ। ভারতও এর ব্যতিক্রম নয়। প্রতি বছরই সেখানকার মুসলিম বন্দিরা স্বাভাবিক নিয়মেই রোজা পালন করেন। কিন্তু অবাক করা ব্যাপার হলো, ভারতের বিভিন্ন জেলে মুসলমান বন্দিদের সঙ্গে রোজা রাখছেন হিন্দুরাও। মুসলিমদের সঙ্গেই তারা ইফতার ও সেহরি করছেন। এ বছরই যে প্রথম এমনটা হচ্ছে তা নয়। গত কয়েক বছর ধরেই কারাগারে হিন্দু বন্দিরাও রোজা রাখছেন। এ বছর সে সংখ্যাটা সহস্রাধিক বলেই জানা গেছে।

মুসলিমদের সঙ্গে হিন্দুদেরও রোজা রাখার কারণ হিসেবে ধর্মীয় সম্প্রীতিকেই বড় করে দেখা হচ্ছে। এর পাশাপাশি আরও কয়েকটি কারণ বেরিয়ে এসেছে।

দিল্লির তিহার কারাগারের একটি সূত্র জানিয়েছে, সেখানে স্বাভাবিকভাবে বন্দিদের খুবই নিম্নমানের খাবার দেওয়া হয়। সেটাও আবার পরিমানে খুব কম। কিন্তু রমজান মাসে রোজাদারদের জন্য থাকে আলাদা ব্যবস্থা। যারা আগে থেকে কর্তৃপক্ষকে জানায় যে তারা রোজা রাখবেন তাদের জন্য কিছুটা ভালোমানের খাবার সরবরাহ করা হয়। সেহরি এবং ইফতারে মোটামুটি ভালো খেতে পান তারা। তাছাড়া সশ্রম কারাদণ্ড পাওয়া আসামিরা রোজাদার হলে তাদের জেলের ভিতরে কিছুটা কম কাজ করতে হয়। এসব কারণে হিন্দু বন্দিরাও রোজা রাখতে আগ্রহী হচ্ছেন বলে দাবি করছে কয়েকটি সূত্র।

অবশ্য সবাই যে শুধু ভালো মানের খাবারের আশাতেই রোজা রাখছেন তা নয়। অনেকে কারাগারে এসে মুসলিম সহবন্দিদের সঙ্গে থেকে ইসলাম ধর্মের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছেন। বন্দি অবস্থাতেই মুসলিম ধর্ম গ্রহণ করছেন তারা। অনেকে হয়তো নিজেদের জীবনে একটা পরিবর্তন আনতে ধর্মের মাঝে আশ্রয় খোজার চেষ্টা করছেন।

কারারক্ষীরা বলছেন, শুধু যে হিন্দুরাই রোজা রাখছেন তা নয়। খ্রিস্টান বা অন্য ধর্মের বন্দিরাও এটা করছেন। আবার এমনটাও দেখা যাচ্ছে যে, রোজাদার এবং যারা রোজা রাখেননি তারা মিলেমিশে ভাগাভাগি করে ইফতার ও সেহরি করছেন। ভারতে বর্তমানে যে ধর্মীয় বিভেদ প্রকট আকার ধারণ করেছে, কারাগারগুলোতে তার উল্টো চিত্রই দেখা যাচ্ছে।

বাংলা ইনসাইডার/এএইচসি