ঢাকা, সোমবার, ১৭ জুন ২০১৯, ৩ আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Bangla Insider

কংগ্রেসের বৈঠকে পাঁচ বোমা

বিশ্বজুড়ে ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৬ মে ২০১৯ রবিবার, ১০:৪৯ এএম
কংগ্রেসের বৈঠকে পাঁচ বোমা

নির্বাচনে ভরাডুবির পর গতকাল শনিবার প্রথম বৈঠকে বসেছিল কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটি। এই বৈঠকেই ঘটে গেছে একের পর এক ঘটনা যা কিনা সিনেমাকেও হার মানায়। বৈঠক শুরুর আগে থেকেই সবাই ধরে নিয়েছিলেন যে, হারের দায় নিয়ে রাহুল গান্ধি পার্টি প্রধানের পদ থেকে ইস্তফা দেবেন, আর কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটি তা খারিজ করবে। এতটুকুই আঁচ করেছিলেন সবাই। কিন্তু বাস্তবে ঘটলো আরও অনেক কিছু।

কংগ্রেস প্রধানের পদে থাকবে না গান্ধি পরিবার

রাহুল গান্ধি শুধু ইস্তফা দিয়ে বসে থাকেননি। বরং তিনি তার সিদ্ধান্তে ছিলেন অনড়। দলের সব সিনিয়র নেতারা যখন তার পদত্যাগ বাতিল করে দিচ্ছিলেন তখনও রাহুল তার সিদ্ধান্ত থেকে এক চুলও সরে আসেননি। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, তার বদলে যেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধির নামও সভাপতি পদে ভাবা না হয়। গান্ধি পরিবারের বাইরের কারও হাতেই যেন থাকে দলের সভাপতির দায়িত্ব। এ নিয়ে কোনো আপোস হবে না।

বৈঠক ছেড়ে একসঙ্গে বেরিয়ে যান রাহুল-প্রিয়াঙ্কা

নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েই বৈঠক থেকে বোন প্রিয়াঙ্কাকে সঙ্গে করে বেরিয়ে যান রাহুল। অন্য সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রাহুল। কিন্তু গতকাল বৈঠকের পর সেটাও করেননি তিনি। দুই ভাই-বোন বৈঠক থেকে বেরিয়ে যে যার বাড়ি চলে যান।   

পি চিদম্বরমের কান্না

রাহুলকে ইস্তফা না দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিলেন সব সিনিয়র নেতা। এর মধ্যে সাবেক অর্থমন্ত্রী পি চিদাম্বরম রাহুলকে বোঝাতে গিয়ে কেঁদেই ফেলেছিলেন। কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, রাহুল পদত্যাগ করতে পারেন এই আশঙ্কা থেকেই  আগেভাগে দল পুনর্গঠনের প্রস্তাব পেশ করে রাহুলের হাতেই সংগঠনের আমূল পরিবর্তনের ভার তুলে দিয়েছিল কমিটি। তা সত্ত্বেও রাহুল যখন ইস্তফা দিলেন এবং সব সিনিয়র নেতাদের কথা অমান্য করে নিজের সিদ্ধন্তে অনড় রইলেন তখনই পি চিদাম্বরম শেষ চেষ্টা হিসেবে তাকে বোঝাতে শুরু করেন। তিনি কেঁদে ফেলে বলেন, সবে দক্ষিণ ভারত থেকে রাহুল জিতে এসেছেন। রাহুল ইস্তফা দিলে দক্ষিণের সমর্থকরা আত্মহত্যাও করতে পারেন।

একটা কথাও বলেননি সোনিয়া

গতকালের পুরো বৈঠকে একটা কথাও বলেননি সোনিয়া গান্ধি। সবাই যখন রাহুলকে পদত্যাগ না করতে অনুরোধ করছিলেন তখনও নিশ্চুপ ছিলেন প্রিয়াঙ্কা।   একটিও কথা বলেননি। কিন্তু রাহুল বলেন, তিনি দলের জন্য অন্য যে কোনো কাজ করবেন। লড়াই জারি রাখবেন। সংসদের নেতাও হতে পারেন। আরও তিনটি বিকল্প দিয়েছেন। কিন্তু সভাপতি থাকবেন না।

প্রিয়াঙ্কাকে হাতে শিলার হাত

কংগ্রেসের বৈঠকের বেশ কয়েকটি ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, প্রিয়াঙ্কা গান্ধির হাত ধরে রেখেছেন সিনিয়র নেতা ও দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী শিলা দীক্ষিত। কয়েকটি সূত্র বলছে, মিটিংয়ের পুরো সময়টাতেই প্রিয়াঙ্কাকে সাহস যুগিয়ে গেছেন শিলা। তিনি বার বার বলেছেন, প্রিয়াঙ্কা যেন রাহুলকে বোঝান পদত্যাগ না করার জন্য। বিপর্যয়কর পরিস্থিতিতে গান্ধি পরিবারকেই শক্ত করে দলের হাল ধরতে হবে বলেও বোঝান তিনি।

বাংলা ইনসাইডার/এএইচসি